Home প্রেমের বাজিমাত প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১২

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১২

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১২
রোজ ও রুশা

নবীন বরন অনুষ্টানের দায়িত্ব পড়েছে নাভানের ওপর ।
হেরা স্যার এর সাথে কথা বলছে—কোনো ভাবে নাভানের সাথে যুক্ত হয়ে যাতে কাজ না করা যায়। মূলত তারই অনুমতি চাইতে গিয়েছিল । কিন্তু স্যার সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রুলসের বাইরে সে কিছু করতে পারবে না।
এদিকে নাভান হাতে মাইক নিয়ে সবাইকে এটা ওটা বুঝিয়ে দিচ্ছে । হেরা যে তার পাশেই দাড়িয়ে আছে, তা যেন সে দেখছেই না। আরে দেখবে কীভাবে—কালো কানা চশমা পড়ে থাকলে কি দেখা যায় নাকি! এটা হেরার ভাবনা। সবাই কে তো কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, বেটা তাকে কিছু বলছে না কেনো!
রোজ ,রুশা তারাও বসে গেছে কাগজ কাটতে । তিতির নাভান এর পাশে এসে বলে—

“নাভান বেবি,আমি কিন্তু কাজ করতে পারব না। আমি তোমার সাথে থাকব।”
নাভান কিছু বলে না।
তিতির আবার বলে—
” বেবি!”
পাশ থেকে অধীর বলে ওঠে—
“হ্যাঁ বেবি ! তোর আম্মাজান তোরে ডাকে। কানে কি কালা নাকি তুই ? শুনতে পাস না! দেখ ,ডানো খাওয়াইবো নাকি দেখ!”( অধীর )
তিতির বিরক্ত চোখে তাকায়,বলে।
-What! Why would I become a mother? What a bunch of nonsense.”বেবি দেখো না কি বলছে আমাকে!(তিতির)
নাভান বিরক্ত চোখে তাকায় তিতিরের দিকে। কি সব নামে ডাকে—মন মেজাস একেবারে খারাপ হয়ে যায় মুহুর্তে । কিন্তু কোথাও বাধা থাকার কারনে নাভান কিছু বলতে পারে না। নিজেকে শান্ত করে, তিতির এর দিকে তাকিয়ে বলে—
” তিতির ,আমি আগেও বলেছি—এসব বেবি-টেবি ডাকবে না আমাকে ।”(নাভান)
অধীর বেশ আফসোস করে বলে উঠে—
“ভাই তোর কি কপাল ! বেবি ডাকার মানুষ আছে। আমার থাকলে তো আমি কোলে উঠে পরতাম ডাকার সাথে সাথে ।”

নাভান অধীরের সাথে কথা বলছে না, সেই ঘটনার পর থেকে । অধীর শুধু চারপাশে ঘুরঘুর করছে। অধীর জানে—নাভান আর তার ‘কিউটি পাই’ তার জন্য জীবন ও দিতে পারবে। এতো ভালোবাসা এই জীবনে সে কোথাও পাবে না এটাও জানে সে। তারা মায়ের পেটের ভাই নয় নাভান এর আগেও অধীর কে বলেছে কেউ জাতে না জানে এই কথা। কিন্তু অধীর একবার আবেগের ঠেলায় বলে ফেলেছিল ঝিনুক আর সৃজন কে। সেদিন ও নাভান রেগে গেছিল,তবু নিজেকে শান্ত রেখেছে—কারন ঝিনুক আর সৃজন তার অনেক কাছের মানুষ । দুনিয়া এফোর ওফোর হবে কিন্তু, তাদের থেকে কথা বের হবে না। একমাত্র এই দুইজন মানুষ ও আরেকজন জানে অধীরের আসল পরিচয়। কিন্তু কার সন্তান—তা কেউ জানে না। নাভান নিজেও জানে না। শুধু জানে—কাজল খানের পেটের সন্তান না অধীর। অধীর কতো ভাবে ভাই এর সাথে ভাব নেওয়ার জন্য হাসির কথা বলছে। কিন্তু নাভান তো নাভান—গম্ভির পেচা মুখ করে রেখেছে মুখটা। অধীর এর কথা শুনে এবার হেরা হেসে ফেলে । বেশ জোরে। হেরার হাসির সাথে, হলের সবাই হু হা করে হেসে দেয়। নাভান বিরক্ত নিয়ে হেরার কাছে যায়। গিয়ে হাতে থাকা আঠার কৌটা হেরার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে—

“মিস হেরা, কাজে লেগে পড়ুন । আজ সব কাগজ কেটে, রঙ লাগিয়ে আঠা দিয়ে এই রশিতে আটকাতে হবে । আপনার কাজ হচ্ছে আঠা লাগানো। নিন, শুরু করুন কাজ।”( নাভান)
বলে আঠার কৌটা ধরিয়ে দেয়। হেরাও তো কম দুষ্ট না।তাকে হুকুম করা! না কারো হুকুমের দাস সে নয়।
” আমি এসব পারি না। তাই দায়িত্ব যেহেতু নিয়েছেন সেহেতু আপনাকে তো শিখিয়ে দিতে হবে। নিন ,নিন কাজে লেগে পরুন।”
বলে টেনে বসায় হেরার পাশে। যা দেখে তিতির হেরার কাছে এসে তার হাত ধরে ফেলে—দুই দিক থেকে দুই জন। অধীর এই কাহিনি দেখে গেয়ে ওঠে—
“বিধি তুমি বলে দাও আমি কার—
দুটি মানুষ, একটি মনের দাবিদার।”
না বেচারা আর গাইতে পারল না নাভান এর চোখ রাঙানো দেখে।

“বেবি, উফফ! সরি নাভান । তুমি এই মেয়েকে কিছু দেখিয়ে দিবে না। এমনি এই মেয়ের অহংকার বেশি। করুক নিজের মতো কাজ।নিজেকে অনেক বড় মনে করে—তাহলে একাই করুক। তোমার যাওয়া লাগবে না নাভান। চলো,আমরা আড্ডা দেই কেন্টিনে।”
নাভান তিতির এর হাত ছাড়িয়ে বলে—
“তিতির, এটা আমার দায়িত্ব। যদি ভুল হয় তাহলে বদনাম আমার হবে। আর মিস হেরা যেহেতু নতুন, তাই আমাকে সব দেখিয়ে দিতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছ।”
হেরা মুখ বাকিয়ে চলে যেতে নিলে তিতির বলে ওঠে—
” শোনো, কিছু মেয়ে তেলাপোকা দেখে ভয় পায়—তারা নিজেই জানে তারা কালনাগিনী । তুমি এসব মেয়েদের থেকে দূরে থাকবে।”

কথাটা যে হেরাকে উদেশ্য করে বলে ,তা হেরা ভালই বুঝতে পারে। কালকের ঘটনার সময় অনেক স্যার-মেডাম আর স্টুডেন্ট রা ছিল। হেরা যে তেলাপোকার কথা বলেছে, সেটাই কেউ তিতির এর কানে দিয়েছে । যার দরুন তিতির বলে কথাটা। কিন্তু হেরাও তো কম না।তাকে কেউ কিছু বলবে, আর সে কিছু শুনাবে না তা হয় নাকি? না মোটেও হয় না। সেও হেসে দিয়ে বলে ওঠে—
“রোজ আশে পাশে ইচ্ছেধারি নাগীন ঘুরছে __সাবধানে থাকিস।”
“You stupid girl ! তুমি আমায় ইচ্ছেধারি নাগীন বলেছ? বেবি দেখেছ? ( তিতির )
” লুক মিস তিতির,কথাটা আমি কি আপনার নাম নিয়ে বলেছি? না বলি নি তো। আপনার যেহেতু গায়ে লেগেছে তার মানে কথাটা আপনার জন্য ছিল।”(হেরা)

তিরির রাগে ফুসফুস করছে । ইতিমধ্যে নাভান কাজ দেখিয়ে দিচ্ছে। হাত কাটা থাকার কারনে তেমন দেখাতে পারছে না। এরি মধ্যে স্যার সহ নিলয় আরও কয়েকজন রুমে ঢুকে। নাভান উঠে দাড়াতে স্যার বলেন—
“নাভান, এই বার গ্রুপ ডান্স এর ভোট বেশি হচ্ছে। তোমরা পাঁচটা গ্রুপ করো । আর তোমকে এইবার ডান্স দিতে হবে। মূলত এইবার যা হবে তা গ্রুপ করে করা হবে। আর গানের বিষয় টা আমরা আলোচনা করে বলে দিবো।”
বেশির ভাগ স্টুডেন্ট ‘নাভান ,নাভান ‘করছে। মূলত তারা নাভান এর সাথে ডান্স করবে। নাভান মানেই আগুন- সব দিক থেকে পারফেক্ট। গানের তালে হাত নাড়ালেই মেয়েরা ফিদা। আর এখন ডান্স করবে! স্যার পরলো মহা মুশকিলে। নাভান হেরার দিকে তাকিয়ে শার্ট এর কলার ঠিক করে!
মূলত তার ভাব টা দেখাচ্ছে—হেরাকে। হেরা মুখ বাকিয়ে নেয় নাভান এর থেকে। এবার স্যার সবার উদ্দেশ্য বলে উঠেন—

” ওকে টস হবে। আমি ব্যাবস্থা করছি। যাদের সংখ্যা মিলবে, তারা এক দলে থাকবে!।”
বলে কিছুক্ষণ পর স্যার অনেক গুলো কাগজ নিয়ে আসে। সবাই একটা একটা করে কাগজ তোলে । নিলয় যে বেশ বিরক্ত এই কাজে তা খুব ভালো বুঝতে পারছে নাভান। একে একে সবার কাগজ এর নাম মিলে,রোজ,রুশা,অধীর সৃজন,নেন্সি আরেকটা ফাস্ট ইয়ারের ছেলে আর একটা জুটি। তিতির পরেছে আরেক দলে। ফাস্ট ইয়ারের ছেলেদের সাথে,নতুন পুরাতন মিলিয়ে এই গ্রুপ বানানো হয়েছে। সবার গ্রুপে পাঁচ জোড়া—মানে দশ জন করে । তা না হলে এতো শিক্ষার্থীর সযোগ হবে না। কিন্তু বেজোড় শিক্ষার্থী ও কম থাকায় শেষে নিলয়, নাভান আর হেরা এক দলে পড়ে । আর শিক্ষার্থী নেই। তাই এই দল তিন জন দিয়ে করতে হবে।
নিলয় হাত শক্ত করে ফেলে। নিলয় কিছুটা চালাকি করতে চেয়েছিল। সেটাতে সে সফল হয়েছে ,কিন্তু নাভান যে তাদের দলে পড়বে তা ভাবনার বাইরে ছিলো। নিলয় ভেবেছিলো অন্য ছেলে হলে তাকে টাকা খাইয়ে বাদ করে দিবে । কিন্তু তা আর হবে কিভাবে!

“পরশু থেকে সবাই সবার দল নিয়ে রিহার্সাল করবে। বিজয়ী তিন জন দের পুরুষ্কার দেয়া হবে।”
বলে স্যার প্রস্থান করে। এদিকে নিলয় হেরার কাছে এসে বলে—
” কাজ শেষ করে ডান্স রুমে চলে আসবে আমি অপেক্ষা করবো তোমার জন্য ফুল।”
“ওকে” (হেরা)
“হেরার হাত ধরে বলে ওঠে—
” ইনশাআল্লাহ আমরা জিতব। বেস্ট পারফরম্যান্স করব—আমি আর তুমি ।ওকে ফুল!”( নিলয় )
হেরা মুচকি হাসে।
এবার নাভান এর দিকে তাকিয়ে নিলয় বলে—
“আমি জানি তুই আমাদের সাথে ডান্স করবি না। যাই হোক এবার জিতব আমি আর হেরা সিউর । তুই থাক বা না থাক।
–বলে মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়।

এদিকে তিতির রাগে ফায়ার হচ্ছে। সাথে নেন্সি ও। সবাই আবার যার যার কাজে মন দেয়। কাজ করতে করতে সবাই ক্লান্ত। কিন্তু হেরা আর নাভানের কাজ শেষ হচ্ছে না। নিলয় একবার এসে দেখে আবার চলে যায়। হেরাই তাকে চলে যেতে বলেছে। একে একে সবাই চলে যায়। রোজ ,রুশা,ও ডান্স প্রেক্টিস রুমে চলে যায়। যাওয়ার সময় তিতির জোরে এক লাতি মারে—যার ফলে দামি যেই আঠা ছিল তা সব দরজার সামনে পরে যায় । হেরা আর নাভানের পিছনে। দুজন কাজে এতই মনোযোগী যে ক্যাম্পাসের সবাই চলে গেছে ,আর তাদের খবর নেই। রোজ রুশা,অধীর আর সৃজন রুমে আসতেই অধীর আর সৃজন দুজনে স্লিপ খেয়ে পরে যায় । পিছন পিছন রোজ আর রুশার ও একই অবস্থা। সব কটা যে খুব ব্যাথা পেয়েছে তা ভালোই বুঝতে পারছে। তাদের এমন অবস্থা দেখে হেরা লাফ দিয়ে ওঠে । অধীর উঠতে নিলে তার হাতে আঠা লাগে । কিন্তু সে বুঝতে পারে নি—মনে করেছে পানি হয়তো। কিন্তু হেরা যেই এক পা দিয়ে—আরেক পা দিতে যাবে তখন স্লিপ খেয়ে পরে যাচ্ছিল। নাভান কাছে থাকায় হাত ধরে ফেলে হেরার । কিন্তু হেরা নিজের ব্যলেন্স ঠিক রাখতে পারছে না। একে বেকে যাচ্ছে তাই আরও শক্ত করে নাভান এর হাত টা ধরে। নাভান যেই এক পা দিতে যাবে তখনি ফ্লোরে নজর যায় । কেমন ভারি পিচ্ছিল পিচ্ছিল দেখাচ্ছে। আর কেমন একটা গন্ধ নাকে লাগছে।এদিক সেদিক জহুরি নজরে তাকিয়ে দেখে—দরজার আড়ালে আঠার কৌটার মুখ খুলা।তারপর নিজের পিছনে তাকাতেই দেখে , সে যেই জায়গায় হাত দিয়েছিল সেটা আঠা ছিলো। আচমকা হাত ছাড়াতে চাইলে হেরা বলে ওঠে—

” আরে আরে কি করছেন,পরে যাবো তো! আসলে আপনি খারাপ লোক । বিপদে পরেছে মানুষ ,তাদের সাহায্য না করে আপনি আরও ফেলে দিতে চাচ্ছেন? স্বার্থপর লোক কোথাকার।”
হেরার বক-বকে নাভান চিল্লিয়ে বলে—
“এতো নিন্মবিত্ত চিন্তা ভাবনা নিয়ে আমি শেহতাজ ঘুরি না মিসাইল গার্ল। এগুলো আঠা,আর আমার হাতেও আঠা লেগে আছে! (নাভান)
এবার সবাই ভালো করে দেখে । অধীর আর সৃজনের তো পাছা আটকে গেছে।হেরার হাত আর রুশার পা। সবাই একসাথে চিল্লিয়ে বলে—কিইইইইই..?”
-এখন উপায়..?আমিও তো পরে যাবো। আমাকে ধরুন আমি আগে এখান থেকে বের হই। ( হেরা )
“ইউ মিসাইল গার্ল, আমার হাতেও লেগেছে। তোমার আর আমার হাত আটকে গেছে। ( নাভান )

__যা শালা এ কি হলো! এটা হওয়ার কথা ছিলো! হেরা হাত ছাড়াতে চাইলে দেখে হাত যেমন করে ধরে ছিলো—ঠিক তেমন করে আটকে আছে।
” এই ফাউল গিটার ওয়ালা আপনি আঠা ধরতে গেলেন কেনো? আপনি ইচ্ছে করে করেছেন এসব ।”( হেরা )
” এক থাপ্পড়ে গাল লাল করে দিবো ,মিসাইল গার্ল কোথাকার। ইচ্ছে করে যদি করতাম তাহলে তোমাকে এখানে ফেলতাম!! আমার সাথে জোট লাগতাম না। “(নাভান)
বিরক্ত হয়ে টানাটানি করতে থাকে দুজন । নাভানের ডান হাত এমনি কাটা। বা হাতে জোর দিতে পারছে না।সে এক পা দিলে তারো জুতো আটকে যাবে হেরার মতো। তাই তো বিরক্ত চোখে তাকায় হেরার দিকে । এদিকে নিচে পরে থাকা ৪ ভন্ড করুন সুরে বলে—

“ভাই ইজ্জত বাচা ।পেন্ট আটকে গেছে। (অধীর)
” শালার আটকানোর আর কিছু পেলো না শেষে পাছা.?(সৃজন)
“বইন আমার হাত” (রুশা)
“বইন আমার পা” (রোজ)
নাভান চারজনের দিকে চেয়ে তারপর হেরার দিকে তাকিয়ে বলে—
“এই মিসাইল গার্ল, জুতা খুলে লাফ দাও।(নাভান)
” আরে লাফ দিবো কেমন করে.? আচ্ছা! আপনি সরেন তড়পর লাফ দিবো।(হেরা)
“আমি সরবো কেমন করে ..।হাত যে আটকা আছে।(নাভান)
” তো আমি লাফ দিবো কি আপনার উপর.?অসভ্য গিটার ওয়ালা। ( হেরা )
“একটা বাজে কথা বললে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবো।( নাভান)

” মারেন দেখি” মারেন ,সাথে যে আপনিও আটকা ভুলে গেছেন? পরলে আপনাকে নিয়েই পরবো চান্দু ( হেরা )
এদিকে হাবলর মতো তাকিয়ে আছে নিচে পরে থাকা চার ভন্ড। অধীর করুন সুর তুলে বাক্য প্রদান করে —
“ভাই আর বইন আমাগো বের কর । পরে সময় করে ঝগড়া করিস। আমরাই তোদের ঝগড়াতে উৎসাহ দিব। কিন্তু, এখন বাচা আমাদের ।”( অধীর )
নাভান দাত কটমট করে তাকায় হেরার দিকে।
” এই মেয়ে জুতা খুলে আমার পায়ের উপর পা রেখে ভর দিয়ে এদিকে আসো। ( নাভান )
“জুতা তো আটকে গেছে!(হেরা)
” মিসাইল গার্ল, কথার বেলায় তো বোমার থেকে ফাস্ট বলো। কুটনামি বুদ্ধি তো ভালই জানো ! তো এখন ভালো জায়গায় বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারো না?”(নাভান)

নাভান এর কথায় বেশ অপমানিত হয় হেরা। ঘুরে ফিরে এই অসভ্য গিটার ওয়ালার সাথে আটকাতে হলো! দরকার পরলে পিছনে কুকুর সমনে হিজরা তাদের সামনে আটকা পড়তো ।তা না হলে গাজীপুরের রেলস্টেশনের জ্যামে আটকা পড়তো ।তা না করে এই অসভ্য গিটার ওয়ালার সাথে আটকাতে হলো! না বেশি হাইপার করা বা হওয়া যাবে না। তখন এই বেটা আবার কি করে কে জানে।নাভন ধমকে উঠে-
“এই মিসাইল গার্ল, জুতা খুলে আমার পায়ে ভর দিয়ে এগিয়ে আসো ।”

বলে এক পা বাড়িয়ে দেয় নাভান। কিন্তু পা ফ্লোরে রাখে না। হেরা জুতা খুলে পায়ে ভর দেয়। কিন্তু হেরার ডান হাত আর নাভান এর বাম হাত জোট লাগার কারনে, সব উলটা লাগছে। হেরা আরেক পা উঠাতেই বে- কায়দায় দুজন পড়ে যায় একে অপরের উপর। নাভান নিচে আর হেরে উপরে কিন্তু পিঠ নাভানের বুকে । উলটো হয়ে পড়েছে যার দরুন নাভানের মুখ হেরার ঘারে স্পর্শ লাগে। আর হেরার মাথা নাভানের নাকে । বেচারার নাকে ব্যাথা পেয়েছে অনেক । চোখ থেকে পানি বের হয়ে গেছে সাথে সাথে । বিশেষ করে নাকে ব্যাথা পেলে চোখ থেকে পানি পড়ে ।আর সেটাই হয়েছে নাভানের । এদিকে চার ভন্ডর,চোখ বেড়িয়ে আসার উপক্রম।
নাভান হেরাকে দেয় আবার ধমক—

” মিসাইল গার্ল, উঠছো না কেনো.!আমি কি বেড নাকি যে আমার উপর শুয়ে থাকবে? (নাভান)
“আপনি বেড ? হা বেডই তো তাও নারিকেল এর খোসা দিয়ে যে বেড বানায়” সেই কি যেনো নাম”হ্যাঁ হ্যাঁ জাজিম । আপনি সেই শক্ত বেড—যার উপর শুয়ে আরাম নেই,এমন শক্ত বেড যাতে কারো কপালে না পরে।আমার পিঠের হাড্ডি গুড়া গুড়া হয়ে গেছে গো। এ শরীর নাকি পাথর আল্লাহ জানে? (হেরা)
“ইউ” মিসাইল গার্ল,এখন তুমি না উঠলে আমি তোমার ওপর ওঠবো.?(নাভান)

“ভাই তরা একজন আরেক জন এর উপর পরে ওঠিস আগে আমাদের এই জায়গা থেকে ওঠা ।অধীর)
ঝগড়ায় এতো ব্যস্ত যে, তারা কি করছে আর কি বলছে কেউ বুঝতে পারছে না। হেরা ওঠতে নিলে আবার হাতে টান লাগে। উল্টা হওয়াতে সুবিধা মতো উঠতেও পারছে না। নাভান তার কাটা হাত দিয়ে হেরার কোমর জড়িয়ে ধরে শক্ত করে ঘুড়িয়ে —হেরাকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে অনেক কষ্টে দাঁড় করায়। হাতে টান লাগাতে হেরার হাত এর চামড়া একটু ছিড়ে যায়। আর রক্ত বের হতে থাকে। নাভান আর টান দেয় না। আরো শক্ত করে হেরার হাত চেপে ধরে । পকেট থেকে ফোন বের করে ঝিনুকের নাম্বারে ফোন দেয়।কিন্তু বেচারি ও দূরে আছে ২ ঘন্টা লাগবে আসতে। স্যার এর নাম্বারে ফোন দিচ্ছে তাও অফ দেখাচ্ছে।
” ভাই সময় লস করিস না। পরে পেন্টের সাথে পাছার চামড়া না ওঠে যায়।(অধীর)
রুশা অধীর এর বক বক শুনে বিরক্ত। তাদের হাত আর পায়ের চামড়া যে ছিড়ে যাচ্ছে এদিকে। তাও তো এই লাইভ টেলিকাস্ট এর মতো বক বক করছে না। রিরক্ত নিয়ে বলে রুশা—
“এই আপনার মুখ টা বন্ধ করবেন .?এক কাজ করেন, আপনি ওঠে পরেন । পেন্ট ছিড়ে গেলে ছিড়ে যাক। এতো দিন মানুষ ফ্রন্ট পার্ট দেখেছে এখন ব্যাক পার্ট দেখবে।
রুশার কথায় অধীর চোখ বড় বড় করে তাকায়। রোজ আর সৃজন হেসে দেয়।এদিকে নাভান ফোনের উপর ফোন লাগায়। কিন্তু স্যার কে পাচ্ছে না ফোনে।

” ভাই আমার ফোন নে, বিচ্ছুবাহিনিদের ফোন দে।(অধীর)
বলে যেই ফোন পকেট হাতড়ে খুজে ,তখনি চোখ পরে ফ্লোরের উপর—ফোন টা উপর হয়ে পরে আছে অবহেলায়।
“ভাই এটা কি হলো আমার আইফোন!! ভাই অনেক দোয়ার ফসল এটা আমার। এটা আমার সাথে হতে পারে না। (অধীর)
বেচারার ফোনের সাথে কি শত্রুতা! একবার পানিতে ডুবিয়ে হত্যা —তো একবার সুপার গ্লুতে আটকা পরে দম যায় যায় অবস্থা । আরে দরকার পরলে ব্যাক সাইড দেখাতো সে । তাও ফোন টার সাথে এমন অঘটন না ঘটতো।
সৃজন ধমক দিয়ে বলে—

” চুপ শালা,ফোন গেলে ফোন পাওয়া যাবে,কিন্তু ইজ্জত গেলে তা পাওয়া যাবে না ভাই। আগে দোয়া কর এই মহিলা জাতের নজর থেকে নিজেদের হেফাজত করবো কিভাবে?( সৃজন )
“এই মহিলা কই পাইলেন? শালা আবাল,আমাগো কি মহিলার মতো লাগে,আমরা ছেড়ি মানে মেয়ে।
মহিলা আর ছেড়ির তফাত বুঝো না।যত্তোসব আবল।(রোজ)
রোজ এর মহিলা ডাক টা তাদের মুখে শুনতে কেমন জানি বিরক্ত লাগছে।তার মনে মহিলা মানে বয়স্ক মানুষ তাই তো সৃজন মহিলা বলাতে কেমন তেলে বেগুলে জ্বলে উঠছে।

” সৃজন ফোন দে(নাভান)
সৃজন এর ফোন হাতে নিতে দেখে ফোনে চার্জ নাই।
নাভান দেয় এক আছাড়। নিজের ফোন ফ্লোরে দুই ভাগ হয়ে পরে থাকতে দেখে ,সৃজন চিল্লিয়ে উঠে—
” এ ভাই এ কি করলি”!!
“”যে ফোন দরকারের সময় কাজে লাগে না সে ফোন না রাখাই ভালো।( নাভান)
“একেবারে উচিত হইছে।(রোজ)
“তোমাকে আমি পরে দেখে নিবো মেয়ে(সৃজন)
“তোমাদের ফোন দাও।(নাভান)
হেরাদের উদেশ্য বলে নাভান।
হেরার সংক্ষিপ্ত উত্তর—
” আমরা ফোন নিয়ে আসি না ভার্সিটিতে!!( হেরা )
নাভান ভাবনার মাঝে পড়ে যায় ।কাল ভার্সিটি অফ। আবার পরশু খোলা । এখন এমন অবস্থায় থাকলে সবাই বিপদে পরবে। নাভান সৃজন এর উদ্দেশ্য বলে—

” কারের চাবি দে!
আজ ভাগ্য ভালো কার নিয়ে এসেছে সৃজন। মুখ টা পেচার মতো করে চাবি ছুড়ে মারে নাভানের দিকে। চোখের ইশারা করে হেরাকে চাবি ধরতে বলে নাভান ।সেও কিছু না বলে চাবি ক্যাচ ধরে।
“তরা থাক আমি ১ ঘন্টার ভিতর আসছি।(নাভান)
এই বলে নাভান হেরা চলে যায়। তারা চলে যেতে সৃজন রোজ কে উদেশ্য করে বলে—
“ওই মহিলা তখন কি বলেছিলে.?
“বলেছি আবাল,ফোন নিয়ে ঘুরে কিন্তু ফোন কাজে লাগে না।আবাল মার্কা ফোন আর আবাল মার্কা মালিক (রোজ)
“আমার তো ফোন আছে তোমার তো তাও নাই।(সৃজন)
” আমি ওইসব ফোন চালাই না,যে ফোন শো করা,বাট কাজের বেলা ঠন ঠন।(রোজ)
“ইডেয়ট”(সৃজন)
“সেম টু ইউ”(রোজ)

“ভাই চুপ যা। দের বেটারি গ্রুপ সামনের বার ঝগড়ার এওয়ার্ড পাবে। চুপ যা ভাই খুব চিন্তায় আছি । সত্যি কি পাছা ঠিক থাকবে তো,না চামড়া উঠে লাল গোলাপি হয়ে যাবে! (অধীর)
এদের ঝগড়া লেগেই থাকে।
” আরে, আরে, আস্তে হাটুন!(হেরা)
“দেখো আমার বিরক্ত লাগছে তোমার মতো মেয়েকে সাথে নিয়ে হাটতে । তাই তারাতারি এই আপদ ছুটাতে পারলেই হলো। (নাভান)
” আমি মনে হয় খুব খুশি। কই জাবেন আপনি।(হেরা)
“জমের বাড়ি।(নাভান )
“মানে?(হেরা)
” মানে কি ,এমন ভাবে বলছো মনে হয় বিয়ে করতে যাচ্ছি।তোমায় জমের বাড়ি দেখিয়ে আনবো তাই নিয়ে যাচ্ছি,মিসাইল গার্ল। একটা কথা বললে হাত টান দিবো ।(নাভান)
ছিললে আপনার হাত এর চামড়া ছিলবে আমার না।
গোমড়া মুখ করে হেরা উত্তর করে—

“ছিলবে কি করে গন্ডারের চামড়া কি আর এতো সহজে ছিড়ে!”
” ইউ”আর একটা কথা বললে খুব খারাপ হয়ে যাবে।(নাভান)
হটাৎ হেরাকে পাজা কোলে তুলে নেয় ডান হাত দিয়ে। মেয়েটা এমন ভাবে হাটছে ক্যাম্পাস পেরোতেই ১ ঘন্টা লেগে যাবে।নিজেকে নাভান এর কোলে দেখতে হেরা চেচিয়ে উঠে—
“এই নামান আমায়। আপনার সাহস হয় কি করে আমায় কোলে তুলে নেয়ার.? অসভ্য গিটার ওয়ালা। নামান বলছি!
নাভান কথা না শুনে কারের সামনে দাড় করায় হেরাকে।চাবি দিয়ে দরজা খুলে। কিন্তু কিভাবে গাড়ি ড্রাইভ করবে, হেরা ঠাট্টা সুরে বলে—

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১১

” খুব তো হিরোগিরি দেখিয়েছেন ,এবার ড্রাইভ করবেন কি করে.? এক হাত কাটা আরেক হাত জোট লাগানো,আ।
হেরাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে নাভান এক কাজ করলো।এবার নিজে সাবধানে ঢুকে হেরাকে হেচকা টানে নিজের কোলে বসিয়ে দিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করে।হেরার উদ্দেশ্য বলে—
“তোমার মতো বুদ্ধি হাটুতে নিয়ে ঘুরি না,“I am a real hero. miss Mehrima Islam Hera.

প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১৩