Home কি করিলে বলো পাইবো তোমারে কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৩

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৩

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৩
মুনমুন বুড়ি

মিহি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুরো ঘরে অজস্র ছবির মাঝে দেওয়ালে একটা তারিখ লেখা—
২৫-৫-২০২৩
মিহির চারপাশ গোলকধাঁধার মতো ঘুরছে।
ও সামনে এগোতে থাকে, তারিখটার কাছে এসে দাঁড়াতেই মিহি দেখতে পায় তারিখটার পাশে ছোট করে লেখা আছে— “বিট্টু”। মিহি কয়েকবার মনে মনে নামটা পড়ে নিল। কিন্তু ও বুঝতে পারছে না
—এটা কি কারো নাম? কিন্তু কার নাম ওই বাচ্চা মেয়েটার?
মিহির ভাবনার মাঝেই ওর হাতে হেঁচকা টান পড়ে। টাল সামলাতে না পেরে মিহি কারো বুকের সাথে গিয়ে ধাক্কা খায়। মিহি চোখ তুলে দেখে অভ্র রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। মিহিকে কিছু বুঝতে না দিয়ে অভ্র মিহির হাত ধরে টানতে টানতে ঘর নিয়ে আসে, ঘরে এসে এক প্রকার ধাক্কা মারে ওকে। ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলে ওঠে—

— ছাদে কেন গিয়েছিলি?
— আমার ভালো লাগছিল না তাই একটু ছাদে গিয়েছিলাম।
— চিলেকোঠায় কেন ঢুকেছিস? কার অনুমতি নিয়ে ঢুকেছিস?
মিহি অভ্রর কথার উত্তর না দিয়ে উল্টো জিজ্ঞেস করে ওঠে—
— বিট্টু কে?
মুহূর্তেই মিহির চোয়াল শক্ত হাতে চেপে ধরে অভ্র। দাঁতে দাঁত চেপে বলে
— দুদিন তোর সাথে একটু ভালোভাবে কি কথা বলেছি আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিস তুই? আমার অনুমতি ছাড়া আমার ঘরে, আমার জিনিসপত্রে হাত দেওয়া শুরু করেছিস তুই। কিসের অধিকার দেখাচ্ছিস তুই বউয়ের? শুনে রাখ, আমার প্রয়োজনে আমি তোকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছি, আমার ঘরে থাকতে দিচ্ছি, আমার খাওয়াচ্ছি। যখনই আমার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে তোকে ছুড়ে ফেলতে আমি দুবার ভাববো না। আমি ভালো মানুষ নই মিহি। এখন যেটা দেখছিস এটাই আমি—এটাই আমার আসল রূপ। তোর ভাষায় জানোয়ার।
কথাগুলো বলেই মিহিকে বেডে ছুড়ে মেরে হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে যায় অভ্র। অন্যদিকে মিহির চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলে
— এত অপমান আর জবাব একদিন মিহিও দেবে, সেদিন খুব বেশি দূরে নয়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

তিহির জ্ঞান ফিরেছে আরো দুই ঘণ্টা আগে। জ্ঞান ফেরার পর এ পাগলামি করেছে, প্রচুর কান্নাকাটি করেছে। এক পর্যায়ে কান্না করতে করতে শান্ত হয়ে গেছে। রিনা বেগম পুরোটা সময় তিহির পাশে ছিল। এক মিনিটের জন্যও তিহিকে একা ফেলে কোথাও যায়নি। কিন্তু এই তো কিছুক্ষণ হলো তিহির জন্য খাবার আনতে নিচে গেছেন তিনি।
তিহি শান্ত হয়ে গেছে একেবারে শান্ত। ঝড় আসার আগ মুহূর্তে প্রকৃতি যেমন শান্ত হয়ে থাকে, ঠিক তেমন তিহিও এখন শান্ত হয়ে আছে। তিহির মুখ দেখে ওর অভিব্যক্তি বোঝার কোনো উপায় নেই।
রিনা বেগম তিহির জন্য খাবার নিয়ে রুমে প্রবেশ করে।

— তিহি মা, উঠ তোকে ভাতটা খাইয়ে দিই।
— আম্মু, তুমি চলে যাও। আমি খেয়ে নেবো।
— আম্মু, খা…
রিনা বেগমকে আর কিছু বলতে না দিয়ে তিহি বলে ওঠে—
— আম্মু প্লিজ তুমি যাও, আমাকে একটু একা থাকতে দাও। আমার ভালো লাগছে না।
রিনা বেগম তিহির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে যান।
রিনা বেগম যাওয়ার সাথে সাথে তিহি শোয়া থেকে উঠে বসে, পাশ থেকে ফোন নিয়ে কাউকে ফোন দেয়। ফোন রিসিভ হওয়ার সাথে সাথেই তিহি বলে ওঠে—
— হ্যালো কৌশিক, কাল আমার সাথে দেখা করতে পারবে?

অভ্র রেডি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য। মিহি বেডে বসে আছে। অভ্র মিহির সাথে না কোনো কথা বলছে, না মিহিকে কোথাও যেতে দিচ্ছে। তখন থেকে তাকে একই জায়গায় বসিয়ে রেখেছে ওকে।
মিহি বিরক্ত হয়ে নাক-মুখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করে—
— আমি এখান থেকে এখন উঠবো?
— না।
অভ্রর জবাব শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে মিহি। ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলে ওঠে
— কেন না? এখানে বসে কি করবো আমি?
— কাজ করবি।
— কী কাজ?
— আমার লাগেজটা গুছিয়ে দে।
— কী?
অভ্র বিরক্তি ভরা কণ্ঠে বলে
— তোর কি সমস্যা মিহি? একটা কথা একবার বললে তোর কানে যায় না? কানের সমস্যা হয়েছে?
মিহি অভ্রর কথায় পাত্তা না দিয়ে জিজ্ঞেস করে—

— লাগেজ কেন গুছাবো? কোথাও যাচ্ছেন নাকি আপনি?
অভ্র মিহির কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে—
— এত প্রশ্ন কেন করছিস?
অভ্রর কথা শুনে মিহি কোনো উত্তর দেয় না। মিহির নীরবতা দেখে অভ্র মিহিকে আগা-গোড়া পর্যবেক্ষণ করে বলে ওঠে
— পালানোর মতলব করছিস না তো? কার সাথে পালাবি? তোর ওই আশিকীর সাথে?
অভ্র ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে—
— আপনি কাটা গায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছেন?
মিহির কথা শুনে অভ্র কটাক্ষ করে বলে—
— কোথায় গা তো দেখছি ভালোই আছে, কাটা তো নেই।
অভ্রর কথা শুনে মিহি বিরক্তি ভরা চোখে অভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।
— তবে উল্টাপাল্টা কোনো মতলব আঁটলে গা আর ভালো থাকবে না, মনে রাখিস।
কথাগুলো বলেই অভ্র রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

অভ্র যাওয়ার জন্য ফুল রেডি, এখনই রওনা দেবে। মিহি জানে না অভ্র কোথায় যাচ্ছে। অভ্র যে কয়েকদিন বাড়ি থাকবে না এইটা ভেবেই মিহি খুশি। অভ্র নিজের লাগেজ নিয়ে নিচে নেমে আসে। সরাসরি মিহির সামনে এসে বলে
— আমি দুই দিনের জন্য লন্ডন যাচ্ছি। দুই দিন পরে আসবো। এই দুই দিন বেশি বেশি খা, শক্তি সঞ্চয় কর। আমি আসলে শক্তির প্রয়োজন হবে তোর।
মিহি অভ্রর কথা শুনে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
— অশ্লীল।
অভ্র ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে
— সেটা তোর থেকে ভালো আর কে জানবে জানেমান।
— কখন যাবেন আপনি?
— আমাকে তাড়ানোর এত তাড়া তোর? ঠিক আছে, এখন যাচ্ছি। জলদি দেখা হবে জানেমান।
কথাটা বলেই অভ্র লাগেজ হাতে নিয়ে বেরিয়ে যায়।

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১২

অভ্র বেরিয়ে যেতেই মিহি গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আজ বাড়ির দুজন মেইড আসেনি, তাদের নাকি কী সমস্যা আছে। তাতে মিহির কোনো সমস্যা নেই। মিহি একা থাকতে পারবে—ওই জানোয়ারটা যে গেছে এতেই মিহি খুশি।
মিহির ভাবনার মাঝেই বাড়ির কলিংবেল বেজে ওঠে। অভ্র গেছে এই তো পাঁচ মিনিট হবে, এর মধ্যেই আবার ফিরে এলো?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই মিহি গিয়ে দরজা খুলে দিল। মিহি দরজা খুলতে না খুলতেই কেউ মিহির মুখ চেপে ধরে। মিহি ছাড়া পাওয়ার জন্যে ছটপট করতে ওঠে। একসময় ছটপট করতে করতেই মিহি শান্ত হয়ে যায়। মিহি শান্ত হয়ে যেতই ওকে টেনে হিঁচড়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়।

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৪