প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১১
রোজ ও রুশা
এদিকে কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে রোজ রুশাকে অধীর ও সৃজন।লাইব্রেরিতে তখন দুইটাকে খুজে পেয়ে টেনে আনে।তারা যে এই কাজ করেছে তা আর বোঝতে বাকি নেই কারো।ভার্সিটিতে এই প্রথম তারা এমন হাসির পাত্র হয়েছে।তাইতো রাগ টা সবার একটু বেশি।সৃজন আর অধীর শাস্তি স্বরুপ ১০০ বার কানে ধরিয়েছে তাদের। রুশা রোজ কে বলছে-
“শালা আজ একটা উপন্যাস এর নায়কের মতো বয়ফ্রেন্ড থাকলে, এমন হতো না।কি জিন্দেগি নিয়া দুনিয়ায় আসলাম বাল।(রুশা)
বেচারির মন নষ্ট হয়ে গেলো।এমনিতে প্রেম টেম করে না।উপন্যাসে যেমন প্রেমিক হয়, রুশা তেমন কাউকেই খুঁজছিলো । কিন্তু বাস্তবে কই দেখা পাওয়া যাবে তাদের..?এই লাইভ টেলিকাস্ট ছেলেটা তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে , সে রোমান্টিক ডায়লগ না দিয়ে হুমকি দিয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করাতে চেয়েছিলো ।আর একটু —দুষ্টুমি করেছে বলে কানে ধরিয়েছে!!রোজ রুশা কে কানে ধরা অবস্থায় বলে-
” হ বইন ঠিক কইছোস,কি আদর ভালোবাসা দেয় অই বেডারা আর বাস্তব জীবনে শ্বশুরের পুতেরা খালি কষ্ট দেয়।আবার প্রেমের প্রস্তাব দেয়,তগো পাছায় হিছার বাড়ি সালা রামছাগল এর দলেরা!!
সৃজন রোজ কে উদেশ্য করে বলে-
“প্রেম ভালোবাসার সময় আলাদা।ভদ্র মেয়ে হয়ে থাকবে তাহলে ভালোবাসাটাও ফুল ফিল পাবে। কিন্তু এমন চিন্তা থাকলে আজ কানে ধরাইছি চার দেয়ালে ,তখন কানে ধরে উঠবস করাবো অই যে মাঠে।সো বি কেয়ারফুল বেবি।
” তর বেবির মায়রে বাপ শালা পা ব্যাথা হলে পা কে টিপা দিবো.?আমাদের কি জামাই আছে নাকি?
“অধীর হেসে জবাব দেয়।
” আরে ভাবি সৃজন আছে না .?মালিশ করে দিবে,আপনি চিন্তা কইরেন না।
এবার রুশা ফট করে বলে ফেলে-
“হ ভাই হ ফ্রিতে চামচা পাইছি ।কি কপাল!! মানুষ কাজের মানুষ পায় না ।আর আমাদের পা টিপার জন্য চামচা রেডি!
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“চুপ একদম চুপ মুখ বেশি চলে লাল গোলাপি ।এখনি কিন্তু গালটুস খেয়ে ফেলবো।(অধীর)
রুশা অধীর এর দিকে রাগি চোখে তাকায়।
” অসভ্যা নির্লজ্জ লোক জিবনে তোদের কপালে মেয়ে জুটবে না।(রুশা)
“মেয়ে জুটা লাগবে না আর ,তোমরা আছো তো।(অধীর)
” সারাজীবন সাধনা করলেও পাবেন না আমাদের(রোজ)
“সেটা সময় হলে দেখা যাবে।(সৃজন)
” কি হলো তোমার হেরা.?হেরা হেরা,চোখ খুলো।(ঝিনুক)
ডাক্তার কি হয়েছে হেরার.?
“মিস ঝিনুক ভয়ে হয়তো সেন্সলেস হয়ে গেছে।তবে ভয়ের কিছু নেই ১০/২০ মিনিট এর মধ্যে সেন্স চলে আসবে।(ডাক্তার)
~~~তখন ঝিনুক নাভান কে খুজতে খুজতে এই রুমের সাইড দিয়ে যাচ্ছিলো। কাওকে ফ্লোরে পরে থাকতে দেখে ছুটে তার কাছে আসে।কাছে এসে হেরাকে দেখে চমকে যায়।তারপর পিন্সিপাল স্যারকে খবর দিয়ে দ্রুত নিয়ে আসে হসপিটালে।স্যার তার বন্ধুকে ফোন দিয়ে সব বলে।এদিকে মেয়ের চিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছে যেনো এক পিতা।নিলয় খবর শুনে ছুটে আসে হসপিটালের ভিতর,রোজ ও রুশা হেরার দু পাশে বসে কান্না করে চোখ মুখ লাল করে ফেলেছে।অধীর আর সৃজন ও এসেছে কিন্তু নাভান কে ভার্সিটির কোথাও পায় নি কেউ। অধীর আর সৃজন ও জানতো না যদি রুশা আর রোজকে অমন ভাবে ছুটে না আসতে দেখতো।অধীর এর কেমন জানি একটা সন্দেহ লাগছে নাভান এর উপর।নিলয় এতোক্ষন বসে ছিলো হেরার পাশে ।তার বুকে কেমন একটা ব্যাথা করছে হেরাকে এমন চুপচাপ দেখে।এদিকে নাভান গিটার বাজাতে বাজাতে “তার “ছিড়ে ফেলছে “ক্ষত হাতের থেকে রক্ত টপ টপ করে পরতে থাকে।
কিন্তু তাও, তার গিটার বাজানো অফ হয় না।এদিকে জাওয়াদ খান ফোন করে হেরাকে।রুশা ফোন ধরে তাকে শান্তনা দেয়,জাওয়াদ খান মেয়ের চিন্তায় পাগলপ্রায়।
“মা আমার আম্মাজান কই..?আমার আম্মাজান কে দিন ” মা।আমার কলিজার কি হইছে “মা.?আমার আম্মাজান ঠিক আছে তো.?
ছোট বাবা হেরা পাখি ঠিক আছে, তুমি চিন্তা করো না।(রুশা)
“না আমার আম্মাজানকে বলুন” মা “আমার সাথে কথা বলতে।আমার আম্মাজান এর কন্ঠ না শুনলে এই ছেলে পাগল হয়ে যাবে।(জাওয়াদ খান)
” ওর জ্ঞান ফিরলে আমি তোমার সাথে কথা বলিয়ে দিবো ছোট বাবা।(রুশা)
–রুশা অনেক কষ্টে জাওয়াদ খানকে শান্ত করে।জাওয়াদ খান মেয়ের জন্য কেমন পাগল তা তার আশেপাশের মানুষ জন জানে ।নিজের হাতে মেয়েকে একা মানুষ করেছে এই বাবা।কতই বা বয়স তখন ছিলো!! কম বয়সে বিয়ে হয়েছে বাচ্চা হয়েছে আর সব হারিয়ে নিস্ব হয়েছে ।এখন এই মেয়ে একমাত্র সম্বল তার বেচে থাকার।এই মেয়ের কিছু হলে সে মরে যাবে ।তাইতো মেয়েকে নিয়ে যতো ভয়।জাওয়াদ খান বাচ্চা কাচ্চা খুব পছন্দ করতো।খুব আদর করতো তার একমাত্র রাজপুত্র শেহতাজ খান নাভান কে।ছেলেটা বাবা বলতে পাগল ছিলো।ছোট ছোট হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যেতো ,ঘোড়া হয়ে পিঠে চড়িয়ে সারা বাড়ি ঘুরাতেন তিনি ।বাবার বুকে আঙ্গুল মুখে দিয়ে যখন ঘুমিয়ে যেতো, ইসস কতই না সুন্দর লাগতো।জাওয়াদ খান এর চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পরে।চোখ পিট পিট করে তাকাতে হেরা নিলয় কে সামনে পায়।পাশে রোজ ও রুশা।হেরাকে চোখ খুলতে দেখে নিলয় বলে-
“হেরা ফুল” তুমি ঠিক আছো?কি হয়েছিলো তোমার?
হেরা নিজেকে হসপিটাল এর বেডে দেখে খানিক টা চমকায়।চোখ বন্ধ করে মনে করে তখন কেনো জ্ঞান হাড়িয়ে ছিলো!মনে মনে বির বির করে-
“” হ্যাঁ তখন অই গিটার ওয়ালার বুকে কি জানি ছিলো অইটা ,হ্যাঁ টেটু!!অই টেটু’ টা খুব পরিচিত লাগছিলো আমার!! কই দেখেছিলাম? আর অই গিটারওয়ালার বডি ” বাপ রে বাপ!! এতো সুন্দর? এক দেখায় বেহুস হয়ে গেলাম!! না না!! এটা বলা যাবে না,শেহতাজ খান নাভান এর বডি দেখে আমি বেহুস হয়ে গেছি।তাহলে অই বেটা গিটারওয়ালা আমায় নিয়ে উপহাস করবে।না!না ভুলেও বলা যাবে না!আমি অই লোক টাকে ঘৃণা করি।অই বেটার স্বভাবই যে এমন, নিজের বডি ,এটিটিউড দেখিয়ে মেয়েদের বস করা।আমি মোটেও অইরকম ছেছড়া টাইপ মেয়ে হবো না।অহংকারী লোক কোথাকার,আমায় ভয় দেখানো. তাও বডি দেখিয়ে!!
–হেরা জানতো নাভান আর যাই করুক ইচ্ছেকৃত ভাবে মেয়েদের টাচ করে না।সবাই তার কাছে যায় তার এ্যাটেটিউট দেখে।নিলয় তো এমনি বলেছে।আর তার খুব কাছের একটা মানুষ তো এমনি বলেছে হেরাকে নাভান এর সম্পকে।কিন্তু অই লোক শার্ট খুলে যে অইরকম ভাবে ভয় দেখাবে তা ভাবনার বাহিরে ছিলো।নিলয় হেরাকে চুপ থাকতে দেখে আবার বলে উঠে-
“কি হলো হেরা ফুল?কথা বলছো না কেনো?
-হেরা আমতা আমতা করে বলে।
” আ” আ আসলে আমি উপরের হল গুলো দেখতে গিয়েছিলাম ।রুমটা অনেকে বড়ো তো অই রুমে কি হয় সেটা ঘুড়ে ঘুরে দেখছিলাম হটাৎ সামনে ইয়ায়া বড় তেলাপোকা দেখে ভয় পেয়ে চিত পটাং হয়ে গেছি ।তারপর আর কিছু মনে নেই।
হেরা হাত দিয়ে অনেক বড় তেলাপোকা দেখাচ্ছে,যা দেখে বয়স্ক নার্স ফিক করে হেসে বলে-
“তা “মা “তেলাপোকা এতো বড় হয় আগে তো জানতাম না।(নার্স)
হেরা হাতের দিকে তাকাতেই হাত গুটিয়ে ফেলে, মাথা চুলকিয়ে বলে-
” না মানে বেশি ভয়ে, বলে ফেলেছি।
“থাক হয়েছে,আর কখনো অইসব রুমে যাবা না। (নিলয়)
” ওকে(হেরা)
“আচ্ছা এখন লক্ষি মেয়ের মতো রেডি হও বাসায় দিয়ে আসবো।(নিলয়)
” আপনার কষ্ট করে যেতে হবে না নিলয়।(হেরা)
“আমি তোমার থেকে পারমিশন চাই নি।আর তুমি বললে আমি শুনবো সেটা ভাবলে কি করে তাও এমন পরিস্থিতিতে.?(নিলয়)
~~~রোজ রুশা মুখ টিপে হাসে,সত্যি নিলয় ছেলেটা হেরাকে অসম্ভব ভালোবাসে।কিন্তু হেরা কেনো এখনো প্রেমে পরছে না ছেলেটার.?দুই ভন্ড রোজ,রুশা ভাবে আসলেই তাদের বান্ধবীর কিছু সমস্যা আছে।এতো সুন্দর হ্যান্ডসাম ছেলে তার পিছু পরে আছে মেয়েটা চোখ তুলে ভালো করে দেখেই না।এদিকে সৃজন আর অধীর কে দেখলে তাদের মনে লাড্ডু ফুটে কি সুন্দর কিউট হ্যান্ডসাম ছেলে।কিন্তু তারাতো মনে মনে এমন ছেলে পছন্দ করলেও তাদের ব্যাবহার পছন্দ করে না।তাদের কান ধরে আজ উঠবস করিয়েছে তাও এক বার না “দু “বার না ১০০ বার।মনে যাও একটু আশা বেধেছিলো তাও এখন ক্যান্সেল করে দিয়েছে দুই রমনি।নিলয় হেরাকে বাসায় পৌছে দিয়ে নিজ বাড়িতে যায়।এদিকে অধীর সৃজন আর ঝিনুক নাভান এর বাংলো বাড়িতে আসে গাজীপুর।অনেক খুজে শেষ মেষ ডিশিশন নিয়েছে এখানে আসবে।তাদের ১০০% ধারনা নাভান তার বাড়িতেই আছে।বাইক থেকে তিনজন নেমে দাড়াতেই চোখে বড় বড় অক্ষরের লেখা দেখতে পায়,” “নাভান ভিলা”ঝিনুক মেয়ে বাইক রাইডার,তিনজন এর বাইক থাকাতে খুব তারাতারি এসে পরেছে।
“কি ব্যাপার রহিম চাচা কেমন আছো?(ঝিনুক)
” এই তো মা ভালো তোমরা সবাই কেমন আছো?কেমনে কেমনে এই বাড়িত আইলা,অনেক দিন ধইরা আয়ো না,আমারে তো ভুইলা গেছো!
রহিম মিরার কথায় সবাই মুচকি হাসে!অধীর জিজ্ঞেস করে!
“তা চাচা তোমায় বড়ো বাবা কই?
” বড় বাবায় তার রুমে আছে। (রহিম চাচা)
রহিম মিয়া হলো নাভান ভিলার একমাত্র দেখভাল করার কেয়ারটেকার।কিন্তু তাকে সবাই খুব সম্মান দেয়,চাচা ছাড়া কেউ ডাকে না।ঝিনুক আগেও এখানে অনেক এসেছে তাইতো খুব ভালো করে চিনে।আর রহিম মিয়া লোক টাও অনেক ভালো।
ঝিনুক কিছু প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বলে-
“নাও চাচা চাচির জন্য এই ফলমূল।
” মা এগুলা তোমারে কে কইছে আনতে.?তোমরা আইছো এতেই আমরা খুশি।যাও ছোট আব্বারা,যাও তোমরা উপরে বড়ো বাবার কাছে ।তোমার চাচিরে কই তোমগো লাইগা নকশি পিঠা শিরা দিতো।
বলেই হাশি মুখে তার বরাদ্দকৃত রুমে যায়।নাভান তাদের জন্য আলাদা রুম বানিয়ে দিয়েছে সেখানে তারা থাকে। দুই স্বামী স্ত্রী! তাদের এই দুনিয়ায় কেউ নেই”তাই নাভান তাদের নিজের কাছে রেখে দিয়েছে!সবাই উপরে যায়! রুমে ঢুকতে দেখে নাভান গিটার হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।আকাশ বললে ভুল হবে ,সে তাকিয়ে আছে বাড়ির পিছনের ঘন জঙ্গল এর দিকে! গজারি গাছে দুই জোরা ঘু ঘু পাখির দিকে।পাখি দুটা কি সুন্দর করে মুখে খাবার এনে বাসায় ঢুকছে ।আবার বাচ্চাকে খাবার খাইয়ে বের হচ্ছে।কি সুন্দর মুহুর্ত।আচ্ছা তার বাবা মা যদি এমন এক সাথে থাকতো তাহলে কি তার এমন যত্ন করতো?হ্যা করতো।নাভান এর মনে আছে, নাভান বলতে পাগল ছিলো তার বাবা।তারপর.?তারপর কি হলো.?এক ঝরে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেলো। অধীর খেয়াল করে “নাভান কি ফিল করছে।সেও তাকিয়ে ছিলো অই পাখিগুলোর দিকে।অধীর নাভান এর কাধে হাত রাখে।নরম সুরে বলে-
“তোর তো একটা মানুষ এর অভাব, আর আমার তো কেউ নেই এই দুনিয়ায়।
মুহুর্তে রাগে নাভান এর মাথা গরম হয়ে যায়।কেউ নেই এই কথাটা যেনো মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে সরাসরি আঘাত করেছে।এমনিতে রাগ টা একটু বেশি।হেরার উপর প্রচন্ড রেগে আছে সে!তার উপর অধীর এর এই কথা।না আর পারলো না! নাভান ঘুরে অধীর এর গলা চেপে ধরে বলে –
” কি বললি .?তোর কেউ নেই.?,এই জানোয়ার এর বাচ্চা, তোর কেউ নেই মানে কি? তোর ভাই আছে সয়ং শেহতাজ খান নাভান।তর মা আছে অ্যাডভোকেট কাজল খান ।এই সেলফিস! তোর কেউ নেই.?তাহলে আমি কে .?আর অই মহিলা কে “যে তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে।এই দুনিয়ার মানুষ কে তুই জানাতে চাচ্ছিস তর কেউ নেই.?তোর কতো বড় সাহস তুই নিজেকে একা দাবি করিস,তোর জবান আজ বন্ধ করে দিবো।কেউ নেই যেহেতু তাহলে তুই ও মরে যা।আমি তোর কেউ না .?ওয়েল!
” ছেড়ে দে ভাই ভুল করে বলে ফেলেছে।(সৃজন)
” সাহস হয় কি করে আমাদের অস্বীকার করা..?আমি এর জবান টেনে ছিড়ে ফেলবো আজ।আমি এর আগেও না করেছি এই বাক্যে আমার সামনে বলতে।এই নিয়ে দুই বার বলেছে।আমি কে.?আমরা কে তাহলে বল? bastard(নাভান)
“”নাভান এতো জোরে অধীর এর গলা চেপে ধরেছে ছেলেটা নিশ্বাস নিতে পারছে না।মনে হচ্ছে এখনি দম বন্ধ হয়ে আসবে।সৃজন আর ঝিনুক টেনে তাদের আলাদা করতে পারছে না।
“এত ভালোবাসিস তাহলে কষ্ট দিচ্ছিস কেনো?(ঝিনুক)
” অই নিমুক হারাম এর সাহস কি করে হলো .?ওর কেউ নেই এই দুনিয়ায়,তাহলে আমি কে.?কসম আল্লাহর আর যদি শুনি ওর মুখ থেকে তো মাথা বরাবর শুট করে দিবো।(নাভান)
অধীর কাশতে কাশতে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে নাভানকে ।
“আমার কেউ নেই আমি সেটা বলতে চাইনি।একসময় আমার ও তো ছিলো একজন কিন্তু আল্লাহ কেড়ে নিয়ে দুই জন মানুষ আমার জিবনে পাঠিয়েছে আমায় কিউটি পাই আর তোর মতো বন্ধু রুপি ভাই ।এখন দেখ আমি পরিপূর্ণ আমার সব আছে ।তর ও হবে দেখিস ভাই তোরো হবে।(অধীর)
অধীর নাভান কে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়।নাভান একটু শান্ত হয়।কিন্তু পিছন ঘুরে তাকায় না।সৃজন আর ঝিনুক আড়ালে চোখের পানি মুছে।সত্যি নাভান এর ভালোবাসা অন্য রকম ।তাদের জন্য তো কম করে নি নাভান ।তাইতো নাভান বলতে পাগল তারা ।জীবন তাদের সত্যিই ধন্য এমন একজন বন্ধু পেয়ে। সৃজন চেচিয়ে উঠে-
” ও মাই গড, নাভান এর হাত থেকে রক্ত পরছে।
এবার সবাই তাকায় নাভান এর হাতের দিকে।কিন্তু সে নির্লিপ্ত, একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।যেনো কিছু হয় নি।অধীর টেনে এনে বেডে বসায়।চোখ মুখ মুছে, ড্রেসিনটেবিল এর বক্স খুলে, ফাস্টএইড বক্স এনে ব্যান্ডেজ করে দেয়।হেরার বিষয় টা নিয়ে আর কিছু বলে না।সবাই বিকেলে নাস্তা করে রওনা দেয় ঢাকার উদেশ্য।
“আচ্ছা টেটুটা কই দেখেছিলাম.?
“”মাথায় চাপ দিতে হটাৎ মনে পরে হ্যা ডায়রি।রোজ আর রুশাকে ভালো করে চেক করে নিজের পারসোনাল লাগেজ খুলে বের করে সেই লক ডায়রি টা যা লক করা কিন্তু চাবি তার কাছে নেই।এটা তার প্রিয় তাকে দিয়েছে।কিন্তু প্রিয় ও যে আজ তাদের থেকে দূরে।অনেক দূরে, কবে আসবে প্রিয়.?হেরা ভাবে,প্রিয়র জন্য তো তার এখানে আসা।প্রিয় তো তাকে বলেছে নাভান কে সব জায়গা থেকে নিচে নামাতে।তার কথাতেই তো সে এসেছে ।কিন্তু প্রিয় কেনো ঠিক হচ্ছে না.?খুব শিগ্রই অই নাভান এর থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিবে সে।অহংকার এর পতন ঘটাবে সে।প্রিয়র অনেক কথা তার কাছে কেমন ঘোলাটে লাগে।এই তো সে বলেছে তার সাথে ভালোবাসার ছলনা করেছে।আবার বলেছে নাভান কোনো মেয়ের দিকে তাকায় না,আবার বলেছে সে অহংকারী।সব কেমন তাল গোল পাকিয়ে যায় মাঝে মাঝে হেরার কাছে।কিন্তু তার প্রিয় তার কাছে একটা জিনিস চাইছে তা সে দিবে না তা হতেই পারে না।তাইতো নেপাল থেকে এখানে এসেছে নাভান এর সাথে টক্কর দিতে।ক্ষমতা,দেমাগ,অহংকার সব ধুলিসস্বাত করতে।কিন্তু অই বেটা খবিশ তো বডি শো করাতেই সে চিত পটাং হয়ে গেছে,এখন যদি নাভান সত্যি সত্যি তার দূর্বলতা দেখে হাসে।না না এই দূর্বলতা ভুলেও প্রকাশ করা যাবে না।পাঠক পাঠিকারা জানে ঠিক আছে কিন্তু অই শেহতাজ খান নভান কে জানানো জাবে না কোনো মতে।
” আচ্ছা প্রিয় আমায় এই ডায়রি দিলো কিন্তু চাবি দিলো না কেন.?আর কেনই বা বলেছে আমার ২০ তম জন্মদিনে খুলতে ,এই ডায়রি! আর কে দিবে এই চাবি.?
এগুলো ভাবতে ভাবতে ডায়রি উলটিয়ে পালটিয়ে দেখতে থাকে। ডায়রি টা তার ভালো করে দেখা হয় নি।একবার দেখেছিলো, তাও খেয়াল করে নি।কালো কাভারে ঢাকা ডায়রিটা।মোলাট টায় ভালো করে লক্ষ করে হালকা ঠোঁটের টেটু আকা।সে ভালো করে এবার এদিক সেদিক ঘুরায়, ডায়রিটার মোলাট টা এমন ভাবে ডিজাইন করা যে সোজা করলে এক দৃশ্য ফুটে উঠে,ডান দিক ঘুড়ালে এক দৃশ্য,বাম দিক ঘুড়ালে আরেক দৃশ্য।হেরা সোজা করে নিচের দিক কাত করতে একটা ঠোটের ডিজাইন আকা দেখতে পায়।হাত দিলে তা হাতে লাগে স্পস্ট।হ্যাঁ এবার ভালো করে মনে পরে এই রকম টেটুর মতোই ছিলো নাভান এর টেটুটা।কিন্তু পরোক্ষনে মাথা থেকে ঝেরে ফেলে দেয়।
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ১০
“দূর” অই গিটার ওয়ালা তো কি স্টাইল করে,এটা মনে হয় বউ এর জন্য করে রেখেছে।বউ কে বেহুস করার জন্য, দূর দূর কি সব বলছি আমি.?ছি হেরা তুই কি অই গিটার ওয়ালার বডির উপর ক্রাস খাইছিস.?না এটা ভুলেও করা যাবে না। একি রকম ট্যাটু থাকতেই পারে(হেরা)
হেরা নিজের মনে বকতে থাকে।হেরা” এই বেটা অসভ্য,শয়তান,ঝগড়ুটে,বেটা অহংকারী।তোকে তার পথ থেকে সরাতে এটা তার ফাদ।এই হেরা এই ফাদে পরবে না,না মানে না।তোকে আরো কঠোর হতে হবে। নিজে নিজে বকতে থাকে হেরা!
