ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৬
শানজানা আলম
ঐশির ঘুম ভাঙলো বেলা করে। তাকে সকালে উঠতে হয় না। কোনো কাজের প্রেশার নেই, রিলাক্স মুডে উঠে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে একটা ওয়েট লস মিক্স মিশিয়ে খেয়ে দিন শুরু করে। এরপর কিছুক্ষণ ইয়োগা, শাওয়ার নিয়ে লাইট ব্রেকফাস্ট! কোনো চিন্তা নেই! এরকম একটা জীবনই তো ঐশি চেয়ছিল।
স্টাফ একজন তো সাথে থাকে, বাকিরাও চলে আসে।
মাকে ফোন করল ঐশি ঘুম ভাঙা চোখে।
মা, কি করছ?
কিছু না। তুই কেমন আছিস? ঠিক মত কথাও তো বলিস না!- তাহিরা বেগম আক্ষেপ করলেন।
সময় পাই না মা- অথৈ কোথায়?
অথৈ উঠেছে, কোচিংয়ে যাবে।
কোচিং? কিসের কোচিং?
কেন ও বলে নি, প্রাইমারির পরীক্ষার জন্য মডেল টেস্ট দিবে, ভর্তি হয়েছে!
হাহ্, যত্ত সব মিডল ক্লাস চিন্তা ভাবনা। ওকে ব্যাগ গুছাতে বলো তো, আমি গাড়ি পাঠাব, ও যেন চলে আসে।
অথৈ? ও তো যাবে না বলল!
ও তো একটা বলদ, ওর জন্য একটা ছেলে দেখতেছি, মন্ত্রীর ছেলে, ওর ওইরকম ভ্যবদা মার্কা চেহারা নিয়ে কেউ ওকে পছন্দ করবে? ওকে ভালো একটা স্যালনে স্কীন কেয়ার, হেয়ার কেয়ার করাতে হবে, কিছু স্টাইলিস দামী জামাকাপড় কিনতে হবে। ওখানে বসে প্রাইমারির পরীক্ষা ছাড়া কিছু হবে না।
কোন মন্ত্রী? কোথায় ছেলে দেখেছিস?
পূর্ত মন্ত্রীর ছেলে, নায়েব পাশা। একটা পার্টিতে আলাও হলো, ও বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুঁজছে, আমি অথৈ এর বায়োডাটা দিলাম।
ঐশি, তোর কোনো পছন্দ আছে? তুই নিজের কথা ভাব, এভাবে একা একা থাকলে নানা কথা হয়!
-কথা হলে হোক মা, আমি আপাতত বিয়ে শাদি করব না। অথৈকে একটা ভালো ছেলে, রিচ দেখে বিয়ে দিব।
ওকে রেডি হতে বলো। সিরিয়াসলি বলবে।মনে থাকে যেন, তোমাকে বললাম, বাবাকে বইলো
ঐশি ফোন রাখল।
নায়েব পাশা অথৈ এর বায়োডাটা দেখেছে। ছবিও দেখেছে। মেয়েটা সাধারণ, কিন্তু মিষ্টি। পড়াশোনা শেষ করেছে, ঐশি ঠিকই বলেছে, বিয়ে করার জন্য পারফেক্ট, বাসায় শো পিস হিসেবে এরকম মেয়েই ভালো। আসলে হাই ক্লাস, সম পর্যায়ের বা এরিস্টোকেট ফ্যামিলি তো পাওয়াই যায়, কয়েকদিন পরে একটু ঝামেলা হলে ডিভোর্স ফাইল করে চলে যাবে। টাকা পয়সার বাঁশ, তাছাড়া মিডিয়া বিশাল ইস্যু এখন।
মিডল ক্লাশ ব্যাকগ্রাউন্ড হলে শাড়িগয়না নিয়ে সংসার করবে।
স্বামী যাই করুক, টু শব্দও করবে না।
ওখানকার এমপির ছেলের সাথে কথা বলে কিছুটা খোঁজও নিতে হবে। নায়েব পাশা মনে মনে হাসল, কেন ঐশির সাথে কথা বলেছে, আর কি হলো!
ফ্যামিলিটা তো ভালো, শিক্ষিত মনে হচ্ছে।
সেখান থেকে এই মেয়ে নাসিরের সাথে..
ঐশি কিন্তু ভীষণ ঝকঝকে। নাসিরের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। এখনো ফুল প্রফেশনাল হয়ে ওঠে নি।
নাসিরও কি প্রেম করছে নাকি! নাকি কয়েকদিন পরে ফেলে দিবে! নাসির আর প্রেম, যায় না আসলে!
যাই হোক সেটা অন্য ডিল, আপাতত এই মেয়েটার ছবি
মাকে দেওয়া যাক।
মন্ত্রীর ছেলে দেখলে সবাই ঝুঁকে পড়বে।
এহসান অফিসে ছিল,অথৈ ফোন করেছে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দুই বছর আগের এহসানের শার্ট প্যান্টের মাপটা পেয়েছে, অথৈ ভাবছে, একটা শার্ট পাঠাবে এহসানকে। মাপটা কি ঠিক আছে জানতে অসময়েই ফোন করল।
হ্যালো-
অথৈ, বলো।
বিজি?
হুম, একটু। বলো সমস্যা নেই।
মানে বলছিলাম, আপনার ওয়েট এখন কত?
মানে?
মানে আগের চাইতে কি ওয়েট গেইন করেছেন?
এহসানের মাথায় একটা দুষ্টু কথা চলে এলো, কেন সামলাতে পারবে কিনা ভাবছ নাকি!পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলো! অথৈ এই জোকস নিতে পারবে না।
কি বলতে চাও, স্পষ্ট করে বলো তো,
অথৈ চোখ বন্ধ করে বলল, বিয়ের সময়ের মাপটা কি এখনো ঠিকঠাক?
এহসান হেসে ফেলল, কি কিনবে? শার্ট নাকি টি শার্ট?
শার্ট!
হাফ ইঞ্চি লুস কিনো, ভুড়ি বাড়ছে প্রতিদিন!
ওকে!
ঠিক আছ, রাখছি তাহলে।
আচ্ছা আরেকটা কথা, আপু নাকি কোন মন্ত্রীর ছেলে দেখছে, আমাকে বিয়ে দিবে!
এহসান বলল, ভুলেও ঐশির কাছে আসবে না। ও নিজে একটা ট্রাপে আছে, তোমাকেও সেখানে আনার ধান্দা করছে। অথৈ,আমি তোমার কেউ না, তবে তোমাকে বুঝি, তুমি আর ঐশি দুজন দুই মেরুর মানুষ।
ওর লাইফস্টাইলে তুমি আসবে না। খবরদার।
আমি হয়তো তোমার বোনের মতন আপন কেউ না, তবে তোমার খারাপ চাই না, এটা তো বোঝার মতন বুদ্ধি আছে তোমার।
ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৩৫
হুম, ঠিক আছে, আসব না।
ওকে, মনে রেখো।
অথৈ বলল, আসলেই কি আপনি কেউ না?
এহসান চুপ করে বলল, তুমি কেউ ভাবলে অনেক কিছুই, কিন্তু তুমি না ভাবলে কিছুই না।
সবটাই কি আমার ভাবনা?
অথৈ, পরে কথা বলি? আসলেই আমি বিজি।
-এহসান ফোন রেখে দিলো।
একটা ভীষণ ঝড়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে ভয় লাগছে না। মনে হচ্ছে জিতে যাবে।
