Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৩

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৩
শানজানা আলম

মালদ্বীপের বিলাসবহুল ওভার ওয়াটার ভিলায়
নাসির আর ঐশি পৌঁছেছে। স্বপ্নের মতো বিলাসবহুল ওভার ওয়াটার ভিলা। সাদা কাঠের সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ঐশি যখন ভিলার সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন চারদিকে শুধু নীল জল আর হালকা বাতাসের শব্দ। নিচে স্বচ্ছ পানিতে ছোট ছোট মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ভিলার দরজা খুলতেই ঐশি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। বড় কাঁচের জানালা দিয়ে সমুদ্র যেন ঘরেরই অংশ হয়ে গেছে। মেঝের এক পাশে গ্লাস প্যানেল—সেখান দিয়ে নিচের পানির ঢেউ দেখা যায়, আলো পড়ে ঝিকমিক করছে।

ঐশি ধীরে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। সামনে বিস্তীর্ণ সমুদ্র, দূরে সূর্য ঢলে পড়ছে।
নাসির পাশে এসে দাঁড়ালো। সে কিছু ভাবছে।
ভিলার ডেক থেকে সিঁড়ি নেমে গেছে সরাসরি সমুদ্রে। ঐশি হাত ছুঁয়ে দেখল পানির ঠান্ডা স্পর্শ। হালকা ঢেউ এসে আবার সরে যায়।
ভেতরে নরম আলো জ্বলছে। একপাশে প্রাইভেট পুল, অন্য পাশে আরামদায়ক বেড—সবকিছুতেই একটা বিলাসী সৌন্দর্য। রাত নামার সাথে সাথে আকাশ ভরে উঠল তারা দিয়ে। নিচে সমুদ্রের ঢেউয়ের মৃদু শব্দ, উপরে অসীম আকাশ।
ঐশির ভীষণ ভালো লাগল । নাসির এসে বলল, এখনো কাপড় ছাড়ো নি! যাও, কাপড় খুলে তৈরি হয়ে এসো।
ঐশি চমকে উঠল, নাসির আবারো তাকে কাপড় ছাড়তে বলছে। এই জায়গাটা কত সুন্দর, এখানে সুন্দর একটা সময় কাটানো যায়, কিন্তু নাসিরের চোখে মুখে কামুক ভাব ফুটে উঠেছে। সে শুধু ঐশির শরীর নিয়ে খেলতেই আগ্রহী।

ঐশি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, বলল, এত সুন্দর একটা পরিবেশ!
নাসির বলল, হ্যা, সেজন্যই বলেছি, কাপড় ছেড়ে এসো। সুন্দর পরিবেশে তোমাকে পেতে চাই।
ঐশি বলল, সব সময় কি এসব ভালো লাগে?
নাসির এবার রেগে গিয়ে বলল, মা★গী, তোরে এইখানে নিয়ে আসছি কি এইসব নাটক দেখতে! এক্ষন ন্যাং★টা হয়ে আসবি, যাহ!
ঐশি হতভম্ব হয়ে গেল। কিছুটা ভয়ও পেল, নাসির আবার সেই সব নোংরা এক্সপেরিমেন্ট শুরু করবে না তো! তার আসা উচিৎ হয় নি এখানে।
ঐশিকে আতঙ্কিত হতে দেখে নাসির নিজেকে সামলে নিয়ে ঐশিকে চুমু খেয়ে বলল, সুইটি, বোঝার চেষ্টা করো, এখানে এসেছি অল্প কিছু সময় রিলাক্স করব, তারপরেই ফিরে যেতে হবে।
ঐশি বলল, তাহলে একটু নরমাল থাকার চেষ্টা করো প্লিজ।

নাসির বলল, নরমাল মানে, এক স্টাইল আমার পছন্দ না, ইউ নো! আই লাইক এক্সাইটিং সেক্স! তুমি আমাকে এক্সাইটমেন্ট দেবে৷ আই ক্যান বাই ইট ফ্রম প্রফেশনাল প্রস! বাট আই লাইক ইউ, তোমাকে বুঝতে হবে!
ঐশি কাপড় ছেড়ে টাওয়েল জড়িয়ে এলো। নাসির পুলে নেমেছে। ঐশিও নামলো। ঐশি নায়েবের কথা মাথায় রেখে ফোনে ভিডিও অন করে পুলসাইড বেডে ফোন সেট করে রাখল। নাসির ঐশিকে কাছে টেনে টাওয়েল ফেলে দিলো। ঐশিকে স্পর্শ করতে করতে বলল, তুমি অনেক সুন্দর! তোমার শরীরটা অনেক সুন্দর!
-মাঝে মাঝে তোমাকে আমার অচেনা লাগে নাসির।
-তাই নাকি!

-তোমার জন্য আমি সবকিছু ছেড়ে এসেছি! তুমি এমন করলে আমার অসহায় লাগে!
-আহারে, বেবি ডল আমার- নাসির ঐশিকে চুমু খেতে থাকে। তবে আজকে অবশ্য নাসির ওইদিনের মতন বেহায়া কান্ডগুলো করে না।
তাদের অন্তরঙ্গ সময়ের পরে নাসির ঐশিকে একটা গোল্ডের সেট গিফট করল। ঐশিকে বলল, তোমার শোরুম আগামীকাল উদ্বোধন হয়ে যাচ্ছে।
হুম। থ্যাংকস নাসির। আমি কল্পনাও করতে পারি নি, এমন কিছু আমার হবে।
হুম। এরাউন্ড দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হচ্ছে।
মাই গড! আমার কল্পনার বাইরে।
তোমার একাউন্টে বড় এমাউন্টের একটা টাকা ঢুকে যাবে প্রতিমাসে ঐশি, আমার কথা মত কাজ করো।
আমি তো তোমার কথার বাইরে কিছুই করি না।
হুম, কাল আমরা ফিরব।
কালই?
হুম, ঢাকায় ফিরে তোমাকে একদিন রয়েল ব্লু তে থাকতে হবে। ডেট জানাব আমি।
আচ্ছা।

সেখানে আমার স্পেশাল কিছু গেস্ট থাকবে। দেশের বাইরের গেস্ট। তাদের ইন্টারটেইন করতে হবে। সনিকা নামে একটা মেয়ে আছে, ও তোমাকে সব শিখিয়ে দেবে।
-মানে! ঐশি চমকে ওঠে! কি বলছ তুমি?
-সহজ কথা, বুঝতে পারছ না? যেভাবে আমার সাথে থাকো, সেভাবে থাকতে হবে ওদের সাথে। আরো কয়েকজন যাবে। তোমাকে যখন যার কাছে পাঠানো হবে, তার কাছে যাবে।
ঐশি ছিটকে সরে গেল! নাসির, এটা কী বলছ তুমি?

ভুল কি বললাম! তোমার জন্য আমি খরচ করছি না? যে দামী ফ্ল্যাটে থাকো, দামী গাড়ি ব্যবহার করছ, শপিং, বিদেশ ট্যুর, শোরুম, আমি সব করে দিয়েছি, আমার জন্য এটুকু করতে পারবে না? লিসেন, আমি তোমাকে বাধ্য করতে পারতাম, কিন্তু করি নি, কারন কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমাকে জেনে বুঝে করতে হবে! সতী সাধ্বী সাজার কিছু নেই! বিয়ে না করেই তুমি রাতের পর রাত আমার বিছানা কাঁপিয়েছ! সো তুমি পারবে!
ঐশির এই মুহুর্তে মনে হলো, তাকে নায়েব পাশার সাথে কথা বলতে হবে, মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরে। নাসিরের উদ্দেশ্য তার বোঝা হয়ে গেছে, সে টা ভুলের রাজ্যে বাস করছিল, ভালোবাসা টাসা কিছু না। নাসির নিজে তাকে ইউজ করেছে, এখন তাকে দিয়ে নিজের কাজ উদ্ধার করবে। সে খুব ভালো ভাবে ট্র্যাপড, এখান থেকে নাসির তাকে সহজে বের হতে দেবে না। তবে নাসিরকে বুঝতে দিলে চলবে না।
ঐশি তাই নাসিরের বুকে মাথা রেখে বলল, ঠিক আছে। তুমি যেভাবে বলবে।
এই তো, গুড গার্ল, খুব ভালো। আগে শোরুম উদ্বোধন করে নাও। সব গুলো দৈনিকে তোমার নিউজ যাচ্ছে।
ঐশি হাসির চেষ্টা করল। ঐশি তেমন খুশি না হলেও, সে খুশি হওয়ার অভিনয়টা ভালো ভাবেই করে গেল।
তবে নাসিরের জন্য সে যা করেছে, এত সহজে তো নাসিরকেও ঐশি ছাড়বে না। প্রয়োজনে নাসিরের বাসায় চলে যাবে। ঐশি এমার্জেন্সী পিল একটাও নিলো না মালদ্বীপে।
তবে নাসিরের মনে সন্দেহ হলো, এত সহজে তো ঐশির রাজী হওয়ার কথা নয়!

ঢাকায় ফিরে আসায় শোরুম উদ্বোধনে ঐশি উপস্থিত থাকতে পারল। নামি দামি নায়িকা ছাড়াও লাল পরী নায়লা, প্রিন্স হারুন, টিকটকার জুয়াইরা জিশা, শাখি,
মেকাপ আর্টিস্ট মারবুর সানি সবাই এলো। সবগুলো দৈনিকে নতুন ব্রান্ড উদ্বোধনের খবর প্রকাশিত হলো। ঐশি নওশিন, নারী এন্টারপ্রেনার, কত কষ্ট করে সে শোরুম দাঁড় করিয়েছে, সেটা নিয়ে বিগ স্টোরি ছাপা হলো।
শোরুমের ঝামেলা শেষ করে ঐশি ঠান্ডা মাথায় নায়েব পাশাকে ফোন করল। নায়েব পাশাকে তার দরকার এই মুহুর্তে।

অথৈ কে নিয়ে এহসান গয়না কিনতে গেল। অথৈ হেজিটেট করছিল, এহসান ওকে নিজে পছন্দ করে গয়না কিনে দিলো। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ সহ অন্যান্য জিনিসপত্রও কেনা হলো।
এহসান নিজের ইচ্ছে মতন একদিন কলিগদের ইনভাইট করল। ছোট একটা প্রোগ্রাম করে নিজেদের কিছু ছবিও তোলা হবে, আর সবাই জেনেও যাবে।
বাসায় ফিরে এহসান বলল, অথৈ, মা কে নিয়ে আসব এখন কিছু দিনের জন্য?
অথৈ বলল, নিয়ে এসো, আমি তো কখনোই না বলি নি।
না মানে, যদি মা তোমাকে দুয়েকটা কথা বলে ফেলে, তুমি প্লিজ মন খারাপ করো না।
অথৈ বলল, আচ্ছা মন খারাপ করব না। আমার বাবা মা তো তোমাকে কত কিছুই বলল। তুমি তো কিছুই গায়ে মাখলে না।

এহসান অথৈকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, গায়ে মাখালে তো আমার এই সুন্দর সংসারটা হতো না অথৈ। তোমাকে পেতাম না।
অন্য কাউকে পেতে নিশ্চয়ই!
এহসান আহ্লাদী করে বলল, অন্য কাউকে আমার দরকার নেই তো!
এহসান, তুমি খুব বেশি পসেসিভ কিন্তু আমাকে নিয়ে।
হুম, অন্নেক! ওহ ভালো কথা, ঐশি কিছু একটা টেক্সট করেছিল, দেখার আগেই রিমুভ করেছে।
আচ্ছা।
তোমাকে ফোন করেছিল?
না।
ওর শো-রুম উদ্বোধন করেছে, সে নাকি অনেক স্ট্রাগল করেছে!
এমন হাসি পেল আমার!
কোথায় দেখলে?

নিউজে এসেছে তো, ঐশি নওশিনের নতুন ব্রান্ড! টিকটকার ফিকটকার নিয়ে উদ্বোধন করেছে!
এহসান, ব্লক করে দাও তো আপুকে। ওর নিউজ তোমার দেখতে হবে না।
ইশশ, অথৈ, তুমি কি পাগল, সারা পৃথিবী ওলটপালট করে ফেললেও তোমার বোনের প্রতি আমি জিরো পার্সেন্ট আগ্রহও নেই।
শুধু তোমাকে জানিয়ে রাখলাম। আর ও এত সহজে তোমাকে ছেড়ে দেবে না, কিছু না কিছু নিশ্চয়ই করবে, এখন এই ব্যস্ততায় কিছু করার সময় পায় নি। একটু ফাঁকা পেলেই তোমার পিছনে লাগবে। আমার সম্পর্কে কিছু বলবে, না হয় মন্ত্রীর ছেলেকে পাঠাবে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫২

অথৈ বলল, নাহ, কিছুই করবে না।
এহসান হাসল, অথৈ এখনো ধারনা করতে পারে নি, ঐশি কত বড় শয়তান। কিছু একটা তো ওর মাথায় চলছে। এহসান শুধু শুধু চিন্তা করছে না।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৪