Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৬

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৬
শানজানা আলম

অথৈ এর ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এহসানের টেনশন বাড়ছে, ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছে। বারবার ডায়াল করলে একই কথা বলছে, দ্য নাম্বার ইউ আর কলিং, ইজ সুইচড অফ – এহসানের মনে হচ্ছে পথ শেষ হচ্ছে না।
সাব্বির ফোন করেছে, ভাইয়া কই আপনি?
এহসান বলল, আমি একটু ঝামেলায় ফেঁসে গেছি, ক্লায়েন্ট এসেছে?
আরে না বাল, আসবে পাঁচটায়। আইসা বইসা আছি।
এহসান বলল, সাব্বির অফিসে ব্যাক করে চলে যাও। পাঁচটায় এটেন করো। এখন দেড়টা বাজে। লাঞ্চ করে নাও। আমি পরিস্থিতি বুঝে জানাচ্ছি কি করব।

কোনো সমস্যা ভাই?
হুম, আমি রাখছি, পরে কথা বলতেছি।
এহসান বাসায় নেমে দ্রুত লিফটে উঠে গেল। ভেবেছিল কলিংবেল চাপতে হবে অনেক বার। দরজা ভাঙতে হবে, কিছুই হলো না। একবার কলিং বেল দেওয়ার পরেই
অথৈ এসে দরজা খুলে দিলো।
এহসান বলল, ফোন অফ কেন তোমার!
অথৈ উত্তর দিলো না। এহসানকে উদ্ভ্রান্ত লাগছে, দুপুরের রোদে মুখটা কালো হয়ে গেছে, ঘেমে শার্ট ভিজে গেছে, মুখ একদম শুকনো। অথৈ সব দেখেও চুপ করে রইল।
এহসান অথৈকে জড়িয়ে ধরল। অথৈ ধরল না।
-কেন ফোন অফ করেছ! তোমাকে বলেছি আমি, কোনো ভাবে তুমি ঐশিকে বিশ্বাস করবে না। আমার কথাটা তো শুনবে আগে! আমি কোন পরিস্থিতিতে গিয়েছি, কে ছিল আমার সাথে, তোমার তো আগে জানতে হবে!
অথৈ নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। কথা না বলে, কিচেনে গিয়ে ঢুকলো। এহসান পেছন পেছন ঢুকে চুলা বন্ধ করে দিলো।

-প্লিজ অথৈ, আমার কথাটা শোনো!
অথৈ বলল, এহসান, আমি আপুকে বিশ্বাস করিনি, কিন্তু তোমার এখানে যাওয়ার আগে আমাকে একটু জানানো দরকার ছিল, তাই না? এমন একটা পরিস্থিতি তুমি তৈরি হতে দিয়েছ! আপুকে সুযোগটা তুমি করে দিয়েছ আমাকে অপমান করার! তাই না?
হোয়াটএভার তোমার যেখানে মন চায়, তুমি যেতে পারো। আমার কোনো ক্ষমতা নেই তোমাকে আটকে রাখার। আমার কেন, পৃথিবীর কেউ কাউকে আটকে রাখতে পারে না যদি না সে নিজে আটকে থাকে।
অথৈ কিচেন থেকে বের হয়ে এলো।
এহসান পিছন পিছন এসে বলল,
-অথৈ প্লিজ, আমার কথাটা শোনো, আমার ভুল হয়েছে মানছি! এই মেয়েটার সাথে আমার কক্সবাজারে আলাপ হয়েছিল, ওই সময়েই কথা হয়েছে, আমি বুঝতে পারি সে আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে, আমি নিজেকে সরিয়ে নিই, তাকে সরাসরি না করে দিই, তুমি জানো, কক্সবাজারে প্রতি মুহুর্তে আমার সাথে শুধু তুমি ছিলে।

এতদিন ওর সাথে আমার একটা বারও কথা হয় নি, লাস্ট উইক থেকে সে বারবার টেক্সট করছিল, আমি রিপ্লাই করিনি! তিন চারদিন পরে একদিন কল করেছিলাম ভদ্রতাবশত, তখন সে দেখা করতে চায়, আমি জানিয়ে দেই আমি বিয়ে করেছি।
সে হঠাৎই আজ চলে এসেছে, আমাকে রিকোয়েস্ট করে দেখা করতে, আমার একটা মিটিং আছে, আমি শুধু দেখা করেই চলে যাব, এই মন করে গিয়েছি কিন্তু ঐশি সবটা বানিয়ে বানিয়ে বলেছে!
আমি কোনো ফুল নিই নি, আর ও শাড়ি পরেছে সেটা ও জন্মদিন বলে, আমি জানতাম না ওর জন্মদিন আজকে!
অথৈ বলল, এই যে এতগুলো কথা, এই কথাগুলো তো আমি জানতাম না! এই পরিস্থিতি না হলে, তুমিও বলতে না, ওই মেয়ে আবার আসত, আবার নক করত, তুমি আবার কথা বলতে! তাই না?
এহসান বলল, না, আমি আজকেই ওকে জানিয়ে দিতাম, আমাকে ডিস্টার্ব না করতে!
অথৈ বলল, সেটা তো তুমি জানো তুমি কি করতে!
কিন্তু আমি জানি না আমার কি করা উচিৎ!
অথৈ প্লিজ! আমাকে ভুল বুঝো না। আমার সম্পূর্ণ কথা শুনে আমাকে রং মনে হলে আই এ্যাম সরি! আমার সারা পৃথিবী একদিকে আর তুমি আরেক দিকে অথৈ, কেন ফোন বন্ধ করেছ তুমি!
আপু তো আমাকে বলল, মরে যেতে! মরে যেতাম আমি! সত্যিই তো, আমার আর যাওয়ার যায়গা কই।

-স্যাট আপ অথৈ!
-তুমি এই সময়ে বাসায় এসেছ কেন?
-মানে! তুমি ফোন বন্ধ করেছ, আর আমি বাসায় আসব না! কি করতাম আমি!
এহসান অথৈ ডাইনিংয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল।
অথৈ উত্তর না দিয়ে ফ্রিজ থেকে পানি বের করে মিশিয়ে এহসানকে দিলো।
এহসান চেয়ারে বসে পানিটা নিলো। অথৈ সামনে বসল, ওর চোখ ফোলা, বোঝা যাচ্ছে কান্নাকাটি করেছে!
অথৈ প্লিজ আমাকে বিশ্বাস করো- এহসান অথৈ এর হাত চেপে ধরল। প্লিজ মাফ করে দাও!
অথৈ চোখ মুছলো।
-অথৈ, চোখে মুখে পানির ঝাপটা দাও- তারপর চেইঞ্জ করে নাও।
-কেন?

এহসান বলল, আমাকে বের হতে হবে, আমি তোমাকে বাসায় একা রেখে যাব না।
অথৈ বলল, আমি কোথাও যাব না, আর ভয় নেই, আমি বিপদজনক কিছু করব না। আমার এত সাহস নেই।
এহসান বেডরুমে ঢুকে অথৈ এর একটা সালোয়ার কামিজ নিয়ে এসে সেকেন্ড বেডে ঢুকলো অথৈকে নিয়ে।
অথৈ বলল, এহসান, আমি কোথাও যাব না।
সেটা আমি বুঝব।- এহসান অথৈ এর পোশাক বদল করতে ওকে কাছে টানলো। কামিজ খুলতে গেলে
অথৈ হঠাৎ এহসানকে জড়িয়ে ধরল। এহসানের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে ওকে চুমু খেতে লাগল। এহসানের শার্টের বোতাম আলগা করে এহসানকে খামচে ধরল। এহসান নিজেকে অথৈ এর হাতে সঁপে দিলো। অথৈ এহসানের বুকের পশমে চুমু খেলো, আচরে দিলো আদুরে বিড়ালের মতন। এহসান চুপ থাকলো না, অথৈ কে সাড়া দিলো, চুমুতে ভাসিয়ে নিলো অথৈকে, ডুবে গেল চোরাবলির গহীন স্রোতে, বন্য মুহুর্ত তৈরি হলো কামনার আগুনে।

উঠাল পাথাল ঝড় থামলে অথৈ কে বুকে চেপে রেখে এহসান বলল, চলো তৈরি হও। তোমাকে রেখে আমি আজ যাব না।
অথৈ বলল, আজকেই শেষ তোমার এইসব নাটক! কোথায় কোথায় ডেট করেছ এতদিন, জানিয়ে দিও।
আর কখনো অন্য মেয়ের সাথে যদি ধরা খাও, আমি মরার আগে তোমাকে খু★ন করে মরব!
এহসান অথৈকে থামিয়ে দিলো ওর ঠোঁটে অনবরত চুমু খেয়ে। আজকে অল্পের উপর দিয়ে বড় বিপদ থেমে গেছে! কোথায় মিটিং করার কথা, কোথা থেকে কোথায় এসে কি হলো!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৫

অথৈ জানে এহসান ওর জন্য যতটুকু করেছে, কোনো মেয়ের সাথে সে এই মুহুর্তে জড়াবে না। যেটুকু হয়েছে, সেটা ওকে জানিয়ে গেলে এতকিছুও হতে পারত না। অথৈ উঠে তৈরি হলো। অথৈকে নিয়ে বের হয়ে এহসান সাব্বিরকে জানিয়ে দিলো, সে মিটিং এটেন করে ফিরবে।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৭