Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৯

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৯

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৯
শানজানা আলম

ঐশি ইয়োগা করছিল। তখন সিদ্রাত ফোন করল। সিদ্রাত ওর ফ্যাশন হাউজের ডিজাইনার কাম টোটাল বিষয়টা সিদ্রাতের টিম দেখেছে।
-এ্যাই আপুই, কি করছ? – মেয়েলি স্বরে সিদ্রাত জিজ্ঞেস করল।
– এই তো, কিছু না।
-তুমি তো ছোট ভাইয়ের খোঁজ নাওই না, সেই যে দেখা হলো, আর খোঁজ নিলে না! নাসির ভাইয়া কেমন আছে? আসে? নাকি এক সাথেই আছ?
ঐশি বলল, আছে ভালো, এই তো ফিরলাম মালদ্বীপ থেকে। বলো, হঠাৎ ফোন করেছ?
আপুই, ভাবছিলাম একটা শ্যুট করব, আউট অফ কান্ট্রি করলে ভালো হয়, ধরো মালদ্বীপ গেলাম, মারমেইড থিমে কিছু ড্রেস ডিজাইন করলাম, এক্সক্লুসিভ ফটোশ্যুট হবে!
ঐশি বলল, করো, সমস্যা কি?

ওহ, পারমিশন দিচ্ছ? টোটাল বাজেট করে ফেলি তাহলে, তিনটা মডেল, মেকাপ আর্টিস্ট, স্টাইলিং এর জন্য একজন, দুজন ফটোগ্রাফার, ৯/১০ জনের একটা টিম হবে।
বাজেট মানে? – ঐশি জানতে চাইল।
মানে কত খরচ হবে আর কি! – সিদ্রাত বলল।
ঐশি বলল, দশ জনের টিম মালদ্বীপে নিয়ে শ্যুট করাতে যে খরচ, সেটা এই মারমেইড ড্রেস সেল করে উঠবে? কয়জন কিনবে?
আরে আপুই, জোকস কোরো না তো! তুমি নাসির ভাইয়াকে বলো, তোমার জন্য বাজেট কোনো ইস্যুই না!
নাসির ভাইয়া তোমার কথায় ক্রোড়স ফেলে রাখে!
ঐশি জুস নিতে নিতে বলল, দেখো সিদ্রাত, তোমার ফুল টিমে নাসির অনেক টাকা দিয়েছে, সেরকম সেল কিন্তু তোমরা দেখাতে পারো নি। শুধু ফটোশ্যুট, ট্যুর পার্টি এসব করে বেড়াচ্ছ।
আমি এর পেছনে কোনো খরচ করব না।

আহহা, আপুই, রেগে যাচ্ছ কেন, মুড অফ! ভাইয়ার সাথে ঝামেলা হয়েছে, আমাদের স্যালনে আসো না, একটা স্পা নিয়ে যাও, রিলাক্স লাগবে! তুমি ভীষণ চাইল্ডিশ, এসব বিজনেসে প্রফিট সেভাবে হয় না।এটা তোমার ব্রান্ড! এটাই তোমার একটা সিগনেচার, পরিচিতি! একটা ট্যুর করলে সবাই পোস্ট করবে, সারা মিডিয়ায় সাড়া পড়ে যাবে। – সিদ্রাত বোঝাতে চেষ্টা করে।
ঐশি বলল, না, আমি এখন এমন কিছু চাইছি না।
আপু তুমি তো নতুন, তাই জানো না, এভাবেই আমরা কাজ করি।
ঐশি বলল, করো কাজ, সমস্যা নেই তো, আমি কাজ করব না তোমার টিমের সাথে।
সিদ্রাত হতাশ হয়ে ফোন রেখে দিলো।
ঐশি মনে মনে বলল, আমাকে তো বলদ পেয়েছ, ফুল টিম ট্যুর করবে, তার খরচ আমাকে দিতে হবে! কখনোই না। একটা পয়সাও দিব না।
নাসির ঘন্টাখানেক বাদে ঐশিকে ফোন করল।

-এ্যাই ঐশি, সিদ্রাতকে কি বলেছ তুমি, ও তো কান্নাকাটি করে একাকার করছে, তুমি নাকি রেগে আছ, আরো কি কি বলেছ! তোমার সাথে মিটমাট করিয়ে দিতে বলল।
ঐশি বলল, নাসির, ওরা অনেক টাকা নিয়েছে, সেভাবে সেল কিন্তু হয় নি, মাস ঘুরলে আবার এত টাকা ভাড়া দিতে হবে, আবার নাকি ট্যুর করবে দশ জনের টিম। আমি বলেছি, এই টিমের টাকা আমি দিব না।
নাসির হেসে বলল, তুমি এত ব্যবসা বুঝতে শুরু করলে কবে?
-এটা বোঝা কঠিন না নাসির, তুমি যথেষ্ট টাকা খরচ করেছ, আমি চাই না তুমি একটা টাকাও পানিতে ফেলো।
-কিন্তু নতুন কালেকশন না আনলে তোমার শো রুম কেন চলবে?
-না চললে না চলবে। এমনিও সেল তেমন হয় না।
-সেল না হলেও মান্থলি প্রোফিট তোমার একাউন্টে ঢুকে যাবে। – নাসির বলল।
কিভাবে?

ঐশি, তুমি এত কম বোঝো কেন, এই বিজনেস একটা সাইনবোর্ড। এর পেছনে আরো কিছু কথা থাকে, যাই হোক, তুমি টাকা পেলেই তো হলো!
ঐশি বলল, নাসির, আমার প্রোফিট লাগবে না। এই শো-রুম থেকে তুমি আমাকে সরিয়ে দাও। আর তোমার সাইনবোর্ডের সুবিধা নিচ্ছে এই ফাজিল টিম। এদের সাথে একবার গিয়েছি আমি। ইচ্ছে মতন টাকা ওড়ায়, মানে ফ্রি পেলে যা হয় আর কি!
হঠাৎ কি হলো সুইটি?- নাসির আহ্লাদ করে জানতে চাইল।
ঐশি বলল, আমি একটু নন্দীপুর যাব। কয়েকটা দিন থাকব। এখানে আমার ভালো লাগছে না।
নাসির বলল, ক্লায়েন্ট ম্যানেজের বিষয়টা তুমি সিরিয়াসলি নিয়েছ! এজন্য চলে যেতে চাইছ? আচ্ছা আমি তোমাকে কোথাও পাঠাব না। এখানে থাকো।

ঐশি বলল, না, আমার ভালো লাগছে না। আমি এখন বাড়িতে যাব।
নাসির বলল, ঠিক আছে, আমি গাড়ি পাঠাচ্ছি, তুমি কয়েকদিন ঘুরে এসো, বেশিদিন থাকবে না কিন্তু।
ঐশি বলল, শোরুম ছেড়ে দিব আমি, আর যদি আমার হাতে থাকলে সব আমি প্ল্যান করব, অন্য কেউ আসতে পারবে না। – ঐশি শক্তভাবে বলল।
হঠাৎ ঐশির এত পরিবর্তনে নাসির অবাক হলো। কি করতে চাইছে ঐশি! কথার টোনও বদলে গেছে!
সব ছেড়েছুড়ে চলে যেতে চাইছে!
যাই হোক, আটকে রাখলে বরং ছটফট করবে, ঐশির চোখে টাকার নেশা আছে, এই কম্ফোর্ট লাইফ ছেড়ে, ও খুব বেশিদিন টিকতে পারবে না। আবার ফিরে আসতেই হবে৷

এহসান এক হাড়ি মিষ্টি নিয়ে বাসায় ঢুকলো।
অথৈ বলল, হঠাৎ মিষ্টি?
এহসান বলল, তোমার বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে ছোট করে। আমরা বাড়িতে যাচ্ছি। মা ভাবী সবাই যাবে।
অথৈ অবাক হয়ে বলল, সত্যি?
এহসান অথৈ এর হাত ধরে ওকে ঘুরিয়ে বলল, হ্যা! এজন্যই তো এত দেরী হলো আজ!
অথৈ বলল, ওহ, আমি ভাবছিলাম, আজ আবার কার সাথে ডেট করতে গিয়েছ!
এহসান অথৈকে জড়িয়ে ধরে বলল, আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে বলো! গোছানো শুরু করতে হবে।
আর একটা কথা-

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৫৮

অথৈ বলল, কি?
মাকে দিয়ে তোমার বাবাকে ফোন করাব। একটা সমাধানে তো আসতে হবে আমাদের তাই না, এভাবে তো চলতে পারে না।
ধরো আমাদের বিয়ে স্বাভাবিক নয়, সবার জীবন তো সরলরেখা হয় না, আমাদের এভাবে একসেপ্ট করতে হবে সবাইকে।
অথৈ একটু হাসার চেষ্টা করল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৬০