Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮১

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮১
শানজানা আলম

ঐশি নার্সিং হোমে আছে, নায়েব পাশা এই খবরটা অথৈকে দিতে ফোন করল। অথৈ এর ফোন সাইলেন্ট ছিল, সে দেখে নি।
অথৈ আপসেট হয়ে আছে, কোনো খবর পাচ্ছে না।
সকালে অথৈ এর মা কান্নাকাটি করেছেন, ফোন করে অথৈকে বার বার দোষারোপ করছেন। এহসান অথৈকে বাইরে যেতে দিচ্ছে না। তাছাড়া বাইরে গিয়ে অথৈ কিছুই করতে পারবে না একটা জিডি ছাড়া। অথৈ এহসানকে বলল, আমাকে যেতে না দাও, তুমি জিডি করে এসো।
এহসান বলল, আমরা জিডি করলে ঝামেলা আছে। আমি ঐশির এক্স হাজবেন্ড, তুমি ওর বোন। আইনকানুন সাধারণ মানুষের জন্য সহজ না। বিস্তারিত ঘাটলে আমরা কোনো না কোনো ভাবে হ্যারেজ হতে পারি। তোমার বাবা মা কে বলো জিডি করতে। তাছাড়া আমার মনে হয় না তোমার বোন কোনো ঝামেলায় আছে, হয়তো কোনো ট্যুরে আছে, ফিরে এসে যোগাযোগ করবে, এসব ট্যুর তো পাবলিকলি বলা যায় না, তাই না?

অথৈ বলল, এহসান, তুমি কি আমাকে বিয়ে করেছ খোঁচা দেবে তাই? আমার খুব ভুল হয়েছে, তোমার মিষ্টি কথায় ভুলে তোমাকে বিয়ে করে ফেলা। আমার জীবনটাই এলোমেলো হয়ে গেছে, কিছুই স্বাভাবিক নেই।
এহসান বলল, অথৈ, তোমার মুড সুয়িং হওয়া খুব স্বাভাবিক। তুমি একটু রেস্ট করো, আমি পাশের রুমে আছি, ফোন সাইলেন্ট করে রাখো। আর আমি তোমার মায়ের সাথে কথা বলব। যদি তারা তোমাকে ভালো করে একসেপ্ট করতো, তাহলে তাদের জন্য আমি সব কিছু করতাম, কিন্তু তোমাকে অযত্ন করে এখন ঝামেলার সময় বার বার ফোন দিচ্ছে, সেটা তো আমি হতে দিতে পারি না! তাই না?

অথৈ কোনো উত্তর দিলো না। এহসান কেমন খিটখিটে হয়ে গেছে, কিছুতেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না। হ্যা আপুর ভুল আছে, তার মনে এমন তো না যে ওকে মরে যেতে হবে! বাঁচার অধিকার সবার আছে। ওর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সেটা এহসানের গায়েই লাগছে না।
ফোন রাখতে গিয়ে মিসড কল আর টেক্সট পেলো অথৈ। ঐশি সেফ আছে, একটু ঝামেলায় ছিল, নার্সিং হোমে আছে। এড্রেস দেওয়া আছে।
কোনো ফোন নম্বর নেই।
অথৈ নায়েব পাশাকে ফোন করল খুব তাড়াতাড়ি।
নায়েব পাশা ফোন পিক করল।
অথৈ, টেক্সট পেয়েছ নিশ্চয়ই?
অথৈ বলল, জি, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি কি আমাকে আপুর সাথে কথা বলিয়ে দিতে পারবেন?
বা মায়ের সাথে?

নায়েব পাশা বলল, আসলে এখানে অনেক বিষয় আছে, আমি পারব না সরাসরি। নার্সিং হোমের এড্রেস তো দেওয়া আছে, তুমি দেখো যেতে পারো কিনা।
অথৈ বলল, আমার হাজবেন্ড আমাকে যেতে দিবে না। আপনি প্লিজ একটু মায়ের সাথে আপুর কথা বলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, আমি সারাজীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব!
নায়েব পাশা হেসে বলল, কৃতজ্ঞ থাকলে কি হয় অথৈ?
তার চাইতে ভালো, আমার বন্ধুত্বের প্রস্তাবটা ভেবে দেখো!
অথৈ তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে পারল না। একটু ভেবে বলল, এখন অবধি আপনি যেটুকু সাহায্য আমাকে করেছে, তাতে এই মুহুর্তে আপনাকেই আমার শুভাকাঙ্ক্ষী মনে হচ্ছে। এটাকে বন্ধুত্ব বললে হয়তো কমই বলা হবে।
নায়েব পাশা বলল, আচ্ছা আমি ফান করছিলাম। যদিও উচিৎ হয় নি, আমি চেষ্টা করছি ঐশির সাথে তোমার মায়ের যোগাযোগ করিয়ে দিতে।
রাখছি তাহলে।

ফোন কেটে দিলো নায়েব পাশা। হ্যান্ডসেট হাতে নিয়ে অথৈ এর মনে হলো, সে মনে হয় একটা ভুল করেছে। নায়েব পাশার মন মানসিকতা এহসানের চাইতে অনেক ভালো৷ এহসান ভালো মানুষ হলেও আত্মকেন্দ্রিক। অথৈকে নিজের করে আটকে রাখতে চায়, অথৈ তো একা নয়। পরিবার যত খারাপই হোক, পরিবার ছাড়া তো অথৈ একা বেড়ে ওঠে নি। তাদের সুন্দর একটা পরিবার ছিল, দুই বোন, বাবা মা, আপু, আপুর বিয়ে হলো, সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল কি আসলেই অথৈ এর জন্য? এহসান ভালো মানুষ হলেও পরিস্থিতির জটিলতা ভেবে এহসানকে সাড়া দেওয়া অথৈ এর উচিৎ হয় নি। এখন তো সব কিছু অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অথৈ মা হতে চলেছে, এটা আরেকটা ভুল সিদ্ধান্ত, বিয়ের পরে অন্তত বছর দুই অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। এহসানের মন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েও অথৈ ঠিক করে নি।

এহসান রুমে ঢুকলো। অথৈ কে একটু শান্ত দেখাচ্ছে।
অথৈ এর হাত থেকে হ্যান্ডসেটটা নিতে গেলে অথৈ সরিয়ে দিলো।
এহসান বলল, ফোনটা সরিয়ে একটু ঘুমাতে চেষ্টা করো।
অথৈ বলল, এহসান, তুমি পাশের রুমে চলে যাও।আমি একটু একা থাকি।
অথৈ এর দিকে তাকিয়ে ওর দৃষ্টি অচেনা মনে হয় এহসানের। কিছুটা আতঙ্ক গ্রাস করে এহসানকে। অথৈ কে কি এহসান বুঝতে পারে নি? অথব বেশি কড়া হয়ে গেছে? এরকম করা ঠিক হয় নি? অথৈ যদি চলে যায়, এহসানের প্যানিকড লাগে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮০

সত্যিই তো, জোর করে কোনো সম্পর্ক কি সহজ রাখা সম্ভব! ঐশিকে ছাড় দিয়ে ঠকেছিল বলে অথৈকে বেশি আটকে রাখছে? এটা কি ঠিক হচ্ছে?
সম্পর্কের জটিলতা গুলো কি তবে শুরু হলো!!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৮২