বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৩
Muntaha jahan
লা\শ আসতে দেরী হলেও সেটা কান পাঁচ হতে দেরী হয়নি,ইতিমধ্যে মিডিয়া পুলিশ সব এসে ভিড় করেছিলো খান বাড়িতে,এই লা\শটা এখানে কেনো,কে পাঠিয়েছে নানান রকম প্রশ্ন উঠেছিলো মিনাল খানের সামনে,মিনাল খান সে সব প্রশ্নের উওরই ঠিক মতো দিয়য়েছেন,এই লা\শ সম্পর্কে তারা কেউ কিছু জানে না তাই এরজন্য তাদেরকে কোনোরকম প্রশ্ন করে বিব্রত না করতে সরাসরি বলে দিয়েছেন। মিনাল খান একজন নামকরা ব্যাবসায়ী ভালোই নামঢাক আছে তার নামে,আজ অব্দি কোনো খারাপ রেকর্ড তার নামে নেই সেজন্য কেউ আর কেনো প্রশ্ন করে নি সবাই চলে গেছে।
পুলিশ লা\শ নিয়ে গেছে তারা এটা পরিক্ষা নিরীক্ষা করে খু\নিকে বের করবে তারজন্য।
সেই ঘটনার আজকে ৭ দিয়ে হয়ে গেছে,এই এক সপ্তাহে মিনাল খান তাহা আরাবীকে ঘর থেকে এক পা ও নড়তে দেয় নি,ঘরবন্দী করে রেখেছিলো,সেদিনের ঘটনার পর আরাবী গা কাঁপিয়ে জ্বর এসেছিলো ৩ দিন পুরে বিছানায় পড়ে ছিলো। এখন একটু সুস্থ তবে ততোটা না।
আপাতত তারা আয়েশা বেগমের সাথে দেখা করতে ইহানের বাসায় যাচ্ছে,৩ দিন আগে নতুন বাসায় উঠেছে তারা, অসুস্থ থাকায় বারবার মাথা ঘুরছে আরাবী,বারবার ই রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছে,বাবার সাথে অভিমান করে আছে তাই গাড়ি নিয়ে আসে নি,এখান থেকে হেটে বাজার অব্দি গেলে গাড়ি মিলবে তার আগে না তারজন্যই হাঁটছে।
তাহা আরাবীকে আবার দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে ওর দিকে এগিয়ে আসলো হেঁটে হেঁটে একটু দূর এগিয়ে গিয়েছিলো সে,আরাবীর কাছে এসে বেগ থেকে পানির বোতল দিলো।
-“এত অভিমান ভালো না,গাড়ি নিয়ে আসলেই পারতি দেখ এখন কষ্ট হচ্ছে তোর।
পানি খেয়ে একটু আরাম পেলো আরাবী,গা বেয়ে পড়া জল গুলো ওড়না দ্বারা মুছে নিলো,আশেপাশে মানুষ নেই বললেই চলে হঠাৎ হঠাৎ দুই একজনকে দেখা যায়। আরাবীরা আবার ও হাঁটা শুরু করতেই একটা রিকশা আসলো তাদের কাছে৷
-“যাবেন আপু?
আরাবী ভেবেছিলো একেবারে বাজারে গিয়ে আর গাড়ি নিবে,তাই না করতেই যাচ্ছিলো কিন্তু তার আগেই লাফিয়ে রিকশায় উঠে গেছে তাহা,আরাবীর দিয়ে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে বললো
-“তোর সাথে হাঁটতে হাঁটতে এখন নিজের অসুস্থ অসুস্থ ফিল হচ্ছে,তাই আর হাঁটতে পারবো না। আয় এটায় করেই নাহয় যাবো।
অসুস্থ থাকায় আরাবী ও রাজি হয়ে গেলো,নয়তো দুইটা চটকনা দিয়ে নামাতো ওকে,আরাবী রিকশায় উঠতেই সেটা চলতে লাগলো।
ইহানের বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো আরাবী তাহা,রিকশা নিয়ে বাসা অব্দি আসে নি,মোড়েই ছেড়ে দিয়েছে সেটাকে। ১০ তালার বাসা এটা অনেক উঁচু,তাহা মাথা উঁচিয়ে আঙুলে গুনছে,শেষ হতেই চোখ বড় বড় করে তাকালো আরাবীর দিকে,বললো
-“হায় আল্লাহ। পুরো ১০ তালা,ইহান ভাইয়ারা তো ৬ তালায় থাকে লিফট আছে? নাকি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে? সিঁড়ি বেয়ে উঠা লাগলে আমি যাবো না তুই যা।
তাহার কথা শেষ হওয়ার আগেই আরাবী টানা লাগালো ওকে,গেট পেরিয়ে ভিতরে যেতে যেতে বললো
-“লিফট থাকলেও তোকে সিঁড়ি বেয়েই নিয়ে যাবো,এটা তোর শাস্তি,বেশি কথা বলবি তো এখন এক চড় লাগাবো।
মুখে আঙুল দিলো তাহা,বিয়ে ভাঙার শোকে থাকায় হয়তো আরাবী এতোদিন চুপচাপ ছিলো তাহাকে ধমক টমক দেয় নি,কিন্তু এখন তো দেখছে আবার আগের রুপো ফিরে এসেছে ধমকাচ্ছে। আবার আগের মতো ধমক খেতে হবে,ধুর। কেনো যে এর বিয়েটা হলো না।
কথা রেখেছে আরাবী,লিফট থাকা সত্বেও সিঁড়ি বেয়ে ৬ তালা উঠেছে। আরাবী ঠিকটাক থাকলে ও চিঠ পতাৎ তাহা,১০২ নাম্বার রুম ইহানদের,তাদের দরজায় সামনে বসে পড়েছে তাহা,হা করে বড় বড় শ্বাস ফেলছে।
সময়টা এখন ১ টার ঘরে,এই ভরা দুপুরে এতদূর হেঁটে আবার ৬ তালা সিঁড়ি বেয়ে উঠে মরমর অবস্থা তার।
তাহা পানির বোতল বের করে পানি খেলো,আরাবীর দিকে তাকিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো
-“তুই নিষ্ঠুর হয়ে গেছিস আরু,ছোট বোনটাকে এতো কষ্ট করালি,আল্লাহ পাপ দিবে তোকে জামাই পাবি না তুই।
তাহার কথায় পাওা না দিয়ে কলিং বেল চাপলো আরাবী।
সোফায় বসে বসে চিপস খাচ্ছিলো নূর। নতুন বাসা নেওয়ার সাথে নূরকে ও আলাদা একটা রুম দিয়েছে ইহান,যেখানে নূরের পড়ার টেবিল সহ যাবতীয় সবকিছু আছ,পুরো রুমের একপাশে বোরকা,জুতা,চুড়ি,শাড়ি,ড্রেস,হিজাবের ওড়না দিয়ে সাজিয়েছে আর অন্যপাশে পড়ার টেবিল আর চিপস রেখেছে,পড়ার টেবিলের পাশে চিপস রেখেছে যাতে নূর পড়তে পড়তে খিদে লাগলে খেতে পারে।
এতোদিন শুয়ে বসেছিলো আজকে থেকে পড়াশোনা শুরু সকালে একটা স্কুলে দশম শ্রেণিতে থাকে ভর্তি করিয়ে এনেছে ইহান,স্কুলের বই দেখে মাথা চক্কর দিছিলো নূরের,সেই বই গুলো গুছিয়ে রেখে একটা চিপস নিয়ে মাএই খেতে বসেছে তখনই শুনলো কলিং বেলের আওয়াজ।
চিপটা টেবিলের উপর রেখে মাথায় ঘোমটা দিয়ে দরজা খুলতে গেলো নূর।
দরজা খুলতেই দুটো অপরিচিত মুখ সামনে এলো,নূর একটু অপ্রস্তুত হলো সাথে আরাবী ভুল রুমে এসেছে ভেবে চলে যেতে নিতেই ভেতর থেকে আয়েশা বেগম ডাকলেন
-“ভুল রুম না সঠিক রুমেই এসেছিস।ভিতরে আয়।
ভেতরে আসলো আরাবী তাহা,কোনোদিকে না তাকিয়ে দুজন গিয়ে জরিয়ে ধরলো তাকে।দরজা লাগিয়ে ভেতরে আসলো নূর।সেদিন আয়েশা বেগমকে অল্প দেখায় চিনতে পেরেছিলো কিন্তু তাহা আর আরাবীকে ঠিক মতো দেখে নি তাই চিনতে পারছে না,আরাবী তো ছিলোই না।
আরাবী আয়েশা বেগমকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো কিন্তু তাহা ছাড়ে নি সে এখনো জরিয়ে ধরে আছে,আরাবী ফুঁপানোর আওয়াজ পেলো,বুঝলো বোন তার কাঁদছে। মাথায় হাত রেখে শান্ত করলো ওকে। ছাড়িয়ে নিয়ে সোফায় বসিয়ে এবার তাকালো নূরের দিকে।
কোনো দ্বিধাবোধ না করেই প্রশ্ন করলো
-“তুমিই নূরাইফা?
নূর কিছু বলবে তার আগেই উওর দিলেন আয়েশা বেগম,আরাবী একবার তাহার দিকে তাকিয়ে হতাশার শ্বাস ফেললো,তারপর নূর আর আয়েশা বেগমের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে আবার ও রওনা দিলো বাড়ির পথে। সন্ধ্যা নামার আগেই বাড়ি যেতে হবে তাই আর ইহানের অপেক্ষা করলো না।
অর্ধেক গোসল করে কোমড়ে একটা তোয়ালে পেচিয়ে ড্রয়িং রুমে এসে দাঁড়িয়েছে এ্যাশ,ঠান্ডা পানিতে মাথা ঠান্ডা হওয়ার বদলে গরম হয়ে আছে,নিলের উপর বোম ফাটানোর পুরো প্রস্তুতিতে আছে,হাতের কাছে পেলেই আজকে মাথায় তুলে আছার মারবে। ড্রয়িং রুমের কোথাও নিলের চিহু ও পেলো না এ্যাশ,অগত্যাই চেচিয়ে ঢাকলো
-নিল!!নিল?নিল!!
রান্নাঘরে ছিলো নিল,এ্যশের চিৎকার শুনতেই কুন্তি হাতে বেড়িয়ে এলো,ড্রয়িং রুমে এ্যাশে উদাম গায়ে শুধু কোমড়ে একটা টাওয়াল পেচিয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে দেখে চিৎকার করে বললো…
-“বিয়ে করে বউ বাংলাদেশে রেখে এসে এখন খালি গা দেখিয়ে আমাদের সিডিউস করে ইটিস পিটিস করতে চাচ্ছিস এ্যাশ?শেষ অব্দি তোর এই অধপতন হলো? ছেলে হয়ে ছেলেদের সাথে…. ছিহ ছিহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ,,,আল্লাহ তুমি আমাদেরকে এর থেকে বাচিয়ে রাখো,সুস্থ রাখো,,আ…
মুখ বন্ধ হয়ে গেছে নিলের,কারণ এ্যাশ পানি গ্লাস ছুড়ে মেরেছে,গ্লাস নিলের কপালে লেগে নিচে পড়ে ঠাস করে শব্দ তুললো।
সোফায় বসে থাকা ঈশান নিলের দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে,এই ছেলেটা একটু বেশিই কথা বলে মুখে একদম লাগাম নেই। এ্যাশ নিলকে সাইড কাটিয়ে গিয়ে শাওয়ার জেলটা নিলো,গোসলে বসে শাওয়ার জেলের জন্য গুনে গুনে ১৪ বার এ্যাশ নিলকে ঢেকেছে কিন্তু দুঃখের বিষয় নিল একবার ও শুনে নি। তারজন্যই রেগেমেগে বেরিয়ে এসেছিলো।
শাওয়ার জেল নিয়ে এ্যাশকে চলে যেতে দেখে নিল কপালে হাত দিয়ে গিয়ে সোফায় বসলে,ঈশান দৌড়ে ফ্রিজ থেকে আইস বেগ নিয়ে এসে নিলের কপালে চেপে ধরতেই নিল নাক টেনে নাটক করে জোরে জোরে বললো
-“আজকাল সত্যি বললেও দোষ,মানুষের গায়ে ফুসকা পড়ে,আমার মতো নাদান ছেলেটাকে তোমার বস কেমনে আঘাত করলো দেখলে? আমার এই গোলগাল মাসুম চেহেরা দেখে মায়া হলো না?
ঈশান মুখ বাকিয়ে বিড়বিড় করলো “শালা মুখ না রেলগাড়ী একবার চললে থামার নাম ই নেয় না,মুখটা একটু বন্ধ রাখলে মার খেতিস? এখন আমার বসকে দোষ দিচ্ছিস”
তবে মুখে কিছু বললো না,নিলের পাশে বসে ওকে শান্তনা,দিতে দিতে ওর দুঃখের কথা শুনতে লাগলো,দুঃখ না ছাই সব তার বসকে নিয়ে নালিশ ঈশানের একবার মন চাইলো আরেকটা গ্লাস তুলে নিয়ে আবার বাড়ি দিতে,কিন্তু পারলো না,নিলের কথা স্মরণ করে নিলের মুখের দিকে তাকালো মায়া খুঁজতে কিন্তু পেলো না,ঈশানেট মন বললো ওর মুখে ও লেগে আছে “পৃথিবীর জাউরাদের মধ্যে ওয় নাম্বার 1”
রাতের ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাচ্ছে এ্যাশ সাথে যাচ্ছে ফাহাদ ও,সিঙ্গাপুরে তার একটা নতুন শোরুম খুলা হচ্ছে,এদিকে বাংলাদেশের টায় ও কাজ চলছে,বাংলাদেশের কাজে বেশিরভাগ সময় ঈশান যায়,যখন বেশি প্রয়োজন তখন এ্যাশ যায়,এবার এ্যাশ সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে দেখে ঈশান বাংলাদেশে যাচ্ছে। ৩ জনেই এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে আলাদা আলাদা ফ্লাইটে রওনা দিবে যার যার গন্তব্যে।
পরিক্ষা শুরু হয়েছে তাহার,ফাইনাল পরিক্ষা এই পরিক্ষায় পাশ করলেই ৩য় বর্ষের স্টুডেন্ট হবে সে। এখন বাজে রাত ২ টা মন প্রাণ দিয়ে পড়ছে তাহা,পরিক্ষা ছোট হোক বা বড় পরিক্ষা মানেই প্যারা এই পরিক্ষা আসে মানুষকে প্যারা দিয়ে শুকনা বানানোর জন্য,তাহা ও সে প্যারায় পড়ে গেছে পরিক্ষার টেনশনে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে পড়ায় ডুব দিয়েছে,পরিক্ষা শেষ না হওয়া অব্দি আর উঠবে না।
ইদানীং এ্যাশ বড্ড বিরক্ত করছে তাকে,রাত বিরাত যখন তখন তাকে ফোন দিচ্ছে,তাহা যতবার ওকে ব্লক লিস্টে ফেলে ততবারই নতুন নতুন নাম্বারে ফোন দেয় এ্যাশ,তাহা অবশ্য ফোন তুলতে চায় না কিন্তু এ্যাশ তো ভালো মানুষ নয়,অসভ্যের ও অসভ্য হাজারটার উপরে ফোন দিবে,সেই ফোন কি না তুলে পারা যায়? বিরক্ত হয়ে ফোন তুলে। আবার এ্যাশের কথা বলার মধ্যেই কেটে দেয়।
এখনো ফোন দিচ্ছে এ্যাশ তাহা বারবার কাটছে,তবুও দিচ্ছে,শেষ অব্দি এবার বিরক্ত হয়ে ফোন তুললো তাহা,তুলেই বিরক্ত কন্ঠে বললো
-“কিহ? কি সমস্যা? এতো বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত কেনো করছেন? আমি পড়ছি।
-“এতো পড়তে হবে না,এতো শিক্ষিত বউ আমি চাই না।
-“বেহুদ্দা প্যাচার করলে ফোন কেটে দিন।
-“তাহলে ভালোবাসাময় কথা বলি?
-“কথা বলারই দরকার নেই ফোন কাটুন,কালকে পরিক্ষা আমার!
-“পরিক্ষা শুরু হলে মানুষ বড়দের পরিক্ষার কথা বলে দোয়া নেয়,তুমি আমাকে বললে না কেনো?
-“এখন তো শুনলেন ই! দোয়া করে দিয়েন!!
-“আচ্ছা।।
দুজনেই চুপ,এ্যাশ ভাবলো তাহা হয়তো কল কেটে দিবে,কিন্তু কাটলো না,এতে অবাক হলো এ্যাশ,বরাবরই দুই তিন কথা বলার পরই তাহা ফোন কেটে দেয়,কিন্তু আজকে কেনো কাটলো না তাতে অবাক হলো,সাথে খুশিও।
-“আরিশা?
এই প্রথম তাহাকে নাম ধরে ঢাকলো এ্যাশ,নাম ধরে ঢাকার মধ্যে ও একটা ভালোবাসা আছে যেটা সবাই বুঝতে পারে না,ভালোবাসার মানুষটার মুখে নিজের নাম শুনলেও অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করে,বিষয়টা তাহার কাছে অনেক আদুরে লাগে। তাহা অন্য মনস্ক হয়ে উওর করলো
-“হুমম।
হাসলো এ্যাশ,কিছু বললো না,ফোনের এপাশ থেকে তাহার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনলো,তাতে অস্হির হলো এ্যাশের মন,একবার তাহাকে সামনে থেকে দেখতে ইচ্ছে করলো সেই কবে দেখেছিলো তারপর আর দেখা হয় নি।
-“ভিডিও কল দেই?
-“নাহ।
সাথে সাথে উওর তাহার,এ্যাশ মৃদু স্বরে বললো
-“আচ্ছা।
-“একটা প্রশ্ন করবো?
নড়েচড়ে বসলো এ্যাশ,গলা খাঁকারি দিয়ে বললো
-“হাজারটা করো।
-“আপনি আমায় ভালোবাসেন?
হঠাৎই এই প্রশ্ন থমকালো এ্যাশ,একবার ফোন সামনে এনে আবার কানে নিয়ে ধরলো,প্রশ্নের উওরের বদলে প্রশ্ন করলো
-“হঠাৎ এই প্রশ্ন?
-“আমাকে বিয়ে কেনো করেছেন?
-“কি হয়েছে তোমার কন্ঠ এরকম লাগছে কেনো?
-“কখনো যদি আমার নামে আপওিকর কিছু শুনেন ত..তাহলে কি আমাকে মেনে নিবেন আপনি?
-“কি হয়েছে তোমার? বলো? তোমার কন্ঠ এরকম কেনো শুনাচ্ছে? কাঁদছো তুমি?
অস্হির হয়ে জিজ্ঞেস করলো এ্যাশ তাহার কন্ঠ সাভাবিক নয় এ্যাশের মনে হচ্ছে তাহা কাঁদছে কিন্তু কেনো? কি হয়েছে ওর?
-“আচ্ছা রাখি!
-“তোমার কি হয়েছে বলো যাও আরিশা,আরু? হ্যালো? হ্যালো?
কল কেটে দিয়েছে তাহা,এ্যাশ ফোনের দিকে তাকিয়ে ফোনটা,দূরে আচাড় মারলো,মুহুর্তেই সেটা খন্ড দিখন্ড হয়ে গেলো,এ্যাশ নিজের মাথার চুল টেনে নিজেকে শান্ত করতে চাইলো কিন্তু পারলো না,কেমন অস্থির অস্হির লাগছে নিজেকে,শেষ অব্দি নিজেকে শান্ত করতে ড্রাগস নিলো এ্যাশ,বিছানায় নিজের শরীলের ভার ছেড়ে দিয়ে বললো
-”তোমার কান্না এই হৃদয়হীনের বুকে ও ঝড় তুলে দিলো,নারীর মায়া সত্যিই খুব ভয়ংকর।
মুখ চেপে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্টায় আছে তাহা,এই দরজার বাহিরে আওয়াজ যেতে দিবে না,আধাঘন্টা কান্না করার পর নিজেকে শান্ত করতে সক্ষম হয়েছে তাহা,চোখ মুখ পুরো লাল হয়ে গেছে।ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিলো তাহা,ওয়াশরুম থেকে আসার সময় টেবিলে চোখে পরলো তার শখের ডাইরিটা।
সেটা হাতে তুলে বিছানায় আবার ও আসলো তাহা,উপুড় হয়ে শুয়ে ডাইরিটা খুললো,ডাইরির একটা পৃষ্ঠায় গুটিগুটি অক্ষরে লিখলো-
-”আপনি পাপী,আপনার মৃত্যু হওয়া উচিত অথচ দেখুন আপনাকে ভালোবেসে প্রতিনিয়ত মৃত্যু হচ্ছে আমার।
—বিষাক্ত এই প্রেম,#বিষাক্ত_প্রেমের_অনুভূতি আমাকে
তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে!!
আরো কিছু শব্দ লিখলো তাহা,তারপর ডাইরিটা বুক জরিয়েই ঘুমে তলিয়ে গেলো।
ঘুম মানুষের হাজারো দুঃখ কষ্ট ভুলিয়ে দিতে সক্ষম,এই ঘুৃম কারো দুঃখ কমায়,আবার এই ঘুম কাউকে আজীবনের জন্য দুঃখ দেয়।
তবে তাহা ঘুমকে সুখের ঘুম হিসাবে ধরলো,ঘুমালে দুঃখ গুলো থেকে বাঁচতে পারবে,আবার যদি এই ঘুৃৃম কোনোদিন না ভাঙে তাহলে হয়তো কাউকে দুঃখ দিবে।
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১২
সকাল সকাল উঠে পড়তে বসেছিলো তাহা,আজকে প্রথম পরিক্ষা টেনশনে মরমর অবস্থা। ভোর ৬ টা থেকে ৮ অব্দি পড়ে রেডি হয়েই দৌড় দিলো তাহা,খেলো না পরিক্ষা টেনশনে খাবার গলা দিয়ে নামবে না।
ভার্সিটি গিয়ে অফিস রুম পাড় করে ক্লাসে যাবে তখনই আয়ানের ঢাকে থামলো,ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো
-”কিহ?
-”তোমার কি হয়েছে? কালকে রাতে কেঁদেছ কেনো তুমি?
