Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৫

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৫

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৫
Muntaha jahan

“ওয়াশরুম থেকে রুমে আসতেই আরাবির নজর গেলো বিছানার দিকে,প্যাকেটা দেখে ভ্রু কুঁচকালো আরাবি,এগিয়ে গিয়ে হাতে নিয়ে খুলতেই শাড়ি আলতা আর দু মুঠো কাচের চুড়ি পেলো,ঠোঁটে ফুটলো এক চিলতে হাসি,শাড়িটা গুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখতে গিয়ে ভিতর থেকে একটা চিরকুট বের হয়ে এলো,চিরকুট টা খুলতেই দেখলো গুটিগুটি অক্ষরে লিখা

-”আমি নিচে অপেক্ষা করছি,শাড়িটা পড়ে নিচে আসুন,ঘুরতে নিয়ে যাবো!
চিরকুটে কারো নাম নেই,এতক্ষণে আরাবির মাথায় প্রশ্ন আসলো এগুলো কে দিলো তাকে?
আরাবির প্রথমে ভেবেছিলো তাহা দিয়েছে কারণ তাহা মাঝে মাঝে তাকে এরকম গিফট দিতো,তাই ভেবেছিলো এখনো এগুলো তাহা দিয়েছে,কিন্তু এখন চিরকুট দেখে বুঝলো তাহা দেয় নি!
তাহলে?
-”আচ্ছা পড়ে গিয়ে দেখি! দিলে বাড়ির কেউই দিবে,বাইরের কেউ তো আর ভিতরে আসবে নাহ!
এই ভেবে শাড়িটা নিয়ে পড়তে গেলো!

ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে গেটের সামনে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছে তাহা,সাথে তার বেস্ট ফেন্ড ঐশী,ঐশীর হাতে ছাতা,আবার ও বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে,আবার ও বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে দেখে তাহা বিরক্ত স্বরে বললো
-” এভাবে বৃষ্টি হলে স্টুডেন্ট পড়াতে কি করে যাবো? বাসায় গিয়ে আবার পড়াতে যেতে হবে,কি জ্বালা,দূর ভাল্লাগে নাহ!!
-“যাস না আজকে,অনেক জোরেই বৃষ্টি হচ্ছে এতো তাড়াতাড়ি থামলে বলে আমার মনে হয় নাহ!
চোখের চশমাটা ঠিক করতে করতে বললো ঐশী,বৃষ্টির পানির ছিটেফোঁটা এসে বারবার চশমা ঝাপসা করে দিচ্ছে! সেটা বারবার পরিষ্কার করে চোখ দিতে দিতে সে ও বিরক্ত! তবুও সাভাবিক স্বরে কথাটা বললো,তাহার সামনে বিরক্তি প্রকাশ করে ওকে আরো বিরক্ত করতে চাইলো নাহ!
-“দেখ একটাও গাড়ি নেই বাসায়ই কি করে যাবো?
ভার্সিটির গেট পেরিয়ে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে উঠার আগেই ঈশানের চোখ গেলো গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাহা আর ঐশির দিকে,তাহাকে দেখেই আরাভের দিকে তাকালো আরাভ চোখ বন্ধ করে বসে আছে,ঈশান গলা খাঁকারি দিয়ে আস্তে করে বললো

-“বস! ম্যাম!
কথাটা কানে পৌঁছাতেই চোখ মেলে তাকালো আরাভ,ঈশানের দৃষ্টি অনুসরণ করে পাশে তাকালো,তাহাকে বিরক্ত মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো গেটের পাশে!
-“এই মেয়ে এই ভার্সিটিতেই পড়ে নাকি?
বিড়বিড় করে কথাটা বলে ঈশানকে বললো গাড়ি নিয়ে তাহার সামনে যেতে!
আশেপাশে তাকিয়ে গাড়ি খুজতে খুঁজতে হঠাৎ একটা গাড়িকে নিজেদের সামনে দাঁড়াতে দেখে ভ্রু কুঁচকালো তাহা,ঈশান গাড়ির কালো গ্লাসটা নামিয়ে দিলো!
গাড়ির ভিতরে ঈশান আর আরাভকে এবার দেখলো তাহা,আরাভ তাহার দিকে তাকিয়ে শান্ত শিথল স্বরে বললো
-“গাড়িতে উঠে এসো!
-“না আপনি যান আমি বৃষ্টি কমলে চলে যেতে পারবো!
-“গাড়িতে উঠে এসো,নয়তো আমি নেমে আসবো!
তাহা একবার ঐশীর দিকে তাকিয়ে বললো
-“আমি আমার বেস্টুকে ছাড়া যাবো না,আপনি যান!
আরাভ এবার খেয়াল করলো ঐশীকে এক পলক ঐশীর দিকে তাকিয়ে আবার ও তাহার দিকে তাকালো,তাহা যে ঐশীকে ছাড়া যাবে না এটা ও বুঝলো,আবার সে ও তাহাকে এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে একা রেখে যাবে নাহ! অগত্যাই রাজি হতে হলো তাকে,তাহার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত স্বরে বললো
-“তোমার বান্ধবীকে নিয়েই উঠে আসো,,তাড়াতাড়ি আসো!

পার্কে এক ঘন্টা ধরে মাথা নিচু করে বসে আছে আরাবি,মুখে কোনো কথা নেই,পাশেই ফাহাদ বসা,ফাহাদ আরাবির দিকেই তাকিয়ে আছে,আরাবির চোখে মুখে বিরক্তি ভাব স্পষ্ট সেটাই উপভোগ করছে সে,আরাবির এই বিরক্ত চেহারা তাকে আনন্দ দিচ্ছে!
শাড়িটা পড়ে নিচে আসতেই ফাহাদ আরাবির সামনে এসে দাঁড়ায়,আরাবি কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ফাহাদই আগ বাড়িয়ে বলে ছিলো গিফট গুলো সে দিয়েছে,তারপর আর কিছু বলার বা শুনার সময় হয়নি তার আরাবিকে টেনে একটা রিকশায় তুলে পার্কে নিয়ে এসেছে!
আরাবি এবার মাথা তুলে তাকালো ফাহাদের দিকে,ফাহাদ এখনো তাকিয়ে,আরাবি এলোমেলো চুল গুলো কানের পিছনে গুজে দিয়ে বললো
-“এভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো? আশেপাশে কওো মানুষ,ওরা কি ভাববে?
ফাহাদ চুপ,এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরাবির ঠোঁটের দিকে,ফাহাদকে চুপ করে থাকতে দেখে আরাবি বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,বললো
-“অনেক্ক্ষণ বসে ছিলাম এখন চলুন,আমার আর ভাল্লাগছে না এখানে!
কথাটা বলে হাঁটা ধরলো আরাবি,ফাহাদ তখনো চুপ করে বসে থেকে আরাবির কান্ড দেখছে,আরাবি হাঁটতে হাঁটতে একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেতেই এবার উঠে দাঁড়ালো সে,চোখ দুটো মুহুর্তেই লাল হয়ে গেছে,হাতটা মুষ্টি বদ্ধ করে এগিয়ে গেলো সে ছেলেটার দিকে,কলার চেপে ধরে ছেলেটার মুখে কিল বসিয়ে দিলো,ছেলেটা মাটিতে ছিটকে পড়ার সাথে সাথে আবার তুলে আনলো,কলার ঝাঁকিয়ে বললো

-“ধাক্কা দিলি কেনো ওকে? তোর এতো সাহস হলো কি করে ওকে টাচ করার? বল কেনো ধাক্কা দিলি? টাচ করলি কেনো?
আবার ও কিল বসিয়ে দিলো ফাহাদ,ছেলেটার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে গেছে,আশেপাশে অনেক লোক জমা হয়ে গেছে ততক্ষণে,আরাবি এসে ফাহাদকে আটকানোর চেষ্টা করলো,ফাহাদ খেয়াল না করেই আরাবিকে ধাক্কা মেরে দিলো,আরাবি গিয়ে পার্কে থাকা ইটের বেঞ্চে বাড়ি খেলো,আরাবি মৃদু স্বরে আর্তনাদ করে উঠলো “” আহহ”” বাড়িটা বেশ জোরেই লেগেছে কেটে গেছে সাথে সাথে!
আরাবির কন্ঠ শুনে পিছনে তাকালো ফাহাদ আরাবির নিচে পড়ে থাকতে দেখে দৌড়ে এগিয়ে আসলো ওর কাছে মাথাটা নিজের দু’হাতের আজলায় নিয়ে নিজের শার্টটা চেপে ধরলো ওর কপালে,সেই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো

-“ক্ষনিকের জন্য বেঁচে গেলি,,শুনে রাখ এই আবরার ফাহাদের চোখ যখন এই আরাবি খানের উপর পড়ে গেছে তখন আর কারো অধিকার নেই এই আরাবির খানের দিকে তাকানোর! আরাবির দিকে কুদৃষ্টিতে তাকানোর ফল তোকে ভোগ করতেই হবে!! তৈরি থাকিস!!
আর কোনো কথা না বলেই আরাবিকে কোলে তুলে নিলো ফাহাদ,আরাবি তখন দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথা হজম করতে ব্যাস্ত,বাবা মায়ের আদরে বড় হওয়া আরাবির কাছে এই সামান্য ব্যাথাকে ও অনেক বেশি মনে হলো! চোখ দিয়ে পানি বের হলো,ফাহাদ সেটা খেয়াল করে কাতর স্বরে বললো
-“আ’ম সরি আরাবি,আমি তোমাকে আঘাত করতে চাইনি,প্লিজ মাফ করে দাও! কেঁদো না তুমি!

বিকাল ৫ টা
খান বাড়ির ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সকলে,সবার মুখেই চিন্তা চাপ স্পষ্ট,নিহান খান আরেকবার ঘড়ি দেখে সোফায় গম্ভীর হয়ে বসে থাকা মিনাল খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন
-“ভাইজান অনেক দেরী হয়ে গেছে,এখন একবার মেয়েটার খোঁজ নেওয়া উচিত,সেই কখন বের হয়েছে!!
মিনাল খান মাথা নাড়িয়ে সম্মতি প্রকাশ করে উঠে দাঁড়াতেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ফাহাদ আরাবি,আরাবিকে দেখে সকলে শস্তির নিশ্বাস ফেলেতেই আবার কপালে বেন্ডেজ খেয়াল করতেই আঁতকে উঠেন,মিনাল খান দৌড়ে মেয়ের কাছে এসে মেয়েকে বুকে আগলে নেন,ফাহাদ আরাবির হাত ছেড়ে দেয়,দূরে সরে দাঁড়ায় কিছুটা!!
আরাবির বাবার বুকে মাথা রেখে মৃদু হাসে বাবার চিন্তিত মুখের দিকে তাকিয়ে বলে

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৪

-“চিন্তা করো না বাবা,ঠিক আছি,রাস্তায় হুঁচোট খেয়ে পড়ে হালকা ব্যাথা পেয়েছি শুধু!!
মিনাল খান মেয়েকে নিয়ে সোফায় বসান আয়েশা বেগমকে গরম দুধ নিয়ে আসার জন্য বলেন,আরাবি এবার তাকালো ফাহাদের মুখের দিকে,রাস্তায় আসার সময় একটা বারের জন্য ও মুখ খুলে নি সে,অবশ্য ফাহাদ ও কোনো কথা বলে নি,কালকের বিয়ে ভাঙা আজকের ফাহাদের থেকে এমন আচরণে চোখ বেয়ে আবার ও জল গড়ালো আরাবির,আরাবি কাঁদছে বুঝতে পেরেই ফাহাদ নিজের হাত মুষ্টি বদ্ধ করলো,বাসা থেকে বের হতে নিতেই পিছন থেকে মিনাল খানের কন্ঠ শুনা গেলো
-“এখন এই অবেলায় তুমি কোথায় যাচ্ছো বাবা?
-“একটা জুরুরি কাজ মনে পড়ে গেছে আঙ্কেল কাজটা শেষ না করলেই নয়!!

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ৬