এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৪
নুসরাত ফারিয়া
রাতের শহরটা এখন একদম নিঝুম। ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় রাস্তার পাশের পুরনো বাড়িগুলোর ছায়া দীর্ঘ হয়ে আছে। বাতাসটা হঠাৎ করেই থমকে গেছে, যেন পুরো শহর একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ হয়ে আছে। একটি গলির মোড়ে কেবল একটা ভাঙা টিউবলাইট টিপটিপ করে জ্বলছে আর নিভছে। দূরে কোথাও একটা টিনের চালের ওপর বিড়ালের লাফ দেওয়ার মৃদু শব্দ হলো। বাতাস এখন কিছুটা ভারী, তাতে মিশে আছে ভেজা ধুলো আর রাতের নিস্তব্ধ হিম বায়ু। কোনো এক জানালার আড়াল থেকে ভেসে আসছে একটা পুরনো সিলিং ফ্যানের একটানা ঘড়ঘড় আওয়াজ। আকাশের রঙটা কালচে বেগুনি, আর নিচে ফাঁকা রাস্তাটা এক অন্তহীন একাকীত্বের পথ। কোনো তাড়া নেই, কোনো ব্যস্ততা নেই, শহরটা কেবল তার নিজের অস্তিত্ব নিয়ে একা দাঁড়িয়ে আছে।
সেই রাতের নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে খান বাড়ির দরজার কলিং বেল বেজে উঠল। একের পর এক ককর্শ শব্দে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। রাত তখন প্রায় বারোটা ছুঁইছুঁই। এত রাতে হঠাৎ করে কে উদয় হলো কে জানে। তাহমিনা খান এবং সোবহান খান নিচতলায় থাকেন। আর ছেলে-মেয়েরা সবাই দোতলায় থাকে। কাঁচা ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বেশ বিরক্ত হোন তাহমিনা খান। পরণের এলোমেলো শাড়ি ঠিক করে উঠলেন। রুম থেকে বেরিয়ে আসার সময় খেয়াল করে, আধারও সিড়ি বেয়ে নামছে। ছোট মাকে দেখে আধার শান্ত গলায় বলল,
-“আপনি দাঁড়ান, আমি দেখছি।”
একথা বলে আধার দরজা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে খুব পরিচিত একজন সুদর্শন যুবকের চেহারা ভেসে উঠল চোখের পাতায়। পাশ কাটিয়ে ড্রাইভার দুটো ল্যাগেজ নিয়ে এসে ড্রয়িংরুমে রাখল। এত রাতে কে এসেছে সেটা দেখার জন্য কাছে এগিয়ে আসেন তাহমিনা খান। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আগন্তুকের চেহারা খেয়াল করতেই চোখদুটো বিস্ময়ে বড়বড় হয়ে যায়। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুবকটি ঝড়ের গতিতে ছুটে এসে দু’হাতে ঝাপটে ধরল।
-“আ….আম্মু!”
এত বছর পর নিজ সন্তানের মুখ থেকে অতি প্রিয় সম্মোধন শুনে মূহুর্তেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠলেন তাহমিনা খান। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন,
-“এতগুলো বছর পর বুঝি আম্মুর কথা মনে হয়েছে?”
যুবকটি জন্মদাত্রীকে ছেড়ে দুগালে হাত রেখে কপালের মাঝে ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে বলল,
-“আমি তোমাদেরকে প্রতিটা মূহুর্তে মিস করেছি আম্মু। বিশেষ করে তোমার হাতের রান্নাগুলো।”
-“আজ যে দেশে ফিরবে, সেটা আগে বলোনি কেন?”
-“আগে বললে কী সারপ্রাইজ থাকত আম্মু? আমি তো চেয়েছিলাম তোমাদের সবাইকে চমকে দিবো। আর এখন এইভাবে বাচ্চাদের মতো না কেঁদে আমাকে কিছু খেতে দাও। ভীষণ খিদে পেয়েছে।”
তাহমিনা খান শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে বললেন,
-“তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো, আমি এক্ষুনি খাবার গরম করে দিচ্ছি।”
তাহমিনা খান দ্রুত রান্নাঘরে চলে গেলেন। যুবকটি ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে বলল,
-“কেমন আছো ব্রো?”
আধার স্বাভাবিক গলায় বলল, -“আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”
-“শুনলাম বিয়ে করেছো। তা তোমার বিবিজান কোথায়?”
-“বাপের বাড়িতে।”
-“আগেই জানতাম আমি। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মেয়ে তোমার সাথে বেশিদিন সংসার করতেই পারবে না। সো ব্যাড!”
যুবকটি ঠোঁট বাঁকিয়ে উপহাস করে। আধার সিড়ি বেয়ে উপরে যেতে যেতে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
-“আমার সংসার নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। তুই বরং তোর জীবনে ফোকাস কর!”
যুবকটি কিছু বলতে যাবে তখনই সোবহান খান ড্রয়িংরুমে এসে অবাক কণ্ঠে শুধালেন,
-“রাত নানুভাই তুমি?”
বহু বছর পর দাদাজানকে দেখে রাতের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। ছুটে এসে দাদাজানকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“ইয়েস দাদাজান, আমি! তোমার ছোট্ট সেই রাত।”
সোবহান খান হাসলেন। ছোট নাতির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
-“আসতে কোনোরকম সমস্যা হয়নি তো?”
-“একটুও না দাদাজান। বাট….কিছু তো একটা হয়েছে।”
-“মানে? কী হয়েছে?”
-“উমম….সময় হলে বলব। আগে নিজেকে তো শিওর হতে দাও।”
-“ঠিক আছে। এখন যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো!”
সাত সকালে মা জননীর হাতে মা’ইর খেয়ে মুখ কালো করে বসে আছে আলো। আজ তার ইনকোর্স পরীক্ষা। খুব ভোরবেলায় উঠে পড়া রিভিশন দিয়ে বাহিরে এসেছিল। উদ্দেশ্যে ছিল এক মগ গরম কফি বানিয়ে খাবে। সবকিছু ঠিক থাকলেও সে তার মায়ের অমূল্য রত্নগুলোর মধ্যে থেকে দুটো দামী গ্লাস ভেঙেছে। ব্যস! তারপরই পিঠের ওপর চারটে থাপ্পড় এসে পড়েছে। আশেপাশে কোনো ঝাঁটা বা জুতা না থাকায় আজ বেঁচে গেছে। নয়তো ওইগুলোর বারিও এসে তার পিঠে পড়ত৷
-“ওইভাবে খাম্বার মতো বসে না থেকে নাস্তা করে ভার্সিটিতে যাও।”
মায়ের কথা শুনে আলো চট করে দাঁড়িয়ে রুমে যেতে যেতে বলল, -“খাব না তোমার শশুর বাড়ির খাবার।”
বাসে করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে আলো। বাসস্ট্যান্ডে নেমে ওখান থেকে রিকশা করে যায়। সে এই খোলামেলা যানবাহনে যাতায়াত করতে বেশি পছন্দ করে৷ বিশেষ করে রিকশা! সাড়ে ন’টার দিকে বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায় আলো। বাস থেকে নেমে কাঁধের ব্যাগ চেপে ধরে কিছুদূর হেঁটে যায়।
সময় ধীরে ধীরে অতিবাহিত হয়ে যায়। ওইদিকে টেনশনে মেয়েটার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। এত সময় হয়ে গেল তবুও সে রিকশা পাচ্ছে না। ওইদিকে রিকশা যেতে চাচ্ছে না। এই একটা সমস্যা! এমনটা মাঝেমধ্যেই হয়। আলো বিরক্তিতে হাত ঘড়ির দিকে তাকায়। ন’টা পয়তাল্লিশ বাজে, অথচ তার পরীক্ষা দশটার দিকে। হাতে আর মাত্র পনেরো মিনিট সময় রয়েছে। সে এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে ভার্সিটিতে পৌঁছাবে? একটু লেট করে গেলে ওই শয়তান স্যারটা কথা শুনাতেও পিছপা হবে না। সবার সামনে আবারো অপমান করে ছেড়ে দিবে। আজকের দিনটাই খারাপ। অন্তত তার কাছে!
-“আলো তুমি?”
চেনা-পরিচিতি কণ্ঠস্বর শুনে আলো চমকে উঠে পাশে তাকায়। একটা কার থেমে আছে। ড্রাইভিং সিটে বসা ব্যক্তিকে দেখে আলো এগিয়ে এসে বলল,
-“রিকশার জন্য ওয়েট করছি ভাইয়া। কিন্তু আপনি কবে দেশে ফিরলেন?”
-“এইতো এক মাস আগে।”
-“ওহহ!”
-“আচ্ছা এসো, আমি তোমাকে ড্রপ করে দিচ্ছি। আজ না তোমার পরীক্ষা? হাতে তো বেশি সময় নেই।”
ছেলেটার কথা শুনে আলো ভাবুক হয়ে পড়ে। এই লোকটা রাহুল ভাইয়া। তার রহিত ভাইয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড, সাথে তার বাবার বন্ধুর ছেলেও। সেই সুবাদেই চেনাজানা রয়েছে৷ তার বিয়ের আগে মানুষটা বিজনেসের জন্য দুবাই গিয়েছিল। সেজন্য তার বিয়েতে উপস্থিত হতে পারেননি। এখন জানতে পেরেছে কি-না জানা নেই। আর সে জানতেও চায় না। এমনিতেই আজ সকাল থেকে তার মনমেজাজ একটুও ভালো নেই। তাই সে কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ গাড়িতে উঠে গেল। নয়তো আজ তার পরীক্ষা চাঙ্গে উঠবে।
ভার্সিটির সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে এল আলো। তারপর একগাল হেঁসে বলল,
-“থ্যাংঙ্কিউ ভাইয়া। আপনার জন্য আজ ঠিক টাইমে পৌঁছাতে পারলাম।”
রাহুল মুচকি হেঁসে মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“সমস্যা নেই পাখি। আমরা আমরাই তো!”
বিনিময়ে আলো হাসল। রাহুল চারটে বিদেশি চকলেট বক্স ও দুবাইয়ের বিখ্যাত কুনাফা চকলেটর ছয়টি বক্স বের করে বলল,
-“নাও, এইগুলো তোমার জন্য।”
চকলেট আলোর ভীষণ প্রিয়। আর সেটা যদি হয় বাহিরের দেশের, তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। সে হাসিমুখে চকলেটগুলো নিয়ে ব্যাগে ভরে নিল। এর আগেও বহুবার তাদের চকলেট নিয়ে দিয়েছে রাহুল ভাইয়া। শুধু তিনি না, রহিত ভাইয়াসহ সবাই তাদের বেশিরভাগ চকলেটই গিফট করে। তাই তার কাছে এটা নতুন কিছু না।
-“আচ্ছা ভাইয়া, সাবধানে যাবেন। আমি এখন আসছি।”
রাহুল প্রতিত্তোরে বলল,
-“ভালো করে পরীক্ষা দিও ময়না পাখি!”
-“ইনশাআল্লাহ।”
আলো মুচকি হেঁসে বাক্যটি বলে হাত নাড়িয়ে বাই দিল। রাহুল কিছুক্ষণ হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। আর আলোও ভার্সিটির ভেতর ছুটল!
পরীক্ষা চলাকালীন আলোর পেটের ভেতরটা গুড়গুড় করে উঠল। সেটা শুনতে পেয়ে তামান্না লিখতে লিখতে ফিক করে হেঁসে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“কিরে? আন্টি সকালে খেতে দেয়নি?”
আলো গোমড়া মুখে বলল, -“খাবারের বদলে অন্যকিছু খেয়েছি। তাই আপাতত পেট ফুল!”
-“তোর হাতে কি হয়েছে?”
-“গতকাল রাতে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি।”
-“আন্টি আর তোকে এমনি এমনি মা’রে না। তোর স্বভাবই ওমন।”
-“হয়েছে থাক! তোকে আর এত জ্ঞান দিতে হবে না।”
আলো বিরক্তিকর কণ্ঠে বলে মাথা তুলে সামনে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। মূহুর্তেই মানুষটা দৃষ্টি সরিয়ে নিল। এতে ভ্রু কুঁচকে যায় মেয়েটার। কোনোভাবে কী আধার স্যার তার দিকে তাকিয়ে ছিল? কিন্তু কেন তাকিয়ে থাকবে?
-“স্যারকে পরে দেখিস! এখন লিখ। নয়তো আবার পরীক্ষায় ফেল করবি।”
বান্ধবীর কথায় আলো নজর নামিয়ে সাদা ধবধবে কাগজের দিকে তাকায়। লেখার সময় অনুভব করল, তার খিদে পেয়েছে। বেচারি মনে মনে নিজেকে বকাবকি করল। কেন যে রাগ দেখিয়ে বাড়িতে থেকে না খেয়ে বের হতে গেল। ধ্যাৎ! এখন শুধু শুধু নিজের পেটকে কষ্ট দেওয়া।
আলো কোনোমতে খিদে দমিয়ে রেখে সবার আগে পরীক্ষা দেওয়া শেষ করল। কাগজগুলো জমা দেওয়ার সময় আধার গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
-“সবগুলোর উত্তর দিয়েছো? নাকি পুরোটাই নিজের মাথার মতো ফাঁকা রেখেছো।”
আলো দাঁত কিড়মিড় করে বলল, -“আপনার মাথা যেমন ভরা, ঠিক তেমন আজ আমার খাতাও ভরা। বিশ্বাস না হলে নিজের চার চোখ দিয়ে চেক করে দেখুন!”
আধার সত্যি সত্যিই চোখের চশমা ঠিক করে খাতার পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখল। আলো বেকুব বনে গেল। আরেহ সে তো এমনি এমনি বলেছিল! তাই বলে লোকটা সত্যিই চেক করবে? সে তো একটা প্রশ্নের উত্তরই লেখেনি। খাতা দেখে আধারের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। সেটা খেয়াল করে আলো ফিসফিসিয়ে বলল,
-“ওটার জন্য যদি সমস্যা হয় আপনার, তাহলে নিজে লিখে দিন। হাজার হোক, বর বলে কথা। এইটুকু তো সাহায্য করতেই পারেন বেরসিক স্বামীজান ওরফে হিটলার স্যার।”
বলেই আলো ঠোঁট কামড়ে হেঁসে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যায়। আর আধার গম্ভীর মুখে মেয়েটার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল!
আলো সোজা ক্যান্টিনে এসেছে। এক প্লেট নুডলস ও দুটো স্যান্ডউইচ কিনে নিয়ে একটি ফাঁকা নিরিবিলি কর্ণারের টেবিলে বসল। এক কানে ব্লুটুথ ইয়ারফোন গুঁজে গান শুনতে শুনতে খাবার খেতে শুরু করল। এই সময়টাতে পরীক্ষা, ক্লাস হওয়ার জন্য খুব বেশি কেউ নেই এখানে। যে ক’জন আছে তারা নিজেদের মতো খেতে ব্যস্ত!
আলো খেতে খেতে খেয়াল করল তার সামনে থেকে নুডলসের প্লেট গায়েব। সে চমকে উঠে মাথা তুলে উপরে তাকাতেই ভরকে গেল। কারণ তার ঠিক পাশে সুজন ও তার দলবল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
-“এটা কী ধরনের ব্যবহার ভাইয়া?”
আলোর কথা শুনে সুজন বাঁকা হেঁসে বলল,
-“এটা তো তুমি বলবে। একজন সিনিয়র ভাইয়ের কপাল ফা’টিয়ে দিব্যি আয়েশ করে বেড়াচ্ছ। তা তুমি ম্যানারস জানো না?”
একটু থেমে পুনরায় বলল,
-“আমি জানি ওইদিন তুমি ইচ্ছে করে আমার দিকে নিজের বোতল ছুঁ’ড়েছিলে। আর ক্লাসরুমে মিথ্যে বলেছিলে ওটা তোমার বোতল নয়! ওই সময় স্যারের জন্য বেশিকিছু করতে পারিনি, কিন্তু পরে ঠিকই জানতে পেরেছি ওই পান্ডার স্টিকারওয়ালা বোতলটা তোমার। মানতেই হবে, বেশ ভালোই নাটক করতে পারো।”
আলো আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“ওইদিন আমি ইচ্ছে করে আপনাকে আঘাত করিনি ভাইয়া। ওটা তো একটা এক্সিডেন্ট ছিল। তবুও আমি সরি।”
-“সরি মাইফুট!”
সুজন রাগে চেঁচিয়ে ওঠে। হঠাৎই সে প্লেটের অর্ধেক নুডলস মেয়েটার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে আশেপাশের কয়েকজন শব্দ করে হেঁসে ওঠে। রাগে, অপমানে আলোর চোখদুটো রক্তিম হয়ে আসে৷ সে মানছে, অজান্তেই ভুল করে ফেলেছিল ওইদিন। আর ছেলেটা যদি ভালো হত, তাহলে সে নিজে গিয়েই দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইত। কিন্তু এই ছেলেটা একটা জঘন্য মানুষ। তাই তো ঝামেলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন তার সামনে ঝামেলা হাজির!
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৩
আলো দাঁতে দাঁত চেপে টিস্যু দিয়ে নিজের মাথার ওপর থেকে নুডলসগুলো সরিয়ে নিল। তারপর চুপচাপ উঠে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই দুজন ছেলে সামনে এসে পথ আঁটকায়। এবং পেছন থেকে শুনতে পেল হিসহিসিয়ে বলা কিছু বাক্য—
-“কোথায় যাচ্ছো দোয়েল পাখি? সবে তো তোমার পানিশমেন্ট শুরু। আগে আগে দেখো, হোতা হে কিয়া। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি, আলো রহমান!”

Apu next prat aktu taratari dio plz 😩