Home এক মুঠো চাঁদের আলো এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৫

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৫

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৫
নুসরাত ফারিয়া

অপ্রত্যাশিত একটা জঘ’ন্যতম পরিস্থিতিতে এইভাবে যে পড়তে হবে সেটা ভাবতেও পারেনি আলো। মেয়েটা তবুও নিজেকে শক্ত রেখে পিছন ফিরে কঠিন গলায় বলার চেষ্টা করল,
-“আপনি কিন্তু এইবার বারাবাড়ি করছেন।”
রমণীর কথা শুনে সুজন শব্দ করে হাসল। এক পা, দু পা করে এগিয়ে আসতে আসতে বিরবিরালো,
-“বারাবাড়ির কি দেখলে? এখনো তো তেমন কিছু করিই নি।”
আলো পিছিয়েও যেতে পারল না। কারণ তার পিছনেই পথ আঁটকে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেগুলো। সে রাগে খেঁকিয়ে উঠল, -“কী চাই আপনার??”

-“প্রতিশোধ মিস!”
-“কিসের প্রতিশোধ? কী করেছি আমি?”
-“প্রথমত, আমাকে পুরো ভার্সিটির সবার সামনে থাপ্পড় মে’রেছিলে। তারপর….তারপর বোতল ছুঁ’ড়ে কপাল ফাটিয়েছো। সিনিয়র ভাই হওয়া সত্ত্বেও অসম্মান করেছো। এত এত অন্যায় করার পর এখন বলছো, আমি কী করেছি হুহ্?”
-“সিনিয়র ভাই হয়ে যে রাস্তার বখাটেদের মতো আচরণ করেন, সেই বেলায়? মেয়েদেরকে র‍্যাগিং করার নাম করে অসভ্যতামি করতে একটুও লজ্জা করে না? এই আপনাদের ঘরে মা-বোন নেই? একজন নারীর গর্ভ থেকে জন্ম নিয়ে অন্য নারীদের অসম্মান করতে বিবেকে বাঁধে না? আপনাদের মতো কিছু কিছু জানো/য়ার এই সমাজে মানুষ রূপে কলঙ্ক!”
আলো একরাশ ঘৃ’ণিতভারা চাহনিতে বাক্যগুলো ছুঁড়ে দেয়। সুজনের পাশ থেকে একজন সিনিয়র মেয়ে তেড়ে এসে চট করে আলোর মাথার পিছনের চুলগুলো খামচে ধরল। এবং অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলল,

-“যত বড় মুখ নয়, ততো বড় কথা? আজ তোর মুখ ভেঙে গুড়িয়ে দেবো আমি। তারপর দেখব তোর ফটরফটর করা কই থেকে বের হয়!”
আলো ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। তবে চুল ছাড়ানোর আগে নিজের গায়ের শক্তি দিয়ে মেয়েটাকে সজোরে ধাক্কা মা’রল। আচানক ধাক্কায় রিনা না চাইতেও কয়েক কদম পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো। পর মূহুর্তে আবারো তেড়ে আসতে চাইলে সুজন হাতের ইশারায় থামিয়ে দিল।
-“ঠিক আছে! আজ নাহয় আমাদের কলঙ্কেই তোমাকে কলঙ্কিত করব।”
ছেলেটার এহেন কথায় আলো ঘাবড়ে গেল কিছুটা। অস্ফুটস্বরে বলল,
-“আমি কিন্তু স্যারের কাছে নালিশ করব। তখন আপনাদের সবাইকে ঘাড় ধরে ভার্সিটি থেকে বের করে দিবে। তাই বলছি, আমাকে যেতে দিন। আর আমার পথ ছাড়ুন!”
আলোর কথা শুনে সবাই হো হো করে হেঁসে উঠল। পাশ থেকে একজন বলে উঠল,

-“কেন বে? স্যার কি তোর জামাই লাগে? যে বউয়ের কথায় আমাদেরকে বের করে দিবে?”
-“ভদ্রভাবে কথা বলুন।”
-“বলব না। কী করবি তুই? কতজন স্যারকে নিজের রূপ, যৌবন দিয়ে ফাঁসিয়ে রেখেছিস হুহ্?”
কথাগুলো শোনা মাত্রই আলোর চেহারা রক্তিম হয়ে উঠল। আগপাছ না ভেবে মূহুর্তেই তেড়ে এসে সপাটে চড় বসিয়ে দিল ছেলেটার গালে। তারপর গর্জে উঠে বলল,
-“কুত্তার বাচ্চা! বড়দের সম্মান দিতে শিখ। নয়তো পুলিশে ধরিয়ে দিবো বলে রাখলাম।”
ছেলেটা বাম গালে হাত রেখে হিং’স্র চোখে মেয়েটার রাগান্বিত চেহারার দিকে তাকায়। পারলে এক্ষুনি গিলে খাবে। আলো রাগে গজগজ করতে করতে পিছনে ফিরতেই তার উপর এক বালতি বরফ-পানি এসে পড়ল। হুট করে, সবটা হুট করে ঘটে যায়। ঠান্ডা পানি শরীরে পড়তেই আলোর সর্বাঙ্গ কেঁপে ওঠে। সে বিস্ময়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুজনের দিকে তাকায়।

-“রূপে যেমন আগুন, ঠিক তারচেয়ে দিগুণ তেজ তোমার শরীরে ও মুখে। তাই একটু হট থেকে কুল করলাম।”
আলোর পরনে ন্যুড রঙা সুতির লং গাউন এবং গলায় জর্জেট হিজাব ওড়না পেঁচিয়ে রাখা ছিল৷ পানিতে মেয়েটার পুরো শরীর ভিজে যায়। জামাটা বিচ্ছিরি ভাবে শরীরের সাথে লেপ্টে গিয়েছে৷ ফলস্বরূপ বাঁকানো দেহের প্রতিটা ভাজ সুস্পষ্ট!
রাগে, ঘৃ’ণায় আলোর শরীর রীতিমতো থরথর করে কাঁপছে। হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে থাপ্পড় মা’রার জন্য ডান হাত উঁচু করে। কিন্তু তার থাপ্পড়টা সুজনের গালে পড়ার আগেই খপ করে হাতের কব্জি চেপে ধরে। এবং মূহুর্তেই মেয়েটাকে উল্টো ঘুরিয়ে পিছনে দু’হাত এনে মুষড়ে ধরল। হাতের ব্যথায় আলোর দু’চোখ বেয়ে নোনাজল গড়ে পড়ে। সুজন আরো শক্ত করে চেপে ধরতেই মেয়েটা অস্ফুটস্বরে আর্তনাদ করে উঠল। মনে হলো, এই বুঝি তার হাতজোড়া ভেঙে যাবে!

-“এত সাহস আসে কই থেকে হুম?”
আলো সাহায্যের জন্য ছলছল চোখে আশেপাশে তাকায়। সবাই সবকিছু দেখেও চুপ করে আছে৷ কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে এল না, বরং দাঁড়িয়ে থেকে ফ্রি-তে তামশা দেখছে। হাজার হোক বাঙালি বলে কথা, এরা বিপদের সময় পাশে না দাঁড়িয়ে ফ্রি-তে পাওয়া বিনোদন উপভোগ করতে পছন্দ করে। আলো মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি দিল। আজ এখান থেকে শুধু একবার সুস্থ শরীরে ফিরুক, তারপর সবাইকে দেখে নিবে। নাহলে সেও আলো নয়।
-“কী হলো? সব দেমাগ শেষ?”
বলতে বলতে মেয়েটার মুষড়ে ধরা হাতে চাপ প্রয়োগ করল সুজন৷ আলো ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সে এই জানো/য়ারগুলোর সামনে মোটেও চোখের পানি ফেলতে চায় না। তার চোখের পানি কি এতোই সস্তা? যেখানে সেখানে নষ্ট করবে?
আলো দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা গিলে নিল। ছটফট করতে করতে একসময় সুজন নিজ থেকেই মেয়েটাকে ছেড়ে দিল। আলো একহাতে নিজের অন্য হাতের কব্জি ধরে। কোমল, ফর্সা হাত রক্তিম হয়ে উঠেছে। সাথে আঙুলের ছাপও পড়েছে নরম মাংসে! আলো জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সুজন ঘটিয়ে ফেললো এক অঘটন।

হঠাৎই মেয়েটার ওড়না চেপে ধরে একটানে ছিনিয়ে নিল। আচমকা এমন হওয়ায় আলো তাল সামলাতে না পেরে, ঘুরে পিছনের টেবিলের ওপর ছিটকে পড়ল। সুজন বাঁকা হেঁসে হাতের তালুতে মেয়েটার ওড়না পেঁচাতে পেঁচাতে এগিয়ে এল। আলো টেবিলের ওপর হেলে পড়া অবস্থাতে স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিক তখনই তার লালচে চোখের দৃষ্টি টেবিলে রাখা খাবারের দিকে নিবদ্ধ হলো। এবং মূহুর্তেই একটা ভয়ানক কাজ করে বসল মেয়েটা!
আলো গরম স্যুপের বাটি নিয়ে পিছনে ফিরেই সুজনের চেহারা বরাবর ছুঁড়ে মা’রল। সঙ্গে সঙ্গে ঝলসে উঠল কোমল ত্বক! একই সাথে সুজন দু’হাতে নিজের চেহারা চেপে ধরে চিৎকার করে ওঠে। মেয়েটার এমন কাজে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল এই দস্যি মেয়েটা এমন কিছু করতে পারে! যখন হুঁশ ফিরল, তখন ছুটে এল নিজেদের দলনেতার কাছে। দরজা ফাঁকা পেয়ে আলো আর এক মূহুর্তের জন্য সময় নষ্ট না করল না। বরং ফ্লোর থেকে নিজের ব্যাগ নিয়ে এক ছুটে পালিয়ে গেল।

দৌড়াতে দৌড়াতে করিডোরের শেষ মাথায় এসে হঠাৎই আলোর পা জোড়া থমকে গেল। না চাইতেও আঁখি জোড়া ভরে উঠল। সে হাঁপাতে হাঁপাতে ভেজা বুকের সামনে ব্যাগ চেপে ধরে নজর নামিয়ে নিল। হার্টবিট অস্বাভাবিক ভাবে বিট করছে। সে চেয়েও নিজের শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। শরীরটাও ভীষণ কাঁপছে! আলো জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে একহাতে দেয়ালে ভর দেয়। পর মূহুর্তে মাথা তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে সামনে তাকায়। মানুষটা কেমন জানি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কোনোরকম হেলদোল নেই। অথচ কানে ধরে রাখা ফোনটার অপর প্রান্ত থেকে কেউ একজন কথা বলেই চলেছে। কিন্তু মানুষটার সেদিকে কোনো হুঁশ নেই।
-“ভাইয়া? তুমি কী আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?”
ফোনের অপর প্রান্ত হতে কথাটি শোনামাত্র আধারের ধ্যান ভাঙল। সে চটপট বলে উঠল,
-“আমি একটু পর কথা বলছি।”
বলেই খট করে লাইন কেটে দিয়ে ফোনটা পকেটে ভরে বড় বড় পা ফেলে সামনে এলোমেলো ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে এগোলো।

-“ভিজলে কী করে? আর তোমার ওড়না কোথায়?”
প্রতিত্তোরে আলো কিছু বলে না। আধার ফের জানতে চাইল,
-“কিছু হয়েছে?”
-“কিছু হলেও বা আপনার কী? আমি কে হই আপনার হ্যাঁ? আমি ম’রলাম নাকি বাঁচলাম, তাতে আপনার কোনো যায় আসে না। তাই এই মিথ্যে দরদ দেখানোটা বন্ধ করুন। কারণ আমি আপনার কেউ না…কেউউউ না!”
আলো অস্ফুটস্বরে কথাগুলো বলে পিছনে ফিরে চলে যাওয়ার জন্য সামনে পা বাড়াতেই শুনতে পেল কিছু অপ্রত্যাশিত বাক্য—

-“বিয়ে করা বউ হও….তুমি আমার!”
আধার গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠে। ছোট্ট একটা বাক্য শুনে আলো আর নিজেকে সামলাতে পারল না। ব্যাগ ফেলে পিছনে ঘুরেই ঝাপিয়ে পড়ল অপ্রিয় স্যারের বুকের মাঝে। দু’হাতে খুব শক্ত করে মানুষটাকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠল। এতক্ষণে জমিয়ে রাখা কষ্টগুলো মূহুর্তেই অশ্রুধারার ন্যায় উপচে পড়তে শুরু করে। মেয়েটার বাঁধ ভাঙা কান্নায় বুকের শার্ট ভিজে গেল আধারের। তবুও সে নিশ্চুপ!
আধার বাহিরে চুপ থাকলেও তার বুকের ভেতরটা অজানা ব্যথায় দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। আচ্ছা, এই মেয়েটা এইভাবে কাঁদছে কেন? সে কী বুঝতে পারছে না? তার এই অসহনীয় কান্না যে বড্ড পোড়াচ্ছে তার হৃদয়কে! সেটা যদি মেয়েটা বুঝত, তাহলে হয়তো এমন ভাবে কাঁদতে পারত না।
আধার চোখদুটো বন্ধ করে নেয়। বাম হাত রাখে মেয়েটার ভেজা চুলের মাঝে। সে অনুভব করতে পারছে, মেয়েটার গায়ের কাঁপুনি! এবং এটাও অনুভব করেছে মেয়েটার শরীর ভীষণ ঠান্ডা। আচ্ছা, মেয়েটার সাথে কী কেউ কিছু করেছে?
মনে জেগে ওঠা প্রশ্নটা ছক্কার মতোই কাজ করল আধারের মস্তিষ্কে। সে চট করে চোখ মেলে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করল,

-“কে সেই ব্যক্তি? যার জন্য তোমার এই অবস্থা?”
আলো ফুপাতে ফুপাতে বিড়ালছানার মতো বুকের মাঝে আরো লেপ্টে একটু উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করল। আধার বুঝি সেটা টেরও পেল। তাই তো শরীর থেকে কোট খুলে মেয়েটার ভেজা শরীরে পড়িয়ে দিল।
-“তুমি যদি আমাকে কিছু না বলো, তাহলে আমি সমস্যার সমাধান করব কীভাবে?”
একটু থেমে পুনরায় বলল,
-“আমি জানি না তোমার সাথে কী হয়েছে। তবে এইটুকু বুঝতে পারছি, যেটা হয়েছে সেটা একদম ঠিক হয়নি। আর আজকের ঘটনা যে পরবর্তীতে রিপিট হবে না, সেটার গ্যারান্টি দিতে পারবে? ধরো এর থেকেও খারাপ কিছু হলো, তখন কী করবে? নিশ্চয়ই আজকের না বলা কথাগুলো নিয়ে আফসোস করবে।”
আলোর কান্না থেমে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ক্যান্টিনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনাগুলো খুলে বলল। সবটা শুনে আধারের শান্ত চোখজোড়া রক্তিম হলেও মুখাবয়ব স্বাভাবিক রইল। শুধু এইটুকু আওরাল,
-“ডোন্ট প্যানিক মিস….কালো। নেক্সট টাইম এমনকিছু ঘটবে না প্রমিস!”

এখন বাজে দুপুর দুইটা! ভার্সিটি থেকে আলোকে নিয়ে সর্বপ্রথম শপিংমলে এসেছিল আধার। তারপর ভেজা পোশাক চেঞ্জ করে নতুন ড্রেস পরে নিয়েছে। শরীরে গরম ধরানোর জন্য উলের লেডিস্ জ্যাকেটও নিয়ে দিয়েছে। হাত-পায়ে মোজা, কেটস, গলায় মাফলার, মাথায় টুপিসহ আলোকে একেবারে পুতুল বানিয়ে নিজের সাথে রেস্টুরেন্টে নিয়ে এসেছে। তারপর ধোঁয়া ওঠা গরম গরম খাবার অর্ডার দিয়ে মেয়েটাকে খেতে বলে।
আলো আড়চোখে আশেপাশে তাকিয়ে চট করে মাথায় থেকে টুপি খুলে নিল। বর্তমানে নিজেকে দেখে অন্য গ্রহের প্রাণী মনে হচ্ছে। গলা থেকে মাফলার টেনেটুনে খুলতেই তার নজর সামনে গম্ভীর মুখে বসে থাকা মানুষটার দিকে যায়। আলো হাসার চেষ্টা করে বলল,
-“আমি হট হয়ে গেছি! ইয়ে না মানে, শরীর ঠিক হয়ে গেছে।”
আধার কিছু না বলে কফির মগে চুমুক দিল। আলো এদিকওদিক দেখতে দেখতে বিরিয়ানি খেতে মনোযোগ দেয়। তার দু’হাতের কব্জিতে মলম শুকিয়ে আছে। বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে, আজ তার ফিরতে দেরি হবে। এবং এটাও বলেছে সে কার সাথে আছে। তাই তো কেউ কিছু বলেনি। আধার কিছুটা সময় নিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,

-“রাহুল কে চেনো?”
আলো মুরগির লেগ পিসে কামড় বসিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল, -“হু, চিনি তো।”
মুখের খাবার শেষ করে পুনরায় স্বাভাবিক গলায় বলল,
-“উনি বাবার বন্ধুর ছেলে। আর রহিত ভাইয়ার ফ্রেন্ড। সেই সুবাদে আমরা ছোট বেলা থেকেই পরিচিত। আমার বিয়ের আগেই উনি কাজের ক্ষেত্রে দেশের বাইরে যান। তাই তো বিয়েতে আসতে পারেনি। এখন উনি বিয়ের কথাটা জেনেছে কিনা জানি না। যদি জানত, তাহলে আজ নিশ্চয়ই আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করত। কিন্তু উনি এই বিষয়ে কিছুই বলেনি। আর আমিও কিছু বলিনি!”
আধার ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল,

-“আজ দেখা করেছিলে তোমরা?”
-“ওটাকে দেখা করা বলে না। মানে আমি যখন সকালে ভার্সিটিতে পৌঁছানোর জন্য রিকশা খুঁজছিলাম, তখন উনি হুট করেই ওখানে আসেন। একদৃষ্টে সেসময় এসে ভালোই হয়েছে। ভাইয়া আমাকে ড্রপ না করলে হয়তো পরীক্ষাটাই দিতে পারতাম না। তারপর আপনার মুখের মিষ্টি বাণীগুলো ফ্রি-তে শুনতে হতো!”
শেষের কথাটা খুবই আস্তে বলে। আধার কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়েটার হাতের উল্টো পিঠে থাকা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজে ইশারা করে বলল,
-“ওখানে কি হয়েছে?”
আলো যেহেতু খাবার খাচ্ছিল, তাই সে মিথ্যে বলল না।
-“গতকাল একজন ঠসা পাগলকে বাঁচাতে গিয়ে সামান্য চোট পেয়েছি। নয়তো তিনি এতক্ষণে ট্রাক চাপা খেয়ে, পটল তুলে পেত্নীদের সাথে নৃত্য করতেন। শ্লার ব্যাটা, আমাকে সামান্য ধন্যবাদটুকুও বলেনি। লোকটা ভীষণ কিপ্টে!”
-“অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে তোমার যদি কিছু হতো, তাহলে?”
-“কি হতো? শুধু ম’রে যেতাম। আর একবার ম’রলে তো বারবার ম’রতে হয় না। উল্টো সবকিছুর থেকে মুক্তি পেতাম।”
আলো স্বাভাবিক গলায় বলে। তার কথা ঠিক পছন্দ হলো না আধারের। তবে মুখে কিছু না বলে এক নিঃশ্বাসে কফি শেষ করে আবার অর্ডার দিল।

-“আপনি তো তখন থেকে শুধু কফিই গিলছেন। খাবার খাবেন না?”
-“না!”
-“কেন?”
-“কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই আমি।”
আলো চোখমুখ কুঁচকে মুখ দিয়ে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করল। এই অসভ্য লোকটা এত ত্যাড়া কেন? কোনোদিনও তার প্রশ্নের ভালো করে জবাব দেয়নি। বরংচ সবসময় ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলে। এইজন্যই এই লোকটার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। আলো মনে মনে মানুষটাকে ইচ্ছেমতো বকাবকি করে খাবার শেষ করল। তখন আধার জানতে চাইল,
-“আর কিছু খাবে?”
-“হ্যাঁ, আপনার মাথা।”
-“কী বললে?”
-“কই, কিছু না তো।”
আধার কথা না বাড়িয়ে কফি শেষ করে বিল মিটিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে বেরিয়ে এল রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে।
বিকেল প্রায় হয়ে এসেছে। আলোকে বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিয়ে আধার ধীর কণ্ঠে বলল,

-“একা যেতে পারবে?”
আলো ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে জবাব দিল, -“একাকীত্ব পছন্দ না করলেও একা একা চলাফেরা করার অভ্যেস রয়েছে স্যার। আপনি চিন্তা করবেন না। আর এমনিতেই আজ আপনি আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন। তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ! আমাকে সামলানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
আধার নজর সরিয়ে নিয়ে বলল, -“তুমি আমার দ্বায়িত্ব। সো এইটুকু তো করতেই হতো।”
আলো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, -“ঠিকই বলেছেন স্যার। আমি শুধুমাত্র আপনার দ্বায়িত্ব৷ আর বেশিদিন এই জোরজবরদস্তির দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে না আপনাকে। আপনি যতদ্রুত সম্ভব ডিভোর্স পেপার পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। তারপর আপনি আপনার পথে, আর আমি আমার পথে। আফটার অল এই অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক আমাদের দুজনের কাছেই মূলহীন! আসছি, ভালো থাকবেন। আর নিজের খেয়াল রাখবেন। আজকের জন্য আবারো আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
কথাগুলো বলে আলো আর এক সেকেন্ডের জন্যও দাঁড়ায় না। ছুটে গিয়ে বাসে উঠে পড়ে। এবং সবার পিছনের সিটে বসে দু’হাতে মুখ চেপে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। হঠাৎ করে কেন কাঁদছে বুঝতে পারছে না। তবে তার অজানা কারণে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ….

আধার রাতের দিকে এলোমেলো ভাবে বাড়িতে ফিরে এল। তবে সে আজ নিজের রুমে না গিয়ে সোজা দাদাজানের রুমে প্রবেশ করল। সোবহান খান এশারের নামায আদায় করে চেয়ারে বসে থেকে তসবিহ গুনছিলেন। তখন হন্তদন্ত হয়ে নিজের ঘরে বড় নাতিকে ঢুকতে দেখে কপাল কুঁচকে যায়। ছেলেটার কুঁচকানো শার্ট, এলোমেলো চুল, লালচে চেহারা, র’ক্তবর্ণ তীক্ষ্ণ আঁখি জোড়া, হাতের তালুতে ব্যান্ডেজ করা দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠলেন৷ তারপর বিচিলিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
-“কী হয়েছে দাদুভাই? তোমাকে এমন ছন্নছাড়ার মতো লাগছে কেন? কোনো সমস্যা?”
আধার দাদাজানের সামনে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে, দু’হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে গমগমে গলায় বলল,
-“তোমার নাতবউয়ের ডিভোর্স চায়।”
সোবহান খান চমকে উঠলেন। তড়িঘড়ি করে বললেন,
-“কিসব বলছো তুমি?”
-“হ্যাঁ ঠিকই বলেছি। তুমি যা শুনেছো, ওটাই সত্যি।”
সোবহান খান কিছুক্ষণ চুপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,

-“ডিভোর্স চাইবে না তো আর কী করবে মেয়েটা? তুমি তো ওকে নিজের অর্ধাঙ্গিনীর অধিকার দিচ্ছো না। আর না মেয়েটার সাথে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছো। আচ্ছা নানুভাই, মেয়েটা কী তোমার ভালোবাসা পাওয়ার একটুও যোগ্য না? তুমি যদি মেয়েটাকে একটু কাছে টেনে নিতে তাহলে হয়তো এমন কিছু চাইত না।”
-“এখন সব দোষ আমার? সিরিয়াসলি দাদাজান? আমি কী ইচ্ছে করে বিয়েটা করেছিলাম? বরং তুমি জেনেশুনে আমাকে বিয়ে নামক খাঁচায় বন্দী করেছো। আমি তোমাকে বারবার বলেছিলাম আমি কোনোরকম সম্পর্কের মাঝে জড়াতে চাই না৷ একা থাকতে চাই। কিন্তু তুমি আমার কোনো কথা শুনলে না। উল্টো এমন একজনের সাথে বিয়ে দিলে যাকে আমি পছন্দ করি না। সেও আমাকে সহ্য করতে পারে না। আমাদের কথার থেকে বেশি ঝগড়া হয়। মেয়েটা মাঝেমধ্যে এমন কিছু বলে ফেলে বা করে, যেটা দেখে ইচ্ছে করে এক চড়ে সোজা করে দিই। আমি দুনিয়ায় অনেক পাগল দেখেছি, কিন্তু এই মেয়েটার মতো পাগল আর একটাও দেখিনি। সবসময় কিছু না কিছু অঘটন ঘটিয়ে বসে থাকবে। তারপর বাচ্চাদের মতো কেঁদেকুটে জ্বালাবে! ও আমার সাথে থাকতে চায় না, আর না সংসার করতে চায়।”
একটু থেমে পুনরায় বলল,

-“তোমার ছোট নাতি ঠিকই বলে! আধারের কালো অন্ধকার জীবনে কেউই থাকবে না। সেখানে ওই চঞ্চল মেয়েটা থাকা তো দূরে থাক। শুধু শুধু মেয়েটার সুন্দর জীবন নষ্ট হবে। তাছাড়া ও একাকিত্ব পছন্দ করে না, আর আমার পুরো জীবনটাই একাকিত্বে ঘেরা। আমি কখনোই চাই না, আমার জন্য কোনো মেয়ের ভবিষ্যত নষ্ট হোক। আই হোপ, তুমি বুঝতে পারছো আমি কী বলতে চাচ্ছি!”
নাতির বলা প্রতিটা কথা মনোযোগ সহকারে শুনলেন সোবহান খান। তারপর শান্ত গলায় বললেন,
-“আমি জানি তুমি এমনটা কেন করো। আর এটাও জানি, তুমি নতুন করে ভালোবাসতে ভয় পাও! শুধু ভাবো, ভালোবাসার পর যদি মানুষটা আবার হারিয়ে যায় তখন? কারণ তুমি যাদেরকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসেছিলে, ওপরওয়ালা দিনশেষে তাদেরকেই কেড়ে নিয়েছে। কিছু কিছু প্রিয় মানুষদের হারিয়েছো মানে এই না যে, সবসময় হারাবে। জন্ম, মৃ’ত্যু, বিয়ে সব বিধাতার হাতে। এতে আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। অতীতে তোমার বাবা যা করেছে ওটা অন্যায় ছিল। সে…..!”

-“একদম উনার সম্পর্কে আমাকে কিছু বলবে না দাদাজান। ঘৃ’ণা করি উনাকে। আই জাস্ট হেট হিম!”
সোবহান খানের কথার মাঝে আধার দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে। যেই ব্যক্তির জন্য তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে ওই ব্যক্তির নামটাও মুখে নেয় না। সে আজ এমনটা কাদের জন্য হয়েছে? এই বাড়ির কিছু স্বার্থপর মানুষদের জন্য হয়েছে। উঁহু! তাকে এমনটা হতে বাধ্য করেছে। সেখান থেকে চাইলেও আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে না। কারণ সে নিজের সুন্দর জীবনটা বহুকাল আগেই হারিয়ে ফেলেছে। এখন শুধু চারিদিকে অন্ধকার আর অন্ধকার!
সোবহান খান দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
-“ঠিক আছে। বলব না ওর কথা। আচ্ছা দাদুভাই? কালো অধ্যায়গুলো ভুলে কী নতুন করে জীবনে এগোনো যায় না? আমার তো বয়স হয়েছে, আজ আছি তো কাল নেই। আমারো তো ইচ্ছে করে তোমার সন্তানদের দেখে যেতে। এই খান বাড়ি জুড়ে তোমার অংশগুলো ছোটাছুটি করবে। আধোআধো গলায় তোমাকে বাবা বলে ডাকবে। আমাকে বড় আব্বা বলে সারাক্ষণ পিছু ছুটবে। তোমার ছেলে-মেয়েকে নিজ হাতে বড় করার বড়ই লোভ জীবনে। জানি না, বেঁচে থাকাকালীন এসব আদৌ পূরণ হবে কিনা।”
আধার থমথমে মুখে বলল, -“এতোই যখন বাচ্চা পালার শখ, তাহলে বলো আমি এক্ষুনি এতিমখানার সব বাচ্চাদের এনে দিচ্ছি।”
নাতির কথা শুনে সোবহান খান হাসলেন।

-“ওদের সাথে তো আমি প্রতি সপ্তাহে সময় কাটাই দাদুভাই। কিন্তু এখন তোমার নিজের সন্তান, নিজের র’ক্তের সাথে বাকী জীবন পার করতে চাই।”
আধার অদ্ভুত চোখে তাকায়। যেখানে সে সংসারের ‘স’ ও পালন করছে না, সেখানে এই বুড়োটা তার বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে পড়ে আছে। আধার লম্বা শ্বাস নিয়ে বলল,
-“সরি টু সে দাদাজান। তোমার এই ইচ্ছেটা পূরণ করতে পারব না।”
-“সমস্যা নেই। আমি অপেক্ষায় থাকব।”
-“এখন এসব বাদ দিয়ে বলো কী করব?”
-“তুমি কী চাও সেটা আগে বলো।”
আধার ভাবুক হলো। সে আসলেই কী চায়? প্রশ্নটা নিজেকে করলেও সেটার উত্তর জানা নেই তার। পর মূহুর্তে কিছু একটা ভেবে শান্ত গলায় বলল,
-“ওই উড়ন্ত পাখিকে খাঁচায় থেকে মুক্ত করতে চাই!”
-“তাহলে ভেবেই নিয়েছো সংসার করবে না?”
-“হু!”
-“মেয়েটার পরিবারকে আমি কী জবাব দেবো? তাদেরকে বড় মুখ করে বলেছিলাম, তাদের মেয়ে সুখে থাকবে। এই তার সুখী হওয়ার নমুনা?”
আধার হঠাৎই রেগে গেল। দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

-“বারবার ঘুরেফিরে সব দোষ আমাকেই দিচ্ছো কেন? আমি কী ওই মেয়েটাকে আগে বলেছিলাম ডিভোর্সের কথা? তোমার পেয়ারের নাতবউই সারাক্ষণ ডিভোর্স চাই, ডিভোর্স চাই, বলে বলে মাথা খেয়ে নিচ্ছে। যেই সম্পর্কের মাঝে ওই মেয়েটাই থাকতে চাচ্ছে না সেখানে আমি কী করব আশ্চর্য!”
-“তুমি কী করবে মানে? নিজের বউটাকে তো একটু ভালোবাসতে পারতে।”
-“কেন? কেন আমি ভালোবাসবো? ওই মেয়েটা আমাকে ভালোবাসে নাকি, যে আমি তাকে ভালোবাসবো! শুনো দাদাজান। তোমার নাতি এসব মরীচিকার পিছনে ছুটতে চায় না। মিথ্যে সম্পর্ক বয়ে বেড়াতে বেড়াতে আমি ক্লান্ত। এবার তো তোমরা আমাকে একটু রেহাই দাও! আমি এসব ঝামেলা আর নিতে পারছি না।”
-“ঠিক আছে। তোমার যা ইচ্ছে হয় তা-ই করো। আমি তোমার কোনো বিষয়ে নাক গলাবো না। আর না বাঁধা দেবো। তুমি আজ থেকে মুক্ত আধার!”
আধার আর কিছু না বলে রুম থেকে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায়। তার মাথাটা ব্যথায় ফেটে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে কোথাও একটা পালিয়ে যেতে। এই জীবনের প্রতি তার অতিষ্ঠ চলে এসেছে৷ আধার ধুপধাপ পা ফেলে সিড়ি বেয়ে উঠার সময় দেখল—রাত রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থেকে সিগারেট ফুঁকছে। তাকে দেখা মাত্র দাঁত কেলিয়ে বলল,

-“সিগারেট খাবে ব্রো? একটা টেস্ট করে দেখো, মুড ভালো হয়ে যাবে।”
আধার অন্য সময় হলে রাতকে ইগনোর করে যেত। কিন্তু আজ কেন জানি একটু অবাধ্যই হলো। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে এসে ছোট ভাইয়ের পকেট হাতড়ে সিগারেটের পুরো প্যাকেট ও লাইটার নিয়ে রুমের দিকে চলে গেল। আর রাত বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে বিরবির করল,
-“এর আবার কী হলো আজিব!”
আধার রুমে এসে ফ্রেশ না হয়েই কোনোমতে শরীর থেকে শার্ট খুলে ফোন নিয়ে বেলকনিতে চলে গেল। শুকনো ঠোঁটের কোণে জলন্ত সিগারেট চেপে রেখে একটা নাম্বারে ডায়াল করল। অতঃপর অপর প্রান্ত থেকে কল রিসিভ হতেই আধার সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে বলল,

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৪

-“আরো একটি ডিভোর্স পেপার রেডি করুন আঙ্কেল। আগেরটা ছিল আমার বন্ধুর, আর এবারটা হবে আমার।”
বিপরীত পাশ থেকে লোকটা কী বলল বোঝা গেল না। তবে আধার গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
-“এই সপ্তাহের মধ্যেই ডিভোর্স পেপারটা কমপ্লিট আমার চাই। কীভাবে করবেন সেটা আপনার ব্যাপার। জাস্ট মেক ইট হ্যাপেন। আই নিড দ্যাট পেপার ইমিডিয়েটলি। দ্যাটস ইট!”

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ১৬