Home রুপুর বিয়ে রুপুর বিয়ে পর্ব ১০

রুপুর বিয়ে পর্ব ১০

রুপুর বিয়ে পর্ব ১০
Bobita Ray

রুপু বিনয়ের কথার উত্তর দিল না। গাড়ির জানালার কাঁচ তুলে দিয়ে বাইরের মনোরম দৃশ্য খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল। আঁকাবাঁকা পিচ ঢালাই করা মেঠোপথ দিয়ে কত নাম না জানা গাছপালা, ঘরবাড়ি পেছনে ফেলে গাড়িটা ঝড়ের গতিতে ছুটে যাচ্ছে। বিনয় রুপুর একহাত চেপে ধরে নিজের কোলের মধ্যিখানে নিয়ে নিল। রুপু বাঁধা দিল না। হাতটা সরিয়েও নিল না। বিনয় রুপুর বিষণ্ণ চোখের দিকে তাকাল। বলল,

“তুমি কী আমার উপরে খুব বেশি রেগে আছো রুপু?”
রুপু মলিন হেসে বলল,
“তোমার সাথে রাগ করাও যা। লতাপাতার সাথেও রাগ করা তা।”
বিনয় আহত চোখে রুপুর দিকে তাকাল। বলল,
“তুমি আমাকে এত ঠুকনো ভাবো?”
“এতে তোমার কোন সন্দেহ আছে? আচ্ছা একটা উদাহরণ দেই। যে পুরুষ মানুষ মা ও বউয়ের সম্পর্ক ব্যালেন্স করে চলতে পারে না। সারাক্ষণ বউয়ের কাছে মায়ের নামে গুনগান গায়। বউ পছন্দ করুক বা না করুক। সেদিকে কোন তোয়াক্কা নেই। আবার মায়ের কাছেও বউয়ের নামে দুটো ভালো কথা বলতে গিয়ে দশটা মন্দ কথা শুনে আসে। তাকে আমার আর যাইহোক খুব বেশি চালাকচতুর বলে মনে হয় না।”

“তুমি কী আমার সাথে ঝগড়া করতে চাচ্ছ?”
রুপু আচমকা বিনয়ের শার্টের কলার দুইহাতে চেপে ধরল। বিয়ের পরে এই প্রথমবার রুপুর চোখদুটো ছলছল করে উঠল। নিচু কণ্ঠে বলল,
“তুমি কেন আমায় বিয়ে করলে বলোতো? আমি ভাবতেই পারি না। আমার জীবনসঙ্গী এত ভীতু, এত বোকাসোকা হবে। কেন তোমার মায়ের সব কথা তোমাকে শুনতে হবে? কেন নিজে নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারো না তুমি? কেন নিজের বুদ্ধিতে চলতে পারো না? সারাদিনের কথা বাদই দিলাম। রাতে তুমি তোমার বউ নিয়ে ঘুমাও। বন্ধ ঘরে আমরা স্বামী-স্ত্রী কি করি না করি। সেসব ব্যাপারে কেন তোমার মাকে জল নেওয়ার বাহানায় প্রতিদিন খবরদারি করতে হবে? কেন তুমি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে মাকে কখনো বলতে পারো না। তুমি এখন ঘুমাও মা। আমি একটু পরে ঘরের লাইট অফ করব। আমার খুব ইচ্ছে করে জানো? বৃষ্টিস্নাত কোনো গভীর রাতে, এক কাপে ভাগাভাগি করে গরম ধোঁয়া ওঠা চা খেতে খেতে, তোমার সাথে সারারাত জেগে গল্প করতে। তোমার ছুটির দিনে দুজনে কাছে কোথাও ঘুরতে যেতে।
আমি বলছি না যে তুমি তোমার মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাও। কিন্তু আমারও মাঝে মাঝে ভীষণ ভাবে তোমাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করে। আমার ভাগ্যটাই খারাপ। ইচ্ছেমতো কোনকিছু আমার জীবনে হয় না।”
বিনয় রুপুর কোমর জড়িয়ে ধরে রুপুকে আরও কাছে টেনে নিল। রুপুর গালে একহাত রেখে বলল,

“এত অভিযোগ তোমার আমার উপরে?”
রুপু নিজেকে চটজলদি খোলসে মুড়িয়ে নিল। বিনয়ের শার্টের কলার ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“আমার প্রচণ্ড মাথা ধরেছে। আমি একটু ঘুমাব।”
বিনয় কিছু বলার আগেই রুপু চোখদুটো বন্ধ করে ফেলল। বিনয় হতাশ হয়ে রুপুকে ছেড়ে দিয়ে ভালো ভাবে বসল।
বিনয়ের মামা বাড়ি সেমি বিল্ডিং। চারটে ঘর। ঘরের সামনে গ্রীল দেওয়া বড় বারান্দা। বারান্দার একপাশে ডাইনিং টেবিল পাতা। তার পাশেই বাথরুম ও রান্নাঘর। এক ঘরে বিনয়ের মামা-মামী থাকে। দুটো ঘর তালা দেওয়া থাকে। যখন বিনয়ের মামাতো দাদারা ছুটিতে আসে তখন তারা থাকে। আর মাঝখানের ঘরে বিনয়ের মামাতো বোন অর্পা থাকে। অর্পা এবার ক্লাস টেনে পড়ে। ওর ঘরের একপাশে সিংগেল খাট পাতা। অন্যপাশে সোফা পাতা। এই ঘরে টিভি নেই। টিভি বিয়নের মামা-মামীর ঘরে। রুপুকে মামী শাশুড়ী বরণ করে ঘরে তুলল। বলল,

“হাত-মুখ ধুয়ে নাও বউমা। ভাত খাবে।”
অর্পা রুপুকে বাথরুম কোথায় দেখিয়ে দিল। রুপু ফ্রেশ হয়ে ঘরে এসে দেখল, আশেপাশে বিনয় নেই। রুপুর মামী শাশুড়ী শিখা বলল,
“বিনয় ওর মামার সাথে একটু বাজারে গেছে। এই এখুনি এসে পড়বে। তোমাকে ভাত দেব?”
“ও আসুক। তারপরে খাব।”
“ভাতের কথা বলতেই কথাটা মনে পড়ল। ভালো কথা, তোমাকে কী এখনো তোমার শাশুড়ী খাওয়ার কষ্ট দেয় বউমা?”
“না। হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
“কিছু বললে তো আবার ভাববে তোমার শাশুড়ীর নামে বদনাম করছি। ঠিক বদনাম না। বীথি যে কী পরিমাণ জেদি তুমি ভাবতেও পারবে না বউমা। নতুন বউ তার পছন্দ হয়নি। ভালো কথা। আয়োজন করে কান্না জুড়ে দিল। সেটাও মানা যায়। তারপরই শুরু করল অন্য কাহিনী। নতুন বউকে ভাত খেতে দেবে না। ভাতের থালার সব ভাত নিজের হাতে ফেলে দিল। সবাইকে শাসিয়ে বলল,
“তোমাকে যেন রাতে কেউ কিছু খেতে না দেয়। তোমাকে কেউ খেতে দিলে বীথি কিছুতেই খাবে না। ওর কথা শুনে সবাই আক্কেল গুমুর। কেউ আর তোমার কাছে যাওয়ার সাহস পেলাম না। তুমি যদি মুখ ফুটে আমাদের কাছে খেতে চাও সেই ভয়ে।”

“মামী কিছু মনে করবেন না। একটা কথা বলি?”
“বলো বউমা।”
“আমাদের বিয়ের দিন গহনা নিয়ে দুই পক্ষের ভেতরে যে বিবাদটা লাগল। আপনারা কিন্তু আর একটু বেশি সময় চেষ্টা করলেই আমাদের বিয়েটা ভেঙে দিতে পারতেন। সেদিন আমার বিয়ে ভাঙলে আমি একটুও অখুশি হতাম না। বিশ্বাস করেন মামী। বরং সেদিন আমাদের বিয়েটা কোনভাবে ভেঙে গেলে আমার থেকে বেশি খুশি আর দ্বিতীয় কেউ হতো না।”
রুপুর কথা শুনে শিখা কী বলবে বুঝতে পারল না। তাই চুপ করে রইল। রুপু বলল,
“আপনার ভাগ্নে কখন আসবে?”
“কী লুকাচ্ছ আমার কাছ থেকে? বীথি কী তোমাকে গহনার জন্য খুব বেশি কথা শোনায়?”
“আমি বড্ড বেয়াদব বউ মামী। আমাকে একটা বললে আমি দশটা শুনিয়ে দেই। একটাই তো জীবন আমার। এত ছোট্ট জীবন উপভোগ না করে শুধু পরের অভিযোগ শুনেই পার করব। এটা তো মানা যায় না। ইতিহাস সাক্ষী। যে বউ যত বেয়াদব। বিবাহিত জীবনে সে বউ তত সুখী। শুরু থেকেই যদি আমি ওনার অভিযোগ গুলোকে পাত্তা দিতাম। তাহলে সারাজীবন ডিপ্রেশনেই ভুগতে হতো আমাকে। আমার অনেক দায়িত্ব মামী। আপাতত কোনরকম ডিপ্রেশন আমার জীবনে জায়গা নেই।”

“তুমি প্রচণ্ড বুদ্ধিমতি বউমা। আমার তোমাকে খুব পছন্দ হয়েছে।”
রাতে শুতে গিয়ে বিনয় বলল,
“রুপু একটা কথা বলার ছিল।”
রুপু হাই তুলে বলল,
“বলে ফেলো।”
“মামাকে মাত্র তিন হাজার টাকা দিতে আমার কেমন যেন লাগছে।”
“তোমার কেমন লাগলে টাকাটা আমাকে দাও। আমি দিয়ে দেব।”
“না মানে আরকিছু বাড়িয়ে দিলে ভালো হতো না?”
“সত্যি করে বলোতো তুমি কী আমার বাবাকেও আরও কিছু টাকা বাড়িয়ে দিতে?”
বিনয় কিছু বলল না।
রুপু বিনয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কী হলো চুপ করে আছো কেন?”
“না মানে…”
রুপু হাসল। বলল,

“শোন এত মন খারাপের কিছু নেই। তোমার মা এত সহজে আমার কাছে হার মানবে না। তুমি যদি টাকাটা আগামীকাল তোমার মামার হাতে না দাও। তারপরও ওনারা কিছু মনে করবে না। কারণ আমরা এখানে আসার আগেই তোমার মা তোমার মামীকে বেশ মোটা অংকের টাকা দিয়েছে। আজ এত এত খাবার খেলে। সব তোমাদের টাকায় কেনা খাবার। অবশ্য আমার ধারণা তোমার মামা এসবের কিছুই জানে না। আবার জানতেও পারে।”
“এসব কী বলছ তুমি?”
“কী বিশ্বাস হচ্ছে না তাইতো? আজ আরও একটা সত্যি কথা বলি। আমরা যখন আমাদের বাড়িতে অষ্টমঙ্গলায় গেলাম। সেদিন সকালে তোমার বাবা মানে আমার শ্বশুর আমার গহনাগুলো আমাকে ফেরত দিয়েছে। শুধু ফেরত দেয়নি। পুরো সাতভরি গহনা দিয়েছে। এবং আমার হাতে পঁচিশ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে। টাকাটা যেন তোমার নাম করে জামাই বাজারের জন্য আমার বাবার হাতে তুলে দেই। তোমাকে খুব একটা ভরসা পায়নি দেখেই বাবা এই কাজের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিল।”

বিনয়ের মনটা খারাপ হয়ে গেল। বিনয় ছোটবেলা থেকে মায়ের ন্যাওটা দেখে বাবা কখনো বিনয়কে ভরসা পায়নি। বাবার যত ভরসা বিশ্বাস সব ছিল অয়নকে ঘিরে। অয়নটার যেমন তুখোড় বুদ্ধি। তেমন আমুদে। আমুদে হলেও ও কখনো কারো কথায় প্রবাহিত হয় না। নিজে যা ভালো বুঝে, নিজে যা ভালো মনে করে। সবসময় সেই কাজই করে। অয়ন স্কলারশিপ পেল। বিদেশে পড়তে যাবে। বাবা মহাখুশি। মা কিছুতেই যেতে দেবে না। কেঁদে কেটে একাকার। খাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিল। পড়তে হলে বাংলাদেশে পড়ুক। বিদেশে যাওয়ার দরকার নেই। বিনয় হলে মায়ের কান্না উপেক্ষা করে জীবনেও যেতে পারত না। অথচ অয়ন ঠিকই চলে গেল।
বিনয়রা মামা বাড়ি দুইরাত আড়াই দিন থেকে চলে গেল। এখানে বেড়াতে এসে রুপুর বেশ কেটেছে। মামী শাশুড়ী মানুষ ভালো। সারাক্ষণ রুপুর সাথে গুটুর গুটুর করে গল্প করতো। পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে দেখিয়েছে। বিনয়ের মামাতো বোন অর্পার সাথেও বেশ কেটেছে। পুকুরে একসাথে সাঁতার কেটে স্নান করা, গাছ থেকে কাঁচা আম পেরে মাখিয়ে খাওয়া, বিকালে ঘুরতে যাওয়া, রাতে লুডু খেলা। এই বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রুপুর মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। আবারও একঘেয়ে জীবনে বন্দী হতে হবে।
রুপু বাড়িতে পৌঁছে মায়ের ফোন পেল।

“কেমন আছো মা?”
“ভালো আছি। তুই কেমন আছিস? জামাই কেমন আছে?”
“আমরা ভালো আছি।”
“রুপু তোকে একটা কথা বলার ছিল। কথাটা ঠিক কীভাবে বলব বুঝতে পারছি না।”
“এত ভণিতা না করে বলে ফেলো মা।”
“তুই তো জানিস এ-ই মাসে অথৈয়ের এডমিশন টেস্ট।”
“তো?”
“না মানে তোর বাবা চাচ্ছিল। ঢাকায় তো আমাদের তেমন চেনা শোনা কেউ নেই। অথৈ যদি পরীক্ষাটা তোদের বাড়ি থেকে দিতো।”
রুপু কী বলবে বুঝতে পারছে না। ওর নিজেকে খুব অসহায় মনে হলো। রুপুকে যা খুশি বলুক। কিন্তু অথৈ এই বাড়িতে আসার পর অথৈয়ের সাথে যদি রুপুর শাশুড়ী খারাপ ব্যবহার করে? অথৈটা প্রচণ্ড আবেগী। ওর সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে ও সহ্য করতে পারে না। রুপু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“আমি বাবাকে বলে দেখি। তারপর তোমাকে জানাচ্ছি মা।”
রুপুর রান্নাঘরে যেতে একটু দেরি হয়ে গেল। রান্নাঘরে গিয়ে দেখল, বীথি রানী রান্না করছে আর একা একা গজগজ করছে। রুপুকে দেখে থালা-বাসন জোরে জোরে আছড়াতে শুরু করল। রুপু চমকে উঠল খুব অল্প সময়ের জন্য। নিজেকে সামনে নিয়ে শাশুড়ী মায়ের ভাবগতিক বোঝার চেষ্টা করল।
“পটের বিবির এখন রান্নাঘরে আসার সময় হলো। আজ আমার ছোট ছেলে আসবে। সেই ব্যাপারে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। যত মাথা ব্যথা তো আমার। আমার ছেলে। আমাকেই তো রান্না করে খাওয়াতে হবে। ছেলেটা বিদেশ ভূইয়ে পরে থাকে। কি না কি খায় কে জানে। তুমি কী দাঁড়িয়েই থাকবে? নাকি রান্নার কাজে হাত লাগাবে?”

“ছোট ছেলে মানে.. আজ অয়নদা আসছে নাকি?”
“বাড়ি শুদ্ধ সবাই জানে। আর তুমি জানো না? নাকি জেনেও না জানার ভান করছ?”
“আজব জেনেও না জানার ভান করব কেন? আমাকে তো কেউ বলেনি। না বললে জানব কীভাবে?”
“এখন তো জানলে। এবার দয়া করে বাকি রান্নাটা সেরে ফেলো। আমি গরমে হাঁপিয়ে উঠেছি।”
“এত অস্থির না হয়ে চুপচাপ ফ্যানের বাতাসে গিয়ে বসুন। আর কি কি রান্না করতে হবে। বলে দিন।”
“ভালো কথা বিনয় কোথায়? ওর তো ওর বাবার সাথে আজ এয়ারপোর্টে যাওয়ার কথা।”
“আপনার বড় ছেলেও জানে নাকি?”
“আজব ওর ভাই আসবে ও জানবে না কেন!”
রুপু দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আর কেউ না বললেও বিনয় রুপুকে অন্তত আগে বলতে পারত। আফসোস রুপু হয়তো এখনো এই বাড়ির কেউ হয়েই উঠতে পারেনি।
বাবা ও বিনয় অয়নকে এয়ারপোর্টে আনতে গেছে। ওদের আসতে রাত হবে। দুপুরে রুপু ও রুপুর শাশুড়ীমা একসাথে খেতে বসেছে। রুপু মাছের বড় মাথাটা শাশুড়ী মায়ের পাতে তুলে দিতে চাইল। বীথি রানী বলল, “কী করছ.. কী করছ আমি মাছের মাথা খাই না।”
অভ্যাসমতো রুপু মাছের মাথাটা নিজের পাতে তুলে নিল। বীথি রানী খাওয়া বাদ দিয়ে রুপুর পাতের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল। ওনার ধারণাও ছিল না। এতবড় মাছের মাথাটা রুপু নিজের পাতে তুলে নেবে। বীথি রানী বিরক্ত হয়ে বলল,

“খাও খাও.. বেশি করে খাও। বাপের জন্মে তো আর এত ভালো ভালো খাবার চোখে দেখোনি। তাই লোভ সামলাতে পারলে না। বড় মাছের মাথাটা তোমার শ্বশুরের জন্য তুলে রাখতে পারতে।”
সামান্য খাওয়া নিয়ে এতবেশি তিক্ত কথা শুনে মাছের মাথাটা আর চিবুতে ইচ্ছে করল না। এখন মাথাটা ফেলে দিলেও হাজারটা কথা শুনতে হবে। শাশুড়ীমাকে কড়া করে কয়েকটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছেটা অনেক কষ্টে দমন করে খাওয়ায় মনোযোগ দিল রুপু।
“কেমন নাক কাটা মেয়ে দেখো। আমি হলে তো ভাতই খেতে পারতাম না। অথচ সে দিব্যি মাছের মাথা চিবিয়ে যাচ্ছে। এখন মাছের মাথা চিবচ্ছে। দুদিন পর আমার ছেলের মাথা চিবুবে।”

“ফকিন্নি কোনদিন জাতে উঠে না। জানেন তো মা?”
“যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা। এই মেয়ে কাকে ফকিন্নি বললে তুমি?”
“আপনি কী এই ফাঁকা বাড়িতে আমার সাথে গলায় পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চাচ্ছেন মা?”
“একদম মুখে মুখে তর্ক করবে না। অনেক সহ্য করেছি তোমাকে আর সহ্য করব না। এসে থেকে আমাকে অনেক জ্বালিয়েছ তুমি। আমি যদি আজ বলি। আজই বিনয় তোমাকে তোমার বাবার বাড়ি ঘাড় ধরে রেখে আসবে।”
“আমাকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই মা। এইসব দুই পয়সার ভয় আমি পাই না। বিনয় আমাকে আমার বাবার বাড়িতে রেখে এলে আমার কোন ক্ষতিই হবে না। বরং লাভই হবে। প্রথমে নিজেকে নিজে আঘাত করব। তারপর থানায় গিয়ে আপনাদের মা-ছেলের নামে নারী নির্যাতনের মামলা ঠুকে দেব। অবশ্যই সাংবাদিকের সামনে আপনাদের নামে কেঁদে কেঁদে ইচ্ছেমতো বদনাম করব।

রুপুর বিয়ে পর্ব ৯

তারপর বাকিটা জনগন বুঝে নেবে। আপনারা কেসটা ধামা চাপা দেওয়ার জন্য যে মোটা অংকের টাকা আমাকে অফার করবেন। প্রথমে একটু নেব না নেব না ভান করলেও টাকাটা কিন্তু আমি ঠিকই লুফে নেব মা। সেই টাকা দিয়ে পড়াশোনা চালাব। চাকরি জোগাড় করব। তারপর আপনাদের টাকা আপনাদের শোধ করে দেব। আমাকে তাড়ানোর আগে এই বিষয়গুলো ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নেবেন মা। আর একটা কথা। সামান্য মাছের মাথা খেয়েছি দেখে, আপনি যে ব্যবহারটা আমার সাথে করলেন। এই ব্যবহারটা আমি সারাজীবন মনে রাখব। আর মাছের মাথা বাপের ঘরে খেয়ে এসেছি দেখেই আমার অভ্যাস আছে। বরং আপনি বাপের ঘরে কোনদিন চোখে দেখেননি দেখে আপনার খাওয়ার অভ্যাস নেই।”
কথাগুলো বলে রুপু খাওয়া ফেলে ঘরে চলে গেল।

রুপুর বিয়ে পর্ব ১১