Home বিষাদ ও বসন্ত বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৪

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৪

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৪
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

মিথি আদ্রর স্ত্রী অথচ আদ্র এই মিথিকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিল না। তবুও যখন মায়ের চাপে ও মিথিকে বিয়ে করলই সর্বপ্রথম নিজের মধ্যে ঐ মিথির জন্যই রাগ অনুভব করল আদ্র৷ নিজের ভেতরের সমস্ত রাগটা গিয়ে পড়ল সে মিথির উপরেই৷ আজও আদ্রর তেমনই রাগ অনুভব হচ্ছে মিথির উপর। একে তো মায়ের কাছে কথা শুনেছে, দ্বিতীয়ত চড় খেয়েছে। এমনকি তৃতীয়ত মিথি, গ্রামের সেই সহজ সরল তার মুখের উপরে কল রেখে দিয়েছে। আদ্রর শরীর জ্বলে। সেদিন রাতের মিথির চড়টার কথা ভেবেও রাগে শরীর উষ্ণ ঠেকে ওর। অসহ্য লাগছে ওর। বিতৃষ্ণায় আদ্র দুয়েকটা দিন ওভাবেই কাঁটাল। এর পরদিনই আদ্র নিজের রাগ, জেদ, ক্ষোভ সব দমিয়ে রাখতে না পেরে সিদ্ধান্ত নিল মিথির সাথে দেখা করবে। মিথির এই ব্যবহার যে ও মানতে পারেনি এর প্রতিশোধ নেওয়া দরকার। নয়তো ওর শান্তি মিলছে না। সবচেয়ে বড় কথা নাকের উপর দম্ভ নিয়ে থাকা আদ্রর ইগো হার্ট হয়েছে। মিথির মতো একটা মেয়ের সাথে ও কথা বলতে চেয়েছে, অথচ মিথি কথা বলতে চায়নি এটাই ও মানতে পারছে না। আদ্র রাগে হাঁসফাঁস করে। অতঃপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিথিদের গ্রামেই গেল। বহুকষ্টে মিথিদের গ্রামে পৌঁছে ওদের বাড়ি যেতেই আদ্র শুনল মিথি নেই। একদিন আগেই নাকি মিথি বাড়ি ছেড়েছে।তাও বান্ধবীর সাথে। আদ্র রাগে দাঁতে দাঁত চাপে। বিরক্ত হয়ে ওর ভাবীকে বলে,

“ কোথায় গিয়েছে? ওকে কল করে বলুন আমি নিতে এসেছি। নিয়ে যাব ওকে। ”
মিথির ভাবী জবাবে উত্তর করল,
” ওর বান্ধবীর ফোন নাম্বার তো নেই আমাদের কাছে। ওর সাথেও যোগাযোগ করার খুব একটা মাধ্যম নেই। ”
আদ্র বিরক্ত হলো দ্বিগুণ। বলল,
” আপনি না ওর ভাবী? ওর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম জানেন না? ”
“ না। ”
“ আপনি কি ওর দূর সম্পর্কের ভাবী? নাকি মিথি নিষেধ করেছে? দাম দেখাচ্ছে ওই জা’নো’য়ার? ”
আদ্র যে এখানেই এভাবে রেগে কথা শুধাবে ওর ভাবী ভাবে নি। বলল,
” সত্যিই জানি। এত প্রয়োজন হলে এতদিন আসোনাই কেন? ”
আদ্রর উত্তর দিতে ইচ্ছে হয় না। আদ্র ভেবেছিল ও নিতে এসেছে শুনে মিথি নেচে নেচে ওর সাথে কথা বলতে আসবে। ওর সাথে বাসায় ফিরবে। অতঃপর বাসায় গেলেই আদ্র তার নিজের রূপ দেখাত। প্রতিশোধ নিত। ওর সাথে এমন ব্যবহারের শাস্তি দিত। অথচ কিছুই হলো না। হাঁসফাঁস করে বলে ও,
“ ও ফিরলে আমায় জানাবেন। বলবেন, এসে নিয়ে যাব আমি। ”
মিথির ভাবী সঙ্গে সঙ্গেই বলল,

“ যাওয়ার হলে তো তোমার আম্মার সাথেই চলে যেত। যায়নি যেহেতি সেহেতু তুমি আসলেও যাবে না। ”
আদ্র এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“ কিসের এত ভাব ওর? ”
মিথির ভাবী উত্তর দিল না এইবারে। আদ্ররও ফের কিছু বলল না। রাগে হুড়মুড় করে বেরিয়ে গেল ও। যেতে যেতে ভাবল মিথির এত কিসের দাম হুহ? এত কিসের ভাব দেখাচ্ছে ও? দুদিন আগেও যে মিথি ওকে ভয় পেত, ওর ভয়ে বিড়াল হয়ে থাকত সে মিথি মা হওয়ার আভাস পেতেই বাঘিনী হয়ে উঠেছে? এতোটা ভাব দেখাচ্ছে ও? আদ্রর হাত থেকে বেঁচে যাবে ও?

মিথি হিয়ার সাথে শহরে এসেছে আজ এক সপ্তাহ হলো। একদম ভিন্নরকমের অনুভূতি নিয়ে ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল একা একা। তার ভাই, ভাবীকে বলেই এসেছিল সে। এমন নয় যে তারা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেছে, আবার এমনও নয় যে তাকে আসতে নিষেধ করেছে। উল্টো তার উপরই সবটা ছেড়ে দিয়েছে এমন একটা ভাব করেছে কেবল। মিথি মনে মনেই হাসে। ওটা হয়তো উপরে উপরেই তার ভাই দেখিয়েছিল যে, সিদ্ধান্তটা মিথিই নিক। ওর উপরই ছেড়ে দিয়েছে। আসল সত্য তো এটা যে, সে বাড়ি ছেড়ে আসাতে তার ভাইও খুশি হয়েছে। হয়তো বোঝা ঘাড় থেকে নামল বলে সেদিন স্বস্তিতে একটা ঘুমও দিয়েছে। মেয়েদের জীবনটা সত্যিই অদ্ভুত রকমের। নাহ তো শ্বশুড়বাড়ি আপন হয়, নাহ তো বাবার বাড়ি।

মিথি চুপচাপ উঠে বসে।রুমটার সাথে একটা লাগোয়া বেলকনিও আছে। এই রুমটায় ওরা চারজনই থাকে আপাতত। মিথি, হিয়া এবং ফিজা আর রিধি নামের দুটো মেয়ে। ফিজা ওদের থেকে দুয়েক বছরের সিনিয়র। ভার্সিটিতে পড়ে। অন্যদিকে রিধি হলো জুনিয়র। ইন্টারে পড়ে। এরা সবাই মিশুক। এই কয়েকদিনেই মিথির সাথে খুব ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।একদম আপন মানুষের মতোই। ফিজা টিউশনিতে, রিধি আর হিয়া কোচিং এ গিয়েছে। হিয়ার চাপাচাপিতে আজকে দুইদিন হলো মিথিও বই নিয়ে বসেছে একটু আধটু। অথচ ওর পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ মরে এসেছে। জীবনের মারপ্যাচে ও বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই তো ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে। মিথি বেলকনিতে বসে এসব ভাবতে ভাবতেই হিয়া আর রিধি ফিরল। দরজা খুলতেই সর্বপ্রথম দুইজনের হাতে দেখা গেল আঁচার। হিয়াই প্রথমেই এগিয়ে দিল। হেসে শুধাল,

“ দোস্ত, এই সময় নাকি আঁচার টাচার খেতে মন চায়? আমি জানি না তোর মন চাচ্ছে কিনা। রাস্তায় দেখলাম একটা মামা বিক্রি করছে তাই আনলাম। ”
রিধিও এগিয়ে ধরল। মেয়েটা চঞ্চল। অল্পসময়েই মিথির সাথে খুব ভালো করেই মিশে গিয়েছে। হেসে বলল,
” মিথি আপু, আমারটাও নিশ্চয় খাবে? আমি কিন্তু হিয়া আপুর আগে নিয়েছি তোমার জন্য। ”
মিথি কিছুটা বিব্রতবোধ করল যেন ওদের উচ্ছ্বাস দেখে। তার মোটেই আঁচার খাওয়ার ইচ্ছে হয়নি। বাকি সব মেয়ের মতো প্র্যাগনেন্সির শুরুর থেকে ওর এইসেই খাওয়ার ইচ্ছে আসেনি। তবে ক্লান্তি ছিল, পায়ের দিকে কেমন যেন টান পড়ে মাঝেমাঝে, এমনকি প্রায়সই বমিও হয়। কিন্তু আঁচারের আগ্রহটা অতোটাও প্রবল হয়নি। মিথি হাত এগিয়ে নিল দুইজনের আচার। হেসে বলল,
“ এসবের কি দরকার ছিল? দুইজনই পাগল। ”
হিয়া কাঁধ থেকে ব্যাগ রাখল ফ্লোরে বিছিয়ে রাখা বিছানাটায়৷ টেবিলে বসতে বসতে বলল,
“ অবশ্যই দরকার আছে। ”
এর পরপরই রিধি এসে বলল,

“ মিথি আপু, তুমি কি ভাবছো বাবুর আম্মু তুমি? মোটেই না। বাবুর প্রথম আম্মু কিন্তু আমি, দ্বিতীয় আম্মু হিয়া আপু, তারপর ফিজা আপু এবং সর্বশেষ তুমি। কাজেই আমগো বাচ্চার খেয়াল আমরা রাখব বুঝলা?তুমি পাগল,ছাগল যাই বলো। ”
হিয়া হেসে বলল,
“ তোরে দেখতেই তো লাগে দুদিনের বাচ্চা। তোরে আবার কি আম্মু ডাকবে? ও আমার বাবু সবার প্রথমে।”
মিথি দুইজনের কথা শুনে হাসল। আজকাল এখানে থেকে ওর মন উৎফুল্ল লাগে। মাঝেমাঝেই মন খুলে হাসতে পারে। বলল,
“ তোদের দুইজনেরই বাবু বোন। ঠিক আছে? ”
দুইজনই হাসল। অতঃপর দুইজনই ফ্রেশ হয়ে নিল। হিয়া মিথির মুখচোখ পরখ করে জিজ্ঞেস করল,
“ মন খারাপ নাকি তোর? ”
মিথি না হিসেবে মাথা নাড়ল। বলল,

“ তোদের মতো মানুষকে পেয়ে আমার মন খারাপ কিভাবে হয়? থ্যাংক্স হিয়া,আবার ও থ্যাংক্স। আমি সত্যিই এই এক সপ্তাহে নিঃশ্বাস নিতে পারছি মন খুলে। ”
“ দেখে তো মনে হচ্ছে না তোকে। ”
“ একটা কাজের প্রয়োজন ছিল। ঐ কারণেই ভাবছি। ”
হিয়া আশ্বাস দিয়ে বলল,
“ কাজ পেয়ে যাবি। আমরা খোঁজ করছি তো। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।চিন্তা করিস না। ”
রিধি তখন বেলকনি ছেড়ে এল। কথা শুনে বলল,
“ চিললললল মিথি আপু ,চিললললল। সবকিছু নিয়ে এত ভাবলে হবে হু? আমি আমার পুরা বন্ধুমহলকেই কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। ওরা কোন একটা খোঁজ অবশ্যই দিবে আমি আশা করি। তুমি চিন্তা করো না বুঝলে? আমরা আছি না?”

এইটুকু একটা মেয়ে। অথচ কতোটা মনোবল দিতে পারে। মিথির আসলেই রিধির মনোবল দেখে ভালো লাগে । একদম আদুরে একটা বাচ্চা লাগে রিধিকে। এর মধ্যেই এল ফিজাও। এসে মিথিকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে কিছুটা সময় কথা বলল। অতঃপর ফ্রেশ হয়ে এসে শুধাল,
“ বাজারে যাব মিথি। তুই যাবি? রিধিও যাবে। হিয়াকে নিব না। হয়তো রুমে বসে থেকে বোরিং লাগছে তোর। যাবি? ”
হিয়া তাকাল মিথির দিকে। বলল,
“ বের হতে মন চাইছে? আমাকে বললে আমি তোকে ঘুরিয়ে আনতাম মিথি। যাবি? ”
মিথি উত্তর করল,
“ যাই বরং। ফিজা আপুর থেকে বাজার করা শিখব। ”
হিয়া শুনল। বড়দের মতো বলল,
“ তাহলে সাবধানে যাবি। দেখেশুনে হাঁটাচলা করবি। ”
মিথির কেন জানি এই বাসাটায় এসে এই মেয়েগুলোর থেকে এতোটা আদর, স্নেহ,ভালোবাসা পেয়ে কান্না আসে মাঝেমাঝে। এরা এত ভালো কেন? এত ভালো কেন? হিয়া আবারও ফিজার উদ্দেশ্যে বলল,
“ সাবধানে নিয়ে যেও আপু। ও কিন্তু কিছুটা ভীতু। দরদাম করতে পারে না।”
ফিজা মজা করে বলল,

“ না, অসাবধানে নিয়ে যাব ওকে। ”
অতঃপর রিধি, মিথি আর ফিজা বের হলো। রুমে হিয়া থাকল শুধু। এখান থেকে পাঁচ মিনিটেই বাজার। তাই ওরা তিনজন হেঁটেই গেল। হাঁটতে হাঁটতে ফিজাই জিজ্ঞেস করল,
“ মিথি, আগে কখনো বাজার করেছিস? ”
মিথি উত্তর করল,
“তেমন একটা করা হয়নি আপু। তুমি নিশ্চয় খুব এক্সপার্ট? ”
ফিজা বিনিময়ে হেসে উত্তর দিল,
“ একদমই নয়। আমি হিয়ার থেকে শিখেছি কিছুটা বাজার করা। প্রথমবার বাজার করে অর্ধেক সবজি পঁচাই পড়েছিল আমার। ”
অতঃপর রিধি আর ফিজা মিলে ধরদাম করল। সবজি কিনল। সবজির ব্যাগটা মিথি নিতেই ওটা ফিজা নিয়ে নিল। বলল,

“ ব্যাগ নিতে হবে না তোকে।”
“ কিছু হবে না। আমি নিতে পারব তো।”
“ আরেহ, আমিই নিচ্ছি। ”
অতঃপর ওরা বাজার থেকে বের হয়ে এল। আবারও বাসায় ফিরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় ফিজা দাঁড়িয়ে গেল নিচে। মিথি আর রিধি সিঁড়ির কোণে গিয়ে দেখল ফিজা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার একধারে। অতঃপর ভ্রু কুঁচকে কিছুটা সময় তাকাতেই দেখা গেল দুটো পুরুষালি অবয়ব। যার মধ্যে একজনকে দেখে মিথি চমকাল কিছুটা। হিমেল ভাই। হ্যাঁ, ফিজা যে ছেলেটার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছে তার পাশের জন হিমেল ভাই-ই। মিথি সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে কিছুটা আড়াল করে নিল। রিধি তখন পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল,
“ দুটো ছেলেই সুন্দর বলো মিথি আফা? একটা ফিজার আপুর বর, অপরটা কেমন জানি গম্ভীর! ব্যাটা পাশের বিল্ডিং এ থাকে এতদিন অথচ কেমন রোবটিক! ”
মিথি তাকাল রিধির দিকে। বলল,

“ পাশের বিল্ডিং এ থাকে? ”
রিধি ওকে নিরাশ করে দিয়ে বলল,
“ এখানে দুইডা পোলাই পাশের বিল্ডিং এ থাকে আপা। পাশাপাশি বিল্ডিং এ থাকতে থাকতেই তো ফিজা আপুরে পটিয়ে ফেলেছে আয়মান ভাইয়া। ”
মিথি মাথা নাড়াল। মৃদু হাসলও কথাটা শুনে।

আদ্র সন্ধ্যার দিকে রেস্টুরেন্টে এসেছিল মুহুকে নিয়ে। অতঃপর অনেকটা সময় পর মুহুকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে যখন নিজ বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হলো ঠিক তখনই চোখে পড়ল রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসা আরেক জোড়াকেও। তার আব্বু, এবং পাশে যে আছে সে তার আম্মু নয়। বরং অল্পবয়সী সুন্দরী একটা মেয়েকেই চোখে পড়ল আদ্রর। মেয়েটার চোখেমুখে আলাদা খুশি চোখে পড়ল। আদ্র ভ্রু কুঁচকাল। গাড়ি থামাল সঙ্গে সঙ্গেই। অতঃপর দেখা গেল তার চোখের সামনে দিয়েই তার আব্বু এবং সে মেয়েটি গাড়িতে উঠল। আদ্র পিছু পিছুই গাড়ি চালিয়ে নিল৷ মেয়েটাকে পৌঁছে দিয়ে যখন তার বাবাও বাড়ি ফিরল তখন বাবা ছেলে মুখোমুখি হলো বাড়ির গেইটে।আদ্রই প্রথমেই বলল,

“ আব্বু, কোথায় থেকে ফিরছো? ”
ওর বাবা তাকাল। উত্তর করল,
“ অফিস থেকেই তো ফিরব। তুমি এত বড় ছেলে হয়েছো। বাবার বিজন্যাসও সামলাতে পারো কিছুটা। ”
আদ্র ওসব কানে নিল না। বরং বলল,
“ তোমার গাড়িতে কেউ ছিল? ”
“ না তো, কে থাকবে?”
“ আমি স্পষ্ট দেখলাম তোমার গাড়িতে ছিল কেউ আব্বু। একটা মেয়েকে তুমি নামিয়ে দিয়ে এসেছো, দেখেছি আমি।”
ওর বাবার মুখে প্রথমে বোধহয় একটা ঘাবড়ে যাওয়া ভাব ফুটে উঠল। পরমুহুর্তেই হেসে বলল,

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৩

“ ওহ, ও আমার পি এ মিস ইশিতা ছিল। তুমি তো অফিসে যাও-ই না। গেলে চিনতে পারতে আদ্র। ও গাড়ি পেল না তাই ভাবলাম পৌঁছে দিই। এইটুকুই। ”
আদ্র শুনল। এবার বোধহয় উত্তর পেয়ে ও সন্তুষ্ট হলো। জানাল
“ওহ, আমি ভাবলাম কে না কে। ”

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৫