Home ভয়েজের মায়াজাল ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫১

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫১

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫১
ছায়া

সরিষা ক্ষেতের সেই সোনালী বিকেলের রেশ কাটতে না কাটতেই সূর্য মামা পাটে বসার তোড়জোড় শুরু করল। আকাশের বুক জুড়ে তখন আবির খেলা চলছে। আরিয়ানরা সবাই মিলে ধীরগতিতে গাড়ি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো।
বাড়ির একদম কাছাকাছি আসতেই আরিয়ানের গাড়িটা হঠাৎ ব্রেক কষল। সামনে এক অদ্ভুত দৃশ্য একদল খুদে বাহিনী, যাদের আরিয়ান আদর করে ‘খুদে সেনা’ বলে ডাকে, তারা রাস্তার মাঝখানে হাত ধরাধরি করে ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারও হাতে প্লাস্টিকের ব্যাট, কারও হাতে লাঠি।
আরিয়ান মুচকি হেসে গাড়ি থেকে নেমে এল। ইলাও জানালার কাচ নামিয়ে অবাক হয়ে দেখছে তার স্বামীর এই ছোট ভক্তদের। আরিয়ান দুই হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল,
আরিয়ানঃ- কী ব্যাপার ক্যাপ্টেনরা? মাঝরাস্তায় এভাবে অপারেশন শুরু করে দিলে যে?
খুদে বাহিনীর লিডার ছোট রাব্বি এগিয়ে এল। মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে বলল,
রাব্বিঃ- ক্যাপ্টেন এটা কিন্তু একদম ঠিক হয়নি তুমি বউ পেয়ে গেছো বলে আমাদের ভুলে গেলে? নতুন বউ পেয়ে আমাদের সাথে খেলাধুলা সব বন্ধ করে দিলে?
পেছন থেকে আরেকজন বলে উঠল,

পাভেলঃ- হ্যাঁ তুমি বলেছিলে এবার ছুটিতে এসে আমাদের সাথে ফুটবল খেলবে, অথচ তুমি তো শুধু ভাবির সাথেই ঘুরে বেড়াচ্ছ। আমরা খুব রাগ করেছি তোমার উপরে।
আরিয়ান এবার একটু অপ্রস্তুত হলো। সত্যিই তো, ইলাফুলের মায়ায় পড়ে এই ছোট বন্ধুদের কথা ওর একদম মাথায় ছিল না। ও কান ধরে হালকা হেসে বলল,
আরিয়ানঃ- ওহ হো আই অ্যাম রিয়েলি সরি ক্যাপ্টেন আসলে তোমাদের ভাবি একা তো, তাই ওকে একটু সময় দিচ্ছিলাম। কাল থেকেই তোমাদের সাথে মাঠে দেখা হবে প্রমিস।
কিন্তু খুদে সেনারা এত সহজে ভোলার পাত্র নয়। তারা মুখ ঘুরিয়ে নিল,সবাই এক সাথে বলল,
খুদে সেনাঃ- শুধু সরি বললে হবে না। আমাদের একটা কথা বলতে হবে। তুমি যার জন্য আমাদের ভুলে গেছো, সেই ভাবি তোমার কাছে এত স্পেশাল কেনো? আমাদের বুঝিয়ে বলো।
আরিয়ান আড়চোখে গাড়ির দিকে তাকাল। ইলা তখন হাসিমুখে ওদের কথা শুনছে। আরিয়ান বুক ভরে একটা শ্বাস নিল। গ্রামের শান্ত বিকেল, গোধূলির আলো আর সামনে একদল নিষ্পাপ মুখ পরিবেশটা মুহূর্তেই মায়াবী হয়ে উঠল। আরিয়ান গলাটা একটু ঝেড়ে তার সেই চিরচেনা জাদুকরী কণ্ঠে গেয়ে উঠল:

~Phoolon ki malka hai,
~Pariyon ki rani hai…
~Meri mahbooba mahbooba,
~Meri jindagani hai…
~Meri mahbooba ~
আরিয়ানের ভরাট গলার এই সুর যখন বাতাসের সাথে মিশে ইলার কানে পৌঁছাল, ওর হৃৎপিণ্ড যেন একটা মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। আরিয়ান গাইতে গাইতে ইলার দিকে ইশারা করল। বাচ্চাদের মাঝে হাসির রোল পড়ে গেল। তারা হাততালি দিয়ে নাচতে শুরু করল। রাব্বি দাঁত বের করে হেসে বলল,
রাব্বিঃ- আচ্ছা ক্যাপ্টেন মাফ করে দিলাম ভাবি আসলেই পরীদের রানির মতো সুন্দর।
আরিয়ান হাসতে হাসতে পকেট থেকে কিছু চকলেট বের করে ওদের হাতে দিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- এবার রাস্তা ছাড়ো ক্যাপ্টেনস, তোমাদের ভাবিকে নিয়ে বাড়ি যাই। কাল বিকেলে কিন্তু মাঠে ঠিক সময়ে হাজির থেকো!

খুদে বাহিনী হইচই করতে করতে রাস্তা ছেড়ে দিল। আরিয়ান আবার গাড়িতে এসে বসল। ইলা ওর দিকে তাকাতেই দেখল আরিয়ান তখনো গুনগুন করছে। ইলা লাজুক হেসে বলল,
ইলাঃ- আপনি কি সবসময় এভাবে মানুষকে গান শুনিয়ে ভুলিয়ে রাখেন?
আরিয়ান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ইলার একটা হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- সবাইকে না ইলাফুল, শুধু আমার ‘জিন্দাগানি’কে খুশি রাখতে আমি সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করতে পারি।
গাড়িটা বাড়ির উঠোনে এসে থামল। সন্ধ্যার আজান দিচ্ছে মসজিদে। বাড়িতে ঢোকার পর দেখা গেল এক অন্যরকম চিত্র। লিভিং রুমে বসে আছে হালিমা। হালিমার পরনে জমকালো সাজগোজ, যেন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে পালিয়ে এসেছে।
সবাইকে একসাথে ঢুকতে দেখে হালিমা উঠে দাঁড়াল। ওর নজর প্রথমেই গেল আরিয়ান আর ইলার ম্যাচিং করা বাসন্তী পোশাকের ওপর।

হালিমাঃ- আরে বাহ সবাই দেখি বেশ আনন্দ করে ফিরলে। আরিয়ান ভাইয়া, ইলা তোদের তো দারুণ লাগছে।
আরিয়ান মুচকি হাসল, ইলাও সৌজন্যমূলক একটা হাসি দিল।
ইলাঃ- তুই নতুন বউ সেজে এসেছি কেনো?
হালিমাঃ- এসব পরে বলছি অনেক কাহিনি ঘটে গেছে।
ঠিক তখনই পেছন থেকে রায়েদ ঢুকল। রায়েদকে দেখামাত্র হালিমার চোখ চকচক করে উঠল। ও এগিয়ে গিয়ে বলল,
হালিমাঃ- রায়েদ ভাইয়া কেমন আছেন? অনেকদিন পর দেখা। আমি ভাবলাম ঢাকায় যাচ্ছি আপনাদের সাথে দেখা করে যাই।
রায়েদ হালিমার দিকে একবার তাকাল ঠিকই, কিন্তু ওর কথায় কোনো বাড়তি আগ্রহ দেখাল না। বরং নির্বিকার ভঙ্গিতে হাতের চাবিটা টেবিলে রাখতে রাখতে বলল,
রায়েদঃ- হ্যাঁ ভালো ইলা আমাকে এক গ্লাস পানি দিস তো। অনেক রাস্তা ড্রাইভ করে এসেছি টায়ার্ড লাগছে।
হালিমা একটু দমে গেল ও আশা করেছিল রায়েদ অন্তত ওর সাথে দু-এক মিনিট কথা বলবে। কিন্তু রায়েদ ওকে পাত্তাই দিল না। সে সোজা আরিয়ানের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে গল্প শুরু করে দিল।
রায়েদঃ- আরিয়ান ভাই আজকের আউটিংটা কিন্তু ওসাম ছিল। বিশেষ করে তোমার ওই গানটা ইলার চেহারার এক্সপ্রেশন দেখার মতো ছিল।

আরিয়ান হাসতে হাসতে ইলার দিকে তাকাল। রায়েদ হালিমাকে দেখে কোনো রেসপন্স করলো না হালিমা এক কোণে দাঁড়িয়ে রাগে ফুসছে। ও রায়েদ এর জন্য এত যুদ্ধ করে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আসলো, অথচ রায়েদ ওকে একটু পাত্তাও দিলো না। উল্টো আরিয়ানের সাথে আড্ডায় মগ্ন।হালিমা একটু সাহস সঞ্চয় করে আবার রায়েদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
হালিমাঃ- রায়েদ ভাইয়া আপনার সাথে আমার পার্সোনাল কিছু কথা আছে।
রায়েদ ওর দিকে না তাকিয়েই ফোনটা চেক করতে করতে বলল,
রায়েদঃ- অকে কি বলবা বলো তারাতাড়ি আর এমনিতেও আমি এখন একটু বিজি। যদি তারা না থাকে তাহলে ইলা পরিদের সাথে গল্প করো আমি ফ্রেশ হতে যাচ্ছি। অন্য সময় শুনবো তোমার কথা।
বলেই রায়েদ কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল। হালিমার ফর্সা মুখটা অপমানে আর রাগে লাল হয়ে উঠল। ও স্পষ্ট বুঝতে পারল রায়েদ ওকে এড়িয়ে চলছে।
ইলা আর আরিয়ান দূর থেকে পুরো ব্যাপারটা খেয়াল করছিল। আরিয়ান ইলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

আরিয়ানঃ- দেখছ ইলাফুল? রায়েদ কীভাবে ওকে ইগনোর করছে? মেয়েটা তো মনে হয় জেলাসিতে এখনই ফেটে পড়বে।
ইলা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,
ইলাঃ- বেচারি হালিমা রায়েদ ভাইয়া এমন কেন? মেয়েটা তো ওনার জন্যই এসেছে।
আরিয়ান বাঁকা হেসে বলল,
আরিয়ানঃ- সবাই তো আর আমার মতো ভাগ্যবান না যে মনের মানুষের সাথে বাসন্তী রং মিলিয়ে সরিষা ক্ষেতে ঘুরতে যাবে।
হালিমা তখন ডাইনিংয়ের দিকে তাকিয়ে দেখল ইলা আর আরিয়ান বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে কথা বলছে।হালিমার তাদের দেখে মনে হলো এই বাড়িতে ইলা আসার পর থেকেই যেন সবাই অনেক বেশি হ্যাপি।
কিন্তু হালিমা সে এখন কি করবে যার জন্য পালিয়ে আসলো সে তো পাত্তাই দিচ্ছে না। এদিকে ইলা আর পরি দুইজন তাদের জামাই নিয়ে ব্যস্ত।
হালিমা এক কোণে দাঁড়িয়ে রয়েছে, হাতের ব্যাগটা এত জোরে চেপে ধরেছে যেন সেটা তার শেষ আশ্রয়। চোখ দুটো লাল, কিন্তু কান্না আসছে না শুধু একটা জ্বালা, একটা অপমানের আগুন। সে দেখছে ইলা আর আরিয়ানকে দুজনে কত সহজে হাসছে, কত সহজে হাত ধরে আছে, কত সহজে একে অপরের চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। আর সে? সে তো এখানে অচেনা, অবাঞ্ছিত।

হালিমা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার পায়ে যেন শক্তি নেই, কিন্তু মনে একটা জেদ জন্ম নিয়েছে। সে সোজা রায়েদ যে রুমে ডুকেছে সেই রুমের দিকে এগোল। দরজা খোলা রায়েদ ফ্রেশ হয়ে বেরোচ্ছে, টাওয়েল কোমরে জড়ানো চুল ভেজা। গুন গুন করে গান গাইছে হঠাৎ হালিমাকে দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
রায়েদঃ- তুমি বললাম না পরে কথা হবে।
হালিমাঃ- না রায়েদ ভাইয়া এবার আর পরে না। আমি এখনি জানতে চাই আমাকে কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন? আমি কি এতটাই অপছন্দের? কিছু দিন আগেও তো আপনি আমাকে পছন্দ করতেন তাহলে এখন কি হলো।
রায়েদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে দরজা বন্ধ করে দিল। তার চোখে এখন আর বিরক্তি নেই শুধু একটা ক্লান্তি।
রায়েদঃ- হালিমা তুমি ভালো মেয়ে। সুন্দর, স্মার্ট, পরিবারের মেয়ে। কিন্তু আমি তোমাকে এভাবে দেখি না। আমি তোমাকে কখনো প্রমিস করিনি, কখনো আশা দেইনি। তখন ভালো লেগেছিলো তাই আমি দুষ্টুমি করে প্রপোজ করেছিলাম।কিন্তু এখন তো দেখছি তুমি এ সব সত্যি ভেবে নিয়েছ। আমি এসবের জন্য দুঃখিত কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি না আর ভালোবাসবও না।
হালিমার চোখ থেকে প্রথম ফোঁটা পড়ল।

হালিমাঃ- সবটাই আপনার মজা ছিলো?
রায়েদ মাথা নেড়ে বলল,
রায়েদঃ হ্যাঁ, আমার হৃদয়ে যে জায়গা আছে, সেখানে তুমি নেই। আর থাকবে না তুমি অন্য কাউকে পাবে, যে তোমাকে পুরোপুরি চাইবে কিন্তু সেটা আমি নই।
হালিমা আর কথা বলতে পারল না।সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল। রুমের বাইরে, অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল।এদিকে লিভিং রুমে আরিয়ান আর ইলা বসে আছে। আরিয়ান ইলার কাঁধে হাত রেখে বলল,
আরিয়ানঃ- দেখলে কিছু মানুষ নিজের দুঃখ নিজেই তৈরি করে। আমরা কখনো কাউকে আশা দিইনি।
ইলাঃ- আমি এদের কিছুই বুঝছি না হালিমার কি হয়েছে।
হালিমা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। চোখের পানি গাল বেয়ে গলা হয়ে কলারে মিশে যাচ্ছে।তার সাজটা এখনো জমকালো, কিন্তু মনে হচ্ছে সবকিছু ম্লান হয়ে গেছে। হঠাৎ পেছন থেকে পায়ের শব্দ শুনল। ঘুরে তাকাতেই দেখল ইলা আর পরি দুজনে এসে দাঁড়িয়েছে।ইলা নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
ইলাঃ- হালিমা… কী হয়েছে? তুই এভাবে কাঁদছিস কেন? আর এই পোশাকে কেনো তুই তখনো কিছু বললি না।
পরি একটু এগিয়ে এসে হালিমার হাত ধরল।

পরিঃ- কিছু হয়েছে রায়েদ ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে তোর বল না।
হালিমা প্রথমে চুপ করে রইল তারপর কাঁপা গলায় চোখ মুছে বলল,
হালিমাঃ- আমি… আমি বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছি রায়েদ ভাইয়ার জন্য।
ইলা আর পরি দুজনেই চমকে উঠল।
ইলাঃ- কী তুই বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছিস? আর তোর বিয়ে ঠিক হইলো কবে
হালিমা মাথা নেড়ে বলল,
হালিমাঃ- আমার বাবা-মা হঠাৎ করে আমাকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল।সেদিন তোদের সাথে কথা বলার পড়ে আমি রায়েদ ভাইয়ের একটা ছবি দেখছিলাম। কিন্তু সেই সময় আম্মু দেখে ফেলে আর তাদের ধারণা আমি রায়েদ ভাইয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া যাইতে চাইনা।তাই জোর করে অন্য জায়গায় আমার বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু আমার তো শুধু রায়েদ ভাইয়াকেই ভালো লাগে। তাই আমি সবাইকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে এসেছি। ভেবেছিলাম এখানে এলে রায়েদ ভাই হয়তো আমাকে বুঝবে, আমার সাথে কথা বলবে, হয়তো আমাকে মেনে নেবে। কিন্তু এখানে এসে শুনলাম রায়েদ ভাইয়া আমাকে ভালোবাসে না। সবটা তার মজা ছিল আর আমি সত্যি ভেবে নিয়েছি।
পরি হালিমাকে জড়িয়ে ধরল।

পরিঃ- আরে বোকা মেয়ে কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিলি একা আমাদের বলতে পারতি?
হালিমাঃ- সেই অপশন ছিলো না আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিলো তাই তোদের জানাইতে পারিনি।
ইলা চুপ করে শুনছিল। তার চোখে একটা দুঃখ আর সহানুভূতি সে ধীরে ধীরে বলল,
ইলাঃ- হালিমা সব বুঝলাম কিন্তু তুই রায়েদ ভাইয়ের প্রেমে উস্টা খাইলি কিভাবে।
হালিমাঃ- জানি না রে কবে কিভাবে ভালোবেসে ফেলেছি।
ইলাঃ- শুন রায়েদ ভাইয়া খুব ভালো মানুষ না। ও একটা প্লে বয় তুই রায়েদ ভাইয়ের সব কিছু জেনেও কিভাবে ভালোবাসলি। ভাইয়ার মন এ যদি তুই না থাকিস তাহলে জোর করে কিছু হবে না। তুই এত বড় ঝুঁকি নিলি কেন…বাড়িতে তোর বাবা-মা ভাই নিশ্চয়ই চিন্তায় আছেন।
হালিমা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

হালিমাঃ- আমি জানি কিন্তু এখন আমি কি করবো আমি আর ফিরতে ও পারব না। ওরা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি চাই না আমি তো শুধু রায়েদ ভাইয়াকে চাই।
ইলা হালিমার কাঁধে হাত রাখল।
ইলাঃ- শোনো আজ রাতটা রেস্ট নে কাল সকালে আমরা সবাই মিলে রায়েদ ভাইয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করব। কিন্তু শুন হালিমা ভালোবাসা জোর করে হয় না। যদি রায়েদ ভাই তোকে না চায়, তাহলে তুই নিজেকে কষ্ট দিবি না প্রমিজ কর? তুই অনেক সুন্দর, অনেক ভালো মেয়ে তোর জন্যও কেউ অপেক্ষা করছে কোথাও হয়তো বা।
হালিমা চোখ মুছে ইলার দিকে তাকাল।
হালিমাঃ- তুই কী করে এত শান্ত ছিলি রে ইলা? তোর আর আরিয়ান ভাইয়ার মধ্যে যে ভালোবাসা দেখি আগের কথা গুলো মনে পড়লে মনে হয় তখন যদি কষ্ট না করতি তাহলে আজ এত সুখী থাকতে পারি না। আমি তো সেরকম চাই আমি রায়েদ ভাই এর জন্য অপেক্ষা করবো।
ইলা মৃদু হেসে বলল,

ইলাঃ- আমরা দুজনি তো অনেক কষ্ট পেয়েছি। অনেক ভুল বোঝাবুঝি অনেক অপেক্ষা। কিন্তু শেষে যা হওয়ার তাই হয়েছে তুই ও ধৈর্য ধর তোর ভালোবাসা সত্যি হবে রায়েদ ভাইকে তুই অবশ্যই পাবি।
পরি হালিমার হাত ধরে বলল,
পরিঃ- চল ভেতরে চল আজ রাতটা রেস্ট কর। কাল সকালে সব ঠিক করে নেব।
হালিমা মাথা নেড়ে তাদের সাথে ভেতরে গেল রাত গভীর হলো।
Time skpi…..
আরিয়ান আর ইলা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান ইলাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
আরিয়ানঃ- আজকের ঘটনাটা শুনলে হালিমা রায়েদের জন্য বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে।
ইলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ইলাঃ- হ্যাঁ বেচারি অনেক কষ্ট পাচ্ছে। আমি কাল ওর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলব। তার আগে রায়েদ ভাই কি চায় সেটা জানতে হবে।
আরিয়ান ইলার কপালে চুমু দিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- তুমি সবসময় সবার ভালো চাও। কিন্তু মনে রেখো সবার ভালোবাসা একরকম হয় না।কারো জন্য হয়তো অন্য কেউ অপেক্ষা করছে।
ইলা আরিয়ানের বুকে মাথা রাখল।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫০

ইলাঃ- আবার এমনো হতে পারে আমরা যাকে চাই সেও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
আরিয়ান হেসে বলল,
আরিয়ানঃ- সবার টা জানি না তবে আমি আমার তিলবতীর জন্য অপেক্ষা করবো চিরকাল।
চাঁদের নিচে দুজনে জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে রইল বাড়ির এক কোণে। হালিমা জানালার কাছে বসে চাঁদ দেখছে। তার চোখে পানি কিন্তু মনে একটা ছোট্ট আশা হয়তো কাল সব ঠিক হয়ে যাবে।

ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৫২