ভালোবাসার স্নিগ্ধতায় তুমি পর্ব ২৩

460

গল্পের পরের পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে পরতে চাইলে notification অন করে রাখুন ok বাটনে ক্লিক করে

ভালোবাসার স্নিগ্ধতায় তুমি পর্ব ২৩
লেখকঃআয়ান আহম্মেদ শুভ

*অধরা বিছানা থেকে উঠতেই তার ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো। অধরা ফোনটা হাতে নিয়ে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে একটা পরিচিত নাম্বার থেকে কল এসেছে। অধরা কলটা পিক করে কিছু কথা বলে কলটা কেটে দিলো। অয়ন রুমে নেই। অধরা জানে অয়ন বেশ রেগে আছে। অধরা বিছানার উপর বসে ভাবছে “কি করে তোমাকে সব সত্যি আমি বলবো? আমি যে তোমাকে হারাতে চাই না‌। তুমি আমার সব সত্যি জানার পরে আমাকে আর ভালোবাসবে না। অবহেলা করবে আমায়। আমি জানি কারন যে মানুষটা তোমাকে ভূলে যাবে। তাকে মনে রাখবে কেনো তুমি? যে মানুষটা তোমাকে এতো ভালোবেসেছে একটা সময়‌। আজ সময়ের ব্যবধানে সেই মানুষটি তোমায় ছেড়ে চলে যাবে। তোমাকে ভূলে সে নিজের মতো করে বাঁচবে। আমি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছি ভিশন। কারন অতিথি আমি। আমি চাই তুমি আমায় ঘৃণা করে ভূলে যাও। আমার কথা ভেবে প্রতি নিয়ত নিজেকে কষ্ট না দিয়ে এখন একটু একটু করে কষ্ট পেয়ে পেয়ে নিজেকে শক্ত করে নাও। বেশি দিন আর নেই আমার হাতে।

কথাটা শেষ করতেই অধরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আপন মনে ভাবছে সে‌ “এভাবে বসে থেকে কোনো লাভ নেই‌‌। যাই অয়নের পাশে বসে একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আসি‌।
* অধরা নিজের রুম থেকে বেরিয়ে চলে আসে ছাদে। ছাদে আসতেই অধরা দেখতে পায় অয়ন ভিশন হেসে হেসে কারো সাথে হয়তো ফোনে কথা বলছে। অয়নের দিকে ভালো করে তাকাতেই অধরা দেখতে পায় অয়নের হাতে একটা ড্রিংক করার গ্লাস। অধরা একটু কষ্ট পায়। আসলে অয়ন ড্রিংক করে এটা অধরা চায়‌ না। অধরার রাগ উঠে যায় অয়ন ড্রিংক করলে। অধরা নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রন করে অয়নের দিকে এগিয়ে আসে।
— আরে হ্যাঁ। আচ্ছা শোন তোরা‌ কাল রাতে তবে হবে।
অয়নের কথা শেষ হতেই অধরা অয়নকে পিছন থেকে উদ্দেশ্য করে বলল
— কি হবে অয়ন?
অধরার গলার আওয়াজ শুনে অয়ন কোনো ভ্রূক্ষেপ করলো না। অয়ন ফোনটা কেটে দিয়ে অধরাকে উদ্দেশ্য করে বাঁকা হেঁসে বলল

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

— সেটা তুমি জেনে কি করবে?
— ওহহ। আমার কি সেই অধিকার নেই?
— উফফফ! ড্রিম গার্ল অধিকার আছে তো তোমার। তবে গুরুত্ব ছাড়া অধিকার আরকি।
অধরা নিশ্চুপ হয়ে আছে। অয়ন অধরার চোখের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে তাচ্ছিল্য কর হাসি দিয়ে অধরার সামনে থেকে চলে যায় অন্য দিকে।
* সকাল হতেই অয়ন দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিলো। অধরা ঘুমিয়ে আছে বিছানায়। অয়ন ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে নাস্তা না করেই বেরিয়ে যায়। ইমপ্রটেন্ট মিটিং আছে। অয়ন গাড়ি নায়েক চলে আসে রোজের অফিসে। গাড়ি থেকে নেমে অয়ন ফাইল গুলো হাতে করে ভিতরে চলে আসে। মিটিং কিচ্ছুক্ষণ আগে শুরু হয়েছে। অয়ন হল রুমে ঢুকতেই দেখতে পেলো সবাই মিটিং এ চলে এসেছে। অয়ন আসতেই সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। আসলে ব্যবসায়ীক মহলে অয়নের সম্মান একটু বেশিই। অয়ন সবার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিতেই রোজ কর্কশ গলায় অয়নকে উদ্দেশ্য করে বলল

— আরে মিস্টার অয়ন চৌধুরী। এতোক্ষণে আপনার আসার সময় হলো! আপনার নাম ডাক আছে তাই ভেবেছি আপনার সাথে বিজনেস করবো। কিন্তু আপনি যে সময় নিয়ে এতো অসচেতন তা আমাকে বিজনেস করার ইচ্ছেকে প্রভাবিত করছে।
রোজের কথার কোনো মাথাই অয়ন বুঝতে পারলো না। অয়নের দিকে সবাই একটু তাচ্ছিল্য পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অয়ন বিষয়টা মজার ছলে মনে করে একটু মুচকি হেসে বলল
— আরে তা না মিস রোজ। আসলে একটু রেস্ট হয়ে গেছে আর কি। মিটিং শুরু করুন প্লিজ।
রোজ কিছুটা বিরক্তি নিয়ে মিটিং শুরু করলো। কথা মতো অয়নের আজ অনেক গুলো টেন্ডার পাওয়ার কথা। কিন্তু রোজ একের পর এক চমক অয়নকে দিয়ে চলেছে। সব গুলো টেন্ডার অয়নের থেকে নিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দিচ্ছে। অয়ন একটু অবাক হয়ে যায় রোজের ব্যবহারে। এসব কি করছে রোজ? হঠাৎ এতোটা পরিবর্তন কি করে হলো? অয়ন চুপ করে তামাশা দেখে চলেছে। মিটিং শেষ হতেই সবাই উঠে চলে যেতে লাগলো। অয়ন রোজকে উদ্দেশ্য করে মৃদু কন্ঠে বলল

— রোজ আপনি কি কোনো কারনে আমার উপর রেগে আছেন? আসলে আমি বুঝতে পারলাম না যে টেন্ডার গুলো আমি পেয়েছিলাম তা আপনি আবার নিয়ে নিলেন। বিষয় কি?
অয়নের কথা শেষ হতেই রোজ চিৎকার করে রাগি কন্ঠে অয়নকে বলে উঠলো
— যাস্ট শার্ট আপ মিস্টার অয়ন চৌধুরী। আমাকে প্রশ্ন করার সাহস হয় কি করে আপনার? অধরার জন্য আপনি এখানে আসার সুযোগ পেয়েছেন। তা না হলে কখনোই আপনাকে আমার অফিসের চারপাশে আসতেই দিতাম না আমি। আপনার টেন্ডার পাবার বিন্দুমাত্র যোগ্যতা নেই। অধরা নিজের আপনার প্রজেক্ট ক্যান্সেল করেছে। এখানে আমার বলার কি থাকতে পারে?
— ওহহহ। সরি মিস রোজ। আচ্ছা আসছি আমি।‌
রোজের প্রতিটি কথা অয়ন কে ভিশন রকম আঘাত দিলো। মানুষ এতোটা তারাতাড়ি বদলে যায় কি করে? অয়ন রোজের অফিস থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে ভাবছে অধরা তার প্রজেক্ট ক্যান্সেল করেছে। আচ্ছা অধরা তবে এই কথাটা আমায় আগে কেনো জানায়নি? হয়তো অপমান করতে চেয়েছিলো সে। যাক আজ না হয় নিজের প্রিয়তমার সাজানো নাটকের একটা চরিত্র আমি হলাম।

* অয়ন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায় নিজের অফিসের দিকে। মনের মধ্যে বার বার রোজের বলা কথা গুলো আসছে। কেনো জানি সব কিছুতেই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছি আমি। অয়ন নিজের অফিসে এসে নিজের চেম্বারে গিয়ে বসলো। একটু আপসেট লাগছে আজ। আসলে সবার সামনে রোজ এতোটা রুড বিহেব করবে কখন ভাবতে পারিনি আমি। অয়ন‌ মাথা থেকে সব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে কাজ শুরু করলো।
— অধরা ভাবি কি করছো?
অনুর গালার শব্দ শুনে কেঁপে উঠলো অধরা। তড়িঘড়ি করে ফাইলের ভিতর কিছু কাগজ রেখে ফাইলটা বন্ধ করে দিলো সে। অনু অধরার রুমে এসে অধরার পাশে বসলো।
— ভাবি তোমার কি মন খারাপ? তোমার চোখ গুলোর নিচে দিনকে দিন কেমন যেনো ডার্ক সার্কেল তৈরি হচ্ছে। কি হয়েছে? সব ঠিক তো?
অধরা অনুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে জবাব দিলো
— আরে সব ঠিক আছে। আমার কি হবে? কিছুই না। আচ্ছা তুমি কি তোমার ভাইয়াকে দেখেছো? আমাকে কিছু না বলেই সকালে কোথায় চলৈ গেলো?
— না ভাবি। মনে হচ্ছে অফিসে গেছে হয়তো।

* অনু অধরার সাথে বেশ কিছু সময় কথা বলল। অধরা কথার মাঝে বার বার বুঝাতে চেষ্টা করছিলো তাকে যেতে হবে তার‌ দেড়ি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনু অধরার চোখের ভাষা পড়তে পারলো না। আরো কিছু সময় যেতে অনু অধরার রুম থেকে বেরিয়ে চলে যায়। অনু বেরিয়ে যেতেই অধরা তৈরি হয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। অধরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসে তার‌ নির্দিষ্ট ঠিকানায়। অধরা চলে আসে হসপিটালে। হসপিটালে এসে অধরা রিহানের চেম্বারে। রিহানের চেম্বারে আসতেই অধরা রিহানকে উদ্দেশ্য করে বলল
— আমি কি আসতে দেরি করে ফেলেছি?
অধরার কন্ঠ শুনে রিহান অধরার দিকে দৃষ্টিপাত করলো। মৃদু হেসে রিহান অধরাকে চেম্বারে এসে বসার‌ জন্য বলে। অধরা রিহানের সামনে বসে পড়ল।
— অধরা আপনি লেট তো অনেক আগেই করে ফেলেছেন। আপনাকে আমি আর কত বোঝাবো আপনি বর্তমানে আর সেই আগের অধরা নেই। আপনার অবস্থা দিনকে দিন খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। আপনি যে টুকু চিকিৎসা করছেন তাতে রিকভার করার চান্স মাত্র ৫ পার্সেন্ট।
রিহানের কথার বিপরীতে অধরা বাঁকা হাসি দিলো।

— কি করবো আমি? সব ফেলে হাসপাতালে পরে থাকবো? কি লাভ করে? কোনো‌ গ্যারান্টি আছে আমি ঠিক হয়ে আবার অয়নের কাছে ফিরবো? নাই তো! তা হলে থাকি না কিছু দিন অতিথি হয়ে তার জীবনে।
— মায়া বাড়িয়ে কি লাভ?
— মায়া কাটিয়ে দিচ্ছি।
— এভাবে অয়নকে কষ্ট দিয়ে নিজে কষ্ট পেয়ে কি মজা পাচ্ছেন?
— এসব বাদ‌ দিন ডক্টর। আমি রিপোর্ট গুলো নিয়ে এসেছি। ইদানিং আমি কথা গুলো গুলিয়ে ফেলছি। কখন কাকে কি বলছি? মনে করতে পারছি না।
— হুম।

ভালোবাসার স্নিগ্ধতায় তুমি পর্ব ২২

রিহান অধরার ব্রেন্টের কিছু চেকাপ করে মেডিসিন দিয়ে দিলো। অধরা চেকাপ শেষে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে। অধরা তার অসুস্থতার কথা কাউকে জানাতে চায় না। জানিয়ে কি হবে? অয়ন আমি বেঁচে থাকাতেই চিন্তায় চিন্তায় ডিপ্রাইজ হয়ে যাবে। তার থেকে আড়াল করাটাই শ্রেয়। হঠাৎ করে বিদায় নিয়ে চলে যাবো। কাউকে কিছু বুঝতে দিবো না আমি। অধরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতেই হঠাৎ করে অধরার সামনে চলে আসে……………………..

ভালোবাসার স্নিগ্ধতায় তুমি পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here