ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩
মুশফিকা রহমান মৈথি
ভারী কণ্ঠ কানে যেতেই বুকটা ধক করে উঠলো কাঞ্চনের। নাকে এসে বাড়ি খেলো বারুদের এবং রক্তের তিক্ষ্ণ গন্ধ। ঘেমে শরীর জবজবে। তবু এক লাফে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো। বেড সাইডের ল্যাম্পটা জ্বালাতেই অন্ধকার ঘরটা আলোকিত হয়ে উঠলো। ফলে দেখতে পেলো বিছানায় হেলান দিয়ে বসা সরফরাজ পটনভী স্নিগ্ধ। তার পরণে এখন আর সেই গোল্ডেন রঙের শেরওয়ানি নেই। বরং একটা সাদা শার্ট। হাতা গোটানো কনুই অবধি। বাম বগলের ঠিক নিচে ঝুলছে হোলস্টার। অর্থাৎ সে কোনো কাজ থেকে ফিরেছে। অবশ্য খুব সূক্ষ্ণভাবে দেখলে শার্টের গায়ে রক্তের ছিটেও দেখা যাচ্ছে।
কাঞ্চনের বুক এখনো কাঁপছে। পনিটেইল ঢিলে হয়ে গিয়েছে ঘুমের কারণে। চুল বেরিয়ে এসে এলোমেলো হয়ে মুখের পাশে এসে পড়ছে। এসি চলছে ঘরে অথচ তরতর করে ঘামছে কাঞ্চন। হাপাচ্ছে সে। চোখগুলো এখনো বড় বড় হয়ে আছে। ঠোঁটের উপর জমছে ঘাম। ঘুমানো এবং ঘামার কারণে মুখটা কেমন তৈলাক্ত হয়ে আছে। সরফরাজ তাকে নিপুণ চোখে দেখলো। তারপর ফিঁচেল হেসে ভারী গলায় বললো,
“ডোন্ট বি এফ্রেইড, মিসেস পটনভী। আমি তোকে কাঁচা খাবো না। জানিস ই তো আই ডোন্ট লাইক র মিট। মনমত হলুদ মরিচ মেরে, কষিয়ে রান্না করে খাবো।”
কথাটায় স্পষ্ট বিদ্রুপের আভাস পেলো কাঞ্চন। সাথে সাথেই নাকের পাটা ফুলিয়ে রাগী স্বরে বলে উঠলো,
“কে ভয় পাচ্ছে?”
স্নিগ্ধ লাফিয়ে উঠে দাঁড়ালো। বিশাল প্রশস্ত পেটানো শরীরটা যখন দাঁড়ালো কাঞ্চনের সামনে মনে হলো দানব দাঁড়িয়ে আছে। কাঞ্চন একটু নড়েচড়ে উঠলো। কিন্তু সেটা প্রকাশ করলো না। স্নিগ্ধ ঘাড় টা একটু হেলিয়ে বললো,
“তাই নাকি? আমি তো অন্যকিছু দেখছি।“
“চোখে কি ন্যাবা হয়েছে। লুক এট মি! আমি তোমাকে ভয় পাই স্নিগ্ধ ভাই।“
“হু ইজ ভাই? আমি এখন তোর হালাল হাসবেন্ড শ্বেতকাঞ্চন!”
“শ্বেতকাঞ্চন” শব্দটা শুনতেই বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো। ভ্রু কুচকে উঠলো। মুখে প্রকাশ পেলো এক অসহ্য যন্ত্রণার ছাপ। কাঞ্চন হাসলো। হাসলো তাচ্ছিল্য ভরে,
“আমি শুধু কাঞ্চন। নট শ্বেতকাঞ্চন, নট কাঞ্চনজঙ্ঘা।“
“তাহলে বরং মিসের পটনভীটাই ঠিক আছে। মিসেস সরফরাজ পটনভী। তা আজ তো বিশেষ রাত। মিসেস পটনভীর কি চাই আমার থেকে?”
কাঞ্চন চোয়াল শক্ত করে চোখে চোখ রাখলো স্নিগ্ধের। কঠিন স্বরে বললো,
“ডিভোর্স।“
“এতো বাজেট নেই। হোয়াট এবাউট ডায়ামন্ড রিং?”
“ফাজলামির মুডে নেই আমি স্নিগ্ধ ভাই। আই ওয়ান্ট ডিভোর্স। এই বিয়েটা বাধ্য হয়ে করেছি আমি। তোমার সাথে আমার মাথার চুলও সংসার করবে না।“
কথাটা শেষ হতে পারলো না। স্নিগ্ধের কঠিন রিভলভার চালানো শক্ত হাতটা টেনে ধরলো কাঞ্চনের নরম কোমর। মুহূর্তেই নিজের কঠিন বুকের সাথে মিশিয়ে ফেললো। কাঞ্চনের দম বন্ধ হবার যোগাড় হলো। ছটফট করতে লাগলো সেই কঠিন হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য। ব্যগ্র হয়ে বললো,
“ছাড় আমাকে।“
“পটনভীরা ছাড়ার জন্য ধরে না। তারা বিয়ে করে কবর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য।“
কথাটায় যেন হাসি পেলো কাঞ্চনের। ছটফট করা ছেড়ে তাচ্ছিল্য ভরে বললো,
“হ্যা! পটনভীদের সাথে বিয়ে হলে ওইটাই তো আমাদের শেষ মুক্তির পথ৷ চোখের সামনে শতশত উদাহরণ। কিন্তু সরি টু সে, আমার তোমার জন্য কবরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই৷”
“আমার সাথে যাওয়ার ইচ্ছে?”
“তোমার সাথে আমার পায়ের নখও যাবে না৷”
স্নিগ্ধ আরোও শক্ত করলো বাঁধন। এবার ব্যথা লাগলো কাঞ্চনের। কিঞ্চিত কুঁকিয়ে উঠলো। অথচ এই সিমেন্টের বস্তার কোনো হেলদোল নেই, নির্লিপ্ত গলায় বললো,
“যাওয়া লাগবে না, আমি কোলে করে নিয়ে যাবো। আমি তো ভেবেছি আমাদের একটাই কবর হবে। সতীদাহ থেকে সতীকবর! আমার বুকের উপর তুই জ্যান্ত শুয়ে থাকবি৷ হাউ রোমান্টিক!”
“আজকাল আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখছো নাকি? আমার সাধ্য থাকলে তোমার কবরের মাটিটাও আমি নিজ হাতে দেই। আসছে বুকের উপর শুতে! সত্যি করে বলো, তুমি এসব কেন করেছো? কি চাও আমার কাছ থেকে?”
“পুরোদস্তুর তোকে।“
কথাটা শুনতেই জমে গেলো কাঞ্চন। তার নড়াচড়া একেবারেই থেমে গেলো। চোখ বিস্ফারিত হলো। ব্রেইনের প্রতিটা কোষ এই দুটো অক্ষরকে ডিকোড করতে বসলো। অনেক কিছুই মানে দাঁড়ায়। কিন্তু মানেটা আর দাঁড় করানোর সময় পেলো না সে। স্নিগ্ধ হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
“আমার বউ ভাগিয়েছিস তুই। পটনভীরা কারোর ধার রাখে না। সুতরাং হিসেবটা তো মিলানোর ছিলো। বউয়ের বদলে বউ। ইউ নো, লেফট সাইড ইজ ইকুয়ালটু রাইট সাইড।“
“তুমি বদলা নিয়েছো?”
“কেন আজ তো তোর দু রাকাআত নফল নামায পড়ার কথা। নে আমি আরোও সুন্দর সুযোগ করে দিলাম। বিবাহের পর স্বামীর সাথে নামায পড়বি।“
কাঞ্চন এবার যেন সব পরিষ্কার বুঝতে পারছে। তারমানে তখন তার বলা প্রতিটা কথাই লোকটা শুনেছে। তাই এই বিয়ে। আসল উদ্দেশ্য বদলা। ফলে ঘৃণায় মুখটা কুঁচকে এলো। গায়ের জোরে ধাক্কা দিলো সে স্নিগ্ধকে। ফলে সে যেন অনেকটা ইচ্ছেকৃত ভাবেই বিছানায় পড়ে গেলো। হাতের উপর সামান্য ভর দিয়ে উঠে বলল,
“আমার বউয়ের গায়ে তো খুব জোর।“
“আমি তোমার বউ না।“
“সো স্যাড মিসেস পটনভী। কিছু করার নেই।“
কাঞ্চন নিজের কপালের উপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে মাথা চেপে ধরল। জিভ উপরের পাটির দাঁতে ঠেকিয়ে কিছু সময় হাসলো। তারপর বললো,
“তুমি ভুলে যেও না আমিও পটনভী। দ্যা পটনভী। তোমাকেও যদি লেজে না নাচাই আমার নাম পারিজাত পটনভী কাঞ্চন না।“
“আমি তো জানি তুই বান্দরী। তোর লেজে নাচতে আমি সদা প্রস্তুত। প্লিজ নাচা।“
স্নিগ্ধের ফিঁচেল হাসি গা জ্বালিয়ে দিলো। এমন তো এই লোক ইহজীবনেও ছিলো না। আগে তো এতো ঘন ঘন হাসতে দেখে নি সে। কাঞ্চনের ইচ্ছে করলো হাতুড়ি দিয়ে দাঁতগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে। কিন্তু হাতের কাছে নেই। এর মধ্যেই স্নিগ্ধ ডানটা টেনে এক হ্যাচকা টানে তাকে বিছানায় ফেলে দিলো। টাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়লো কাঞ্চন। কিছু বুঝার আগেই সে কাঞ্চনের টিশার্টটা টেনে নামিয়ে ফেললো। অমনি গর্জে উঠলো কাঞ্চন,
“স্নিগ্ধ ভাই, খবরদার!”
স্নিগ্ধ এবার ধাঁরালো দৃষ্টিতে তাকালো ঠিক কাঞ্চনের চোখে। সেই দৃষ্টির ধাঁরে হিম হয়ে গেলো কাঞ্চন। স্নিগ্ধ তার বা হাতটা পিঠে চেপে ধরতেই হিস করে উঠল কাঞ্চন। কি বিশ্রী জ্বলন। কখন কেটেছে? তারকাঁটায়? টেরও পায় নি কাঞ্চন? অবশ্য বুকের জ্বলনের কাছে এই দেহের জ্বলন কতটা পাত্তা পায়। কিন্তু এখনো চেপে ধরায় একেবারে গা ঝনঝন করে উঠলো। স্নিগ্ধ খুব শান্ত গলায় বললো,
“তোর ওই টিংটিঙ্গে শরীরের প্রতি সরফরাজ পটনভীর বিন্দুমাত্র লোভ নেই। কথাটা মাথায় সেট করে রাখ।“
স্বস্তিময় কথা হলেও অপমানিতবোধ হলো যেন কাঞ্চনের। কেমন ভোঁতা একটা যন্ত্রণা তার বুকে হানা দিলো। এমনটাই তো হওয়ার কথা? সে আর স্নিগ্ধ ভাই তো একে অপরের চক্ষুশূল। তাহলে কেন এতো তুচ্ছ লাগছে নিজেকে। স্নিগ্ধ উঠে দাঁড়ালো। নিজের ঘরে ফার্স্ট এইডের বক্স সব সময় থাকে। আহত তো কম হতে হয় না। ফলে বক্সটা এনেই বললো,
“টিশার্ট তোল।“
“তোমার এতো দরদের আমার প্রয়োজন নেই। আমাকে দেও।“
“কাঞ্চন টিশার্টটা তুই তুলবো নাকি”
স্নিগ্ধের সেই ধাঁরালো দৃষ্টিতে জেদটা দেখাতে পারলো না কাঞ্চন। এই লোক কেমন সেটাতো অজানা নয়। তার পক্ষে একটা টিশার্ট খোলা এমন কোনো বিশাল বিষয় না। কাঞ্চন ঘুরে বসলো। টিশার্টটা তুলতেই তুলতুলে শুভ্র পিঠটা উন্মোচিত হল স্নিগ্ধের সামনে। লজ্জায় কাঞ্চনের কান্না পেয়ে গেলো। স্নিগ্ধ স্থির দৃষ্টি বেশ ভালো করেই অনুভব হলো তার। একটু পর অনুভব করল একটা শিরশিরে ঠান্ডা তরল তার কাঁটা স্থান স্পর্শ করছে। সেই সাথে জ্বলুনি বেড়ে গেলো। বিছানার চাঁদর খিঁচে ধরলো কাঞ্চন যন্ত্রণা। হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস সেই জ্বলুনীটাকে কমিয়ে দিলো যেন। অনুভূত হলো স্নিগ্ধ ফুঁ দিচ্ছে। কাঞ্চনের শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো। মাথাটা নামিয়ে দাঁত খিঁচে রইল সে। স্নিগ্ধ খুব আলতো করে কাটা অংশটা পরিষ্কার করে দিলো। একটা এন্টিসেপ্টিক ক্রিমও লাগিয়ে দিল। তারপর কিছুসময় আগের মতোই নীরবতা। সেই নীরবতা চিরলো একটা ভারী স্বর,
“তুই এতো বেখেয়ালি কেন, শ্বেতকাঞ্চন?”
কিন্তু মানুষটা বসে রইল না। উঠে গেলো দ্রুত। কাঞ্চন সেখানেই বসে রইলো। ঝিম ধরে।
রাতটা নির্ঘুম কেটেছে কাঞ্চনের। স্নিগ্ধ ঘরে আর ফেরে নি। তবুও ঘুম আসে নি। পটনভী পরিবারে সকাল দশটার পর নাস্তা দেওয়া বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে লাল চোখ নিয়ে ফুটবল মাঠের মতো ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত হলো কাঞ্চন।
পটনভী মঞ্জিল। সামিয়ুল্লাহ পটনভীর হাতে তৈরি বিশ কাঠা জায়গার উপর পর পর দুটো ত্রিতল মহল। বাহিরে মার্বেলের উপর খোদাই করে লেখা, “পটনভী মঞ্জিল”। সূর্যের আলোতে প্লেটটা চকচক করছে। নবাবীয়ানায় বানানো এই ত্রিতল মহলে এখনো লোক গিজগিজ করছে। পেছনে বিশাল বাগান। সাধারণত এখন দেশের সব পুরানো মঞ্জিল গুলো ভেঙ্গে ডেভেলপমেন্টকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন আধুনিকতার সাথে টেক্কা দেওয়া যায়। কিন্তু জুলফিকার পটনভী তার পৈত্রিক সম্পত্তি এখনো ঠিক আগের মতোই সংরক্ষণ করেছেন। পেছনের মহলে কেউ থাকে না। সেটা একপ্রকার হোটেল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি মঞ্জিল বিধায় এখনো সেই ব্রিটিশ কারুকার্যটা স্পষ্ট। এই বিশ কাটা জমিনে অনেক ভাগীদার। প্রতিনিয়ত সম্পত্তির জন্য কথা কাটাকাটি হচ্ছেই। কিন্তু জুলফিকার পটনভী সেগুলোকে খুব একটা গা মাখাচ্ছেন না। তিনি যতদিন জীবিত। তত পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভাগ বাটোয়ারা হবে না।
সকাল হলেই পাতিলের পর পাতিল চাপানো হয় হেসেলের পেছনের খোলা জায়গায়। এই মঞ্জিলে বর্তমানে বাস করছেন প্রায় আটটা পরিবার। সেই আটটা পরিবারের প্রতিটা প্রাণ সকাল হলেই কাউকাউ করে উঠে নিজের সউদ্যোমে। শুধু বর্তমানের পটনভী জেনারেশনই একটু গা ছাড়া প্রকৃতির। তারা যেন এই মঞ্জিল থেকে বের হতে পারলেই বাঁচে। এই জমানায় কে এমন একত্রে থাকে?
কাঞ্চন হাই তুলতে তুলতে এলো খাবার ঘরে। তার বমি আসছে। কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। ম্যাসেঞ্জার একটু পর পর টুং টুং করছে। সবাই যেন ওৎ পেতে আছে গতরাতের ইষ্টিপিষ্টি কথা শোনার জন্য। কাঞ্চনদের কাজিন মহলের মোট দুটো মেসেঞ্জার গ্রুপ। একটাতে কাজিনদের সবাই আছে, আরেকটাতে ঝামেলাপূর্ণ পটনভীগুলোকে আস্তে করে বাদ দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ সানিয়ার মতো পাবলিকেরা সেখানে নেই। প্রথম মেসেঞ্জার গ্রুপের নাম, “দ্যা পটনভী’স নিউ জেনারেশন” আর ঝামেলাবিহীন পটনভী মেসেঞ্জার গ্রুপের নাম,
“নেই কাজ তো পটনভী ভাঁজ”
এখন সবকয়টা মাথা কাজ ফেলে কাঞ্চনকে ভাঁজায় ব্যস্ত। কিন্তু কাঞ্চনের একটুও সেগুলো দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। সে কোনো মতে একটা পরোটা প্লেটে তুললো। তখন পাশে এসে দাঁড়ালো সানিয়া। সানিয়ার প্লেটে দুটো সেদ্ধ ডিম আর এক বাটি দুধে ভেঁজানো ওটস আর চিয়া সিড। তার বিয়ে আগামী ডিসেম্বরে। এখন থেকেই ডায়েট। দূর সম্পর্কীয় এক মামাতো ভাই, শাহরিয়ার পটনভীর সাথে বিয়ে হচ্ছে। ছেলে বর্তমানে ইউএসএ। বিয়ের পর সেও সেখানেই পাড়ি দিবে। সানিয়া কপাল কুঁচকে একবার দেখলো কাঞ্চনকে। তারপর একটু ঠেস দিয়ে বললো,
“ভাইয়া বুঝি সারারাত ঘুমাতে দেয় নি। এমন কচুর মাথার মত মুখ নিয়ে ঘুরছিস কেন?”
কথাটা শুনতেই গায়ে আগুণ ধরলো কাঞ্চনের। দাঁত চেপে রাগ সংবরণ করলো। তারপর একটু তাচ্ছিল্য ভরে হেসে বলল,
ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ২
“আমার কি আর ঐ ভাগ্য আছে বল?”
“মানে?”
“মানে তোর ভাইয়ের তো কলিকাতা হারবাল কেস। ইউ নো না? পুরুষালি সমস্যা। আমার তো জীবনটাই শেষ।“
কথাটা শেষ করতে পারলো না তার আগে ঝনঝন শব্দ কানে এলো দুজনের। তড়িৎ গতিতে পেছনে তাকাতেই দেখলো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছেন মেজো চাচী। খাইছে? এবার তো মঞ্জিলের প্রতিটা প্রাণ জেনে যাবে যে সরফরাজ পটনভী স্নিগ্ধের পুরুষালি সমস্যা আছে
