মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১৯
তাসনিয়া নুর
কম্বল সারা শরীরে পেঁচিয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে আবইয়াজ । শীতে দাতেঁ দাতঁ লেগে যাচ্ছে। এদিকে মাহির নিজ মনে বকবক করেই যাচ্ছে। আবইয়াজের মন চাচ্ছে সবকটাকে তুলে আছাড় মারতে । যার জন্য করতে গিয়েছে চুরি সেই বলে চোর ব্যাপারটা এমনই দেখা যাচ্ছে । মাহির সেই কখন থেকে বলছে,
— আরও যাও চুরি করতে । টাইগার নামক কুত্তার কাছে দৌড়ানি খেয়ে এসেছে। দেখছিস পাপের ফল মানুষ এ দুনিয়ায়ই পেয়ে যায়।
ছি ছি কুকুর নামক বাঘের কাছে দৌড়ানি খেয়ে কোপকাত হয়ে আছে মির্জা বাড়ির ছেলে ।
আহিরে আর সহ্য করতে পারল না, পায়ে থাকা জুতাটা খুলে মাহিরের মাথা বরাবর ছুড়ে মারে।নিজের ধ্যানে থাকায় বিষয়টা প্রথমে খেয়াল করেনি মাহির। হুট করে মাথায় কিছু বারি খাওয়ার ফলে পিছনে ঘুরে দেখে আহির রাগান্বিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আবইয়াজ ও একই দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
মাহির এবার শুষ্ক ঢোক গিলে মেকি হাসে । না আর কিছু বলা ঠিক হবে না, কখন তার মাথাটাই কেটে ফেলে দেয় বলা যায় না।
তাড়াহুড়ো কাজ করছিল জরিনা। আজকে তার অনেক কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে। দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এদিকেই আসছিল জহির । হুট করে সামনে আসায় জরিনা নিজের ব্যালেন্স হারিয়ে নিচে পড়ে যেতে নেই। তখই জহির তার কোমর জড়িয়ে আটকে নেয় ।
সামনের এমন দৃশ্য দেখে আবইয়াজের এতক্ষণ ধরে কাপাকাপি বন্ধ হয়ে যায়। মাহির তো হা হয়ে তাকিয়ে আছে । আহির চোখ ছোট করে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে উঠে,
— কি এক জীবন পেলাম দশ বছরের নেংটা বাচ্চারে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পার্কে ঘুরতে দেখলাম। এখন আবার আশি বছরের বুড়া বুড়িকে জনসম্মুখে পিরিত করতে দেখলাম । অথচ আমি পচিঁশ বছরের এক নিষ্পাপ ছেলে এখনও সিঙ্গেলই রয়ে গেলাম।
কথাটা বলে আহির নাক মুছার মতো নাটক করে উঠে। আহিরের কথা কর্নপাত হতেই জহির তাড়াহুড়ায় জরিনার কোমর থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেয়। যার ফলে বেচারি জরিনা ঠাস করে নিচে পড়ে যায়। জরিনাকে নিচে পরতে দেখে মাহির এবার নিজের জিব কাটে ।
জরিনা জহিরের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসছে । জহির অসহায় নেত্রে জরিনার দিকে তাকায় আবার আবইয়াজদের দিকে তাকায়। গত দুবছর ধরে জরিনাকে নিয়ে মনে মনে ভালোবাসা পুষে রেখেছে জহির । অভাব অনটনের কারণে বয়স চল্লিশ পেরলেও আজ অবধি বিয়ে করা হয় নি। তবে যবে থেকে জরিনাকে দেখেছে তখন থেকেই ভেবে নিয়েছে বিয়ে করলে তো একেই করবে আর না হলে কাউকে না। মেয়েটার কথার ভঙ্গি তার বেশ লাগে। । কেমন যেনো বউ বউ লাগে। কিন্তু মেয়েটা তাকে দেখলেই শুধু খ্যাক খ্যাক করে । আর আজকে তো নিচেই ফেলে দিয়েছে, না জানি এখন কি করবে। কথাটা ভাবতেই জহিরের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
জরিনা রাগে ফুসতে ফুসতে বলে উঠে,
— ওরে বুইড়া! দিছো তো মোরে আছাড় দিয়া। এহন যদি মোর কোমরডায় চোট লাগে, তবে মুই বরিশাইল্লা মাইয়া তোমার হাড্ডি-গুড্ডি এক্কেরে গুঁড়া কইরা নদীতে ভাসাইয়া দিমু, মনে রাইখো!
জরিনা থ্রেট দিয়ে কোনো রকমে উঠে গটগট পায়ে চলে যায়। জহির সেদিকে অসহায় ভাবে চেয়ে রয়। এদিকে জহিরের হাবভাব ভালো ঠেকছেনা আহিরদের কাছে । আহির এক ভ্রু উচিয়ে মাহিরের দিকে তাকায়। মাহির আহিরের দৃষ্টি বুঝতে পেরে কাঁধ উঠিয়ে ঠোঁট উল্টায়।
রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে আছে ননী আর চিত্রা। আজকে ননী সকলের জন্য নিজ হাতে সেমাই রান্না করবে। সব উপকরন ঠিকঠাক করছিল ননী । হুট করে চিত্রাকে বলল,
— চিতুপু তুমি একটু সেমাইটাকে চুলায় বসাও আমি একটু আসছি।
— কিন্তু কিভাবে কি করব?
চিত্রার প্রশ্নে খানিক বিরক্তি নিয়ে ননী বলে উঠে,
— তেল পানি আগুন দিয়ে বসিয়ে দাও।
— কিন্তু…
আর কিছু শুনার অপেক্ষা করে না ননী। তার এই মুহূর্তে ওয়াশরুমে যাওয়া অতিব জরুরি। ননী চলে যায় কিন্তু চিন্তায় ফেলে যায় চিত্রাকে। কিভাবে কি করবে বুঝতে পারছেনা। শুধু কানে ভাসছে ননীর বলে যাওয়া কথাটা ‘তেল পানি আগুন দিয়ে বসিয়ে দাও’ ।
চিত্রা এবার বড় একটা পাতিল চুলাতে বসায় । পাশ থেকে খুঁজে তেল ও পানি নিয়ে নেয়। এক হাতে পানি অপর হাতে তেল। চিত্রা একবার এদিকে তাকায় আবার ওদিকে। পরমুহূর্তে ভাবে পানির চেয়ে তেল দিলে বেশি মজা হবে হয়তো। আর কিছু না ভেবে এক লিটার তেল পাতিলে ঢেলে দিল । এখন আবার খটকা লাগছে শুধু তেল দিলেই হবে? তাই তেলের উপর একটু পানি ঢেলে দেয়। চিত্রার মুখে এখন বিজয়ের হাসি ।
এবার সেমাইটা পাতিলে ঢেলে দেয়। কিন্তু এখন কি করবে? চিত্রা আরেকটু ভাবে হুট করে মনে পরে ননী তো বলেছিল আগুন দিতে হয়তো তেলে ফ্রাই হবে । চিত্রা আর কিছু না ভেবে সেমাইয়ের মাথায় আগুন লাগিয়ে দিল, মুহূর্তেই দাউ দাউ করে সেমাইয়ে আগুন লেগে পুড়তে আরম্ভ করে।
কিচেনে ঢুকে এই অবস্থা দেখে ননীর মাথায় হাত । দৌড়ে এসে আগুন নিভায় সে । পাশে তাকিয়ে দেখে পুরো এক লিটার তেলের বোতল খালি।ননী হা হয়ে চিত্রার দিকে তাকিয়ে বলল,
— এটা তুমি কি করলে আপু? সব কিছু নষ্ট করে ফেললে ।
চিত্রা নিজের কাঁধ উচিয়ে বলল,
— আমার কি দোষ, তুই নিজেই তো আমাকে বলে গেলি তেল পানি আগুন লাগিয়ে দিতে ।
ননী নিজের কপাল চাপড়ে বলল,
— ওটা তো আমি কথার কথা বলেছিলাম। তাই বলে তুমি এমন করবে?
চিত্রা এবার ঠোঁট উল্টালো। তার কি দোষ? সে তো ননীর বলা কথা অনুযায়ী কাজ করছিল।
ননী এবার সবকিছু পরিস্কার করে নতুন উদ্যমে বানানো শুরু করে।
যার যার রুমে ছিল সবাই । নিচ থেকে চিত্রা জুড়ে ডাক দিয়ে বলল,
— সবাই নিচে চলে এসো । আজ আমাদের ননী সকলের জন্য সেমাই রান্না করেছে।
একে একে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে আহির, মাহির, আবইয়াজ, মেহু, মাইরা, সাইবা । সবাই আসতেই চিত্রা, ননী মিলে একে একে সকলের হাতে সেমাইয়ের বাটি ধরিয়ে দেয়।
ননী উৎসুক দৃষ্টিতে মাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। কখন মাহির ভাই তার একটু প্রশংসা করবে।
মুখে এক মামচ দিতেই মাহিরের দুনিয়া উল্টে গেলো। আহির মুখে হাত উম উম শুরু করে দিয়েছে। আর আবইয়াজ তো মুখ চিপে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে । ননী ভেবেছিল হয়তো অনেক মজা হয়েছে যার জন্য এরা এমন করছে। কিন্তু মুহূর্তেই আহির মাহির টেবিলে থাকা টিস্যু নিয়ে মুখের খাবার সব বের করে ফেলে।
ননী এদের অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করে,
— কি হয়েছে? মজা হয়নি?
মাহির কাঁদোকাঁদো হয়ে বলল,
— বোন আমার ঘরে কি চিনির অভাব ছিল? যে শেষে কিনা আমাদের লবণের সেমাই খাওয়ালে ।
আবইয়াজ একই স্বরে বলে উঠে,
— আমি তো আবার মরিচের টেস্ট ও পেলাম।
ননী হাত কচঁলে বিষন্ন মনে বলল,
— আমিতো চিনিই দিয়েছিলাম । ওই চিনি যে আমার সাথে শত্রুতা করে লবণ হয়ে যাবে ওটা আমি কিভাবে জানবো?
মাহির চোখ ছোট করে জানতে চায়,
— তুমি বলতে চাচ্ছো চিনি নিজে নিজে পরিবর্তন হয়ে লবণ হয়ে গিয়েছে?
ননী উপর নিচ মাথা ঝাঁকায়। মাহির নিজের কপালে হাত রেখে দুদিকে মাথা নাড়ে । এখানে না এসে পাবনা গেলে বোধ হয় বেশি ভালো হতো।
মাহিরের জন্য আদর করে বানানো সেমাইয়ে কিনা লবণ দিয়ে ফেলেছে। লবণ কিভাবে পারল তার সাথে এত বড় শত্রুতা করতে? কথাটা ভাবতেই ননীর ভীষন কান্না পাচ্ছে।
সেই যে ননী মুখ ভার করল আর তো কারো সাথেই কথা বলছে না। চিত্রা, মেহু, মাইরার বেশ মায়া লাগল। তাই তারা প্ল্যান করেছে সবাই মিলে ঘুরতে যাবে।
চিত্রা ননীর কাছে গিয়ে বলল,
— ননী এতদিন হলো আমরা এলাম অথচ তুই আমাদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেলি না, এটা কিন্তু ভারি অন্যায়। চল আজকে ঘুরতে বের হই।
ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে ননীর মুখ চকচক করে উঠে । সে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে,
— হ্যাঁ আপু চলো ঘুরতে যাই।
— কিন্তু কোথাই যাওয়া যায়?
চিত্রার প্রশ্নে ননী বলল,
— আমাদের লেবুতলায় বেশ কিছু জায়গা রয়েছে তুমি গেলেই বুঝতে পারবে।
— ঠিক আছে তাহলে চল ।
গ্রামের আকাঁবাকা সরু মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে চলেছে মাইরা, মেহু, চিত্রা, ননী । দু ধারে সরিষা ক্ষেত। দেখে মনে হচ্ছে যেনো হলদে সমুদ্র বাতাসের তালে তালে দুলে উঠছে। বিকেলের পরিবেশটা আরো স্নিগ্ধরূপ ধারন করেছে । দিঘির পানিতে রোদের ঝিলিক চিকচিক করছে । পথের দুধারে সারি সারি গাছ। প্রকৃতি উপভোগ করতে করতে চিত্রারা পৌঁছে যায় লেবুতলার ঐতিহাসিক তেঁতুলতলা জামে মসজিদ । স্থানীয়রা একে লেবুতলা শাহী মসজিদ বলে থাকেন।
মসজিদের আঙিনায় এক বিশাল বড় তেঁতুল গাছ। এর দেওয়ালগুলো সাধারণ আধুনিক মসজিদের তুলনায় অনেক বেশি পুরু বা মোটা। পুরনো চুন-সুরকি এবং পাতলা ইটের গাঁথুনি এর প্রাচীনত্বের প্রমাণ দেয়।
চিত্রা সেদিকে তাকিয়ে বলল,
— বাহ সুন্দর তো।
চিত্রা, মাইরা, মেহু মিলে ঘুরে ঘুরে এপাশ ওপাশ দেখছে । ঠিক তখন ননীর সামনে এসে দাঁড়ায় এলাকার মাস্তান টেরা মামুন। দেখতে একদম চিকনা। একবার তো তুফানের সময় বাতাসের সঙ্গে উরে চলে যাচ্ছিল। তার সাঙ্গ পাঙ্গরা সেদিন কোনো রকমে বাঁচিয়ে ফেলেছিল ।
মামুন হাতের চশমাটা হাতে গোল গোল ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
— কি সুন্দরী আজকাল তো তোমায় দেখাই যায় না। তুমি দেখি ঈদের চাঁদ হয়ে গিয়েছ।
মামুনকে এই সময় এখানে দেখে বেশ বিরক্ত হয় ননী। লোকটা ছয় মাস ধরে তাকে জ্বালিয়ে খাচ্ছে। আগে স্কুল থেকে আসা যাওয়ার সময় অনেক বিরক্ত করত। এখন যা ও স্কুল পাশ করে কলেজে উঠল এখন আবার দেখা।
ননী খ্যাক করে বলল,
— সমস্যা কি আপনার? যখন তখন যেখানে সেখানে আমাকে বিরক্ত করতে চলে আসেন।
— আহা সুন্দরী রাগ করো কেনো? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি। আই লব ইউ ।
ননী ভ্রু কুঁচকে বলে,
— লব??
মামুনের সাথে থাকা আরেকটা ছেলে পেটে গুত মেরে বলল,
— ভাই লব না লাভ হবে।
— ওই লব লস লাভ একই।
ননী এবার মুখ বাঁকায় । জানে না কিছু আবার বলে লব ইউ । মেহু খেয়াল করে ননীকে ঘিরে কয়েকটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে একটা হ্যাংলা পাতলা ছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি যেনো বলছে। মেহু আস্তে ধীরে সেদিকে পা বাড়ায়। ননীর কাছে এসে দাঁড়ায় মেহু । মামুন টেরা চোখে একবার মেহুর দিকে তাকায়, হুট করে এত সুন্দরী মেয়ে দেখে মামুন দাঁত কেলিয়ে মেহুকে বলল,
— ওর থেকে লাভ ফিরত নিয়ে তোমাকে দিলাম সুন্দরী। আজ থেকে আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
ননী তো মামুনের কথা শুনে হা। বলে কি এই পল্টি বাজ ।
মেহু টেরা মামুনের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে যায়। এতে করে মামুনের চোখ চকচক করে উঠে । মনে মনে ভাবে হয়তো মেয়েটা তাকে পছন্দ করে ফেলেছে। মামুন নিজের শার্টের কলার নেড়েচেড়ে দেখায় । হুট করে মেহু ঘটিয়ে ফেলে আরেক কান্ড। নিজের শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে মামুনের গালে ঠাস করে থাপ্পড় মেরে দেয়। আকস্মিক আক্রমনে তাল সামলাতে না পেরে দু দিকে হাত ছড়িয়ে মামুন গোল গোল ঘুরে উঠে। তার হাতের মার খেয়ে সাঙ্গপাঙ্গরা নিচে পড়ে যায়। দূর থেকে মেহুর এমন অগ্নবতী রূপ দেখে হা হয়ে তাকিয়ে আছে চিত্রা, মাইরা।
মামুন এবার তেড়ে এসে মেহুর দিকে আঙুল উচিয়ে বলল,
— এই তুই চিনি আমি কে?
মেহু দুদিকে মাথা নেড়ে বলে,
— না চিনি না । কে তুই ?
মামুন এবার থতমত খেয়ে বলে,
— আমি টেরা মামুন এই এলাকার মাস্তান। তুই যেখানে দাঁড়ায় আছস ওইডা আমার এলাকা। তোর কি অবস্থা করমু দেখ তুই।
মেহু এখনো ভাবলেশহীন । এদিকে ননী ভয়ে কাপছেঁ । মেহু সেভাবেই হাত বুকে গুঁজে এক কদম মামুনের দিকে এগিয়ে বলল,
— নে কি করবি কর। নিজ থেকে চলে এলাম তোর কাছে।
মেহুর এমন উত্তর আশা করেনি মামুন। ভেবেছিল হয়তো মেয়েটা ভয় পাবে। মামুন এবার মেহুর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১৮
— তোরে আমি..
আর কিছু বলতে দেওয়া হলো না তাকে। মেহু আবারো কসিয়ে মারলো এক থাপ্পড় । ঘুরে ঘুরে নিচে ঢলে পড়ে মামুন। এবার মামুন দৌড়ে মেহূর থেকে দূরে গিয়ে আঙুল উচিয়ে বলল,
—- তোকে দেখে নিব আমি। চিনছ আমারে আমি টেরা মামুন । এলাকার মাস্তান ভাই।
মেহু এবার সামনে আগাতে নিলে টেরা মামুন তার দল নিয়ে দৌড়ে পালায়। চিত্রা, মাইরা তো এখনও হা হয়ে তাকিয়ে আছে ।
