মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১৮
তাসনিয়া নুর
আহির মাহির এখনো জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে কোনো শব্দ নেই। সে মুহূর্তে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তাদের সামনে দাঁড়ায় চিত্রা, মাইরা, মেহু । মাহির, আহির ভূত দেখার মতো চমকে উঠে। মাহির হালকা তোতলিয়ে বলে,
— তোরা এতো রাতে এখানে? কেনো? মানে কিভাবে?
চিত্রা হেসে বলল,
— আরে রিলেক্স ভয় পেলে নাকি? কি ভেবেছিলে আমাদের ফাঁকি দিয়ে এতো কিছু করবে আর আমরা জানতেই পারবনা?
আহির সর্তক দৃষ্টির চারপাশ বুলিয়ে বলল,
— তোরা কিভাবে জানলি আমরা এখানে?
চিত্রা, মাইরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসে। মুখে হাসি রেখেই মাইরা বলতে শুরু করে,
— মাহির ভাইয়ার অবস্থা দেখেই চিত্রা আপু কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিল। ভাইয়া আমাদের সামনে যে নিজের মুখ খুলবেনা তাও বুঝতে পেরেছিল। তাই আমরা চলে যাওয়ার নাটক করে লুকিয়ে লুকিয়ে তোমাদের সব কথা শুনে ফেলেছি।
— এখন দাও দশ হাজার টাকা দাও।
চিত্রার কথায় আহির মাহিরের ভ্রু কুঁচকে যায়। দশ হাজার টাকা দিবে মানে? কেনো? মাহির তরিৎবেগে জিজ্ঞেস করে,
— মানে দশ হাজার টাকা কেনো দিব?
চিত্রা মুখে হাত দিয়ে নাটকীয় স্বরে বলে উঠে,
— এমা আমাদের মুখ বন্ধ করার জন্য টাকা দিতে হবে না? এখন যদি বড় আব্বু তারপর সকলকে জানিয়ে দেই? তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা?
আহির বেশ বুঝতে পারল এদের ছলাকলা । সব হচ্ছে টাকা হাতানোর ধান্দা। আহির বিড়বিড় করে বলল,
— কালনাগিনী সব । যেই সুযোগ পেয়েছে অমনি ছোবল মেরে দিয়েছে । শালা ঘষেটি বেগমের বংশধর ।
— কি হলো টাকা দাও।
আহির এবার রেগে বলল,
— তোর জন্য প্যান্টের ভিতর টাকার হাড়ি নিয়ে নিশ্চই ঘুড়ে বেড়াচ্ছি না আমি । আগে এই ছাগলের বস্তা ধর আমরা এই দশ মন আলুর বস্তাটাকে ধরছি । বাসায় গিয়ে টাকা পেয়ে যাবি।
চিত্রা আর কথা বাড়ায় না। এমনিতে এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা তাদের জন্য নিরাপদ না। চিত্রা, মাইরা, মেহু মিলে বস্তাটা তুলে সামনে হাটতে থাকে তাদের পিছন পিছন আহির, মাহির আবইয়াজকে নিয়ে আসছে।
বাড়ির কাছে পৌঁছাতেই সস্ত্বির শ্বাস ফেলে । গেট খুলে উকি মেরে তাকিয়ে আছে ফাহিম। দারোয়ান জহির এখনও ঘুমে কোপকাত । আহির খুব কৌশলে চায়ের মধ্যে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে তাকে খাইয়ে দিয়েছিল ।
সবাইকে আসতে দেখে ফাহিমের মুখে হাসি ফুটে।এতক্ষণ ধরে চিন্তা করছিলো অবশেষে স্বস্তি এলো মনে । পরক্ষণেই আবইয়াজকে দেখে ভ্রু কুঁচকে যায়, এর আবার কি হলো? হেঁটে হেঁটে কেনো ঘুমাচ্ছে?
আসলে ফাহিম সহজ সরল একটা ছেলে যাকে বলা হয় অতিরিক্ত সহজ সরল। এ বাড়িতে গত কয়েক বছর ধরে থাকছে , বয়স বেশি না সতেরো কি আঠারো।
মাহির এগিয়ে এসে ফাহিমের দিকে তাকিয়ে ফিস্ফিস কন্ঠে বলল,
— কেউ কিছু টের পায়নি তো?
ফাহিম দাঁত কেলিয়ে দুদিকে মাথা নাড়ে । তারপর সবাই ধীর পায়ে ঘরে প্রবেশ করে। যাওয়ার আগে অবশ্য ছাগলের বস্তাটা ফাহিমের হাতে ধরিয়ে দিয়ে গিয়েছে। আহির, মাহির আস্তে করে আবইয়াজকে তার বেডে শুইয়ে দেয় । ইশ দুজনের কোমর বুঝি এই যাত্রায় গেল।
যে যার যার রুমে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। কত মহৎ কাজ করে এসেছে আজকে তাই একটা শান্তির ঘুমের প্রয়োজন।
সকাল এগারোটা। আবইয়াজ চোখ কঁচলে করিডর দিয়ে হেঁটে আসছে। লাগছে মাথার ভিতর মৌমাছি কেমন ভোঁ ভোঁ করছে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় লক্ষ্য করে আহির, মাহির কি নিয়ে যেনো ফিসফাস করছে। পিছন থেকে আহিরের পিঠে ধুম করে কিল বসিয়ে বলল,
— মেয়েদের মতো কি এমন খুসুর ফুসুর করছিস?
—- অবশেষে তাহলে ঘুম ভাঙলো মহামতি অজগরের ।
এই মাহিরের স্বভাবটা বেশ বিরক্ত লাগে আবইয়াজের। তার এতো সুন্দর নামটাকে বিক্রিয়া না করলে এই ছেলের পেটের ভাত হজম হয় না। কখনও আবহাওয়া কখনও বা অজগর আরো না জানি কি কি ।
আবইয়াজ ধ্বপ করে সোফায় বসে বলল,
— জানিস কালকে স্বপ্নে দেখেছি আমরা ছাগল চুরি করতে গিয়েছি। আর এই মাহির হাদা ক্লোরোফর্ম আমার নাকে দিয়ে বলে দেখতো কাজ করছে কিনা।
আবইয়াজ এবার হাসতে আরম্ভ করে । কিন্তু আহির, মাহিরকে নির্লিপ্ত বসে থাকতে দেখে ভ্রু বাঁকায় । এতো হাসির কথা বলল ছেলে দুটা হাসল না কেনো?
হঠাৎ মাহির এবার আবইয়াজের দিকে তাকিয়ে নাটকীয় স্বরে হেসে বলল,
— হে হে হেহেহে , আর তুমি বলদের মতো সেই ক্লোরোফর্ম শোঁকে বলেছিলে হ্যাঁ ঠিকঠাকই আছে।
আবইয়াজ সন্দিহান চোখে মাহিরকে জিজ্ঞেস করে,
— তুই কিভাবে জানলি আমার স্বপ্নের কথা?
মাহির আবারো একই স্বরে বলল,
— কারণ কালকে রাতে আমি ট্রেনের টিকেট কেটে তোর স্বপ্ন থেকে টুর দিয়ে এসেছি।
আবইয়াজ দাঁড়িয়ে পড়ে, এদের সাথে থেকে সকাল সকাল নিজের মুড খারাপ করতে চায়না। তাই মুখ ভেংচি কেটে উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরে । কিন্তু মাথায় কিছুতেই ঢুকছেনা মাহির কিভাবে তার স্বপ্নের কথা জানল । আরেকটু সামনে যেতেই ছোটখাটো কিছু একটার সাথে ধাক্কা খায় সে।মাঝ রাস্তায় খাম্বা আসলো কোত্থেকে দেখার জন্য মেহু মাথা উচিয়ে দেখে তার সম্মুখে আবইয়াজ দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও পরমুহূর্তে মেহু ফট করে বলল,
— এভাবে মাঝ রাস্তায় খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? কালকে রাতের ডোজ কি এখনো মাথা থেকে বের হয় নি?
আবইয়াজ হা হয়ে তাকিয়ে ভাবে এই পিচ্চি বলে কি সে নাকি খাম্বা। আবইয়াজ হালকা রেগে আঙুল উচিয়ে বলে,
— আমি খাম্বা নাকি তুই লিলিপুট কোনটা? আর এভাবে অন্ধ কানার মতো রাস্তায় হাটলে তো যেখানে সেখানে বারি খাবি ই। আবার আসছে আমাকে খাম্বা বলতে হুহ ।
এই লোকের কতবড় সাহস তাকে লিলিপুট বলছে। মেহু দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
— সারারাত অন্যের ছাগল চুরি করে এখন ঘুমের ঘোড়ে নিজে ঢলোঢলো পায়ে হাটছে আর আমাকে বলে কিনা আমি নাকি কানা।
দেখি সরো সামনে থেকে যত্তসব ।
মেহু চলে গেলেও তার মাথায় এখনো কথাটা বাজছে সে চুরি করতে গিয়েছিল। হুট করে আবইয়াজের মনে পড়লো আরে হ্যাঁ কালকে রাতে তো তারা গিয়েছিল তারপর সে বেহুশ হয়ে যায় তারপর? তারপর?
তাই তো মাহির এভাবে কথা বলছিল। আবইয়াজ আর দেরি না করে এক দৌড়ে আবারো আহির, মাহিরের কাছে চলে যায়।
বাড়ির চারদিকে মাংসের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে ।চিত্রার বড় মামা খলিল আহমেদ ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললেন,
— আহা সারা ঘর ঘ্রানে মৌ মৌ করছে । ঘ্রাণেই তো পেট ভরে যাচ্ছে।
আফিয়া বেগম হালকা হেসে বললেন,
— আজকে ফাহিম বাজার থেকে আস্ত একটা খাসি নিয়ে এসেছিল।
খলিল আহমেদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
— কিন্তু ও টাকা পেলো কই? আমি তো দেই নি।
আফিয়া বেগম হেসে নিজের কাজে মনোনিবেশ করতে করতে বললেন,
— বাচ্চারা আনিয়েছে ।
খলিল আহমেদ আর কিছু বললেন না। একে একে সবাই ডাইনিং টেবিলে এসে উপস্থিত হয়। বর্ষা বেগম ফাহিমকে ডেকে বললেন,
— ফাহিম মাংসের পাতিলটা নিয়ে আয় তো।
— হ মামি আনতাছি ।
কথাটা বলে একটা হাঁচি দেয় ফাহিম। কালকে রাতে শীতে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে ভালোই ঠান্ডা লেগেছে । পাতিলটা হাতে নিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে । ডাইনিং টেবিলের সামনে পৌছাতেই হুট করে জুড়ে একটা হাচিঁ দিয়ে দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় ফাহিমের নাকের শ্লেষ্মা গিয়ে পরে একদম হাতে থাকা মাংসের পাতিলে।খাওয়ার সময় এমন দৃশ্য দেখে হতবম্ব হয়ে যায় সবাই।
এমন দৃশ্য দেখে মাহিরের বমি বের হয়ে আসার উপক্রম । চিত্রা তো ইতোমধ্যে সেখান থেকে কেটে পরেছে। খলিল আহমেদের মুখের রঙ পাল্টে গিয়েছে তার খানা খাওয়াই আজকে শেষ ।
আফিয়া বেগম ফাহিমের মাথায় চাটা মেরে বললেন,
— কি করেছিস এটা বাপ, পুরো মাংসটা নষ্ট করে দিলি।
— না মামী নষ্ট কেন হইবো যেনে পড়ছে হেনতে তুইল্লা লাইলেই তো বাকিডা খাইতে পারবেন।
ফাহিমের উত্তরে আরো একটা বাজ পড়লো ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত সকলের মাথায়। বলে কি এই ছেলে এই মাংস নাকি আবার মানুষ খাবে। মাহির আর বমি আটকাতে পারল না। এক দৌড়ে উপরে চলে যায়।
আর এদিকে ফাহিম মাথা চুলকে ভাবে সে খারাপ কি বলল?
পাশে থাকা কাজের মহিলা জরিনা ফাহিমের মাথায় থাপ্পড় মেরে বলল,
— বলদ একটা।
সেই কাহিনীর পর সকলের খাবার খাওয়া মার্ডার হলো । এমন জ্যান্ত দৃশ্য দেখে কার গলা দিয়ে খাবার নামবে?
সময় আরও কিছুক্ষণ গড়ালো। বাসায় কেউ আড্ডা দিতে ব্যস্ত আবার কেউ কাজে। সেই মুহূর্তে বাড়িতে হাজির হলেন তুলি বেগম। গ্রামে সবাই তাকে একনামে চিনে সেটা হলো কূটনি তুলি । এ পাড়ার খবর ওই পাড়ায় ওই পাড়ার খবর এই পাড়ায় লাগানোই তার সারাদিনের কাজ। স্বয়ং তুলি বেগমকে তাদের বাড়ি আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে যায় আফিয়া ও বর্ষা বেগমের । এই মহিলা কোন উদ্দেশ্যে আবার এখানে এলো কে জানে। তুলি পান চিবাতে চিবাতে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— শুনেছ কিছু? মতলব মিয়ার ওই কাইল্লা ছাগলডা কে জানি চুরি কইরা নিয়ে গেছে। খালি কি তাই, মতলব মিয়ার দাড়ি মুছ এক সাইড দিয়া কাইট্টা হালাইছে চুলের ও একই দশা। কপালে আবার একখান বড় কালা টিপ পরায় দিয়া গেছে। সারা মুখ আইক্কা রাখেনাই ।
বর্ষা বেগম মুখে হাত দিয়ে অবাক হয়ে বললেন,
— বলেন কি? এসব আবার কে করল?
— আরে বেডি আবার নাকি পিছনে ইচ্ছা মতো মাইরা গেছে। বেডা তো হাঁটতেই পারতেছনা । আর মতলবের বউ যে মুটকি নিজেই চলতে পারে না জামাইরে কি দেখব । আহারে গোলামের পোতের কপালডা পুড়লো ।
তুলি আরো কিছুক্ষন কথা বলে হাই হুতাশ করে চলে গেল। আহির, মাহির, আবইয়াজ সব কথা আড়াল থেকে শুনলো। এখন মিটিমিটি তারা হাসছে।
মাহির খুশি মনেই বলল,
— তাহলে তো গিয়ে মতলব মিয়ার আজহারি দেখে আসতে হয়।
আহির, আবইয়াজ আস্তে করে উপর নিচ মাথা নাড়ায় ।
বিলের সরু রাস্তা দিয়ে হেটে চলেছে আহির, মাহির, আবইয়াজ । উদ্দেশ্য মতলব মিয়ার চোখের পানি দেখে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করবে। কিন্তু ওরা তো বুঝতে পারেনি ওদের সাথে কি হতে চলেছে।
মতলব মিয়ার বাড়ির সামনে গিয়ে শুনতে পেলো ওনার আজহারি ।
— ওরে আমার কাইল্লা তুই কই গেলি। চোর তুই আমার কাইল্লারে চুরি করে কই নিলি রে। দরকার হইলে আমার বউ, বাড়ি, সম্পত্তি, গয়না নিয়ে যাইতি তাও আমার কাইল্লারে ক্যান নিলি ।ও কালু রেএএএ.. ।
এবার বউয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
— কালকে তরে কত কইরা কইলাম জানালাডা লাগা বাইরের গেটটা দিয়া আয় । তুই একটা কথা হুনলিনা মুটকি।
মতলব মিয়ার আজহারি শুনে হাসিতে কুটিকুটি অবস্থা আহির,মাহির, আবইয়াজের । আবইয়াজ হাসতে হাসতে পাশে তাকিয়ে দেখল একটা কুকুর তার দিকে তাকিয়ে আছে। আবইয়াজ ঠোঁট কামড়ে বলে উঠে,
— এভাবে কি দেখিস হ্যাঁ? যা ভাগ ।
কুকুরটা কি বুঝল কে জানে । হঠাৎ ঘেউ ঘেউ করে আবইয়াজের দিকে তেড়ে আসে। আবইয়াজ প্রথমে শু করল কিন্তু পরক্ষণে অবস্থা বেগতিক দেখে দৌড়াতে আরম্ভ করে । হঠাৎ ঘটনায় হতবম্ব হয়ে যায় উপস্থিত সকলে । আবইয়াজ চারদিকে দৌড়াতে আছে তার পিছন পিছন দৌড়চ্ছে কুকুরটা ।
সৎবিত ফিরতেই আহির চিৎকার করে বলে,
— আরে কেউ কুকুরটাকে থামাও ।
অপর পাশে থাকা এক লোক থমথমে গলায় উত্তর দেয়,
— ওর নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
আহির দাতঁ খিচে বলল,
মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ১৭
— কুত্তার নাম নাকি আবার রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
ঠিক তখন দূর থেকে আবইয়াজ চিৎকার দিয়ে বলে,
— কুকুরটাকে কেউ থামা।
দৌড়াতে দৌড়াতে একপর্যায়ে আবইয়াজ বাঁচার কোনো রাস্তা না পেয়ে শেষমেষ সামনে থাকা পুকুরে ঝাপ দেয় । একে তো কনকনে শীত তার মধ্যে পুকুরের পানি হিমালয়ের বরফ ব্যতিত আর কিছুই মনে হলো না আবইয়াজ কাছে।
অন্যদিকে মাহির দু দিকে মাথা নেড়ে বলে,
— পাপ বাপকে ও ছাড়ে না।
আহির কটমট দৃষ্টিতে মাহিরের পানে তাকায় ।
