মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৩ (২)
jannatul firdaus mithila
“ নিষ্পাপ মায়ের শাস্তি যদি ছেলেকে দেওয়া হয়, তাহলে দোষী বাবার শাস্তি কেন তার মেয়েকে দেয়া যাবে না আম্মা? আমার মনে হয় না আমি ভুল করছি! তাহলে ওকে মে’রে ফেলতে পারছিনা কেন? ওকে মা-রার জন্য বন্দুক তুললেই বুক কাপেঁ কেনো আম্মা? নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় কেন? আম্মা! একটু বলবেন আম্মা?”
দেয়ালে টানানো প্রাণহীন ছবিখানা প্রতিত্তোরে নিশ্চুপ! যুবকের বাদামী চোখদুটো কেমন টলমল দৃষ্টে চেয়ে আছে সেদিকে। বলিষ্ঠ দেহখানা টলছে তার! উষ্কখুষ্ক চুলগুলো ঘামে ভিজে-নেয়ে লেপ্টে আছে ললাটের অগ্রভাগে। যুবক পাত্তা দিলোনা তাতে। রয়েসয়ে নিজ ডান পা’টা আলগোছে ছড়িয়ে দিলো সম্মুখে, বাম- পায়ের হাঁটু উঁচিয়ে, ফ্লোরে ঠেকিয়ে রাখা হাতদুটোয় ভর ছাড়ঁল শরীরের। তামাকে পোড়া বাদামী অধরযুগলের নিখুঁত রেখা টানটান তার! চোখেমুখে এক অদ্ভুত চাপা দুঃখ। সে নিজের দৃষ্টি নত রেখে কেমন মোটা কন্ঠে আওড়াল —
“ ওর….কি যেন একটা নাম আম্মা! আপনি তো জানেনই — আমি কারো নাম মনে রাখতে পারিনা। ওরটাও মনে থাকেনা। প্রথমবার যেদিন ঐ বান্দীর মেয়েকে দেখেছিলাম, সেদিন ওর চোখে চশমা ছিল। দেখে মনে হয়েছিল — সদ্য ঘুম থেকে উঠেছে। মাথার চুলগুলো ছিল বড্ড এলোমেলো। ওর ঐ চোখদুটো! কেমন অদ্ভুতভাবে ভয় পেত আমায় আম্মা। তবে দিন যত পেরুলো, ওর চোখ থেকে আমার জন্য ভয় সরে গেল। আমার এতো এতো অত্যাচার সহ্য করেও আমার বোকা চাশমিস আমায় ভয় পায় না আম্মা! আশ্চর্য হই মাঝেমধ্যে, ও আমায় ভয় পায় না কেন আম্মা? যেখানে আমার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস হয়না কারো, সেখানে ও আমার মুখে মুখে তর্ক করে। আর আমি? হতবিহবলের মতো স্রেফ তাকিয়ে থাকি ওর দিকে। আমি জানি না আমার সাথে এমন কেন হচ্ছে! আমার তো ওকে মে’রে ফেলার কথা! তবুও ওকে বাঁচিয়ে রাখছি কেনো সেটারও তো উত্তর পাচ্ছি না আম্মা। মাঝেমধ্যেই ও আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে জানেন? ঠিক যেমনটা আগে আপনি ভাসতেন! কিন্তু আপনি এমনটা ভুলেও ভাববেন না যে আমি ওর প্রতি দূর্বল। উহুঁ ঐ বান্দীর মেয়ের প্রতি আমার কোনো দূর্বলতা নেই। হ্যাঁ মানছি, ওর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে আমার সহ্য হয়না। কিভাবেই বা হবে বলুন? নিজের কোনো কিছুর প্রতি অন্য কারো দখলদারিত্ব যে আমার সহ্য হয়না! হোক না সেটা আমার পছন্দের কিংবা অপছন্দের। তবুও সেটা আমার তো! তাহলে আমার জিনিসপত্রের দিকে অন্য কেউ চোখ তুলে তাকাবে কেন আম্মা?”
বোবা ছবি এবারেও নিশ্চুপ। যুবক ঘনঘন নিশ্বাস ফেলে চোখ মুদলো খানিক। মুহুর্তেই বন্ধ চোখের পাতায় আবছা আবছা ভেসে উঠল অতীতের বিষাক্ত কিছু স্মৃতি। অপ্সরাকে পোড়ানো হচ্ছে! আগুনের হিং স্র উত্তাপে ঝলসে যাচ্ছে রমণীর পাতলা ত্বক। ছ’বছরের নাদুসনুদুস বাচ্চাটা হাউমাউ জুড়ে কাঁদছে ঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। সে কেমন হাত-পা ছুড়ছে দেখো! চারটে বলিষ্ঠকায় লোক শক্ত হাতে আঁটকে রেখেছে ছোট্ট ছেলেটাকে। কেউ একজন মুখ নামিয়ে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে —
“ ডাক মা! এবার মা ডাক! দেখি উঠে কি-না। ডাক ঐ বে’শ্যাকে!”
তক্ষুনি নিজ কানদুটোর ওপর হাতের তালু চেপে ধরে মুগ্ধ! রুক্ষ আঙুলের চাপায় কচলে ধরে কানের পাতলা আবরণ। ভাব এমন — যুবক বুঝি এক্ষুণি ছিঁড়ে ফেলবে তার কানদুটো। থরথর করে কাঁপছে বলিষ্ঠ পুরুষের পাহাড়সম দেহ! সুশ্রী গৌরবর্ণা মুখখানা রঙ ধরেছে লালাভ আবরণে। অপূর্ব সৌন্দর্যে মন্ডিত গলার উঁচু হাড়খানা সামান্য নাড়িয়ে যুবক ঢোক গিলছে শুষ্ক। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অনবরত আওড়াতে লাগল,
“ না না..আমার আম্মা খারাপ না। আম্মা! আপনি চিন্তা করবেন না, আ..আমি ওদের বিশ্বাস করিনা।”
কন্ঠস্বর কাঁপছে মুগ্ধের। বুকটা করছে চিনচিন। কানদুটোয় এখনো বাজছে অতীতের তীক্ষ্ণ কথাগুলো! কারা যেন গাল বাকিয়ে বলে যাচ্ছে,
“ হায় হায়! ওর মতো বে’শ্যা নাচঁনেওয়ালির অপবিত্র দেহটা এখানে পোড়াচ্ছে কারা? এ কেমন অলক্ষুনে কান্ড লা! এই কে কোথায় আছিস? কলসি ভরে পানি ল। এই কালমুখী, কলঙ্কিনীরে উঠা! ছিহঃ ছিহঃ অপবিত্র করে দিলো শ্মশানটা।”
শ্মশান ভীড়ের মাঝে দাড়িয়ে থাকা ছোটো বাচ্চাটা কেমন অবোধের ন্যায় দেখছে সব। তার চোখের সামনে তোলা হচ্ছে আধপুড়োঁ মায়ের লা’শ। ইশশ্! সে-কি বিভৎস দৃশ্য। বাচ্চাটা ভয়ে জ্ঞান হারাবে হারাবে ভাব। ঠিক তখনি একখানা শক্তপোক্ত পা এসে আচমকা লাথি বসালো বাচ্চাটার বুক বরাবর। এহেন অতর্কিত আক্রমণে তক্ষুনি ভীড় ঠেলে পেছনে ছিটকে পড়ল নাদুসনুদুস বাচ্চাটা। বুকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যথায় ছটফটাচ্ছে নিষ্পাপ শিশু। তার মুখগহ্বর থেকে কেমন অঝোরে ঝরতে লাগল লহু! সম্মুখের নির্দয় মানব গটগটিয়ে এগিয়ে এসে আচমকা পা তুলল নাদুসনুদুস বাচ্চাটার গায়ে। নিজের ব্যুট জুতোর মোটা পাটাতনে বাচ্চাটার পেট বরাবর পিষতে পিষতে কটমটিয়ে বলে,
“ বে’শ্যার ছেলে আর কতটুকু ভালো হবে? মা নিজেরটা বেচে খেয়েছে, ছেলেও বড় হয়ে তাই করবে। শত হলেও কলকাতার বিখ্যাত নাচনেওয়ালীর ছেলে বলে কথা!”
বাচ্চাটা কাতরাচ্ছে ব্যথায়! চিৎকার জুড়ে ডাকছে…
“ আম্মা!!!!”
সম্মুখের নির্দয় মানব চোয়াল শক্ত করলেন। চোখেমুখে স্পষ্ট আগুন লেপ্টে বাচ্চাটার পেটের ওপর থেকে পা সরিয়ে ফের আচমকা লাথি বসালেন সেথায়। মুহুর্তেই এক বিকট চিৎকারে জ্ঞান হারায় ছ’বছরের ছোট্ট শিশু। দেহের অনিয়ন্ত্রিত ব্যথায় তার চোখদুটো যখন প্রায় নিবুনিবু ঠিক তখনি সম্মুখের নির্দয় মানব দাঁত কটমট করতে করতে বলে,
“ এ্যাই! সাপের বাচ্চাটাকে গাড়িতে তোল! আর তায়েফ সাহেব..”
শেষটুকু আওড়াতেই ভীড় ঠেলে বেরিয়ে আসেন এক সুদর্শন যুবক। গায়ে তার বাংলাদেশী পুলিশি পোষাক। মাথায় ক্যাপ, বুকের কাছের পকেটটায় চারটে সম্মানিত লগো। যার ঠিক নিচে গোটা গোটা অক্ষরে খোদাই করে লিখে রাখা — জনাব তায়েফ এহসান। আদর্শবান পুলিশ মহোদয় এগিয়ে এসেই গালভর্তি হাসি টানলেন কেমন। একটিবার ফিরেও তাকালেন না ধুলোপড়া মেঝেতে রক্তা*ক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা নিষ্পাপ বালকের পানে। সে উল্টো হাসি মুখে হাত বাড়ালেন অপর নির্দয় মানবের দিকে। নির্দয় পুলিশ কর্মকর্তা তক্ষুনি হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে চেপে ধরলেন তায়েফ সাহেবের হাতখানা। ভরাট গদগদকণ্ঠে শুধালেন,
“ ধন্যবাদ আপনাকে! আপনি না থাকলে ঐ বে’শ্যা আর তার নাগরদেরকে ধরাই যেত না! উই আর রিয়েলি থ্যাংকফুল টু ইউ্য।”
নিবুনিবু বাচ্চা চোখদুটো শেষবারের মতো দেখল ঐ ঘৃণিত ব্যাক্তির হাসি মুখখানা। অতঃপর জ্ঞান হারায় সে। তবুও খাঁড়া কানে স্পষ্ট শুনল আশেপাশের মানুষের গুঞ্জন!
“ চেহারা থাকলেই হয় লা? শুনলাম রোজ নাকি নতুন নতুন নাগরদের বিছানা গরম করত। পোলাটার বাপেরও তো মনে হয় ঠিক-ঠিকানা নেই। কার না কার পঁ*চা র*ক্ত! থুঁ!”
আচমকা বিষাক্ত অতীতের ডোর ছিঁড়ে বর্তমানে আবির্ভূত হলো মুগ্ধ। কাঁপতে কাঁপতে তক্ষুনি দু’হাতে চেপে ধরল নিজ মস্তক। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অসহায়ের মতো আওড়াল —
“ আমার আম্মা নির্দোষ! আমার.. আমার আম্মা খারাপ না। আম্মা..আম্মা!”
কানদুটোয় এখনো বাজছে অতীতের বিষাক্ত বুলি! যুবক আর পারছেনা সহ্য করতে। কথাগুলো যেন আর শুনতে না পায় সে উদ্দেশ্যে নিজ শক্তপোক্ত হাতের একের পর এক চপেটাঘাত বসিয়ে যাচ্ছে নিজেরই কানে, গালে। সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে গেল যুবকের ফর্সা মুখ এবং কান! অথচ তার কানদুটো এখনো বাজছে। মুগ্ধ দিকবিদিকশুন্য এপর্যায়ে। উপায়ন্তর না পেয়ে তক্ষুনি এলোমেলো দৃষ্টি ছুড়ঁল এদিক-ওদিক। হাতের কাছে পেল কেবল হুইস্কির মোটা কাঁচের বোতলখানা। যুবক আর একমুহূর্তও ভাবল না। মুহূর্তের উন্মত্ততায় কাঁচের বোতলখানা তুলে নিয়ে নিজের কপালেই সজোরে ঠুকে দিল। পরমুহূর্তেই চৌচির শব্দে মুগ্ধের মাথা বরাবর ফেটে গেল কাঁচের বোতলটা। থেঁতলে গেল কপালের পাতলা চামড়া।
চূর্ণবিচূর্ণ কাঁচের টুকরোগুলো কিছু কিছু আশেপাশে ছিটকে পড়লেও বেশিরভাগ গেঁথেছে যুবকের কপাল, মাথায়! চামড়া ফেটে ফিনকি দিয়ে গড়াচ্ছে উষ্ণ তাজা লহু। এতক্ষণে বোধহয় কানে বাজতে থাকা শব্দগুলো কিছুটা প্রশমিত হলো। যুবক ব্যপক স্বস্তিতে গা এলিয়ে বসল আবারও। তার মুখখানার হয়েছে বেহাল দশা! সর্বমুখে লেপ্টে আছে লহু! সফেদ রঙা দাঁতগুলোর ঝকঝকে ভাব সরে গিয়ে সেথায় লালচে আভা ছেয়ে গিয়েছে। কপালের ওমন থেঁতলে যাওয়াতেও খুব একটা পাত্তা দেয়নি মুগ্ধ। উল্টো গম্ভীর চোয়ালে মুখ তুলে তাকায় সম্মুখে। সহসা যুবকের লাল চোখদুটো থমকায় অদূরের দেয়াল পানে। মায়ের করুণ মুখখানা আবারও দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে যুবকের। পরক্ষণেই অস্থির হয় তার চিত্ত। মায়ের পানে কিয়তক্ষন একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে, দু’হাতে হামাগুড়ি দিতে দিতে এগোয় মুগ্ধ। ছোট বাচ্চাদের মতো এগিয়ে এসে চট করে দু-হাটুঁ সমান করে বসল দেয়াল ছবিটার পদতলে। উম্মাদের ন্যায় নিজ গায়ে হাতড়ে হাতড়ে যুবক কেমন পাগলের ন্যায় শুধিয়ে গেল,
“ আম্মা! আমি ওদের সবকটাকে মে’রে ফেলেছি আম্মা! যারা আপনাকে বাঁচতে দেয়নি, আমি সবাইকে মে’রে ফেলেছি। এখন.. এখন শুধু বাকি আছে ঐ জানোয়ারের বাচ্চা রেপিস্টটা। আম্মা..আপনি চিন্তা করবেন না। আপনার আগামী মৃত্যু বার্ষিক আসার আগেই আপনার চরণে ঐ জানোয়ারের বাচ্চার মাথা থাকবে। সঙ্গে থাকবে ওর সবচেয়ে বড় দূর্বলতার ছাই! ওর মেয়ের দেহের ছাই! আমি ওদের মারবই। কথা দিচ্ছি আম্মা! আপনার আগামী মৃত্যু বার্ষিক আসার আগেই ওদের আমি মে’রে ফেলব।”
থামল যুবক! কয়েক দন্ড নিস্তব্ধ নীরবতায় কাটলো তার! বুকের বাঁপাশটা বড্ড চিনচিন করছে এমুহূর্তে। নিশ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছে খুব! যুবক রয়েসয়ে ঘাড় উঁচিয়ে তাকালো সম্মুখে। ঝাপসা চোখের কোটর বেয়ে আচমকা টুপ করে গড়িয়ে পড়ল একফোঁটা অশ্রু। এ যে এক অবিশ্বাস্য কান্ড! দ্য গ্রেট মনস্টার কাঁদল? মায়ের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলল? তার ভেতরে অতি সন্তপর্ণে লুকায়িত সত্তাটা বুঝি একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে আজ। তবে শক্তপোক্ত যুবক কি আর ওতো সহজে নিজের হাল ছাড়ে? নিজেকে আজ বড্ড কায়দা করে আঁটকে রেখেছে সে। কিছুক্ষণ ঠোঁট ফুলিয়ে চুপ থেকে আচমকা মাথা তুলে বলে ওঠে,
“ গান শুনবেন আম্মা? ঐ যে আপনার পছন্দের গানটা, যেটা আপনি রোজ গাইতেন চুল আঁচড়ানোর সময়। আজ আমি গাই আম্মা? আপনি শুনবেন তো?”
এমুহূর্তে শক্ত মানব ভাব ধরেছে পাগলের! নয়তো কেউ থোড়াই একখানা প্রাণহীন ছবির সাথে ওতো কথা বলে! যুবক উত্তরের অপেক্ষায় রইল না। নিজ উদ্যোগে হাঁটুতে সামান্য ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ায় কোনরকম। টলমল কদমে এগিয়ে যায় অদূরের কালো রঙা পিয়ানোর ধারে। মাথার ওপর ঝলমলে ঝাড়বাতি। নিস্তব্ধতায় মোড়ানো তার চকচকে দেহ। যুবকের নিপুন ট্যাটুশেলীতে অঙ্কিত ডানহাতখানা একটু একটু ছুয়ে দিচ্ছে পিয়ানোর গা। কালো রঙা পিয়ানোটার গঠন বড্ড পুরনো ধাঁচের। অথচ ওতো পুরনো পিয়ানোটার গা কেমন চকচক করছে মোমবাতির মৃদু আলোয়। যেন কারো যত্নশীল হাত রোজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে যায় প্রাণহীন বাদ্যযন্ত্রটাকে। মুগ্ধ নরম দৃষ্টে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। রয়েসয়ে পা ঘোরালো সম্মুখে। গুটি গুটি কদমে এগিয়ে এসে বসল কাঠের টুলের ওপর। অতঃপর ট্যাটুশৈলীতে অঙ্কিত দু’খানা শক্তপোক্ত হাত তাদের আঙুলের পটুত্বে পিয়ানোর চাবিতে টুংটাং শব্দ তুলতে লাগল। সে-কি দক্ষ করুণ সুর তার! শূন্য কামরার প্রতিটি দেয়ালে বাজছে পিয়ানোর কান্না। ছলছল বাদামী চোখদুটো আলগোছে দৃষ্টি উঁচিয়ে তাক করল অদূরের অপ্সরার ছবির পানে। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মুচকি হাসির রেশ টেনে মুগ্ধ এবার সুর তুলল কন্ঠায়! এক নিদারুণ নিষ্ঠুরতা ছাড়িয়ে বড্ড দক্ষ কন্ঠে গাইতে লাগল —
“ মনে হয় তবু বারে বারে….
এই বুঝি এলে মোর দ্বারে….. ২”
ভোর গড়িয়ে সকাল নেমেছে বড্ড আগে। অথচ বাইরের বিপুল তুষারপাত স্থগিত হবার নামগন্ধও নেই! আকাশের বুক চিঁড়ে তুলোর মতো হালকা সাদা কণাগুলো ধীরে ধীরে ঝরে পড়ছে ধরণীর বুকে! বিশালাকার কাঁচঘেরা ঘরটার চারদিকে ধূসর-সাদা আলোর আবছা আস্তরণ। স্বচ্ছ ট্রান্সপারেন্ট দেয়ালের গায়ে জমে থাকা শিশির কণা এবং পাতলা বরফের রেখাগুলো কেমন বেয়াদবের ন্যায় অদূরের দৃশ্যকে ঝাপসা করে তুলেছে দেখো! নিজেদের দাপুটে আবির্ভাবে সম্পূর্ণ গ্লাস হাউজটাকে বাইরে থেকে বানিয়েছে এক স্বপ্নের রাজ্য!
গ্লাস হাউজের বিশালাকার জিমরুম! নাম তার — মনস্টার’স জিম রুম। কক্ষের চারপাশে সারি সারি আধুনিক জিম ইকুইপমেন্ট! একপাশে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেডমিল। ট্রেডমিলের মোটা মোটা কালো বেল্টগুলো সম্পূর্ণ স্থির। অদূরের ম্যাটে অবহেলায় পড়ে আছে ধাতব ডাম্বেল গুলো।
সময় গড়াচ্ছে আপন গতিতে। জিম রুমের একপাশের সিলিং থেকে ঝুলে থাকা কালো স্ট্র্যাপ দুটো দু’হাতে পেঁচিয়ে, শূন্যে শরীর ভাসিয়ে ব্যায়ামে মগ্ন মুগ্ধ। দু’হাতের অসামান্য জোরে শরীর একবার ওপরে আরেকবার নিচে নামছে। বলিষ্ঠ শরীরের সে-কি ব্যালেন্স তার। অত্যাধিক শারিরীক কসরতের ফলে ঘেমে-নেয়ে একাকার দেহখানা! প্রতিটি মুভমেন্টে তীক্ষ্ণভাব ফুটে উঠছে বলিষ্ঠ বাহু দু’টোর ফুলেফেঁপে থাকা মাসেলগুলো। প্রশস্ত পিঠের পেশিগুলো টান খেতেই মধ্যাঞ্চলে বারবার দেখা যাচ্ছে প্রজাপতির ডানার ন্যায় বিস্তৃত রেখা। নাভির নিচে আলগাভাবে ঝুলে থাকা কালো রঙা ট্রাউজারের ফাঁকে কোমরের টানটান দুটো গড়ন যেন বেশ চোখে পড়ছে। যুবক নিজ কাজে মত্ত! ঠিক তখনি জিম-রুমের স্বচ্ছ কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল এডউইন। গম্ভীর মুখে পা বাড়াল মনস্টারের দিকে। মধ্যকার দুরত্বের ফারাক বেশ খানিকটা রেখে সময় নিয়ে স্থির হলো তার পাদু’টো। গম্ভীর মুখে কন্ঠে আওয়াজ তুলে বলল,
“ মনস্তার! গতরাতে প্যারিসের যে- দুটো জাহাজ এসে থেমেছিল বর্ডারে, সেগুলো এখনই নিজেদের দখলে নিব কি-না তা জানতে চাচ্ছে ডিলারস। আপনার অর্ডারে কনফারেন্স শুরু হয়েছিল আরও ঘন্টা খানেক আগে বাট আপনি আসেননি। ডিলারস আর স্টিল ওয়েটিং ফর ইউ্য।”
কসরতে মগ্ন মুগ্ধ, এডউইনের এহেন কথা কর্ণকুহরে পৌঁছান মাত্রই কপালের সুক্ষ্ম রেখায় ভাঁজ পড়ল তার। ঘর্মাক্ত মুখাবয়বে দেখা মিললো চরম অসন্তোষ! যুবক নিজ কাজ অব্যহত রেখে গমগমে গলায় ভীষণ কনফিডেন্সের সাথে বলে উঠল,
“ ওদের বলে দে এডউইন, ওদের বাপ এখন ওয়ার্ক আউটে ব্যস্ত! শত হলেও এমন একটা হ্যান্ডসাম বডি আমার, যা নিয়ে আমি কিন্তু মোটেও অবহেলা পছন্দ করিনা! সো ওদের বল — ওয়েট করতে! মনস্টার ইজ বিজি নাউ।”
নতমস্তকে মিটমিটিয়ে হাসল এডউইন। মনস্টারের প্রতিত্তোরে মোটেও দ্বিধাদ্বন্দে পড়েনি যুবক। সে বেশ জানে — মানুষটা বড্ড ফিটনেস ফ্রিক! তারওপর নিজের ওমন বলিষ্ঠ দেহ নিয়ে কনফিডেন্স তো আছেই!
গায়ের ওপর পাতলা মলিন শাল! হাতদুটো ঢেকে আছে শালের নিচে। তরুণীর সুশ্রী মুখখানা বড্ড ফ্যাকাশে! সেথায় ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। বুকের মাঝে এক অদ্ভুত কাঁপন নিয়ে সে এগোচ্ছে সর্তক পায়ে। তিন তলার প্রশস্ত করিডর দিয়ে হাঁটছে তরুণী। বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাচ্ছে এদিক-ওদিক। আর পাঁচ কদম এগোলেই মাহি’র রুম। তরুণীর ভীত কদম ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে সেদিকে।
ভারী দরজার সামনে দু’জন গম্ভীর মুখো সশস্ত্র রক্ষী কড়া নজরদারিতে নিয়োজিত। মিলা ভয়ে ভয়ে কদম থামালো মাঝপথে। শুকনো ফাঁকা ঢোক গিলে জড়সড়ভাব ধরল পরক্ষণে। মেয়েটা আজ বড়ো অস্থির। মুখখানায় লুকিয়ে আছে একরাশ লুকোচুরি। যেন খুব বড়ো কিছু লুকচ্ছে সে। মিলা সামলায় নিজেকে। বাহাতের মধ্যমা এবং তর্জনীতে ক্রস বানিয়ে নিজের কনফিডেন্স বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিড়বিড়িয়ে বলে,
“ ওহ জিসাস! গিভ মি স্ট্রেন্থ!”
বাক্যটুকু ম্যাজিকের মতো কাজ করল মিলার ওপর। মনে মনে ভীষণ আত্মবিশ্বাস যুগিয়ে মেয়েটা এগোয় সম্মুখে। টলমল পায়ে মাহি’র ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই গার্ড দু’জন কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় তার পানে। মিলা ভড়কায়! গায়ের শালটা খানিক টানতে টানতে ইতস্তত কন্ঠে বলে,
“ কি হলো? এ..এভাবে তাকাচ্ছো কেনো তোমরা?”
জিভহীন লোক দু’টো স্রেফ তাকিয়ে রইলেন নিরবে। চোয়ালের রেখা টানটান করে ফুটিয়ে পরক্ষণেই সরে দাঁড়ালেন দরজার দুপাশে। মিলা তৎক্ষনাৎ ছটফট কদমে ঢুকল ঘরে। বুকের কাছে দু’হাত চেপে ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলল মানবী। রয়েসয়ে দৃষ্টি ঘোরালো পুরো ঘরময়। তবে ওমাহ! ঘরে যে মাহি নেই। এতো সকালে মেয়েটা আবার কোথায় গেল? দুশ্চিন্তায় কপালে গোটাকতক ভাঁজ পড়ল মিলার। মুখটা খানিক গম্ভীর করে গায়ে জড়ানো শালের নিচ থেকে আলগোছে বের করে আনে একখানা ভিন্টেজ পেপারের খাম। খামের দিকে কিয়তক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বিড়বিড়ায় মিলা,
“ কোথায় তুমি মুনলাইট? পাগলটা যে তোমার চিন্তায় দিশেহারা!”
ঝাড়বাতির ঝলমলে আলোয় ভাসমান রাজকীয় ডাইনিং হলের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে এক সরু দরজা! একদিকে বিশালকার ডাইনিং টেবিল জুড়ে সোনালি আসবাব, আর চারদিকের দেয়ালে রেশমি পর্দার আভিজাত্য। অন্যদিকে হলের শেষ প্রান্তে সেই দরজার ওপারে রান্নাঘরের ব্যস্ত ধোঁয়া আর ঝনঝন শব্দ! সপ্তদশীর কোমল পদ রয়েসয়ে এগোচ্ছে সম্মুখে। পেটে বড্ড ক্ষুধা পেয়েছে তার। ইদানিং আর কেউই আগ বাড়িয়ে তাকে খাবার দিয়ে আসে না। নিজে থেকে কাউকে বারবার বললে তবে নাহয় কেউ একজন দয়া দেখিয়ে একটু-আধটু খাবার দেয় তাকে। আজ সকাল থেকে ক্ষুধার তীব্রতা বেড়েছে মাহির। শুধু কি তার? তার পৌষ্য কিউটিরও যে একই হাল হয়েছে। বেচারা কি সুন্দর গুটি গুটি পায়ে কদম মিলিয়ে এগোচ্ছে মাহি’র সাথে। মাহি কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়েছে বেশ। রান্নাঘরের দরজা দিয়ে ভেতরে খানিকটা উঁকি দিতেই হোঁচট খেলো সপ্তদশী। এ বাবা! এটা রান্নাঘর না-কি অন্যকিছু? এ যে গোটা একটা ব্যাডমিন্টন কোর্টের সমান। মাহি হতবাক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। রান্নাঘরে ব্যস্ত কর্মীদের তার দিকে ওতো লক্ষ্য নেই। তবে ডক্টর হায়ার দৃষ্টি আচমকা গিয়ে আটকালো মাহির দিকে। তক্ষুনি কপাল গোছালেন তিনি। হাতে সদ্য তৈরীকৃত মর্নিং ফ্রুট শ্যাক নিয়েই তিনি এগোলেন মাহি’র পানে। গম্ভীর মুখে আওড়ালেন,
“ তুমি এখানে?”
অন্য ধ্যানে মগ্ন মাহি হকচকায় হুটহাট বাক্যে। চমকে গিয়ে সম্মুখে দৃষ্টি ফেলতেই তার নজর কাড়ঁল পারস্য সুন্দরী। সে-কি ধকধকে জেল্লা তার! মনে হচ্ছে স্বয়ং রুপের রাণী তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মাহি মুগ্ধ হলো তাকে দেখে। বিমুগ্ধ কন্ঠে উল্টো জবাবে বলল,
“ আপনি এতো সুন্দর!”
ভ্রু গোটান হায়া। মেয়েটার কথা তৎক্ষনাৎ ধরতে না পারলেও বুঝলেন মুহূর্ত ব্যয়ে। আর ওমনি সুন্দরী কেমন খিলখিল করে হেসে উঠল দেখো! হাসতে হাসতে দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে আলগোছে মাহি’কে পাশ কাটিয়ে চলে গেল বাইরে। মাহি এখনো তাকিয়ে আছে সুন্দরীর চলে যাওয়ার পথে। তবে অচিরেই তার ধ্যান ভাঙল পেটের গুড়গুড় শব্দে। মাহি ভড়কায় ফের! কপাল কুঁচকে তক্ষুনি কিউটিকে নিয়ে অগ্রসর হয় রান্নাঘরে। দুপাশের বড় বড় কাউন্টার টপ! রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র। মাহি ঠোঁট কামড়ে এদিক-ওদিক খাবার খুঁজছে। তবে খাবার চোখে ধরা না দিলেও তার চোখে আঁটকেছে সম্মুখের কাউন্টার টপে থাকা ধারালো কেঁচির দিকে। মুহূর্তেই মস্তিষ্ক তড়াক করে জ্বলে উঠল মাহি’র। মনে মনে এক দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড ভেবে নিয়ে এগোয় সেদিকে। হাত বাড়িয়ে কাউন্টার থেকে কেঁচিটা তুলে নিয়ে, গম্ভীর মুখে নিজের চুলগুলো থেকে একটানে ক্ল ক্লিপটা খুলে নেয় সপ্তদশী। বহুদিন ধরে কেঁচি খুঁজছিল সে! ভাগ্যক্রমে আজ যেহেতু পেয়েছে, তাহলে আর দেরি কিসের? মাহি ধীরে ধীরে কেঁচিটা এগোচ্ছে নিজ চুলের দিকে। কেঁচির ধারালো দুপাশ যখন প্রায় চুল ছুঁই ছুঁই ঠিক তখনি রান্নাঘরের দরজার কাছ থেকে ধেয়ে এলো এক গুরগুট্টে কন্ঠ!
“ কি করছিস বান্দীর মেয়ে? হাতে আবার কেঁচি তুললি কেনো?”
এহেন কন্ঠে তটস্থ সবাই! তক্ষুনি নিজেদের কর্মে বিরতি টেনে মাথা ঝোঁকালেন উপস্থিত সকলে। এদিকে মাহি ভড়কায়নি মোটেও। নাক ফুলিয়েছে অদম্যতায়। মুগ্ধ কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এখনো। রয়েসয়ে দাম্ভিক কদমে একটুখানি এগিয়ে এসেই হুংকার ছুঁড়ল সকলের উদ্দেশ্যে,
“ আউট!”
ব্যস! এটুকুতেই কাজ হলো। তড়িঘড়ি করে যে যার মতো ছুটে পালালো কিচেন থেকে। মুগ্ধ এবার এগিয়ে এসে দাঁড়ালো মাহি’র ঠিক পেছনে। অতঃপর মেয়েটার কনুই চেপে দক্ষ হাতের এক হেঁচকা টানে সপ্তদশীকে এক ঝটকায় ঘুরিয়ে নেয় নিজের দিকে। এহেন ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকায় মাহি! হতবাকতায় আচমকা হাত থেকে গড়িয়ে পড়ল কেঁচিখানা। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়সম ব্যাক্তির বুক বরাবর মাহির মস্তক! সে বুঝি ঘাড় নোয়ানোর মুডে নেই। তাইতো সপ্তদশীকে অবাক করে দিয়ে হুট করে নিজ হাতের শক্ত বাঁধনে চেপে ধরল মাহি’র মেদহীন পাতলা কোমর। অতঃপর চোখের পলকে মেয়েটাকে চট করে বসিয়ে দিলো পাশের কাউন্টার টপের ওপর। সম্পূর্ণ ঘটনায় হতবুদ্ধি ভাব বজায় রেখেছে মাহি। কি থেকে কি হচ্ছে তা ভাবতেই জোর পড়ছে তার মস্তিষ্কে। এদিকে মুগ্ধ এবার গম্ভীর হলো। চোয়াল শক্ত করে দু’হাত গুঁজল পকেটে। ঘাড়টা সামান্য নুইয়ে দাঁত খিঁচে আওড়াল,
“ হাতে কেঁচি নিয়েছিলি কেনো?”
মাহির চোখেমুখে স্পষ্ট রাগ! সপ্তদশী নাকের পাটা ফুলিয়ে তড়াক জবাব দিলো,
“ চুল কাটব তাই!”
ভ্রু গোটায় মুগ্ধ। মসৃণ ললাটে গোটাকতক ভাঁজ ফেলে গমগমে গলায় শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে বলল,
“ যে-ই না ঘোড়ার লেজের চুল! এগুলো আবার কাটতে হবে কেনো বান্দীর মেয়ে?”
দাঁত কিড়মিড় করে উঠল মাহি। এটুকু সিদ্ধান্ত নিতেই তার কতগুলো দিন লেগে গেল অথচ লোকটাকে দেখো! কিভাবে মুখের ওপর অপমান করছে তাকে। মাহি দৃষ্টি নুইয়ে রেখে শক্ত মুখে বলে ওঠে,
“ যেন আপনি কথায় কথায় আমার চুল ধরে টানতে না পারেন।”
ঠোঁট বাঁকায় মুগ্ধ। গালের ভাঁজে জিভ ঠেলে খানিকক্ষণ হাসল নিরবে। মেয়েটাকে আরেকটু জ্বালাতে রয়েসয়ে কন্ঠে একরাশ তাচ্ছিল্যের সুর ঢেলে শুধালো,
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৩
“ ওহ আচ্ছা! এ বাত! আহারে বান্দীর মেয়ে, আগে বলবি তো। যাকগে, শোন বান্দীর মেয়ে! এক কাজ কর তবে, শুধু শুধু কষ্ট করে কেঁচি দিয়ে গোড়া থেকে চুল কাটতে হবে না। আমি তোকে ব্লেড দিচ্ছি, একেবারে ন্যা’ড়া হয়ে যা। এন্ড ওয়ান মোর থিংগ — চুলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অতিরিক্ত নড়তে থাকা জিভ’টাকেও কাটিস কিন্তু!”

Daily part dewr try korben please apu
আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি 🤨😌💖💖💖🌹👏👌❤️❤️🥰🫶🫶
Thank you so much Apu …etar jonno etokkon opekkha korlam Apu regular dibe kintu bole dilam 🩷🩷
Ei Apu Diba na porer part ta ?? Part ta daw na plss ar part gulu boro Kore diyo 😊 taratari dibe kintu