মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৫ (২)
jannatul firdaus mithila
মার্বেলের স্বচ্ছ তকতকে মেঝেতে একজোড়া ইতালিয়ান লেদারের শুজ পরিহিত পাদু’কা দাঁড়িয়ে আছে ঠায়! পাদুকার মালিক বড়ো অস্থির! কৃত্রিম শীতলতায় মোড়ানো কক্ষেও বড্ড ঘামছেন তিনি। অস্থিরতায় ব্যুট জুতোর শক্ত পাটাতনের ঠকঠক শব্দ তুলে পায়চারী চালাচ্ছেন এদিক-ওদিক। তবে কান্ড দেখো! মধ্যবয়স্কের অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে বৈ কমছে আর না। অস্থিরতায় এলোমেলো হাত ঢুকিয়েছেন নিজ প্যান্টের পকেটে। খানিকক্ষণ হাতড়ে বের করে আনলেন নরম সুতি কাপড়ের রুমালখানা। তড়িঘড়ি করে নিজ ঘর্মাক্ত কপালখানা কোনমতে মুছতেই মধ্যবয়স্কের কর্ণকুহরে ভেসে এলো কারো দাম্ভিক কন্ঠ!
“ ডঃ দামিয়ান?”
ত্বরিত ঘাড় বাকিয়ে পেছনে তাকালেন দামিয়ান। অদূরের সিঁড়ির আগায় দাঁড়িয়ে আছে নিক। গায়ে একখানা কালো রঙা বাথরোব, মাথাভর্তি ফাঙ্গি রঙা সিক্ত চুলগুলো থেকে চুইয়ে পড়ছে পানি। যুবকের চোখেমুখে একরাশ সন্দিগ্ধ ব্যাকুলতা। পায়ের গতি জোরালো বেশ। মার্বেলের সিঁড়িতে ধুপধাপ পা ফেলে নামছে সে। নামতে নামতেই ব্যাগ্র কন্ঠে ফের জিজ্ঞেস করে,
“ শুনলাম, মনস্টারের ব্যাপারে না- কি কিছু বলতে এসেছেন! তা কি সেটা?”
অস্থির দামিয়ান স্থির করলেন পাদু’টো। ঘর্মাক্ত কপালখানা আরেকবার রুমালের পৃষ্ঠে মুছে নিয়ে, পায়ের গতি টানলেন ভদ্রলোক। নিরবে এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন মখমলি সোফার সন্নিকটে। হাতে তার একখানা কালো রঙা স্যুটকেস। সেথায় মালপত্র আছে কি-না কে জানে! তবে ভদ্রলোক ভীষণ কড়াকড়িভাবে আগলে রেখেছেন স্যুটকেসটা। প্রায় মিনিট খানেকের মধ্যেই হন্তদন্ত পায়ে গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে দাঁড়াল নিক। এসেই কেমন বিচলিত ভঙ্গিতে আচানক দু’হাতে আঁকড়ে ধরল দামিয়ানের প্রশস্ত কাঁধ। মুহুর্তেই মধ্যবয়স্কের কাঁধের চামড়ায় শার্টের ওপর দিয়েই দেবে গেল যুবকের ধারালো নখর। দামিয়ান মুখ কুঁচকায়। কাঁধে ব্যথায় গা নাড়তে গেলেই যুবক নিজ উদ্যোগে মধ্যবয়স্কের শরীরখানা মৃদু ঝাঁকিয়ে দাঁত খিঁচে আওড়াল,
“ হোয়ায় ডিড ইউ্য কাম হিয়ার বাস্টার্ড? মনস্টারের ব্যাপারে যা বলার কুইকলি বল। এন্ড ডোন্ট ইউ্য ডেয়ার টু ওয়েস্ট মা’ই টাইম।”
কন্ঠনালীর উঁচু হাড়খানা খানিক ওপর নিচ নড়ল বোধহয় দামিয়ানের। ভয়ে শুকিয়ে গিয়েছে তার কন্ঠা! সম্মুখ থেকে ভেসে আসছে দাঁত কিড়মিড় শব্দ। এতেই যেন বেচারার ভয় বেড়ে দ্বিগুণ। দামিয়ান তড়িঘড়ি করে হাতের স্যুটকেসখানা উঁচিয়ে নিকের দিকে আলগোছে বাড়িয়ে দিলেন। ভয়ার্ত কন্ঠে থেমে থেমে আওড়ালেন,
“ এটাতেই আছে আপনার সব উত্তর!”
কপাল গোছালো রাশিয়ান সুদর্শন। লম্বাটে ফর্সা মুখখানায় তার ফুটে উঠেছে একরাশ সন্দিহান অভিব্যক্তি। যুবকের উপরিভাগের দাঁত কপাটি ইতোমধ্যেই আঁকড়ে ধরেছে নিচের ঠোঁটখানা। ফলে লম্বাটে চোয়ালের রেখা টানটান হয়েছে বেশ। সে কয়েকপল শক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল বাড়িয়ে দেওয়া স্যুটকেসের দিকে। অতঃপর গম্ভীর রূঢ় কন্ঠে শুধালো,
“ কি আছে এটায়?”
এহেন কথার প্রতিত্তোরে ক্রুর হাসলেন দামিয়ান। তা আড়দৃষ্টে বেশ লক্ষ্য করল নিক। রয়েসয়ে দামিয়ান কেমন কুটিল কন্ঠে বলে ওঠে,
“ মনস্টারের দূর্বলতা!”
মুহুর্তেই এক অদৃশ্য ঝটকা খেলে গেল নিকের সম্পূর্ণ বদনে। নীলচে চোখদুটোর দৃষ্টিতে জমেছে একরাশ হতবাকতা। বাদামী ঠোঁটজোড়ার মধ্যকার দুরত্ব বুঝি বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। দামিয়ান তড়িঘড়ি করে মেরুদণ্ড বাঁকালেন। হাতের স্যুটকেসটা সম্মুখের সোফা টেবিলের ওপর রেখে তৎপর হলেন তা খুলতে। এদিকে নিক এখনো ডুবে আছে এক আকাশসম অবিশ্বাস্যতায়। তার হতবাক কন্ঠেফুড়েঁ অস্ফুটে বেরুলো,
“ মনস্টারেরও দূর্বলতা আছে? হাউ ইজ দিস পসিবল?”
অস্ফুটে আওড়ানো বাক্য শুনলেন না দামিয়ান। নিজ কাজে মত্ত সে। মিনিট গড়ানোর আগেই খট-খট শব্দ তুলে খুলে ফেললেন স্যুটকেসখানা। পরমুহূর্তে সেখান থেকে দুটো মসৃণ কাগজের খাম তুলে আলগোছে বাড়িয়ে দিলেন নিকের পানে। ঠোঁটের কোণে শয়তানী হাসির রেশ টেনে ভরাট কন্ঠে বললেন,
“ এটাই সে-ই দূর্বলতা, যার জন্য মনস্টার কিছুদিন আগে গোটা রাশিয়ার টপ লিস্টে থাকা ৩৫জন ডাক্তারকে নিজের হিডেন প্যারাডাইসে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফিরতি পথে সবাইকে হ্যালুসিনেশনের ট্যাবলেট খাওয়ালেও আমি মুখে নিয়েও খাইনি তা। অচেতন হবার ভং ধরেছিলাম তখন।”
কথাটা শেষ হবার ঠিক পরমুহূর্তেই দামিয়ানের হাত থেকে এক টানে খাম দুটো নিয়ে নেয় নিক। প্লাগ করা ভ্রু দ্বয়ের মাঝে গোটাকতক ভাঁজ ফেলে ব্যগ্র হাতে খামের ডগা ছিঁড়ে যেইনা ভেতর থেকে মসৃণ পৃষ্ঠা দুটো বের করল, ওমনি ছেলেটার দৃষ্টি হয়েছে বিস্ফোরিত! সফেদ রঙা মসৃণ পৃষ্ঠে পেন্সিল স্কেচে এক সপ্তদশীর মায়াবী মুখ অঙ্কিত। দু’টো পৃষ্ঠাতেই একই ছবি! নিক কপাল গোছালো ফের। চোয়ালের পেশী শক্ত করে কঠিন চাহনি নিক্ষেপ করল দামিয়ানের দিকে। পরক্ষণে এক আগ্রাসী থাবায় দামিয়ানের চোয়াল আঁকড়ে, কটমট করতে করতে আওড়াল,
“ আর ইউ্য সিরিয়াস এসহোল? তুই বলতে চাচ্ছিস দ্য রুশদী কিংয়ের দূর্বলতা একটা সাধারণ মেয়ে? বাস্টার্ড! ডু ইউ্য হেভ এনি আইডিয়া এবাউট হিম? সে চাইলেই রাশিয়া কিংবা যেকোনো দেশের হাজারটা সুন্দরীকে নিজের শয্যাসঙ্গীনী বানাতে পারে। আর তুই কি-না বলছিস এই মেয়ে তার দূর্বলতা? ব্লা’ডি ইনসেন্স!”
বলতে বলতেই হাতের মসৃণ পৃষ্ঠা দু’টো আচমকা হাওয়ায় ছুঁড়ে মা’রল যুবক। দামিয়ান গম্ভীর হলেন এপর্যায়ে। রাগের তোড়ে মুখাবয়বে লালাভ আবরণ ফুটিয়ে ঝাঁঝাল কন্ঠে পরক্ষণেই শুধালো,
“ ইয়েস, ইট সাউন্ডস ফানি বাট ইট’স ড্যাম ট্রুথ! এই সাধারণ একটা মেয়ের জন্য এখানে ….. ”
কথাখানা আওড়াতে গিয়ে তৎক্ষনাৎ নিজের বাহাতের তর্জনী উঁচিয়ে মাথার খুলি বরাবর তাক করলেন দামিয়ান। মুখটায় আগের ন্যায় কটমটে ভঙ্গিমা বজায় রেখে ফের শুধালেন,
“ ঠিক আমার মাথার তালু বরাবর বন্দুকের নল ঠেকিয়ে মনস্টার বলেছিলেন — ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঐ মেয়ের জ্ঞান না ফিরলে তিনি আমাদের সবাইকে মে’রে ফেলবেন। এট দ্যাট টাইম, আই ওয়াজ লাইক — সিরিয়াসলি? দ্য গ্রেট রুশদী কিং কিনা একটা মেয়ের জন্য এভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছে! আর আপনি বলছেন সে-ই মেয়ে সাধারণ?”
সহসা চোখদুটো সরু হয়ে এলো নিকের। কপালের চামড়ায় দেখা গেল দীরুক্তির ভাঁজ। সে কেমন সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে আলগোছে তাকাল মেঝেতে অবহেলিত আকারে পড়ে থাকা সপ্তদশীর স্কেচের পানে। রয়েসয়ে শরীর বাকিয়ে হালকা ঝুঁকে এসে স্কেচদুটো তুললো নিক। আনমনে সপ্তদশীর মুখপানে তাকাতেই দৃষ্টি থমকাল তার। মায়াবতীর মুখটা বড্ড সাধারণ। চোখদুটো হরিণীর ন্যায় বড়ো বড়ো। তার মুখাবয়বের সবচেয়ে আকর্ষণী ব্যাপার তার ওষ্ঠপুট! মনে হচ্ছে — কোনো দক্ষ কারিগর তার সারাজীবনের মেহনত এবং দক্ষতা দিয়ে বড্ড নিপুণ হাতে এঁকেছে সপ্তদশীর ঠোঁটদুটো। নিক কেমন অদ্ভুত কামার্ত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সেদিকে। আনমনে সপ্তদশীর নিখাঁদ সৌন্দর্যের প্রতীকী ঠোঁটযুগলের ওপর আঙুল বুলিয়ে কামার্ত কন্ঠে আওড়াল,
“ উফফ! হার লিপস! দে আর অলরেডি টার্নিং মি অন।”
বাঁকা হাসলেন দামিয়ান। নজর খানিকটা ঝুঁকিয়ে, আলতো করে কপাল চুলকালেন এরইমধ্যে। সম্মুখ থেকে নিক তখন সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ হেই দামিয়ান! ও আমার বেড কাঁপাতে পারবে তো?”
এপর্যায়ে হাসি আর রুখতে পারলেন না দামিয়ান। ঠোঁটের রেখা প্রশস্ত করে হাসলেন গালভরে। চোখেমুখে এক অদ্ভুত লিপ্সা লেপ্টে কামবর্ত্ম কন্ঠে শুধালেন,
“ স্বয়ং মনস্টারকে কাবু করেছে যে-ই মেয়ে, তার ক্ষমতা থোড়াই কম! বেড কাঁপাতে না পারলে মনস্টার কি আর এমনি এমনি তাকে নিজ প্রাসাদের রাণী করে রেখেছে?”
কথাখানা শেষ করেই হাসি গাঢ় হলো দামিয়ানের। ওদিকে নিক এখনো একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে সপ্তদশীর নির্জীব ছবির পানে। যুবকের ঠোঁটের কোণে ঝুলছে এক অদ্ভুত ঠান্ডা হাসি। আচমকা সে কেমন হিসহিসিয়ে বলে ওঠে,
“ এন্ড ফাইনালি, মনস্তারের দূর্বলতার সন্ধান পেয়েছে নিকোলাস মারগ্রেট। খুব অচিরেই যে হবে আমার রাতের সঙ্গীনি!”
হাসছে নিক! পাদু’টোর গতি টেনেছে উল্টোপথে। হাতে থাকা ছবিগুলোর পানে ঠায় দৃষ্টি বজায় রেখেই যুবক কন্ঠ উঁচিয়ে ডাকল,
“ এঞ্জেলা!”
এক ডাকেই কোত্থেকে যেন হাওয়ার বেগে ছুটে এলেন এক পারস্যের সুন্দরী! আবেদনময়ী ভাব ভঙ্গিমা তার সর্বাঙ্গে। গায়ে জড়ানো একখানা পাতলা ফিনফিনে সফেদ রঙা সাদা শার্ট। নারী কায়ার লুকায়িত প্রতিটি স্পর্শকাতর অঙ্গের ভাঁজ যার ওপর দিয়ে স্পষ্ট! অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যবয়স্ক দামিয়ান বুঝি চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে সুন্দরীকে। সে যে নারী লিপ্সায় নিকের চাইতে খুব বড়ো নাহলেও খুব একটা ছোটও নয়। সুন্দরীর বাঁকান কায়া দেখে অভ্যন্তরীণ লুকনো পৌরুষ্য জাগ্রত হতে খুব একটা সময় নেয়নি দামিয়ানের। মধ্যবয়স্ক কেমন কামার্ত নয়নে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুন্দরীর পানে। সুন্দরী এলোমেলো ভঙ্গিতে ছুটে এসে আচমকা দু’হাতে গলা জড়িয়ে ধরে নিকের। যুবক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এক হেঁচকা টানে সুন্দরীর কোমর টেনে নিজের সঙ্গে গভীরভাবে মিশিয়ে নিলো পরক্ষণে। অতঃপর নিজ বেহায়াপনায় কোনরূপ রাখঢাক না রেখে তৎক্ষনাৎ ঠোঁট ডুবালো সুন্দরীর রক্তভেজা কৃত্রিম লালিমায় ছেয়ে থাকা অধরযুগলে। এক গভীর চুম্বনে লিপ্ত দু’জন! আশেপাশে ওতো মানুষ থাকা স্বত্বেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপহীন তারা। প্রায় মিনিট পাঁচেকের লম্বা চুম্বন শেষে থামল নিক। পারস্য সুন্দরীর লাল টুকটুকে নাকের পাটায় আলগোছে দাঁত বসিয়ে দিয়ে ফিসফিসে কন্ঠে বলল,
“ গো এন্ড গেট রেডি ডিয়ার! আ’ম ফিলিং হাঙ্গরি ফর ইউ্য!”
তৎক্ষনাৎ সুন্দরীর সিক্ত ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল লালসার হাসি। বিন্দুমাত্র লাজলজ্জা না দেখিয়ে সুন্দরী জিভ উল্টে বলল,
“ কাম বেবি! আ’ম অলওয়েজ রেডি ফর ইউ্য।”
মুচকি হাসলো নিক। সুন্দরীর মেদহীন বাঁকান কোমরের পিঠে দু’হাত ঠেকিয়ে আলগোছে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পেছনে। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা দামিয়ান অস্থির! সর্বাঙ্গ ঘামছে তার। নিঃশ্বাসের ওঠানামা প্রবল। নিক বিচক্ষণী পুরুষ! খুব একটা সময় লাগল না তার দামিয়ানের হুটহাট অস্থিরতার কারণ বুঝতে। সে কেমন ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে আপাদমস্তক পরোখ করল দামিয়ানকে। পরক্ষণেই তার নজর আটকালো অন্য কোথাও। একমুহূর্ত সেথায় তাকিয়ে থেকে নিক কেমন ঠোঁট কামড়ে হাসল খানিকক্ষণ। সময় নিয়ে শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে বলল,
“ চোখ দিয়ে গিলে খেয়েও লাভ নেই দামিয়ান, ওর সাথে তুমি পারবেনা!”
লজ্জায় ধ্যান ভাঙল দামিয়ানের। পরক্ষণেই নিজের পানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেই আঁতকে ওঠে বেচারা। তড়িঘড়ি করে পেছনের সোফায় গা এলিয়ে বসল সে। পাশ থেকে একখানা কুশন নিয়ে এসে আলগোছে ঠেকালো নিজ কোলে। লজ্জায় কান গরম হয়েছে বেচারার! সুন্দরীর সামনে পৌরুষ্য নিয়ে এভাবে তাকে খোঁটা দিতে পারল নিক? ইশশ্ কি লজ্জা কি লজ্জা!
দাম্ভীক যুবকের গটগট পাদু’টো ছুটছে চেরি ব্লসম গার্ডেনের দিকে। ট্যাটু শৈলীতে অঙ্কিত ডানহাতের রুক্ষ আঙুলের ভাঁজে আঁটকে আছে রিভলবার। যুবকের গায়ে কেবল একখানা ওভারকোট, যার সবক’টা বোতাম হা করে খুলে রাখা। অসময়ের বৃষ্টিতে ঠান্ডা বোধহয় একটু বেশি-ই। তবে ওমন ঠান্ডা কি আর ওতো সহজে গায়ে ধরে রূঢ় মানবের? সে কেমন অনুভূতিহীন কায়দায় এগোচ্ছে সামনে। আর কয়েক গজ এগুলেই বাগান। সেথায় হয়তো সপ্তদশী বৃষ্টি বিলাসে মত্ত। যুবকের নির্দয় মনের কোণে লুকিয়ে থাকা একটুখানি মুগ্ধতাও বুঝি হার মানছে যুবকের রূঢ়তার কাছে। সে এগোচ্ছে, এক ভিন্ন উদ্যোমে সপ্তদশীকে চিরদিনের জন্য নিস্তব্ধ করে দিতে এগোচ্ছে।
মাথার ওপর ঝুম বৃষ্টি! ব্যস্ত পদযুগলে ছুটছে এডউইন। হন্যে হয়ে খুঁজছে মনস্টারকে। বৃষ্টির প্রকোপ বাড়ছে ক্রমশঃ হাওয়ার তীব্র বেগে সম্মুখে তাকিয়ে থাকা দায় এমুহূর্তে। তবুও গম্ভীর মানব আজ বড্ড বিচলিত। হন্যে কদমে অগ্রসর হলো প্যালেসের বাঁদিকে। খানিকটা এগোতেই আচমকা দেখা গেল কঠিন মানবের প্রশস্ত অবয়ব। এডউইন তক্ষুনি সটান হলো। মনের মধ্যিখনে এক আকাশসম সাহস যুগিয়ে এগোলো মনস্টারের দিকে। ছুটতে ছুটতে দিশেহারা অবস্থা বেচারার। ঠান্ডায় কাঁপছে সর্বাঙ্গ। কোনমতে পায়ের গতি টেনে চলে এলো মনস্তারের পেছনে। ভাঙা ভাঙা গলায় থেমে থেমে আওড়াল,
“ মনস্তার! মনস্তার প্লিজ ডোন্ট ডু দিস। ওকে এখনি মে’রে দেয়াটা ঠিক হবে না।”
থামল রূঢ় মানবের ব্যস্ত পদযুগল। ঘাড় বাকিয়ে শক্ত চাহনিতে পেছনে তাকাতেই ভয়ে কদম পেছালো এডউইন। তড়িঘড়ি করে মাথা নোয়াতেই শুনতে পেল মুগ্ধের চিড়বিড় কন্ঠ!
“ হু দা ফা’ক আর ইউ্য বাস্টার্ড টু লেকচার মি? আরেকবার আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চাইলে একদম কলিজা টেনে ছিঁড়ে ফেলব ব্লা’ডি এসহোল!”
ভয়ার্ত ঢোক গিলল এডউইন। এমন একটা ঠান্ডার মধ্যেও শরীরে আগুন জ্বলছে তার। গলার কাছটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। যুবক ফাঁকা ঢোক গিলল ক্ষনে ক্ষনে। সম্মুখে ফের অগ্রসর হতে থাকা রূঢ় মানবের পানে একপল তাকিয়ে থেকে বুক ফুলিয়ে জোরালো নিশ্বাস টানল সে। তক্ষুনি মনের সকল ভয়ডর ভুলিয়ে, চিতাবাঘের ন্যায় পায়ের গতি বাড়িয়ে এগিয়ে এসে পথ আটকালো মুগ্ধের। দু’হাত দু’দিকে ছড়িয়ে বেচারা আওড়াল,
“ ক্ষমা করুন মনস্তার! কিন্তু এবার কেন যেন মনে হচ্ছে আপনি তাড়াহুড়ো করছেন। কারণ — তায়েফ এহসানের দূর্বলতা এতো তারাতাড়ি হারিয়ে গেলে তাকে মা’রতে খুব একটা আনন্দ পাবেন না আপনি। তাই বলছি মনস্তার, আরেকবার নাহয় ভেবে… ”
কথাটা পুরোপুরি শেষ করবার আগেই এডউইনের প্রশস্ত বুকের মাঝে আচমকা বসল এক সজোর লাথি। এহেন অতর্কিত আক্রমণের তাল সামলাতে না পেরে মুহুর্তেই কয়েক কদম পেছনে ছিটকে পড়ল এডউইন। জমিনে জমে থাকা বৃষ্টির পানিগুলো কেমন ছিটকে সরে গেল এদিক-ওদিক। বুকের ব্যথায় মুষড়ে যাচ্ছে বেচারা। দু’হাতে বুক চেপে শব্দ তুলছে ব্যথাতুর। চোখমুখ কুঁচকে থাকায় সে দেখেনি সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা হিং স্র মনস্টারকে। সেকেন্ড ত্রিশেক পেরুতেই আহত এডউইন টের পেল তার চোয়াল বরাবর কারো শক্ত হাতের থাবা। ধীরে ধীরে সে থাবার জোর বাড়ছে। কটমট করছে বেচারার চোয়াল। এডউইন চোখ কুঁচকে রাখলেও বেশ চিনল সম্মুখের মানুষটাকে। সে রয়েসয়ে নিবুনিবু দৃষ্টিতে সামনে তাকাতেই দেখল — সুদর্শন যুবক কেমন সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করছে। তার চোখদুটো বুঝি আগুন ঝরাচ্ছে রীতিমতো। এডউইন ভড়কায়! চোয়ালের ব্যথা ভুলিয়ে অসহায়ের ন্যায় তাকাতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের দাঁত কিড়মিড় কন্ঠ!
“ ও আমার! ওর সাথে কি করব, না করব — সে সিদ্ধান্তও আমার। সেখানে তুই আমাকে নতুন করে জ্ঞান দেবার কে জানোয়ারের বাচ্চা? দু’দিনের প্রশ্রয়ে মাথায় চড়তে চাচ্ছিস বাস্টার্ড? ভুলে যাস না, তুই যদি চলিস ডালে ডালে — তাহলে আমি চলি পাতায় পাতায়। তুই যে খেলায় নতুনভাবে মত্ত হয়েছিস, আমি বহু আগে থেকেই ঐ খেলার ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখনো সময় আছে এডউইন — এ পথ থেকে সরে দাঁড়া। নাহলে তোকে মা’রতে আমার কিন্তু বিলকুল হাত কাঁপবে না।”
বুক কাঁপছে এডউইনের। চোখ নেমেছে নিচু। বলার মতো কথা না থাকায় সে এবার মৌন। মুগ্ধ তখন এক ঝটকায় ছেড়ে দেয় এডউইনের চোয়াল। পরক্ষণে শীরঁদাড়া সটান করে দাঁড়ায় সে। ওভারকোটের হাতা উপরিভাগে টানতে টানতে গমগমে গলায় বলে ওঠে,
“ ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির লোভ এ পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো লোভ বাস্টার্ড! যে একবার এ লোভে পড়েছে, সে নিজের সর্বস্ব খুইয়ে তবেই থেমেছে। তাই বলছি লোভ ছাড়। তোর এসব সো-কলড নাটক আমার সামনে করতে আসবি না।”
মুহুর্তেই পাল্টে গেল এডউইনের মুখো-অভিব্যাক্তি। সেথায় এবার ভর করল একরাশ কুটিলতা। মনস্টার কিভাবে তার কুট-কৌশল টের পেল তা নিয়ে বড্ড সন্দিহান যুবক। তবুও এমুহূর্তে নিজেকে বড়ো শান্ত দেখাল সে। তৎক্ষনাৎ ভঙ্গিমা ধরল নাটকীয়। মুখাবয়বে হতবাকতা লেপ্টে অবোধের সুরে বলল,
“ আপনি ভুল ভাবছেন মনস্তার! আমি কখনোই আপনার বিরুদ্ধে.. ”
কথাটা বলতে দেরি আর ওমনি জমিনে পড়ে থাকা যুবকের পেট বরাবর পড়ল আরেক লাথি। এবারের আক্রমণে জোর হয়েছে বেশ! তৎক্ষনাৎ ব্যথায় কুঁচকে গেল এডউইনের নাক-মুখ। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে বেরুলো ব্যথাতুর ধ্বনি। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক এবার তক্ষুনি পা রাখল এডউইনের বুকের ওপর। পরক্ষণে হাতের রিভলবারখানা একটানে অন করে তাক করল এডউইনপর কপাল বরাবর। অতঃপর ঠোঁটের কোণে আচমকা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বিচক্ষণী কন্ঠে আওড়াল,
“ তুই তো জানিস, আমি আমার আশেপাশে শত্রুদের কয়েদ করে রাখতে পছন্দ করি। নাহলে এতদিনে তোর কবর হতো প্যালেসের পেছনের জঙ্গলে।”
মুখটা থমথমে হয়ে গেল এডউইনের। জিভের ডগা বাকশূন্য! অপরাধীত্বে নত হয়েছে তার মুখ। মুগ্ধ হাসল! তাচ্ছিল্য ভরা হাসিতে প্রাণ নেই তেমন। সম্মুখে অগ্রসর হয়ে শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে বিড়বিড়াল,
“ নশ্বর এ দুনিয়ায় মনস্টারের আপন বলতে আছে কেবল তার প্রাণটা! ইশ্বর বাদে যেদিন মনস্টার চাইবে — সেদিন তার প্রাণটাও তাকে ত্যাগ করবে। সেখানে তোরা তো ক্ষনিকের শত্রু!”
বৃষ্টির প্রকোপে যুবকের বিড়বিড়ানো বাক্য পৌঁছুলো না কারো কানে। সে বাক্য কেবল মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। নির্দয় মানব সম্মুখে অগ্রসর। টানটান চোয়ালের পেশীতে তার বরাবরের নির্দয়তা স্পষ্ট! বাদামী চোখদুটোতে খেলছে হিং স্রতা। বুকের পাটা ফুলিয়ে হাঁটতেই আচমকা তার পাদু’টোয় বেড়িবাঁধের ন্যায় জড়িয়ে ধরে এডউইন। আগের ন্যায় গুঙিয়ে বলল,
“ আপনি যা ইচ্ছে বলুন আমায় মনস্তার, তবুও মেয়েটাকে… ”
ঠাসসস…..
জিভ খসে যতটুকু বেরিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই গায়ে আগুন ধরেছে মুগ্ধের। হাতের বন্দুকখানা এডউইনের বাহু বরাবর তাক করে ফায়ার করেছে নির্দয় মানব। চোখেমুখে একরাশ আগুন লেপ্টে দাঁতে দাঁত চেপে আওড়াল,
“ শি ইজ মা’ই প্রপার্টি! হাউ ডেয়ার ইউ্য কল হার — মেয়েটা? বাস্টার্ড! কতবার বলেছি ওর কথা মুখে না আনতে। আমার অবাধ্য হবার দুঃসাহস কোত্থেকে পাচ্ছিস জানোয়ারের বাচ্চা? ওর জন্য তোর এতো দরদ দেখাতে হবে কেনো? আমি ম’রে গেছি জানোয়ারের বাচ্চা? ওর জন্য দরদ দেখাতে আমি একাই যথেষ্ট। শি নিডস নো বডি, নো বডি মিনস নো বডি। ডু ইউ্য গেট দ্যাট ফা’কিং বাস্টার্ড?”
বাহু থেকে গলগলিয়ে বেরুচ্ছে লহু। ব্যথায় জ্ঞান হারাবে হারাবে ভাব এডউইনের। বেচারা মুখ কুঁচকে রেখেছে কেমন। ওদিকে মুগ্ধ হিসহিসিয়ে যাচ্ছে। কপালের রগগুলো ফুলে একাকার অবস্থা তার, দাঁতের সনে দাঁত পিষে তুলছে কটমট শব্দ। যুবক তক্ষুনি একটানে গা থেকে ওভারকোটটা খুলে এনে ছুঁড়ে জমিনে। অতঃপর রাগে গজগজ করতে করতে এডউইনের কপাল বরাবর বন্দুকের লৌহনল তাক করে, শক্ত গলায় বলল,
“ গেট লস্ট ইন হেল ব্লা’ডি এসহোল।”
হকচকায় এডউইন! চোখদুটো ছলছল তার। এতো তারাতাড়ি ম’রতে প্রস্তুত নয় সে। তাইতো তার ওতো উচাটন ভাব। বেচারা ভয়ে তটস্থ! একহাতে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিমা ধরতেই ক্রুর হাসলো মুগ্ধ। আকাশে তখন বিকট শব্দে গর্জন তুললো মেঘ। বজ্রপাতের এহেন আগ্রাসী শব্দে কেঁপে উঠবে যেকেউ। মুহুর্তেই কয়েক সেকেন্ডের এক পশলা সফেদ আলোর প্রতিচিত্রে দৃশ্যমান হলো আশেপাশের সবকিছু। যে বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে স্বয়ং এডউইন, অথচ সে সে শব্দের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনি মুগ্ধ। উল্টো চোখেমুখে আগের ন্যায় ক্রুরতা বজায় রেখে বন্দুকের মধ্যকার ফারাকে আঙুল ঢুকিয়েছে। রুক্ষ আঙুলখানা যেইনা বাঁকিয়ে নিবে ওমনি পাহাড়সম যুবকের প্রশস্ত পিঠখানায় আচমকা আছড়ে পড়ল এক ক্ষুদ্রকায় তুলতুলে দেহ। নরম-সরম দুটো হাত যুবকের শক্তপোক্ত হাতের আড়াল দিয়ে জড়িয়ে ধরেছে তাকে। মুহুর্তেই থমকায় রূঢ় মানব। পেছন থেকে হুট করে ধেয়ে আসা ওমন আক্রমণে পাহাড়সম মানুষটা বোধহয় টললো খানিক। প্রশস্ত লোমহীন পেটের কাছে বাঁধন আকারে থাকা তুলতুলে হাতদুটো খামচে ধরেছে তার ত্বক। যুবক নিস্তব্ধ! ঠিক তখনি আকাশভাগ কাঁপিয়ে কাছাকাছি কোথাও পড়ল আরেক বজ্রপাত। সেই বিকট শব্দে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরা সপ্তদশী কেমন ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল! ভয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দুহাতের সদ্য বড়ো হওয়া নখর দাবিয়ে দিলো যুবকের পেশিবহুল পেটানো পেটে। চোখমুখ খিঁচে আওড়াল,
“ আআআআ! বিস্ট, আমি আর বৃষ্টি ভিজবো না। প্লিজ নিয়ে চলুন আমায়। আমি আর বৃষ্টি ভিজবো না।”
সপ্তদশীর কথা আদৌও কানে গেল যুবকের? কই, যুবকের থমকানো চাহনি দেখে তাতো বুঝবার জো নেই। সে কেমন নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখো! সপ্তদশীর তুলতুলে গায়ের স্পর্শের ওমন মনমাতানো উষ্ণতা গায়ে ঠেকতেই হৃদয় থমকেছে রূঢ় মানবের। অবহেলায় হাত থেকে কখন যে বন্দুকখানা খসে পড়েছে কে জানে! বুকের ওঠানামার গতি বাড়ছে মুগ্ধের। এই প্রথম! এই প্রথম হার্টের কয়েকটি বিট একত্রে মিস হলো তার। মাথার ওপর ঝুম বৃষ্টি থাকা স্বত্বেও গলার কাছটায় বোধহয় খড়া নেমেছে নির্দয় মানবের। তৃষ্ণায় ফেটে যাচ্ছে বুক। বারেবারে সিক্ত অধরজোড়া দিয়ে ভিজিয়ে যাচ্ছে নিজ ওষ্ঠপুট! তবে বালাইষাট! এতে কি আর হয়? যুবক অস্থির হচ্ছে ক্রমশ। ঘাড় সমান বাদামী রঙা বাবরী চুলগুলো বাঁধন হারা হয়েছে বেশ আগে। তারা এবার সিক্ত হয়ে লেপ্টে গিয়েছে যুবকের প্রশস্ত কপালে। সপ্তদশীর হুঁশ নেই আজ! ঠান্ডায় বদন কাঁপছে তার। একটুখানি উষ্ণতার লোভে পারছেনা যুবকের পিঠ চিঁড়ে ভেতরে ঢুকে পড়তে। যুবকের তখন কি হলো কে জানে! নিজ সম্বিতে ফিরল বুঝি সে। তক্ষুনি চোয়াল শক্ত করে এক ঝটকায় পেট থেকে নামিয়ে দিলো মাহি’র নরম হাত দু’খানা। পরক্ষণে শরীর বাকিয়ে পেছনে ঘুরে যেইনা শক্ত চোখে তাকাল মেয়েটার পানে ওমনি দৃষ্টি থমকায় তার। সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে সিক্ত সপ্তদশী! সর্বাঙ্গ ভিজে যাচ্ছে তাই অবস্থা! কালো মেঘরাশির ন্যায় চুলগুলো থেকে চুইয়ে পড়ছে পানি। বৃষ্টির ফোঁটা আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছে সপ্তদশীর তুলতুলে গোলাপি অধর। এটুকুতেই হুট করে হিংসে ধরল যুবকের মনে। দাঁতে দাঁত চেপে যেইনা সপ্তদশীর ঠোঁটের পানে হাত বাড়াবে ওমনি ঘটল আরেক বজ্রপাত! এবারেও ভয়ার্ত মাহি স্থানকাল ভুলিয়ে আচমকা মুখ লুকোলো নির্দয় মানবের বুকে। আগের ন্যায় ভয়ার্ত কন্ঠে আওড়াল,
“ আমার…ব-ভয় লাগছে বিস্ট!”
যুবকের বুকটা আজ হঠাৎ ওমন অদ্ভুত প্রশান্তিতে ছেয়ে গেল কেনো? তার হৃদয় ওমন দ্রুত ছুটছে কেনো? হাতদুটো নিশপিশ করছে কেনো মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরতে? জানেনা মুগ্ধ! জানেনা নিজের এহেন হুটহাট পরিবর্তনের কারণ। সে শুধু মুখ নামিয়ে আনল সপ্তদশীর কান বরাবর। অতঃপর ফিসফিসিয়ে বলল,
“ বিস্টের বুকে লুকোতে ভয় লাগছেনা চাশমিসের?”
জবাব দিলো না সপ্তদশী! এতে বুঝি সাহস বাড়ল মুগ্ধের। যুবক নিজ অজান্তেই চোখ বুজঁল। সিক্ত অধরজোড়া খানিক নাড়িয়ে আনমনে বিড়বিড় করে বলল,
মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৫
“ পুরুষ মানুষের প্রেমে পড়তে লাগে একমুহূর্ত,
অথচ সে-ই প্রেম ভুলতে লাগে গোটা এক জনম! কি দরকার একটা নির্দয় বিস্টকে নিজের মায়ায় জড়ানোর? আমি বলেছি তোকে, তুই আমার হ? বলিনি তো! তাহলে সে-ই ঘুরেফিরে তুই শুধু আমার বুকেই নিজেকে লুকাস কেনো চাশমিস? এর পরিণতি ঠিক কতোটা ভয়ংকর হতে পারে, সেই ধারণা কি আদৌও আছে তোর?”

Apu porer part ta diyen early 🖤 by the way golpota khub sundor hoise 🖤🖤