Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬
jannatul firdaus mithila

“পুরুষ মানুষের প্রেমে পড়তে লাগে একমুহূর্ত,অথচ সে-ই প্রেম ভুলতে লাগে গোটা এক জনম! কি দরকার একটা নির্দয় বিস্টকে নিজের মায়ায় জড়ানোর? আমি বলেছি তোকে, তুই আমার হ? বলিনি তো! তাহলে সে-ই ঘুরেফিরে তুই শুধু আমার বুকেই নিজেকে লুকাস কেনো চাশমিস? এর পরিণতি ঠিক কতোটা ভয়ংকর হতে পারে, সেই ধারণা কি আদৌও আছে তোর?”
যুবকের লোমহীন পেটানো বক্ষে পেঁজা তুলোর ন্যায় মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মায়াবিনী সপ্তদশী। সর্বাঙ্গ কাঁপছে তার। যুবকের ওমন হৃদয় নিঙড়ানো বাক্য আদৌও তার কানে পৌঁছুল কি-না কে জানে! তার হাত-পা যেন ঠান্ডায় অসার হয়ে যাবার যোগাড়। সপ্তদশীর হুঁশ নেই! হুঁশ থাকলে থোড়াই মুখ লুকোতো বিস্টের বুকে? এদিকে রূঢ় মানবের বুক কাঁপছে দুরুদুরু। বিচুক্ষণে মস্তিষ্ক তার একাধারে ধিক্কার জানাচ্ছে তাকে। বারেবারে উষ্কানি দিয়ে বলছে —

“ শত্রুর মেয়েকে মা’রতে এসে, শেষমেশ তাকে বুকে জড়িয়ে রাখতে লজ্জা হচ্ছে না দ্য গ্রেট রুশদী কিংয়ের? তাকে সরিয়ে দিচ্ছিস না কেনো? ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দে মেয়েটাকে।”
যুবকের নির্দয় মস্তিষ্ক নিজ বাক্যে অটল! কত-শত গালমন্দ করে যাচ্ছে যুবককে। অথচ কান্ড দেখো! যেই শ্যাডো মনস্টারের নির্দয় কর্মকাণ্ড দেখে সবাই তাকে তকমা দিয়েছে — সে হার্টলেস, আজ সেই শ্যাডো মনস্টারের বুকের খাঁচায় লুকায়িত অঙ্গটা এক অতি সাধারণ সপ্তদশীর উষ্ণ সংস্পর্শে এসে আন্দোলিত হচ্ছে ঘোড়ার বেগে। থামাথামির নাম নেই আজ! যুবক বড্ড শান্ত। পাহাড়ের ন্যায় অটল তার বুক! হাতদুটো দুপাশে নামিয়ে রাখা, মুঠোবন্দি হয়েছে নিশ্চয়ই। তার ভেতর ভেতর সে-কি তৎপরতা মেয়েটাকে বুক থেকে সরানোর, অথচ বেয়াদব হাতদুটো আজ বড্ড অবাধ্য হয়েছে মালিকের। নিজেদের অবাধ্যতার সকল মাত্রা ছাড়িয়ে কিছুতেই উঠছেনা তারা! যুবক অস্থির এপর্যায়ে। বুকের ওঠানামার গতি বড়ো জোরালো তার। উন্নত নাসারন্ধ্রের সরু ছিদ্র গলিয়ে ফোঁস ফোঁস করে বেরুচ্ছে উষ্ণ নিশ্বাস। যুবক হারিয়ে যাচ্ছে, সে হারিয়ে যাচ্ছে সপ্তদশীর মায়ায়। বুক বরাবর নারী কায়ার মাতাল উষ্ণতা বড্ড পোড়াচ্ছে তাকে। মনে জেঁকে ধরছে নানান উদ্ভট কর্মের চিন্তাভাবনা। মুগ্ধ ঢোক গিলল সামান্য।

ওমন একটা ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও গলার কাছটায় হুটহাট এহেন খড়া নামল কেন কে জানে! কন্ঠনালীর আকর্ষণীয় উঁচু হাড়খানা খানিক নাড়িয়ে ফের ঢোক গিলল সুদর্শন। দাম্ভিকতার উঁচু শৃঙ্গে আবর্ত ঘাড়টা সামান্য ঝুঁকিয়ে বুক বরাবর সরু দৃষ্টে তাকায় যুবক। সিক্ত সপ্তদশীর কাঁপা কাঁপা বদনখানি নিজ শক্ত বক্ষের মাঝে লুকিয়ে থাকতে দেখে আনমনেই মুগ্ধের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে মুচকি হাসির রেশ। মনের কু-প্ররোচনায় যুবক অজান্তেই ডানহাতখানা ধীরে ধীরে মাহি’র গায়ে উঠিয়ে আনতে তৎপর হলো। তার রুক্ষ হাতের ছোঁয়া প্রায় ছুঁই ছুঁই সপ্তদশীর পিঠ, ঠিক তখনি আকাশভাগ কাঁপিয়ে ফের গর্জন তুলল মেঘ! এহেন গর্জনে তক্ষুনি ঘোর ভাঙল যুবকের। এতক্ষণের মায়াডোর থেকে মুহুর্তেই ছিটকে বেরিয়ে গেল কেমন! মস্তিষ্ক তার তৎক্ষনাৎ কড়াকড়ি আরোপ তুলল —
“ ও তোর শত্রুর মেয়ে! তোর মায়ের হ-ত্যাকারীর মেয়ে। শ্যামোপ্তী দেবীর হত্যা-কারীর মেয়ে!”

সহসা মুখাবয়বে পরিবর্তন নামল মুগ্ধের। এতক্ষণের সদ্য পরিস্ফুটিত স্নিগ্ধতা ফুরিয়ে গিয়ে সেথায় এবার ভর করল এক আকাশসম ঘৃণা! চোখদুটোয় নেমেছে সেই পুরনো আগুন। যুবক চোয়াল ফুটিয়েছে শক্তভাবে। পাথুরে বক্ষের মাঝে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা সপ্তদশীকে তৎক্ষনাৎ এক ঝটকায় বুক থেকে ছাড়িয়ে সম্মুখে দাঁড় করায় সে। গজগজ করতে করতে মেরুদণ্ড সামান্য বাঁকিয়ে, জমিনে পড়ে থাকা ওভারকোটখানা একটানে তুলে নেয় হাতে। অতঃপর শীরঁদাড়া সোজা করে সম্মুখে জবুথবু অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা সিক্ত সপ্তদশীর পানে চোখ পাকিয়ে তাকায় মুগ্ধ। ভাগ্যিস সপ্তদশী চিবুক নামিয়েছে কন্ঠায়! নয়তো যুবকের ওমন চোখ পাকানো দেখে আরেকদফা ভয়ে চেঁচাত বেচারি। রূঢ় মানব হিসহিসিয়ে যাচ্ছে। সাপের ন্যায় ফোঁস ফোঁস করতে করতে হাতে থাকা ওভারকোটটা আলগোছে টেনে দেয় সিক্ত সপ্তদশীর গায়ে। গলায় একরাশ ঝাঁঝ ঢেলে কর্কশ কন্ঠে আওড়ায় সে,

“ যখন-তখন পরপুরুষের বুকে মুখ লুকাতে লজ্জা করে না তোর বান্দীর মেয়ে? এখন আমি যদি সুযোগ পেয়ে কিছু করতে যাই তাহলে দেখা যাবে কাঁদতে কাঁদতে পরদিন সকালে মরে-টরে ভূত হয়ে বসে আছিস। ছ্যাহ! ছ্যাহ! মেয়ে মানুষ যে এতো নির্লজ্জ হয় তাতো জানতাম না! বুক দেখলেই মুখ লুকাতে চলে আসে নির্লজ্জদের মতো। যা ঘরে যা নির্লজ্জ মেয়েছেলে!”
কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বেরুচ্ছে সপ্তদশীর। ফর্সা কপোলদ্বয়ে ইতোমধ্যেই ছেয়ে গিয়েছে ঈষৎ লালাভ আবরণ। সরু নাকের ডগাটা রঙ ধরেছে টুকটুকে লালের। সপ্তদশী ভারী লজ্জিত নিজ কান্ডে। লজ্জায় নিচু হয়েছে মাথা! যুবকের চোখের সনে চোখ মেলাবার জো নেই আর। সপ্তদশী অপরাধী কন্ঠে মিনমিনিয়ে অল্প করে বলল,
“ সরি!”
কথাখানা গায়ে ধরল না যুবকের। সে উল্টো হাত ঠেকিয়েছে কোমরের দু’পাশে। চোয়ালের পেশী টানটান করে মুখ ঘুরিয়েছে। দাঁত খিঁচে হুংকার ছুঁড়ে আওড়াল,
“ আই সেইড গো ব্যাক টু ইউ্যর রুম জানোয়ারের বাচ্চা!”

আঁতকে ওঠে মাহি। ত্বরিত পাদু’টোয় গতি টেনে হাঁটা ধরল সম্মুখে। তবে দু-কদম এগোতেই পথিমধ্যে পা থামে তার। সবুজ দূর্বাঘাসের জমিনে উবুড় হয়ে পড়ে আছে এডউইন, বেচারার বাহু হতে গলগলিয়ে বেরুচ্ছে তাজা লহু। এহেন দৃশ্য দেখামাত্রই চমকে উঠে মাহি। নরম-সরম মনের উদ্বিগ্নতা দেখিয়ে আহতের পানে অগ্রসর হতে গেলেই পেছন থেকে একখানা শক্তপোক্ত হাত এসে আচমকা আঁকড়ে ধরে তার ঘাড়। ভড়কায় মাহি! ঘাড় নাড়ানোর সাধ্যি না পেয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতেই শুনতে পেল মনস্টারের ঝাঁঝাল কন্ঠ!
“ সোজা নিজের ঘরে যা বান্দীর মেয়ে। যার-তার জন্য দরদ দেখাতে গেলে একদম কলিজা ছিঁ-ড়ে হাতে ধরিয়ে দিব। মাইন্ড ইট!”
ভয়ার্ত ঢোক গিলল মাহি। মাথা কাত করল এক-আধবার। পেছন থেকে ঘাড় ছাড়ল মুগ্ধ। ছাড়া পেয়েই সপ্তদশী কদম বাড়ায় সম্মুখে। হাঁটতে বড়ো হিমশিম খাচ্ছে বেচারি। লোকটা গায়ের ওপর ওমন বড়ো একখানা ওভারকোট দিয়েছে যা তার উচ্চতার দ্বিগুণ। হাঁটতে গেলে পায়ে লাগছে বেশ। মাঝেমধ্যে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ার প্রবনতাটাও বাড়ছে ক্রমশঃ। এদিকে পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে আড়দৃষ্টে সপ্তদশীর কান্ড দেখে যাচ্ছে রূঢ় মানব। আগ বাড়িয়ে মেয়েটাকে সাহায্য তো করলই না, উল্টো দাঁত খিঁচে ঘাড় ডলতে ডলতে আওড়াল,
“ বান্দীর মেয়ে বড়োও হচ্ছে না!”

পেন্টহাউজের ক্রিমসন চেম্বার! চকচকে কাঁচের তৈরী ফ্লোরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বিদেশি নামি-দামি ব্র্যান্ডের মদের বোতল। বেশিরভাগ কাঁচের বোতলগুলো শূন্য! কোনোটা দাঁড়িয়ে আছে অবহেলায়, তো আবার কোনোটা গড়াগড়ি খাচ্ছে ফ্লোরে। শীতল মেঝেতে এক পা ছড়িয়ে, আরেক পা ভাঁজ করে বসে আছে মুগ্ধ। একহাতে তীব্র ঝাঁঝাল হুইস্কির বোতল তুলে গপগপিয়ে গিলে যাচ্ছে তেঁতো স্বাদযুক্ত এলকোহল। আশ্চর্য! যুবক আজ এতো এতো ম’দ গিলছে তবুও নেশা চড়ছে না তার। বুকটা কেমন পুড়ছে ভীষণ! বড্ড জ্বালাচ্ছে হৃদয়টা। লোমহীন ফর্সা উদোম বক্ষের চারপাশে কেমন লাল হয়ে আছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বরফ পানির নিচে সাঁতরে এলে তো এমন হবেই! সপ্তদশীর সামান্য একটু ছোঁয়ায় এখনো বুক জ্বলছে রূঢ় মানবের। এর কারণ জানা নেই তার। না আছে জানার স্পৃহা! একনাগাড়ে ওতোবড় হুইস্কির বোতলটা সম্পূর্ণ খালি করে তবেই থামল মুগ্ধ। মাথাটা ঝিমঝিম করছে এপর্যায়ে। চোখদুটোয় ভর করেছে রাজ্যসম ক্লান্তি। যুবক আলগোছে মাথা ঠেকালো পেছনের ডিভানের কোলে। চোখদুটো ক্লান্তিতে মুদে গিয়েছে তার। ঝিমঝিমানো মস্তিষ্কে তখনো পুনরাবৃত্তি চলছে সন্ধ্যের বৃষ্টি ভেজা ঘটনাটা। সপ্তদশীর হুট করে তাকে জড়িয়ে ধরা, তার পুরো সত্তা এক নিমিষেই নড়ে ওঠা। হঠাৎ করেই নিজেকে হারিয়ে ফেলা! এসব কেনো হচ্ছে তার সঙ্গে? কেনো বারবার মেয়েটাকে মা’রতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে শ্যাডো মনস্টার? এতো এতো কেনো-র যৌক্তিক উত্তর নেই যুবকের কাছে। এ নিয়ে ভাবতে গেলেই মস্তিষ্ক বারংবার ফাঁকা হচ্ছে তার। তা নিয়ে বড়ো বিরক্ত মুগ্ধ। তিতিবিরক্ততায় মুখ কুঁচকে শক্ত হাতে আচানক চাপড় বসালো নিজ গালে। চোখদুটো বুঁজে রেখে নিজেকে শাসিয়ে আওড়াল,

“ খবরদার ঐ বান্দীর মেয়েকে নিয়ে ভাববি না। ওকে মা’রতে হবে! যে করেই হোক আগামী একমাসের মধ্যে ওকে মা’রতে হবে।”
নিজেকে বোঝাচ্ছে রূঢ় মানব। অথচ মনটা কি আর ওতো সহজে বাঁধ মানে? তার মস্তিষ্ক এক কথা বললে মন বলে উল্টোটা। এই যে এখনো বেয়াদব মনটা কেমন আকুপাকু করছে মেয়েটাকে একটু দেখতে। নিজ মনের এহেন সাংঘাতিক চিন্তাভাবনায় রাগান্বিত মুগ্ধ। রাগে গজগজ করতে করতে তক্ষুনি মনের কোণে উত্থাপিত হওয়া বেয়াদব আবদারটাকে একপ্রকার চুলোয় চড়িয়ে, সে কেমন গা এলিয়ে দিলো ডিভানে। একপা ছড়িয়ে রাখা তার, আরেক পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে, হাতদুটো ঝুলিয়ে রাখল ডিভানের দুপাশে। কপাল গুছিয়ে চোখের পাতা বন্ধ করে যেইনা একটু ঘুমানোর প্রয়াস চালাবে যুবক, ওমনি মানসপটে ভেসে উঠল — সপ্তদশী সিক্ত ক্ষুদ্র দেহটা। বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা যা ছুয়ে দিচ্ছে সপ্তদশী সর্বাঙ্গ। সহসা পাহাড়সম দেহটায় ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে মুগ্ধের। চোখদুটোর পর্দা সরে গেল তক্ষুনি। সে কেমন চোয়াল শক্ত করে কপাল গোছালো পরক্ষণে। দু’হাতে নিজের ভেজা চুলগুলো মুঠোয় চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড়াল,
“ হোয়াট দ্য ফা’ক আ’ম সিইং? বারবার ঐ বান্দীর মেয়েকে দেখছি কেনো? ওহ গশ!”
মুগ্ধ অস্থির হচ্ছে ক্রমশ। এদিক-ওদিক শরীর ঘুরিয়ে চোখ বুঁজেও রেহাই মিললো না তার। চোখদুটো বুঁজলেই কল্পনায় ভেসে ওঠে মাহি’র মুখ। যুবক বিরক্ততায় একপর্যায়ে উঠে বসে শোয়া ছেড়ে। শক্ত হাতে ঘাড় ডলতে ডলতে চোয়াল কটমটিয়ে বলে ওঠে,
“ একটা হাফ ইঞ্চি বান্দীর মেয়ের কতবড় সাহস, আমার রাতের ঘুম কাড়ে! একটাবার শুধু সুযোগ বুঝে হাতের কাছে পেয়ে নেই তোকে বান্দীর মেয়ে, আই সয়্যার তোর প্রতিটা রাতের ঘুম হারাম করে ছাড়ব আমি। বেয়াদবের বাচ্চা একটা!”

“ হেচুঁওওওওও!”
নরম টিস্যুতে নাক মুছছে সপ্তদশী। ঠান্ডায় ভার হয়েছে নাক! গতকালকের ওমন হুটহাট বৃষ্টি ভেজায় বড্ড কাহিল অবস্থা তার। মাথায় ভর করেছে দু-মন ভার। নাক-মুখও তো ফুলে গিয়ে যাচ্ছে তা-ই অবস্থা বেচারির। নাকের ডগায় একের পর এক টিস্যুর ঘষামাজায় চামড়া উঠে যাবার যোগাড় বেচারা সুন্দর নাকটার। রঙ ধরেছে পাকা টমেটোর ন্যায়! সপ্তদশী একের পর এক হাঁচি দিয়ে যাচ্ছে। এমুহূর্তে এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা কফি খেতে পারলে বোধহয় বড্ড ভালো লাগতো। কিন্তু শরীর নাড়িয়ে নিচে যাবার শক্তি পাচ্ছে না বেচারি। তাইতো আদুরে বেড়াল ছানার ন্যায় গায়ে পাতলা ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে বসে আছে ডিভানে। পায়ের কাছে বসে আছে কিউটি, মুখভর্তি গাজর নিয়ে চিবুচ্ছে একা একা। তার আর মনিবের পানে খেয়াল নেই। খাবার পেয়ে আয়েশে চেবানোয় মত্ত পোষ্য কিউটি। ডিভানের নরম গদির কোলে মাহি মাথা এলিয়ে বসল এবার। চোখদুটো সামান্য নিবুনিবু হতেই আচমকা কর্ণকুহরে ভেসে এলো অতিপরিচিত গমগমে কন্ঠ!

“ ওহে শেষ নবাবের বংশধর! চাল ওঠ।”
মুহুর্তেই হড়বড়িয়ে ওঠে মাহি। নিবুনিবু চোখদুটোর পর্দা থেকে এক নিমিষেই সরে গেল সকল তন্দ্রা। হকচকিয়ে সম্মুখে তাকাতেই সপ্তদশীর ললাটে ভাঁজ পড়ল গোটাকয়েক। কয়েক হাত দুরত্বে দু’হাত পকেটে গুঁজে ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে মাফিয়া বিস্ট, পরনে একখানা ঘিয়ে রঙা ঢিলেঢালা ট্রাউজার, আর গায়ে জড়িয়ে আছে কালো রঙা ফিনফিনে শার্ট। যুবক কেন যে শার্ট পরে কে জানে! যতবার গায়ে শার্ট জড়িয়েছে ঠিক ততবার যুবকের ফুলেফেঁপে থাকা মাসেলগুলো যেন টেনেহিঁচড়ে শার্টের বাঁধন থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছে। আজও হলো তাই! পাতলা ফিনফিনে শার্টের আড়ালে যুবকের পেটানো দেহ স্পষ্ট। তার মুখো অভিব্যাক্তিতে এখনো নজর পড়েনি মাহি’র। পড়লে হয়তো দেখতে পেতো — মাফিয়া বিস্ট কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার পানে। মুগ্ধ কপাল গোছালো এবার। নাক ফুলিয়ে চোয়াল শক্ত করে ধমকে বলল,

“ নির্লজ্জ মেয়েছেলেদের মতো কথায় কথায় আমার বডির দিকে তাকাবি না বান্দীর মেয়ে। নজর লাগবে!”
হতবিহ্বলের ন্যায় চোখ তুলল মাহি। হতবাকতার শীর্ষে পৌঁছেছে বেচারি। পরক্ষণে নিজ চোখের বেহায়া কর্মকাণ্ডে লজ্জিত হয়ে, ঘাড় নামিয়ে জিভের ডগায় দাঁত বসালো অলক্ষ্যে! মুগ্ধ এগোয় এবার। মুখাবয়বে একরাশ কঠোরতা লেপ্টে গমগমে গলায় শুধায়,
“ রাতের জন্য তৈরী থাকবি বান্দীর মেয়ে! টুডে আ’ম ফিলিং হাঙ্গরি।”
তৎক্ষনাৎ আঁতকে ওঠে মাহি। চোখেমুখে এক আকাশসম ভয় লেপ্টে মিনমিনে স্বরে জিজ্ঞেস করে,
“ প-প্রা-প্রাডাও আসবে?”
বাদামী ঠোঁটজোড়ার নিখুঁত রেখায় টান বসাল রূঢ় মানব। রহস্যময় বাঁকা হেসে পরক্ষণেই শুধালো,
“ আবার জিগায়!”
ভয়ে আত্মা উড়ে যাবে যাবে ভাব মাহি’র। চোখের পলক পড়ছেনা বেচারির। গায়ে জড়ানো ব্ল্যাঙ্কেটটা খানিক টেনেটুনে আনল সে। ওদিকে মুগ্ধ তখন পা বাড়িয়েছে উল্টো পথে। পেছন থেকে হুট করেই মাহি কেমন ভয়ে ভয়ে আওড়াল,

“ প্রাডাকে না আনলে হয় না?”
থামল মুগ্ধের ব্যস্ত কদম। ঘাড় কাত করে আলগোছে চাইলো পেছনে। ঠোঁটের কোণে তীর্যক ব্যাঙ্গাত্মক হাসি ফুটিয়ে যুবক পায়ের গতি ঘোরালো ফের। ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে আচমকা ঝুঁকে দাঁড়াল মেয়েটার দিকে। এহেন কান্ডে ভড়কায় মাহি। শরীরে ব্ল্যাঙ্কেট চেপেচুপে পিছিয়ে যায় একটুখানি। যুবক ক্রুর হাসলো তা দেখে। চোখেমুখে অদ্ভুত দুষ্টুমি লেপ্টে আচানক হাত বাড়িয়ে আঁকড়ে ধরে মাহি’র কন্ঠা। হাতের বাঁধন আজ খানিকটা ঢিলেঢালা মুগ্ধের, ব্যথা পাচ্ছে না মাহি। যুবক নিজ উদ্যোগে টানছে মাহির ক্ষুদ্র মুখখানা। সপ্তদশীর মুখ নিজ মুখের বড্ড কাছাকাছি আনতেই অস্বস্তিতে মোচড়ে ওঠে মাহি। নাক-মুখ কুঁচকে চেঁচিয়ে বলে ওঠে,
“ ছাড়ুন আমায়!”
তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটল সুদর্শনের ঠোঁটের কোণে। সে কেমন একদৃষ্টে মাহির মুখপানে তাকিয়ে থেকে হিসহিসিয়ে আওড়ায়,

“ নতুন কিছু বল বান্দীর মেয়ে!”
নাকের পাটা ফুললো মাহি’র। অস্বস্তিতে চোখ খুলবার জো নেই তার। কপাল কুঁচকে দাঁত খিঁচে কেবল শুধালো,
“ নির্লজ্জ অসভ্য লোক!”
এতক্ষণের ক্ষুদ্র হাসিটা বুঝি গাঢ় হলো যুবকের। গালের ভাঁজে জিভের ডগা ঠেলে নিরবে হাসল সে। বাঁকা কন্ঠে পরক্ষণেই বলল,
“ নাইস নেমস, তারপর?”
রাজ্যসম বিরক্তি ছেয়ে গিয়েছে সপ্তদশীর মুখাবয়বে। মেয়েটা কেমন তিতিবিরক্ত কন্ঠে গজগজ করতে করতে আওড়াল —
“ আপনার হাত সরান অসভ্য বিস্ট।”
যুবক নির্বিকার! ধীরে ধীরে এগোচ্ছে মাহি’র মুখপানে। সপ্তদশীর নরম নাকের ডগা ছুঁই ছুঁই তার লম্বাটে নাকের ডগা। সে কেমন আগের ন্যায় ভাবলেশহীন কন্ঠে আওড়াল,
“ সরাবো না, কি করবি বান্দীর মেয়ে?”
“ আমি..আমি চেঁচাবো কিন্তু!”

কথার পিঠে এহেন বোকাসোকা উত্তর শুনে একমুহূর্ত স্থবির চোখে চেয়ে রইল মুগ্ধ। পরক্ষণেই যুবকের বাদামী ঠোঁটজোড়া প্রশস্ত হলো শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে। কন্ঠে একরাশ তাচ্ছিল্য ফুটিয়ে শুধালো,
“ ওহ রিয়েলি বান্দীর মেয়ে? তাহলে আর দেরি কিসের? কাছে আয় না! দেখ কি সুন্দর করে, তোর চিৎকার দেওয়াটা যেন বিফলে না যায় সেই কাজটা করে দিই! আয় আয় বান্দীর মেয়ে, তারাতাড়ি আয়! এমনিতেই কাল থেকে তুই বড্ড জ্বালাচ্ছিস।”
আঁতকে ওঠে মাহি। তৎক্ষনাৎ চোখদুটো এক ঝটকায় খুলে নিয়ে চেঁচিয়ে বলে ওঠে,
“ খবরদার কাছে আসবেন না!”
এহেন কথায় থোড়াই থামে অসভ্য বিস্ট! সে উল্টো জোর বাড়ালো হাতের। মুখোব্যাক্তিতে পরিবর্তন এনে কপাল গোটালো আলগোছে। চোয়ালের পেশী টানটান করে, দাঁতে দাঁত চেপে কটমটিয়ে আওড়াল,
“ ইউ নো হোয়াট বান্দীর মেয়ে? ফা’ক ইউ্য এন্ড ইউ্যর ফা’কিং ওয়ার্ডস!”
কথাটা বলেই এক ঝটকায় সপ্তদশীর কন্ঠনালী ছেড়ে দেয় মুগ্ধ। চোখেমুখে একরাশ কঠোরতা লেপ্টে হাত গুঁজল পকেটে। এক-দু সেকেন্ড পকেট হাতড়ে পরক্ষণেই বের করে আনে মোটা সিগার এবং লাইটার। নিজ অসভ্যতায় বিলকুল রাখঢাক না রেখে মেয়েটার সামনেই ধরালো সিগারখানা। ঠোঁটের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগার গুঁজে লম্বা লম্বা দুটো টান বসিয়ে, মুখভর্তি ধোঁয়া ছাড়ল মাহি’র নাকমুখ বরাবর। সহসা দুর্গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে মাহির। সপ্তদশী নাকমুখ কুঁচকে নেয় সঙ্গে সঙ্গে। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা রূঢ় মানব কেমন গমগমে গলায় বলে ওঠে,
“ তৈরী থাক! গলায় কতো তেজ হয়েছে তা আজ রাতে দেখব!”
বলেই পা ঘোরায় মুগ্ধ। সিগারে টান বসিয়ে দু-কদম অগ্রসর হতেই আচমকা কর্ণকুহরে ভেসে এলো সপ্তদশীর হাঁচির শব্দ!
“ হেচুঁওওওওও!”

মুহুর্তেই স্থবির হলো যুবকের সর্বাঙ্গ। সেকেন্ড পেরুতে না পেরুতেই আবার শুনতে পেল একই শব্দ। তৎক্ষনাৎ উদ্ভ্রান্তের ন্যায় কদম ছুটিয়ে মাহি’র পানে এগিয়ে আসে মুগ্ধ। হাতের জ্বলন্ত সিগারটা এক ঝটকায় ছুঁড়ে ফেলে ঘরের অন্যত্র। মেয়েটার কাছে এগিয়ে এসে মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে, রূঢ় মানব কেমন অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগল,
“ হেই! হেই চাশমিস! হোয়াট হ্যাপেন্ড টু ইউ্য? তুই হাঁচি দিচ্ছিস কেনো?”
সপ্তদশীর ফের হাঁচি আসার যোগাড়। যার দরুন উত্তর দেবার অবস্থায় নেই সে। ওদিকে মুগ্ধ যে বড্ড বিচলিত। কেমন উদ্ভ্রান্তের ন্যায় মেয়েটার কাঁধ ঝাঁকিয়ে অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞেস করতে লাগল,
“ এই জানোয়ারের বাচ্চা উত্তর দে! কি হয়েছে তোর? আমাকে বল, কোথায় কষ্ট হচ্ছে? এই মেয়ে!”
বলতে বলতেই আরেকবার হাঁচি দিয়ে বসে মাহি। তা দেখে মুগ্ধ কেমন উম্মাদের ন্যায় গলা উঁচিয়ে ডেকে ওঠে,
“ গার্ডস!”

মনিবের এক ডাকে হাজির বেশ ক’জন গার্ডস। মুগ্ধ কেমন অস্থির হয়ে সকলকে হুকুম ছুঁড়ে বলল,
“ এক্ষুণি এয়ার এম্বুল্যান্স আন! ডক্টর ডাক। তারাতাড়ি কর বাস্টার্ড’স। ওর কষ্ট হচ্ছে! তারাতাড়ি কর জানোয়ার বাচ্চারা, তারাতাড়ি কর।”
ক’জন গার্ডস তক্ষুনি হন্যে হয়ে ছুটল বাইরে। উপস্থিত আর-ও দু’চারজন গার্ডস তখন হন্তদন্ত পায়ে বেরিয়ে গেল কক্ষ থেকে। এদিকে মুগ্ধ উদ্ভ্রান্তের ন্যায় এগিয়ে আসে মাহি’র পানে। তৎক্ষনাৎ মেয়েটার ক্ষুদ্র মাথার ওপর অনবরত হাত বুলিয়ে অস্থির কন্ঠে বলে,
“ কিচ্ছু হবে না তোর, আমি কিচ্ছু হতে দিব না তোর। এক্ষুণি ডক্টরের কাছে নিয়ে যাব তোকে। তোর কি হয়েছে আমায় একটু বল! কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোর চাশমিস? একটু বল না আমায়। আমার কেমন যেন লাগছে। এই এই.. তুই ঠিক আছিস?”

হতভম্বতায় ডুবেছে মাহি। লোকটা ওমন হুট করে বাঁদরের মতো লাফাচ্ছে কেনো? এই না তাকে বকছিল, এরইমধ্যে আবার কি হলো। মাহি কেমন কপাল গুটিয়ে চোখ তুলে তাকাল ব্যাকুল মুগ্ধের পানে। মুগ্ধ বড়ো বিচলিত! অবুঝের ন্যায় ঘাড় ডলছে অনবরত। বিড়বিড়িয়ে কি যে আওড়াচ্ছে কে জানে! সপ্তদশী কাঁপা কাঁপা ঠোঁট যুগল নাড়িয়ে যেইনা কিছু বলবে তার আগেই ঘটল আরেক কান্ড! যুবক তক্ষুনি এক ঝটকায় মেয়েটাকে তুলে নিলো কাঁধে। অতঃপর জোরালো পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটতে লাগল প্রশস্ত করিডর দিয়ে। ছুটতে ছুটতে ব্যাকুল কন্ঠে বিড়বিড় করছে সে,
“ আমার চাশমিস! আমি বেঁচে থাকতে কিচ্ছু হবে না তোর। তুই সুস্থ হয়ে উঠবি! একদম সুস্থ হয়ে উঠবি। আবারও আমার সাথে ঘাড়ত্যাড়ামি করবি, বকবি আমায়!”
মাহি স্পষ্ট শুনছেনা উম্মাদ যুবকের আওড়ানো বাক্য। যুবকের ওমন ছোটাছুটি দেখে ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছে সে। তৎক্ষনাৎ যুবকের পিঠ খামচে চোখ কুঁচকে বলে ওঠে,

“ আরে নামান আমায়! কি পাগলামো করছেন। আমি ঠিক আছি, জাস্ট ঠান্ডা লেগেছে বৃষ্টি ভেজার কারণে।”
তক্ষুনি ছোটাছুটি থামায় মুগ্ধ। হৃৎস্পন্দন বড্ড জোরালো তার। চোখেমুখে ব্যাকুলতা ভরা। সে তৎক্ষনাৎ আলতো করে ঘাড় থেকে নামায় মাহি’কে। ঢুলতে থাকা মাহি’র কাঁধ আঁকড়ে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ তাহলে আমার ঠান্ডা লাগল না কেনো? তোর একা ঠান্ডা লাগল কেনো? তুই একা কষ্ট পাচ্ছিস কেন? আমি পাচ্ছি না কেনো? সত্যি করে বল জানোয়ারের বাচ্চা, কি করেছিস তুই? ঠান্ডা লাগল কিভাবে?”
মহাবিপাকে পড়ল মাহি। মাথাটা ঘোরাচ্ছে তার। লোকটার কথাবার্তার আগামাথা খুঁজে না পেয়ে মেয়েটা বরং চুপ রইল। এদিকে মুগ্ধের অস্থিরতা বাড়ছে ক্রমশঃ। সে কি করছে, সেদিকে থোড়াই খেয়াল আছে তার! সে-তো অস্থির হয়েছে চাশমিসের জন্য। মুগ্ধ তখন চট করে আঁকড়ে ধরল মাহি’র নরম কব্জিসন্ধি। মেয়েটাকে নিজের সঙ্গে টানতে টানতে এগোলো এলিভেটরের দিকে। বিচলিত কন্ঠে বিড়বিড়ালো,
“ কিচ্ছু হবে না আমার চাশমিসের। কিচ্ছু হবে না।”

মিনিট খানেকের মাথায় এলিভেটর থামল গ্রাউন্ড ফ্লোরে। শ্যাডো মনস্টার ঝড়ের বেগে বের হলেন। একহাতে ধরে রেখেছে মাহি’কে, গলা উঁচিয়ে হুংকার ছুঁড়লেন,
“ গার্ডস!”
মুহুর্তেই হাজির গার্ডস! মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সকলে। মনস্টার কেমন হুংকার ছুঁড়ে আদেশ ছুঁড়লেন,
“ আগামী ১ ঘন্টার মধ্যে রাশিয়ার বেস্ট ডক্টরদের আমি আমার প্যালেসে চাই! পাতাল খুঁড়ে হোক কিংবা আকাশ চিঁড়ে, আগামী ১ ঘন্টার মধ্যে ওদের না আনতে পারলে, তোদের সবকটা’কে আমি আমার পে’টদের মধ্যে ভাগ করে দিবো। সো গো অন এভরিওয়ান।”
হুকুম তামিল করলেন সবাই। তক্ষুনি ঝড়ের বেগে ছুটলেন প্যালেসের বাইরে। ঠিক তখনি মাথা নুইয়ে জড়োসড়ো ভাব নিয়ে গ্রাউন্ড ফ্লোরে হাজির হলেন ডক্টর হায়া। বড্ড ইতস্তত কন্ঠে ভয়ে ভয়ে আওড়ালেন,
“ মনস্তার! ইফ ইউ্য ডোন্ট মাইন্ড, আমি উনাকে পরোখ করে দেখতে পারি।”
কথাটা শোনামাত্রই নাকচ করে ওঠে মুগ্ধ! গলায় গাম্ভীর্যের ছাপ ফুটিয়ে গর্জন তুলে আওড়াল,
“ ওকে নিয়ে আমি কোনো রিস্ক নিবো না। সো ফা’ক অফ!”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৫ (২)

পেছনে দাড়িয়ে থেকে মুখ কুঁচকায় মাহি। কপালে গাঢ় ভাঁজ ফেলে ত্যাড়ামি দেখিয়ে বলে,
“ উনি ডাক্তার না আপনি ডাক্তার? এতো বেশি বুঝেন কেনো? বললাম সামান্য ঠান্ডা লেগেছে। এরজন্য এতো তোলপাড় চালানোর কি আছে বুঝলাম না! সুস্থ করে সে-ই তো মা’রবেন!”
সহসা ঘাড় বাকিয়ে তাকায় মুগ্ধ। শক্ত চাহনি নিক্ষেপ করল মাহির পানে। তক্ষুনি মুখ বন্ধ করল মাহি। বলতে বলতে বেশি বলে ফেলেছে বুঝতে পেরেই মুখটা করল কাচুমাচু। মাথা নুইয়ে চিবুক কন্ঠায় ঠেকাতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো মুগ্ধের চিড়বিড় কন্ঠ!
“ তোকে কাবু করার অধিকার শুধু আমার হবে, অন্যকারোর নয়! এমনকি সামান্য একটা অসুখেরও নয়।”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩৬ (২)

7 COMMENTS

  1. কি যে সুন্দর গল্প টা বলার বাইরে উফফ ভালোই লাগে, নেক্সট পার্ট প্লিজ

  2. Thank you so much apuuuuu❤️‍🩹❤️‍🩹 love u so much porer part early dawwww by the way golpota vishon sundor hoyeche 🫶❤️‍🩹

  3. কি সুন্দর যে গল্প টা,এক কথায় ওয়াও,পরের পাট দেন

  4. আপু পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি 🤨😌💖💐🍁💗💗❤️❤️

  5. রানিং গল্প পড়লে যা হয় আরকি অপেক্ষা আর অপেক্ষা প্লিজ তারাতাড়ি পরের পর্ব দেন প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ

  6. Aree 2 din to hoise .akhon ontoto porer part ta den apu🙏😑bar bar check Kori aisa porer part asci ni.kinto ar ASE na..

Comments are closed.