মেজর কারদার পর্ব ১
ফিনারা ঝুমুর
বান্ধবীদের সাথে বাজি ধরে অচেনা আইডিতে নিজের একটি হ*ট, বো*ল্ট ছবি পাঠায় মেঘালয়া। ছবির নিজে লিখে দেয়,
“আজ রাতে তোমার সাথে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে চাই।”
মেসেজ পাঠিয়ে বিছানার ওপর পা তুলে বসে সে তার ফোনটা নাচাতে নাচাতে বান্ধবীদের দিকে তাকাল। ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফাতিহা, রাইসা আর তানিয়ার মুখের রক্ত যেন এক পলকে চুষে নিয়েছে কেউ।মেঘালয় ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা, শয়তানি হাসি ফুটিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দিল।
“বাজি জেতার ১২ হাজার টাকা দে। জলদি! মেঘালয়া যা বলে, তা করে দেখায়।”
ফাতিহা এবার আমতা-আমতা করে, শুকনো ঢোক গিলে মিনমিনিয়ে বলল, “আসলে মেঘু– আমাদের কাছে এই মুহূর্তে এতো টাকা নেই রে–”
“কীহ্!”
মেঘালয়ার গলার আওয়াজ এক ধাক্কায় সপ্তমে চড়ল। সে বিছানা থেকে লাফিয়ে নামল।
“শা*লী শাকচুন্নীর দল! তোদের কাছে টাকা নাই তাইলে আমার সাথে বাজি কেন ধরলি? ফাজলামো পাচ্ছিস? হয় আমার টাকা আমায় দিবি, না হলে আমার সম্মান আমার কাছে ফেরত দিবি। কুত্তী ছেরি!”
মেঘালয়ার চিল্লানিতে পুরো ঘর কাঁপছে। ফাতিহা পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মেঘের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
“আরে শান্ত হ! তোর ছবি মনে হয় ওপাশ থেকে এখনও দেখে নি। দাড়া, আনসেন্ড করে দিচ্ছি, ডিলিট করে দিচ্ছি সব!”
ফাতিহা কাঁপা কাঁপা আঙুলে মেসেজ অপশনে গেল। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার হাতের আঙুল জমে বরফ হয়ে গেল। মুখের রঙ চুন। বাকি দুটো মেয়েও ফাতিহার কাঁধের ওপর দিয়ে স্ক্রিনে উঁকি দিল। সবার চোখ চড়কগাছ।ছবিটার নিচে দুটো ব্লু টিক জ্বলজ্বল করছে।ছবি ইতিমধ্যে সিন হয়ে গেছে! শুধু তাই নয়, চ্যাট বক্সের ওপরের দিকে লেখা উঠছে। ‘টাইপিং’।
সবাই বেকায়দায় ফেঁসে গেছে, সেটা বুঝতে আর বাকি রইল না।
ফাতিহা থতমত খেয়ে ফোনটা মেঘালয়ার দিকে বাড়িয়ে দিল। গলার আওয়াজ কাঁপছে,
“মেঘ — আসলে–মেঘ আসলে হয়েছে কি–”
মেঘালয়া এবার ফেটে পড়ল। চাপা চিৎকার করে ফাতিহার কলার চেপে ধরল,
“বান্দীর বাচ্চা কি হয়েছে? তোর আমার বাচ্চা হইছে? কথা আটকে যাচ্ছে কেন?”
“দেখ– ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসছে–”
রাইসা ফিসফিসিয়ে বলল।ওদের এই চরম বাকবিতন্ডার মাঝেই ফোনটা টুং করে শব্দ করে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল ওপাশের সেই অচেনা আইডির মেসেজ। রাগ ভুলে চারজনই হুমড়ি খেয়ে পড়ল স্ক্রিনের ওপর।
“ওহ! মাই সুইটহার্ট। ইউ লুকিং সো হ*ট। একটু ওয়েট করো। আমি আসছি। এসে টি-টোয়েন্টি নয়, ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ খেলবো। খাট কাঁপাবো, জাস্ট ওয়েট ফর মি।”
মেসেজটা পড়েই ফাতিহা আর তানিয়া ভয়ে বিছানায় ধপ করে বসে পড়ল। মেঘালয়া স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল স্ক্রিনটার দিকে। রিপ্লাইয়ের ভাষা আর আত্মবিশ্বাস বলে দিচ্ছে, ওপাশের মানুষটা কোনো সাধারণ সস্তা ছেলে নয়।
ঠিক তখনই, চ্যাট বক্সের ওপরের প্রোফাইল পিকচারটায় মেঘালয়া ভালো করে তাকাল। এতক্ষণ খেয়াল করেনি, এবার জুমিং অপশনে গিয়ে দেখল ডিউটি পরা এক জোড়া তীক্ষ্ণ, গম্ভীর চোখ। ইউনিফর্মের কাঁধের এ্যাপোলেটে মেটালের একটা চমৎকার শাপলা জ্বলজ্বল করছে। যা স্পষ্ট জানান দিচ্ছে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর। আর তার ঠিক নিচেই মেটালের হরফে খোদাই করা আছে “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী”।
কিন্তু সেই মেজরের আসল পরিচয়টা নিশ্চিত হতেই মেঘের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল! সাক্ষাৎ যমের কাছেই নিজের এমন ছবি পাঠাতে গেল ও? এ যে ওর আপন বড় ভাই নোমান ইয়াসিনের একমাত্র বাল্যবন্ধু, জানেজিগার!
“ওরে আল্লাহ! এ কারে মেসেজ পাঠাতে দিলি রে! ও যদি জানতে পারে এই মাইয়াডা আমি, তাইলে আমারে জ্যান্ত কাইট্টা বুড়িগঙ্গার পানিতে ভাসাইবো!”
মেঘালয়া মাথায় হাত দিয়ে পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল। রাইসা, তানিয়া আর ফাতিহা এমনিতেই কাঁপছিল, মেঘের এমন ভয়ঙ্কর চিৎকার শুনে ওরা আরও বেশি ভয় পেয়ে যায়। মেঘের ফ্যাকাশে, ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ফাতিহা ভয়ে ভয়ে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে,
“এ-এনি কে রে মেঘ? এতো ভয় পাচ্ছিস কেন?”
“বড় ভাইয়ার বন্ধু -‘মেজর শীর্ষ কারদার অঙ্কন’!”
নামটা উচ্চারণ করতে না করতেই মেঘালয়ার চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে আসে। তীব্র ভয়ের চোটে মাথা ঘুরে সে ধপাস করে মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়ে। চোখের পলকে অজ্ঞান হয়ে গেছে মেঘ।
মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে থাকা মেঘের দিকে তাকিয়ে রাইসা, তানিয়া আর ফাতিহার কলিজা যেন এক মুহূর্তে পানিশূন্য হয়ে শুকিয়ে গেল।
সেদিন মেঘের কপাল ভালো ছিল যে আইডিটা ওর আসল নামে ছিল না, একদম নিখুঁত একটা ফেইক আইডি ছিল। আর ও ভয়ের চোটে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর বান্ধবীরা চালাকি করে চ্যাট হিস্ট্রি ডিলিট করে আইডিটাই পার্মানেন্টলি ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছিল।
কিন্তু আজ ছয় মাস পর, খালাতো ভাইয়ের বিয়েতে সেই যমদূতকে সামনাসামনি দেখে মেঘের আত্মা খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়!
“এ-একি মেঘ! তুই এতো ঘামচিস কেন? এসি তো ফুল স্পিডে চলছে।”
খালাতো বোন মিথিলার ধাক্কা আর কথায় বাস্তবে ফেরে মেঘ। সে ওড়না দিয়ে কপালের ঘাম মুছল। একটু দূরেই শেরওয়ানি পরা বরের পাশে দাঁড়িয়ে ওর বড় ভাই নোমানের সাথে গভীর কোনো আলোচনায় মগ্ন স্বয়ং শীর্ষ কারদার অঙ্কন। নেভি ব্লু কালারের ব্লেজারে তাকে দেখতে যতটা হ্যান্ডসাম লাগছে, তার চেয়ে দশ গুণ বেশি ভয়ঙ্কর লাগছে মেঘের কাছে।মেঘ ঢোক গিলে আঙুল তুলে শীর্ষকে দেখিয়ে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,
“উ-উনি– উনি তোদের এখানে কী করছেন?”
মিথিলা মেঘের আঙুলটা টেনে নামিয়ে হাসতে হাসতে বলল,
“আরেহ বুদ্ধু, উনি আমার নিজের আপন চাচাতো ভাই! আর্মিতে আছেন, মেজর। ভীষণ কড়া আর রাগী মানুষ। আমরা সব ভাইবোনেরা উনাকে বাঘের মতো ভয় পাই।”
মিথিলার কথা শুনে মেঘের ইচ্ছে করল এই মুহূর্তে বিয়েবাড়ির মেঝেটা দুভাগ হোক আর সে সোজা পাতালপুরীতে ঢুকে যাক! দুনিয়ায় এতো মানুষ থাকতে এই লোকটাই মিথিলার চাচাতো ভাই হবে?
“আমি–আমি একটু আসছি রে। ওয়াশরুমে যাব।”
মিথিলাকে কোনোমতে এড়িয়ে মেঘ হনহন করে হেঁটে একটা ফাঁকা রেস্টরুমে চলে আসল। ভেতরের ছিটকিনিটা আটকে দিয়ে সে পাগলের মতো পায়চারি করতে লাগল আর দাঁত দিয়ে নখ কাটতে লাগল। আয়নায় নিজের ফ্যাকাশে মুখটা দেখে নিজেকেই গালি দিতে ইচ্ছে করছে ওর।
“কোন বা*লে বলছিল ওইদিন বাজি ধরতে? এবার বোঝ ঠেলা মেঘালয়া! আইডি ফেইক ছিল বলে সেবার বেঁচে গেছিস, নোমান ভাইয়াও টের পায়নি। কিন্তু এই লোক যদি কোনোদিন কোনোভাবে বুঝতে পারে ওই রাতের মেসেজ আর ‘হট ছবি’ পাঠানো মেয়েটা আমি তাহলে আমার জ্যান্ত ইন্না-লিল্লাহ হয়ে যাবে! ডিফেন্সের মানুষ, ধরে নিয়ে এনকাউন্টার করে দিলেও কেউ টের পাবে না!”
মেঘ নিজের গালে নিজেই দুটো থাপ্পড় মারল মাথা ঠান্ডা করার জন্য। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“শান্ত হ মেঘ, শান্ত হ। আইডি তো ডিলিট করে দিয়েছিস। উনি তোকে সামনাসামনি কখনো দেখেনি ওই লুকে। চিল! একদম নরমাল থাকবি।”
ওর বকবকের মাঝে হঠাৎ করেই কাঠের দরজার ওপর সজোরে আঘাত পড়ল। আর তার পরপরই ওপাশ থেকে ভেসে এল সেই গমগমে, ধারালো গলা,
“রুমে কে ঢুকেছে? বের হও বলছি!”
শীর্ষর গলার আওয়াজ শুনে মেঘের কলিজা এক ঝটকায় মুখের কাছে চলে এল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দরজার দিকে তাকাল। আসলে ছোটবেলায় একবার খালার বাড়ি এসেছিল মেঘ, তখন ও এত ছোট ছিল যে শীর্ষ যে মিথিলার নিজের আপন চাচাতো ভাই সেটা ও জানতই না, সময়ের সাথে সাথে একদম ভুলে গিয়েছিল। আর বড় ভাই নোমানের সাথেও শীর্ষকে ও বড়জোড় বার দুয়েক দেখেছে দূর থেকে, তাই এই খিটখিটে মেজাজের আর্মি অফিসার সম্পর্কে ওর তেমন কোনো ধারণাই ছিল না।
এদিকে ওপাশ থেকে লাগাতার দরজায় কড়া নেড়েই চলেছে শীর্ষ। ওর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
“বের হবে নাকি দরজা ভাঙবো? ওয়ান–টু–”
মেঘ আর ঝুঁকি নিল না। তিন গোনার আগেই দ্রুত যেয়ে ছিটকিনি খুলে দরজাটা টেনে দিল। দরজা খুলতেই লম্বা-চওড়া দেহী শীর্ষ হুড়মুড় করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। নিজের বেড রুমে একজন অচেনা, ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শীর্ষ নিজের ঘন ভ্রু দুটো কুঁচকে নাচাল।
সে এক হাত পকেটে পুরে মেঘের ওপর-নিচ তাকিয়ে কড়া গলায় জিজ্ঞেস করল,
“হু আর ইউ?”
“ই-ইয়ে মানে— আমি– আমি কেউ না!”
মেঘালয়া ভয়ের চোটে তোতলাতে শুরু করল। ওখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব পালানোর জন্য যেই না ও হিল জুতো পরা পায়ে ঘর থেকে বের হতে যাবে, অমনি ঘটল অঘটন। ওর ভারী জাঁকজমকপূর্ণ লেহেঙ্গার ঘেরের সাথে নিজের পা পেঁচিয়ে গেল। ব্যালেন্স হারিয়ে সে সোজা সামনের দিকে চিতপটাং হয়ে পড়ে যেতে নিল।পড়তে পড়তেই মেঘ চোখ-মুখ খিঁচে চিৎকার জুড়ে দিল,
“ওরে আল্লাহ, আমারে বাঁচাও!”
মাটিতে পড়ার আগের ওই এক সেকেন্ডে মেঘের মাথায় দুনিয়ার সব আজগুবি চিন্তা ভর করল। সে হাত-পা ছুড়ে বিলাপের সুরে চিল্লানো শুরু করল,
“আমি মইরা গেলে আমার না হওয়া বাইচ্চা কাইচ্চার কি হইবো রে! আল্লাহ্রে আমারে বাঁচাও। হাসা কইতাছি, এহন থেইকা সব মাইনা চলমু। আমার না হওয়া স্বামীরে বিধবা কইরো না তুমি রেএএএএ!”
“হেই স্টুপিড গার্ল! জাস্ট শাট-আপ!”
কানের কাছে একটা বজ্রপাতের মতো ধমক শুনে মেঘালয়া পুরো আকাশ থেকে পড়ল। ভয়ার্ত চোখে এক চোখ খুলে তাকাতেই ও দেখল, ও মাটিতে পড়েনি। শীর্ষ নিজের শক্ত, দীর্ঘ হাত বাড়িয়ে ওর কোমর জড়িয়ে ধরে পতন থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু মেঘের মুখের একদম ইঞ্চি খানেক দূরত্বে এখন শীর্ষর সেই রাগী, গম্ভীর মুখ!
এত কাছ থেকে যমদূতকে দেখে মেঘের ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল। ভয়ের চোটে হাত-পা ছড়াছড়ি করতে গিয়ে ও নিজের ব্যালেন্স তো রাখতে পারলই না, উল্টো শীর্ষর ব্লেজারের কলারটা খামচে ধরল। ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো। হঠাৎ এই টানে শীর্ষও নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারল না। মেঘকে নিয়েই সে ধপাস করে ফ্লোরের ওপর পড়ে গেল!মেঝেতে পড়ার পর মেঘ টের পেল ওর ওপর প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার একটা বিশাল ভারী শরীর চেপে বসেছে। মেঘালয়ার দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। কোমড়াটাও বুঝি ভেঙ্গেছে। সে নিচ থেকে চোখ-মুখ কুঁচকে, চিল-চিৎকার জুড়ে দিয়ে বলল,
“আল্লাহ রে, গেছি রে আমি! ধামড়া হাতির চাপায় চিলে চ্যাপ্ট হইতাছি রে! ওরে কে কোথায় আছিস, আমারে এই জলহস্তি আর হাতির নিচ থেকে উঠা রে! বাঁচাও!”
“মাথা মোটা কোথাকার।”
রাগে গজগজ করতে করতে মেঘের ওপর থেকে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল শীর্ষ। নিজের নেভি ব্লু ব্লেজারটা টেনেটুনে সোজা করে সে মেঘের দিকে তাকাল। মেয়েটার কাণ্ডকারখানা দেখে তার মেজাজ চড়ে গেলেও, মাটিতে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের বড়, শক্ত হাতটা বাড়িয়ে দিল।
“হাত ধরে উঠে এসো।”
মেঘালয়া তখনো ফ্লোরে পড়ে আছে, ওর মাথা ঘুরছে। ও বোবা বোবা চাহনি দিয়ে শীর্ষর দিকে তাকাল, যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না ও বেঁচে আছে। কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে সে শীর্ষর শক্ত হাতটা শক্ত করে ধরল ওঠার জন্য। শীর্ষ যখন আলতো টানে মেঘকে ওপরের দিকে তুলছিল, ঠিক তখনই মেঘের জাঁকজমকপূর্ণ লেহেঙ্গার চওড়া ওড়নাটা একপাশে সরে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই শীর্ষর তীক্ষ্ণ চোখের নজর গিয়ে পড়ল মেঘের উন্মুক্ত, ফর্সা উদরে। কূপের মতো গভীর না/ভির ঠিক পাশেই একটা কুচকুচে কালো তিল হিরের টুকরোর মতো চিকচিক করছে।
সেই দৃশ্যটা দেখামাত্রই মেজর শীর্ষ কারদারের মতো একজন শক্ত মনের মানুষের বুকেও যেন আচমকা একটা বিদ্যুতের ঝিলিক খেলে গেল। তার চোখের পলক স্তব্ধ হয়ে গেল, হাতের টানটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে রইল।নিজের অজান্তেই, ঘোর লাগা গলায় শীর্ষর ঠোঁট গলে বেরিয়ে এল এক লাইনের ফিসফিসানি,
“হোয়াট আ বিউটিফুল নাভেল!”
