Home মেজর কারদার মেজর কারদার পর্ব ৪

মেজর কারদার পর্ব ৪

মেজর কারদার পর্ব ৪
ফিনারা ঝুমুর

তিথির বাড়ি থেকে মেহমানরা ততক্ষণে সব চলে এসেছেন। কারদার বাড়ির বিশাল উঠোনে আর হলরুমে এখন গমগম করছে আমন্ত্রিত অতিথিদের কোলাহল। মেহমানদের একটা বড় অংশ এখন রাজকীয় সব খাবার-দাবার তোলপাড় করতে ব্যস্ত, আর ওদিকে মূল মঞ্চে নতুন বর-কনে নিরব আর তিথি নিজেদের পরিবারের মানুষদের সাথে হাসিমুখে একের পর এক পোজ দিয়ে ফটোসেশনে মগ্ন।
​মেঘালয়া আর কিঞ্জা ইতিমধ্যে নিজেদের মোবাইল ফোনের মেমোরি ফুল করে একগাদা ছবি তুলে ফেলেছে। কিন্তু মিথিলার ছবির ক্ষুধা যেন কিছুতেই মিটছে না! সে এখনও ছবি তুলে শেষ করতে পারেনি। ক্ষণে ক্ষণে শাড়ির কুচি আর ঘারারার ঘের ঠিক করে আশেপাশের ছোট পিচ্চি-কাচ্চাদের ধরে এনেক্যামেরাম্যান বানিয়ে একের পর এক স্ন্যাপ নিয়ে যাচ্ছে।​মেঘ আর কিঞ্জা যখন মিথিলার এই অবিরাম ছবি তোলার কাণ্ড দেখে হাসাহাসি করছিল, ঠিক তখনই পাশ থেকে এক অপরিচিত কিন্তু বেশ রসাত্মক কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

​“এই যে সুন্দরী বেয়ানসাহেবাকুল! কেমন আছেন আপনারা?”
​আচমকা এমন অদ্ভুত সম্বোধন শুনে মেঘ আর কিঞ্জা ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকাল। দেখল ওদের থেকে সামান্য দূরে, বুকে দু-হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে সমবয়সী তিনটা ছেলে। তিনজনের মুখেই এক চিলতে চতুর ও আকর্ষণীয় হাসি শোভা পাচ্ছে। ওদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেই বোঝা যাচ্ছে এরা কন্যাপক্ষের কেউ।​মেঘালয়া দমবার পাত্রী নয়। সে চোখ দুটো সামান্য ছোট করে কড়া গলায় বলল,
“তা বেয়াইসাহেবরা, আপনারা ঠিক কারা? আমাদের একা পেয়ে ‘মুরগী’ ভেবে আলগা প্রেম করতে এসেছেন বুঝি?”
​মেঘের মুখে ‘মুরগী’ শব্দটা শুনে তিন ছেলের মাঝখান থেকে একজন হেসেই ফেলল। সে মাথা নেড়ে বেশ রসিয়ে উত্তর দিল,
“না বেয়াইন! মুরগী ভেবে ভুল করে বোনের ননদের কাছে আসিনি। আমরা আসলে ‘শেয়াল’ হয়ে খাঁচার মুরগী নিয়ে চম্পট দিতে এসেছি।”

​ছেলেটার এমন বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর শুনে মেঘ আর কিঞ্জা নিশ্চিত হলো, এরা আসলে নতুন বউ তিথির কাজিন বা ভাইদের দল। এবার কিঞ্জা একটু মজা লুটার জন্য মুখে হাত দিয়ে হেসে বলল,
“উফ! মুরগী বাগে পাওয়া কি এতোই সোজা রে ভাই? আগে খাঁটি শেয়াল হয়ে একটা প্রমাণ দেখান দেখি!”
​ঠিক তখনই তন্ময় নামের একটা ছেলে, যে এতক্ষণ মেঘের দিকেই পলকহীন চোখে তাকিয়ে ছিল, সে এক পা এগিয়ে এসে বেশ ডাঁটের সাথে বলল,
“কী যে বলেন বেয়াইন! আপনি শুধু একবার অনুমতি দিয়েই দেখেন–আপনার পাশে থাকা ওই পাউডার ব্লু সারারা পরা বেয়াইনকে নিয়ে চম্পট দিতে আমি এই মুহূর্তে এক পায়ে খাড়া!”
​তন্ময়ের এমন সরাসরি লাইন মারার ঢং দেখে মেঘালয়া চরম বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেলল। সে তড়পিয়ে উঠে বলল,

“এক পায়ে তো শুধু তালগাছ দাঁড়িয়ে থাকে! তা ভাই সাহেব, আপনি কি কোনো জীবন্ত তালগাছ?”
​তন্ময় এবার মেঘের আরও একটু কাছে ঘেঁষে ফিসফিসিয়ে বলল,
“আপনার মতো এমন একখানা সুন্দরী বেয়াইন পেলে আমি তালগাছ কেন, মাকাল গাছ হতেও এক পায়ে রাজি!”
​বলেই তন্ময় মেঘকে লক্ষ্য করে আলতো করে একটা চোখ টিপ দিল। কিন্তু চোখ টিপ দিয়ে সে যেমন খুশিতে ডগমগ হয়ে মেঘের মাথার ওপর দিয়ে সামনের দিকে তাকাল, অমনি তার পুরো শরীরের রক্ত যেন এক সেকেন্ডে হিম হয়ে জমে বরফ হয়ে গেল!
​সামনে, ফুড স্টলের পিলারের আড়ালে এক হাত পকেটে পুরে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং মেজর শীর্ষ কারদার অঙ্কন! তার সেই শান্ত কিন্তু রক্তলাল, জ্বলন্ত চোখ জোড়া সরাসরি গিয়ে বিধেছে তন্ময়ের ওপর। শীর্ষ কোনো কথা বলল না, কেবল অত্যন্ত ধীরগতিতে নিজের হাতের দুটো আঙুল দিয়ে তার নিজের চোখের দিকে ইশারা করল, তারপর সেই আঙুল তন্ময়ের দিকে তাকাল। তার চোখের সেই ভয়ঙ্কর চাউনি আর চোয়ালের কঠোরতাই স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছিল তার ভেতরের নীরব হুঙ্কার,

​“এই মুরগী আমার পার্সোনাল শিকার! এর দিকে যদি আর একবার চোখ টিপ দিয়েছিস, তবে তোর ওই শেয়ালগিরি এক টানে বের করে পিঠে বাঁশ গেঁড়ে দেবো!”
​মেজর কারদারের সেই সাক্ষাৎ যমদূতের মতো ইশারা আর বাঘের চাউনি দেখে তন্ময়ের পেটের ভেতর ভয়ের চোটে মোচড় দিয়ে উঠল। ডিফেন্সের মেজরের এই রূপ দেখে কার বাপের সাধ্য সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে! তন্ময় থতমত খেয়ে, শুকনো ঢোক গিলে মুহূর্তের মধ্যে নিজের সুর বদলে ফেলল। সে পাশে থাকা বাকি দুই বন্ধুর শার্টের কলার চেপে ধরে কাঁপা গলায় বলল,
​“এই– এই ভাই! এদিকে আয় তো জলদি–একটু কাজ আছে– চল চল!”
​বলেই বন্ধুদের প্রায় টেনে হিঁচড়ে সে বিয়েবাড়ির ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।​ওদের এভাবে হঠাৎ ঝড়ের গতিতে কেটে পড়া দেখে মেঘ আর কিঞ্জা পুরো আকাশ থেকে পড়ল। কিঞ্জা হাঁ হয়ে চারপাশ তাকিয়ে বলল,
“কী হলো এটা? এরা এমন কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে পালালো কেন রে মেঘ?”
​মেঘালয়াও ওদের পালানোর আসল কারণ টের পায়নি, কারণ শীর্ষ ততক্ষণে আবার পিলারের আড়ালে আত্মগোপন করেছে। মেঘালয়া তার সারারার ওড়নাটা ঠিক করতে করতে চরম বিরক্তি নিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“বাদ দাও তো আপু! খুব নাকি শেয়াল হয়ে মুরগী ধরতে এসেছিল! ফুঃ, এক ধমকেই হাওয়া! ছেহ!”

বৌভাতের জমকালো অনুষ্ঠান শেষে নতুন বর-কনে নিরব আর তিথি বিদায় নিয়ে চলে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের পর প্রথমবার নতুন বউকে কিছুদিন নিজের বাপের বাড়িতে কাটাতে হয় সেই চিরাচরিত নিয়ম রক্ষার্থেই ওদের এই প্রস্থান। মেহমানরাও একে একে বিদায় নিয়েছে। একটু আগের সেই গিজগিজে কোলাহলপূর্ণ কারদার বাড়িটা এখন প্রায় খাঁ খাঁ করছে। হাতেগোনা গুটি কয়েকজন ছাড়া বাড়িতে আর কেউ নেই।
​চারিদিকের এই নিঝুম সুযোগটা হাতছাড়া করল না মেঘালয়া। সে গুটি গুটি পায়ে পেছনের উঠোনের এক কোণে থাকা বিশাল, বুড়ো আম গাছটার নিচে এসে দাঁড়াল। দুই হাত কোমরে রেখে, ঠোঁটের ওপর তর্জনী আঙুল চেপে সে গভীর মনোযোগ দিয়ে গাছের ডালপালার বিন্যাস দেখতে লাগল ঠিক কোন দিক দিয়ে পা বাড়ালে তরতর করে ওপরে ওঠা যাবে।​গাছে উঠবে বলেই সে মাত্র বিশ মিনিট আগে তার শখের জামাকাপড় আর ভারী সাজগোজ ধুয়ে-মুছে সাফ করে ফেলেছে। একটা আরামদায়ক আনারকলি গোল জামা পরে নিয়েছে ও, যাতে হাত-পা ছুড়ে ডালে পা দিতে কোনো অসুবিধা না হয়।​গাছের গুঁড়িতে একটা থাপ্পড় মেরে মেঘালয়া নিজের মনেই এক বিদঘুটে মন্ত্র আউড়ে নিল,

“ছু ছু কালি কুত্তার গু! যা মেঘ, তরতড়িয়ে গাছে উঠে পড়!”
​যেই ভাবা সেই কাজ! নিজের আনারকলি জামার ওড়নাটা টেনে কোমরে শক্ত একটা গিঁট দিল সে। শরীরটা এমনিতেই হালকা-পাতলা, তাই বানরের মতো ক্ষিপ্রতায় গাছে উঠতে মেঘের একদমই সময় লাগল না। চোখের পলকে সে তরতর করে উঠে গিয়ে গাছের মগডালের কাছাকাছি একটা বেশ শক্ত, চওড়া ডালের ওপর জাঁকিয়ে বসল। তারপর চারপাশ উঁকিঝুঁকি মেরে একে একে তিনটে বড় বড় আধা কাঁচা-পাকা আম পেড়ে ফেলল।
​ডালের ওপর দুই পা ঝুলিয়ে, মনের সুখে আমে কামড় বসিয়ে সে নিজের তৈরি করা অদ্ভুত ও ভুলভাল হিন্দিতে গান জুড়ল,

“মেঘ আম খায়েগা– বারা মাজা আয়েগা!”
​পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে তার এই আম খাওয়ার দৃশ্যটা কিন্তু নিচে থেকে নয়, দেখা যাচ্ছিল ঠিক দোতলার ছাদের রেলিং থেকে।
​ছাদে দাঁড়িয়ে নোমানের সাথে জরুরি কথা বলছিল শীর্ষ। হুট করে নিচে চোখ পড়তেই মেজরের চোখ জোড়া কপালে উঠে গেল! কোথায় একটা সতেরো-আঠারো বছরের ম্যাচিউর মেয়ে, আর কোথায় আনারকলি জামার ওড়না কোমরে বেঁধে গাছের মগডালে পা দোলাতে দোলাতে আম খাওয়া এক দস্যি বালিকা!​শীর্ষ নিজের কপালে হাত দিয়ে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে রইল। তারপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘের বড় ভাই নোমানের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল,
“তোর বোনে গাছের সাথে বাদরের মতো লটকাতে
দেখে মনে হচ্ছে ও ক্লাস সিক্স, সেভেনে পড়া কোনো
স্টুডেন্ট।”

শীর্ষর এমন ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া প্রশ্ন শুনে নোমান একটা বিটকেল মার্কা হাসি দিল। সে হাসতে হাসতে বলল,
“হোপ ব্যাটা। আমার বোনি আগামীবছর এইচএসসি
দেবে। অবশ্যি, ও বাদরের পূর্বখালাম্মা।”
নোমানের মুখে ‘বাঁদরের পূর্বখালাম্মা’ শুনে শীর্ষর ভেতরের গোয়েন্দা মনটা চাড়া দিয়ে উঠল। সে মেঘের ব্যাপারে আরও হাঁড়ির খবর বের করার জন্য নোমানকে হালকা করে একটু খুঁচিয়ে বলল,
“তো জনাব, আপনার ইন্টারে পড়া বোনের বয়স কত?
দশ বারো?”
“দূর ব্যাটা! ওর বয়স সতেরো!তবে হ্যাঁ, আমার বোন আবার অনেক গুণবতী।”
শীর্ষ এবার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে কৌতুক করে বলল,
“উদাহরণ দাও বৎস্য”

বোনের প্রশংসার সুযোগ পেয়ে নোমান এবার আর কোনো রাখঢাক রাখল না। সে শীর্ষর দিকে তাকিয়ে মেঘালয়ার সব ‘লুকানো গুণ’ গড়গড় করে বলতে শুরু করল,
“যেমন- আইলসাবতী, আকাইম্মাবতী, ঘুমাইন্নাবতী, কাদুনিবতী, ন্যাকামিবতী, ঝগড়াবতী,পড়াচুন্নিবতী সহ আরো অনেক বতী!”
নোমানের মুখ থেকে মেঘের এত এত ‘বতী’ মার্কা গুণের বহর শুনে মেজর শীর্ষ কারদার অঙ্কনের নিজেরই হুশ হারানোর দশা হলো! মনে মনে তার ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। যে মেয়ে ফেইক আইডি থেকে হট ছবি পাঠায়, বাসর রাতে মারামারির গল্প খোঁজে, সামান্য ধমকে তিনবার ধপাস-থপাস করে অজ্ঞান হয়, আর এখন গাছে চড়ে আম খাচ্ছে তার ওপর নোমানের দেওয়া এই সাত গুণ! ​শীর্ষ গাছের ডালে পা দোলাতে থাকা মেঘের দিকে তাকাল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে এক চরম আতঙ্কে আউড়ে উঠল,

“স্পষ্ট আমার ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি।ধোঁয়াশা, ধোঁয়াশা, তামাটে কালো আঁধার।”
“মেঘ! আমাদেরও কিছু আম দে না রে!”
​নিচে থেকে রাহাতের এমন লোভাতুর আকুতি শুনে মেঘালয়া মনের সুখে আমের শেষ মিষ্টি রসটুকু চুষে নিল। মুখটা বাঁকিয়ে চিবানো থামিয়ে সে বেশ আয়েশ করে বলল,
“হুম, দিচ্ছি!”
​বলেই সে তার চিবানো আমের আঁটিটা একদম টিপ করে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মিথিলা, কিঞ্জা, আদর আর রাহাতের দিকে ছুড়ে মারল। আঁটিটা গিয়ে পড়ল রাহাতের পায়ের ঠিক ইঞ্চি খানেক দূরে। তা দেখে কিঞ্জা রেগেমেগে আগুন হয়ে চিল-চিৎকার জুড়ে দিল,
​“ওরে মেঘের বাচ্চা শুটকি! তোর এত বড় সাহস? আজ তোর একদিন কি আমাদের যতদিন লাগে! নাম বলছি গাছ থেকে, নিচে নাম!”

​মেঘালয়া মগডালের ওপর নিজের আনারকলি জামাটা টেনেটুনে বসে বেশ দ্যামড়া একটা হাসি দিল। তারপর নিচের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচে বলল,
“দুঃখিত আপু! আমার এখনও বিয়েই হয়নি, তা বাচ্চা তো অনেক দূরের কথা! আমের এতোই যদি শখ থাকে, তবে কষ্ট করে গাছে এসো, আম পেয়ে যাবে। আর না হয় একটু সুন্দর করে মিষ্টি গলায় বলো ‘লক্ষ্মী মেঘ, আমাদের কিছু আম পেড়ে দাও না!’ আমি এখনই পেড়ে দিচ্ছি!”
​মিথিলা এবার দুই কোমরে হাত রেখে তড়পিয়ে উঠল। মেঘের এই পাকা পাকা কথা শুনে সে চোখ রাঙিয়ে বলল,

“হয় তুই নিজে ভালোয় ভালোয় আম দিবি, না হয় গাছ থেকে নামবি! যদি না নামিস, তবে এই আমি চললাম বড় ভাইয়াকে ডাকতে। নোমান ভাইয়াকে শুধু একবার গিয়ে বলব তুই আনারকলি পরে বানরের মতো গাছে উঠছিস, বাকিটা বড় ভাইয়াই ভালো করে করে নেবে!”
​নোমান ভাইয়ার নাম শুনলে মেঘ ততটা না ডরালেও, মিথিলার এই ‘বড় ভাইয়া’ শব্দটা মেঘের মগজে গিয়ে এক অদ্ভুত সিগন্যাল দিল। তার মনে হলো, নোমান ভাইয়া জানা মানেই তো সেই সাক্ষাৎ যমদূত মেজর কারদারের কানেও খবরটা যাওয়া! আর ওই লোকটা জানতে পারলে গাছে চড়ার অপরাধে কোর্ট মার্শালও করে দিতে পারে!​ভয়ের চোটে মেঘালয়া গাছের ডাল আঁকড়ে ধরে মৃদু চিৎকার করে উঠল,
“না না! থাক, তোদের পায়ে পড়ি, ভাইয়াকে ডাকিস না! আমি আম দিচ্ছি তোদের, ভালো ভালো আম দিচ্ছি!”

​মেঘ চটজলদি তার হাতের নাগালের মধ্যে থাকা এক গোছা আধা-পাকা আম পেড়ে টপাটপ নিচে ফেলে দিল। তার এই এক ধমকে ভড়কে যাওয়ার করুণ অবস্থা আর বিড়ালের মতো ছটফটানি ওপর থেকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল একজন।
​ছাদের রেলিংয়ে হাত রেখে নিচে মেঘের এই ভয়ার্ত রূপ দেখে মেজর শীর্ষ কারদার অঙ্কন এবার আর নিজের গম্ভীর ভাবটা ধরে রাখতে পারল না। সে মুখ টিপে এক চিলতে চমৎকার, মোহনীয় হাসি হাসল। গাছের ওপর বসা ওই চঞ্চল, দশ্যি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগা মোচড় দিয়ে উঠল। শীর্ষ নিজের চিবুকটা হাত দিয়ে ঘষে মনে মনে এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে বলল,

মেজর কারদার পর্ব ৩

​“না, আর একদম দেরি করা যাবে না! এই পাগল মেয়েটাকে যত দ্রুত সম্ভব নিজের করে নিতে হবে। ওকে কারদার বাড়ির কনে করে আনার সময় হয়ে গেছে। বেশি দেরি করাটা চরম ঝুঁকির ব্যাপার– চারপাশ দিয়ে বড্ড বেশি শেয়াল আনাগোনা শুরু করেছে ওকে খাঁচা থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। তার আগেই মেজর কারদারকে নিজের শিকার নিজের ডেরায় তুলতে হবে!”

মেজর কারদার পর্ব ৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here