মৌটুসী পর্ব ২৬
ঋতস্বিনী মাহবিশ
“টুইংকেল টুইংকেল লিটল স্টাল,
হাউ আই ওয়ান্ডাল হোয়াট ইউ আল…”
এরপরই থেমে গেল বীর। এখান থেকে অডিটোরিয়ামের বিশাল জনসমুদ্র দেখতেই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল ওর। ভয়ে আর উত্তেজনায় পরের লাইনগুলো স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। মাইক্রোফোন ধরা ছোট হাতটা কাঁপছে থরথর করে। চোখজোড়া এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে, টলমল করে উঠবে উঠবে ভাব।
মঞ্চের পাশেই দাঁড়িয়ে বোরাক আর মৌটুসী। বোরাক কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই মৌটুসী এক দৌড়ে স্টেজের একেবারে সামনে বীরের মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। মিষ্টি হেসে দুই হাত উঁচিয়ে তাল মিলিয়েই বলে উঠল,
“আপ অ্যাবাভ দ্য ওয়ার্ল্ড সো হাই!”
বীরের ভীত দৃষ্টি মৌয়ের ওপর পড়ল। মাম্মাকে দেখে তার হিমশীতল শরীরে প্রাণ ফিরল যেন। মনে সাহস সঞ্চয় করে মৌয়ের ধরিয়ে দেওয়া ছন্দেই সে-ও এবার কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে উঠল, “লাইক আ ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাই।”
বীর এরপর আর থামল না। মৌটুসীর উজ্জ্বল করা উৎসাহী চোখের দিকে তাকিয়েই পুরো ছড়ার আবৃত্তি শেষ করল সে,
“হয়েন দ্য ব্লেজিং সান ইজ গন,
হয়েন নাথিং শাইনস আপন,
দেন ইউ শো ইয়োল লিটল লাইট,
টুইংকেল টুইংকেল অল দ্য নাইট।”
ছড়া শেষ হতেই পুরো অডিটোরিয়াম ফেটে পড়ল মুহুর্মুহু করতালিতে। একজন শিক্ষক এসে মুচকি হেসে বীরকে মঞ্চ থেকে নিচে নামিয়ে মৌটুসী আর বোরাকের কাছে নিয়ে এলেন। মৌটুসী সাথে সাথে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিল। কপালে, গালে পরম আদরে চুমু এঁকে মিষ্টি হেসে বলল, “ব্রাভো বীর সোনা! অনেক অনেক ভালো বলেছ। দেখেছ সবাই কত্ত খুশি হয়েছে!”
মায়ের এই প্রশংসায় খুশিতে ঝলমল করে উঠল বীরের আদুরে মুখটা। এবার সে দ্রুত বোরাকের দিকে তাকিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “পাপা, ভালো হয়েছে?”
বোরাক কিছুক্ষণ মুগ্ধ চোখে ছেলেকে দেখে নিজের কাছে টেনে নিল। ছেলের কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল, “দ্য বেস্ট রিসাইটেশন, বাবা। আমার বাবার আবৃত্তি সবার চেয়ে সেরা হয়েছে। পাপা ইজ ভেরি প্রাউড অব হিস সানশাইন। মাই ব্রেভ বয়!”
এত এত প্রশংসা শুনে একগাল হেসে খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ছোট্ট বীরের চিত্ত।
‘তার ভুরুর ধনুক বেঁকে উঠে……’
ছোট্ট চড়ুই তার নিবিড় কাজল কালো ভুরু দুটিকে সূক্ষ্মভাবে বাঁকিয়ে মায়াবী এক চাহনি নিক্ষেপ করল সামনের জনসমুদ্রের দিকে। এই আশ্চর্য গভীরতা আসলেই তার বয়সের সাথে বড্ড বেমানান, অথচ ভীষণ মোহনীয়।
‘তনুর তলোয়ার’
এক টুকরো বেগুনি শাড়িতে আবৃত ছোট্ট শরীরটা বাতাসের মতো হেলিয়ে দুলে ঘুরে দাঁড়াল। যেন খুব দক্ষ কোনো এক নর্তকী নৃত্যশিল্পী তার তলোয়ারের ধারালো দীপ্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে।
‘সে যেতে যেতে পথে ছড়ায় পাথর কুঁচির হার…..’
আলতা রাঙা চরণ ফেলে মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে যাচ্ছে চড়ুই। তার চলতি পথে পায়ের ঘুঙুরজোড়া রুমঝুম উজ্জ্বলতায় ছড়িয়ে দিচ্ছে অসংখ্য পাথর কুঁচির হার।
নাচের সময় পুতুলের মতন মুখটার অভিব্যক্তি বিচিত্রময়। কখনো ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টু হাসি, আবার পরক্ষণেই ঘাড়ের ওপর পড়ে থাকা লম্বা বিনুনিটার বিন্যাসের সাথে মিলিয়ে গাম্ভীর্যপূর্ণ অভিব্যক্তি। তাল, মুদ্রা, কোনোখানে গড়মিল নেই; প্রত্যেকটা খাপে খাপে।
পুরো অডিটোরিয়াম নিস্তব্ধ। সামনের জনসমুদ্রে মুগ্ধতার ঢেউ। মন্ত্রমুগ্ধ দৃষ্টিগুলো মঞ্চের দিকে নিবদ্ধ। এতক্ষণের একঘেয়েমি অনুষ্ঠানটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে যেন।
“রুমঝুম ঝুমঝুম রুম ঝুম ঝুম……”
গানের কথা আর সুরের সাথে তাল মিলিয়ে চড়ুইয়ের চপলতা বেড়ে গেল বহুগুণ। খেজুর পাতার নূপুর পায়ে চঞ্চল চড়ুই অরণ্যের গভীরে মেতে উঠেছে আদিম নৃত্যের ছন্দে। মঞ্চের একেবারে মধ্যখানে চড়ুই। ছোট্ট দুহাত আকাশের দিকে তুলে ঘূর্ণি দিতে শুরু করল সে। প্রতিটি ঘূর্ণির সাথে তার আলতা রাঙা পায়ের ঘুঙুরজোড়া নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তীব্র ছন্দে—ঝুম! ঝুম! ঝুম!
সেই অবিরাম ধ্বনি চার দেয়াল বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামের পিনপতন নীরবতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে তুলছে।
“খেজুর পাতার নূপুরও বাজায়।”
হঠাৎই সংগীতের মূর্ছনা স্তিমিত হয়ে এল। চড়ুই ঘূর্ণি থামিয়ে দিয়ে এক পা এগিয়ে এল মঞ্চের একদম কিনারে। দুই হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি রেখে, ঘাড় বাঁকিয়ে সামনের দিকে তাকাল এবার। কপালের টায়রাটি তখনো মৃদু কাঁপছে। নিশ্বাস-প্রশ্বাস ঘন।
মুহূর্তের স্তব্ধতা ভেঙে অডিটোরিয়াম ফেটে পড়ল করতালির অঝোর ধারায়। যেন আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে সহস্র পুষ্পবৃষ্টি। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে গিয়ে সাধুবাদ জানাচ্ছে এই ছোট্ট শিল্পীকে। মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মৌটুসী চোখের কার্নিশে জমে ওঠা অশ্রুটুকু সবার অগোচরে তর্জনীর ডগায় তুলে নিল।
বোরাকের স্থির দৃষ্টি তখনো মঞ্চের ওই ছোট্ট মানুষটির ওপর নিবদ্ধ। বুকের ওপর হাত ভাঁজ করে তাকিয়ে আছে সে। ঠোঁট দুটোর মাঝে সূক্ষ্ম ফাঁক। আজকের দিনটাই তার জন্য আশ্চর্য-সূচক। একের পর এক ঝটকা খাচ্ছে মস্তিষ্ক—তার ছোট্ট মেয়েটার মাঝে এত প্রতিভা?
চড়ুইয়ের ক্লাস টিচার এগিয়ে এসে হাসিমুখে ওর হাত ধরে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন। হাঁটতে হাঁটতে বললেন, “অনেক সুন্দর নেচেছ চড়ুই। তুমি এত সুন্দর নাচ পারো জানা ছিল না তো!”
চড়ুই মৃদু হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “থ্যাংক ইউ, মিস।”
“কার কাছে নাচ শেখা হয়?”
“মাম্মার কাছে।”
“আচ্ছা?”
“হুম।”
তারা নামতেই বোরাক আর মৌটুসী দুই ধাপ এগিয়ে এলেন। টিচার মৌকে বললেন, “আপনি চড়ুইয়ের মা?”
মৌ মাথা নাড়ল, “জ্বি।”
টিচার বললেন, “কালকে আপনি প্লিজ চড়ুইকে নিয়ে একবার হাসনাত আলী স্যারের সাথে যোগাযোগ করবেন। ওকে স্কুলের ডান্স ক্লাবে নেওয়া হবে।”
মৌটুসী মৃদু হেসে বলল, “ঠিক আছে, মিস। আমি যোগাযোগ করব।”
এদিকে বোরাক পকেট থেকে টিস্যু বের করে চড়ুইয়ের কপালে চিকচিক করা ঘামটুকু মুছে দিতে দিতে আদুরে স্বরে বলল, “আমার মা এত সুন্দর নাচ পারে! হু? আমি তো কখনো বুঝতেই পারিনি!”
চড়ুই হেসে জিজ্ঞেস করল, “তোমার ভালো লেগেছে পাপা?”
বোরাক মুগ্ধতা ভরা দৃষ্টিতে মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “খুব খুব ভালো লেগেছে মা। পাপা জাস্ট মুগ্ধ হয়ে গেছে তোমার নাচ দেখে। দেখো, সবাই কীভাবে সাধুবাদ জানাচ্ছে স্পেরোকে!”
চড়ুই এবার একটুখানি লজ্জা পেল, মাথাটা বাবার কাঁধে লুকিয়ে নিল সে।
বোরাক হেসে আবার জিজ্ঞেস করল, “তো, আমার মা-টার কোথায় নাচ শেখা হয়?”
চড়ুই মাথা তুলে উত্তর করল, “কোথাও না, মাম্মা শেখায়।”
বোরাক এবার কিছুটা অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকাল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মৌটুসীর দিকে। বিস্ময়কর কণ্ঠে শুধাল,
“আপনি নাচতেও পারেন, মিস?”
মৌটুসী কিছুটা অপ্রস্তুত বোধ করল। কিছু বলার আগেই চড়ুই চট করে বলে উঠল, “হ্যাঁ পাপা, মাম্মা অনেক ভালো নাচ পারে।”
“তাই নাকি? ক্ল্যাসিক্যাল ড্যান্সার?”
মৌটুসী দ্রুত শুধরে নিল, “না না, তেমন না, ওই মোটামুটি পারি আরকি। শেখানোর মতো একটু আধটু।”
বোরাকের বিশ্বাস হলো না। যার ছাত্র এত ভালো ড্যান্সার, সে কীভাবে মোটামুটি পর্যায়ের হয়? সে যেন প্রতিনিয়ত নতুন করে রমনীকে আবিষ্কার করছে; সামনে আসছে তার একেকটা রূপ, গুণ। সে কিছুক্ষণ মৌটুসীর দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর কণ্ঠে বিড়বিড় করল, “গুণবতীর আরও কত গুণ যে তোর জানার বাকি, বোরাক! দেখিস, তাকে আবিষ্কার করতে করতেই আশির খাতায় নাম না উঠে যায়।”
“হুম? কিছু বললেন?” মৌটুসী শুনতে না পেয়ে প্রশ্ন করল।
“আপনার এই সুপ্ত প্রতিভার পরিচয় পেয়ে ভালো লাগল, ম্যাডাম। আর নিয়তি যদি কোনোদিন সুযোগ দেয়, তবে সেদিন আপনার মোটামুটি একটা নৃত্য দেখেও নিব না হয়!”
বোরাকরা তাদের নির্ধারিত জায়গায় ফিরে আসতেই বীর চরম উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠল, “চুলুই পাখি অনেক সুন্দল হয়েছে তোমাল নাচ! আমি খুব মজা কলে দেখেছি।”
চড়ুই পাশে বসে একগাল হেঁসে বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ বীর বন্ধু।”
সাফওয়ান ওর গাল টেনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গেল, “আমাদের নাচনেওয়ালি বুড়ি তো একদম ফাটিয়ে দিয়েছে!”
চড়ুই ঠোঁট উল্টে বলল, “নাচনেওলি বুড়ি?”
“হুম, নাচে পটু নাচনেওয়ালি বুড়ি!”
দুপুর দুটোর দিকে অনুষ্ঠান শেষ হলো। চড়ুই আর মৌটুসীকে বিদায় দিয়ে সাফওয়ান ও বীরকে নিয়ে বোরাক বাড়ির দিকে রওনা হলো। বীর সাফওয়ানের কোলে বসে স্কুলের স্টল থেকে কেনা তার নতুন ট্রাকটি নিয়ে খুব ব্যস্ত; খুব মন দিয়ে সেটা উল্টেপাল্টে দেখছে সে।
সাফওয়ান জানালার বাইরে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মনের ভেতর জমে থাকা কথাগুলো বের করার জন্য এক ধরনের ইতস্তত বোধ কাজ করছে তার মধ্যে। শেষমেশ সকল জড়তা কাটিয়ে বলল, “ভাই, একটা কথা বলি?”
ড্রাইভিংরত বোরাক সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়েই বলল, “এত ফরমালিটি করা কবে শিখলি?”
সাফওয়ান একটু নড়েচড়ে বসে বলল, “ইয়ে… না মানে ভাই, ব্যপারটা…”
সাফওয়ানের এত ইতস্তত ভাব দেখে বিরক্ত হলো বোরাক। “কী বলবি বলতে চাইলে ইয়ে-টিয়ে করা ছাড়াই সরাসরি ঝেড়ে বল, আর না হলে চুপ করে বসে থাক।”
সাফওয়ান এবার সোজাসুজি কথাটাতে এল। “আসলে আমি বলতে চাচ্ছি, চড়ুই পাখির পাপা নেই, এদিকে আমাদের বীরের তো মাম্মা নেই। মানে, কোনোভাবে মৌ আপুকে বীরের মাম্মা করা যায় না ভাই?”
কিছু মুহূর্ত নিস্তব্ধতার পর বোরাকের নির্বিকার কণ্ঠ ভেসে এলো, “কে জানে? যায়? তুই-ই বল!”
“যায় মানে? আমার কাছে তো ১০০ তে ১০০ যায়। তোমাদের একসাথে খুব ভালো মানাবে ভাই। বিশ্বাস করো, পাশাপাশি দাঁড়ালে এত সুন্দর লাগে তোমাদের!”
সাফওয়ান খুব উৎসাহী দৃষ্টি নিয়ে বোরাকের দিকে তাকিয়ে রইল তার পক্ষ থেকে কিছু শোনার আশায়। কিন্তু বোরাক কিছুই বলল না। কেবল এক টুকরো নির্বিকার হাসল বোধহয়। ভেতরের কোনো এক গোপন ভাবনাকে প্রশ্রয় দিয়ে পুরুষালি তীব্র ঠোঁট দুটো বিড়বিড় করে উঠল, “তুইও যায় বলছিস?”
মাঝরাস্তায় হঠাৎই তীব্র একটা ব্রেক কষল বোরাক। এতে টায়ারের ঘর্ষণে পিচঢালা রাস্তায় একটা তীক্ষ্ণ শব্দ হলো। চোখের কালো সানগ্লাসটা খুলে হাতে নিল সে। দৃষ্টি সামনের দিকে, সেখানে কুর্তি আর কার্গো পরনের একটা মেয়ে রাস্তা পার হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেয়েটাকে দেখেই সাফওয়ান সোজা হয়ে বসে অবাক গলায় বলল, “ভাই, এটা আমাদের আরোয়া নয়?”
বোরাক নির্বিকার কণ্ঠে উচ্চারণ করল, “হুম।”
“ডাকব ওকে?”
“না।” শীতল কন্ঠে বোরাকের।
এতক্ষণ গাড়ির খেলনা গাড়িতে নিবিষ্ট থাকা বীর এবার মাথা তুলে সামনে তাকাল। গাড়ির স্বচ্ছ কাচের বাইরে আরোয়াকে দেখে সে সেদিকে আঙুল তাক করে বলল, “পাপা, ওটা আলোয়া ফুপুমনি! ফুপুমনিকে ডাকো, পাপা!”
বোরাক ছেলেকে বোঝাতে বলল, “না বাবা। ফুপুমনির ভার্সিটি আছে। সে এখন বাসায় যাববে না।”
কিছুক্ষণ পর রাস্তায় গাড়ির যাতায়াত কমে আসলে আরোয়া এবার দ্রুত পায়ে রাস্তা পার হয়ে ওপারে চলে গেল। সেখানে আগে থেকেই একটা ছেলে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে ছিল। আরওয়াকে দেখেই মুখে হাসি ফুটে উঠল তার। আরওয়াও প্রাণখোলা হেসে ছেলেটির হাত ধরে অন্য একটা রাস্তায় মিলিয়ে গেল। বোরাক স্থির দৃষ্টিতে সেই দৃশ্যের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। এরপর নির্লিপ্ত ভাবেই হাতের সানগ্লাসটা চোখে পরে পুনরায় গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দিল সে।
দীর্ঘক্ষণ বিছানায় এপাশ ওপাশ করার পরেও কিছুতেই চোখে ঘুম ধরা দিল না বোরাকের। চোখ বন্ধ করলেই একটা অপার্থিব সুন্দর মুখ ভেসে উঠছে মানসপটে। সেই মুখ নিয়ে আবার অদম্য টানাটানি শুরু করে দিয়েছে তার শৈল্পিক সত্তা। বাঁ হাতের আঙুল গুলো খুব করে নিশপিশ করছে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি ধরার অপেক্ষায়।
অগত্যা সেই মাঝ রাতেই বিছানা ছাড়ল বোরাক। টাইটান আর বীর বিভোর ঘুমে মগ্ন। ছেলের গায়ের পাতলা কম্ফোর্টারটা আরেকটু ভালোভাবে টেনে দিয়ে ফোনটা ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে নিল। এরপর ড্রায়ার থেকে একটা চাবি বের করে সোজা চলে গেল তিনতলায়। দাড়াল একটা ঘরের বন্ধ দরজার সামনে। দক্ষ হাতে চাবি ঘুরিয়ে লকটা খুলল বোরাক।
মৌটুসী পর্ব ২৫ (২)
ঘরের ভেতর পা রাখতেই অদ্ভুত ফ্যাকাসে গন্ধ এসে ধাক্কা দিল তার নাসারন্ধ্রে। মাসখানেক হবে এ ঘরে কারো পা পড়েনি। কারো বলতে, বোরাক ব্যতীত অন্য কারো আসা এখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততার যাঁতাকলে পড়ে গত বেশ কয়েকটা দিন তার নিজেরও আসা হয়ে ওঠেনি। গুমোট অন্ধকার মাড়িয়ে বোরাক পরিচিত ছন্দে গটগট পায়ে এগিয়ে গেল সুইচ বোর্ডের কাছে। কাঙ্ক্ষিত সুইচে চাপ দিতেই নিয়ন আলোয় বিশাল আকারের আধুনিক ঘরটি মুহূর্তের মধ্যে ঝকঝকে হয়ে উঠল।
