রুপুর বিয়ে পর্ব ৪১
Bobita Ray
বিনয় ঘরে এসে দেখল, রুপু ব্যাগ গুছিয়ে তৈরি হয়ে বসে আছে। রুপুর চোখে চোখ পড়তেই বিনয় হাসার চেষ্টা করল। হাসি তো এলোই না। কষ্টে বিনয়ের চোখে জল এসে যাচ্ছে। বিনয় নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি চট করে স্নানটা সেরে আসি।”
“একবার তো স্নান করেছ। আবার কেন?”
“ঘামে গা চিটচিট করছে।”
“তুমি একটু পরে স্নান করতে যাও। আমি এখন বের হবো।”
বিনয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“একা যাওয়ার দরকার নেই। আমি পৌঁছে দিয়ে আসব।”
রুপু হেসে ফেলল। বলল,
“প্রথমদিন সাহস করে একাই তো গিয়েছিলাম। তাছাড়া এখন তো আর লোকাল বাসে করে যাচ্ছি না। বাড়ির গাড়িতে যাচ্ছি। ভয় নেই। পৌঁছে তোমাকে ফোন করব।”
“রুপু প্লিজ জেদ করো না। আমিও যাব তোমার সাথে।”
“এই অবেলায় কোথায় যাবি বাবা?”
বীথি রানী জলের গ্লাস হাতে নিয়ে ঘরে আসতে আসতে বিনয়কে জিজ্ঞেস করল। বিনয় বলল,
“রুপুর সাথে যাব মা।”
বীথি রানী কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। বীথি রানীর কোনরকম ইচ্ছে নেই বিনয়কে একা ছাড়ার। ছেলেটার খাটুনির শরীর। রুপুকে দিয়ে আসতে পাঁচ/ছয় ঘণ্টা মতো সময় লাগবে। রাত করে শুধু শুধু গাড়ি জার্নি করার কোন মানে হয় না।
রুপু শাশুড়ীমায়ের ভোঁতা মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমার মায়ের বোধহয় ইচ্ছে না। তুমি আমার সাথে যাও৷”
বীথি রানী অন্যমনস্ক ছিল৷ রুপুর কথাশুনে চমকে উঠল। বিনয়ের রাগ লাগছে খুব। রুপু সবসময় মাকে ভুল বুঝে। মা-তো এতটাও খারাপ না। নাহলে নিজে অতদূর গিয়ে কী আর রুপুকে সাথে করে নিয়ে আসতো।
“রুপু তুমি শুধু শুধু মাকে ভুল বুঝচ্ছ।”
রুপু বিনয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি খুব ভালো করেই জানো। ভুল বোঝার মানুষ আমি না। আমি সবসময় ঠিকই বুঝি। এরজন্য আমি কষ্ট কম পাই।”
বিনয় কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। রুপু বলল,
“আমি এখন যাই কেমন?”
“বললাম তো আমিও যাব।”
রুপু হেসে ফেলল। বলল,
“তোমার মা যেতে দিলে আমার কোন আপত্তি নেই।”
বিনয় বড় আশা নিয়ে মায়ের দিকে তাকাল। বীথি রানীর মনের ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে৷ কোনমতেই বিনয়কে যেতে দিতে ইচ্ছে করছে না। রুপুর সামনে দাঁড়িয়ে ছেলেকে কিছু বলাও যাচ্ছে না। রুপু ঘড়ি দেখে বলল,
“আমার কিন্তু সত্যিই দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
“তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি চট করে স্নান করে আসছি।”
ভাগ্যিস বিনয় স্নান করতে কমন বাথরুমে গেল। বীথি রানীও বিনয়ের পিছুপিছু গেল। বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
“বিনয়?”
“কিছু বলবে মা?”
“বলছিলাম কী সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাবা। অতদূর যাবি আসবি। অনেক রাত হয়ে যাবে। তুই তো জানিস, তুই রাত করে বাইরে থাকলে আমার খুব চিন্তা লাগে। ড্রাইভার তো রুপুর সাথে যাচ্ছেই। পরেরবার নাহয় তুই যাস।”
“মা প্লিজ তুমি আমাকে বাঁধা দিও না। দিন-কালের অবস্থা ভালো না। আমি রাত করে রুপুকে একা ছাড়ার সাহস পাচ্ছি না।”
“একা কোথায়?”
“মা তোমার যদি আমাকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা লাগে। তাহলে তুমিও আমার সাথে চলো।”
বীথি রানী চুপ হয়ে গেল। আজ বোধহয় বিনয়কে কোনভাবেই আটকানো যাবে না।
বিনয় স্নান করে ঘরে এসে দেখল, রুপু নেই। কোথাও নেই। বিনয়ের এত কান্না পেল। বলার মতো না। বিনয় ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। যাওয়ার সময় একবার বাই বলেও গেল না। পাষাণীটা…
বিছানায় বালিশ চাপা দেওয়া একটা চিরকুট রাখা। বিনয়ের চোখ পড়তেই কৌতূহলবশত চিরকুটটা হাতে নিল। চিরকুটের ভাঁজ খুলে দেখল, গোটা গোটা অক্ষরে লেখা,
বর মশাই, আমি চলে যাচ্ছি। জানি, ঘরে এসে আমাকে না দেখলে তোমার প্রচণ্ড মন খারাপ হবে। হয়তো কাঁদবেও। কেঁদো না প্লিজ.. আমি আবার আসব তো…
রুপু…
বিনয় চিরকুটটা বুকের ভেতরে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কেঁদে ফেলল।
খুব বেশি রাত হয়নি। রাত আটটার সামান্য বেশি বাজে। রুপু অনেকক্ষণ ধরেই খেয়াল করছে। একটা কালো রঙের গাড়ি ওদের গাড়িটা অনুসরণ করছে। ওভারটেক করে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও গাড়িটা যাচ্ছে না। রুপু প্রথমে খুব একটা গুরুত্বের সাথে না নিলেও যতই মফস্বলের দিকে যাচ্ছে ততই কেমন যেন লাগছে। ঘনকালো অন্ধকার রাস্তা। গাছগাছালি প্রচুর। ফাঁকা জায়গা৷ তেমন গাড়িও যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ পর পর দুই একটা গাড়ির দেখা মিলছে৷ রুপু ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছে। পেছনের গাড়িটা অল্পের জন্য রুপুদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়নি। রুপুর মনে ভয় ধরে গেল। তবে মাথা ঠাণ্ডা রাখল। শান্ত কণ্ঠে ড্রাইভারকে বলল,
“যত যাই হয়ে যাক। আমাদের গাড়ির সামনে কোন গাড়িও যদি চলে আসে। ভুল করেও গাড়ি থামাবেন না। আমি বার বার বলছি, গাড়ি যেন কোনভাবেই থামে না। প্রয়োজনে রাস্তার উল্টোদিক দিয়ে গাড়ি চালাবেন।”
ড্রাইভারও বোধহয় বুঝতে পেরেছে। ওরা বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে। তাই হাইস্পিডে গাড়ি চালাতে লাগল। পেছনের গাড়িটার গতি সামান্য কম ছিল। ওদের দেখাদেখি গতি বাড়াতে বাড়াতে খেয়াল করল। সামনের গাড়িটা মোড় ঘুরে কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে। বাস, ট্রাক, বাইকের দেখা মিললেও অনেক খুঁজেও আর কাঙ্ক্ষিত গাড়িটার দেখা পাওয়া গেল না।
রুপুদের গাড়িটা বড় রাস্তা ছেড়ে মফস্বলের আঁকাবাকা পথে যেতেই রুপু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। না.. কালো রঙের গাড়িটা আর ওদের পিছুপিছু আসছে না।
সকাল থেকেই রুপুর মনটা বেশ খারাপ। মন খারাপের কারণটা রুপু ঠিক ঠাহর করতে পারছে না। তবে ওর এখন ঘুম থেকে উঠে রান্না করতে ইচ্ছে করছে না। শরীর জুড়ে ক্লান্তিকর আলস্য। রুপু মন খারাপ ভাব নিয়ে সারা সকাল শুয়ে রইল। শুধু ওর যখন অফিস টাইম হয়ে গেল। তখন বিছানা ছাড়ল। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে পোশাক পাল্টে অফিসে চলে গেল।
ক্লাসের মেয়েগুলো আজ বেশ হৈচৈ করছে। জোরে জোরে কথা বলছে। অন্যদিন হলে রুপু সবাইকে চুপ করতে বলতো। আজ কাউকে কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। রুপু আনমনা হয়ে বসে আছে। সামনের সারির চেয়ার থেকে একটা মেয়ে উঠে দাঁড়াল। রুপুকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ম্যাডাম আজ কী রান্না শেখাবেন?”
রুপু স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“কী শিখতে চাও?”
মেয়েটা লজ্জিত হেসে বলল,
“আজ কিছুই শিখতে ইচ্ছে করছে না ম্যাডাম। গল্প করতে ইচ্ছে করছে।”
রুপু কিছু বলতে গিয়ে খেয়াল করল। পেছনের সারির চেয়ারে বসা একটা মেয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে। রুপু সেতু নামের মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কী হয়েছে? কাঁদছ কেন?”
সেতু তড়িঘড়ি করে চোখের জল মুছল। বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল,
“কিছু না ম্যাডাম।”
“বলতে ইচ্ছে না করলে বলার দরকার নেই।”
মেয়েটা ইতস্তত করতে লাগল। এতগুলো মেয়ের সামনে কথাগুলো বলবে কী বলবে না। ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। রুপু ম্যাডামকে সেতু নামের মেয়েটা খুব পছন্দ করে। রুপু ম্যাডাম প্রায়ই বলে, নিজের দুর্বলতার কথা কাউকে বলবে না তোমরা। বিশেষ করে তোমাদের আশেপাশের মানুষকে তো ভুলেও না। ম্যাডাম ঠিকই বলে। কাছের মানুষকে কষ্টের কথা বললে, সেই কথার জের ধরে পরবর্তীতে তারাই বেশি কষ্ট দেয়৷
ক্লাস ছুটি হতেই একে একে সবাই চলে যাচ্ছে। রুপুর চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না। একঘণ্টা টিফিন টাইম। প্রচুর খিদে লেগেছে। একঘণ্টায় আলুসিদ্ধ ভাত রান্না করে খেয়ে আসা কোন ব্যাপার না। কেন যেন রুপুর ভাত রান্না করতে ইচ্ছে করছে না। সেতু নামের মেয়েটি এখনো যায়নি। মাথানিচু করে বসে আছে। ক্লাস রুম ফাঁকা হতেই রুপু ইশারায় সেতু নামের মেয়েটিকে কাছে ডাকল। মেয়েটা সাত মাসের প্রেগনেন্ট। প্রায় সময়ই তার মন খারাপ থাকে৷ রুপু বলল,
“তুমি কী কিছু বলতে চাও?”
সেতু হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। সেতুর চোখ দিয়ে টপটপ করে নোনাজল গড়িয়ে পড়ল। ভদ্রতা করে হলেও তুমি প্লিজ কেঁদো না বলা উচিত ছিল। রুপু কিছুই বলল না। কেঁদে কেঁদে মেয়ের মনটা হালকা হোক৷
“বলো কী বলবে?”
সেতু ভেঁজা কণ্ঠে বলল,
“আমার শাশুড়ীমা আমাকে সন্দেহ করে ম্যাডাম। আমি আর তার সংসারে টিকতে পারতেছি না৷ আমার দম বন্ধ হয়ে আসতেছে।”
“কেন সন্দেহ করে?”
“আমাদের বিয়ের দেড়বছর চলে। আমার বাবার বাড়ির অবস্থা ভালো না দেখে আমাকে যে প্রতিদিন কী পরিমাণ কথার বিষ হজম করতে হয়। মাঝে মাঝে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে। আমি ব্রয়লার মুরগি ছাড়া অন্য মাংস খাই না দেখে, আমার শাশুড়ীমা বলে, বাপের বাড়ি তো জীবনে ভালো খাবার চোখে দেখিনি। তাই ভালো জিনিস পেটে হজম হয় না। কুত্তার পেটে কী আর ঘি হজম হয়।
ফার্মের ডিম ছাড়া দেশী ডিম খাই না দেখেও প্রচুর কথা শোনায়। মাছ খেতে ইচ্ছে করে না দেখেও বলে, বাপের বাড়ি থেকে খাওয়া শিখছি নাকি। বাপের জন্মে চোখে দেখলে তো খাওয়া শিখব৷ আমার খাওয়ায় দোষ, আমার কাজে দোষ, আমার চলাফেরায় দোষ। আমার সবকিছুতেই শুধু দোষ আর দোষ। কাজ যদি একটু তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করি তাহলে বলে, মা কিছু শিখিয়ে পাঠায়নি? গিধড়ের মতো কাজ না করে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে কাজ করবে। আবার একই কাজ যদি ধীরে ধীরে করি তাহলেও দোষ। বলে, এক কাজ নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকলে বাকি কাজ কে করবে, আমি? তার ছেলের কাছে সারাক্ষণ আমার নামে নালিশ করে। বকা খাওয়ায়। সেসব করেও সে ক্ষ্যান্ত হয়নি। তার ধারণা আমার পেটের বাচ্চাটা নাকি তার ছেলের না। আমি বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পেটে বাচ্চা নিয়ে এসেছি। অথচ আমরা দুজন প্ল্যান করে বাচ্চা নিয়েছি। শুধু মাকে বাচ্চা পেটে আসার কথা না জানিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছি। বাবার বাড়ি থেকে এসে জানিয়েছি। তাতেই আমার দোষ হয়ে গেছে। পরিচিত যেই ফোন দেয়। তাকেই বলে, বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়েই তো আমাগো বউ পেট বাঁধিয়ে নিয়ে এসেছে।”
রুপু কী বলবে ভেবেই পেল না। শুধু বলল,
“তোমার বর তার মাকে কিছু বলে না?”
“সে কী বলবে। তার নাকি লজ্জা লাগে। মায়ের মুখের উপরে বাচ্চাটা আমার বলতে। শুধু আমাকে বলে, একটু ধৈর্য ধরো। একটু সহ্য করো। শুধু তার মায়ের কথা যখন সহ্য করতে পারে না। তখন বলে, এসব কী বলো মা তুমি। বাচ্চাটা ও বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসবে কেন? বাচ্চা কী বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জিনিস?”
রুপু বিড়বিড় করে বলল,
“কুলাঙ্গার।”
সেতু চোখের জল মুছে বলল,
“ম্যাডাম কথাগুলো কাউরে ভয়ে বলতে পারি না। শ্বশুরবাড়ির এলাকা৷ কার কাছে কী বলব। পরে আমারই দোষ হবে। আমার শাশুড়ীমায়ের ইচ্ছে আমার প্রথম সন্তান যেন আমার বাবার বাড়িতে হয়। এদিকে আমার গরীব বাবার সিজারের টাকা জোগাড় করার সাধ্য নেই। অভাবের সংসারে নানান রকম অশান্তি লেগে থাকে। আমি আর তাদের বোঝা বাড়াতে চাই না। তাই বাধ্য হয়ে বারো হাজার টাকার লোভে এখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসি।”
“কেন তোমার বর সিজারের টাকা দেবে না?”
“সে তার মায়ের কথার উপরে কথা বলতে পারে না। টাকা দেবে তবে পুরোটা না। অর্ধেক দেবে। বাকি অর্ধেক টাকা আমার বাবার বাড়ি থেকে আনতে বলে।”
রুপু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“অমানুষ কখনো মানুষ হয় না। যদি তোমার কখনো টাকার দরকার হয়। লজ্জা করো না। নির্দ্বিধায় আমাকে বলো।”
“লাগবে না ম্যাডাম৷ বারো হাজার টাকায় হয়ে যাবে। কথাগুলো কাউকে বলতে না পেরে গুমরে গুমরে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই আপনাকে বলে হালকা হলাম। আমার ভাগ্য এত খারাপ হয় কেন, বলুন তো ম্যাডাম?”
“বিধাতা বোধহয় আমাদের ভাগ্যে সুখ লেখার আগেই কালি ফুরিয়ে ফেলেছিল। তাই হয়তো আমাদের ভাগ্য এমন। মন খারাপ করো না সেতু। একদিন হয়ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
রুপু দারোয়ান কাকাকে দিয়ে দুটো ডালপুরি কিনে আনল। দুপুরে শুধু দুটো ডালপুরি খেয়ে একগ্লাস জল খেল। তখনই শাশুড়ী মায়ের ফোনটা এলো। ভদ্রমহিলা হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। শাশুড়ী মায়ের কান্নার শব্দে রুপু ভড়কে গেল। বলল,
“কী হয়েছে মা? সবাই ঠিক আছে তো?”
“কিচ্ছু ঠিক নাই আমার৷ কিচ্ছু ঠিক নাই। আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে রুপু। তুমি এখন কোথায়? তুমি শিগগিরই চলে আসো। আমার দম বন্ধ হয়ে আসতেছে। ইশশিরে.. আমার আদুরের ছেলেটার কী হইল রে…
রুপু ভয়ে ভয়ে বলল,
“আপনার ছেলের কী হয়েছে মা?”
বীথি রানী ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“ওই ডাইনি.. ওই ডাইনিটা আমার ছেলেরে পুলিশে ধরাইয়া দিছে। ওই ডাইনির শরীরে পোকা পড়ব। আমার ছেলের নামে মিথ্যা কথা বলা। ওর কতবড় সাহস রে.. আমার এত ভালো ছেলেটাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাই দিল।
রুপুর বিয়ে পর্ব ৪০
তুমি শিগগিরই আসো। আইসা কী করবা করো। তোমার শ্বশুর থানায় গেছে। আজ দিনের ভেতরে আমার ছেলেরে জেলখানা থেকে বের করে দাও। ভগবানের দিব্যি করে বলতেছি, আমি সারাজীবন তোমার কেনা গোলাম হয়ে থাকব রুপু।”
