Home রুহআবিষ্ট তুমি রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২০ (২)

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২০ (২)

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২০ (২)
অধরা মিনহা

রুমে পৌঁছে আনতারা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে। কিন্তু ইফরাদকে কোথাও দেখা গেল না। বেলকনির কাচের দরজাটা খোলা। আনতারা বুঝতে পারে, হয়তো বেলকনিতে আছে। আনতারা রুমের দরজাটা লাগিয়ে দেয়। তারপর মুখের কাপড়টা সরিয়ে মুখের জমে থাকা ঘামটুকু মুছে নেয়। বুকভরে একটা শ্বাস ফেলে। চেষ্টা করে চেহারায় লেগে থাকা ভয়টুকু মুছে স্বাভাবিক হতে। সে চায় না ইফরাদ এসব কিছু জানুক। জানলে আবার ঝগড়া হবে। দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়বে।
আনতারা চায় না, তাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে আরো দণ্ড বাড়ুক। সবকিছুর মধ্যেই ইতোমধ্যে একটা তিক্ততা জমে গেছে। সে আর সেই তিক্ততা বাড়াতে চায় না। নিজের ভয়টুকু বুকের ভেতর চেপে রেখে আনতারা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ভয়টা পুরোপুরি কাটে না। আনতারা ধীরে ধীরে বেলকনির দিকে এগিয়ে গেল।বেলকনির চৌকাঠে পৌঁছাতেই দেখতে পেল, ইফরাদ সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে। এক হাত সোফার কাঁধে রাখা। সামনে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে। মুখটা মলিন, চোখেমুখে গভীর চিন্তার ছাপ।
আনতারা ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ইফরাদের পাশে দাঁড়ায়। তারপর খুব আস্তে করে ডাকে,

— রাদ?
আনতারার ডাকে ইফরাদের ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটে। সে নিজের ভাবনার জগৎ থেকে হঠাৎ ফিরে এল। চমকে তাকায় আনতারার দিকে।
— তুমি? এসেছো?
আনতারা মৃদু স্বরে বলে,
— জি। নিন, আপনার কফি।
ইফরাদ কফির মগটা হাতে নেয়। তারপর ডান হাত দিয়ে পাশে বসার ইশারা করে বলে,
— বসো, এসে পাশে আমার।
আনতারা গিয়ে জামাটা ঠিক করে ইফরাদের পাশে সোফায় বসে। ইফরাদ কফিতে চুমুক দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু চুমুক না দিয়ে হঠাৎ মগটা আনতারার দিকে বাড়িয়ে দেয়। আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কী হলো?
— একটু টেস্ট করো তো?
— কেন?
— করো না।

আনতারা কিছুই বুঝতে পারে না। তবুও ইফরাদের কথামতো মগটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দেয়। আর সঙ্গে সঙ্গেই তার চোখেমুখ কুঁচকে গেল। ইফরাদ আনতারার হাত থেকে মগটা নিয়ে নিজে এক চুমুক দেয়।
আনতারা মুখের কফিটুকু বহু কষ্টে গিলে নিয়ে বলে,
— এত তিতা এই কফি?
ইফরাদ সামনের দিকে তাকিয়ে নির্বিকারভাবে বলে,
— আমার কাছে অনেক মিষ্টি লাগছে।
আনতারা ভ্রু কুঁচকে বলে,
— চিনি দিইনি আমি।
ইফরাদ এবার আনতারার দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে বলে,
— হুম। কিন্তু তোমার এক সিপই যথেষ্ট কড়া মিষ্টির জন্য।
কথাটা শুনে আনতারা লজ্জা পায়।

— আপনিও না!
ইফরাদ আনতারার লজ্জা দেখে সামান্য শব্দ করে হেসে উঠে। আনতারা এবার নিজের লজ্জা সামলে মনের ভেতরের প্রশ্নটা করে,
— কিছু ভাবছিলেন? মন খারাপ?
ইফরাদের মুখের হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। কিছু সেকেন্ড সময় নিয়ে তারপর বলে,
— কিছু ভাবছিলাম না। এমনি বসে ছিলাম।
আনতারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর ইফরাদের ডান হাতের উপর হাত রেখে নরম গলায় বলে,
— আমি আপনার মনের অবস্থা জানি। আমি জানি, আপনি আপনার মায়ের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন।
ইফরাদ সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— কষ্ট লাগছে না আমার। কষ্ট লাগবেও না। যে আমার বউকে কষ্ট….
আনতারা ইফরাদকে থামিয়ে দেয়।

— আমার জন্য নিজের মায়ের সঙ্গে এমন করবেন না। আপনি যেমন আমার স্বামী, তেমনি ওনার সন্তান। বড় সন্তান। আমি পরের, তাই উনি আমাকে মানতে পারছেন না। কিন্তু আপনার জন্য ওনার ভালোবাসা মিথ্যা না।
ইফরাদ তাকায় আনতারার দিকে নরম দৃষ্টিতে। তারপর হালকা গলায় বলে,
— মাম্মা তোমার সঙ্গে এত কিছু করেছে, করছে, আর তুমি আমাকে মাম্মার হয়ে কথা বলছো?
আনতারা শান্তভাবে বলে,
— মা ছাড়া দুনিয়ায় আপন কেউ নেই। খবর নেওয়ারও কেউ নেই। আমি আজ এতোদিন ধরে পরিবার ছেড়ে আপনার বাড়িতে আছি। আমি বেঁচে আছি কি মরে গেছি, কেউ খোঁজ নেয়নি। আমার মা থাকলে আমার খোঁজ ঠিকই নিতেন।
ইফরাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
— কিন্তু মাম্মা কেন আমার কথাগুলো বুঝতে চায় না?
আনতারা মৃদু স্বরে উত্তর দেয়,

— কারণ উনি আমাকে পছন্দ করেন না। আপনার মা আমাকে অপছন্দ করেন, ঠিক আছে। কিন্তু উনি আপনাকে অনেক ভালোবাসেন। আর আজ আপনার ব্যবহারে উনি কষ্ট পেয়েছেন। মিটিয়ে নিন সব। আপনার মায়ের ঝামেলা তো আমার সঙ্গে, তাই না? আমার পর্যন্তই থাকুক। আপনি মায়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে থাকুন।
ইফরাদ চুপ করে রইল। তার মুখভঙ্গি দেখে বোঝা গেল, কথাগুলো শুনেও তার মধ্যে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসেনি। আনতারা কিছুক্ষণ নীরবে ইফরাদের দিকে তাকিয়ে থেকে আবার বলে,
— বুঝুন রাদ, আমার জন্য আপনাদের সম্পর্কটা কখনো খারাপ করবেন না। জীবনে প্রত্যেক মানুষের জায়গা ও গুরুত্ব আলাদা, তাই আমাদের সম্পর্কটাও তার নিজস্ব জায়গায় রাখবেন। আপনার কাছে আমি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি আপনার মা, এমন প্রশ্ন যেন কখনো ওনার মনে না আসে। ওনাকে বুঝাবেন, আপনি ওনাকে ভালোবাসেন ও সম্মান করেন, তবে সেই ভালোবাসার সঙ্গে আমার কোনো তুলনা নেই। ওনার জায়গা আলাদা, বিশেষ এবং সর্বোচ্চ। দুজনের জায়গা ও সম্মান বজায় রেখে সম্পর্কগুলোর মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রাখবেন।
ইফরাদ এবারও নিশ্চুপ থাকে। আনতারা ইফরাদকে চুপচাপ থাকতে দেখে বুঝতে পারে, প্রসঙ্গটা বদলানো দরকার। ইফরাদকে আর মন খারাপ করে থাকতে দেখতে তার ভালো লাগছে না। তাই মুখে একটুখানি হাসি ফুটিয়ে আনতারা প্রসঙ্গ বদলে বলে,

— জানেন, রাদ, আমি আজকে তাফসির শেষ করেছি।
ইফরাদ কিছুটা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— এটা আবার কী?
— তাফসির হচ্ছে কুরআনের আয়াতের অর্থ, ব্যাখ্যা ও মর্ম বুঝতে পারা। আজ আমার আলেমা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে আরো একটা ধাপ শেষ হয়েছে।
— তুমি আলেমা হতে চাও?
আনতারা মৃদু হেসে মাথা নাড়ে।
— জি। এটা আমার স্বপ্ন। আমি ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ ইলম অর্জন করতে চাই। জানতে চাই, শিখতে চাই। আমার নামের পাশে আলেমা নামটা যুক্ত হবে। এটা আমার কাছে বিশাল প্রাপ্তি।
কথাগুলো বলার পর আনতারা ইফরাদের দিকে তাকিয়ে থেকে মৃদু স্বরে বলে,
— ইফরাদ, আপনি আমার এই স্বপ্ন পূরণের পথে আমার সঙ্গে থাকবেন?
— সবসময় থাকব।
ইফরাদ কফির মগে পরপর শেষ দুটো চুমুক দেয়। তারপর মগটা রেখে আনতারার হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়। আনতারা তখনও বসে ছিল। ইফরাদের হাতের টানে তার হাতটা টান পড়তেই সেও উঠে দাঁড়ায়।
ইফরাদ বলে,

— চলো। বাইরে থেকে এসে আবার কথা হবে, রেডি হতে এসো।
আনতারাও সম্মতি দেয়। দুজনেই রুমে ফিরে এল।
আনতারা এগিয়ে গিয়ে কাভার্ড থেকে বোরখা পরতে পরতে জিজ্ঞেস করে,
— আপনার জন্য কী বের করব?
ইফরাদ আনতারার দিকে তাকিয়ে তারপর বলে,
— আমি পরনের কাপড় পরেই যাব।
আনতারা ইফরাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— এগুলো?
ইফরাদের পরনে তখন কালো টি-শার্ট আর সাদা ট্রাউজার। ইফরাদ নিজের পোশাকের দিকে একবার তাকিয়ে বলে,
— চেঞ্জ করব? তুমি বললে!
আনতারা মাথা নাড়িয়ে বলে,
— না, সমস্যা নেই। ভালোই লাগছে।
ইফরাদ আয়নার সামনে গিয়ে আনতারার পাশে দাঁড়ায়। আয়নায় নিজের চুলগুলো একবার হাত দিয়ে ঠিক করে নিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসে। আনতারা দেখে, ইফরাদ বসে তার জন্য অপেক্ষা করছে। সে দ্রুত হাতে কালো খিমার বেঁধে নেয়। তারপর ইফরাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে,
— চলুন।

ইফরাদ সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। আনতারার হাত ধরে তাকে সঙ্গে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এল। আজ লিভিং রুমটা খালি। কেউ নেই। দুজনেই বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়ায়। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। ইফরাদ বের হতেই ড্রাইভার চাবিটা দিয়ে দেয়। গাড়িটা ড্রাইভারকে বের করার জন্য আগেই চাবি দিয়ে রেখেছিল।
আনতারা ও ইফরাদ গাড়িতে উঠে বসে। ইফরাদ গাড়ি স্টার্ট দেয়। গাড়ি বাড়ির গেইট পেরিয়ে চলতে শুরু করে।
গাড়ির ভেতর দুজনের মধ্যে টুকটাক কথা হতে লাগল। এতো অশান্তির পর দুজনের একসঙ্গের এই ছোট্ট সময়টুকু তাদের দুজনের মনকেই একটু একটু করে শান্ত করে দিতে লাগল। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ইফরাদ গাড়িটা একটা খোলা মাঠের মধ্যে এনে থামায়। ইফরাদ নিজে গাড়ি থেকে নেমে আনতারার দরজা খুলে তাকে নামতে সাহায্য করে। গাড়ি থেকে নেমে আনতারা চারপাশে তাকায়। যতদূর চোখ যায়, শুধু খোলা মাঠ। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?
ইফরাদ একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,
— মেরে ফেলতে! নিরিবিলি জায়গা, সুবিধা হবে।
আনতারা ভ্রু কুঁচকে বলে,
— গুলি করে মারবেন। তাহলে কম ব্যথা পাব।
ইফরাদ মুচকি হেসে বলে,

— চুমু দিয়ে মারব। একদমই ব্যথা পাবে না।
কথাটা শুনে আনতারা লজ্জা পেয়ে গেল। সে ইফরাদের হাতে একটা চিমটি কেটে বলে,
— অসভ্য লোক একটা! মুখে লাগাম টানুন।
ইফরাদ ব্যথা পাওয়ার ভান করে। যে জায়গায় আনতারা চিমটি দিয়েছে, সেখানে হাত বুলাতে বুলাতে বলে,
— একটু ফ্লার্টও করা যায় না! বউ মারে!
— অসভ্য লোক, জ্বালাবেন না। কেন এনেছেন?
ইফরাদ গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলে,
— ইজ্জত হরণ করতে।
আনতারা কথাটা শুনে আবারও লজ্জা পেল। কিন্তু সেটা বুঝতে না দিয়ে বলে,
— আপনার বুঝি ইজ্জত নেই? তাই আমারটা নিতে চাচ্ছেন?
ইফরাদ বাকা হেসে বলে,
— আছে আমার ইজ্জত। কিন্তু তোমার ইজ্জতে আমার কু নজর লেগে আছে!
আনতারা এবার হাটা ধরে বলে,
— এসব বললে আমি চলে যাচ্ছি।
কথাটা বলেই আনতারা চলে যেতে উদ্যত হলো। সঙ্গে সঙ্গে ইফরাদ আনতারার হাত ধরে তাকে আটকে বলে,
— আচ্ছা, চলো সামনে। আজকে ইজ্জত না-ই লুটলাম।
আনতারা কথার বিপরীতে কিছু বলে না। কেবল চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। ইফরাদ হেসে আনতারাকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলে। প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর তারা এসে দাঁড়ায় একটা বিশাল গেটের সামনে। আনতারা অবাক হয়ে গেটটার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

— এটা কোথায়?
ইফরাদ পকেট থেকে একটা চাবি বের করে। তারপর গেটের তালা খুলে বিশাল গেটটা ধাক্কা দিয়ে খুলে দিল।গেট খুলতেই ভেতরের দৃশ্য দেখে আনতারার চোখজোড়া বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। ভেতরে বিশাল এক গোলাপের বাগান। যেদিকে তাকায়, শুধু গোলাপ আর গোলাপ।আনতারা বিস্মিত চোখে চারপাশ দেখে। তারপর ধীরে ধীরে দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকায় ইফরাদের দিকে। ইফরাদ মুচকি হেসে তারই দিকে তাকিয়ে আছে। আনতারা তাকাতেই ইফরাদ ভ্রু দুটো নাচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করে,
— কেমন?
আনতারা অবাক হয়ে বলে,
— গোলাপের বাগান?
ইফরাদ হেসে বলে,
— তোমার গোলাপের বাগান।
আনতারা ভীষণ অবাক! সে মজা করে বলা কথাটাও ইফরাদ সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছে? সত্যি সত্যিই তাকে আস্ত একটা গোলাপের বাগান দিয়েছে? আনতারা বিস্মিত কন্ঠে বলে,
— রাদ, আমি সামনাসামনি কখনো গোলাপের বাগান দেখিনি। এত গোলাপও কখনো দেখিনি।
মুহূর্তটা আনতারার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। আসলে স্বপ্নের মতো লাগারই কথা। ইফরাদ মৃদু হেসে নরম স্বরে বলে,

— এই বাগানের প্রতিটা গোলাপের মালিক তুমি। সব তোমার।
আনতারার চোখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠে।
— আমি ভেতরে যেতে পারি? গোলাপগুলো ছুঁতে চাই।
ইফরাদ আনতারার হাত ধরার জন্য নিজের হাতটা বাড়িয়ে দেয়। আনতারা বিনা দ্বিধায় নিজের হাতটা ইফরাদের হাতে রাখে। ইফরাদ আনতারাকে সঙ্গে নিয়ে বাগানের ভেতরে এগিয়ে গেল। আরো ভেতরে গিয়ে যখন থামে, তখন চারপাশজুড়ে শুধু গোলাপ। আর সেই অসংখ্য গোলাপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তারা দুজন।
ইফরাদ আনতারার হাতটা ছেড়ে দেয়। আনতারাকে সবকিছু নিজের মতো করে উপভোগ করতে দেয়। মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে সবকিছু উপভোগ করুক।আনতারা একে একে ফুলগুলো ছুঁতে লাগল। ফুলের পাপড়িতে আঙুল বুলিয়ে দিতে দিতে হঠাৎ মৃদু হেসে উঠে। উচ্চস্বরে না, খুবই নরম, শান্ত একটা হাসি। ফুলের সৌন্দর্যে আনতারা পুরোপুরি বিমোহিত হয়ে গেছে। হঠাৎ বাগানের সৌন্দর্য থেকে চোখ সরিয়ে আনতারা ইফরাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— রাদ, এত বড় বাগানটা নিতে অনেক খরচ হয়েছে, তাই না?

ইফরাদ দুই পকেটে হাত ঢুকিয়ে, ঘাড়টা হালকা কাত করে আনতারার দিকে তাকায়। তারপর কোমল স্বরে বলে,
— খরচের কথা ভাবছো কেন? তুমি খুশি থাকো। তোমার খুশিটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ম্যাটার করে। টাকা না।
— তারপরও একটু খুশির জন্য এত খরচ করার কী প্রয়োজন ছিল?
ইফরাদ কথায় জোর দিয়ে বলে,
— প্রয়োজন ছিল। আমার বউ হও তুমি। বউয়ের শখ পূরণ করা আমার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং দায়িত্ব। আর তোমার একটুখানি খুশির জন্য আমি সবকিছু করতে পারি। এই ফুলের বাগান তো সামান্য।
আনতারা মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে,
— এত কিছু শুধু বউয়ের প্রতি দায়িত্ব থেকে?
ইফরাদ দুই দিকে মাথা নাড়ায়। ইফরাদ নিজের হাত দুইটা বাড়িয়ে দিয়ে আনতারার কালো মোজা পড়া হাত দুটো নিজের হাতের তালুর ওপর আলতো ও কোমল পরশে আগলে নেয়। তারপর আনতারার চোখে চোখ রেখে বলে,
— দায়িত্ব হলে দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতাম। এত পাগলামি করতাম না।
— আপনার এসব পাগলামি মাঝে মাঝে খুব ভালো লাগে আমার।
— সবসময় ভালো লাগে না?
আনতারা মিষ্টি হেসে বলে,
— লাগে তো।
ইফরাদের মুখেও হাসি ফুটে উঠে,

— তোমার ভালো লাগলে আমি সারাজীবন এমন পাগলামি করব তোমাকে নিয়ে।
আনতারা হেসে উঠে। হঠাৎ ইফরাদ আনতারার দুই হাত নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে নরম গলায় বলে,
— থ্যাংক ইউ, আনতারা।
আনতারা অবাক হয়ে তাকায়।
— কেন?
ইফরাদ আনতারার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,
— এত কিছু সহ্য করেও তুমি আমার সঙ্গে থাকছো। ইউ আর দ্য বেস্ট ওয়াইফ।
আনতারা লজ্জা পেয়ে গেল। কিছু না বলে সে ইফরাদকে জড়িয়ে ধরে। মাথাটা রেখে দেয় ইফরাদের বুকে। ইফরাদও আনতারাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
— বাট প্রমিজ করছি, এখন থেকে আমি তোমার খেয়াল রাখব। এই বাড়িতে তোমার জায়গা আমি স্ট্রং করব।
আনতারা ইফরাদের বুকের সঙ্গে মুখ রেখেই মৃদু স্বরে বলে,
— আপনার বুকে আমার জায়গা চিরস্থায়ী, অটুট থাকুক। আমার আর এই দুনিয়ায় কিছু লাগবে না।
— এই বুকে শুধু তোমারই জায়গা থাকবে। নিশ্চিন্তে থাকো। আর বাকি সব জায়গাতেও আমি তোমার জায়গা মজবুত করব। কেউ তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারবে না। প্রয়োজনে আমি অনেক খারাপ হব, তবুও আমার বউকে কেউ একটুও কষ্ট দিতে পারবে না।
আনতারার চোখ ভিজে উঠে। ইফরাদের দিকে মাথা তুলে তাকায়।

— আপনি অনেক ভালো। এই প্রথম আমি কারো জীবনে এতটা গুরুত্ব পেলাম। একদম অন্যরকম।
ইফরাদ আনতারার চোখের পানি খেয়াল করে জিজ্ঞেস করে,
— কাঁদছো কেন?
আনতারা চোখের পানি সামলে বলে,
— কখনো কারোর জীবনে এত গুরুত্ব পাইনি। প্রথমবার পেয়েছি, তাই খুশিতে কান্না আসছে।
ইফরাদ মৃদু হেসে বলে,
— উঁহু! আমার জীবনের একমাত্র প্রায়োরিটি হয়ে গেছো তুমি। আমি তোমাকে এত গুরুত্বের সঙ্গে অভ্যস্ত করে দেব যে, আর কখনো নিজেকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে না।
আনতারা হেসে ফেলে,
— আল্লাহ আমাদের এই বাঁধন রাখুক অটুট, সব অনিষ্ট থেকে হেফাজতে রাখুক।
ইফরাদ মৃদু হাসি দিয়ে বলে,

— ইনশাআল্লাহ।
আনতারা হেসে উঠে।
— ইনশাআল্লাহ না আমিন হবে।
— ওহ আচ্ছা। আমিন।
ইফরাদের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
— আপনি জানেন, আগের আপনি আর এখনকার আপনার মধ্যে একটুও মিল নেই।
কথাটা বলেই আনতারা হঠাৎ একটা গোলাপ ছিঁড়ে নিতে গেল। ইফরাদ দ্রুত বলে উঠে,
— সাবধানে, মাই জানা। কাঁটা লাগবে।
আনতারা সাবধানে ফুলটা ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলে,
— এত সুখ পেয়েছি, এখন একটু ব্যথা পেলেও সমস্যা নেই।
— আমার সমস্যা আছে। তোমার একটু কষ্টও আমার সহ্য হয় না।
আনতারা ফুলটা ছিঁড়তে সক্ষম হলো। সে গোলাপটা ইফরাদের সামনে ধরে মিষ্টি হেসে বলে,
— আমাকে এত যত্ন, সম্মান আর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আমার বাগানের প্রথম গোলাপ আপনার।
ইফরাদ হেসে আনতারার থেকে গোলাপ টা নিয়ে আনতারার দিকে ঝুঁকে তাকিয়ে বলে,
— ধন্য আমি! কারও বাগানের প্রথম গোলাপ আমার ভাগ্যে জুটেছে!
আনতারা হালকা অভিমানের সুরে বলে,
— এত সুন্দর ফুল দিলাম, একটা মাশাআল্লাহ বললেন না?
— মাশাআল্লাহ বলতে বলছো?
— কিছু প্রশংসা করতে গেলে মাশাআল্লাহ বলতে শিখুন। সাধারণ কথাবার্তার মধ্যেও সওয়াব পাবেন।
ইফরাদ ফুলটার দিকে তাকিয়ে বলে,
— প্রশংসা এই ফুলের করব? ফুলটার সৌন্দর্য এতটাও না যে মাশাআল্লাহ বলতে হবে। আর ফুলদাতার সৌন্দর্য এতটাই যে এক মাশাআল্লাহ, দুই মাশাআল্লাহ….শত মাশাআল্লাহ বললেও কম পড়ে যাবে!

খিটখিটে মেজাজ নিয়ে দুপুরের রান্নায় ব্যস্ত রাবেয়া মল্লিকা। কড়াইয়ে তরকারির মসলা ভাঁজছেন। মসলা প্রায় পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। রাবেয়া মল্লিকা পেছন ফিরে বাড়ির হেল্পিং হ্যান্ডের দিকে তাকিয়ে বাজখাঁই গলায় বলে উঠেন,
— কী হলো? এখনো তোর সবজি কাটা হয়নি! এতক্ষণ লাগে করতে?
হেল্পিং হ্যান্ড বলে,
— হয়ে গেছে, আরেকটু!
রাবেয়া মল্লিকা বিরক্ত হয়ে বলেন,
— তাড়াতাড়ি কর!
তখনি ফোনে মনোযোগ দিতে দিতে রান্নাঘরে ঢুকে আনাবি। ফোন থেকে চোখ না সরিয়েই বলে,
— এক গ্লাস পানি দাও তো, আম্মু!
রাবেয়া মল্লিকা এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। রেগে গিয়ে চিৎকার করে উঠেন,
— কেন? তোর হাত কি বাঘে নিয়ে নিয়েছে? এত বড় দামড়ি মেয়ে হয়েছিস, অথচ মায়ের কাজে একটু হাত লাগাস না! আবার তোরা বাপ-মেয়ে ফরমায়েশ করিস সাত-আট পদের! সেই সকালে রান্না করতে ঢুকেছি, আর এখন বেলা একটা বাজে, এখনো রান্না করেই যাচ্ছি!
আনাবি মায়ের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় বলে,

— এমন রাগ দেখাচ্ছো কেন? সাত-আট পদ বললেও রাঁধো তো তিন-চার পদই। সঙ্গে হেল্পিং হ্যান্ড আছে, সব কেটে-কুটে দেয়, শুধু রাঁধো, এর মধ্যেই তোমার এই অবস্থা? আনতারা থাকতে তো হেল্পিং হ্যান্ডও ছিল না। তখন সাত-আট পদ রান্না করতে হতো, তাও বাড়ির সব কাজ সামলাতে হতো!
রাবেয়া মল্লিকা ফুঁসে উঠেন,
— তো আনতারাকে কি আমি ভাগিয়েছি নাকি, তু…
কথা শেষ করার আগেই আনাবি দ্রুত বলে উঠে,
— পানি না দিতে পারলে বলে দাও। অকারণে চিল্লাচ্ছো কেন?
কথাটা বলেই আনাবি চোখের ইশারায় পেছনে থাকা হেল্পিং হ্যান্ডের দিকে ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ, সব কথা শুনে ফেলবে। রাবেয়া মল্লিকারও সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা মাথায় এলো। তিনি চুপ করে গেলেন। তবে পরক্ষণেই আনাবির ওপর আবার চিৎকার করে উঠেন,
— যা এখান থেকে! নয়তো খুন্তির বাড়ি খাবি!
আনাবি বিরক্ত মুখে ফ্রিজ খুলে পানি বের করে। গ্লাসে পানি ঢালছে, ঠিক তখনি কলিংবেল বেজে উঠে,
রাবেয়া মল্লিকা আনাবিকে বলেন,

— যা, দরজাটা খুলে আয়।
আনাবি সঙ্গে সঙ্গে চোখমুখ কুঁচকে বলে,
— আমি পারব না।
তারপর হেল্পিং হ্যান্ডের দিকে তাকিয়ে বলে,
— যাও, দরজাটা খোলো।
রাবেয়া মল্লিকা রেগে বলেন,
— দেখছিস না, ও সবজি কাটছে? চুপচাপ গিয়ে দরজা খোল। হয়তো তোর আব্বু এসেছে! দেরি করে দরজা খুললে আবার রাগারাগি করবে।
মায়ের কথায় বিরক্ত হয়ে আনাবি হাতে পানির গ্লাস নিয়েই এগিয়ে গেল দরজা খোলার জন্য। ড্রয়িংরুমে এসে দরজা খুলতেই সামনে সাদমানকে দেখতে পেল। ওদিকে রান্নাঘর থেকে রাবেয়া মল্লিকা গলা উঁচু করে জানতে চাইলেন,
— কে এসেছে, আনাবি?
আনাবিও একইভাবে গলা উঁচু করে উত্তর দেয়,
— সাদমান ভাইয়া।
কথাটা শুনেই রাবেয়া মল্লিকা খুশি হন। তিনি হেল্পিং হ্যান্ডকে বলেন রান্নাটা একটু দেখতে। তারপর নিজেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। সাদমান আনাবির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— খালামনি কোথায়?
আনাবি বলে,

— আম্মু রান্না করছে। ভেতরে আসো তুমি।
তখনি রাবেয়া মল্লিকা ড্রয়িং রুমে এসে পৌছান।
— এই তো, আমি এসে গেছি। কেমন আছো বাবা?
সাদমান সে কথার জবাব না দিয়ে তাড়াহুড়ো গলায় বলে,
— খালামনি, আমি একটা জরুরি কাজে এসেছি। তোমাদের হেল্প লাগবে।
আনাবি দরজা লাগিয়ে তাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করে,
— কী হেল্প?
সাদমান কয়েক সেকেন্ড থেমে দুজনকে একনজর দেখে বলে,
— আমি আনতারার খোঁজ পেয়েছি। ও কোথায় আছে, আমি জানি।
আনাবি চমকে উঠে,
— কোথায় আছে?
সাদমান বলে,
— ওই সুপারস্টার ইফরাদ রিদান চৌধুরীর বাড়িতে।
আনাবি অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
— ওখানে ও কীভাবে?
এবার সাদমানের গলা ভারী হয়ে এল। কথাটা এড়িয়ে বলে,
— আমি জানি না। কিন্তু আমি সিউর, আনতারা ওখানেই আছে।
আনাবি এবার আরো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— তুমি এত সিউর কীভাবে?
রাবেয়া মল্লিকাও সঙ্গে সঙ্গে আনাবির কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন,
— হ্যাঁ, আর তুমি এসব কীভাবে জানলে?
সাদমান বলতে শুরু করে,
— আমার একটা বন্ধু আছে, রিপোর্টার। ওর কাছে যখন আমি আনতারাকে খুঁজে বের করার জন্য সাহায্য চাইলাম, তখন ওকে সবকিছু খুলে বলেছিলাম। তখন সে আমাকে জানায়, সেদিন ইফরাদ রিদান চৌধুরীর সঙ্গে আনতারার ব্যাপারটা যখন সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল, তার দুদিন পর ইফরাদ রিদান চৌধুরী নাকি মিডিয়া ডেকে জানায়, আনতারা তার স্ত্রী। শুধু তাই না, তাদের বিয়ে নাকি আরো এক বছর আগেই হয়েছে।
সাদমান একটু থেমে বলে,

— এর কয়েকদিন পর নাকি ইফরাদ রিদান চৌধুরীকে একটা শপিংমলে এক মেয়ের সঙ্গে দেখা যায়। মেয়েটা তখন বোরখা পরা ছিল। আর সেখানেও নাকি অনেক ঝামেলা হয়েছিল।
সাদমানের কথা শুনে আনাবি আর রাবেয়া মল্লিকা দুজনেই থমকে গেল। হঠাৎ করে তাদের মাথার ওপর দিয়ে একের পর এক অজানা তথ্য বয়ে গেল। কেউই কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর সাদমান রাবেয়া মল্লিকার হাত ধরে অনুরোধের সুরে বলে,
— খালামনি, তুমি আর আনাবি প্লিজ আমার সঙ্গে চলো?
রাবেয়া মল্লিকা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন,
— কোথায়?
— আনতারার কাছে।
রাবেয়া মল্লিকা সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কঠিন গলায় বলেন,
— আমাদের ওর সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই। ওই মেয়ে নাপাক! ওমন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাব না।
সাদমান আবার রাবেয়া মল্লিকার হাত ধরে অনুনয়ের স্বরে বলে,

— প্লিজ খালামনি, এমন করো না।
তখনি আনাবি এগিয়ে এসে মায়ের হাত ধরে। সাদমানের দিকে তাকিয়ে বলে,
— আমি আম্মুকে রাজি করাচ্ছি।
কথাটা বলে আনাবি মাকে একটু পাশে নিয়ে গেল। তারপর নিচু গলায় ফিসফিস করে বলে,
— যেতে চাচ্ছো না কেন?
রাবেয়া মল্লিকাও ফিসফিস করে উত্তর দেন,
— ওর থেকে জান ছুটিয়েছে আল্লাহ! ওর মুখটাও দেখতে চাই না।
আনাবি বিরক্ত হয়ে বলে,
— উফফ! চলো না যাই! দেখি না, ওইখানে আনতারা কী অবস্থায় আছে!
রাবেয়া মল্লিকা ভ্রু কুঁচকে বলেন,
— ওর অবস্থা জেনে আমরা কী করব?
আনাবি শয়তানি হেসে বলে,

— ওত বড় সুপারস্টারের ঘরে তো আর আনতারা রানি হয়ে থাকবে না। বাড়ির ঝি-চাকর হয়েই থাকবে! মজা নেওয়া তো যাবে!
রাবেয়া মল্লিকা কিছুক্ষণ ভেবে বলেন,
— কথাটা মন্দ না। যাওয়া যায়।
অবশেষে তিনি রাজি হলেন। তারপর সাদমানের সামনে এসে বলেন,
— আচ্ছা, আমরা যাব।
আনাবি চিন্তিত গলায় বলে উঠে,
— কিন্তু অত বড় সুপারস্টারের বাড়িতে আমরা ঢুকব কীভাবে? আমাদের তো গেটের সামনেই দাঁড়াতে দেবে না।
সাদমান আশ্বস্ত করে বলে,
— সব ব্যবস্থা করা যাবে। তোমরা চল।
রাবেয়া মল্লিকা অবাক হয়ে বলেন,

— এখন?
— আমি দেরি করতে যাই না।
রাবেয়া মল্লিকা বলেন,
— তোমার খালু আসবে খেতে এক্ষুনি। তাছাড়া তোমার খালুকে জানতে দেওয়া যাবে না যে আমরা আনতারার কাছে যাচ্ছি। নয়তো উনি আমাকে সহ বের করে দেবেন!
সাদমান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২০

— কেন?
রাবেয়া মল্লিকা মুখটা গম্ভীর করে বলেন,
— কেন আবার কী? আমাদের মুখে যেভাবে কালি মেখে গেছে! উনাকে মাথা নত করে রাস্তায় হাঁটতে হয়।
সাদমান আর কিছু বলে না। তবে সে জানে, আনতারা নির্দোষ। কিন্তু এই মুহূর্তে সে সত্যিটা বলতে চাইল না। কারণ রাবেয়া মল্লিকা যদি আবার বেঁকে বসেন? যদি শেষ মুহূর্তে যেতে না চান? তাই সাদমান নীরব রইল।

রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ২১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here