রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৮
মহাসিন
অনেকটা সময় গড়িয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটায় এখন রাত দশটা। আহমেদ পরিবারের সবাই ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে। আলো নিজের রুমে ঘুমাচ্ছে। নীলাঞ্জনা একে একে সবার পাতে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। শাপলাও চুপচাপ ওর পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করছে।
খেতে খেতে সায়েক আহমেদ মেয়ের দিকে তাকিয়ে শুধালেন,“তা এবার কত দিনের জন্য এলি?”
কবিতা খাবার নাড়াচাড়া করতে করতে বলল, “কেন? আমি এই বাড়িতে আসলে কি তোমাদের অসুবিধা হয়?”
সায়েক আহমেদ হেসে ফেললেন। “অসুবিধা হবে কেন? এটা তোরও বাড়ি। তোর অধিকার আছে এখানে আসার। আসলে তো অনেক দিন থাকিস, তাই জিজ্ঞেস করলাম। তা তোর শ্বশুরবাড়ির সবাই ভালো আছে তো?”
“হ্যাঁ, সবাই ভালো আছে,” কবিতা ছোট করে জবাব দিল।
সিয়াম এবার কবিতার দিকে তাকাল। “আপু, দুলাভাই বিদেশ থেকে কবে ফিরবে? কল দিলে রিসিভ করে না। জিজ্ঞেস করিস তো, আমার কল দিলে বিরক্ত হয় নাকি? তাহলে আর কল দেব না।”
পাশ থেকে নিরবও সায় দিল, “হ্যাঁ, আমিও কল দিই। কিন্তু ধরে না।”
কবিতা ভাতের দলা ভাঙতে ভাঙতে বলল, “না না, বিরক্ত হবে কেন? আসলে অনেক বেশি বিজি থাকে তো, তাই রিসিভ করতে পারে না। মাঝে মাঝে আমার কলও ধরে না।”
মহুয়া আহমেদ খেতে খেতে হঠাৎ খেয়াল করলেন, জেরিন প্লেটের খাবার প্রায় ছুঁয়েও দেখছে না। অল্প অল্প করে নাড়াচাড়া করছে শুধু।
“জেরিন, তুমি এত কম করে খাচ্ছ কেন মা? এত অল্প খেলে হবে?” তিনি নীলাঞ্জনার দিকে তাকালেন। “নীলাঞ্জনা মা, ওকে আরেকটু দাও তো। দেখো, কেমন অল্প অল্প খাচ্ছে।”
জেরিন মিষ্টি করে হাসল। “না আন্টি, আমি ডায়েট করি। তাই খাবার কম খাই।”
শাপলা তখনও নীলাঞ্জনার পাশে দাঁড়িয়ে। নিরব ওর দিকে তাকিয়ে বলল, “কিরে শাপলা, দাঁড়িয়ে আছিস কেন? বসে পড়। চেয়ার তো খালি আছে।”
শাপলা মাথা নিচু করে বলল, “না ভাইয়া, আমি ভাবির সাথে খাব।”
আরিফ খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে কবিতার দিকে তাকাল। গলাটা কঠিন। “কিরে, তুই বাড়িতে পা দিতে না দিতেই ঝামেলা শুরু করে দিলি?”
কবিতার চোখ সরু হয়ে এল। “ও, তার মানে এর মধ্যেই তোর কানে বি*ষ ঢেলে দেওয়া হয়ে গেছে? তা কে দিল? তোর বউ, নাকি শাপলা?”
আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “নিজের মুখ সামলা, কবিতা। এমন কোনো কাজ করিস না, যাতে এই বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে বের হতে হয়।”
কথাটা বলেই আরিফ চেয়ার ঠেলে উঠে চলে গেল।
ডাইনিং টেবিলে নেমে এল ভারী নীরবতা।
মহুয়া আহমেদ এবার মেয়ের দিকে তাকালেন। গলায় শাসনের সুর। “বেড়াতে এসেছিস, কোনো ঝামেলা করিস না। যতদিন ইচ্ছা থাক। কারো সাথে ঝগড়া করিস না। এখানে সবাই তোর আপন, কেউ পর না। শুধু শুধু নিজের পরিবারের মানুষের সাথে ঝগড়া করিস না।”
কবিতা প্লেটটা ঠেলে সরিয়ে দিল। চোখে অভিমান। “ভুল বললে মা। আমার আপন বলতে শুধু বাবা আর তুমি। এছাড়া এই বাড়িতে আমার আর কেউ আপন না।”
আর কেউ কোনো কথা বলল না।
এক এক করে সবাই খাওয়া শেষ করে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। ডাইনিং টেবিলে পড়ে রইল আধ-খাওয়া খাবার আর জমে থাকা অভিমানের স্তূপ।
শাপলা দরজাটা আটকে দিতে যাবে, ঠিক তখনই সিয়াম এসে হাজির।
শাপলা বিরক্ত মুখে বলল, “আপনি এখন আসলেন কেন? আমার ঘুম পাচ্ছে। ঘুমাতে হবে। আপনি এখান থেকে চলে যান।”
সিয়াম শাপলার কোনো কথাই কানে তুলল না। ওকে পাশ কাটিয়ে সোজা রুমের ভেতর ঢুকে গেল।
শাপলা চাপা গলায় চেঁচিয়ে উঠল, “উফ্! আপনাকে আসতে বারণ করছি তো! তবুও কেন এলেন? ধ্যাত, ভাল্লাগে না!”
সিয়াম কোনো জবাব না দিয়ে শাপলার বিছানায় লাফ দিয়ে শুয়ে পড়ল। হাসতে হাসতে বলল, “আমি আজ তোর সাথে ঘুমাবো, তাই এসেছি। বুঝলি?”
শাপলা সিয়ামের হাত ধরে টানতে লাগল। “আমার কিছু বুঝতে হবে না। আপনি বরং আপনার বেয়াইন জেরিনের রুমে গিয়ে ঘুমান, তাতে ভালো হবে।”
শাপলার মুখে এই কথা শুনে সিয়াম উঠে বসল। মনে মনে হাসল। _ও, তার মানে তুই সব দেখেছিস! আমি যখন জেরিনের সাথে কথা বলছিলাম। তোর জেলাস ফিল হচ্ছে, বুঝতে পারছি। এবার দেখ, তোকে কীভাবে জেলাস ফিল করাই। তুই যে আমাকে ভালোবাসিস, সেটা তোর মুখ থেকে বের করেই ছাড়ব।_
শাপলা সিয়ামের দিকে তাকিয়ে খোঁচা দিল, “ওই ভাইয়া, কোথায় হারিয়ে গেলেন? চুপ করে আছেন কেন?”
সিয়াম ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন, আমি কেন জেরিনের রুমে যাব, হ্যাঁ?”
“আপনাকে আমার একদম সহ্য হচ্ছে না। আপনি ওই ফালতু মেয়েটাকে বললেন কেন যে আপনি সিঙ্গেল?” শাপলার গলায় অভিমান।
সিয়াম ঠোঁটের কোণে হাসি লুকাল। “ও, তার মানে তুই লুকিয়ে লুকিয়ে আমার আর জেরিনের কথা শুনছিস?”
“মোটেও না! আমি কেন আপনাদের কথা শুনতে যাব?” শাপলা মুখ ঘুরিয়ে নিল। “ব্যালকনির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন শুনেছি। এই আর কি।”
সিয়াম বিছানায় আধশোয়া হয়ে বলল, “আমি তো সিঙ্গেল, তাই সিঙ্গেল বলেছি। মিথ্যা কেন বলব? তুই তো এখনও আমাকে ভালোবাসার কথা বলিসনি। যদি বলতি, তাহলে আমি বলতাম আমি মিঙ্গেল।”
শাপলা ঝাঁঝিয়ে উঠল, “আপনি ওই ফালতু জেরিনের সাথে প্রেম করেন যান। আমাকে বিরক্ত করবেন না।”
সিয়াম এবার বিছানা থেকে উঠে ধীরে ধীরে শাপলার দিকে এগিয়ে এল। চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে কহিল, “আমি শুধু তোকে ভালোবাসি, শাপলা। আমি শুধু তোর, একান্তই তোর হয়ে থাকতে চাই। আমি তোর জীবনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে চাই। তুই শুধু একবার বল, আমাকে ভালোবাসিস কিনা?”
শাপলা এক পা পিছিয়ে গেল। “না, আমি আপনাকে ভালোবাসি না। আর কখনো ভালোবাসবও না। আপনি জেরিনের সাথে প্রেম করেন যান। একদম আমার কাছে আসবেন না। আমাকে স্পর্শ করবেন না। ওই জেরিনকে স্পর্শ করেন।”
শাপলা আরও কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই সিয়াম এক ঝটকায় ওর ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
পুরো পৃথিবীটা থমকে গেল শাপলার। শরীর সিরসির করে উঠল। লজ্জায় গাল দুটো টমেটোর মতো টসটসে লাল হয়ে গেল। একদম চুপ।
সিয়াম ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিসাল, “চুপ, একদম চুপ। আমি শুধু তোকে ভালোবাসি। আমি শুধু তোর, একান্তই তোর।”
এই বলে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে সিয়াম ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
শাপলা দ্রুত দরজাটা আটকে দিল। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা তখনও দ্রাম দ্রাম করছে। ধীরে ধীরে জানালার কাছে গিয়ে জানালাটা খুলে দিল। রাতের ঠান্ডা বাতাস এসে ওর মুখ ছুঁয়ে গেল।
একা একা আনমনে বলতে লাগল, “সিয়াম ভাইয়া, আপনি শুধু আমার, একান্তই আমার। আমি আপনাকে ভালোবাসি… অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি। আপনাকে আমার খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে। মন চায় আপনার বুকে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমাই। মন চায় আপনাকে নিয়ে হারিয়ে যাই কল্পনার জগতে…”
জানালার বাইরে তখন জ্যোৎস্না হাসছে। আর শাপলার চোখে নামছে না-বলা ভালোবাসার শ্রাবণ।
সিয়াম দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই ও থমকে গেল। ওর বিছানার এক কোণে জেরিন বসে আছে।
সিয়াম ভ্রু কুঁচকে শুধালো, “একি! আপনি এত রাতে আমার রুমে কেন?”
জেরিন ন্যাকামি করে ঠোঁট উল্টাল। “বেয়াই সাহেব, দেখেন না? আমার একটুও ঘুম আসছে না। তাই আপনার কাছে চলে এলাম। আমার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করুন না।”
সিয়াম বিরক্তি চেপে বলল, “এত রাতে গল্প করতে পারব না। আপনি এখন চলে যান, আমি ঘুমাব।”
জেরিন না গিয়ে বরং উঠে এসে সিয়ামের একদম কাছে চলে এল। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কহিল, “এমন করেন কেন? এত রাতে একটা সুন্দরী মেয়ে আপনার সাথে গল্প করতে চায়, আর আপনি তাকে চলে যেতে বলেন? Berry Bad!”
সিয়াম সঙ্গে সঙ্গে এক পা পিছিয়ে গেল। গলাটা শক্ত করে বলল, “আমি এখন গল্প করতে পারব না। You leave.”
জেরিন ঠোঁট টিপে হাসল। “এমন করেন কেন? আমার সাথে গল্প করলে আপনারও ভালো লাগবে।” এই বলে আরও এক পা এগিয়ে এল। সিয়ামের বুকের ওপর আঙুল দিয়ে হালকা খোঁচা দিয়ে বলল, “চলুন না, দুজনে রো*মা*ন্টিক কথা বলে হারিয়ে যাই প্রেমের রাজ্যে।”
সিয়ামের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। “আমার কোনো শখ নাই আপনার সাথে এখন আজাইরা আলাপ করার।”
জেরিনের মুখটা মুহূর্তে কালো হয়ে গেল, কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নিল। ঠোঁট বাঁকিয়ে কহিল, “ঠিক আছে, আমি তাহলে চলে যাই। কিন্তু মনে রাখবেন, I will have a romantic love affair with you one day.”
কথাটা বলেই জেরিন ঘুরে দাঁড়াল এবং পায়ের গোড়ালি ঠুকে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
সিয়াম দ্রুত গিয়ে দরজাটা আটকে দিল। ছিটকিনি লাগিয়ে লম্বা একটা শ্বাস ফেলল। একা একা বিড়বিড় করে বলল, “এই মেয়ে দেখি আমার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করছে। ঠিক আছে, করে যাও। দেখি কী করতে পারো।”
এরপর টেবিল থেকে ল্যাপটপটা টেনে কিছুক্ষণ কাজ করল। মাথাটা জ্যাম হয়ে আছে। শাপলার লাল হয়ে যাওয়া মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
ল্যাপটপ বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে সিয়াম বিছানায় শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করতেই শাপলার কাঁপা কাঁপা ঠোঁটের স্পর্শটা মনে পড়ে গেল। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি খেলে গেল।
এর পর ধীরে ধীরে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল।
সকাল হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটায় এখন দশটা। রোদটা আর কাঁচা নেই, বেশ ঝকঝকে। ব্যালকনির গ্রিল গলে আলো এসে পড়েছে মেঝেতে, ধুলোকণারা সেই আলোয় নাচছে।
কবিতা আর জেরিন চুপচাপ বসে আছে। দুজনের হাতেই চায়ের কাপ, যদিও চা জুড়িয়ে পানি।
জেরিন হঠাৎ নীরবতা ভেঙে কবিতার দিকে তাকাল। গলাটা একটু খাদে নামিয়ে বলল,
“আমি তোমাকে একটা কথা বলব।”
কবিতা কাপটা নামিয়ে হাসল, “হ্যাঁ, বলো।”
জেরিন লজ্জায় মাথা নিচু করল। আঙুলে ওড়নার কোণ পেঁচাতে পেঁচাতে বলল, “আমার না… একজনকে খুব ভালো লাগে।”
“কিহ্!” কবিতা চমকে উঠল। “তা ছেলেটা কে?”
“একটা ছেলে।” জেরিনের গাল লাল হয়ে গেল। “আমার অনেক ভালো লাগে। দেখতে খুব সুন্দর, হ্যান্ডসাম। পুরাই নায়ক নায়ক।”
কবিতা ভ্রু নাচিয়ে মজা করে শুধালো, “তা কবে থেকে প্রেম করো?”
“আরে না, এখনও প্রেম করি না।” জেরিন তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল। “আমি ছেলেটাকে পছন্দ করি। ছেলেটা আমাকে পছন্দ করে কিনা, জানি না।”
“ওহ্! আমি তো অন্য কিছু মনে করলাম।” কবিতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
জেরিন এবার সোজা হয়ে বসল। চোখে দৃঢ়তা। “আমি ঠিক করেছি, আমিই প্রথমে ছেলেটাকে প্রপোজ করব। ও যদি এক্সেপ্ট না করে, তখন তুমি ওই ছেলেটাকে রাজি করাবে।”
কবিতা হতভম্ব। “তুমি পাগল হয়ে গেলে নাকি! তুমি প্রপোজ করবে? এটা কেমন অদ্ভুত হয়ে যাবে না? যেখানে ছেলেটার তোমাকে প্রপোজ করার কথা, আর তুমি কিনা মেয়ে হয়ে ওই ছেলেকে প্রপোজ করবে!”
“তাতে কী হয়েছে?” জেরিনের গলায় জেদ স্পষ্ট। “আমি যাকে ভালোবাসি, তাকে প্রপোজ করলে সমস্যা কী?”
কবিতা কপাল কুঁচকাল। “আচ্ছা, আরেকটা কথা। আমি কীভাবে ওই ছেলেকে রাজি করাব, হ্যাঁ? আমি এমন কে যে ছেলেটা আমার কথা শুনবে?”
জেরিন এবার কবিতার হাত চেপে ধরল। গলা নামিয়ে ফিসফিস করে কহিল, “কারণ সেই ছেলে আর কেউ না… তোমার ভাই, সিয়াম।”
কথাটা শুনে কবিতার মুখটা মুহূর্তে খুশিতে ঝলমল করে উঠল। “কি! সিয়াম?” পরক্ষণেই চিন্তার ভাঁজ পড়ল কপালে। “কিন্তু সিয়াম কি রাজি হবে? ও তো কখনো কারো কথা শোনে না। সবসময় নিজের ইচ্ছেমতো যা ইচ্ছা তাই করে।”
“তোমাকেই রাজি করাতে হবে, ভাবি।” জেরিনের গলায় আকুতি। “আমি তোমার ভাইকে ভালোবাসি।”
“কবে থেকে?” কবিতা নরম গলায় জানতে চাইল।
“সেই তোমার আর ভাইয়ার বিয়ের দিন থেকে।” জেরিনের চোখ দূরে কোথাও হারিয়ে গেল। “প্রথম দেখাতেই আমার সিয়ামকে খুব ভালো লেগে যায়।”
কবিতা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। সকালের রোদ এসে ওর চুলে খেলা করছে। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “আমি গ্যারান্টি দিতে পারছি না, তবে আমি চেষ্টা করব।” একটু থেমে আবার বলল, “কিন্তু সিয়াম যদি কারো সাথে রিলেশনে থেকে থাকে, তবে কিন্তু কখনো সম্ভব না।”
জেরিন সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম ও সিঙ্গেল আছে কিনা। বলল, সে এখনও সিঙ্গেল।”
“তোকে যদি মিথ্যা বলে থাকে, তখন?” কবিতার কণ্ঠে সন্দেহ।
জেরিনের চোয়াল শক্ত হলো। চোখে অদ্ভুত এক জেদ। “সত্যি হোক বা মিথ্যা, তাতে কিছু যায় আসে না। সিয়াম যদি কারো সাথে প্রেম করেও, তবুও আমি সিয়ামকে আমার জীবনে এনে ছাড়ব।”
এরপর কবিতার দিকে তাকিয়ে করুণ গলায় শুধালো, “ভাবি, তুমি আমার পাশে থাকবে তো?”
সকাল দশটার সেই নরম রোদে কবিতা জেরিনের হাতটা শক্ত করে ধরল। মৃদু হেসে কহিল, “হ্যাঁ, আমি তোর পাশে থাকব।”
বাইরে তখন রোদের তেজ বাড়ছে। আর ব্যালকনিতে দুটো মেয়ের মধ্যে যে গোপন চুক্তি হয়ে গেল, তার উত্তাপ রোদের চেয়ে কম কী?
নীলাঞ্জনা আর শাপলা ড্রয়িংরুমের সোফায় মুখোমুখি বসে আছে।
নীলাঞ্জনা কিছুক্ষণ চুপ থেকে শাপলার দিকে তাকাল। নরম গলায় শুধালো, “শাপলা, তুমি কি সিয়ামকে ভালোবাসো?”
শাপলা চমকে উঠে ভাবির দিকে তাকাল। তারপর মাথা নিচু করে বলল, “ভাবি, আপনাকে তো বলেছিলাম সিয়াম ভাইয়াকে ভালো লাগে। কিন্তু… আমি এখন তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”
“সিয়ামকে বলেছ?” নীলাঞ্জনার কণ্ঠে উদ্বেগ।
“এখনও বলিনি।” শাপলার গলায় দ্বিধা। “আমি খুব চিন্তায় আছি, বলব নাকি বলব না।”
নীলাঞ্জনা শাপলার হাতটা ধরল। “এত তাড়াতাড়ি না বলাই ভালো, শাপলা। তুমি এখনও অনেক ছোট। আরও ভালো করে ভাবো। নইলে পরে পস্তাতে হবে।”
শাপলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ বলে উঠল, “আচ্ছা ভাবি, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”
“হ্যাঁ, করো।” নীলাঞ্জনা হাসল।
শাপলা ইতস্তত করে শুধালো, “আপনি কি বিয়ের আগে কারো সাথে প্রেম করতেন?”
নীলাঞ্জনা মাথা নাড়ল। “প্রেম করিনি। তবে তোমার মতো বয়সে একজনকে ভালো লেগেছিল। কিন্তু সেটা ভালোবাসা না, শাপলা। ওটা আবেগ ছিল। আমি শুধু ভালোবাসি আরিফকে।”
শাপলা এবার সরাসরি তাকাল। “আচ্ছা ভাবি, আপনি কেন সিয়াম ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলেন সে কোন মেয়েকে ভালোবাসে? আপনি তো জানেন সে যে আমাকে পছন্দ করে।”
নীলাঞ্জনা মুচকি হাসল। “আরে, আমি সিয়ামের মুখ থেকেই কথাটা বের করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলি তো, কিছুই বলল না।”
ঠিক তখনই সিয়াম ড্রয়িংরুমে ঢুকল। ওকে দেখেই নীলাঞ্জনা আর শাপলা দুজনেই চুপ করে গেল।
সিয়াম ধপ করে সোফায় বসে পড়ল। ভ্রু নাচিয়ে বলল, “কী ব্যাপার? আমাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল বুঝি?”
শাপলা মুখ ঝামটা দিল। “আপনাকে নিয়ে কথা হবে কেন? আপনি কি কোনো ভাইরাল পার্সন যে আপনাকে নিয়ে কথা বলব?”
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৭
সিয়াম ঠোঁটের কোণে হাসি চেপে বলল, “আমি ঠিকই শুনেছি। আমাকে নিয়ে কী যেন বলাবলি হচ্ছিল।”
কথা শেষ হতে না হতেই কবিতা আর জেরিন ড্রয়িংরুমে চলে এল। দুজনেই সোফায় বসল।
কবিতা এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল, “নিরব কি বাড়িতে থাকে না? ওকে শুধু কাল রাতে দেখলাম।”
নীলাঞ্জনা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “নিরবের অফিসে অনেক কাজ। তাই বাড়িতে তেমন দেখা যায় না।”
হঠাৎ সিয়ামের ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ও উঠে দাঁড়াল। “আমি আসছি।” বলে দ্রুত পায়ে ব্যালকনির দিকে চলে গেল।
জেরিনও চুপচাপ উঠে দাঁড়াল। কারো দিকে না তাকিয়ে সিয়ামের পিছু পিছু ব্যালকনির দিকে চলে গেল।
