রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৭
মহাসিন
সিয়াম গাড়িতে বসে আছে।
বাকিরা সেই কখন শপিং করতে গেছে, এখনো আসার নাম নেই।
হঠাৎ করেই শাপলার কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল সিয়ামের ।
ফোন বের করে শাপলার নম্বরে কল দিলো সে।
রিং হচ্ছে… কিন্তু রিসিভ করছে না।
সিয়াম আবার কল দিলো। আবার রিং হচ্ছে । আবার নীরবতা।
একবার, দুবার, তিনবার… বারবার কল দিলো, কিন্তু শাপলা ফোন ধরল না।
চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ল সিয়ামের।
কেন শাপলা কল রিসিভ করছে না? শরীর খারাপ হলো নাকি? নাকি কিছু হয়েছে?
সিয়াম এবার মেসেজ পাঠালো।
কিন্তু মেসেজও সিন হলো না।
সিয়ামের মুখে চিন্তার ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ঠিক তখনই নীলাঞ্জনা, আলো, জেরিন কবিতা—ত শপিং ব্যাগ হাতে হাসতে হাসতে ফিরে এলো।
সিয়াম বিরক্ত গলায় বলল,
“এত সময় লাগছে কেন হ্যাঁ? সেই কখন থেকে গাড়িতে বসে আছি।”
নীলাঞ্জনা হেসে বলল,
“আরে এমন করো কেন! আমরা তো চলে আসছি।”
এই বলে কবিতা বাদে সবাই গাড়িতে উঠে পড়ল।
সিয়াম গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে বলল,
“কিরে আপু, তুই কেন বাইরে দাঁড়িয়ে আছিস? গাড়িতে ওঠ।”
কবিতা আস্তে করে বলল,
“এত তাড়াতাড়ি যাবো না। তোরা সবাই গাড়ি থেকে বের হ। আমরা সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে আসি।”
সিয়াম ভ্রু কুঁচকে বলল,
“তার দরকার নেই। তুই তাড়াতাড়ি গাড়িতে ওঠ।”
“না,” কবিতা জেদ ধরে বলল,
“খাবার খেয়ে তারপর যাবো। অনেক দিন হলো বাইরে খাই না। আজকে খাবার খেয়ে তার পর যাবো।”
সিয়াম বিরক্ত হয়ে বলল,
“ধ্যাত, ভালো লাগে না।”
নীলাঞ্জনা কবিতার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আরে চলো বাড়ি যাই। বাইরের খাবার খেতে হবে না।”
কবিতা কিছু বলল না। মনে শুধু ভাবতে লাগল,
‘এখন কীভাবে বাড়ি যাবো? গেলেই তো সিরাজ ধরা পড়ে যাবে। এখনো তো মেসেজ করে জানালো না। উফ্, কীভাবে এদের আটকাই। কিছু মাথায় আসছে না। এবার কি করবো আমি। কতক্ষন বা এদের আটকে রাখবো। উফ্ আর ভালো লাগছে না।’
সিয়াম আবার বলল,
“কিরে, কিছু বল? কোথায় হারিয়ে গেলি? আগে জানলে তোদের সাথে কখনোই আসতাম না।”
কবিতা হেসে বলল,
“আরে এমন করিস কেন? চল না সবাই। অনেক মজা হবে।”
সিয়াম ধমকের সুরে বলল,
“এখন কিন্তু তোকে রেখেই চলে যাবো।”
শেষমেশ কবিতা আর কিছু বলল না। চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসল।
সিয়াম আর দেরি করল না। একটানে গাড়ি স্টার্ট দিলো।
ইঞ্জিনের গর্জন উঠল, আর গাড়ি ছুটে চলল বাড়ির উদ্দেশ্যে।
গাড়ির কাচের ওপাশে শহরের আলো ছুটে চলেছে পেছনের দিকে।
কিন্তু সিয়ামের মন পড়ে আছে শাপলার কাছে যে ফোন ধরেনি।
গাড়ির ভেতরটা নিঃস্তব্ধ, অথচ কবিতার মনে চলছে ঝড়।
কবিতা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তার চোখে কিছুই পড়ছে না।
বুকের ভেতরটা ছটফট করছে।
যদি সিরাজ ধরা পড়ে যায়… তাহলে কী হবে?
সব শেষ হয়ে যাবে। সব পরিকল্পনা মাটি হয়ে যাবে এক নিমিষে।
চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তার মুখে।
ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। প্রতিটা সেকেন্ড যেন একেকটা যুগের মতো কাটছে।
জেরিন একদৃষ্টিতে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে। দু’চোখ ভরে সে শুধু সিয়ামকেই দেখছে।
মনে মনে ফিসফিস করে বলছে সে—
“কীভাবে আপনাকে পাবো? আপনাকে যে আমার পেতেই হবে। যদি না পাই, তাহলে আমার জী*বন শে*ষ হয়ে যাবে।
ম*রা*র পরও আফসোস থেকে যাবে আপনাকে না পাওয়ার।
আমি চাই আপনি শুধু আমার হন।
আমি চাই আপনি আমাকেই ভালোবাসুন, শুধুই আমাকে।
আপনাকে পাওয়ার জন্য আমি সব কিছু করতে পারি।
কেউ যদি মাঝখানে আসে… তাকে আমি শে*ষ করে দেবো।
সে শাপলা হোক, আর অন্য কেউই হোক।”
কবিতার চোখে এখন ভালোবাসার চেয়ে বেশি জ্বলছে এক ধরনের পাগলামি—যা হারানোর ভয় থেকে জন্ম নিয়েছে।
গাড়ির মৃদু দোলায় শরীর স্থির থাকলেও, কবিতার মন এক মুহূর্তের জন্যও হলেও শান্ত হচ্ছে না।
সে বারবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে।
সিরাজকে মেসেজ পাঠাচ্ছে একটার পর একটা।
কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই। মেসেজ দেখাও হয়নি।
কবিতার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে।
মনে মনে সে বিড়বিড় করে বলছে,
“এবার মনে হয় এই সিরাজের জন্যই ধরা পড়ে যাবো। উফ্, এখন আমি কী করবো?
কেন যে এই কাজটা ওকে দিলাম!
এখন কী করবো আমি?
আর ভালো লাগছে না।
বাড়ির সবাই যদি জেনে যায়… তাহলে আমি আর কোনোদিন মুখ দেখাতে পারবো না।
আর কোনোদিন বাড়িতে আসতে পারবো না।
চিরদিনের জন্য বাড়ির দরজায় আমার জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।”
ভয় তার বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে।
শুধু একটাই প্রার্থনা তার মনে,
‘হে আল্লাহ, সিরাজ যেন ধরা না পড়ে।’
ঘরের কোণে জড়সড় হয়ে বসে আছে শাপলা।
গলা শুকিয়ে কাঠ। বুকের ভেতরটা কাঁপছে মৃ*ত্যু*র আগমনী সুরের মতো।
চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে অবিরল ধারায়, মুছে ফেলার শক্তিটুকুও নেই।
ঠোঁট দুটো থরথর করে কাঁপছে, কিন্তু কোনো শব্দ বের হচ্ছে না।
_এই ন*রখা*দকের হাত থেকে কীভাবে বাঁ*চবে সে?
বাইরে থেকে সিরাজের হিং*স্র চিৎকার ভেসে আসছে—
“শাপলা! দরজা খোল! তোকে আজ ভো*গ করবো আমি। দরজা খোল!”
প্রতিটা চিৎকারের সঙ্গে দরজায় পড়ছে পৈ*শাচিক লা*থি।
একটা, দুটো, তিনটে…
শেষমেশ দরজাটা কেঁপে উঠে খুলে গেল।
শাপলা আঁতকে উঠল। শরীর অসাড়, পা দুটো থরথর করে কাঁপছে। তবু কোনোমতে মেঝে ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
সিরাজ ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকল।
মুখে বি*কৃত, নোং*রা হাসি। চোখে শি*কার পাওয়ার উন্মাদনা।
“মা**গি তুই এবার পা*লাবি কোথায় ? এবার তোকে খা**বো আমি।
আমাকে কা*মড় দিয়েছিস না? এবার আমি তোকে কা*মড়ে কা*মড়ে খা*বো।”
শাপলার বুকটা দুমড়ে-মুচড়ে গেল।
কাঁপা গলায় শুধু বলতে পারল,
“না… আমার সঙ্গে এমন কর*বেন না। আমি তো আপনার ছোট বোনের মতো। প্লি*জ, এ*মন কর*বেন না।”
সিরাজের হাসি আরও গাঢ় হলো।
“ছোট বোনের মতো? কিন্তু তুই তো বোন না।
আয় আমার কাছে… খু*বলে খু*বলে খে*তে দারুণ লাগবে তোকে। উফ্, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”
কথা শেষ হতেই সে শাপলার বাঁ হাতটা লোহার মতো চে*পে ধ*রল।
শাপলার ভেতরে কোথাও যেন শেষ শক্তিটুকু জেগে উঠল।
মরিয়া হয়ে ডান হাত তুলে সিরাজের গালে সজোরে একটা চ*ড় বসিয়ে দিলো সে।
চ*ড়ের আ*ঘা*তে সিরাজের মুখ অন্যদিকে ঘুরে গেল।
এক মুহূর্তের নীরবতা।
তারপর তার চোখ দুটো জ্বলে উঠল হিং*স্র*তায়।
“চ*ড় মা*রলি তুই? আমার গা*য়ে হাত তু*ললি?”
গর্জে উঠে সে শাপলার চু*লে*র মু*ঠি শক্ত করে চে*পে ধ*রল।
য*ন্ত্র*ণায় শাপলার চোখ উ*ল্টে আসার জোগাড়।
“ছে*ড়ে দিন… প্লি*জ ছে*ড়ে দিন! আর পা*রছি না আমি!”
তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সিরাজের কানে সে কা*ন্না পৌঁছাল না।
সে শাপলার মাথা ধরে বারবার দে*য়ালের সঙ্গে ঠু*কতে লাগলো।
প্রতিটা আ*ঘা*তে শাপলার চেতনা ঝা*পসা হয়ে আসছে।
চোখের সামনে ভেসে উঠছে মা-বাবার মুখ, ছোটবেলার নিরাপদ ঘরটা—যেটা আর কখনো ফিরে পাবে না সে।
শেষে একটা নি*র্মম লা*থি মে*রে তাকে মেঝেতে ফেলে দিলো সিরাজ।
তারপর প*শুর মতো শাপলার ত*লপে*টে অনবরত লা*থি মা*রতে লাগলো।
“বাঁ*চাও… মা… বাঁ*চাও…”
শাপলার ক*রুণ আ*র্ত*নাদ ঘরের চার দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে।
কিন্তু সেই আ”র্ত*নাদ সিরাজের পাথরের মতো হৃদয়ে এক বিন্দু দয়াও জাগাতে পারলো না।
শাপলা মেঝেতে পড়ে ছ*টফ*ট করছে।
বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে অপমান, য*ন্ত্রণা আর অ*স*হায়তায়।
সে বুঝতে পারছে—এই ঘর থেকে সে হয়তো আর বের হতে পারবে না আগের মতো করে।
ঘরের বাতাসটা ভারী হয়ে উঠেছে র*ক্ত আর ঘামের গন্ধে।
সিরাজ হিং*স্র দৃষ্টি নিয়ে নিজের গায়ের শার্টটা খু*লে ছুঁড়ে ফেলল মেঝেতে।
তারপর ন*র*খা*দকের মতো ঝাঁ*পিয়ে পড়ল শাপলার উ*পর।
শাপলার বুক চিরে বেরিয়ে এলো ক*রুন আ*র্তনা*দ।
“ছে*ড়ে দিন! প্লিজ ছে*ড়ে দিন!”
তার গলা ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু সেই চিৎকার যেন শূন্যে হারিয়ে যাচ্ছে।
সিরাজ পাগলের মতো শাপলার পো*শাক ধরে টানাটানি করতে লাগলো।
কিন্তু শাপলার ছ*ট*ফ*টানি আর প্রতিরোধের কাছে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সে।
রাগে তার চোখ দুটো লাল হয়ে উঠল।
শেষে হিং*স্রভাবে শাপলার জা*মার একাংশ ছিঁ*ড়ে ফেললো সে।
কাপড়ের ছেঁ*ড়া অংশ বাতাসে উড়ে গেল মৃ*ত পাতার মতো।
যখনই সিরাজের হাত এগিয়ে এলো শাপলার বু*কের দিকে,
শাপলা দাঁতে দাঁত চেপে তার হাতে সজোরে কা*মড় বসিয়ে দিলো।
“আহ!”
যন্ত্র*ণায় গর্জে উঠল সিরাজ।
হাত থেকে গড়িয়ে পড়তে লাগলো টাটকা র*ক্ত।
এই সুযোগে শাপলা সমস্ত শক্তি এক করে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো।
প্রাণ বাঁ*চানোর তাগিদে সে পাগলের মতো দৌড়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
পা দুটো কাঁপছে, শরীর টলছে, তবু থামল না।
গন্তব্য একটাই—ড্রয়িংরুম।
পেছনে মেঝেতে পড়ে ছ*ট*ফট করছে সিরাজ।
তার হাত থেকে র*ক্ত ঝরছে, মুখ থেকে বের হচ্ছে অ*শ্রা*ব্য গা*লি।
ড্রয়িংরুমে এসে শাপলা হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে পড়ল।
শরীর থরথর করে কাঁপছে, বুক ধুকপুক করছে হাঁসফাঁস করে।
চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসছে, তবু সে হার মানল না।
কোনোমতে নিজেকে সামলে সে ফোন খুঁজতে লাগলো।
সোফার উপর পড়ে থাকা ফোনটা কাঁপা হাতে তুলে নিলো।
আঙুল কাঁপছে, চোখ ঝাপসা। তবু একটাই নাম—সিয়াম।
রিং বাজতেই ওপাশ থেকে সিয়ামের কণ্ঠ ভেসে এলো,
“হ্যালো শাপলা?”
শাপলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে যেন শেষ ভরসাটা খুঁজে পেল।
চিৎকার করে বলল,
“আমাকে বাঁ*চান! নইলে ও আমাকে মে*রে ফেলবে!
আপনার শাপলাকে আপনি চিরদিনের জন্য হা*রিয়ে ফেলবেন!”
কথা শেষ করার আগেই পেছন থেকে ছায়ার মতো এসে দাঁড়াল সিরাজ।
তার হাতে ভারী ফুলদানি।
চোখে নি*ষ্ঠুর হাসি নিয়ে সে ফিসফিস করে বলল,
“সিয়াম?”
পরমুহূর্তেই ফুলদানিটা সজোরে নেমে এলো শাপলার মা*থায়।
“আহ!”
তীব্র আ*র্ত*নাদ করে ফোনটা হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল।
শাপলার মাথা ফে*টে গেল, চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে আসছে।
সিরাজ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
মেঝে থেকে ফোনটা তুলে এক টিপে কল কেটে দিলো।
তারপর ফোনটা ছুঁড়ে ফেললো সোফার উপর।
শাপলা মেঝেতে পড়ে কাঁপছে।
শরীরে আর শক্তি নেই, শুধু চোখ থেকে নেমে আসছে নীরব অশ্রুধারা।
বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে অপ*মান, য*ন্ত্রণা আর অ*স*হায়তায়।
সিরাজ ঝুঁকে এসে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“তোর সিয়াম তোকে আর বাঁ*চা*তে পারবে না, শাপলা।”
শাপলা মনে বিড়বিড় করে বলল,
“আর বোধহয় নিজেকে বাঁ*চাতে পারবো না। এখানেই সব শে*ষ হয়ে যাবে।
তার শরীর অবশ হয়ে এলো। ছ*টফ*ট করা ছেড়ে দিলো সে।
চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো, যেন মৃ*ত্যু*কে নিজেই ডেকে নিচ্ছে।
সিরাজের নোং*রা ঠোঁট নেমে এলো তার গ*লায়।
গভীর, কুৎ*সিত চু*ম্বনে সে শাপলার শেষ প্রতিরোধটুকুও মুছে দিতে চাইলো।
শাপলা সব আশা ছেড়ে দিয়েছে।
এই ন*রপি*শা*চের কবল থেকে আর মুক্তি নেই—এই একটাই ভাবনা তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে, কিন্তু কান্নাও শুকিয়ে গেছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে আরিফ আহমেদ চলে এলো।
এক মুহূর্ত দেরি না করে সে সিরাজকে সজোরে লা*থি মে*রে শাপলার উপর থেকে ছিটকে ফেলে দিলো।
শাপলার বন্ধ চোখ খুলে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফকে দেখে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
মৃ*ত্যুর কিনারা থেকে ফিরে আসা মানুষের মতো তার চোখে ফিরে এলো বাঁ*চার আলো।
ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে কাঁপা হাসি যেন অন্ধকারে এক ফোঁটা আলো।
আরিফ দ্রুত শাপলাকে তুলে সোফার উপর বসিয়ে দিলো।
নিজের গায়ের ব্লেজারটা খুলে সযত্নে তাকে পেঁচিয়ে দিলো, যেন একটুও নোং*রা ন*জর ছুঁতে না পারে।
শাপলা আর ধরে রাখতে পারলো না।
সোফায় এলিয়ে দিয়ে নিজেকে ছেড়ে দিলো কান্নায়।
এতক্ষণের জমে থাকা ভয়, অপমান, যন্ত্র*ণা—সব একসাথে বেরিয়ে আসতে লাগলো নীরব আর্তনাদ হয়ে।
অন্যদিকে আরিফের চোখে এখন আ*গুন।
সে সিরাজকে মেঝে থেকে টেনে তুলে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে তার মুখে ঘু*ষি মা*রতে লাগলো।
“তোর এত বড় সাহস! শাপলার দিকে ন*জর দিয়েছিস?
তোর এই চোখ আমি তু*লে ফে*ল*বো!”
প্রতিটা কথার সঙ্গে পড়ছে ঘু*ষির পর ঘু*ষি।
শেষে সিরাজের মাথা ধরে সে বারবার দে*য়ালের সঙ্গে ঠু*কতে লাগলো।
সিরাজের কপাল ফে*টে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ছে মেঝেতে, কিন্তু আরিফের হাত থামছে না।
শাপলা দূর থেকে এক দৃষ্টিতে দেখছে।
চোখ বড় বড় করে দেখছে।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল।
আরিফ একটা শেষ লা*থি মে*রে সিরাজকে মেঝেতে ফেলে দিলো।
সিরাজের শরীরে আর এক বিন্দু শক্তিও নেই। শুধু মেঝের উপর পড়ে ছ*টফ*ট করছে।
আরিফ দ্রুত পায়ে গিয়ে সদর দরজা খুলে দিলো।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ২৬
দরজা খুলতেই সিয়াম ঝড়ের মতো ঘরে ঢুকল।
তার পেছন পেছন নীলাঞ্জনা, আলো,কবিতা, জেরিন ঘরে প্রবেশ করল ।
সিয়ামের চোখ গিয়ে আটকে গেল সোফায় বসে থাকা শাপলার উপর।
চুল এলোমেলো, জামা ছেঁ*ড়া, মুখে র*ক্ত আর চোখে জমে থাকা অ*সহা*য়তা।
এক মুহূর্তও দেরি না করে সে দৌড়ে শাপলার কাছে এলো।
