Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫০

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫০

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫০
মহাসিন

রাস্তায় কেউ নেই। শুধু কলির দ্রুত শ্বাসের শব্দ আর হৃদয়ের ধুকধুক। মেন রোডে পৌঁছে সে দাঁড়িয়ে পড়ল। শ্বাস_ক_ষ্টে বুক উঠানামা করছে। চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা।
হঠাৎ একটা গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠল। গাড়ি থেকে নামছেন বিরাজ। পাশে শাপলা আর সিয়াম।
“বিরাজ!” কলি চিৎকার করে উঠল। তার গলা ফে_টে গেল যেন। পাগলের মতো ছুটে গিয়ে সে বিরাজকে জড়িয়ে ধরল। বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
“আমি ভেবেছিলাম… আপনি আসবেন না। আমি ভেবেছিলাম সব শেষ হয়ে গেছে…”
বিরাজ কলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তার চোখেও চিকচিক করছে পানি। কলির চোখের পানি মুছে দিয়ে নরম গলায় বলল,

“তোমাকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসি, কলি। তোমাকে না নিয়ে গেলে আমি নিজেকেই চিরকাল হারিয়ে ফেলতাম। কখনো ভেবো না যে আমি তোমাকে ছেড়ে যাব।”
শাপলা কাছে এসে কলির কাঁধে হাত রাখল।
“কীভাবে এলি রে? একা একা?”
কলি ফুঁপিয়ে বলল, “অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। আমি আর থাকতে পারিনি। অনেক কষ্ট করে পালিয়ে এসেছি।”
শাপলা তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল।
“এবার গাড়িতে ওঠ। সব কথা গাড়িতে বসে হবে। এখানে আর দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই।”
সবাই গাড়িতে উঠে পড়ল। সিয়াম গাড়ি স্টার্ট দিল। গাড়িটা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল। কলি বিরাজের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। তার চোখের পানি এখনো থামেনি, কিন্তু এবার এই য_ন্ত্র_ণার সঙ্গে মিশে থাকা অপার আনন্দ আর নিরাপত্তার অনুভূতি।
রাতের রাস্তা দিয়ে গাড়ি ছুটছে। পেছনে ফেলে আসা সেই বাড়ি, সেই অন্ধকার, আর সেই জীবন যেখানে তার কোনো স্বপ্নের জায়গা ছিল না। সামনে আছে এক নতুন পথ। ভয় আর আশায় মেশানো। কিন্তু বিরাজের হাত তার হাতে। এটুকুই যথেষ্ট ।

নীলাঞ্জনা অস্থির হয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে আছে। আরিফ আর নিরবের আসার কথা ছিল অনেকক্ষণ আগে। হাতে ফোন, বারবার কল দিচ্ছে, কিন্তু কেউ রিসিভ করছে না। মুখে একটু বিরক্তি, কিন্তু চোখে আশা।
“ভাবী, আপনার কি খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ নেই নাকি?” হঠাৎ পাশ থেকে কবিতার ঝাঁঝালো কণ্ঠ ভেসে এল। “কী এমন বিয়ে হবে যে ফুল দিয়ে এত ঢং সাজাতে হচ্ছে? লাফালাফি করে ম_র_ছেন!”
নীলাঞ্জনা কোনো উত্তর দিল না। কবিতাকে কিছু বলে লাভ নেই, সে জানে। ওর মুখের ফিল্টার বলে কিছু নেই।
ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠল। নীলাঞ্জনা দৌড়ে দরজা খুলতেই দেখল আরিফ আর নিরব, দু’জনের হাতে প্রচুর ফুল। গোলাপ, লিলি, জুঁই সব রঙের সমারোহ।
তিনজনে মিলে বিরাজের ঘরটা সুন্দর করে সাজাতে লাগল। দেওয়ালে ফুলের মালা, বিছানায় পাপড়ি ছড়ানো, আলো আঁধারির মায়াজাল। সাজানো শেষ হলে সবাই ড্রয়িংরুমে এসে বসল।
কবিতা মুখ ভেংচিয়ে বলল, “কী ঢং সাজানো হইছে?”
আরিফ ভুরু কুঁচকে তাকাল, “ঢং মানে?”
নীলাঞ্জনা হেসে বলল, “বাসরঘর সাজানোর কথা বলছে।”

নিরব কবিতার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর হয়ে বলল, “তুই এমন কেন করছিস ?”
কবিতা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, “যা করছি, বেশ করছি। তোরা যা শুরু করছিস, এসব ঠিক হচ্ছে না।”
নিরব হেসে ফেলল, “না ঠিক হলে নেই।”
“আর কয়েকদিন পর তুইও ওদের মতো বিয়ে করে ফেলবি,” কবিতা চোখ পাকিয়ে বলল।
নীলাঞ্জনা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কাকে বিয়ে করবে?”
“আমি কী জানি! একেকজন যা শুরু করছে, তাতে তো তাই মনে হয়।”
নিরব হাসতে হাসতে বলল, “আগে বিয়ে করি, তারপর বলিস।”
কবিতা নীলাঞ্জনার দিকে ফিরে বলল, “ভাবী, আমার খিদে পেয়েছে। চলুন খেতে দিন।”
“সিয়াম ওরা আসুক, সবাই একসাথে খাব।”
“না, আমি কারো জন্য অপেক্ষা করতে পারব না,” কবিতা জেদের সুরে বলল। “কোথাকার কোন বা__ল আসবে, তাদের জন্য এই কবিতা অপেক্ষা করবে না।”
আরিফ অবাক হয়ে বলল, “এই, তোর মাথা ঠিক আছে তো? এসব কী ধরনের কথা বলছিস?”
“আমি যা বলার তাই বলব,” কবিতা গোঁ ধরে রইল।

নীলাঞ্জনা হেসে বলল, “ঠিক আছে, চলো।”
ঠিক তখনই আবার কলিং বেল বেজে উঠল। আরিফ দরজা খুলতেই সিয়াম, শাপলা, বিরাজ আর কলি ঘরে ঢুকল। কবিতা তাদের দেখে আবার মুখ ভেংচাল।
নীলাঞ্জনা বিরাজ কে বলল, “তোমার কলির বিয়ে হইছে কি?”
বিরাজ মৃদু হেসে বলল, “হ্যাঁ। আমরা বিয়ে করে নিছি।”
কিছুক্ষণ গল্পগুজবের পর সবাই একসাথে খেতে বসল। খাওয়া শেষ হলে যে যার ঘরে চলে যেতে লাগল। কলিকে শাপলা নিয়ে গেল বিরাজের রুমে। নীলাঞ্জনা বিরাজকে তার ঘরের সামনে নিয়ে এলো।
বিরাজ দরজায় পা দিতে যাচ্ছে, নীলাঞ্জনা হাত তুলে আটকে দিলো,
“না না, এত সহজে ঢোকা যাবে না।”
শাপলাও বেরিয়ে এসে সায় দিলো, “হ্যাঁ, একদম না।”
বিরাজ অবাক সুরে শুধালো, “কেন?”
নীলাঞ্জনা চোখ নাচিয়ে বলল, “এত কষ্ট করে বা_সরঘর সাজিয়েছি, তার জন্য টাকা দিতে হবে।”
“কত টাকা?”
“পঞ্চাশ হাজার।”

বিরাজ মাথায় হাত দিয়ে বলল, “এত টাকা!”
শাপলা নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলল, “ভাবী, একটু কমান। বেশি হয়ে যাচ্ছে।”
“ঠিক আছে, ত্রিশ হাজার,” নীলাঞ্জনা ছাড় দিল।
বিরাজ বলল, “আচ্ছা, সকালে পেয়ে যাবেন।”
“না, এখন লাগবে।”
“আরো পাঁচ হাজার বাড়িয়ে দিব যদি সকালে নেন,” বিরাজ চোখ টিপল।
নীলাঞ্জনা হেসে সম্মতি দিল, “ঠিক আছে।”
তারপর নীলাঞ্জনা আর শাপলা হাসতে হাসতে চলে গেল। বিরাজ ভেতরে ঢুকে দরজাটা আটকে দিলো। ফুলের সুবাস আর নরম আলোয় ভরা ঘরটা যেন তাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে।
কলি বিছানার উপর বসে আছে, তার সারা অবয়ব যেন একটি কোমল স্বপ্নের মতো। নতুন বা_সরঘরের মৃদু হলুদ আলো তার গোলাপি শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে খেলা করছে। তার কালো লম্বা চুলগুলো ঢেউ খেলানো নদীর মতো পিঠের উপর ছড়িয়ে পড়েছে। চোখ দুটো লজ্জায় আধবোজা, ঠোঁট দুটো সামান্য কাঁপছে, যেন প্রথমবারের মতো ফুটে ওঠা গোলাপের কুঁড়ি।
বিরাজ ধীর, মন্থর পায়ে এগিয়ে এসে তার একদম পাশে বসল। তার চোখে গভীর সমুদ্রের মতো অসীম ভালোবাসা আর তীব্র আ_কা_ঙ্ক্ষা_র ঢেউ। সে কলির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল, তারপর নরম, মধুমাখা গলায় ফিসফিস করে বলল,
“তুমি খুশি তো, আমার জীবনের একমাত্র রানী? আজ এই রাতটা শুধু তোমার আর আমার… চিরকালের জন্য।”

কলি লজ্জায় কথা বলতে পারল না। তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল র_ক্তজবার মতো। সে শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন যেন বিরাজের নাম গেয়ে উঠেছে। বিরাজ তার সুকুমার চিবুকটা আলতো করে দুই আঙুলে তুলে ধরল। তার চোখে চোখ রেখে অপার্থিব মমতায় বলল,
“তোমাকে দেখলে মনে হয়, তুমি যেন আকাশের চাঁদকে লজ্জা দিতে পৃথিবীতে নেমে এসেছ। এত অপূর্ব সুন্দর লাগছে তোমাকে, তুমি… আমার হৃদয়ের রানী। তোমার একটি হাসিতে আমি হারিয়ে যেতে চাই চিরকাল।”
কলির বুকের ভিতরে হাজার প্রজাপতি উড়তে শুরু করল। লজ্জায় সে আর বিছানায় বসে থাকতে পারল না। উঠে জানালার কাছে চলে এলো। জানালা খুলতেই রূপালি চাঁদের আলো তার পুরো শরীরে ঝরে পড়ল, যেন চাঁদ নিজেই বিরাজের স্ত্রীর গায়ে আলিঙ্গন করছে। তার সাদা গাল দুটো লালচে আভায় ভরে গেছে, গোলাপি ঠোঁট কাঁপছে, কান দুটো গরম, বুকের ভিতরে ঝড়। চুলগুলো চাঁদের আলোয় রূপোর সুতোর মতো ঝলমল করছে।
বিরাজ পিছন থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তার উষ্ণ নিঃশ্বাস কলির ঘাড়ে লাগতেই কলির শরীরে শিহরণ জেগে গেল। সে কলির কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁ_ইয়ে, গভীর আবেগে ফিসফিস করে বলল,

“এখন যা হতে চলেছে, আমার প্রিয়তমা… তার জন্য তুমি পুরোপুরি তৈরি তো? আজ রাতে আমি তোমাকে এমন করে ভালোবাসব যে, তুমি আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে।”
কলি কাঁপা, মিষ্টি গলায় বলল, “কী হবে এখন?”
বিরাজ তার কানে আলতো করে কা_ম_ড় দিয়ে বাঁকা, মোহময় হাসিতে বলল,
“বা_সর_ঘ_রে কী হয়, তা কি সজানো না তুমি, আমার লজ্জাবতী? আজ আমি তোমার প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি স্প_র্শ, প্রতিটি অনুভূতি দখল করে নেব। চলো, তোমাকে স্বর্গের দরজা খুলে দিই।”
এই বলে বিরাজ ধীরে ধীরে তার শার্ট খু_লে ফেলল। তার চওড়া, পেশল বুক চাঁদের আলোয় মসৃণ মার্বেলের মতো ঝলমল করছে। কলি লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলেও, আবার অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। তার চোখে কৌতূহল, আকর্ষণ আর অসীম ভালোবাসা।
বিরাজ আর অপেক্ষা করল না। এক ঝটকায় কলিকে জ_ড়ি_য়ে ধরল নিজের উষ্ণ বুকে। কলির নরম, কোমল শরীর তার শক্ত বুকের সাথে মি_শে গেল। এই মুহূর্তে দুজনের হৃদয়ের স্পন্দন এক হয়ে গেল। কলির সারা শরীরে শিহরণ খেলে গেল।
কলি লজ্জায় আনন্দে কাঁপা গলায় বলল,

“কী করছেন আপনি?”
বিরাজ তার কপালে, চোখে, তারপর ঠোঁটের কোণে অসংখ্য ছোট ছোট চু_মু দিয়ে মধুর স্বরে বলল,
“এখনো তো কিছু শুরুই করিনি, আমার চাঁদের টুকরো। আজ রাতে শুধু ভালোবাসার বন্যা বয়ে যাবে… শুধু তুমি আর আমি, দুটি আত্মা এক হয়ে।”
এক নিমেষে সে কলিকে কোলে তুলে নিল। কলি তার বুকে মাথা রেখে লুটিয়ে পড়ল। বিরাজ ধীরে ধীরে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল, যেন সে একটি নাজুক পদ্ম ফুল। তারপর তার উ_পর ঝুঁ_কে পড়ে, অপার্থিব আবেগে তার ঠোঁট দুটো দ_খ_ল করে নিল। প্রথমে নরম, মিষ্টি, তারপর গভীর, তীব্র, আত্মাহারা চু_মু। কলি প্রথমে কুঁকড়ে গেলেও, ধীরে ধীরে পুরোপুরি সাড়া দিল। তার দুই হাত বিরাজের পিঠ জ_ড়ি_য়ে ধরল শক্ত করে, যেন ছাড়তে না চায় কখনো।
বিরাজ তার ঠোঁট থেকে নেমে এল গলার নরম ত্বকে, কাঁধের বাঁকে, তারপর বুকের উষ্ণ উপত্যকায়। তার প্রতিটি চু_মু_তে কলির শরীরে আ_গু_ন জ্ব_লে উঠছে। তার হা_ত কলির শরীরের প্রতিটি গোপন বাঁকে, প্রতিটি কোমল স্থানে আদরের ঝড় তুলছে। কলি আনন্দের তীব্রতায় নখ দিয়ে বিরাজের পিঠ আঁ_চ_ড়ে দিচ্ছে । তারপর তার চুলের মধ্যে আঙুল চালিয়ে ধরল।

দুটি শরীর ধীরে ধীরে একে অপরের সাথে পুরোপুরি মি_লে_মি_শে একাকার হয়ে গেল। চাঁদের আলোয় তাদের ছায়া যেন একটি অমর প্রেমের মূর্তি হয়ে উঠেছে। বিরাজ কলির কানে কানে ফিসফিস করে বলছে,
“আমি তোমাকে ভালোবাসি… তোমার প্রতিটি শ্বাসে, তোমার প্রতিটি স্পন্দনে। তুমি আমার স্বপ্ন, আমার বাস্তব, আমার চিরকাল।”
কলির চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সে বিরাজের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁপা গলায় বলল,
“আমিও… আপনাকে অসম্ভব ভালোবাসি। আপনি ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।”
এই রাতে শুধু দুটি দেহ নয় দুটি আত্মা, দুটি হৃদয়, দুটি জীবন এক হয়ে গেল। বাইরের পৃথিবী থেমে গেছে। শুধু তাদের গভীর নিঃশ্বাস, মিষ্টি ফিসফিসানি আর অসীম ভালোবাসার তরঙ্গই বেঁচে আছে চাঁদের নীরব সাক্ষীতে। এই রজনী তাদের জীবনের সবচেয়ে অমর, সবচেয়ে রো_মা_ন্টি_ক রাত হয়ে গেল।

জঙ্গলের গভীর অন্ধকারে শাপলা পাগলের মতো ছুটছে। তার চুল এলোমেলো হয়ে মুখের ওপর পড়েছে, ঠোঁট ফে_টে র_ক্ত ঝরছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা যেন থেমে যেতে চাইছে না। পিছনে একটা বিশাল কালো সা_প এত বড় যে সে আগে কখনো দেখেনি ফোঁস ফোঁস শব্দ করে তার পিছু নিয়েছে।
“কেউ আছেন! আমাকে বাঁ_চা_ন!”
শাপলা চিৎকার করে উঠল। কণ্ঠস্বরটা জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেদ করে দূরে মিলিয়ে গেল।
সে একটা বড় গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। কিন্তু তার কাঁপুনি থামছে না। সা_পটা যেন তার গন্ধ পেয়ে গেছে। ফোঁস ফোঁস করতে করতে সেটা এগিয়ে আসছে। শাপলা আবার দৌড় শুরু করল। পায়ের নিচে শুকনো পাতা আর কাঁটা মাড়িয়ে ছুটছে সে। হঠাৎ একটা শেকড়ে পা আটকে উল্টে পড়ে গেল। প্রচণ্ড ব্য_থা_য় তার চোখে পানি চলে এলো। তবু কোনোমতে উঠে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়াতে লাগল।
কিন্তু আর কোনো পথ নেই।

সামনে একটা বিশাল খাদ। পিছনে বি_ষা_ক্ত কালো সা_প। সা_পটা মুখ হাঁ করে তার দিকে এগিয়ে আসছে, গি_লে খাও_য়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
শাপলার চোখে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
“আমি আর বাঁ_চা_ও … আমি ম__রে যাচ্ছি!”
শেষ মুহূর্তে সে চোখ বন্ধ করে খা_দের মধ্যে লা_ফ দিল।
“আমি ম__রে গেছি! আমি ম__রে গেছি!”
চিৎকারটা ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ল।
সিয়ামের ঘুম ভেঙে গেল। সে ধড়মড় করে উঠে বসতেই দেখল, শাপলা বিছানা থেকে নিচে মেঝেতে পড়ে ছ_ট_ফ_ট করছে। তার কপালে ঘাম, চোখ বন্ধ, মুখ দিয়ে এখনও ফিসফিস করে বলছে, “আমি ম__রে গেছি…”

“শাপলা! শাপলা, জেগে ওঠ!”
সিয়াম তাড়াতাড়ি নেমে এসে তাকে জ_ড়ি_য়ে ধরল। আলতো করে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, “চোখ খোল আমি আছি।”
শাপলা চোখ মেলল। কয়েক মুহূর্ত বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ সিয়ামের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে ফেলল।
“একটা বিশাল কালো সা_প… আমার পিছু নিয়েছিল। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিলাম। আর কোনো উপায় না দেখে আমি লা_ফ দিয়েছি… আমি ম__রে যাচ্ছিলাম!”
সিয়াম হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।

“পাগলী মেয়ে। তুই স্বপ্ন দেখছিহ। খাট থেকে পড়ে গেছিস। খাদে লা_ফ দেও নায় তো।”
শাপলা এখনও কাঁপছে। সিয়াম তাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর নিজেও শুয়ে পড়ে শাপলাকে শক্ত করে জ_ড়ি_য়ে ধরল। শাপলা তার বুকের মধ্যে আরও গভীরে ঢুকে গেল, যেন এখনও সেই সা_প_টা পিছনে আছে।
“ভয় লাগছে…” ফিসফিস করে বলল সে।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৯

“কিছু হবে না,” সিয়াম তার কপালে চু_মু দিয়ে বলল, “ওটা শুধু স্বপ্ন। আমি তো আছি। ঘুমা।”
শাপলা তার গায়ে আরও জোরে আঁকড়ে ধরল। ধীরে ধীরে তার শ্বাস স্বাভাবিক হয়ে এল। জঙ্গলের সেই ভয়ংকর সা_প, খাদ, আর মৃ_ত্যু_র অনুভূতি আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল।
দুজনে জ_ড়া_জ_ড়ি করে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। বাইরে রাতের নিস্তব্ধতা ফিরে এলো। শুধু শাপলার হৃদয়ের দ্রুত স্পন্দনটা এখনও সিয়ামের বুকে অনুভব করা যাচ্ছে।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here