রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৫
মহাসিন
আরিফ নীলাঞ্জনার শাড়ির আঁচল ধ*রে টান দিয়ে পুরো শাড়ি খু*লে ফেলল।
আরিফ জোরে হাসি দিয়ে বলল, “এবার কোথায় যাবে? স্বামীর উ*ত্তে*জনা নে*ভাতে হবে তোমায়। চলো বউ, আমার দুজনে এবার ফ*ষ্টিন*ষ্টি করি। ওই যে একটা গান আছে না—’আয় না করি ফ*ষ্টি*নষ্টি, দেখতে নোনতা খেতে মিষ্টি’। আজকে দুজনে ওই সব ক*রব।”
নীলাঞ্জনা চিৎ*কার করে বলল, “আপনি এসব কী করছেন? আপনি মা*তাল অবস্থায় আছেন। নিজের ম*ধ্যে নেই। আমাকে স্প*র্শ করবেন না। আমার দিকে এগো*বেন না।”
আরিফ দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “চুপ, একদম চুপ। আমার বউ হয়েছিস, আমাকে সু*খ দিবি না? তাহলে তো*কে বিয়ে করে কী লাভ হলো? আমার কা*ছে আয় তাড়াতাড়ি। আর নিজেকে ক*ন্ট্রোল করতে পারছি না। গায়ে অনেক জ্বা”লা ধরেছে। তোকে দিয়ে নি*বাবো । তুই চিন্তা করিস না, তোকে আজকে অনেক সু*খ দিবো।”
নীলাঞ্জনা দৌড়ে সোফার কাছে এলো। “আমার কাছে আসবেন না।” নীলাঞ্জনা আরো কিছু বলতে যাবে, তখনই আরিফ আহমেদ বিদ্যুতের গতিতে এসে নীলাঞ্জনার ঠোঁ”ট দুটো দখ*ল করে নিল। অনবরত কি*স করতে লাগল।
ম*দের উৎকট গন্ধে নীলাঞ্জনার পেট মো*চড় দিল। নীলাঞ্জনা শরীরের সব শক্তি দিয়ে আরিফকে সরানোর চেষ্টা করল। কিন্তু কোনো কাজ হলো না। আরিফ লিপ কি*স করেই যাচ্ছে। অনেক দিনের উ*ত্তে*জনা এত তাড়াতাড়ি কি মিটবে? নীলাঞ্জনার শরীর শিরশির করে উঠল। দম আটকে আসছে। চোখ দুটো উ*ল্টে যাচ্ছে।
আরিফ বুঝতে পারছে নীলাঞ্জনার দ*ম বন্ধ হয়ে আসছে, তাই তার ঠোঁ*ট ছেড়ে দিয়ে গলায় কি*স করতে লাগল। নীলাঞ্জনা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
আরিফ নীলাঞ্জনাকে এক ধাক্কা দিয়ে সোফার উপর ফে*লে দিল। এরপর শরীর থেকে কালো শার্টটা খু*লে ফেলে দিয়ে নীলাঞ্জনার উ*পর ঝাঁ*পিয়ে পড়ল।
আরিফের নিঃশ্বাসে তখনও ম*দের ঝাঁঝ, চোখে জমে থাকা আ*গুন। পাগলের মতো সে নীলাঞ্জনার শ*রীরে মুখ গুঁজল। কপালে, গালে, এরপর ঠোঁট—প্রতিটা চু*মুতে অধিকার, রা*গ আর তৃষ্ণা মিশে একাকার।
এবার নীলাঞ্জনার শিরদাঁড়া বেয়ে বিদ্যুৎ খেলে গেল। কেন যাবে না? কতগুলো রাত সে এই ন*রকে একা কেঁদেছে। স্বামীর শরীরের উষ্ণতা, স্প*র্শের দাবি—সব থেকে বঞ্চিত ছিল এই মেয়েটা।
নীলাঞ্জনার গায়ের প্রতিটা লোম দাঁড়িয়ে গেল। আরিফের ঠোঁট গ*লায় নামতেই সে কেঁপে উঠল। জোরালো চু*মু, দাঁতের হালকা চাপ। ব্য*থা আর সুখ মিলেমিশে এক অচেনা স্রোত বয়ে গেল শ*রীরে। নিজের অজান্তেই ঠোঁট ফাঁ*ক হয়ে বেরিয়ে এল, “আহ্…” নীলাঞ্জনা ঠোঁট কা*মড়ে ছট ফট করতে লাগলো।
আরিফ আরও নিচে নামছে। নীলাঞ্জনা দুহাতে তার চুল খা*মচে ধরল, বুকের সা*থে চেপে ধরল। যেন ছেড়ে দিলেই এই মানুষটা আবার হারিয়ে যাবে অন্ধকারে।
হঠাৎ আরিফ মুখ তুলল। ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে ফিসফিস করল, “কি বউ… এতদিনের হিসেব আজ মেটাচ্ছি। ম*জা পাচ্ছ তো?”
নীলাঞ্জনা চোখ বন্ধ করে ফেলল। লজ্জা, ভয়, আর তীব্র চাওয়া—সব মিলিয়ে সে কথা হারিয়ে ফেলেছে। শুধু আরিফের পিঠে খা*মচে ধরা আঙুলগুলো বলে দিচ্ছে তার সম্মতি।
আরিফের দৃষ্টি এবার থামল নীলাঞ্জনার উন্মুক্ত না*ভিতে। এক মুহূর্ত স্থির। তারপর শিকারির মতো ঝাঁ”পিয়ে পড়ল সেখানে। উন্মাদ চু*মু, জিভের স্পর্শ, দাঁতের চাপ—আরিফ তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। উ*ত্তেজ*নার চরমে পৌঁছে গেছে সে।
আরিফের প্রতিটা নিঃশ্বাস, প্রতিটা স্প*র্শ নীলাঞ্জনাকে পা*গল করে দিচ্ছে।
আরিফ নীলাঞ্জনার কানের লতি কা*মড়ে ধরে হিসহিসিয়ে উঠল, “আর পা*রছি না… অনেক দিনের আ*গুন। আজ তোকে আমার করে নেব। ব্যা”থা পেলে চিৎকার করবি না!”
নীলাঞ্জনা চোখ মেলল। আরিফের চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করল। কণ্ঠে জল, তবু দৃঢ়, “নাও… আজ আমি শুধু তোমার।”
এর পর দুজনে শা*রী*রিক স*ম্পর্ক স্থা*পন করতে লাগলো।
কিছুটা সময় কেটে গেল।
ঘরের ভেতর ভারী নিস্তব্ধতা। শুধু দেওয়াল ঘড়ির কাঁটার শব্দটা কানে বাজছে।
একসময় আরিফ নীলাঞ্জনার উ*পর থেকে সরে গেল। ম*দের নে”শা তখনও কাটেনি তার। চোখ দুটো লাল, শরীর টলমল করছে।
নীলাঞ্জনা নিঃশব্দে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে থাকা শা”ড়িটা কাঁপা হাতে তুলে নিয়ে শ”রীরে জড়িয়ে নিল। চোখের কোণ ভিজে উঠলেও একটা শব্দ করল না সে।
আরিফ টলতে টলতে দাঁড়াতে গিয়ে আবার পড়ে যাচ্ছিল। নীলাঞ্জনা এক মুহূর্ত থমকাল। তারপর এগিয়ে গিয়ে আরিফের হাত ধরল। ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে তাকে ধরে ধরে শোবার ঘরের দিকে নিয়ে গেল।
পার্কের চারপাশে বিকেলের ভিড়। কোলাহল, বাচ্চাদের দৌড়ঝাঁপ, ফেরিওয়ালার হাঁক—সব ছাপিয়ে শাপলা আর নিরব আহমেদ পাশাপাশি হাঁটছে। পড়ন্ত রোদ শাপলার চুলে সোনালি আভা ফেলেছে।
নিরব কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,
_ “আজ আমার সাথে ঘুরে কেমন লাগছে তোর?”
শাপলা হালকা হেসে বলল,
__”অনেক ভালো। কতদিন বাহিরে ঘুরতে আসা হয় না। আজ ঘুরতে এসে সত্যিই মনটা ফুরফুরে লাগছে।”
নিরব থমকে দাঁড়াল। গলার স্বর একটু নিচু করে বলল,
_”আর আমাকে? আমাকে ভালো লাগেনি?”
শাপলা অবাক চোখে তাকাল,
___ “মানে? বুঝলাম না।”
নিরব সঙ্গে সঙ্গে অপ্রস্তুত হয়ে গেল। মাথা চুলকে আমতা আমতা করে বলল, “না… কিছু না। এমনি বললাম।”
এরপর দুজনের মাঝে নেমে এল এক অদ্ভুত নীরবতা। পাশাপাশি হাঁটছে, প্রায় ছুঁইছুঁই। নিরব বার কয়েক শাপলার হাতের দিকে তাকাল। ধরবে কি ধরবে না—দ্বিধায় আঙুলগুলো কেঁপে উঠল। যদি শাপলা অস্বস্তি বোধ করে? আবার পরক্ষণেই মনে হলো, যা হওয়ার হবে।
সাহস করে আলতো করে শাপলার হাতটা নিজের মুঠোয় নিল নিরব।
স্পর্শ পেতেই শাপলার সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল। শিরশির করে উঠল র*ক্ত। কিন্তু সে কিছু বলল না। চুপচাপ হাতটা নিরবের হাতে ছেড়ে দিয়ে আশপাশের কৃষ্ণচূড়া গাছ, লেকের পানিতে পড়া আলো দেখতে লাগল। ঠোঁটের কোণে লুকানো হাসিটা অবশ্য নিরবের চোখ এড়াল না।
নিরব মৃদু হেসে বলল, “আইসক্রিম খাবি?”
“হ্যাঁ।” শাপলার উত্তরটা ছোট, কিন্তু গলায় খুশি।
“কোন ফ্লেভার পছন্দ তোর?”
“চকলেট। চকলেট আইসক্রিম আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।”
“তুই তাহলে এই বেঞ্চটায় বোস। আমি নিয়ে আসছি।”
“আচ্ছা, ঠিক আছে।”
শাপলা লেকের ধারের বেঞ্চে গিয়ে বসল। পায়ের কাছে দুটো শালিক ঝগড়া করছে। নিরব আইসক্রিমের স্টলের দিকে এগিয়ে গেল, আর শাপলা অপলক তাকিয়ে রইল তার চলে যাওয়ার দিকে।
মিনিট পাঁচেক পর নিরব হাতে একটা চকলেট আইসক্রিম নিয়ে ফিরে এলো। শাপলা বেঞ্চের একপাশে একটু সরে বসে জায়গা করে দিল।
নিরব আইসক্রিমটা শাপলার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নরম গলায় বলল, “এই নে, তোর চকলেট আইসক্রিম।”
শাপলা আইসক্রিমটা হাতে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল, “আপনার জন্য আনেননি কেন?”
নিরব মৃদু হেসে বলল, “আমার তেমন আইসক্রিম পছন্দ না। তুই খা।”
“ও আচ্ছা।” বলে শাপলা ছোট্ট একটা কামড় দিল। ঠান্ডা মিষ্টি স্বাদ জিভে লাগতেই চোখ দুটো বুজে এলো তার।
আইসক্রিম খেতে খেতেই সে আড়চোখে নিরবের দিকে তাকাল। “আচ্ছা ভাইয়া, একটা কথা জিজ্ঞেস করব? কিছু মনে করবেন না তো?”
নিরব লেকের পানিতে ভাসা হাঁসগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল। শাপলার দিকে ফিরে বলল,
“হ্যাঁ, বল।”
শাপলা আমতা আমতা করে শুধাল, “আচ্ছা ভাইয়া, আপনার কি গার্লফ্রেন্ড আছে?”
প্রশ্নটা শুনে নিরব থমকাল। তারপর ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল, “হঠাৎ এটা জানতে চাইলি কেন?”
শাপলা চোখ নামিয়ে ফেলল। গালটা অল্প লাল হয়ে উঠল, “না, এমনি। কৌতূহল হলো, তাই জিজ্ঞেস করলাম।”
নিরব আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে বলল, “না, আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই। তবে… একজনকে ভালো লাগে।”
কথাটা শুনে শাপলার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। আইসক্রিমটা হাতে নিয়েই জমে গেল সে। কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, “কে সে?”
নিরব মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল, যেন শুধু নিজেকেই শোনাচ্ছে, “ছোট্ট একটা সুন্দরী মেয়ে। অনেক সুন্দর সে।”
শাপলার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে এলো। বুকের ভেতর হাতুড়ি পিটানোর শব্দ নিজেই শুনতে পাচ্ছে। তবু কৌতূহল চাপতে পারল না, “তার ছবি আছে আপনার ফোনে?”
“হ্যাঁ, আছে।”
“দেখাবেন?”
“না।”
“কেন?”
“এমনি।”
কথা বলতে বলতেই শাপলার আইসক্রিম শেষ হয়ে গেল। ঠোঁটের কোণে একটুখানি গলে যাওয়া চকলেট লেগে আছে। নিরবের চোখ সেখানেই আটকে গেল।
কোনো কিছু না ভেবেই সে আলতো করে তর্জনী দিয়ে শাপলার ঠোঁটের কোণটা মুছে দিল।
আচমকা স্পর্শে শাপলার সারা শরীর শিরশির করে উঠল। হার্টবিট বেড়ে গেল দ্বিগুণ। একরাশ হিমশীতল স্রোত নেমে গেল শিরদাঁড়া বেয়ে। লজ্জায়, অস্বস্তিতে কান পর্যন্ত লাল হয়ে উঠল তার।
তাড়াতাড়ি বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়াল শাপলা। চোখ তুলে তাকাতে পারছে না। “ভাইয়া, আপনি বসেন। আমি আইসক্রিমের কাপ টা ফেলে দিয়ে আসি।”
এই বলে আইসক্রিমের কাপটা টা মুঠোয় চেপে ধরে গুটি গুটি পায়ে ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে গেল সে।
পেছনে বেঞ্চে বসে নিরব তাকিয়ে রইল শাপলার চলে যাওয়ার দিকে। বিকেলের পড়ন্ত আলোয় তার চোখে তখন অন্যরকম এক দীপ্তি। আর ঠোঁটে লেগে আছে সেই না-বলা কথার মুচকি হাসি।
শাপলা আইসক্রিমের খালি কাপটা ফেলতে ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ ডাস্টবিনের ভেতর চোখ পড়তেই তার র*ক্ত হিম হয়ে গেল—মানুষের একটা কা*টা হা*ত পড়ে আছে ভেতরে! আঙু*লগুলো কেমন ফ্যা*কাশে, নখে শুকনো র*ক্ত।
“আআআ!” তীব্র চিৎ*কারে পুরো পার্ক কেঁপে উঠল। কাপটা হাত থেকে পড়ে গড়িয়ে গেল ঘাসে।
চিৎকার শুনে নিরব বিদ্যুতের গতিতে ছুটে এলো। শাপলাকে কাঁপতে দেখে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। শাপলা নিরবকে দেখেই ভয়ে, আতঙ্কে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।
নিরব আলতো করে শাপলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে উদ্বিগ্ন গলায় বলল, “কী রে? কী হয়েছে তোর? এভাবে চিৎকার করলি কেন?”
শাপলা নিরবের বুকে মুখ গুঁজে কাঁপা গলায় ফিসফিস করল, “ওই… ওই ডাস্টবিনের মধ্যে… মানুষের কা*টা হা*ত!”
এরই মধ্যে শাপলার চিৎকার শুনে পার্কের লোকজন ছুটে আসতে শুরু করল। মুহূর্তেই ভিড় জমে গেল। ফিসফাস, গুঞ্জন, আতঙ্ক—সব মিলিয়ে জায়গাটা ভারী হয়ে উঠল।
নিরব শাপলাকে আস্তে করে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিল। “তুই এখানে দাঁড়া। আমি দেখছি।” বলে সে ভিড় ঠেলে ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে গেল।
উঁকি দিতেই তারও শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। সত্যিই একটা কা*টা হা”ত! কবজি থেকে আ”লাদা করা, কালচে র”ক্ত জমাট বেঁধে আছে।
মুহূর্তেই পুরো পার্কে মানুষের ভিড় জমে গেল। কেউ কেউ ফোন বের করে পুলিশে খবর দিল। কেউ ভিডিও করতে লাগল। বাচ্চারা কাঁদছে, মহিলারা মুখে আঁচল চাপা দিচ্ছে।
শাপলা তখনও ভয়ে কাঁপছে। ঠোঁট দুটো সাদা হয়ে গেছে। নিরব ফিরে এসে শাপলার কাঁধে হাত রাখল। নরম গলায় বলল, “চল, আমরা বাড়ি চলে যাই। আজ আর রেস্টুরেন্টে যাওয়ার দরকার নেই।
শাপলা কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নাড়ল। চোখেমুখে এখনো আতঙ্কের ছাপ।
এরপর দুজনে দ্রুত পার্ক থেকে বেরিয়ে এলো। নিরব গাড়ি স্টার্ট দিল। শাপলা জানালার কাচে মাথা ঠেকিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল, কিন্তু কিছুই দেখছে না। শুধু সেই কাটা হা*তের দৃশ্যটা চোখের সামনে ভাসছে।
গাড়ি বাড়ির দিকে ছুটে চলল। বিকেলের আলো ম”রে গিয়ে সন্ধ্যা নামছে। আর তাদের সুন্দর বিকেলটা এক মুহূর্তে দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল।
ঘোর সন্ধ্যা নেমেছে। ঘরের ভেতর আবছা অন্ধকার। আরিফ বিছানায় ম”রার মতো পড়ে আছে, ম”দের ঘোর এখনো কাটেনি। নাক ডাকছে বিশ্রীভাবে।
নীলাঞ্জনা খাটের এক কোণে চুপচাপ বসে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরিফের দিকে। চোখে না আছে ঘৃণা, না আছে মায়া—শুধু একরাশ শূন্যতা।
হঠাৎ কলিং বেলের শব্দে তার চমক ভাঙল। দ্রুত পায়ে উঠে সদর দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলে দিল।
দরজার ওপাশে শাপলা দাঁড়িয়ে। মুখ ফ্যাকাশে, ঠোঁট কাঁপছে, সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে ভয়ে। পেছনে দাঁড়ানো নিরব।
শাপলার এই অবস্থা দেখে নীলাঞ্জনা হতভম্ব হয়ে গেল। “কী হয়েছে ওর? এভাবে কাঁপছে কেন?”
নিরব ক্লান্ত গলায় বলল, “ভাবী, পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম। ওখানে ডাস্টবিনের ভেতর মা*নুষের কা*টা হা*ত দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছে।”
“কী!” নীলাঞ্জনার গলা দিয়ে আর্তনাদ বেরিয়ে এলো। “ডাস্টবিনে মানু”ষের কা”টা হা”ত? কীভাবে সম্ভব!”
নিরব কাঁধ ঝাঁকাল। চোখেমুখে বিরক্তি আর ক্লান্তি। “জানি না ভাবী। পুলিশ এসেছে, তারাই দেখবে। আচ্ছা, আপনি ওকে রুমে নিয়ে যান। আমার এখনই অফিসে যেতে হবে। জরুরি মিটিং আছে।”
এই বলে নিরব আর দাঁড়াল না। হন্তদন্ত হয়ে চলে গেল।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪
নীলাঞ্জনা দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিল। তারপর কাঁপতে থাকা শাপলার কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বলল, “আয়, ঘরে আয়।”
শাপলাকে ধরে ধরে সে শোবার ঘরে নিয়ে গেল। বাইরে তখন অন্ধকার আরও গাঢ় হচ্ছে। আর ঘরের ভেতর জমে উঠছে আরেক অজানা আতঙ্ক।
কেমন লেগেছে সবাই মতামত জানাবেন
