রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬৪
মহাসিন
সন্ধ্যা নেমেছে অনেকক্ষণ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মৃদু বাতাস। সিয়াম অফিস থেকে ফিরে পুরো বাড়িটা দুইবার চক্কর দিল। শাপলা নেই। রান্নাঘর, বারান্দা, ছাদ কোথাও না।
বুকের ভেতরটা কেমন ছ্যাঁত করে উঠল। ফোন বের করে শাপলার নাম্বারে ডায়াল করল। একবার, দুইবার, তিনবার… রিং হয়ে কেটে গেল। রিসিভ করল না।
সিয়াম গোসল করার জন্য ওয়াস রুমে চলে গেল।পানির ঝাপটায় মাথাটা লাগতেই হালকা হলো। গোসল সেরে বেরিয়েই আবার ফোন হাতে নিল। আবার কল। আবারও নো রেসপন্স।সময় গড়াচ্ছে। টেনশনে রুমে পায়চারি করছে সিয়াম।
হঠাৎ দরজায় টোকা। সিয়াম দরজা খুলে দিল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে কবিতা। মুখে একরাশ কৌতূহল।কবিতা ভেতরে এসে সোফায় বসল।এর পর সিয়ামের দিকে তাকিয়ে শুধালো,
“কি রে? তোর বউ এখনো বাড়ি ফেরেনি?”
সিয়াম কবিতা কে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো,
“তুই জানিস ও কোথায় গেছে?”
কবিতা একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,
“আমি তো অনেক কিছুই জানি। কিন্তু বলে কি লাভ? আমার কথা তো তুই কখনো পাত্তাই দিস না।”
সিয়াম রেগে গেল।বড় বড় চোখ করে বলল,
“যা জানিস সব বল।”
“কয়েকদিন ধরে দেখছি শাপলা কাউকে কিছু না বলেই বেরিয়ে যায়। কোথায় যায় কে জানে…”
কবিতার কথা শেষ হলো না। ঠিক এমন সময় শাপলা রুমে প্রবেশ করল। চুলগুলো এলোমেলো। চোখে ক্লান্তি।
সিয়াম বড় বড় চোখ করে শাপলার দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় শুধালো,
“কিরে? কোথায় গিয়েছিলি?”
শাপলা আমতা আমতা করল।
“দীপার মা অসুস্থ। ওদের বাসায় গিয়েছিলাম।”
কবিতা শাপলার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল। তারপর কিছু না বলেই ওদের রুম থেকে চলে গেল।
সিয়াম বলল,
“ফোন করেছি। ধরিসনি কেন?”
“সাইলেন্ট ছিল। বুঝতে পারিনি। সরি।”
সিয়াম আর কিছু বলল না। শুধু বলল,
“যা, তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকাল।
“কেন? কোথায় যাবো?”
“আমাদের পুরনো বাড়ি। ওখানে তোর জন্য কিছু অপেক্ষা করছে।”
এর পর শাপলা কিছুক্ষণের মধ্যে তৈরি হয়ে নিলো।
আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিয়ে লম্বা একটা শ্বাস ফেলল।
সিয়াম দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। শাপলাকে দেখে কিছু বলল না। শুধু গাড়ির চাবিটা হাতে নিয়ে বলল, “চল এবার।”
রাতের নিস্তব্ধ শহর। স্ট্রিট লাইটের হলুদ আলো রাস্তার উপর পরে আছে।
সিয়াম স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। পাশের সিটে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে আছে শাপলা। দুজনের মাঝে নীরবতা।
একটু পর শাপলা নীরবতা ভাঙল।
“আমরা ওখানে কেন যাচ্ছি?”
সিয়াম চোখ রাস্তায় রেখেই বলল,
“গেলেই দেখবি।”
শাপলা আবার জিজ্ঞেস করল, “বলেন না প্লি’ জ। এত রহস্য করছেন কেন?”
সিয়াম এবার একবার ওর দিকে তাকাল।
“আমাদের কিছু অপূর্ণ কাজ আছে শাপলা। সেগুলো পূরণ করতে হবে।”
শাপলা কপাল কুঁচকাল। “কি অপূর্ণ কাজ?”
সিয়াম ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলল,
“এখন এত কিছু বলতে পারব না। সময় হলেই সব বুঝতে পারবি।”
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দুজনে একসাথে ওদের পুরোনো বাড়িতে চলে এলো।
সিয়াম ফিসফিস করে বলল,
“চোখ বন্ধ কর।”
শাপলা একটু কেঁপে উঠে বলল,
“হুম… করছি।”
ওর কণ্ঠে কাঁপুনি আছে। সিয়াম কিছু বলল না। শুধু ধীর পায়ে গিয়ে লাইটের সুইচটা অন করল।
“এবার চোখ খোল।”
শাপলা চোখ মেলতেই থমকে গেল।
পুরো ঘর জুড়ে ফুল। লাল রঙের গোলাপ, বেলি আর গাঁদার মালায় বিছানা, জানালা, দেয়াল সব সেজে উঠেছে। ফুলের মিষ্টি গন্ধে ঘরটা যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।শাপলা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে। এর মাঝেই সিয়াম পেছন থেকে দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দিল। শব্দটা বুকের ভেতর ধাক্কা দিল।ধীরে ধীরে ওর দি’কে এগিয়ে এসে সিয়াম বলল,
“আর অপে’ক্ষা করতে পা’র’ছি না।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“মানে? বুঝলাম না।”
সিয়াম হালকা হেসে ওর কপালে হাত রাখল,
“আর বুঝতে হবে না।”
পরের মুহূর্তে শাপলাকে কোলে তু_ লে নিয়ে ওকে বিছানার উপর শুইয়ে দিল। শাপলার বুকের ভেতর দ্রিমদ্রিম করছে। কী হ_ তে যাচ্ছে ও ঠিকই আঁচ করতে পারছে।
সিয়াম খুব যত্নে ওর ঠোঁটে, কানে, গলায় আলতো করে ঠোঁ_ ‘ট ছুঁ_ ‘য়ে দিতে লাগল। শাপলার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে এলো। কাঁপা গলায় শাপলা বলল,
“আপনাকে আর আ ট কা বো না। চিরদিনের জন্য আপনার সাথে মি শে যে তে চাই।”
সিয়াম টেবিলের উপর রাখা মধুর পাত্রটা হাতে নিল। তারপর একটা বাঁকা হাসি দিয়ে শাপলার
গা য়ে ছ ড়ি য়ে দিল। মিষ্টি গন্ধটা ফুলের গন্ধের সাথে মি শে গেল। এই রাতে দুটো মানুষ, দুটো আত্মা একে অপরের মা ঝে হা রি য়ে গেল। সময় যেন থেমে গেছে।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর।
শাপলা সিয়ামের বুকের উপর মাথা রেখে চুপচাপ শুয়ে আছে।
সিয়াম ওর চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
“এভাবে মুখ গুঁজে আছো কেন বউ?”
শাপলা লজ্জায় আরও শক্ত করে জ ড়ি য়ে ধরে বলল,
“লজ্জা লাগে।”
“এত লজ্জা কিসের হুম?”
“জানি না।”
সিয়াম ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল,
“আচ্ছা মধু দিয়ে কে’ম’ ন লাগল স্বাদটা?”
শাপলা লজ্জা পেয়ে বলল,
“ধ্যাত! কী সব বলছেন।”
“আমি কিন্তু খু’ ব ম’ জা পাইছি।” সিয়ামের গলায় দুষ্টুমি।
“তাই?” শাপলা মুখ তুলে তাকাল।
“হুঁ। আরেকবার ওই স্বা’ দ নিতে ইচ্ছে করছে।”
শাপলা দ্রুত মাথা নাড়ল,
“আর না।”
“ঠিক আছে।” একটু থেমে আবার বলতে লাগলো,
“তবে আমি প্রতিদিন রা’ তে অন্তত একবার হলেও ওই স্বা’ দ নিব।”
“ধ্যাত! এসব কথা বলা বন্ধ করুন তো।” শাপলা ওর বুকে ছোট্ট একটা কি’ ল দিল।
একটু চুপ করে থেকে শাপলা হঠাৎ বলল,
“আচ্ছা, ধরুন আপনি যদি কোনোদিন জানতে পারেন আমি আপনাকে ভালোবাসি নাই… তাহলে কী করবেন?”
সিয়াম ওর মুখটা দুই হাতে তুলে ধরে গম্ভীর গলায় বলল,
“তুই আমাকে ভালো না বাসলেও আমার। ভালোবাসলেও আমার। তুই শুধুই আমার।”
শাপলার চোখ ছলছল করে উঠল,
“কখনো ঘৃণা করবেন না তো?”
“কখনো না।”
“সত্যি তো?”
সিয়াম কপালে চু’ মু দিয়ে বলল,
“হঠাৎ এসব কথা কেন বলছিস?”
শাপলা ম্লান হেসে বলল,
“এমনি… ভবিষ্যতে যদি কিছু হয়।”
সিয়াম ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
“কিছু হবে না।”
পাঁচ দিন পর। এখন বিকেল ৪টা বাজে।
সিয়াম, নিরব, শাপলা, আরিফ, নীলাঞ্জনা, কলি, বিরাজ সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে।
উদ্দেশ্য একটাই, শাপলার অতীতের কাহিনী শোনা।
সিয়াম রেকর্ডার চালু করছে।
পুলিশ অফিসার রকি রায় সিয়াম কে বলেছিলো,
শাপলার কথাগুলো রেকর্ড করে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতে।”
সিয়াম শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল,
“এবার শুরু কর।”
শাপলা বলতে লাগলো,
“______অতীত ___
আষাঢ় মাস। টানা বৃষ্টি হচ্ছে চারদিকে। চারপাশে শুধু পানির শব্দ আর ভেজা মাটির গন্ধ। ব্যালকনিতে প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে বসে আছে মৃধা আর শাপলা। বৃষ্টির ছাঁট এসে পায়ে লাগছে। ওরা গল্প করছে, হাসছে।
রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে ফুলকপির পকোরার গন্ধ। রিক্তা কড়াইতে তেল গরম করছে। গরম গরম পকোরা আর এক কাপ চা আষাঢ়ের বিকেলটাকে আরও আপন করে তুলছে।
ড্রয়িং রুমে আরামকেদারায় বসে নজির সাহেব পত্রিকার সম্পাদকীয় পড়ছেন। চোখে চশমা, কপালে ভাঁজ।
আর ভেতরের ঘরে এখন অন্য একটা ঝড় উঠছে।
শিখা বিছানায় বসে আড়চোখে বিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আজ থেকে আমাদের ঝগড়া শুরু। ঠিক আছে?”
বির ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“ঠিক আছে। খেলাটা জমিয়ে দিই?”
বলেই ও ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে দামি পারফিউমের বোতলটা তুলে নিল। তারপর পুরো ঘরময় স্প্রে করতে লাগল। ঝাঁঝালো গন্ধে ঘর ছেয়ে গেল।
শিখা সঙ্গে সঙ্গে চি’ৎ’কার করে উঠল,
“এই! আপনার সমস্যা কী হ্যাঁ? কতবার বলেছি ঘরের মধ্যে পারফিউম স্প্রে করবেন না! তবুও কেন করলেন?”
বির গলা উঁচু করে বলল,
“আমার ঘর। যা ইচ্ছা করব। তাতে তোমার কী?”
শিখা উঠে দাঁড়াল।
“বলেই হলো? আমি আপনার বউ। এই ঘরে আমারও অধিকার আছে।”
বির তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল,
“না। তোমার কোনো অধিকার নেই। এটা আমার ঘর। আমি যা খুশি তাই করব।”
কথা শেষ না হতেই শিখা পাশের টেবিল থেকে কাঁচের ফুলদানিটা তুলে সজোরে আছাড় মা’ রল।
কাঁচ ভাঙার শব্দে পুরো বাড়িটা কেঁপে উঠল।
ওদের চিৎকার শুনে রিক্তা হাতের খুন্তি ফেলে দৌড়ে এলো। পেছন পেছন নজির সাহেবও পত্রিকা রেখে উঠে চলে এলেন।তিনি বিরের দিকে আঙুল তুলে গর্জে উঠলেন,
“এই! তোর সমস্যাটা কী? শিখার সাথে এভাবে ঝগড়া করছিস কেন?”
“ঝগড়া করছি। বেশ করছি।”
শিখা নজির সাহেবের দিকে তাকিয়ে অভিযোগের সুরে বলল,
“দেখুন বাবা। আপনার ছেলে কিন্তু একদম বেশি বাড়াবাড়ি করছে। এটা কি ঠিক বলুন?”
বির শিখার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।
“আমি এমনই করব। তুমি আমার সাথে থাকলে থাকো, আর না থাকলে নাই।”
নজির সাহেব বললেন,
“এসব কী হচ্ছে? তোর এত বড় সাহস হয় কীভাবে শিখার সাথে এভাবে কথা বলিস? এক্ষুনি ক্ষমা চা।”
“তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? আমি এই মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাইব?”
শিখার বলল,
“আপনাকে বিয়ে করাটাই আমার ভু’ ল হয়েছে। আগে যদি জানতাম আপনি আমার সাথে এমন আ’ চ’ র’ ণ করবে, তাহলে কখনোই আপনাকে
বি’ য়ে করতাম না।”
বিরও পাল্টা জবাব দিল,
“আমিই ভু’ ল করেছি তোমাকে বি’ য়ে করে। এখন বুঝতে পারছি তুমি কোন জি’ নিস।”
নজির সাহেব আর দাঁড়ালেন না। রাগে গজগজ করতে করতে অনেক বকাবকি করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
রিক্তা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“এভাবে ঝগড়া করলে হবে কী? সবে তো বিয়ে হয়েছে, এখনই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে বাকি দিনগুলোতে কী করবে?”
এই বলেই সেও চলে গেল।
ঘর ফাঁকা হতেই বির ধপ করে দরজাটা আটকে দিল। তারপর শিখার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“সরি। মনে হয় বেশি বলে ফেলেছি।”
শিখা একটু চুপ থেকে বলল,
“না, সমস্যা নেই। ঠিক আছে।”
একটু থেমে আবার বলল,
“আর মাত্র ৩ দিন হাতে আছে। এর মধ্যেই সবকিছু শেষ করতে হবে।”
“হ্যাঁ, তাই হবে।”
হঠাৎ শিখার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভাসছে — “মা”।
শিখার বুকটা ধক করে উঠল। ফোনটা রিসিভ করতেই মৌসুমী বেগমের গলা ভেসে এলো।
“কেমন আছিস?”
শিখা জোর করে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল,
“ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
“ভালো আছি।”একটু থেমে মৌসুমী বেগম বললেন,
“বাড়িতে কবে আসবি তা মনে আছে তো?”
“হ্যাঁ, মনে আছে।”
“তোর আন্টির কাছে ফোনটা দে, কথা বলব।”
মুহূর্তেই শিখার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ভ’ য়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। মা যদি এখন সব জেনে যায়?
আমতা আমতা করে শিখা বলল,
“আন্টির সাথে কী কথা বলবে?”
“সেটা তুই জেনে কী করবি? যা বলছি তাই কর। ফোনটা মল্লিকার কাছে নিয়ে দে।”
“আন্টি এখন ব্যস্ত আছে।”
“গিয়ে বল আমি কথা বলব। তাহলে আর ব্যস্ত থাকবে না।”
শিখা তাড়াতাড়ি কথা ঘোরানোর চেষ্টা করল,
“আরে মা, তুমি বুঝতে পারছ না। এই বাড়িতে আজ মেহমান এসেছে। সবাই তাদের নিয়ে ব্যস্ত। এখন তোমার সাথে কীভাবে কথা বলবে বলো?”
মৌসুমী বেগম একটু বিরক্ত হয়ে বললেন,
“ঠিক আছে, দিতে হবে না। রাতে আমাকে কল দিবি, মনে থাকে যেন।”
একটু থেমে আবার জিজ্ঞেস করলেন,
“শাপলা কোথায়?”
শিখা শুকনো ঢোক গিলে বলল,
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬৩
“সবাইকে কাজে সাহায্য করছে।”
“এমন একটা কথা বললি যেটা আমার পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব না। তাড়াতাড়ি সত্যি কথা বল।”
“আরে মা, সত্যিই বলছি।” শিখার গলা কাঁপছে,
“এখানে অনেক মানুষজন আছে তো। তাই কেউ কিছু করতে বললে ও ফেলতে পারে না। তাই সবাইকে সাহায্য করছে। আচ্ছা রাখি, রাতে কথা হবে।”
মৌসুমী বেগম আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, তার আগেই শিখা কলটা কেটে দিল।
ফোনটা হাত থেকে নামিয়ে লম্বা একটা শ্বাস ফেলল সে। বুকের ভেতর ঝড় বইছে।
