Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৭

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৭

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৭
মহাসিন

রাজুর সামনে সিয়াম শাপলার ঠোঁ*টে কি*স করল।
রাজু হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। শাপলা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো ধাক্কা দিয়ে সিয়ামকে সরিয়ে দিল। চোখেমুখে বিস্ময় আর রাগ মিশে গেছে।
____”কী করছেন এসব? মাথা ঠিক আছে আপনার?”
কথাটা শেষ করতে পারল না সে। তার আগেই সিয়াম এক ঝটকায় শাপলাকে কোলে তুলে নিল। রাজু শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল, কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। সিয়াম কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা গাড়ির দিকে চলে গেল। শাপলা সিয়ামের পিঠে অনবরত থাপ্পড় মারতে লাগল।

____ “কী করছেন এসব? আমাকে ছাড়ুন বলছি! নামান আমাকে! আপনাকে কামড়ে দিবো কিন্তু! আমাকে ছাড়ুন বলছি! কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আজব লোক তো কিছু বলেন চুপচাপ আছেন কেন? বোবা হয়ে গেছেন কি?”
সিয়াম একটা কথাও বলল না। গাড়ির দরজা খুলে শাপলাকে ধপ করে সিটে বসিয়ে দিল। শাপলা বের হওয়ার জন্য ছ*টফট করে উঠতেই সিয়ামের গলায় নখ দিয়ে খামচি বসিয়ে দিল। সিয়াম ভ্রুক্ষেপও করল না। নিজেও গাড়িতে উঠে বসল, তারপর জোর করে শাপলার সিটবেল্ট লাগিয়ে দিল।সিয়ামের গলার পাশ দিয়ে হালকা র*ক্তের রেখা গড়িয়ে পড়ছে। শাপলা সিয়ামের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসে উঠল।
_____ “আমার সাথে এমন করলেন কেন? এটা বাসা না। পাবলিক প্লেসে, কেন আমাকে চু*মু দিলেন আপনি? আপনার মাথা একদম গেছে! আজব লোক! পাগল একটা!”
সিয়াম ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল। তার চোখে একরকম অধিকারবোধের আ*গুন।
___ “তুই আমার জিনিস। আমার জিনিসকে আমি যেখানে খুশি সেখানে চু*মু দেব। সেটা পাবলিক প্লেস হোক বা বাসা, তাতে কিছু যায় আসে না।”
শাপলা চিৎকার করে উঠল,

___________”আমার যায় আসে!আপনি আমার সাথে এমন আচরণ করতে পারেন না! আমি এখনও আপনাকে বলিনি যে ভালোবাসি! আমার ফ্রেন্ড কী ভাবল, একবার ভেবেছেন?”
সিয়ামের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
_________”তুই ওই ছেলেটার সাথে ওভাবে হেসে হেসে কথা বলছিলি কেন? তুই শুধু আমার—একান্তই আমার। আমি ছাড়া তুই অন্য কোনো ছেলের সাথে এভাবে হাসবি না, কথা বলবি না। আমার এসব সয্য হয় না! আমি তোকে পাগলের মতো ভালোবাসি!”
শাপলা রাগে লাল হয়ে গেল।
________ “একশোবার কথা বলব! তাতে আপনার কী?”
“আমার কী?” সিয়াম হিসহিসিয়ে উঠল। “দেখ, তাহলে আমার কী।”
কথাটা শেষ করেই সে শাপলার দিকে ঝুঁকে এলো। কোনো বাধা মানল না। অনবরত চু*মু দিয়ে ভরিয়ে দিতে লাগল শাপলার ঠোঁট। শাপলা তাকে সরানোর জন্য পিঠে কি*ল-ঘু*ষি মা*রতে লাগল, কিন্তু সিয়াম যেন পাথরের মূর্তি। কোনো কাজ হলো না। শেষমেশ শাপলা সিয়ামের বুকে নখের আঁ*চড় বসিয়ে দিল। তাতেও সিয়াম সরল না।
কিছুক্ষণ পর সিয়াম নিজেই শাপলার ঠোঁট ছেড়ে দিল। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এসেছে। শাপলার চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

________”দেখলি তো আমার কী? তুই কোনো ছেলের সঙ্গেই কথা বলবি না। তুই আমার জিনিস, আমার হয়েই থাকবি। I won’t share you with anyone.Understand.?”
(বাংলা অনুবাদ:আমি তোকে কারও সাথে শেয়ার করব না, বুঝলি)
শাপলা শুধু ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে। রাগে, অপমানে তার সারা শরীর কাঁপছে। দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল গাড়িতে। শাপলা মুখ ফুলিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। নীরবতা ভাঙল শাপলাই। হঠাৎ গলাটা একটু নরম করে বলল,
____ “আমার খিদে লাগছে।”
সিয়াম শাপলার দিকে ঘুরে তাকাল। তার চোখের রাগটা তখনও পুরোপুরি যায়নি।
_____”কী খাবি?”
“চকলেট আইসক্রিম।”(শাপলা বলল)
“ঠিক আছে, তুই বোস। আমি গিয়ে নিয়ে আসছি।” এই বলে সিয়াম গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।
শাপলা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করল। বাইরে চৈত্রের রোদ তেতে উঠেছে। আর গাড়ির ভেতরে জমে আছে এক অদ্ভুত দমবন্ধ করা টানাপোড়েন।
কিছুক্ষণ পর সিয়াম ফিরে এলো, হাতে গলতে থাকা আইসক্রিম।

______“এই নে, তোর আইসক্রিম।”
শাপলা হাত বাড়িয়ে নিল। ঠোঁটে ছোঁয়াতেই গাঢ় চকলেটের ধারা গড়িয়ে পড়ল চিবুক বেয়ে। সিয়াম নড়ল না। একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল, যেন শাপলার প্রতিটা নিঃশ্বাস গিলে খা*চ্ছে।
ধরা পড়ে গেল শাপলার সেই দৃষ্টিতে। গলা শুকিয়ে এল।
_____“এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? খাবেন?”
সিয়াম ঠোঁট বাঁকাল। গলাটা নেমে এল ফিসফিসে, ভারী,
_____“হুম জান, খাবো। তবে তোর মু*খ থেকে।”
শাপলা কেঁপে উঠল,
_____“মানে?”

“তোর মু*খের ভিতরে থাকা আইসক্রিম খেতে চাই। খাওয়াবি?”
“ছিঃ! আপনি আমার মুখেরতা কিভাবে খা*বেন? পাগল হয়ে গেছেন?”
“হুম, পাগলই তো। তোর প্রেমে পাগল। ভালোবাসার মানুষের মুখের খাবার কেন, তার নিঃশ্বাস পর্যন্ত খেয়ে ফেলা যায়! তুই যদি খাওয়াতে চাস তাহলে তোর নিঃশ্বাসও খেতে চাই!”
শাপলার গলা কাঁপল, “আর… আর কি খাওয়া যায়?”
সিয়াম চোখ সরাল না। “এখন তোর এসব জানতে হবে না। কাছে আয়। আগে তোর মুখ থেকে খে*য়ে নিই।”
শাপলা পাথর। লজ্জা আর ভয়ের শেকলে বাঁধা। নড়ার শক্তিটুকুও নেই। সিয়াম ধীরে ঝুঁকে এল। তার গরম নিঃশ্বাস শাপলার মুখে আছড়ে পড়ল। শাপলার বুকের ভেতর হাতুড়ি পিটছে। মনে হলো পাঁজর ভেঙে হৃৎপিণ্ডটা বেরিয়ে আসবে।

পরমুহূর্তে সিয়াম শাপলার ঠোঁট দখল করে নিল। জিভের ডগায় তুলে নিল গলে যাওয়া চকলেট, শাপলার উষ্ণতা, কাঁপুনি। শাপলা বাধা দিতে গিয়েও পারল না। কারণ এই পুরুষটার প্রতি এক অচেনা টান তার র*ক্তে মিশে যাচ্ছে। সে সাড়া দিল না, আবার সরিয়েও দিল না। শুধু চোখ বন্ধ করে সিয়ামের অধিকার মেনে নিল।
সিয়াম থামল না। শাপলার মুখ থেকে আইসক্রিম শু*ষে নিচ্ছে, চে*টে নিচ্ছে প্রতিটা বিন্দু। শাপলার দম ব*ন্ধ হয়ে আসছে। সিয়াম টের পেয়ে ঠোঁট ছেড়ে দিল।
শাপলা হাঁফ ছেড়ে বাঁ*চল। বুক ওঠানামা করছে পাগলের মতো। সেই সুযোগে সিয়াম তার হাত থেকে আইসক্রিমটা কেড়ে নিল। তারপর নিঃশব্দে গলায় ঢেলে দিল গলন্ত ধারা।
বরফ-ঠান্ডা স্পর্শে শাপলা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কেঁপে উঠল। আর সিয়াম? সে জিভ নামিয়ে দিল শাপলার গ*লায়। চে*টে চে*টে খেতে লাগল আইসক্রিম, শাপলার কাঁপুনি, লজ্জা। শাপলা তাকে ঠেলতে গিয়েও পারল না। কারণ নিষিদ্ধ এই আ*দরে তার শরীর বেঈমানি করছে। ভালো লাগছে। ভয়ানক ভালো লাগছে।
আইসক্রিম খেতে খেতে সিয়াম ফিসফিস করল, “কিরে শাপলা, কেমন লাগছে? ভালো লাগছে তো?”
শাপলা চুপ। ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে সমস্ত শব্দ।
হঠাৎ সিয়াম থেমে গেল। শাপলার চোখে চোখ রাখল। ঠোঁটের কোণে সেই চেনা বাঁকা হাসি, “থাক, আর লজ্জা পেতে হবে না। এখন তো তেমন কিছুই করিনি। এতেই এই অবস্থা? সবকিছু করলে তো তোকে আর খুঁজেই পাওয়া যেত না।”

কথা শেষ করে সিয়াম টিস্যু নিল। খুব আলতো করে, অদ্ভুত যত্নে মুছে দিল শাপলার ঠোঁট, গলা, চিবুক। যেন এইমাত্র যে ঝড় বইয়ে দিয়েছে, তার কোনো চিহ্নই ছিল না।
তারপর ঝুঁকে এল আরও একবার। শাপলার কপালে রাখল একটা নরম, গভীর চু*মু। অধিকারের, আগলে রাখার।
শাপলা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিল। জানালার কাঁচে নিজের রক্তিম মুখটা দেখে আরও গুটিয়ে গেল।
সিয়াম শব্দ করে হাসল না। শুধু একটা মুচকি হাসি দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। ইঞ্জিনের গর্জনের সাথে মিশে গেল দুটো হৃৎপিণ্ডের অসম তাল। গাড়ি ছুটল বাড়ির দিকে, পেছনে ফেলে গেল গলে যাওয়া আইসক্রিম আর জন্ম নেওয়া এক অন্ধকার রো*মা”ন্সের সাক্ষী হয়ে থাকা নিঃশব্দ দুপুর।

সন্ধ্যা নেমেছে। অফিসফেরত মানুষের কোলাহল থেমে গেছে শহরজুড়ে। ঘরের ভেতর হলদে আলোয় ডুবে শাপলা পড়ার টেবিলে বসে আছে। চারদিকে নিস্তব্ধতা।
হঠাৎ দরজায় ঠকঠক শব্দ। শাপলার কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। বই বন্ধ করে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল সে।
বাইরে নিরব দাঁড়িয়ে। চোখেমুখে একরাশ গাম্ভীর্য।
শাপলা স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়া, কিছু বলবেন?”
“কী করছিলি?” নিরবের গলা শান্ত, নিরুত্তাপ।
“এই তো, পড়ছিলাম।” একটু থেমে শাপলা আবার বলল, “ভেতরে আসুন।”
নিরব মাথা নাড়ল, “না, ভেতরে যাব না। এই নে, তোর জন্য এনেছি।”

কথা শেষ করেই সে শাপলার দিকে একটা চকলেটের বাক্স এগিয়ে দিল।
শাপলা অবাক। হাত বাড়িয়ে বাক্সটা নিল ঠিকই, কিন্তু চোখে প্রশ্ন। নিরব আহমেদ আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। পেছন ফিরে হনহন করে চলে গেল।
শাপলা ধপ করে দরজা আটকে দিল। ভারী পায়ে হেঁটে গিয়ে বিছানায় বসে পড়ল। বাক্স খুলে চকলেটগুলো দেখতে দেখতে মনে মনে বিড়বিড় করল, “হঠাৎ কী হলো? আমার জন্য চকলেট কেন আনল?”
কোনো উত্তর নেই। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে উঠে গেল টেবিলের কাছে। চেয়ার টেনে বসে অঙ্ক খাতা খুলল।
কিন্তু একটা অঙ্ক কিছুতেই মিলছে না। সেই কখন থেকে চেষ্টা করছে। শেষমেশ রাগে খাতার ওপর কলম দিয়ে আঁকিবুঁকি শুরু করল।
আর পারল না। খাতাটা হাতে নিয়েই উঠে দাঁড়াল শাপলা। দরজা খুলে পা বাড়াল সিয়ামের রুমের দিকে।
সিয়ামের রুমের দরজায় টোকা দিতেই দরজা খুলে গেল। ভেতরটা ফাঁকা। বিছানার ওপর সিয়ামের ফোনটা পড়ে আছে নিঃসঙ্গ। শাপলা চারদিকে চোখ বুলিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে গলা একটু তুলে ডাকল,

“ভাইয়া, আপনি কি ওয়াশরুমে?”
ভেতর থেকে সিয়ামের গম্ভীর, পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এলো,
“হ্যাঁ। কিছু বলবি?”
হাতে থাকা খাতাটা শাপলা শক্ত করে ধরে বলল,
“একটা অঙ্ক কিছুতেই মিলছে না। তাই আসলাম।”
“কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর, আসছি।” (সিয়াম বলল)
শাপলা আর দাঁড়াল না। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে বিছানার কাছে গিয়ে ধপ করে বসে পড়ল। খাতাটা কোলের ওপর রেখে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৬

কিছুক্ষণ বাদেই ওয়াশরুমের দরজা খোলার মৃদু শব্দ হলো। ভেজা পায়ের আওয়াজ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। শাপলার বুকের ভেতরটা অকারণেই কেঁপে উঠল।
সে কৌতূহল চাপতে না পেরে মুখ তুলে তাকাল। আর তাকাতেই নিঃশ্বাস আটকে গেল তার।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here