Home রৌদ্রময় বালুচর রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১২

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১২

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১২
সোহানা ইসলাম

” আসসালামু আলাইকুম ”
— সালাম টা শুনে অদ্ভুত এক প্রশান্তি বয়ে যায় আরমানের মনে। কি মিষ্টি কন্ঠ মেয়েটার। কিন্তু মেয়েটার কন্ঠ স্বর টা খুব চেনা ঠেকছে তার কাছে। মেয়েটা কে…?? কেনো তাকে হঠাৎ করে ফোন করলো…?? সে কি এই মেয়ে টাকে চিনে..?? মনের সংশয় দূর করতে আরমান সালামের উত্তর দিয়ে জিজ্ঞেস করে….
” ওয়ালাইকুমুস- সালাম..!! কে বলছেন…??
— ফোনের থাকা ব্যাক্তির কাছ থেকে উত্তর পেয়ে মন শন্ত জারার। সে তো ভেবেছিলো তার ফোন ধরবে না অচেনা নাম্বার দেখে। নিজের মনে মনে কথা সাজিয়ে নিচ্ছে বলার জন্য।
” আ” আ’মি..!! ”

” চিনে ফেললো ফোনে থাকা রমণী টা কে..?? তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে তাকে ফোন করেছে। কিন্তু কেনো,, সে কি তাকে চিনে ফোন করেছে না-কি..?? তার ফোন নাম্বার পেলো কোথায়…?? পরক্ষনেই মনে পরে দুপুরের ঘটনা গুলো। তখন তাকে তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে থ্রে**ট দিয়ে গেছে মাঠের মালিকের কাছে নালিশ করবে।
কিন্তু বোকা নারী,, সে তো যাই না, সে ঠিক কাকে ফোন দিয়েছে নালিশ করার জন্য…??যে ঘরে চুরি করেছে আবার সেই ঘরের মালিকের কাছে নালিশ করছে বো”কা না”রী..!! তাকে না চেনার ভান দরে, নিজের নরম গলা আর একটু শক্ত করে আরমান শোধরালে…..
” –“আমি “বললে কী চিনতে পারবো..?? নাকি পরিচয় দিতে হবে…??
” লোকটার গলার স্বর হটাৎ করে এমন শক্ত হয়ে যাওয়ায় কিছু টা আশ্চর্য হয় জারা। হয়তো অপরিচিত বলে বিরক্ত হচ্ছে,, এটাই স্বাভাবিক।
তাই জারা নিজের নরম কন্ঠে দিয়ে বলে….

“” আ”আমি.. জা” জা’রা। এ..এ’ক’টু আপনার সাথে কথা বলার দরকার ছিলো।
” কী নাম বললেন..?? শুনতে পাইনি,, আবার বলোন। ‘”
” জারা এবার তার পুরো নাম টাই বলে লোকটা কে….
” মা’ মা’নজারা”
” নাম টা শুনে আরমান কি মনে করে যেনো মুঁচকি হাসলো। এই একটা নাম জানার জন্য এই হাফ ইঞ্চি মেয়ের হাত কতো মার খেলো সে..?? ভাবা যায় এসব..?? তাই সেও নাম টা ভালো ভাবে শুনে- ও না শুনার মতো করে বলে…..
— কী বললেন..?? জানে মান ”
” জারার এবার প্রচুর বিরক্ত লাগছে। লোকটা কী কানে শুনে না কী..?? মন চাইছে গিয়ে লোকটার কান ফাটিয়ে দিতে তার। সে তার নাম সুন্দর ভাবে বলছে আর লোকটা উল্টো পাল্টা শুনছে। কিন্তু রাগ দেখাতে পারবে না,, না হলে তার কাজটাই আর হবে না।
” না.. মানজারা..!! মানজারা আমার নাম। ”
” — ওহহ আচ্ছা,, মানজারা আপনার নাম..?? তো কি জন্য আমাকে কল করেছেন..?? নাম্বার কোথায় পেলেন আমার..??

“” ঐ.. ঐ ❝ এ. কে. খান ❞ এর বড় গেট থেকে
নিয়েছি আপনার ফোন নাম্বার। ”
” হুম বোঝতে পেরেছি..!! এখন আপনি কি জন্য কল করেছেন সে-ই টা বলুন..!!”
” অনুমতি পেয়ে জারা তার মনের সব কথা খুলে বলে থাকে এক এক করে আরমানের কাছে।কথা বলার মাঝে মাঝে দুই একটা করে গা*লিও দিচ্ছে সে লোকটাকে। নিজেকে নামে এমন গালি শুনে একটু পর পর খোঁক,খোঁক করে কেঁসে উঠছে আরমান। কিন্তু জারার কথার কোনো প্রতি উওর করলো না সে। খুব মনোযোগ সহকারে জারার সব অভিযোগ গুলো শুনতে থাকে এক এক করে। জারার কথা শুনে আরমান বোঝতে পারছে তাকে কতোই না খারাপ ভাবছে তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে টা।
— সব কথা একবারে শেষ করে বড় করে একটা শ্বাস ফেলে জারা —
” আমি কী বলতে চাচ্ছি,, আপনি বোঝতে পারছে তো ..??
” নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা আর সে কী বোঝবে..!! যার জমী তাকে ধরেই মারছে মেয়ে টা।আবার তাকেই নালিশ করছে। জারার কথা বোঝেও না বোঝার মতো করে বলে আরমান……

” ফোনে কথা বলে আপনার সব কথা আমি ভালো করে ঠিক বোঝতে পারছি না। কাল একবার — ” এ.কে.খান ” এর মাঠে একতালা বাড়িটায় এসে দেখা করে যাবেন। আমি আপাতত এখানেই আছি। সময় নিয়ে আপনার সব কথা শুনবো আমি । এখন রাখছি। আল্লাহ হাফেজ।
— বলেই কলটা কেটে দিলো আরমান। বোকা জারা ভাবছে হয় তো তারা কথা সত্যিই লোকটা বোঝতে পারেনি কিছু। তাই হয়তো তাকে বলছে দেখা করে সব কথা বোঝিয়ে বলতে।—
” জারা আবার ফোন দিলো মিম আর ফিহা কে।
কল রিসিভ হতেই ফিহা জিজ্ঞেস করে….
” ফিহা :- জানু…! কথা হয়েছে লোকটার সাথে..?? কী বলছে তোকে,, কোনো ব্যবস্থা নিবে জানিয়েছে কিছু..??
” মিম :- হ্যাঁ.. জানু বল…!! কী কথা হয়েছে লোকটার সাথে..??
+– জারা :- বলেছে একবার গিয়ে দেখে করে সব ঘটনা খুলে বলতে উনাকে। “তাই ভাবছি কাল কলেজ ছুটির পর একবার যাবো,, গিয়ে ভালো করে বোঝিয়ে বলে আসবো।
” মিম :- এটাই ঠিক হবে করলে। কাল কলেজ ছুটির পর তিন যাবো এক সাথে।
” ফিহা :- ঠিক আছে। এখন ঘুমা জানু’রা। আমার খুব ঘুম পেয়েছে।
” এই মেয়ে ঘুম ছাড়া কিছুই বোঝে না ‘

সকাল ৭ টা বাজে। আজ জারা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পরে। ফ্রেশ হয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য একেবারে তৈরি হয়ে ড্রইং রুমে আসে জারা। ড্রইং রুমে এসে দেখে রোহান মনমরা হয়ে বসে আছে। জোহরের মন খারাপ বোঝতে পেরে জারা তার কাছে এসে বসে।
ভাইয়ের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়ে বলে….
” কী হয়েছে মীরজাফর..?? এমন মন খারাপ করে বসে আছিস কেনো..?? আম্মু বকেছে তোকে..??
“– হ্যাঁ কিছু হলেই তো মায়ের সব দোষ। মা তো তোদের সারাদিন শুধু বকে..?? তোরা তো কিচ্ছু করিস না। ”

” এই সাতসকালে মাকে রেগে থাকতে দেখে তার মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে। জোহান কিছু করলো না তো আবার..??
” আম্মু কী হয়েছে,, এমন রেগে আছো কেনো তুমি…?? ”
” আমার কী হয়েছে এটা জিজ্ঞেস না করে,,” তোর গুনধর ভাইকে জিজ্ঞেস কর,, স্কুলে কী করে এসেছে সে..?? তার ক্লাস টিচার কেনো আমাকে ফোন করে বলবে ওর স্কুলে যেতে..?? ”
” জারা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে মাথা নিচু করে এখনো বসে আছে। জোহানকে ভালো করে জিজ্ঞেস করে এবার জারা….
” কী করেছিস মীরজাফর তুই..?? আম্মুকে কেনো তোর স্কুলে ডেকেছে..??
” জোহান হটাৎ করে কান্না করে দেয়। কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলতে থাকে….
” আমি সত্যি কিছু করি নি বনু। বিশ্বাস কর আমি সত্যি কিছু করি নি। যে মেয়ে আমাকে কালা চান বলেছে তার চুল ছিঁড়ে, একটা দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছি শুধু। আর কিচ্ছু করি নি বনু । বিশ্বাস কর এর থেকে বেশি কিছু করি নি বনু। ”

— ভাইয়ের কথা শুনে বোধ-শক্তি সব হাঁড়িয়ে ফেলেছে জারা। কি বলবে বোঝতে পারছে না সে।কথা বলার ভাষা হাঁড়িয়ে ফেলেছে জারা। চুল ছিঁড়া, দাঁত ভাঙ্গা এসব তার কাছে এটুকু মনে হচ্ছে।
” জারা :- এই মীরজাফর তোর কাছে এসব বেশি কিছু মনে হচ্ছে না..??
” জোহান :- না তো..!! এগুলো বেশি ছিলো না। ঐ মেয়ে কে আরও মার দেওয়া বাকি ছিলো আমার। কিন্তু স্যার এসে আঁটকে দিয়েছে আমাকে।
–জারার এবার কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না। এই ছেলের কাছে সব কম লাগছে,, আবার বলছে আরও দেওয়া বাকি ছিলো..??
“” মারজিয়া বেগম :- দেখেছিস… দেখেছিস তুই গুনধর ভাই কান্ড..?? স্কুলে মারামারি করেছে,, তা আবার গর্ব করে বলছে আমাদের সামনে। মেয়েটা কে এতো মেরে এসেও বলছে মার দেওয়া বাকি ছিলো..??”
” জারা :- আচ্ছা থাক আর কিছু বলো না। স্কুলে গিয়ে দেখো ওর স্যার কী বলে…?? আর ওকে বলবে মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাইতে…!!

— জারা জোহানের দিকে তাকিয়ে আবার বলে…
‘ মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাইবি স্কুলে গিয়ে। মনে থাকবে তোর..??
” জোহান এবার রাগ দেখিয়ে বলে….
‘ আমি ক্ষমা চাইতে পারব না। আমাকে ঐমেয়ে কালা চাঁন বলার পর আমি তোমাদের বলিনি। তোমরা তো কেউ যাও নি আমার সাথে বিচার করতে ঐ মেয়ের। তাই আমার বিচার আমিই করে দিয়েছে। ‘
— মারজিয়া বেগম এবার মারাত্মক ভাবে রেগে গেছেন ছেলের কথা। এই টুকু ছেলে এখন এমন গলাবাজি করতে দেখে। ঘরের কোণে থেকে ঝাড়ু টা নিয়ে তেড়ে আসেন ছেলের দিকে। আজ এই ছেলেকে একটা উচিত শিক্ষা দিয়েই ছাড়বেন তিনি। —

” মাকে ঝাড়ু হাতে তেড়ে আসতে দেখে তাড়াতাড়ি ছোট ভাইকে আগলে নেয় নিজের কাছে জারা। মাকে শান্ত হওয়ার জন্য বলে…..
” আম্মু কী করছো এসব তুমি…?? ও ছোট, না বোঝে একটা ভুল করেই ফেলেছে, তাই বলে তুমি ওকে মারবে। ”
” মারজিয়া বেগম :- ও ছোট…?? ও যদি ছোট হয় তাহলে এতো বড় বড় কাজ করে কীভাবে..??
” আর করবে না, ওকে মাফ করে দাও প্লিজ আম্মু”
— কি আর করবেন তিনি। রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে পা বাড়ালেন রান্না ঘরের দিকে।
” জারা ভাইকে বোঝিয়ে – সুজিয়ে ঘরে পাঠায় ফ্রেশ হয়ে স্কুলের জন্য রেডি হয়ে আসতে। এক সাথে নাস্তা করে বের হব তারা। ”
— নাস্তা করে কলেজের জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়ে জারা। তার মা জোহান কে নিয়ে তার স্কুলে চলে যায়।

জারা আজকেও বটগাছ তলায় এসে দেখে তার দুই কলিজার বান্ধবী তার জন্য দাড়িয়ে আছে। আজকে আসতে তার অনেক লেট হয়ে গেছে। তাই দূরত –
– তাদের কাছে এসে এক থেকে ঘাটের দিকে এগিয়ে যায় তিনজন। নীদ পরা হয়ে একটা গাড়ি নিয়ে সোজা কলেজ গেইটের সামনে এসে নামে তারা তিন জন। কলেজে আসতে আসতে বেল পড়ে যায়।
তিন জন দূরত পা চালিয়ে যায় ক্লাসের দিকে। ক্লাস রুমের সামনে এসে দাঁড়ায় তিনজন। ভিতরে ঢুকার জন্য পারমিশন নেওয়ার জন্য ফিহা বলে…
” May I come in sir ..??
” স্যার দরজা দিকে তাকিয়ে দেখে তিনজন মেয়ে দাড়িয়ে আছে। স্যার একবার তাদের তিন জনের দিকে তাকিয়ে তোর আর একবার হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে। ঘড়িতে সময় দেখে তাদের দিকে তাকিয়ে বলে…..
— তোমরা এখন ক্লাসে আসতে পারবে না।তোমরা তিনজন ঠিক ৩০ মিনিট লেট করে এসেছো। যাও ক্লাসের সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে ক্লাস শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত। ”
” কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে হবে শুনে ফিহা আর মিম, জারা’র দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকায়। জারা’র জন্য আজকে তাদের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে হবে কলেজে। ”

” তাদের দুইজনকে কটমট দৃষ্টিতে তাকাতে দেখে জারা একটা কেবলা’র মতো হাসি দিয়ে বলে…
” এভাবে তাকাস না প্লিজ তোরা। দেখে আমিও তো তোদের সাথে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ”
” তারা তিন জন কানে ধরেই দরজার বাইরে হাসাহাসি করছে নির্লজ্জের মতো। তাদের হাসির শব্দ স্যারের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। স্যার ক্লাস থেকে বের হয়ে এসে তাদের তিনজনের সামনে দাঁড়ায়। ”
স্যারকে তাদের সামনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভদ্র মেয়ের মতো চুপ করে দারিয়ে থাকে তারা তিন জন। যেনো বাঝা মাছটা উল্টে খেতে পারে না তারা তিন এমন ভাব। ”
” স্যার :- কী সমস্যা তোমাদের..?? কান ধরে দাঁড়িয়েও এমন নির্লজ্জের মতো হাঁসছো কেনো..??
” ফিহা :- স্যার হাসলেই কেউ নির্লজ্জ হয়ে যায় না। নির্লজ্জ হওয়ার জন্য আরও কতো রকম কাজ আছে।
” স্যার :- আবার মুখে মুখে তর্ক করছো কেনো মেয়ে তুমি..?? সোজা প্রিন্সিপালের কাছে পাঠিয়ে দিব।
— মিম আর জারা অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায়। চোখ দিয়েই তাকে খেয়ে ফেলবে এমন ভাব। তাদের চাহনি দেখে ফিহা ফাঁকা ঢোক গিলে….

“” সরি স্যার। আর হবে না “”
— আজ আর তারা তিন জন ক্লাস করে’নি। মন ভেঙ্গে গেছে তাদের কান ধরার কারণে।তাই পুরো টা সময় তারা কলেজ কেন্টিনে বসে কাটিয়েছে আড্ডা দিয়ে। কলেজ ছুটি হলে তারা তিন জন বয়লার – মুরগীর মতো ঝিমাতে ঝিমাতে বের হয়ে আসে।
” গেইট পার হয়ে গাড়ি নিয়ে ঘাটে চলে আসে,, নৌকা পার হয়ে এসে দাঁড়ায় এ. কে. খান এর গেটের সামনে। তাদের উদ্দেশ্য এখন মাঠের মালিকের সাথে কথা বলতে যাবে। তিনজনে একসাথে গেটের ভিতরে ডুকতে হাঁটা ধরে মাঠের একতলা বাড়ির দিকে। —
“জাহেদ, রোহান আর জেরিন বারান্দায় বসে একসাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। তাদের তিনজনকে আসতে দেখে জাহেদ বলে…

— রোহান ভাইয়া দেখো কারা আসছে এদিকে..??
” রোহান :- কে আসছে..??
” জাহেল :- এবার তাকিয়ে দেখোই না তুমি..??
জারা, মিম আর ফিহা দের এসময় এখানে দেখে অবাক হয় রোহান। তারা এখনে কী করতে এসেছে..?? আবার আরমানকে মারতে আসে’নি তো তিনজন মিলে..??
” রোহান :- একী দেখছি আমি..?? আজ আবার তিনজন একসাথে আসছে আরমান’কে মারতে..??
জাহেদ :- আসতে দাও একবার। দেখি কি করতে আসছে ওরা..??
–· জারা, মিম, ফিহা তিন জন বাড়ির কাছে আসতে কেউ একজন এসে জারা জাপ্টে ধরে, ” সাদা পরী বলে…!! জারা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখে, এই মেয়েটার সাথে গতো বৃহস্পিবার দেখা হয়েছে তার সাথে গেটের সামনে। মেয়েটার নাম জেরিন। কিন্তু এখানে কী করছে এখনো..?? ঐদিন তো বললো তারা ঘুরতে এসেছে এখানে..??

“” সাদা পরী….. তুমি এখানে কী করছো..??
“” জারা :- আরে বুলবুল পাখি, তুমি এখানে কী করছো.???
” জেরিন :- আমি এখানে ভাইয়া দের সাথে ঘুরতে এসেছি কিছুদিনের জন্য। ”
— মেয়েটা জারাকে এমন জাপ্টে ধরে থাকতে দেখে ফিহা জানা’কে জিজ্ঞেস করে —-
ফিহা :- এই জারা তুই এই মেয়েকে চিনিস..??
“” হুম চিনি। ফিহার কথার উত্তর দিয়ে আবার জেরিন কে জিজ্ঞেস করে জারা —-
” তা তোমার ভাইয়া রা কোথায়..?? তোমরা কী এই বাড়িতে থাকো..??
” জেরিন :- হুম আমরা এখানেই থাকি..!!
তার মানে তুমি এই মাঠের মালিক পক্ষ..??

—– হুমমম —–
তাদের কথার মাজে সেখানে উপস্থিত হয় রোহান আর জাহেদ। জাদেহ ফিহা কে দেখে কিছু টা এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে….
” আরে কটকটি যে ” এখানে কী করছো এসময়..??
” ফিহা :- তা আপনাকে কেনো বলতে যাবো…?? আপনি কোন ক্ষেতের মোলা শুনি, যে আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে..??
” জাহেদ :- এই কটকটি মুখ সামলে কথা বলো..!! তুমি যানো আমি কে..??
” ফিহা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে, ” যানার ইচ্ছেও নেই আমার।
জাহেদ কে মুখের উপর অপমান করে দিলো ফিহা।
— রোহান এবার জারা’কে জিজ্ঞেস করে…
” আরে আমাদের না হওয়া হাফ ইঞ্চি ভাবি যে!! তা এখানে কী করছো তোমরা..??
” এই দামড়া মার্কা ছেলে তাকে ভাবি ডাকতে শুনে বেশ অবাক হয় জারা। তাকে চিনে না, যানে না হুট করে এসে ভাবি ডাকছে। আবার তাকে হাফ ইঞ্চি মেয়ে ও বলছে। এই নামে তো ঐ শয়তান লোকটা তাকে ডাকে।”
” ভাইয়া আপনি আমাকে ভাবি বলে ডাকছেন কেনো..??
— রোহান এবার ফেঁসে গেছে। কি বলবে সে এখন। মুখের ঠেলায় তো বলে ফেলেছে ভাবি এখন কী ভাবে সামাল দিবে সে। তাই আমতা আমতা করে বলে,,, ‘ ও’ ই ভুল করে মুখ থেকে বের হয়ে গেছে। তা এখানে কী করছো তোমরা..??

জারা কে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে মিম এগিয়ে এসে বলে…ঐ কাল একটা সমস্যা হয়েছে এই মাঠে ভাইয়া। একজন শয়তান লোক আমার জানু’ কে এই মাঠে বিরক্ত করছে। তার হাত কেটে ফেলবে বলেছে লোকটা তাই এসেছি এখানে।
এবার মিম’ কে থামিয়ে দিয়ে জারা বলতে শুরু করে….” আমি কাল রাতে এখান কার বড় মালিকে ফোন দিয়েছে, তিনি বললেন এসে যেনো তার সাথে এই বিষয় টা নিয়ে ভালো ভাবে কথা বলি। তাই আমরা এসেছি। এখন যদি দয়া করে বলতে এখান কার বড় মালিক কোথায় আছে তো অনেক উপকার হবে আমার।
” রোহান আর জাহেদ দুইজন দুইজনের সাথে চোখে চোখে কথা বলছে। কই তাদের কাছে তো কাল রাতে কোনো ফোল আসে নি তাহলে। দু’জনই বোঝতে পারে এবার ওরা করা কথা বলছে। কী সাংঘাতিক মেয়েরে বাবা “” নিজেই মেরে আবার নিজেই এসেছে বিচার দিতে। আরমান কে টাইট দেওয়ার জন্য এই মেয়ে একদম পার্ফেক্ট। ”
তাই রোহান জারা’ কে আরমানের রুম দেখিয়ে বলে….. ওখানে আছে তোমরা যাকে খুঁজো। ওই রুম টায় গেলে পেয়ে যাবে তাকে। যাও কথা বলে সমস্যা জানিয়ে এসো।

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১১

— রোহানের কথায় তারা তিন জনই একসাথে এগিয়ে যায় আরমানের রুমের দিকে। তাদের একসাথে যেতে দেখে রোহান আর জাহেদ বাদা দিয়ে বলে…. তোমরা দুইজন কোথায় যাচ্ছো ওদিকে…??
” ফিহা বলে — কেনো ওর সাথে যাচ্ছি আমরা দেখতে পারছে না।
” জাহেদ — এই মেয়ে সমস্যা কী তোমার সাথে হইছে নাকি ওর সাথে হয়েছে। তাহলে সেখানে তুমি গিয়ে কী করবে শুনি..? ওর সমস্যা ওকে বলতে দাও।
জাহেদ এর কথায় যুক্তি আছে। তাই জারা মিম আর ফিহা কে বারণ করে তার সাথে আসতে। সে একাই কথা বলতে পারবে। ফিহা আর মিম ও কিছু বললো না দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়।
” জারা দরজার দিকে এগিয়ে এসে হালকা করে টুকা দেয়ি জিজ্ঞেস করে, ” আসতে পারি..??

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here