লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩১
লিজা মনি
ফজরের আজান হয়ে গিয়েছে। বাহিরে সামান্য আলো ফুটে উঠছে ধীরে ধীরে। আরিশ মাথা চেপে চোখ খুলে তাকায়। মাথা ব্যাথার কারনে সব কিছু ঝাপসা দেখছে। মাথার উপর ভেজা কিছু অনুভব হতেই নাক -মুখ কুচকে ফেলে। ভেজা অংশটা অনুভব করে কপালে আবার হাত রাখে। ভেজা রুমালটা চোখের সামনে নিয়ে সাথে সাথে উঠে বসে। তার ব্যক্তিগত রুমাল ভেজা অবস্থায় কপালে আসলো কিভাবে। আরিশ ডিভান থেকে নামার জন্য সামান্য নড়তেই নাজলী নড়ে-চড়ে উঠে। আরিশ কপাল কুচকে তাকায় সেদিকে। মেয়েটা মেঝেতে বসে আছে। আর মাথাটা ডিভানের উপর রাখা। একদম আরিশের মাথা বরাবর ছিলো। বসা অবস্থায় হাত মাথার নিচে রেখে ঘুমিয়ে গিয়েছে। আরিশ শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো নাজলীর দিকে। লাল চুলগুলো ফর্সা মুখটার উপর পড়ে আছে। চুলের কারনে মুখটা ভাসমান নয়। আরিশ যেন বিরক্ত হলো মুখে চুল পড়াতে। বিরক্তি নিয়ে বাম হাতের সাহায্যে আলগোছ চুল গুলো সরিয়ে দিতে লাগলো। আচমকা নাজলী চোখ খুলে ফেলে। তার দৃষ্টি একদম আরিশের দিকে। আরিশ থমথমে মুখে তাকিয়ে আছে। নাজলী চোখ খুলতে পারছে না ঘুমের জন্য। আরিশের মস্তিষ্ক নড়ে উঠে। গলা কেঁশে নাজলীর দিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বলে,
” এখানে কি করছো? আমার পাশে কি করছিলে? নিজের রুম ছেড়ে এখানে কেনো এসেছো?
নাজলী নিশ্চুপ ভাবে একই ভঙ্গিতে হাতের উপর মাথা রেখে শুইয়ে পড়ে। ঘুমের কারনে আপাযত মাথা কাজ করছে না। তাই এই মুহূর্তে কারোর কথাও কানে ডুকছে না। নাজলীকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে আরিশ নাজীর হাতে হেচকা টান দিয়ে ধমকে উঠে,
” এই মেয়ে কথা কানে যাচ্ছে না। আমার পাশে কি তোমার?
নাজলী বিরক্তি নিয়ে তাকায় আরিশের দিকে। কিছুক্ষন চোখের পালক ফেলে সাবলীল ভাবে বলে,
” সমস্যা কি আপনার? সারারাত ঘুমাতে দেন নি। এখন আবার নাটক শুরু করেছেন কেনো?
আরিশ কপাল কুচকে ফেলে। নাজলীর কথা কর্নে প্রবেশ করতেই ঠোঁট কামড়ে ধরে। নিজের দিকে বার বার তাকায়। নিজেকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে গম্ভীর সুরে বলে,
” কি হয়েছিলো আমাদের মধ্যে কাল?আর যদি হয়েও থাকে তাহলে আটকালে না কেনো?
নাজলী পুনরায় ঘুমাতে গিয়েও থম মেরে যায়। আরিশের কথাটা বুঝতে না পেরে বলে,
” মানে?
আরিশ চোয়াল শক্ত করে বলে,
” ইনোসেন্ট সাজার চেষ্টা করবে না। যা হয়েছে ভুলে যাও। আর যদি কিছু হয়ে থাকে সপ্ন ভেবে মাথা থেকে মুছে ফেলো। কারন কোনো ঘনিষ্ট কাহিনী আমার মনে পড়ছে না।
নাজলীর মুখ হা হয়ে গিয়েছে। কি বুঝাতে চেয়েছে আর এই ক্রিমিনালের বাচ্চা বুঝলো কি। নাজলী যেন লজ্জা পেতেও ভুলে গেছে। তবুও কেনো যেন সামান্য লজ্জা লাগছে। তবে সেটা প্রকাশিত হলো না। নাজলী বসা থেকে চোয়াল শক্ত করে বলে,
” আপনার অশ্লীল মাইন্ডের উপর রহমতের বৃষ্টি হোক। বলেছি একটা আর ভাবছেন আরেকটা।
আরিশ নিজেও উঠে দাঁড়ায়। খালি শরীরে ট্যাটুগুলো ঝলঝল করছে। বাম হাতে পুরোটাই বাঘের মুখের ট্যাটু করা। আরও ভিবিন্ন শব্দ লেখা। নাজলী এখনও তাকায় নি আরিশের দিকে। আরিশ ডিভান থেকে টি-শার্ট তুলে জড়িয়ে নিতে নিতে বলে,
” অসভ্য মেয়ে এত তর্ক করো কোন সাহসে? লিসেন মিস নাজলী , আমি তর্ক পছন্দ করি না। আর তুমি নিজেই বললে সারারাত ঘুমাতে দেয় নি।
নাজলী ভ্রুঁ নাচিয়ে বলে,
” আর আপনি ভেবে ফেললেন অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে। আপনি ভাবলেন কিভাবে আপনি আমার কাছে এসেছেন আর আমি নাজলী সেটা মেনে নিয়েছি। আপনাকে কাছে আসতে দিয়েছি।
নাজলীর কথা শুনে আরিশ শান্তির নিশ্বাস ছাড়ে। বিরক্তি নিয়ে সামনে হাটতে থাকে। নাজলী কপাল কুচকে তাচ্ছিল্য সুরে বলে,
” এই পর্যন্ত ঠিক কয়টা মেয়েকে বেডে নিয়ে গিয়েছেন ক্রিমিনাল লিডার আরিশ।
আরিশের পা থেমে যায়। মাথা ব্যাথা করছে এখন পর্যন্ত। তাই এতক্ষন তেমন রিয়্যাক্ট করে নি। কিন্ত এই মেয়ে তো লিমিট ক্রশ করে ফেলছে। আরিশ ঘাড় ঘুরিয়ে রক্তচক্ষু ন্যায় তাকায়। আরিশের চোখ দেখেও নাজলীর ডোন্ট কেয়ার ভাব। আরিশ রাগটা নিয়ন্ত্রন আনতে ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” বেডে যাওয়ার ইচ্ছে জেগেছে নাকি?
” রুচির দুর্ভিক্ষ নামে নি আমার। তবে আপনাকে নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। শুনেছি কোনোদিন মেয়েদের সান্নিধ্যে যান নি। অথচ আজ নিজে ভার্জিন কি-না সেটাও বুঝতে পারলেন না? আমার কথা না হয় আপনি বুঝেন নি। কিন্ত আপনার তো নিজেকে নিজে অনুভব করে বুঝে নেওয়া উচিত ছিলো। আদ’ও শারিরীক কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না । যদি কিছু একটা সত্যি’ই হয়ে যেত তাহলে তো অনেক পরিবর্তন আসত। যেহেতু কিছু পরিবর্তন আসে নি তার মানে আপনার কাছে এইসব নরমাল।
নাজলীর কথা পুরোটা শেষ না হতেই আরিশের আত্না কাঁপানো ধমকের সম্মুখীন হয়,
” ফা**ক অফ ইডিয়েট। কিছু হয় নি তখন পরিবর্তন আসবে কোথা থেকে।
নাজলী ঠোঁটে বক্র হাসি ফুটিয়ে বলে,
” কিন্তু আপনি তো ভেবে নিয়েছেন।
আরিশ নিশ্চুপ হয়ে তাকায় নাজলীর দিকে। নাজলীর চোখে -মুখে জিতে যাওয়ার আনন্দ। আরিশ সেদিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো। গম্ভীর হয়ে এক -পা – দুই – পা করে এগিয়ে আসতে থাকে। আরিশকে আসতে দেখে নাজলীর হাসি থেমে যায়। মুখে ভয় পাখিরা এসে হামলে পড়ে। আরিশ আর নাজলীর দুরত্ব বেশি নয়। আরিশ মাত্র তিন কদম ফেলতেই নাজলীর কাছে চলে আসে। নাজলী দুই পা পিছিয়ে যায়। শুকনো ঢোক গিলে পুনরায় তেজ দেখিয়ে বলে,
” সারারাত সেবা না করে গলা চেপে মেরে ফেলা উচিত ছিলো আপনাকে।
আরিশ ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” সেবা করেছো?
” হ্যা বাবা। আমি তোমার সেবা করছিলাম। জ্বরের কারনে অর্ধেক জ্ঞান হারা হয়ে ছিলে। আর আমি তোমার শিউরে বসে জলপট্টি দিয়ে দিয়েছি । কিন্তু দেখো দুধ -কলা দিয়ে সারারাত কাল সাপ পুষেছি। সকালে উঠেই নিজের আসল রুপে ফিরে ছোবল দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছে।
নাজলীর প্রতিটা কথা শুনেও আরিশ ধমকে উঠে,
“হুয়াট দ্যা… স্টুপিড। বাবা কে তোমার?
নাজলী ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রেখে বলে,
‘ আপনি আমাকে আম্মু.. আম্মু বলে সারারাত জড়িয়ে ধরেছিলেন। আপনি নিজে আম্মু ডেকেছেন আর আমি বাবা বললেই দোষ।
আরিশের কেনো জানি কথাটা পছন্দ হলো না। রাগে পুরো শরীর কেঁপে উঠে। এক ঝটকায় নাজলীর বাহু ধরে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। আচমকা এমন হওয়াতে নাজলী হতভম্ভ হয়ে যায়। আরিশ নাজলীর ঠোঁটে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে শক্তভাবে স্লাইড করে। নাজলী ব্যাথা পেয়ে মুখটাকে বিকৃত করে ফেলে। আরিশ আচমকা নাজলীর গাল চেপে ধরে চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” মানি অথবা না মানি, মানো অথবা না মানো। কাগজে সাইন করে হালাল আছো বর্তমানে। আল্লাহর কালাম পাঠ করে হয়ত হালাল হও নি। কিন্ত আইনিভাবে হালাল হয়ে গিয়েছো। স্বীকার না করলেও স্ত্রী হও তুমি আমার। যেটা আমি অস্বীকার করি। কিন্তু… অস্বীকার করলেও এইটাই সব থেকে বড় সত্য। তুমি ক্রিমিনাল লিডারের কয়েকদিনের স্ত্রী। সময় ফুরালে যাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্ত বাস্তবতা অস্বীকার করে মায়ের সাথে তুলনা করলে জবান বন্ধ করে দিব। মা – ছেলের সম্পর্ককে অপবিত্র করবে না। জ্বরের ঘরে অচেতন অবস্থায় বলেছি আমি।
আরিশের প্রতিটা কথা ধমকে বললে নাজলীর চোখে অপরাধ বোধ জেগে উঠে। সত্যি, মায়ের মর্যাদা সব থেকে উপরে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সে এই লোকটার স্ত্রী। কথাটা নিয়ে মজা করা একদম উচিত হয় নি। নাজলী শান্ত কন্ঠে বলে,
” সরি। খেয়াল ছিলো না এইসব।
আরিশ এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে বলে,
” মনে থাকবে কিভাবে? মন তো পড়ে থাকে আমার সাথে ঝগড়া করবে কখন।
নাজলী চোখ পাকিয়ে বলে,
” আপনি কি আমাকে ইন্ডিরেক্টলি ঝগড়ুটে বললেন?
” প্রশ্ন করছো কেনো আবার। আমি ইন্ডিরেক্টলি বলব কেনো? ডাইরেক্ট বলেছি। তবে বুঝার সুবিধার্থে স্বামী-স্ত্রী শব্দটা এনেছি। আমাকে আবার সত্যি নিজের স্বামী মনে করো না।
নাজকী নাক ছিটকে সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বলে,
” হাতির মত শরীর। ত্রিশ বছিরের বুড়োকে নিজের স্বামী হিসেবে গ্রহন করার জন্য বসে নেই আমি।
আরিশ কপালে ভাঁজ ফেলে চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট রাবিশ। বুড়ো কাকে বলো বার বার?
নাজলী শেষ সিঁড়ির এখানে চলে যায়। সামান্য দাঁড়িয়ে আরিশের দিকে তাকিয়ে বলে,
” কোনোদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেন না? ঠিক সময়ে বিয়ে করলে আমার সমান মেয়ে থাকত আপনার।
আরিশ শান্ত চোখে তাকায় নাজলীর দিকে। ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে,,
” বয়সের ব্যবধান হয়ত তোমার থেকে সাত -আট বছরের বড় হব। সো হোয়াট! শক্তি তোমার থেকে হাজার গুণ বেশি আছে। চাইলে টেস্ট করতে পারো। বেড রুম অথবা লিভিং রুম।
আরিশের নির্লজ্জ কথায় নাজলী নাক -মুখ কুচকে বলে,
” ঠাডা পড়ুক আপনার ভবিষ্যতের উপর। নির্লজ্জ পুরুষ।
আরিশ বাঁকা হেসে বলে,
” শুকরের দোয়ায় আমি আরিশ মরি না।
নাজলী রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করে বলে,
” শুকর আমি নয় আপনি। তবে একটা কথা সত্যি বলেছেন। খারাপ লোকেরা এত দ্রুত মরে না। ফেরাউনের হায়াৎ ও দীর্ঘ ছিলো। আবু জাহেল, নমরুদকে আল্লাহ দুনিয়ার বাদশাহ করেছে সর্বোচ্চ ক্ষমতা আর হায়াৎ দিয়ে। ঠিক এইভাবেই ভোগ -বিলাশ করেছে। মেয়েদেরকে পণ্য বানিয়েছে। বন্ধী করেছে হাজার ও জনকে। যেমনটা আপনারা করেন। তবে আপনদের ও ধ্বংস হবে যেমনটা ওদের হয়েছিলো।
নাজলী কয়েক নিশ্বাসে কথাগুলো শেষ করে। ঠোঁট ভিজিয়ে আরিশের দিকে তাকাতেই ভয়ে চুপসে যায়। লোকটা কেমন ভয়ানকভাবে তাকিয়ে আছে। পাগল যে রেগে গিয়েছে সেটা বুঝতে সময় নিলো না নাজলী। কোনো দিকে না তাকিয়ে ভোঁ দৌঁড়। আশে -পাশে আর তাকায় নি। এক দৌঁড়ে রুমে গিয়ে নিজের দরজা বন্ধ করে ফেলে।
আরিশ ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে বলে,
” রাবিশ। আমার বাড়িতে এসে আমার থেকে বাঁচতে দরজা লাগিয়ে ফেলে বারংবার। বোকা মেয়ে, এইটুকু বুঝার ক্ষমতা নেই যে আঘাত আর রাগ প্রয়োগ করার ইচ্ছে থাকলে দরজা ভেঙ্গেও করতে পারি। জানি না আর কয়দিন সহ্য করতে হবে এই আপদকে।
আরিশ বিরবির করে ডিভানে গিয়ে বসে। আচমকা ফোনের শব্দে কপাল কুচকে ফেলে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে রিসিভ করে হ্যালো বলতেই চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
” লোকটাকে নিয়ে মিনারে যা। আমি সেখানে পৌঁছে নিককে কল করছি। এখন ফোন করে ডিস্ট্রাব করিস না।
আরিশ কল কেটে দেয়। চোখ যায় পানি ভর্তি ছোট একটা পাত্রে। পাশেই লেবু কেটে রাখা হয়েছে। আরিশ সেগুলোর দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টানে। বিরবির করে বলে,
” উঠেই ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে। সারারাত সেবা করেছে বুঝব কিভাবে। একবার জিজ্ঞাসাও করলো না এখন জ্বর কেমন আছে।
নিজের ভাবনায় নিজেই হতভম্ভ হয়ে যায়। কিসব অনৈতিক জিনিস ভাবছে সে। আরিশ নিজেকে নিজে ধিক্কার জানিয়ে উপরে চলে যায়। নিজের রুমে গিয়ে ওয়াশরুমে ডুকে পড়ে ফ্রেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে।
প্রভাতের আকাশ যেন মায়াময় আলোকবিন্দুতে ভিজে ওঠে। পূর্বদিগন্তে সূর্যোদয়ের রক্তিম আভা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে নিদ্রামগ্ন প্রকৃতির বুকে। শিশিরবিন্দুতে সিক্ত ঘাসের ডগাগুলোতে আলো ঝিকমিক করে উঠেছে। নীরব কবিতার স্তবক গুনগুন করছে প্রকৃতি নিজেই। মৃদুমন্দ বাতাসে দুলছে কচি পাতার পল্লব গুলো। চারপাশে কত সুন্দর মনরোম দৃশ্য দেখা যায়। সাথে মিশে থাকে কোকিলের মধুর কুহু-স্বর যা নিঃশব্দ প্রভাতকে করে তোলে সুরেলা সিম্ফনির মতো সজীব।
দিগন্তে জেগে ওঠা আলো আর ছায়ার মিশ্রণে সৃষ্ট সেই অদ্ভুত রঙের মায়া যেন রূপকথার স্বপ্নময় পরিসর। গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু যখন সূর্যের কিরণে ঝলমলিয়ে ওঠে তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজেই অলঙ্কার পরে সেজেছে নববধূর বেশে।
কিন্তু এইটা গ্লাস মিনার। কালো – লালে আবৃত মিনারটা দেখতে সৌন্দর্যের বাহক হলেও ভিতর থেকে ঠিক ততটাই ভয়ংকর। পৃথিবীর সকল পাপাচার, নারী পাচার, শিশু পাচার, অস্ত্র, হেলফায়ার, রাসায়নিক অস্ত্র, নেশাদ্রব্য, হেরোইন, মারফিন, অপিয়াম, আফিম, কোকেইন, মেথামফেটামিন, এক্সট্যাসি, সব কিছুর জায়গা এই গ্লাস মিনারে। অথচ বাহিরের সৌন্দর্য দেখলে বুঝার উপায় নেই অভ্যন্তুরীন পুরোটাই পাপাচারে লিপ্ত। যেখানে আলোর কোনো স্থান নেই। পুরো মাথা ব্যাথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। অনেক্ষন হয়েছে এনি ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। শারীরিক দুর্বলতা আর অসুস্থতার জন্য শরীরের সব শক্তি যেন নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। উঠে বসার মত ও শক্তি খুঁজে পাচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন পুরোটা শরীর এখন ও মাটি চেপে ধরে রেখেছে। রক্তবিন্দুগুলো আর চলাচল করছে না। সৌন্দর্যের প্রতীক এনির মুখে বিষন্নতা নেমে আছে। চুলগুলো কেমন উশকু খুঁশকু হয়ে আছে। এত অত্যাচার, মানসিক, শারীরিক যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে গিয়ে ও এখন ও নীল চোখের সেই গভীরতা রয়েছে যে গভীরতায় হাজার ও পুরুষ ঘায়েল হতে বাধ্য। সৌন্দর্য সামান্য কমলেও এখনও সেই আগের মত কোমলতা চিক চিক করছে।
এনি কপালে হাত দিয়ে অনেক কষ্টে উঠে বসে। পেটে ক্ষিধে পেয়েছে প্রচন্ড। ক্ষিধের জ্বালায় পেট পর্যন্ত জ্বলছে। কিন্তু ঢোক গিললেই তিঁতা ভাবটা অনুভব হচ্ছে। এনি নাক – মুখ কুচকে ফেলে। আচমকা কারোর ধমকে কেঁপে উঠে। এনি বিছানার চাঁদরখানা খামছে ধরে ধরে। বিছানা থেকেই দুর্বল শরীরটা নিয়ে বেলকনির দিকে উঁকি দেয়। উঁকি দিতেই গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের অস্তিত্ব ভেসে উঠে। রেলিং- চেপে ধরে কারোর সাথে কথা বলছে। এনি চোখ সরিয়ে নিকের হাতের দিকে তাকায়। কিন্তু স্পষ্ট কিছু দেখা যাচ্ছে বা। বিরক্তির ভাব ফুটিয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। বিছানা থেকেই নামতেই পুরোটা শরীর অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠে। পড়ে যেতে নিলে পুনরায় দেয়ালে হাত রেখে শক্তভাবে দাঁড়ায়। মাথাটা চেপে ধরে রাখে কিছুক্ষণ। দুর্বল পা ফেলে শব্দহীনভাবে নিকের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ঠিক সেই সময় কিছু বিশ্রি গালি এসে এনির শ্রবণে ঠেকে। এনি ঘৃণায় সাথে সাথে বাক ছিটকায়। নিকের হাতের দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে ফেলে। লোকটা এমনভাবে রেলিং অংশ চেপে ধরে রেখেছে যেন এখন এই ভেঙ্গে ফেলবে। এনি দরজার কাছা-কাছি এসে দাঁড়ায়। নিকের প্রতিটা কথা ছিলো স্পেনিশ ভাষায়। তবে অধিংকাংশ শব্দ ছিলো ইংরেজী। এনির ইংরেজী বুঝতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এনি দেয়ালের সাথে ঘেষে প্রতিটা কথা শুনছে। লোকটা কেমন হিংস্র হয়ে আছে। এনি স্পেনিশ ভাষা বুঝতে না পেরে বিরক্ত হয়ে পুনরায় রুমের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু আচমকা একটা বাক্যে এনির পা থেমে যায়। পুরো শরীরটা কেমন বরফের মত জমে যায়
” মিসেস চিত্রার লাশের প্রতিটা খন্ড কি শনাক্তকরণ করা শেষ।
যাস্ট এই লাইনটা শুনলো এনি। পরবর্তী বাক্য শুনার মত শক্তি তার ছিলো না। স্তব্দতা থেকে দু পা আচমকা পিছিয়ে যায়। পড়ে যেতে নিলে একটা শক্ত বস্তু চেপে ধরে। চোখ দুইটা পানিতে ঝাপসা হয়ে এসেছে। কাঁদতে পারছে না। কান্না করতে গিয়ে ও ভয়ে মুখ চেপে ধরে। দবদবে ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গিয়েছে। বহু কষ্টে বিছানার এক অংশে গিয়ে বসে। চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস টানছে। অতিরিক্ত উত্তেজনার ফলে শ্বাস নিতে পারছে না। বিছানার চাঁদর খামছে ধরে বিরবির করে উঠে,
” চিত্রা মাসিকেও উনি বাঁচতে দিলেন না। মেরে ফেললো? মায়ের সমান মহিলাকে মারতে পিশাচটার কলিজা কাঁপে নি। আল্লাহ কোন জাতীয় নোংরা পচনশীল মাটি দিয়ে বানিয়েছে এই জানোয়ারকে।
এনির চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। বার বার চিত্রার মুখটা ভেসে আসছে।কতটা ভালোবাসা দিয়েছে তাকে। মায়ের মত আদর -স্নেহ দিয়েছে। আঘাত পেয়ে যখন যন্ত্রনায় কাতরাত তখন চিত্রা নামক মহিলাটা তার শিউরে বসে থাকত। নরপিশাচটা যখন চলে আসত তখন বাধ্য হয়ে চোখে পানি নিয়ে রুম ত্যাগ করত। মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত মেয়েটা একটু মাতৃস্নেহ পেয়েছিলো। জানোয়ারটা সেটা থেকে ও বঞ্চিত করে দিলো। কেনো মেরেছে উনাকে? আমাকে ভালোবেসেছে তাই? নাকি…
এনি থেমে যায়। হুট করে মনে পড়ে প্রতিটা মুহূর্তের কথা। নাভিদ ভাই চিঠি দিলে সেটা চিত্রা মাসি এনে দিয়েছে। আদান – প্রদান করেছে অনেক কথা। তাকে পিল খাওয়ায় সাহায্য করেছে। ভিবিন্ন সংবাদ দিয়ে সাহায্য করেছে। সর্বশেষ তাকিয়ে সকলের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তার মানে কি লোকটা সেটার এই প্রতিশোধ নিয়েছে! সামান্য কারনে মা – সমতুল্য মহিলাকে এইভাবে মেরে ফেলেছে।
ভাবনার মধ্যেই এনি কেঁপে উঠে একটা বিকট শব্দে। নীল চোখের গভীরতায় যেন সমুদ্রের সব পানি এসে জমা হয়েছে। চোখের পানির জন্য সামনে থাকা ব্যক্তিটাকে দেখতেও কষ্ট হচ্ছে। এনি এক হাতে চোখের পানি মুছে তেজী চোখে তাকালো গ্যাংস্টার বসের দিকে। নিক গম্ভীর হয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এনির দিকে। হাতে দিয়ে পুনরায় গ্লাসটাকে টেবিলের উপর শব্দ করে রাখে। এনি চোখ বন্ধ করে আবার ও কেঁপে উঠে। নিক ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে,
” সারা রাত জ্বালিয়ে এখন আবার মরা কান্না জুড়েছো কেনো?.
এনি নিশ্চুপ হয়ে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। নিজেকে ধ্বাতস্ত করে বলে,
” জানোয়ারকে কখনো জ্বালানো যায়? আপনি আঘাত করেছেন, মানসিক, শারিরীক সব দিক দিয়ে টর্চার করেছেন আপনি। মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছেন এক ঘন্টার ও বেশি। আমার শরীরটাকে কি আপনার শরীর মনে হয় না? কি মনে হয়, লোহা দিয়ে তৈরি করেছে আমাকে? এত অত্যাচারের পরও যে বেঁচে আছি সেটাই অনেক। সামান্য তো জ্বর এসেছে। এক রুমে, এক বিছানায় যখন তখন সামান্য জ্বালা তো সহ্য করতেই হবে।
নিক ভ্রুঁ কুঁচকে ফেলে। চোখ -মুখে ক্রোধ ফুটে উঠেছে। সাথে সাথে তর্ক করা তার একদম এই পছন্দ নয়। এই তর্কের কারনে ঠিক কতজন মাফিয়ার গর্দান নিয়েছে তার হিসেবে নেই। নিক রাগটাকে কোনোভাবে সংযত করে ধমকে উঠে,
” মুখে -মুখে তর্ক করবে না, জবান টেনে ছিঁড়ে ফেলব।
এনির চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত। কিন্তু মুখে রাগান্বিত তেজস্বী ভাব। সোনালি চুলগুলো খোলা থাকায় দুই পাশে এসে পড়ে আছে। চুলগুলো অযত্নে -অবহেলায় ও সামান্য সৌন্দর্য কমে নি। তবে সেবার অভাবে অগুছালো হয়ে আছে । এনি চুলগুলো ডান হাতে সরিয়ে বলে,
” চোরের মুখে ধর্মের জ্ঞান।
নিক এনির দিকে ঈগল দৃষ্টির ন্যায় তাকিয়ে বলে
” ত্বক এমন খসখসে হয়ে যাচ্ছে কেনো?
সিরিয়াস মুডে এমন কথায় এনি রাগে চোখ বন্ধ করে ফেলে। চোয়াল শক্ত করে বলে,
” সকাল-বিকেল তিন বেলা জালিমের নির্যাতন শরীরে পড়ে। সৌন্দর্য কি আকাশ থেকে টপকে পড়বে।
নিক বিরক্ত হয়ে বলে,
” দিনে নির্যাতন করি। রাতে তো আদর কোনো দিক দিয়ে কম দেয় না। ত্বকের এই হাল হচ্ছে কেনো?
এনি লজ্জা পেতে গিয়েও পেলো না। বর্তমানে সে সেই পরিস্থিতিতে নেই। যেখানে লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে রাখবে।
এনি শক্ত গলায় বলে,
” আমার কথাটা হয়ত আপনি বুঝতে পারেন না নিক জেভরান। জালিম বলেছি আপনাকে। অশুভ হাত দিয়ে দিনের পর দিন স্পর্শ করে যাচ্ছেন। যে ছোঁয়া আমার জন্য শুভকর নয়, সেটা পাচ্ছি দিনের পর দিন। উপর ওয়ালার রহমত বলতেও একটা জিনিস আছে। আপনার স্পর্শে কোমলতা, রহমতের ছিঁটেফুটাও নেই। সৌন্দর্য বৃদ্ধ পায় সেই স্পর্শে, যে স্পর্শে সম্মান আর ভালোবাসা থাকে। আপনার মত জালিমের স্পর্শে নয়। যে সৌন্দর্যের জন্য আজ আমার এই দশা সেই সৌন্দর্য ঝলসে যাক। বুঝতে পেরেছেন আপনি, পৃথিবীর সব থেকে কুৎসিত নারীটি আমি হতে চাই।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে। কপালে ভাঁজ পড়ে গেছে অনেক গুলো। এতক্ষন রাগের আভা দেখা দিলেও এখন কেমন শান্ত হয়ে গিয়েছে। এত এত কথার মধ্যে গ্যাংস্টার বসের কোনো হেলদুল নেই। সামান্য রাগের চিহ্ন নেই মুখে। কিছুক্ষন গম্ভীর হয়ে কপাল ঘেষে দাঁড়ায়। একদম শান্ত শিথিল কন্ঠে বলে,
” তবুও আমার হাতের বিশ্ব সুন্দরী আয়্যার্ডটা তুমি’ই পাবে। পৃথিবীর সব থেকে কুৎসিত নারী হলেও আমার কাছ বিশ্ব সন্দরী হয়েই থাকবে ইরানের রানী। সমুদ্রের গভীরতার ন্যায় নীল চোখ, ঘন সোনালি লম্বা চুল, দুই গালে টুল এই তিনটা জিনিস পৃথিবীর সমস্ত মেয়েদের থেকে তোমাকে আলাদা করে রাখবে।
এনি অদ্ভুতভাবে তাকালো নিকের দিকে। নিকের ধূসর রাঙ্গা চোখ গুলো খুব শান্ত দেখাচ্ছে। ঠোঁটের পাশে ছোট্ট একটা তিল ভাসমান। লোকটা অদ্ভুত সুন্দর। এনি নিশ্চুপ হয়ে থাকে। কোনো শব্দ করে নি আর। মাথার ভিতরে শুধু চিত্রা মাসির কাহিনী ঘুরপাক খাচ্ছে। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে লোকটা কোনো অংশে কম নয়। তাহলে এতটা ভয়ংকর কুৎসিত কেনো?
মা পেয়েছিলাম আমি। জানোয়ারের বাচ্চা সেটাও কেড়ে নিলো। এনি হাঁপিয়ে উঠছে ভিতর থেকে। শুধু একটা কথা কানে বাজছে
” আমাকে নিজের মা মনে করতে পারেন ম্যাডাম। এখানে কেউ আপনার পাশে না থাকলে ও আমাকে সর্বদা পাবে।
এনিকে কথা বলতে না দেখে নিক সামনে হাটা ধরলো। ঝাঁঝালো কর্কশ আওয়াজে সার্ভেন্টকে আদেশ করে খাবার নিয়ে আসার জন্য। নিকের আদেশের পর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে খাবার দিয়ে যায়। নিক দরজা লাগিয়ে এনির সম্মুখে বসে। এনি পা ঝুলিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে। নিক সামান্য রাগ দেখিয়ে বলে,
” খাবারটা খেয়ে নাও।
এনি সামান্য ও নড়ে নি। একই ভঙ্গিতে বসে আছে। এনির মৌনতায় গ্যাংস্টার বসের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে। প্রগাঢ় ক্ষুব্দতায় এনির হাতে ধরে হেচকা টান দিতেই নিকের গালে থাপ্পর পড়ে। একটা থাপ্পরের শব্দ পুরো রুম জুড়ে যেন আতঙ্কে ঘুমোট হয়ে যায়। থাপ্পরের ব্যাপারটা বুঝতে গ্যাংস্টার বসের কিছুক্ষণ সময় লাগলো। এই নরম হাতের থাপ্পরে সামান্য ব্যথা ও সে পায় নি। কিন্তু নিজের দাম্ভীকতায় প্রচুর আঘাত হানে।
চোয়াল শক্ত করে ফেলে। ড্রাগন ট্যাটু খোদায় করা দুইটা পেশিবহুল হাত ফুলে উঠেছে। ধূসর চোখ দুইটা থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে। কিন্তু একদম শান্ত হয়ে আছে। ঝড় উঠার আগে যেমন সব কিছু শান্ত হয়ে যায়। ঠিক তেমন ভাবে গ্যাংস্টার বস স্তব্দ হয়ে দাড়িয়ে আছে। নিককে থাপ্পর দিতে গিয়ে উল্টে নিজের হাতেই ব্যাথা পেয়েছে। কিন্তু সেদিকে তার হেলদুল নেই। তেজী চোখে সেও দাঁড়িয়ে আছে। তার নীল মণির পাশের সাদা অংশগুলো লাল হয়ে গিয়েছে। থাপ্পর দিয়েও ভয়ের সামান্য লেশ মাত্র নেই। আদ’ও কি এনি ভয় পাচ্ছে না? অবশ্যই ভয় পাচ্ছে। ভিতর থেকে ধুমরে -মুচড়ে যাচ্ছে। কিন্ত বাহ্যিকভাবে সেই ভয়ের ছিটে-ফুঁটেও নেই। এনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। নিক ঘাড় কাৎ করে এতক্ষনে এনির দিকে তাকায়। চোখ দুইটা দেখেই এনির অন্তরাত্না কেঁপে উঠে। কেমন ভয়ানক দৃষ্টি এই লোকের। আচমকা নিক এনির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এনির গলাটা চেপে ধরে দেয়ালের সাথে ধাক্কা লাগায়। নরম শরীরটা ধ্বাক্কা লাগতেই মৃদু শিৎকার বেরিয়ে আসে। যেন সমস্ত হাড্ডি ভেঙ্গে গিয়েছে। নিক রাগে ফুঁশ -ফুঁশ করছে। গলার চাপ আরও শক্ত করে গর্জে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা কার গালে থাপ্পর দিয়েছিস তুই? সাহস কিভাবে হলো গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের গালে থাপ্পর দেওয়ার। সামান্য উঁচু আওয়াজে কথা বলার অপরাধে হাজারও লোকের কন্ঠনালী কেটে নিজের হাত রাঙ্গিয়েছি। তর মত এমন চিনেপুটি থাপ্পর দেওয়ার সাহস দেখালি কিভাবে?
এনি কথা বলতে পারছে না। এই বুঝি শ্বাসটা আটকে আসবে। এনি ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে,
” বিগত চার থেকে পাঁচ মাস তো আমাকে আঘাত করেই আসছেন। সামান্য থাপ্পর দেওয়াতে সহ্য হলো না? আমি কিভাবে সহ্য করি এত বর্বরতা?
নিক দাঁত পিঁষে তীব্র হিংস্রতা নিয়ে বলে,
” তুই আমার। কিন্তু আমি তর নয়।
এনি কথাটার মানে বুঝলো না। কি লাইনটার অর্থ এনির সহজ মস্তিষ্কে ডুকলো না। নিকের হাত গলা থেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
” কেনো মেরেছেন চিত্রা মাসিকে?
নিকের হাত থেমে যায়। চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” মানে? কে মেরেছে মিসেস চিত্রাকে?
নিকের এমন সহজ- নরম কথা এনির সহ্য হলো না। নিকের বুকে ধ্বাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” জানোয়ারের বাচ্চা কেনো মেরেছিস চিত্রা মাসিকে? কেনো আমাকে মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত করলি? এই তর কলিজা একবার ও কাঁপলো না। নিজের মায়ের সমতুল্য মহিলাকে মেরে খন্ড -বিখন্ড করতে। উনি একজন বয়স্ক মানুষ ছিলো। কোন অপরাধে মেরেছিস কুত্তার…….
এনি আর কথাটা শেষ করতে পারে নি।গালে পর পর দুইটা থাপ্পর পড়ে। এক থাপ্পর খেয়ে যে মেয়ে সাপ্তাহিক জ্বরে ভোগে। সে কি শক্ত হাতের দুইটা থাপ্পর আদ’ও সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। এনি ছিটকে পড়ে বিছানার উপর। বিছানায় পড়লেও পাশের শক্ত অংশের সাথে আঘাত পায়। হাত সামান্য ছিঁলে যায়। নিক এনির চুলগুলো পিছন থেকে শক্ত করে চেপে ধরে সাথে সাথে ঠোঁটের সাথে সাথে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। সামান্য বিরতি না নিয়ে নিজের হিংস্রতা, রাগ, ক্ষোভ মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রতিটা চুম্বনে এনির নাজেহাল অবস্থা। এনি ব্যাথায় ছটফট করে উঠে। দুই হাত দিয়ে নিক কে ধ্বাক্কা দিতে থাকে সরানোর জন্য। নিক এক হাতের সাহায্যে এনির দুইটা হাত চেপে ধরে। অন্য হাত চুল ছেড়ে দিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বোতাম খুলতে না পারায় এক টানে ছিঁড়ে ফেলে। এনি ব্যাথায় গোঙ্গিয়ে উঠে। নিক এনির ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে গলায় নেমে আসে। অবাধ্য হাতের শক্ত বিচারন চালাতে থাকে সর্বাঙ্গে। মুখে নোনতা কিছু অনুভব করতেই এনি ডুকরে কেঁদে উঠে। এমন হিংস্রতা সে চায় না। এই স্পর্শ এনি সহ্য করতে পারে না।মনে হয় যেন শ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঘনিষ্ট মুহূর্ত প্রচুর দোয়া করে যেন তার রুহটা বেরিয়ে যায়। কিন্তু এনির শ্বাস বন্ধ হয়ে যেন বন্ধ হয় না। নিক পুনরায় ঠোঁটের কাছে আসতেই উচ্চ আওয়াজে ফোন বেজে উঠে। এনি দুই হাত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে। নিক রক্তচক্ষু ন্যায় এনির দিকে তাকায়। এদিকে একাধারে ফোন বেজে যাচ্ছে গ্যাংস্টার বসের খেয়াল নেই। এনিকে দুই হাত চেপে ধরতে দেখে ধমকে উঠে,
” গালি দেওয়ার শখ মিটাচ্ছি আমি তকে। হাত সরা। হাত সরাও ব্লাড রোজ।
এনি শক্তভাবে আরও চেপে ধরে। নিক এনির হাতটা সরাতে গিয়ে ও বিরক্তিতে কয়েকটা বিশ্রি গালি দেয়। ফোনের শব্দে এনির উপর থেকে উঠে আসে। বাম হাতের সাহায্যে ফোন রিসিভ করে কানে চেপে ধরে। মুহূর্তেই মুখের রং বদল হয়ে যায়। ঠোঁটে বক্র হাসি ফুটিয়ে বলে,
” এখন এই নিচে নামছি। যা করার আমি’ই করব। তরা কিছু করিস না।
নিক ফোনটা রেখে কাবার্ডের কাছে যায়। এনি অনেক আগেই শরীরে চাঁদর জড়িয়ে নিয়েছে। নিক কাবার্ড থেকে একটা টি-শার্ট নেয়। এরপর গায়ে জড়িয়ে নিতে নিতে বলে,
” যেভাবে রেখে যাচ্ছি সেভাবেই থাকবে। বাকিটা পরে এসে সমাপ্ত করব।
এনি ঘৃনায় চোখ সরিয়ে নেয়। এরপর সামান্য জিভ নাড়িয়ে বলে,
” নিজে যখন হাজারটা গালি দেন আমাকে?
নিক কথাটা শুনলো। ঠোঁট চেপে এনির দিকে ঝুঁকে চোয়ালটা চেপে ধরে। এরপর চোখে চোখ রেখে বলে,
” কারন আমি খারাপ। আমি খারাপ তাই আমি গালি দেয়। আমি খারাপ তাই আমি অশালীন কথা বলি। কিন্তু তুমি পবিত্র। এই ঠোঁট দিয়ে কোনো অশালীন বাক্য উচ্চারন করতে পারবে না। এই কন্ঠনালী পবিত্র। এই কন্ঠনালী দিয়ে গালি বের হলে আমি সহ্য করব না।
নিক আর দাড়ালো না। এনিকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে রুমের বাহিরে চলে যায়। এনি শূন্য দৃষ্টিরে তাকিয়ে থাকে দরজার দিকে। ঠোঁট দুইটা নাড়াতে কষ্ট হচ্ছে। কয়েক মিনিটে যেন তার উপর দিয়ে ঘূর্নিঝড় গিয়েছে। সেই ঘূর্নিঝড় এখন শান্ত হয়ে গিয়েছে। এনি বিছানায় আর বসলো না। বিছানা থেকে নেমে মার্বেল মেঝেতে ধপ করে বসে পড়ে। বিছানার চাঁদর খামছে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠে। মনে হচ্ছে কলিজাটা কেটে ফেলছে কেউ। ভিতরে অসহ্য যন্ত্রনায় পুড়ে যাচ্ছে।
নিক সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে থাকে। নিচে দুইজন গার্ড দাঁড়িয়ে আছে কিছু প্রয়োজনী অস্ত্র -সরঞ্জাম নিয়ে। ডিভানে বসে আরিশ সিগারেট খাচ্ছে।মেঝেতে একটা অর্ধ বয়স্ক লোক যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। লোকটার বয়স আনুমানিক ষাট থেকে সত্তর হবে। হ্যাংলা -পাতলা কুচকুচে কালো লোকটা যন্ত্রনায় গোঙ্গাচ্ছে। লোকটার মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শরীর রক্তে মাখা-মাখি হয়ে আছে। অধিরাজ লোকটার বুক বরাবর রিভলভার ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে লোকটার সম্মুখে গিয়ে বসে। বাজ পাখির ন্যায় চোখে তাকায় লোকটার দিকে। আরিশ নিকের দিকে সিগারেট এগিয়ে দেয়। নিক বাম হাতে সিগারেট নিয়ে দুই ঠোঁটের ভাঁজে রেখে বলে,
” কোন গুহায় লুকিয়ে ছিলো?
অধিরাজ দ্রুত স্বরে বলে,
” বস যে জঙ্গলে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই জঙ্গলেই মাটির নিচে গর্ত করে ছিলো। কোনো মাফিয়ার কথায় এমন করেছে। নাহলে এত দ্রুত গর্ত করে আবার লুকায়িত থাকা এর দ্বারা সম্ভব ছিলো না।
নিক গম্ভীর আওয়াজে বলে ,
” কোন মাফিয়ার কথায় এমন করেছে সেটাও খুব শিঘ্রই বের করব।
আরিশ সিগারেটের বাকি অংশটাকে ফেলে দিয়ে বলে,
” প্রথমে ভেবেছিলাম তুই মেরেছিস। কিন্তু পরে যখন শুনেছি, রে**প হয়েছে। তখন দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়।
নিক রেগে তাকায় আরিশের দিকে। আরিশ ঠোঁট উল্টিয়ে বলে,
” দৃষ্টি-ভঙ্গি পাল্টে গিয়েছে ব্রো। মেনে নিয়েছি তুই যে মারিস নি। তুই যদি নিজে খুন করতি তাহলে কি আর দিন – রাত এক করে খুনীকে খুঁজে বের করতি। বিশ্বাস করি আমি তকে।
নিক লুটিয়ে পড়া ব্যক্তিটার ঘাড় শক্তভাবে চেপে ধরে গর্জে উঠে,
” কার কথায় এইসব করেছিস মা***– বাচ্চা। কার সাথে হাত মিলিয়েছিলি।
লোকটার মুখ বাঁধা তাই শুধু উম উম শব্দ করে যাচ্ছে। নিক হিংস্রতা নিয়ে এক ঝটকায় বাঁধন খুলে ফেলে। লোকটা মুক্তি পেয়ে হাঁপাতে থাকে। নিক গলা চেপে ধরে বলে,
” শুয়রের বাচ্চা শ্বাস পড়ে নিস।।আগে বল কার কথায় এমন করেছিস।
লোকটা কান্না করে নিকের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে। চিৎকার দিয়ে কান্না করে বলে উঠে,
” আমি কিছু করি নি স্যার। আমি যাস্ট সঙ্গ দিয়েছিলাম।যা করার সব হুডি পড়া লোকটা করেছে। আমি অন্ধকারে দেখি নি লোকটাকে। আর যখন মহিলাকে রে***প করা হয়েছিলো তখন আমি অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমার কাজ শুধু ছিলো দেহটাকে কেটে টুকরো টুকরো করা।
লোকটা কথা বলা শেষ হতেই ছুঁড়িটা একদম ঘাড়ে বসিয়ে দেয়। সাথে সাথে লোকটা মিনার কাঁপিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে। সে -সময় আরও একটা চিৎকার ভেসে আসে,
” না…. মারবেন না প্লিজ। প্লিজ মারবেন না।
দুইটা কাঁপা কাঁপা কন্ঠের বাক্য পুরো কামড়াকে শান্ত করে তুলে। সবার দৃষ্টি এনির দিকে। এনি ভয়ে মুখে হাত দিয়ে কাঁপছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত। গার্ডরা এক পলক তাকিয়ে পুনরায় তাকানোর সাহস পায় নি। অধিরাজ আর আরিশ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। বিগত চার মাস পর এনির মুখ দেখতে পেয়েছে তারা। সেদিন বিয়ের রাত ছিলো তাদের শেষ দেখা। নিক এমনভাবে বন্ধী রেখেছে যে তারা কোনকদিন অস্তিত্ব ও অনুভব করতে পারে নি। অধিরাজ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। নিকের দিকে তাকিয়ে সামান্য ঢোক গিলে। নিক শক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে এনির দিকে। আরিশ ও নিজের চোখ সরিয়ে ফেলে। এই মেয়ে ধ্বংসাত্বক। জানা নেই এই মেয়ের দিকে তাকানোর অপরাধে আর কয়জনকে মরতে হবে। আরিশ নিশ্বাস ফেলে নিকের দিকে তাকায়। এনি এক পা এক পা করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে। নিক কেমন অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে। শরীর কাপছে রাগে। সেটা অনুভব করতে আরিশের সময় লাগলো না। মাটিতে লুটিয়ে পড়া লোকটা কেমন অশালীন ভাবে তাকিয়ে আছে। নিকের ঘন নিশ্বাসের শব্দে আরিশ ঠোঁট ভেজায়। নিক লুটিয়ে পড়া লোকটার দিকে তাকিয়ে হিংস্র হায়েনার মত পা দিয়ে মাথাটা ফ্লোরের সাথে চেপে ধরে। কন্ঠ শক্ত করে বলে,
” দুই মিনিট তাকানোর হিসেব তুই এখন নরক -যন্ত্রনা ভোগ করতে করতে রক্ত দিয়ে দিবি।
লোকটা গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করতে থাকে। এনি সিঁড়ি থেকেই চেঁচিয়ে উঠে,
” রক্ত বের হচ্ছে মুখ দিয়ে। আর মারবেন না।
নিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় এনির দিকে। এনির নজর লোকটার দিকে। লোকটাও অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে। যেন নিজের দৃষ্টি ফেরাতে পারছে না।
নিকের অবস্থা অনুভব করে আরিশ এক পা এগিয়ে এসে নিকের কাছে ঠান্ডা অথচ ভয়াতুর গলায় বলে,
” ভাই ভুল করে এসে পড়েছে। মাফ করে দে। ছোট মানুষ বুঝতে পারে নি। প্লিজ আঘাত করিস না।
নিক আরিশের দিকে ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে এনির দিকে এগিয়ে যায়। আরিশ চেঁচিয়ে উঠে,
” নিক…
নিক এনির হাতটা শক্ত ভাবে চেপে ধরে অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” এই শুয়রের বাচ্চাকে নিজের দৃষ্টি সংযত কর অধিরাজ। আমার ব্যক্তিগত নারীর দিকে অশালীন দৃষ্টিতে তাকানোর ফল ভোগ করবে। টর্চার সেলের সব থেকে বড় রুমটায় নিয়ে যা ওকে। আমি এই মেয়েকে নিয়ে আসছি।
এনি ব্যাথায় ছটফটিয়ে উঠে। নিক এমনভাবে চেপে ধরে আছে যেন মাংস ভেদ করে আঙ্গুল ডুকে যাবে। এনি নিকের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
” বৃদ্ধ লোকটাকে মারছিলেন কেনো?
নিক এনির চোয়ালটা চেপে ধরে বলে,
” বারন করেছিলাম না, আমি ব্যাতীত কোনো পুরুষের সামনে যাতে না যাওয়া হয়। কেনো আসলি এখানে? আমার আদেশ পাওয়া সত্তেও এখানে আসার সাহস দেখালি কিভাবে? পর -পুরুষকে সৌন্দর্য দেখাতে ভালো লাগে? নাকি এই শরীরে কেউ অশালীন দৃষ্টি দিলে সেটা উপভোগ করিস।
এনি ছটফটিয়ে উঠে,
” খবরদার চরিত্র নিয়ে কথা বলবেন না।
নিক পুরোটা রাগ ঢেলে দিয়ে দ্বিগুন হিংস্রতা নিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা তাহলে কেনো আসলি?
নিকের ধমকে সবাই আরও চুপ হয়ে যায়। পুরো জায়গা জুড়ে পিন-পিন নিরবতা এনি ভয়ে নিকের শার্টের এক অংশ খাঁমছে ধরে। আরিশ অবাক হয়ে যায় এনির দিকে তাকিয়ে। যার ভয়ে কাঁপছে তাকেই আকড়ে ধরছে ভয় নিবারনের জন্য। অদ্ভুত। নিক এনির হাত সরিয়ে দিয়ে বলে,
” একদম ধরবে না আমাকে।
এনি নিজেকে গুঁটিয়ে নেয়। অধিরাজকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিক চোয়াল শক্ত করে বলে,
” শুনতে পাস নি কি বলেছি। এই শুয়রের বাচ্চাকে টর্চার সেলের সব থেকে বড় রুমটায় নিয়ে যা।
নিকের পুনরায় ধমকে অধিরাজ নড়ে -চড়ে উঠে। গার্ডের সাহায্যে লোকটাকে টেনে -হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। লোকটা চিৎকার করে নিকের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে।
” প্লিজ স্যার ক্ষমা করে দিন। বাড়িতে বউ -বাচ্চা আছে। মরে গেলে না খেয়ে থাকবে।
বৃদ্ধ লোকটার আরজি যেন এনিকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে তুলছিলো। এনির একটা কথায় মনে হচ্ছে হয়ত সামান্য ভুল করাতে এমন মরন শাস্থি দেওয়া হচ্ছে। এনি নিকের হাত ছাড়িয়ে দ্রুত লোকটার কাছে যায়। অধিরাজের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩০
” এমন কি অন্যায় করেছে উনি? বাবার বয়সী। বার্ধক্যের কারনে নুইয়ে গিয়েছে। এমন বয়স্ক ব্যাক্তিটার সাথে হেচড়া-হেচড়ি করছেন। এতটা নিকৃষ্টি না হলেও তো পারেন।
নিক এখন ও নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। এনি তার হাতটাকে ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে বার বার একই দৃশ্য চোখে ভাসছে। শরীর কাঁপছে ভীষনভাবে। হাতটাকে মুষ্টিবদ্ধ করতে করতে শক্ত কন্ঠে বলে,
” ইউ উইল রিসিভ দ্য পানিশমেন্ট অফ ক্রায়িং ওভার অ্যানাদার ম্যান, বেবিগার্ল। অ্যান্ড ইউ উইল এনজয় দ্যাট পানিশমেন্ট টুডে। ইট ইজ নট ফিজিকাল, অনলি ইমোশনাল হার্ম।
