লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৫ (২)
লিজা মনি
সিড়ির শীতল রেলিং আঁকড়ে ধরে অষ্টাদশী কন্যা দাঁড়িয়ে ছিল।যেন সে রেলিং নয় নিজের ভেঙে পড়া সত্তাকেই শক্ত করে চেপে ধরেছে। দেহজুড়ে অনবরত কাঁপুনি হচ্ছে । যা আর কোনোভাবেই তার নিয়ন্ত্রণে নেই । প্রতিটি পেশি আতঙ্ক আর অসহায়তার চাপে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। বহু আগেই আখিপল্লব ভিজে উঠেছে।চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু এখন আর পড়ার অনুমতি চায় না।নীরবে গড়িয়ে পড়ে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নিচ্ছে।
পুরো ঘরজুড়ে নেমে এসেছে এক পিনপিনে নিরবতা এমন নিরবতা যা শব্দহীন হয়েও ভারী বুকচাপা ও দমবন্ধ করা। সেই নিথর স্তব্ধতার বুক চিরে ভেসে আসছিল কেবল মেহেরের নিশ্বাসের শব্দ, ভাঙা, অস্থির কাঁপা কাঁপা। প্রতিটি শ্বাস যেন তার ভেতরের ভাঙনের হিসাব দিচ্ছিল।
বোনের এই অবস্থা দেখে আরিশ আর স্থির থাকতে পারল না। বুকের ভেতর জমে থাকা উৎকণ্ঠা তাকে বসে থাকার সুযোগ দিল না। দ্রুত পা বাড়িয়ে সে এগিয়ে গেল মেহেরের দিকে। কিন্তু আরিশ কাছে পৌঁছাতেই মেহের সামান্য সরে দাঁড়াল। এই সরে যাওয়া কোনো দূরত্ব রক্ষা নয় বরং নিজের ভেতরে আরও গভীরে ঢুকে পড়ার এক নীরব প্রচেষ্টা। কাঁপতে থাকা হাতে সে থামিয়ে দিল আরিশের অগ্রগতি যেন আর এক পা এগোলেই তার সমস্ত সংযম ভেঙে চূর্ণ হয়ে যাবে।
আরিশ তাকিয়ে রইল বোনের দিকে। মেহের ভেজা চক্ষু তুলে তার দিকে তাকাল।সেই দৃষ্টিতে জমে ছিল অসহায়তা আর একরাশ অব্যক্ত আর্তি। ঠোঁট কাঁপছিল প্রচুর। গলা রুদ্ধ হয়ে আসছিল। তবু কাঁপা কণ্ঠে যে শব্দ সে উচ্চারণ করতে উদ্যত হয়। মেহের ভেজা চক্ষু নিয়ে আরিশের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
‘” ক… কি বললে ভাইয়া? আবার বলো না প্লিজ।
আরিশ হাত বাড়িয়ে বলে,
” মেহের শুন আমার কথা।
মেহেরের দৃষ্টি কঠোর হয়ে উঠে। চিবুক শক্ত করে ফলে নিজের। কিন্তু ভাইয়ের সামনে শক্ত চোখ নিয়ে তাকানোর ক্ষমতা তো মেহেরের নেই। পারবে না সে কোনোদিন রেগে কথা বলতে। মেহের কিছুটা সংযত করে বলে,
” তোমার কথা এইতো শুনতে চাচ্ছি ভাইয়া। বলো, তার আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। কি বলছিলে এইগুলো?
আরিশ কপাল ঘেষে নিজের। এই প্রথম নিজেকে এতটা অসহায় আর দুর্বল মনে হচ্ছে। ক্রিমিনাল লিডার আরিশের কন্ঠ কাঁপছে। বার বার ঠোঁট ভেজাচ্ছে। কোথায় গেলো সব দাম্ভিকতা? একটা প্রশ্নে মৃত ফুলের মত নেতিয়ে পড়েছে। অধিরাজ আর দাদামশাই কিছু বলতে গেলে আরিশ হাত দিয়ে থামিয়ে দেয়। বড় করে নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” রুমে গিয়ে রেস্ট নে। কিছুই শুনিস নি তুই। শুধু শুধু আবছা কথায় মস্তিষ্কে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মেহের ভাঙ্গা গলায় বলে,
” শুনেছি ভাইয়া। সব শুনেছি আমি। প্রায় বিশ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি আমি।।শুনছিলাম তোমাদের মাফিয়া রাজ্যের হৃদয়বিধারক কাহিনী। যেখানে হিংস্রতার সাথে মনুষ্যত্ব ও ত্যাগ করেছে। মানুষের কাচা মাংস দিয়ে টেবিল সাজিয়েছে। রক্ত দিয়ে জুশ আর শিশু বাচ্চার শরীরের নরম মাংস খুলে স্যুপ বানিয়েছে। সব এই শুনেছি আমি। কিন্তু শেষের লাইনগুলোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না ভাইয়া। ন… নিক ভালোবাসে? ওর বিয়ে হয়ে গেছে? বলো ভাইয়া।
চিৎকার দিয়ে উঠে মেহের। পাগলের মত ব্যবহার করতে থাকে। এমনভাবে দুই হাত দিয়ে নিজের চুল টেনে ধরেছে যেন ছিঁড়ে ফেলবে। ছোট থেকে যাকে হৃদয়ে স্থান দিয়ে এসেছে সে অন্য কারোর হয়ে গেছে! যাকে পাওয়ার জন্য প্রতি সেকেন্ড অপেক্ষা করেছে সে কিভাবে অন্যের হতে পারে! প্রথম প্রণয়ের পুরুষটা কিভাবে অন্য নারীর লিখিত দলিল হতে পারে? এই বাস্তবতা মেহের কিভাবে সইবে। ক্ষমতা যে তার নেই। নিক তার শুধু ভালোবাসা নয়। ও সেই পুরুষ যার উপস্থিতি তার ছোট্ট মনকে বার বার নাড়িয়ে তুলেছিলো। নিক তো তাকে ভালোবাসত। আগলে রাখত। তাহলে কিভাবে পারলো তাকে এইভাবে ঠকাতে? তার প্রণয়ের কথা জেনেও কিভাবে পেরেছে এমন নির্মম কাজ করতে। নির্মম কাজ! হ্যা মেহেরের জন্য এইটা সব থেকে নির্মম কাজ। শরীর কাঁপছে রমণীর। চোখ দুইটা থেকে অনবরত পানি পড়তে থাকে। চিৎকার দিয়ে সিঁড়ির মধ্যে বসে যায়। ফর্সা মুখ -মন্ডলটা লালচে বর্ণ ধারন করে আছে। মনে হচ্ছে রক্ত জমে গিয়েছে মুখের মধ্যে। হাঁত কাঁপছে রমণীর। চুল গুলো খামছে ধরে নিজের। ছন্নছাড়া হয়ে বলে,
” বলো ভাইয়া। প্লিজ উত্তর দাও। নিতে পারছি না এই সত্য। কষ্ট হচ্ছে আমার। বিশ্বাস করো কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে। তোমার মেহের শেষ হয়ে যাচ্ছে ভাইয়া। উত্তর দাও।
মেহেরের আর্তনাদ পুরো রুমে ঝংকার করে তুলে। অধিরাজ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেহেরকে সেও খুব ভালোবাসে। তার মনে আলাদা এক স্থান আছে এই মেয়ের জন্য। আরিশ দুই হাত দিয়ে বুকে চেপে ধরে মেহেরের কম্পিত হওয়া ছোট দেহটা। গম্ভীর রাগচটা পুরুষটার শরীরও কাঁপছে। কোনোমতে উচ্চারন করে বলে,
” ভুলে যা নিককে। নিক অন্য কারোর স্বামী। অন্যের অধিকার।
মেহের হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় ক্ষেপে যায়। আরিশের বুক থেকে মাথা তুলে ধ্বাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আরিশকে। অস্থির হয়ে উঠে রমণী। চুল ধরে বড় বড় শ্বাস ফেলছে। পুনরায় নিজের ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে কেঁদে উঠে,
” হেরে গিয়েছি আমি। হেরে গিয়েছে আমার পবিত্র ভালোবাসা। যার মুখ না দেখলে আমার একটা রাত ঘুম হয় না সে পুরুষটা অন্যের কিভাবে হয়ে গেলো? যাকে কল্পনা না করলে আমার মুহূর্ত কাটে না তাকে ভুলার কথা বলছো? আমি তো ওকে ভালোবাসি ভাইয়া। কিভাবে পারলো ও আমাকে রেখে বিয়ে করতে? কিভাবে পারলো মেহেরকে রেখে অন্য নারীকে বুকে স্থান দিতে। ও জানত না মেহের ওর জন্য অপেক্ষা করছে? ও কি জানত না মেহের এই পুরুষটার বুকে মাথা রাখার জন্য ছটফট করছে। কিভাবে পারলো আমার সমস্ত অহংকার এইভাবে ধ্বংস করে দিতে। ওর প্রতি প্রনয় কি একদিনের জন্য ছিলো? ছোট বয়স থেকে পাগলের মত ভালোবেসেছি আমি। আমি মেহের এইভাবে ঠকে যাব কোনোদিন কল্পনাও করি না। এই দুনিয়া এতটা নিষ্ঠুর কেনো? কেনো নিষ্ঠুরতার সাথে এইভাবে পরিচিত হলাম। ও আল্লাহ!
ক্রিমিনাল লিডার আরিশ কাঠের মূর্তির মত স্থির হয়ে দাড়িয়ে আছে। দৃষ্টি তার মেহেরের দিকে। কেমন ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে বোনের দিক। আরিশ চোখের পাপড়ি নাড়ালো। ক্রিমিনাল লিডার আরিশ কি কোনোভাবে কাঁদছে? এতটা শক্ত মনের হৃদয় কিভাবে কেঁদে উঠলো। পাথরের বুকে যখন তীব্র আঘাত লাগে তখন পাথর ও অনেক সময় খন্ডে বিভক্ত হয়। হয়ত সেই আঘাতটাই ক্রিমিনাল লিডারের বুকে লাগছে বার বার। আরিশ ঘন শ্বাস ফেলে বলে,
” শান্ত হ মেহের। তুই এমনিতেই অসুস্থ। অতিরিক্ত কান্না করলে কষ্ট হবে তর।
মেহের তাকায় আরিশের দিকে। কাঁদতে পারছে না সে আর। ডুকরে কেঁদে উঠে রমণী আবার ও,
” তুমি ভাই হয়ে ঠকিয়েছো আমাকে। দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাক তুমি অন্তত আমার হয়ে থাকতে ভাইয়া। পুরো দুনিয়া না জানুক তুমি জানো আমি তোমার বন্ধুকে কতটা ভালোবাসতাম। শহর জানে আমি নিক জেভরানের জন্য ঠিক কতটা উন্মাদ। আরে ভাই ছিলে তুমি, কিভাবে পারলে ঠকাতে? নিক বিবাহিত আর আজ আমাকে বলছো? কেনো গেইম খেললে আমার সাথে তোমরা? সবাই গেইম খেলেছো আমার সাথে। ভেবেছিলে মেহের তো সরল। ও যা করছে সব পাগলামি। যার সাথে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই, যার সাথে কোনো আত্নীয়তার সম্পর্ক নেই তার কথা কেনো ভাববো। মেহের তো তোমাদের নিজের লোক নয়। করুনা হয়েছিলো তাই আশ্রই দিয়েছিলে। করুনা হয়েছিলো বলে ভালোবাসা দিয়েছো। করুনা হয়েছিলো বলে খাইয়েছো-পড়িয়েছো। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলে আমি তোমার রক্তের কেউ না। যদি নিজের বোন হতাম তবে কখনো পারতে না এমনভাবে ঠকাতে। দুনিয়া স্বার্থপর। সবাই স্বার্থপর। নিজের আপন কেউ না থাকলে সবাই আঘাতে রক্তাক্ত করে ফেলে। কি করে হেরে গেলাম ভালোবাসার কাছে।
আরিশ স্তব্দ হয়ে যায়। চোখ দুইটা যেন অনুভুতি হীন হয়ে পড়েছে। মেহেরের প্রতিটা কথা তার হৃদয়টাকে ক্ষত -বিক্ষত করে তুলেছে। মেহের নিজেও জানে না কি বলছে। শুধু পাগলের মত বলেই যাচ্ছে। দাদামশাই সামান্য ধমক দিয়ে বলে,
” মেহের মাথা ঠিক আছে তোমার? তুমি আরিশের ভালোবাসার দিকে আঙ্গুল তুলছো? কষ্ট পেয়েছো বলে সব ভুলে গিয়েছো। তোমার থেকে এইটা আশা করি নি।
মেহের দাদামশাইয়ের দিকে তাকায়। আরিশের এমন ছলছল দৃষ্টি দেখে মেহের আরও কেঁদে উঠে। পিছন দিকে পা পিছাতে পিছাতে বলে,
” তোমার ভালোবাসার দিকে আঙ্গুল তোলার ক্ষমতা আমার নেই ভাইয়া। খুব কষ্ট পেয়েছি ভাই। কখনো ক্ষমা করব না তোমাদের। কোনোদিন কথা বলব না তোমার সাথে। ঠকিয়েছো আমাকে। কোনোদিন কথা বলব না। বলেছিলাম যেদিন মেহের আর নিক আলাদা হবে সেদিন খাটিয়া সাজাতে। কাফনের ব্যবস্থা করতে। সময় হয়ে গিয়েছে ভাইয়া। তৈরো করো তোমার বোনের জন্য খাটিয়া আর সাদা কাপড়। আমি শুধু নিককে এইটুকু জিজ্ঞাসা করব, কেনো আমার সাথে এত বড় গেইম খেললো। সব জানার পরও কেনো আমাকে এইভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলো। এই প্রশ্নগুলো করার জন্য হলেও আমি কিছু সময়ের জন্য বাঁচব। পরে… পরে খাটিয়া হবে তার স্থান।
আরিশের চোখ থেকে যেন রক্ত বের হচ্ছে। ধপ করে বসে পড়ে মেঝেতে।অধিরাজ দ্রুত গিয়ে ধরে আরিশকে। মেহের আর দাড়ালো না। মেহেরকে চলে যেতে এখে আরিশ নিজেও দৌঁড় লাগায়। মেহের দরজার কাছে যাবে তার আগেই আরিশ বোনটাকে বুকে আগলে নেয়। শান্ত গলায় ধমকে উঠে,
” কিভাবে পারলি এই কথাগুলো বলতে? কলিজা কাঁপে নি তর। কিভাবে বলতে পারলি তুই আমার কেউ না। একবার ও ভেবে দেখেছিস তর কিছু হলে আমার কি হবে? আমার যে তুই ছাড়া এই নিঃস্ব পৃথিবীতে কেউ নেই বোন। তর ভাই সম্পূর্ণ একা এই দুনিয়ায়। যে হাত দিয়ে লালন -পালন করে ভালোবেসে বড় করে তুলেছি সেই হাত দিয়ে খাটিয়া সাজানোর কথা বলছিস। প্রয়োজনে নিজের হাত কেটে ফেলব তবুও আরিশ তার বোনের জন্য কোনোদিন খাটিয়া সাজাতে পারবে না। কথা না বললে প্রতি ওয়াক্তে আমি খাবার খেয়েছি কি-না খবর নিবে কে। আমার সাথে যদি আমার বোন কথা না বলে তবে, আরিশ অসুস্থ হলে তার কপালে জল পট্টি দিয়ে দিবে? কে তাকে ড্রেস সিলেক্ট করে দিবে? বল মেহের কে করবে এইসব?
মেহের কিছু বলছে না। আরিশকে জড়িয়ে ধরে শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে হেচকি তুলে বলে,
” আমি পারব না ভাইয়া এই বিরহ নিয়ে নিশ্বাস নিতে। খুব কষ্ট হচ্ছ। কেউ যদি পুরো শরীরে বিষাক্ত সূচ গেঁথে দিত এতটা ব্যাথা পেতাম না। এই ব্যাথা যে ধারালো সূচ থেকেও ভয়ানক যন্ত্রনাদায়ক ভাই। তোমার বোন সহ্য করতে পারবে না।
আরিশ বাম হাতে চোখের পানি মুছে। অধিরাজ আর দাদামশাই ভেতরে গেলো না। মেহেরের অবস্থা দেখে সবাই আতঙ্কে আছে। যে কোনো সময় একটা অঘটন ঘটে যাবে।
আরিশ বোনের চোখের পানি মুছে দিয়ে কপালে চুমু খায়। এরপর চুলগুলো ঠিক করে দেয়। মেহের সরে আসে আরিশের কাছ থেকে। আরিশের হাত ধরে নিজের পেইন্টিং রুমে নিয়ে যায়। পুরো দেয়াল পর্দা দিয়ে ঢেকে রখেছে। আরিশ এই প্রথম মেহেরের পেইন্টিং রুমে এসেছে। ওর পেইন্টিং রুমে যাওয়া সবার জন্য নিষিদ্ধ ছিলো। একমাত্র তানভীকে যাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। আরিশের কপাল কুচকে আসে। মেহের এক টানে প্রতিটা পর্দা সরিয়ে দেয়। পর্দা সরিয়ে যতদিকে উন্মুক্ত করছে ততদিকে অবিশ্বাস্য জিনিস বেরিয়ে আসছে। আরিশ কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। দেয়ালে নিকের ছবি দিয়ে সাজিয় রেখেছে। কিছু ছবি মেহের আর নিকের একসাথে। আরিশ আশ্চর্য হয়ে তাকায় মেহেরের দিকে। মেহের তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” কতটা যত্ন করে ভালোবেসেছিলাম তাকে অথচ সে আমার বুকে নির্ধয়ভাবে ছুঁড়ি বসিয়ে পালালো।
প্রতিটা মুহূর্তকে আমি একে রেখেছিলাম স্মতি হিসেবে। কিন্তু আমি কিভাবে জানব স্মৃতিগুলোকে এমনভাবে উত্তাপ ঢেউয়ে ভাসিয়ে দিবে। মেহের কি বোকা। অষ্টাদশী একবারও বুঝে নি এই পুরুষ তার জন্য না। পুরুষটা তো পারত অষ্টাদশীকে আগলে নিতে। সব পাগলামি দেখে অন্ধ সেজে এইভাবে বুকে লাথি মারলো কেনো? সব কিছুর উত্তর আমি চাইব। সব চাইব, আমি সব।
মেহের দুই কদম এগিয়ে যায়। অনেক বড় একট ছবি। সামান্য আর্ট এখনও বাকি। তবুও কতটা আকর্ষণীয় লাগছে। যেন জীবন্ত নিক তাকিয়ে আছে। মেহের নিজের তাল রাখতে পারছে না। ঝাপসা হয়ে আসছে সব কিছু। তবুও দাঁত কিড়মিড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মাথা ব্যাথায় যেন রগ ছিঁড়ে যাচ্ছে। যন্ত্রনায় কলিজাটা যেন বের হয়ে আসবে। ছবিটায় হাত দিয়ে স্পর্শ করে আবারও কেঁদে উঠে,
” কতটা আগলে রেখেছি একে, সে কিভাবে অন্য নারীর হতে পারে? এই ছবিটা কবে দিব ভেবেছিলাম জানো?
আরিশ অস্ফুর্ত গলায় বলে,
” ক..কবে?
মেহের সামান্য হেসে বলে,
” একট গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমি এই রুমটা তাকে উপহার দিতাম। আমার ভালোবাসা দিয়ে তিল তিল করে তৈরি করা রুমটা দিয়ে এই পুরুষটাকে সারপ্রাইজ করতে চেয়েছিলাম। ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহান মমতাজের জন্য তাজমহল বানিয়েছিলো। আমি বানিয়েছিলাম ভালোবাসার নীর।এই ছবিটা অনেক যত্ন করে বানিয়েছিলাম। আমি……
মেহের আর কিছু বলতে পারছে না। মাথার যন্ত্রনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সহ্য করার ক্ষমতা পার হয়ে গিয়েছে। মাথায় চেপে ধরে চিৎকার করে উঠে। আরিশের যেন আত্না বের হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত গিয়ে মেহেরের শরীর দুই হাতে আগলে নেয়। মেহের হাঁপাচ্ছে পাগলের মত। ঘন ঘন শ্বাস টানছে। আরিশ মেহেরের দুই গালে ধরে চেঁচিয়ে উঠে,
” মেহের, কি হয়েছে তর? কোথায় কষ্ট হচ্ছে?
মেহের হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
” খুব কষ্ট হচ্ছে। মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে ব্যাথায়। আমার যদি কিছু হয়ে যায় একদম কাঁদবে না। তোমার কান্না আমি সইতে পারব না। আর ওকে বলে দিও একজন অবুঝ রমণী তাকে উন্মাদের মত ভালোবাসত।
আরিশ আর সহ্য করতে পারলো না। প্রতিদিন খুন করা যার নিত্য দিনের পেশা সে নিজের গন্তব্য হারিয়ে ফেলেছে। উন্মাদের মত মেহেরের নিস্তেজ শরীরটা বুকের সাথে ধরে কান্না করে উঠে,
” কিছু হবে না তর। আমি হতে দিব না কিছু। তর কিছু হলে আমি কিভাবে বাঁচব? কেউ নেই আমার।
মেহেরের পুরো শরীর নেতিয়ে পড়ে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে রমণীর। মাথার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। আরিশ কোলে তোলে নেয়। দৌঁড়ে বের হয়ে যায় রুম থেকে। আরিশকে বেপোরোয়া দেখে অধিরাজ আর দাদামশাই এগিয়ে যায়। আরিশ গাড়িতে বসে অধিরাজকে বলে,
” দ্রুত হসপিটালে চল।
অধিরাজ আর প্রশ্ন করার সাহস পেলো না। আরিশ এখন নিজের মধ্যেই নেই। মেহের ছটফট করতে করতে আওয়াজ করে,
” ওকে খুব ভালোবাসতাম। মাথায় যন্ত্রনা হচ্ছে। বুকে যন্ত্রনা হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে খুব।
মেহের চোখ বন্ধ করে ফেলে। আরিশ এখনও তাকায় নি মেহেরের দিকে। শুধু চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস নিয়ে বলে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪৫
” এই মাথার যন্ত্রনা তীব্র হলে কিভাবে সব ঠিক করব? তুই চাইলে পারতি নিক ভালোবেসে আগলে নিতে। তুই এনির প্রেমে পড়ার আগে থেকে মেহের তর জন্য উন্মাদ। এক নারীর হৃদয়ে আগুন ধরিয়ে অন্য নারীর হাত ধরলি। যার বুকে আগুন ধরিয়েছিস সে আমার বোন। আমি কিভাবে সহ্য করব?

amar keno jani nazli aris er ta onek intresting lage but apni sodo tader 1 ta ki 2 ta scene den