লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৬৬
লিজা মনি
এনির চোখের কোণে লোনা জল চিকচিক করছে। অভিমানে কিংবা ব্যথায় ফুলে ওঠা ঠোঁটজোড়া এখনও স্বাভাবিক হয়নি। মেয়েটার এই আকস্মিক কান্নার কারণ নিকের ঠিক বোধগম্য হলো না। আন্ডারওয়ার্ল্ডের দাপুটে গ্যাংস্টার বস ধীর পায়ে দুই কদম এগিয়ে এলেন। এনির থরথর করে কাঁপতে থাকা শরীরের দিকে খানিকটা ঝুঁকে ওর গ্রীবাদেশ শক্ত হাতে চেপে ধরলেন তিনি। তারপর কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে অত্যন্ত নিচু কিন্তু গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন,
” কাঁদছো কেনো? তোমার জন্য কাঁদা বারন তুমি জানো না।
এনি কোনো উত্তর প্রদান করে না। তার পলকহীন দৃষ্টিতে এক বিচিত্র স্তব্ধতা যা নিকের দিকে স্থির হয়ে আছে। নিকের মনে হলো এই বিষণ্ণ দৃষ্টির গহীনে সুপ্ত হয়ে আছে এক বিন্দু তীব্র ঘৃণা। ঠিক সেই ঘূণা—যা এই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী গ্যাংস্টার বসের অন্তরাত্মাকে ক্ষত-বিক্ষত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। নিক ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ক্রোধের অগ্নিশিখা যেন তার অক্ষিগোলককে সংকুচিত করে ফেলে তাকে। এনির প্রগাঢ় নীরবতা আর এই অদ্ভুত আচরণের মুখে সে নিজের উন্মত্ত রাগটাকে আর সংযত করতে পারলো না।
পার্শ্ববর্তী টেবিলে রাখা কাঁচের জগটা বাম হাতের প্রবল ঝটকায় চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলে দেয় সে। সাথে সাথে এক বিকট শব্দে কক্ষের নিস্তব্ধতা খানখান হয়ে যায়। পুরো কক্ষটিই সেই শব্দে কম্পমান হয়ে উঠলো। নিক একইভাবে এনির গ্রীবাদেশ কঠিন আলিঙ্গনে চেপে ধরে ঘন ঘন তপ্ত শ্বাস নিতে নিতে গগনবিদারী স্বরে গর্জে ওঠে,
” বান্দির বাচ্চা এইভাবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছিস কেনো আমাকে ? কষ্ট হচ্ছে, খারাপ লাগছে, অসুস্থ লাগছে? বলছিস না কেনো? জানিস না এই চোখের পানি নিক জেভরানের সহ্য হয় না। নিজের প্রতি আসক্ত করে অর্ধেক ধ্বংস তো করে রেখেছিস। এখন এইভাবে ঘৃনা দিয়ে বাকিটুকুও করে ফেল। ধান্দাবাজ!
নিক ক্ষণকাল থেমে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে। তার উন্মত্ততার বিপরীতে এনি তখনও এক অবাধ্য শিকারির মতো ক্ষ্যাপাটে চোখে তাকিয়ে আছে। সেই দৃষ্টিতে যেমন তেজ আছে, তেমনি আছে এক বুক অভিমান। এনির সেই অনমনীয় চাউনি দেখে নিকের ভেতরের পাথরপ্রতিম কঠোরতা যেন মুহূর্তেই বালির বাঁধের মতো ধসে পড়ে। নিকের ভেতরে এক অদ্ভুত শিথিলতা নেমে আসে। নিক কিছুটা নুয়ে এসে অত্যন্ত কোমলতায় এনির লোহিত গাল স্পর্শ করে। তার কর্কশ হাতের আঙুলগুলো এনির মসৃণ ত্বকে ছুঁইয়ে দিয়ে ধীরস্থির কণ্ঠে বলে,
” কি হয়েছে তর জান? অসুস্থ লাগছে? চলো তবে ডাক্তারের কাছে যায়।
নিকের বাক্যটি হয়তো সমাপ্তিও লাভ করেনি, কিংবা ফুসফুস ভরে একটি দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার অবকাশটুকুও সে পায়নি ঠিক তার আগেই এনি এক পঞ্জীভূত ক্ষোভ আর অভিমানে নিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিকের প্রশস্ত বক্ষস্থলে এনির ক্ষুদ্র হাতগুলো অজস্র প্রহারে ভেঙে পড়তে থাকে। সেই কিল-ঘুষির আঘাতে যতটা না শক্তি ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল এক যন্ত্রণাকাতর হৃদয়ের হাহাকার। এনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে ভাঙা গলায় বলতে লাগল,
” জানোয়ার, নরপশু, সাইকো, নির্লজ্জ, অসভ্য, হৃদয়হীন, পাষাণ, বেশরম পুরুষ লজ্জা করলো না সবার সামনে এমন নির্লজ্জের মত চুমু খেতে। আমাকে কি মনে করেন আপনি? পশ্চিমা কালচারে বড় হওয়া নষ্টা মেয়ে। আমি আপনার সমস্ত পাপ, পেশা, জেদ, রাগ, উন্মাদনা, সব মেনে গ্রহন করেছি। তাই বলে বাহিরে সবার সামনে হাসির পাত্র কেনো করলেন? রুমে যত উন্মাদনা দেখান অভিযোগ করেছি কোনোদিন। আপনার হিংস্র স্পর্শ নিতে পারি না , কষ্ট হয় অনেক। ক্ষত হয়ে যায়, দম বন্ধ হয়ে আসে আমার। কোনোদিন একবারের জন্য অভিযোগ করেছি? তবে বাহিরে সবার সামনে এমন নির্লজ্জ কাজ কিভাবে করলেন? গুরুজনদের কথা না হয় বাদ দিলাম, কারন তারা আপনার লোক। পশ্চিমা কালচারের বেহায়া জাতি। কিন্ত আমার আপা? আমার আপার সামনে কিভাবে করলেন এমন কাজ করত? কিভাবে যাব এখন ওর সামনে।
এনি এক অনিয়ন্ত্রিত আক্রোশ আর আর্তনাদে অবিরত কত কী বলে চলেছে হয়তো সেই প্রলাপের অর্থ তার নিজের কাছেও অস্পষ্ট। নিক নির্বাক হয়ে কিছুক্ষণ এনির সেই অশ্রুসিক্ত ও কম্পমান মুখমণ্ডলের পানে চেয়ে থাকে। অতঃপর অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, এক দুর্ভেদ্য শান্তিতে নিক এনির কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে নিজের ঊরুর ওপর বসিয়ে নেয়।
নিকের শক্ত হাতের আঙুলগুলো এনির চিবুক ও মুখগহ্বর আগলে ধরে। মুহূর্তেই সময়ের গতি রুদ্ধ হয়ে যায়। এনির সেই মায়াবী নীলাভ নেত্রপল্লবের অতল গহীনে নিকের ধূসর আঁখিযুগল স্থির হলো। দুই ভিন্ন জগতের যেন এক নীরব মিলন ঘটে।এনি হঠাতই সম্বিত ফিরে পায়। এতক্ষণ সে এই ভয়ংকর মানুষটির সামনে এভাবে চিৎকার করেছে ভেবেই তার কণ্ঠনালী শুকিয়ে আসে।ভয়ার্ত হৃদয়ে সে একবার কোনোমতে শুকনো ঢোক গিলল। মনে মনে পরম করুণাময়কে স্মরণ করে ভাবল—’হায় খোদা, এই কাজের কারণে উনি যদি রেগে যান?
কিন্তু নিকের মাঝে ক্রোধের কোনো লেশমাত্র দেখা দিল না। তার সেই পাথুরে গম্ভীর মুখে ধমকে উঠে,
” এইভাবে উত্তেজিত হচ্ছো কেনো ইডিয়েট। তুমি যে সিক ভুলে যাও কি করে? এত গালি কিভাবে আসে মুখ দিয়ে? আমি গালি শুরু করলে নাউযুবিল্লাহ বলেও কুল পাবে না। তাই লাস্ট বার বলছি গালি -গালাজ কম করবে।
কিছুক্ষণের জন্য থামে গ্যাংসটার বস। পর পর চোখ তুলে তাকায়,
” তোমার ব্যবহারে আমি আশ্চর্য বেবিগার্ল। আগের নিক জেভরানকে কি ভুলে গিয়েছো? আমি সবার সামনে চুমু খেয়েছি বলে কেঁদেছো? হাউ ডিয়ার ইউ ফা*কিং গার্ল! সাহস কিভাবে করলে এমন কাজ করতে? দুনিয়া জাহান্নামে যাক বউ পাশে থাকলে কোনো দিকে তাকায় না। তুমি কেনো তাকালে? তুমি কেনো আমার থেকে বেশি এদেরকে গুরুত্ব দিলে? আন্সার মি!
নিকের শান্ত রুপ থেকে এমন অশান্ত রুপে এনি ভয়ে কুঁকড়ে যায়। এই ভয়ানক ব্যক্তিটাকে এনি চায় না।
এই রুপটা তার খুব ভয়ের। সে নিম্ন সুরে বলে,
” আপনার থেকে বেশি কাউকে গুরুত্ব দেয় নি। সবার আগে আপনি ছিলেন। চক্ষু লজ্জা লাগছে আমার। তাই কেঁদেছি। অধিকার থেকে আপনার কাছে প্রকাশ করেছি। জানতাম না রেগে যাবেন।
নিক হাসলো সামান্য। এনির গালে হাত রেখে বলে,
” বউ পাশে রেখে আমি অন্যের প্রেম এখব নাকি? আমি যদি চুমু খেয়ে থাকি তাতে কি? তোমার অধিক বুঝদার বোন ছাড়া কেউ দেখে নি। কারন তারা জানে এই মুহূর্তে তাকালে তাদের চোখ থাকবে না। তুমি চাইলে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে পারো। এইটা তোমার দেখা সেই ফুলের উপমার জগৎ নয় যেখানে অন্যের চুমু খাওয়া দৃশ্য দেখে কেউ খুশিতে আত্নহারা হয়ে উঠবে, কেউ ছিহহ -ছিৎকার করবে, কেউ ড্যাব-ড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে। এইটা আমার মাফিয়া সম্রাজ্য। আমার ব্যক্তগত আইল্যান্ড। আমার অনুমতি ছাড়া একটা পা ও চলে না এদের। তোমাকে আলিঙ্গন অরার আগে আমার হাতের ইশারা দেখো নি? সবাই মাথা নিচু করা ছিলো। চাইলে ফুটেজ চেক করো।
এনি ঠোঁট ভেজায়। তবুও জেদী গলায় বলে,
” তবুও অনুমান তো করেছে, তাই না?
নিক বিরক্ত প্রকাশ করে বলে,
” এখন তাদের অনুমান বিবেচনা করে কি বউ ছাড়া থাকব? তুমি যে মা হতে যাচ্ছো এইটা তো আর এমনি এমনি হয়ে যাও নি। আমার অবদান, তাই হয়েছো। সেটা নিয়েও তো তারা অনুমান করতে পারে যে কিছু একটা হয়েছে আমাদের মধ্যে। কিছু একটা হয়েছে বলেই আমার জিনিস তোমার কাছে ট্রান্সফার হয়েছে। অনুমান বিবেচনা করবে কতগুলো?
এনি আহাম্মকের মত তাকায় নিকের দিকে। কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে! কথায় পেরে না উঠে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,
” নামান আমাকে কোল থেকে।
নিক এনির চোখের পানি আঙ্গুল দিয়ে মুছে দিতে দিতে ধমকায়,
” আরেকবার কান্নার শব্দ আসলে লাঠি চালান করব পিঠে।
” তো মি, নিক জেভরান বউ পিটাবেন?
এনি ভ্রুঁ কুচকে জিজ্ঞাসা করো। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” সকাল -বিকেল, রাত-দিন সব সময় তো আদর এই করি। একটু না হয় পিটিয়ে সোজা করলাম।
এনি কটমট চোখে তাকিয়ে নেমে যেতে চায় কোল থেকে। নিক হাত দিয়ে আটকিয়ে প্রশ্ন করে,
” আমার স্পর্শ তোমার কষ্ট হয়?
এনি চোখের পানি মুছতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই নিক ধমকে উঠে,
” আন্সার মি, খারাপ কষ্ট হয়?
এনি চোখের পাতা ঝাপ্টায়। খারাপ লাগে বললে যদি আবার রেগে যায় তখন! জড়তা নিয়ে বলে,
“হয়।
নিক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” তাহলে ঠিকঠাক বউ সামলাতে পারছি। যদি ভেবে থাকো নায়কদের মত এসে করুন সুরে বলব, তোমার তো কষ্ট হয় তবে আজ থেকে আর কোনো স্পর্শ করব না। এমন বলব ভেবে থাকলে তুমি ভুল বেবিগার্ল। যা আমার তা শুধুই আমার। তার থেকে ০.১ % ও ছাড় নেই।
এনির মনে হলো তার ভেতরের তপ্ত রোষ এবার অগ্নুৎপাতের ন্যায় ফেটে পড়বে। সে দাঁতে দাঁত চেপে এক ঝটকায় নিকের কোল থেকে নেমে দাঁড়াল। লোকটা কি প্রচণ্ড ভয়ানক আর ধূর্ত! নিজের কৃতকর্মের জন্য একবারের তরেও অনুশোচনা প্রকাশ করা তো দূরের কথা, উল্টো তথাকথিত যুক্তির মায়াজালে তাকে বিভ্রান্ত করার এক ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
এনিকে এমন গুমট মুখে আড়ষ্ট হয়ে বসে থাকতে দেখে নিকের কপালে বিরক্তির রেখা ফুটে উঠল। সে তর্জনী দিয়ে নিজের ললাট ঘর্ষণ করতে লাগল। প্রচণ্ড ক্রোধের উদ্রেক হওয়া সত্ত্বেও সে নিজেকে সংবরণ করল। এই মুহূর্তে তার মস্তিষ্কে ডাক্তার মোনালিসার সেই সতর্কবাণীগুলো প্রতিধ্বনিত হতে শুরু করেছে।
” এই সময়টা অনেক জটিল আবার আনন্দদায়ক। ম্যাম এর মধ্যে অনেক কিছুর পরিবর্তন আসবে। কখনো বাচ্চাদের মত আবদার করবে আবার কখনো রেগে যাবে অতিরিক্ত। এইটাকে মুড সুইংও বলা যেতে পারে। এইটা একটা স্বাভাবিক লক্ষন।প্রতিটা নারীর ক্ষেত্রে কম-বেশি হয়। আপনাকে সবটা ধৈর্য ধরে সামলাতে হবে।
নিক এক বুক ভারী নিশ্বাস ত্যাগ করে দ্রুতপদে কক্ষ ত্যাগ করল। কক্ষের নিস্তব্ধতায় এনির দু’চোখ বেয়ে লোনা জল আবারও টলমল করে উঠে। এক অব্যক্ত অভিমানে তার বুকটা যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে জমে উঠছে। এনি নিজের এই পরিবর্তিত অনুভূতির আকস্মিকতায় নিজেই আজ বিস্ময়াবিষ্ট। আজকাল সামান্য কারণেই কেন এমন হুটহাট অভিমানে হৃদয় ভারাতুর হয়ে ওঠে? আগে তো কোনো তুচ্ছ বিষয়ে তার মনে এমন আড়ষ্টতা জন্ম নিত না। তবে কি সময়ের স্রোতে তার স্বভাবজাত কাঠিন্য কোথাও হারিয়ে গেল? এখন এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের নিগূঢ় কারণটি ঠিক কী?
মস্তিষ্কের কোনো এক নিভৃত কোণ থেকে একটি অনুচ্চ স্বর ভেসে আসে,
” ভালোবেসে ফেলেছি বলে? কি আশ্চর্য এত ঘৃনা থেকে এমন ধ্বংসাত্নক ভালোবাসার জন্ম কিভাবে হলো, কেনো হলো, কখন হলো?
ড্রয়িং রুমের এই গুমোট আবহাওয়া কোনো এক আসন্ন অশুভ ঝড়ের সংকেত বহন করছে। কক্ষের একপ্রান্তে পাষাণমূর্তির ন্যায় গম্ভীর মুখে উপবিষ্ট আছে অধিরাজ। তার এই সুগভীর নিস্তব্ধতা যেন কক্ষের প্রতিটি অণু-পরমাণুকে এক অসহনীয় ভারে নুইয়ে দিয়েছে। ঠিক তার বিপরীতেই উন্মত্তের ন্যায় চলছে নিকের অঙ্গুলির বিচিত্র কারসাজি। নিকের সম্মুখে সারিবদ্ধভাবে সজ্জিত বিংশতাধিক ল্যাপটপ।যেগুলোর নীলচে আভার প্রতিফলনে তার মুখাবয়ব এক অতিপ্রাকৃত ও ভয়াবহ বিভীষিকার রূপ ধারণ করেছে।
প্রতিটি স্বচ্ছ পর্দায় প্রতিফলিত হচ্ছে জটিল সব সংকেত আর সাঙ্কেতিক নকশা।শত্রুকে সমূলে বিনাশ করার এক সুনিপুণ মায়াজাল। সেই নীলাভ আলোকচ্ছটার নিচে নিকের একাগ্রতা দেখে প্রতীতি হচ্ছে যে সে কেবল যান্ত্রিক সংকেত বা কোডিং করছে। অতি নিভৃতে প্রতিপক্ষের মৃত্যু পরোয়ানা রচনা করছে। কায়াত বর্তমানে সৈন্য বাহিনী নিয়ে নিরাপদে আছে। কায়াতকে সরাসরি আক্রমণ না করে প্রথমে তাকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিক এমনভাবে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করছে যাতে কায়াতের মনে হয় তার বিশ্বস্ত সহযোগীরাই তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। যখন সে ভয়ে অস্থির হয়ে কোনো ‘নিরাপদ আশ্রয়ের’ খোঁজে বেরোবে, ঠিক তখনই সে পা দেবে নিকের বিছানো জালে।নিকের স্ক্রিনগুলোতে কায়াতের যাতায়াতের প্রতিটি রুট ম্যাপ করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত ফোন থেকে শুরু করে গাড়ির জিপিএস সবকিছুই এখন নিকের নিয়ন্ত্রণে। কায়াত যেখানেই যাক না কেন, তার অলক্ষ্যে বিশজন অদৃশ্য প্রহরী তাকে অনুসরণ করছে। কায়াতের সমস্ত বেনামী অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের উৎসগুলো নিক হ্যাক করে ফ্রিজ করে দিচ্ছে। পালানোর জন্য যে অর্থের বা ক্ষমতার প্রয়োজন, তা মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্পদহীন এবং ক্ষমতাহীন কায়াত যখন একদম নিঃস্ব হয়ে পড়বে, তখন তাকে তুলে আনা হবে। তিলে তিলে মরন যন্ত্রনা দিবে। কাজের মধ্যেই হুট করে নিকের চোখ অধিরাজের দিকে তাকায়। অধিরাজকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধমকে উঠে,
” ইডিয়েট, তুই এখানে কি করছিস?
নিকের ধমকে অধিরাজ থতমত খেয়ে উঠে,
” কাজ রেখে কোথায় যাব বস?
নিক চোয়াল শক্ত করে রাগ সংযত করে। কপাল ঘেষে রাগ সংযত করে আরিশের উদ্দেশ্যে বলে,
” এই গর্দভটাকে রুমে যেতে বল আরিশ,নয়ত এই মুহূর্তে ওকে মাটিতে পুতে দিয়ে আসব।।
আরিশ বুঝলো নিকের কথার অর্থ। অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” রুমে যা অধিরাজ। নয়ত তর বাচ্চা- কাচ্চা অভিশাপ দিবে যে আমরা তাদের দুনিয়ায় আসতে দেরী করিয়েছি।
অধিরাজ থ মরে তাকিয়ে থাকে। সাথে খানিকটা লজ্জা পেয়ে ইতস্ততা নিয়ে বলে,
” সমস্যা নেই স্যার। কিন্তু এই মুহূর্তে কায়াতকে ধরা খুব জরুরি।
” বাসর রাতে বাসর করা ও জরুরি। আর কত ভার্জিন থাকবি? লজ্জা করে না এত কাল ধরে যে ভার্জিন আছিস? ছ্যাহহ!
অধিরাজ আড় চোখে তাকিয়ে বলে,
” ছক্কা মনে হয় দুই- একদিনের ভেতরে মেরে দিয়েছেন। তাই এত বড় বড় কথা বলছেন।
আরিশ সামান্য হেসে বলে,
” সে-তো মেরেছি। তুইও রুমে যা।
অধিরাজ নিজেও চাচ্ছিলো রুমে যেতে। কিন্তু এখানে তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে।
” কিন্তু স….
নিকের রক্তলাল চোখের দিকে তাকাতেই অধিরাজ চুপ হয়ে যায়। বাধ্য ছেলের মত বসের আদেশ মোতাবেক বরাদ্দকৃত রুমের দিকে অগ্রসর হয়।
দরজার কাছে এসে হৃদয় থমকে যায় তার। অজানা কারনে বুক ধড়ফড় করছে। দরজা খুলতেই কাচা ফুল এসে আছড়ে পড়ে তার শরীরে। সাথে সাথে দুই কদম পিছিয়ে যায় সে। সামনে এনি দাঁড়িয়ে আছে মুচকি হেসে। নাজলী অধিরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
” পুরুষ মানুষ হয়ে দু’জন নারীকে দেখে ভয় পেয়ে গেলেন? ভেতরের নারীকে সামলাবেন কিভাবে?
অধিরাজ হেসে তাকায় নাজলীর দিক,
” স্যার যেভাবে আপনাকে সামলাচ্ছে ঠিক তেমনভাবে সামলাব। তাদের থেকেই তো সব শিক্ষা পেয়েছি।
এনি তাদের কথায় বিরক্ত হয়ে বলে,
” অধিরাজ ভাইয়া শুনুন, আপনারা ঝগড়া পড়ে করবেন। আগে আমার টাকাটা দিয়ে দিন। আমি চলে যায়।
অধিরাজ অবাক হয়ে বলে,
” কিসের টাকা?
এনি চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” আপনি জানেন না বাসর রাতে বউয়ের কাছে যেতে হলে যে টাকা দিয়ে যেতে হয়? একদম জালিয়াতি না করে টাকা দিন আমাদের।আধ ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কোমর ব্যাথা হয়ে গিয়েছে আমার।
” আপনি টাকার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন ম্যাম?
অধিরাজের মুখে ম্যাম ডাক শুনে এনি বিব্রত অবস্থায় পড়ে যায়। হেসে বলে,
” ম্যাম ডেকে দুরে সরিয়ে দিচ্ছেন? ছোট বোন ভাবতে লজ্জা বোধ কাজ করে বুঝি?
অধিরাজ মিনমিন করে বলে,
” সরি, যায় হোক তুমি টাকা চাচ্ছো?
” হ্যা
অধিরাজ তাজ্জব বনে যায়। এই রমণী জানে তার হাজবেন্ডের কত তাকা!
” তুমি জানো তোমার হাজবেন্ডের কত টাকা?
” তার টাকা দিয়ে কি করব বলুন, আমি তো আপনার থেকে চাই। এই টাকা নেওয়ার স্বাদ বুঝবেন না। দ্রুত টাকাটা বের করে দিন। একদম পঞ্চাশ হাজার দিবেন।
অধিরাজের চোখ মুখে অবাকতা,
” তুমি নিক স্যারকে বললে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বান্ডিল এনে তোমার সামনে ফেলবে। তুমি টাকা চাচ্ছো?
এনি কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,
” ভাইয়া আপনি কিপটামি করছেন?
অধিরাজ এতটা অবাক আর কখনো হয় নি। তবে এইটা বুঝেছে মেয়েটার মনে অহংকার নেই। অধিরাজ পার্স বের করে এনির হাতে দিয়ে বলে,
” যত লাগে নিয়ে নাও।
এনির চোখ রসগোল্লার মত হয়ে যায়। সে চুপি চুপি কিছু নোট বের করে নাজলীর হাতে দিয়ে অধৈর্য হয়ে বলে,
” বাকিটা তুমি রেখে ফিরিয়ে দিও আপা। আমাকে আমার হিটলার বরের আগে রুমে ডুকতে হবে। যদি জানতে পারে বাহিরে বের হয়েছি তবে পা ভেঙ্গে গলায় ঝুঁলিয়ে দিবে।
নাজলী কান্ডে হেসে বলে,
” যা, ধীর সুস্থে যা।
এনি দ্রুত প্রস্থান করে। অধিরাজ দরজা লাগিয়ে এগিয়ে যায় তানভীর দিকে।তানভী দাঁড়িয়ে আছে জানালার পাশে। পড়নে সাদা গাউন যেন আকাশ থেকে নেমে আসা পরী। অধিরাজ আস্তে করে স্ত্রীর পিছনে জড়িয়ে ধরে। ঘারে চিবুক ঠেকিয়ে বলে,
” অপেক্ষা করছিলে?
তানভী ঘুরে অধিরাজের দিকে তাকায়। এরপর আকাশের পানে চেয়ে বলে,
” সে- তো করছিলাম। একটা আবদার রাখবে?
” শুধু আদেশ করে দেখো।
অধিরাজ বাহিরে তাকিয়ে বলে,
” দৈহিক মিলন তো অনেক ঘটবে চলো আজ আত্নিক মিলন ঘটায়।
অধিরাজ আহত গলায় বলে,
” মানে?
তানভী ভোঁতা মুখে বলে,
” কষ্ট পেয়েছো? আমার ইচ্ছে, প্রথম রাতটা তোমার সাথে কাটাব। খোলা আকাশের নিচে বসে সমস্ত কথা উজার করে দিব।
অধিরাজের ভেতরটা কাঁদছে। বাসর করবে বলে আশা নিয়ে এসেছিলো আর বউ বলছে চন্দ্র বিলাস করতে? কিন্তু বউয়ের মন রাখাটাও জরুরি। মুচকি হেসে বলে,
” স্ত্রীর চোখে চোখ রেখে, হাতে হাত রেখে কাটানো মুহূর্ত থেকে বড় মুহূর্ত পৃথিবীতে আর একটাও নেই।
তানভী হেসে অধিরাজের হাত ধরে নিয়ে যায় বারান্দায়। দোলনার মধ্যে বসে অধিরাজের কাঁধে মাথা রাখে। তাঁরা গুলোর দিকে তাকিয়ে বলে,
” তোমাকে অনেক ভালোবাসি রাজ।
অধিরাজ মুচকি হেসে প্রেয়সীর কপালে চুমু খায়,
” নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমাকে।
রিদ্ধিমা বাচ্চাদের সাথে সময় কাটিয়ে এই মাত্র রুমে প্রবেশ করলো। মেয়েটা আগের মত আর হাসে না। আগের সেই চঞ্চল রিদ্ধিমা আর নেই। কেমন যেন একটা হতাশাগ্রস্ত, দুশ্চিন্তায় পড়ে থাকে। কখনো একা একা নীরবে কাঁদে আবার কখনো বিষণ্ণ মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রতিদিন একবার করে রিসোর্টের কাছে যায়। এই বুঝি নাভিদ প্রতিবারের মত সমুদ্রের পাড়ে বসে আছে। কিন্তু হায় আফসোস! বিগত পাঁচ মাস ধরে নাভিদের কোনো রকম খুঁজ নেই। কোথায় আছে, কি অবস্থায় আছে কিছু জানা নেই তার। সেদিন ঝড়ের রাতটা ছিলো তাদের শেষ দেখা। যদি সে ভুলে ও অনুমান করতে পারত সেদিন এই শেষ দেখা হবে তবে রিদ্ধিমা কখনো চলে আসতো না। প্রেমিক পুরুষকে দেখার জন্য রিসোর্টের সামনে এই বসে থাকত। নাভিদের অতীত জেনে রিদ্ধিমা স্তব্দ হয়েছিলো। কিছুক্ষণের জন্য ঘৃনা চলে এসেছিলো কিন্তু পর মুহূর্তে চিন্তাভাবনা বদলেছে। নাভিদ একসময় রে*পিস্ট, নরখাদক, সাইকোপ্যাথ ছিলো। কিন্তু এখন তো সে একদম স্বাভাবিক। সৃষ্টিকর্তার রহমতে সেই পাপাচার আর নষ্ট জীবন থেকে ফিরে এসেছে। যাকে আল্লাহ নিজে হেদায়েত দিয়েছেন তাকে ঘৃনা করার ক্ষমতা রিদ্ধিমার হয় না।
অতীত দিয়ে বিচার করলে আপনি জঘন্য মৃত্যু পাওয়ার যোগ্য নাভিদ। কিন্তু আপনার বর্তমান এতটা সুন্দর যে, সেই সৌন্দর্য আপনাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আপনার অতীত আমাকে এতটা পুড়িয়ে দগ্ধ করে নি যতটা পুড়িয়েছে আপনার মুখে অন্য নারীর নাম শুনে। আপনার মনে অন্য নারীর বসবাস। যার জন্য আপনি পাগলপ্রায় হয়ে আছেন। বিশ্বাস করুন প্রথম প্রেম ছিলেন আপনি আমার। আপনাকে দেখতে না পাওয়ার তৃষ্ণা আমার হৃদয়টাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আপনার সাথে প্রথম সাক্ষাত টাও হলো এক অজানা ঝড়ের রাতে। আর বিচ্ছেদটাও হলো এই ঝড়ের রাতে। কি দুর্ভাগা আমি! প্রেম হওয়ার আগেই ব্যক্তিটাকে হারিয়ে ফেললাম। আমার মনের ডাক শুনতে পাচ্ছেন আপনি? আপনার জন্য অপেক্ষা করব। যদি অপেক্ষা করাটা হয় আপনাকে নিয়ে তবে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত করে যাব। কখনো যদি না ও আসেন তবে আমার নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার আগে একটু দেখা দিয়েন।
হাতের উল্টোপৃষ্টে চোখের পানি মুছে দোলনায় বসতেই বাহির থেকে কারোর শক্ত গলা ভেসে আসে। এইটা মোটেও শক্ত কন্ঠ নয়। একদম শান্ত গলায় হুংকার যাকে বলে সেটা। দরজা ধ্বাক্কানোর শব্দে পুরো বাড়ি ছমছমে হয়ে উঠেছে। রিদ্ধিমা ভয়ে দ্রুত নিজের রুম ত্যাগ করে নিচে নেমে আসে। সিঁড়ির কাছে আসতেই তার পা থমকে যায়।
রুদ্ধশ্বাস নিস্তব্ধতা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে সশব্দে দরজা ভেঙে কক্ষের অভ্যন্তরে পদার্পণ করলেন গ্যাংস্টার বস। দীর্ঘকায় অবয়বটি আবৃত করে রেখেছে হাটু অবধি প্রলম্বিত একটি কৃষ্ণবর্ণের ওভারকোট। মস্তিষ্ক হতে আলগোছে নেমে আসা হুডির অন্তরাল থেকে উন্মোচিত হলো তার তীক্ষ্ণ মুখাবয়ব। সেই তপ্ত ললাটের নিচে ধূসর নেত্রযুগল ক্রোধের বহ্নিশিখায় প্রদীপ্ত।
অধরে এক চিলতে বক্র হাসির রেখা ফুটিয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে। নিকের প্রতিটি পদক্ষেপে মিশে ছিল এক অমোঘ কর্তৃত্ব আর নিকষ আভিজাত্যের সংমিশ্রণ। তার দুই পার্শ্বে ছায়ার মতো দণ্ডায়মান আরিশ এবং অধিরাজ।নিকের এই আকস্মিক ও দাপুটে আবির্ভাব কেবল একটি প্রবেশ নয়। এইটা এক আসন্ন প্রলয়ের পূর্বাভাস।
বৃদ্ধ লোকটা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে। মুখ একদম ফ্যাকাশে হয়ে উঠে। নিকদের উপেক্ষা করে রিদ্ধিমার দিকে তাকায়। একমাত্র আদরের মেয়েকে হারানোর ভয় তাকে ঝেঁকে ধরেছে। জন্ম দিলে এই পিতা হওয়া যায় না। তিনি বড় করেছেন, পালন -পোষন করেছেন, ভালোবাসা- স্নেহ-মমতা দিয়ে এত বছর ধরে আগলে রাখছেন। যাকে ঘিরে পুরো পৃথিবী সাজিয়েছিলেন তাকে এমন অসময়ে হারাতে পারবেন না তিনি। লোকটার চোখ -মুখ অজানা আতঙ্কে ফ্যাকাশে হয়ে আসে। চোখ দিয়ে যে কোনো সময় পানি টুপ করে পড়ে যাবে। ভাবতেই অবাক লাগে একটা সময় উনিও গোয়ান্দা বিভাগের অফিস্যার ছিলেন। কত মাফিয়াদের নাকে-চুবানি দিয়েছে। অথচ আজ বয়সের ভাড়ে নেতিয়ে পড়ার কারনে শক্তি হাতছাড়া। ইচ্ছে করলেও কিছু করতে পারছেন না।
রিদ্ধিমা প্রথমে আতঙ্কে সিটিয়ে গেলেও এক পলক বাবার দিকে তাকায়। কিশোরী শরীরের শান্ত রক্ত টগবগিয়ে উঠে। তার বাবা কেমন ভয়ার্ত কাচুমুচু হয়ে বসে আছে। চোখের মধ্যে নোনাজল টলমল করছে। আর তার সামনেই কালো পোশাকে আবৃত লোকজন ডিভানে গিয়ে বসেছে। লোকটা কেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার বাবার দিকে। তার হঠাৎ মনে পড়লো সেদিনের ব্যাক্তিটার কথা। যেদিন সে নাভিদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলো সেদিন তারা এই ছিলো। কিন্তু তারা এখানে কি করছে? কার জন্য এসেছে? কিসের জন্য? আমার বাবাকে মারতে নাকি ভয় দেখাতে? রিদ্ধিমা এত কিছু নিয়ে ভাবলো না। তার বাবার চোখে পানি যেন তার হৃদয়টাকে ছাড়খাড় করে দিচ্ছে। এই মানুষটা তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। তার চোখের পানি সে দাঁড়িয়ে কিভাবে সহ্য করবে? অসম্ভব!
রিদ্ধিমা সিঁড়ি দিয়ে নেমে তার বাবার পাশে দাঁড়ায়। নিকের শান্ত দৃষ্টি রিদ্ধিমার দিকে যায়। আরিশ আর অধিরাজ ও অবাক হয়ে তাকায়। এই মেয়েটাকে তারা অনেকবার দেখেছে। অথচ এই মেয়েটা যে এমন একটা পুরুষের রক্ত তারা কল্পনাও করে নি। রিদ্ধিমা তেজী গলায় নিকের চোখে চোখ রেখে বলে,
” এই শেষ রাতে ভদ্র বাড়িতে এসে এমন অভদ্রতা করা কোন ধরনের শিক্ষা?গুন্ডা -মাস্তানি অন্য স্থানে গিয়ে করুন। আমার বৃদ্ধ – অসুস্থ বাবার সাথে কিসের শত্রুতা আপনাদের? এমন মাস্তানের মত দরজা ভেঙ্গে ডুকার সাহস করলেন কিভাবে? সোজা বের হয়ে যান বাড়ি থেকে। নাহলে পুলিশ ডেকে এনে হাজত বাস করাব। সারা জীবন ও কেঁদে কুল-কিনারা পাবেন না। লিভ মাই হাউস ইমিডিয়েটলি। আদারওয়াইজ, ইট উইল গেট ভেরি ব্যাড।
রিদ্ধিমা কথাগুলো বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠে। লোকটা মেয়েকে চুপ করতে বলে কিন্তু রিদ্ধিমা মোটেও চুপ থাকার মেয়ে নয়। নিক তাকিয়ে থাকলো রিদ্ধিমার দিকে। রাগ করেছে নাকি অন্য কিছু বুঝার উপাই নেই।
অধিরাজ আরিশের দিকে ফিসফিস করে বলে,
” স্যার
” বল।
” বুঝতে পারছেন গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানকে কেউ হুমকি দিচ্ছে! আর সে এই হুমকি শুনেও কেমন শান্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা এমন তেজী কেনো? সামনে তিন জন পুরুষকে দেখেও জানে ভয় ডুকে নি। ভাগ্যিস বাসর রাত ছেড়ে এসেছিলাম নয়ত এইটা মিস হয়ে যেত।
আরিশ ঠোঁট চেপে হেসে বলে,
” একজন মেয়ে নয় গ্যাংস্টার বসের রক্ত কথা বলছে অধিরাজ। দেখতে হবে তো কার বোন। শিরায় শিরায় যদি রাগ আর জেদ না থাকে তবে কিভাবে হবে বল! রক্ত মিথ্যে হয়ে যাবে যে।
সবাইকে চুপ থাকতে দেখে রিদ্ধিমা হতভম্ভ হয়ে যায়। বিরক্তির নিশ্বাস ছেড়ে লোকের উদ্দেশ্যে বলে,
” বাবা তুমি তো আমার শক্তিশালী হিরো। তবে তিন জনকে দেখে ভয় কেনো পেলে? হাজার যুদ্ধে ও তোমার চোখে ভয় দেখি নি। তবে এখন কিসের ভয়? কার জন্য ভয় পাচ্ছো। আমি বেঁচে থাকতে কেউ কিছু করতে পারবে না তোমাকে। একজন গোয়েন্দা অফিস্যার ভয় পায় না বাবা। তুমিও ভয় পাবে না।
লোকটা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে নিকের দিকে তাকায়। নিক রিদ্ধিমার দিকেই তাকিয়ে আছে। শীতল গলায় বলে,
” অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছো। এতটা কাছে ছিলাম অথচ কখনো অনুভব করি নি নিক জেভরানের ও রক্তের বলতে কেউ আছে। সে এই দুনিয়ায় একা নয়। তার নিজের বলতেও কেউ ছিলো বা এখনও আছে। ইন্টারেস্টিং!
রিদ্ধিমা ভয় আর অবাকে চোখ বড়বড় করে ফেলে। নিকের কোনো কথা এই মাথায় ডুকে নি। শুধু এইটা শুনেছে ” নিক জেভরান ” তার মানে আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান! যার হৃদয়ে মায়া- দয়া বলতে কিছু নয়।সবজির মত মানুষকে কেটে কুচি – কুচি করে। যাকে এক কথায় নরপিশাচ বলে সেই নিক জেভরান! রুদ্ধিমা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বাবাকে। আতঙ্কে পুরো শরীর হীম শীতল হয়ে আসছে। কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করে,
” ক.. কে আপনি? ক.. কোন নিক জেভরান?
নিকের শান্ত বরফ শীতল কন্ঠ,
‘ তোমার ভাই! একমাত্র বড় ভাই!
রিদ্ধিমার চোখের পাতা সোজা হয়ে আসে। অবাকতা কাটিয়ে উঠতে না পেরে চেঁচিয়ে উঠে,
” হুয়াট! সজ্ঞানে কথা বলুন। একজন ক্রিমিনাল কেনো আমার ভাই হবে? আমার কেউ নেই। আমার বাবা আমার পৃথিবী।
নিক বাঁকা হাসলো। সেই হাসি ঠোঁটে এই লেগে থাকে। দুই কদম এগিয়ে এসে রিদ্ধিমার চোখে চোখ রাখে,
” তুমি উনার মেয়ে হওয়ার আগে আমার বোন ছিলে। সেই বোন যাকে নিক জেভরানের হৃদয় বলত সবাই। অবশ্য এখন তার হৃদয়ে শক্ত পাথরের প্রলেপ পড়ে গেছে। তবে ভেবো না বোন ভুলে গিয়েছি। অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছো।
রিদ্ধিমার শরীর কাঁপছে। মাথার প্রতিটা নিউরন যেন টগবগ করছে। রিদ্ধিমা শব্দ করে কেঁদে উঠে,
” মিথ্যে বলছেন, আমি কারোর বোন নয়। ও বাবা তুমি বলো না, তুমি আমার বাবা। তুমি আমার পৃথিবী। তবে উনি কেনো এমন কথা বলছে? তুমি জন্মদাতা না হলেও তুমিই আমার জন্মদাতা।
পর পর নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনি মিথ্যে বলছেন।আমাকে নিয়ে পাচার করবেন। বিক্রি করে দিবেন তাই মিথ্যে গল্প সাজাচ্ছেন? আমি জানি আপনারা কেমন। মেয়েদের ধরে নিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিক্রি করে দেন।
নিক চট করে তাকায়। কোথাও কোনো এক সূক্ষ ব্যাথা অনুভব হয়। এই কথাটা দুই লাইনের হলেও এটা সহ্য করার ক্ষনতা যেন খুব কম জনের থাকে। তার এই বোন তাকে ভয় পাচ্ছে! তাকে বিক্রি করে দিব সেই ভয়! তার পেশা তো অন্ধকার জগত ঠিক আছে। তাই বলে সে এতটাও খারাপ নয়। নিজের বোন – সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মত জানোয়ার নয় সে! তার যদি মেয়ে হয় সেও কি তাকে এমন ভয় পাবে? তার উপস্থিতি দেখলেই কি মুখ লুকিয়ে রাখবে? নাকি তার পেশা- কাজ এর জন্য কোনোদিন সামনেই
আসবে না?
নিক আর ভাবতে পারলো না। কেমন ছন্নছাড়া হয়ে উঠে গ্যাংস্টার বস। শুধু চুল খামছে ধরে বিরবির করে,
” ফা*কিং সেনসেশন!
পর পর রক্ত লাল চোখে তাকায় গ্যাংস্টার বস। রিদ্ধিমার অশ্রু ভেজা ভিয়াতুর চোখে তাকিয়ে বলে,
” আমি খারাপ, নৃশ্বংস, উন্মাদ কিন্ত এতটাও পিশাচ নয় যে নিজের রক্তকে ডাস্টবিনে ফেলে দিব। তবে মনে রেখো তুমি গ্যাংস্টার বস নিক জেভরানের খুব আদরের একজন ছিলে। যাকে হারিয়ে সে এতটা পাগল হয়েছিলো যে নিজের জন্মদাত্রীকেও ছাড় দেয় নি। তুমি আমার রক্ত! আমার ছোট নীরা ! আমি ছাড়া আর কেউ এই নামে ডাকত না তোমাকে।
নিক কথাগুলো বলে হুডি দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। শুধু মাত্র ধূসর চোখ দুইটা ভেসে থাকে গ্যাংস্টার বসের। রিদ্ধিমা কেমন স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিক রিদ্ধিমার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে গম্ভীরতা টেনে বলে,
” সেকেন্ড টাইম কোনো নারী বা কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহিতা করছি। এখানে ডিএনএ রিপোর্ট আছে। যদি বিশ্বাস হয় তবে চলে যেও। মনে রেখো আর কিন্তু আসব না আমি।
নিকের ঠান্ডা হুমকি। নিক লোকটার দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হেসে বের হয়ে যায় বাড়ি থেকে। রিদ্ধিমা কাগজের দিকে তাকিয়ে পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। বাম হাতে চোখের পানি মুছে ছটফট করে কাগজ খুলে। চোখ দুইটা কেমন যেন নিস্তব্দ হয়ে আসে। ঠোঁট ভিজিয়ে লোকটার দিকে তাকায়। কেঁদে উঠে আবার ও মেয়েটা,
” বাবা, উনি যা বলছে সব কি সত্যি? নিক জেভরান আমার ভাই হয়? আমার ভাই! ও বাবা বলো না। সহ্য হচ্ছে না আর এই বাস্তবতা। দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার। ডিএন এ রিপোর্ট এক হলো কিভাবে? ও বাবা, চুপ থেকো না।
লোকটা অসহায় চোখে মেয়ের দিকে তাকায়। মেয়ের হাতে ধরে বলে,
” বাস্তব আর অবাস্তব আমি জানি নারে মা। তকে যখন পেয়েছিলাম খুব ছোট ছিলি তুই। তর পরিচয়, কে তুই, কার মেয়ে, কে তর বাবা, কে তর মা কিছু জানতাম না। তকে উদ্ধার করে দত্তক নেয়। এরপর থেকে নিজের মেয়ের মত বড় করেছি। তর গলায় একটা রকেট ছিলো।যেখানে একপাশে তর বাবা আরেকপাশে তর মায়ের ছবি ছিলো। আমি কখনো দেখায় নি তকে। ভয় হত, যদি বাবা – মায়ের মুখ পরিচিত হয়ে যায় তবে তুই ওদের পেলে আমাকে রেখে চলে যাবি। সেই থেমে যাওয়া মুহূর্তের সূত্রপাত নতুন করে শুরু হলো। সেদিন আমাকে যে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখেছিলি ওইদিন নিক জেভরান এসেছিলো। সেইম রকেট সহ চেইন তার কাছেও ছিলো। কিন্তু তার রকেটে তার মায়ের ছবি লাল কিছু, হয়ত রক্ত দিয়ে ছেপে দিয়েছে। সেদিন আরও অনেক প্রমান এর সূত্রপাত ঘটলো। লুকিয়ে তার পেশিতে আঘাত করলাম।প্রয়োজন ছিলো তার রক্ত। চতুর সে খুব সহজেই বুঝে যায় আমি যে ইচ্ছে করে আঘাত করেছি। উনি আমার দিকে বাঁকা হাসে। আমি সেদিনের পর নিশ্চুপে ল্যাবে যায়। তর রক্ত আর তার রক্ত টেস্ট করায়। জানতে পারি ম্যাচ হয়ে গিয়েছে। ভয়ে তকে বলার সাহস পায় নি। এত বছর আগের সেই ভয় আমাকে আবার ও আকড়ে ধরে। যদি ভাইকে পেয়ে আমাকে ভুলে যাস।
রিদ্ধিমা বাবার প্রতিটা কথায় থমকে যায়। মুখে হাত দিয়ে কেঁদে উঠে। এরপর লোকটার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলে,
” আমার পুরো পরিবার ও যদি আসে তোমার থেকে আমাকে কেউ আলাদা করতে পারবে না বাবা। তুমি আমার সেই বাবা যে আমাকে সন্তান স্নেহ দিয়েছে। ভালোবাসা দিয়েছে। আদর – আহ্লাদ দিয়ে বড় করেছে। সে তোমাকে রেখে কোথাও যাবে না। তোমার রিদ্ধিমা এতটাও স্বার্থপর নয়।
লোকটা রিদ্ধিমাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। রিদ্ধিমা বার বার ফুঁপিয়ে উঠছে। খুশিতে অন্তর আত্না ফেটে যাচ্ছে। তাহলে তার ও রক্তের কেউ আছে? তার ও বড় ভাই আছে?
কার কাছে যাব! কোথায় স্থান হবে আমার। একদিকে ভাই অন্যদিকে বাবা!
রিদ্ধিমা দু-টানার মধ্যে পড়ে চোখের পানি ফেলতে থাকে। আপন জনকে খুঁজে পাওয়ার থেকে বেশি খুশি বোধ হয় আর কিছু হতে পারে না। ভাই তো পেলাম। তবে আমার বাবা কোথায়? মা কোথায়?
খারাপ এনি ঘুমের মধ্যেই হাঁপিয়ে উঠে। হুট করে চোখ মেলে পাশে তাকায়। পাশে নিকের অস্তিত্ব না পেয়ে ভয়ে আত্না শুকিয়ে আসে। কোনোরকম উঠে বসে নিকের নাম ধরে দুই-একটা ডাক দেয়। কিন্তু কোনো সারাশব্দ নেই। চারপাশে তাকাতেই দেখতে পেলো বেলকনির কাউচ খুলা। সেখান থেকে মৃদু আলো রুমের ভেতরে প্রবেশ করছে। এনি দুর্বল শরীরটাকে কোনোরকম টেনে-হিঁচড়ে সেদিকে যায়। অজানা আতঙ্ক বুক ধড়ফড় করছে। দরজার কাছে গিয়ে পা থেমে যায়। বিশাল সাইজের ডিভানের উপরে হাত – পা ছড়িয়ে পড়ে আছে ছন্নছাড়া পুরুষটা। এনি শক্তভাবে চেপে ধরে পর্দাটা। সুস্থ নিককে দেখে শান্তির নিশ্বাস ফেলে।
এতক্ষণ মনে হচ্ছিলো জীবনটা বুঝি বেরিয়ে আসবে। দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। আর কিছুক্ষণ থাকলে হয়ত মরেই যেত। এনি একবার শুকনো ঢোক গিলে। বারান্দা যাওয়াটা ওতো তার জন্য নিষিদ্ধ। মনে পড়ে অনেক মাস আগের সেই নরকীয় ঘটনাগুলো। কিভাবে উপর থেকে শুট করা হয়েছিলো তাদের। এনি উপরের দিকে তাকায় এক পলক। আজ আর আকাশ দেখা যাচ্ছে না। পুরোটা নীল কাচ দিয়ে ঢেকে রাখা। তবে আক্রমনের কোনোরকম ভয় নেই। এনি সামান্য বাড়ন্ত পেটে হাত রেখে ছোট ছোট পায়ে এগিয়ে যায় নিকের দিকে। ডিভানের কাছে এসে একদম নিকের শরীর ঘেষে বসে। ঠিক সেই মুহূর্তে ভেসে আসে তীব্র পুরুষনালী শরীরের গন্ধ। এনির মাথা ঝিমঝিম করে উঠে। এই তীব্রতা তার নারী সত্তাকে কাঁপিয়ে তুলার জন্য যথেষ্ট। এনি নিকের উন্মুক্ত বুকে হাত রেখে সোজা করার চেষ্টা করে। ঠিক তখন এই মদের এক বিশ্রি গন্ধ তার নাকে এসে লাগে। মনে হচ্ছিলো নাড়ী-ভুরি উল্টে আসবে। সহ্য করতে না পেরে নাকে কাপড় বেধে নিকের দিকে রাগী চোখে তাকায়। নিকের সামনে রাখা প্রতিটা ওয়াইনের বোতলে নজর রাখে।।ক্ষীপ্ত হয়ে একটা বোতল হাতে তুলে নেয়। ছিপি খুলতে যাবে তার আগেই নিক খপ করে ধরে ফেলে এনির হাত। এনি ভয়ে হকচকিয়ে উঠে। নিককে তার দিকে এমন তীর্যকভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুষ্ক ঢোক গিলে রমণী। ভয়টাকে ফুটিয়ে না তুলে রাগী গলায় বলে,
” আপনি আবার ড্রিংক্স করেছেন?
নিকের হেলদুল নেই। সে দুই হাত দিয়ে এনির কোমড়টা পেঁচিয়ে তার কোলে এসে বসায়। এনি নাক ছিটকে অন্য পাশে মুখ নিয়ে বলে,
” প্লিজ ছাড়ুন আমাকে, এই বিশ্রি গন্ধ সহ্য করতে পারছি না। ভেতরের সব কিছু বের হয়ে আসছে।
নিক শক্ত গলায় ধমকায়,
” বান্দির বাচ্চা আগে বলতে পারলি না? কেনো এলি এখানে? জানিস না ওয়াইনের গন্ধ যে সহ্য করতে পারিস না, ইডিয়েট!
নিক ধমকে ডিভান থেকে উঠে বেসিনের কাছে যায়। এনি থমথমে চোখে তাকিয়ে আছে। শুধু দেখতে থাকে পাগল পুরুষটার পাগলামি। নিক পানি দিয়ে একদম গলা পর্যন্ত ঘষে যাচ্ছে। এমন ভাবে ঘষছে যেন নোংরা লেগে আছে। বার বার মুখে পানি দিচ্ছে আর বের করছে। এনি তাচ্ছিল্য হেসে বিরবির,
” খাওয়ার সময় মনে ছিলো না। এখন মায়া দেখাতে আসছে।
নিক চোখ-মুখ ধৌঁত করে এনির কাছে আসে। তার সামনে হাটু ভেঙ্গে বসে জিজ্ঞাসা করে,
” এখনও গন্ধ পাচ্ছো? খারাপ লাগছে, অস্বস্থি বোধ করছো? আমি শাওয়ার নিয়ে আসব?
এনি কিছুক্ষন রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দেয়। নিক কপাল কুচকে ফেলে। এনি নিকের ভেজা চুলগুলো টাওয়েল দিয়ে মুছে দিতে দিতে বলে,
” আপনি ড্রাংক হলে কতটা নরম হয়ে আসেন এইটা কি অনুভব করেন একবার ও? ইশশ… যদি এমন রুপেই থাকতেন আজীবন!
নিক ঠোঁট কামড়ে এনির ফুলো পেটের নিচের অংশে মুখ গুঁজে দেয়। বিরক্তি নিয়ে বলে,
” এত ফুলার কি প্রয়োজন ছিলো? সামান্য ফুললে কি এমন হত! শালার মাথাটা ও রাখতে পারছি না শান্তিমত।
এনি থতমত খেয়ে খেলেও সে নিজেও এই বিষয় নিয়ে হতাশায় ভুগে। টুইন বেবি বা একটা বেবি হলে এতটা ফুলার কথা না। কেমন যেন প্রয়োজনের তুলনায় সব কিছুই অশান্তি অনুভব হয়। নিক অশান্ত গলায় বলে,
” গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান কখনো ড্রাংক হয় না বেবিগার্ল। সে শুধু মাত্র ড্রাগস আর তোমার সান্নিধ্যে আসলেই মাতাল হয়ে পড়ে। নয়ত আর কিছুতেই গ্যাংস্টার বস মাতাল হয় না।
এনি চোখ ছোট ছোট করে বলে,
” তার মানে, এর আগে মাতাল হয়ে যত আবদার, ভালোবাসা প্রকাশ করতেন সব সজ্ঞানে ছিলো। আপনি মাতাল ছিলেন না?
নিম কামড়ে ধরে এনির উড়ুর নরম মাংস। এনি ব্যাথায় নাক-মুখ খিঁচে দেয়।
” তুমি সান্নিধ্যে ছিলে, তবে মাতাল হলাম না কিভাবে?
এনি হালকা হেসে বলে,
” এখনও তো আপনার সান্নিধ্যে আছি। ভালোবেসে সন্তানের উপরে হাত রাখুন না।
নিক অদ্ভুত চোখে তাকালো এনির দিকে। গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” আই অ্যাম নট গুড। মাই টাচ ইজ নট গুড। আ গ্যাংস্টার বস’স লাইফ ইজ আ কার্স। আমার বোন আমাকে বলছে আমি নাকি তাকে বিক্রি করে দিবে। ছ্যাহহহ! ফাঁ*কিং জীবন। কতটা খারাপ আর জঘন্য আমি। দুদিন পর আমার বাচ্চা ও আমাকে দেখে ভয় পাবে। আমার সামনে আসতে অস্বস্তিবোধ করবে। আমার পেশা নিয়ে লজ্জিত হবে। আই উইল বি আ ভেরি ব্যাড ফাদার, ব্লাডরোজ। ওদেকে শিখিয়ে দিও আমি শুধু খারাপ নয় ভালোবাসতেও জানি।
বোন! নিকের বোন আছে? এনি অবাক হয়ে বলে,
” আপনার বোন আছে?
নিকের মুখ গম্ভীর হয়ে আসে। কঠোর গলায় বলে,
” টপিক চেইঞ্জ করো। প্রশ্ন করবে না।
নিকের গলাটা কেমন জানি শুনালো। আচ্ছা হার্টল্যাস ব্যাক্তিরা কি এভাবেই থাকে। লোকটার বোন আছে সে জানতেই পারলো না।একটা দিনও লোকটা বাচ্চাদের উপর হাত বুলিয়ে দিলো না। এতটা পাষাণ হৃদয় কিভাবে হতে পারে? তারা জন্মের পর ও কি এমন থাকবে? যদি আমার কিছু হয়ে যায় তবে তিনি কি বাচ্চাদের ফেলে দিবেন? দিতেও পারেন। বলবে,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৬৫
” তোমাদের জন্য আমি ওকে হারিয়েছি।
এক অজ্ঞাত শঙ্কা আর তীব্র আতঙ্কে তার দেহ ক্রমাগত কণ্টকিত ও স্বেদাক্ত হতে থাকে। শরীরের প্রতিটি রন্ধ্র বেয়ে ঘামের বিন্দু ঝরছে, তবুও এনি অন্তরের অস্থিরতাকে প্রকাশ্য হতে দিল না। এক অদম্য মানসিক শক্তির আড়ালে সে নিজের কম্পমান সত্তাকে নিয়ন্ত্রনে রাখে।
