লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ২০
অহনা রহমান
রাজ উদ্ভ্রান্তের ন্যায় করছে। সারা ঘর জুড়ে পায়চারি করছে সে। জিহাদ কি বললো তখন? নাফি হিয়াকে নিয়ে গেছে? নাফি কেন হিয়াকে নিতে আসলো? ওদের প্লান বিফলে গেছে তো গেছেই! আরও মনে হচ্ছে তাদের কাছ থেকে কিছু লুকোনো হচ্ছে। রুহি সব জামাকাপড় গুছিয়ে নিচ্ছে। তারা সন্ধ্যায় রওনা হবে বাড়ির উদ্দেশ্যে। রুহি খুব তাড়াতাড়ি কাজ করছে তবুও যেন রাজের ধৈর্যের বাঁধ মানছে না। সে ক্রমশ ছটফট করছে। বিরক্তবোধ করছে রুহির উপর। নাফি ও হিয়ার মাঝে কি আছে তা না যানা পর্যন্ত ওর শান্তি হবে না। জিহাদের কথার ভাবার্থ যদি সে বুঝতে সফল হয় তাহলে, নাফি ও হিয়ার মাঝে কিছু না কিছু আছে। নাহলে হিয়াকে পার্কে কেন নিতে আসবে নাফি? আর নাফি আসলেই বা কেন যাবে হিয়া? রাজ নিজের মেজাজ খারাপটা রুহির উপর দেখালো,
“আচ্ছা তুমি কি এমন লেট লতিফ রুহি? একটু তাড়াতাড়ি তো করতে পারো নাকি?”
রাজের কথা শুনে রুহি খেঁকিয়ে উঠলো। এমন না যে সে দুশ্চিন্তা করছে না। তার ও চিন্তা হচ্ছে। রুহি ঝাঁঝালো কণ্ঠে রাজকে বলল,
“তোমার চোখ কি অন্ধ? দেখতে পাচ্ছো না, আমি কত তাড়াতাড়ি করছি? পারলে তো হেল্প করতে পারো নাকি?”
রাজ তেড়ে গেল রুহির দিকে। রুহির চোয়াল শক্ত করে ধরলো ও। শক্ত গলায় বলল,
“খুব চোপা চলে তাই না? যা হয়েছে তোর জন্যই তো হয়েছে। তখন নেচেছিস কেন আসার জন্য।”
রুহি ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো রাজকে। রাজের কলার ধরে বলল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“খবরদার! ফার্স্ট এন্ড লাস্ট ওয়ার্নিং দিলাম, আমার গায়ে হাত তোলার কথা স্বপ্নেও ভেবো না। আমি কিন্তু ছাড়বো না তোমাকে।”
রাজ ঢোক গিললো। বুঝতে পারলো তার এমন রিয়াক্ট করা হয়নি। রাজ রুহিকে টেনে কাছে নিলো। রুহির কোমর পেঁচিয়ে ধরে বলল,
“স্যরি জান। আসলে মাথাটা একটু গরম হয়ে গেছে। তুমি শুনেছো না জিহাদ কি বললো?”
রুহির রাগ কমলো না।
“হ্যাঁ শুনেছি। ওদেরকে দেখে মনে হচ্ছিল ওরা খুব ক্লোজ তাই তো? তাই বলে তো তুমি আমার সাথে সাথে এমন করতে পারো না!”
রাজ নত হলো। নমনীয় গলায় বলল,
“আচ্ছা আ’ম স্যরি বেইবি। আর হবে না।”
রুহি মিচকে একটা হাসি দিলো। রুহি কখনো কাঁচা কাজ করে না। হিয়াকে কষ্ট দিতেই এই বিয়ে টা করা। কিন্তু বিয়ে যখন হয়েই গেছে এখন তো আর এটাকে অমান্য করা যাবে না। যদি রাজ কখনো ওকে ছেড়ে দিতে চায় বা কখনো দুর্ব্যবহার করে! তাই জন্যই তো রাজের বিরুদ্ধে সে ভালোই প্রমান রেখেছে। রুহি বলল,
“যা করো আর তা করো ভুলে যেও না তুমি কি করেছো। সম্পুর্ন কল রেকর্ড আছে আমার কাছে।”
রাজ যে ভয়ঙ্কর রেগেছে তা ওর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তাতে অবশ্য রুহির কিছু যায় আসে না। সে রাজের মুখের দিকেই তাকিয়ে রইলো জবাবের জন্য। রাজ তা দেখলো এবং বুঝলোও। সে কল্পনা করেনি রুহি এমন কিছু করতে পারে। এখন ফেঁসে যেহেতু আছে কি আর করার! রাজ বলল,
“ঠিক আছে মনে থাকবে।”
রাজের উত্তর শুনে রুহি বাঁকা হাসলো। সে আবারও নিজের কাজে মন দিলো। আর রাজ রাগে, লজ্জায়, হীনমন্যতায় হাশফাশ করতে লাগলো। বেচারার অবস্থা দুই দিনেই নাজেহাল। রুহি যে খুব ডেঞ্জারাস তা আর বুঝতে বাকি নেই ওর। ওদিকের অবস্থাও খারাপ। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না বেচারা।
বিশালাকৃতির ড্রয়িংরুমে বসে আছে নাফি। শুধু সে নয় আরও অনেকেই আছে। ঘরভর্তি মানুষ যাকে বলে। যদিও এসবই হিয়াদের বাড়ির লোক। নাফির আত্মীয় বলতে, ওর তিনটা মেয়ে ফ্রেন্ড আর চারটা ছেলে ফ্রেন্ড এসেছে শুধু। বিয়ে তো হয়ে গেছে এখন ঘরোয়া ভাবে নিতে এসেছে এই আরকি! খাওয়া দাওয়া সব শেষ। এখন হিয়াকে নিয়ে যাওয়ার পালা। নাফি হিয়ার বড় চাচা কামরুল হাসানের সঙ্গে কথা বলছে। অথচ ওর মন রয়েছে ঘরের ভেতরে। যেখান থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। হেলেনা আর হিয়ার দুজনের কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। ওদের কান্না শুনে নাফির উদ্বেগ বাড়ছে। সে বারেবারে তাকাচ্ছে দোতলার দিকে। যেটা কামরুল হাসান খেয়াল করলেন কয়েকবার। একটা সময় তিনি বলেই ফেললেন,
“ওরা মা মেয়ে কাঁদছে। তুমি চিন্তা করো না বাবা।”
আচমকা এহেন কথাতে নাফি হকচকালো। লজ্জা ও পেল ভিষন। সে খুশখুশ করে কেশে উঠলো। এরপর বলল,
“না আসলে এমনিই মানে আঙ্কেল কান্নার আওয়াজ আসছে তো তাই….!”
“হেলেনা মেয়েটাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বুঝলে! আমার ভাইটা মরার পর তো মেয়েটার জন্যই হেলেনা এই বাড়ি ছাড়লোনা। বাবা হিয়া শুধু হেলেনার আদরের তা নয় কিন্তু। হিয়া বাড়ির এই প্রতিটি সদস্যের খুব আদরের। বিশেষ করে আমার। মেয়েটাকে দেখলেই আমার ছোট ভাইটার কথা মনে পরে। এইজন্য ও আমার অনেক ভালোবাসার। বাবা ওকে ফুলের মতো মানুষ করেছে ওর মা। হিয়া টাকে কখনো দুঃখ দিও না। ও একটু ছেলেমানুষ তুমি নাহয় একটু মানিয়ে নিও।”
কামরুল হাসান কথা বলতে বলতে নাফির হাত ধরলো। মূলত সে একপ্রকার নাফির হাত জোর করে কথাগুলো বললো। কামরুল হাসানের কথা শুনে নাফি উপর তলায় হিয়ার রুমের দিকে একবার তাকালো। এরপর আরেকটা হাত কামরুল হাসানের হাতের উপর হাত রেখে বলল,
“আপনাকে কথা দিলাম, আমি সজ্ঞানে থাকা অবস্থায় ওর চোখে কখনো অশ্রু ঝড়তে দেবো না। হিয়া আমার স্ত্রী ওকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার। আমি আমার সর্বচ্চ টা দেবো আঙ্কেল। আশা করছি কখনো হিয়ার মুখ থেকে কমপ্লেইন শুনবেন না।”
কামরুল হাসান খুশি হলেন। যেমনটা চেয়েছিলেন ঠিক তেমনই পেয়েছেন হিয়ার জন্য। তিনি নিজের মেজো ভাইকে তাড়া দিতে লাগলেন হিয়াকে নিয়ে আসার জন্য।
“আজ তোকে পরের হাতে তুলে দিচ্ছি মা। জানিস, এই হাত দুটো কত রাত না ঘুমিয়ে তোকে বড় করেছে? তোর বাবার শূন্যতা লুকিয়ে রাখতে গিয়ে কতবার চোখের পানি গিলে ফেলেছে? মা তোকে অনেক ভালোবাসে সোনা। আজ তুই অন্যের ঘরে যাবি। আমি কিভাবে থাকবো এই ঘরে? আমার ঘর থেকে লক্ষি চলে যাচ্ছে। আমার সোনাটা চলে যাচ্ছে। আমি কিভাবে থাকবো মা?”
হেলেনা কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান প্রায়। তাকে কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছে না। হিয়ার চাচিরা তাকে নানা ভাবে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু হেলেনা কিছুতেই থামছেন না। সেই সাথে হিয়া তো আছেই। মায়ের কান্না দেখে মেয়েটাও ভিষন কাঁদছে। হেলেনাকে জড়িয়ে ধরে হিয়া বলতে লাগলো,
“আমি যাবো না আম্মু। তোমাকে ছাড়া আমি কোথাও যাবো না।”
ঠিক সেসময়ে ঘরে ঢুকলো হিয়ার মেজো চাচা। তিনি ঢুকে ওদের কান্না দেখে অবাক হওয়ার ভান ধরে বললেন,
“হায় হায়! মা মেয়ে কান্নাকাটি করে একদম সাগর বানিয়ে ফেলতেছে। ওদিকে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।”
হিয়ার বড় চাচি বললেন,
“আরে আর বলো না মেজোভাই। হেলেনাকে কতবার বলছি মেয়েটার সামনে কাঁদিস না। কিন্তু না ওর কাঁদছে তো কেঁদেই চলেছে। আরে মেয়েটাতো দুরে কোথাও যাচ্ছে না তাই না? এই তো যেতে আসতে দুই ঘন্টা সময়। যখন ইচ্ছে যেতে পারবি যখন ইচ্ছে হিয়া আসতে পারবে।”
সবাই সহমত পোষণ করলো বড়চাচির কথায়। মেজো চাচা হিয়ার কাছে এলেন৷ কান্নারত হিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“আহা এতো কান্নাকাটি কেন মা? কি হয়েছে? ওখানে রুহি আপা থাকবে, আমরা যাবো আসবো। তুমি যখন ইচ্ছে আসতে পারবে। কাঁদছো কেন মা?”
তিনি এরপর হেলেনার কাছে গেলেন। আগের ন্যায় অবাক হওয়ার মতো করে বললেন,
“ছোট বউ তুমি কাঁদছো কেন? এই সময়ে কেউ কাঁদে হ্যাঁ? ওঠো ওঠো মেয়েকে নাফির হাতে তুলে দিতে হবে তো।”
এভাবে কেটে গেল কিছুক্ষণ। তারপর মেজো চাচা সহ হিয়ার চাচিরা সকলে ধরে নিয়ে গেল হিয়াকে আর হেলেনাকে।
নাফি কামরুল হাসানের সঙ্গে কথা বলছে খুব মনোযোগে। কামরুল হাসানের ব্যবসার বিষয়ে। হঠাৎ মাহমুদের খোঁচানিতে বিরক্ত হলো। কামরুল হাসানের সাথে কথা বলতে বলতেই সে চোখমুখ কুঁচকে তাকালো পাশে বসা ওর বন্ধু মাহমুদের দিকে। মাহমুদ মুখে কিছু বললো না নাফিকে। চোখ ইশারায় তাকাতে বললো সামনে। নাফি মাহমুদের দৃষ্টি অনুসরণ করলো সামনে। সাথেসাথেই তার হার্টবিট মিস হলো। থমকে গেল দুনিয়া। স্নিগ্ধ একটা প্রশান্তি ছড়িয়ে গেল হৃদয়জুড়ে। হিয়া তার দেওয়া উপহারেই সেজেছে। নাফি হিয়ার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলো। সে যা যা দিয়েছিলো সবই পড়েছে। একটাও বাইরের জিনিস নেই৷ নাফির দৃষ্টি সরলো না নরলো না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো প্রিয়তমার দিকে। হিয়াকে সে ডার্ক মেরুন রঙের শাড়ি দিয়েছিলো। দিয়েছিলো সুন্দর কিছু গয়না। হিয়া সেসব পড়েছে। কান্না করাতে মেকআপের বারোটা বেজেছে। তবুও কি সুন্দর লাগছে। কান্নার তোপে ফুলে যাওয়া চোখগুলো থেকে নাফি চোখ ফেরাতে পারে না। মেয়েটা তো এমনিতেই অনেক সুন্দর। তার উপর প্রথমবারের মতো নিজের স্বামীর দেওয়া উপহার পড়তেই যেন তার সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে গেছে। নাফি কি নাফির বন্ধুরাও হিয়ার থেকে চোখ ফেরাতে পারছে না।
নাফি মুগ্ধ নয়নে দেখছে তার স্ত্রীকে। এখানে কার কি বলার আছে? কিন্তু ওই যে থাকে না কিছু বাঁদর বন্ধুবান্ধব, ভাই-ব্রাদার? তাসরিক সবার সামনে বলে উঠলো,
“নাফি ভাই আমার চোখ সরা এইবার। ভাবি পালিয়ে যাচ্ছে না তো। আমাদের ফিরতে হবে কিন্তু।”
নাফি বেচারা আবারও লজ্জায় পড়ে গেল। কিন্তু সবার সামনে কিছু বলতেও পারলো না। তাসরিফের কথা শুনে সে সামনে তাকালো। দেখলো সত্যি সত্যিই হিয়াকে তার একদম মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। নাফি এবারে খুব কাছ থেকেই হিয়াকে দেখলো। তার হিয়া। তার ভালোবাসা। মানুষের ভালোবাসতে নাকি বছরের পর বছর লেগে যায়। অথচ সে কত দ্রুতই হিয়া নামের এই মেয়েটাকে ভালোবাসলো।
কিছুক্ষণ সাধারণ কথাবার্তা চললো। এরপর মেয়ে তুলে দেওয়ার পালা। সবার জোড়াজুড়িতে হেলেনা হিয়ার একটা হাত নিয়ে নাফির হাতে দিলো। আবারও কেঁদে ফেললো মানুষটা৷ কান্নারত অবস্থায় বলল,
“শোনো বাবা, আজ আমি আমার সবথেকে দামী সম্পদটা তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি। ওর বাবার জায়গাটা আমি কতটা পূরন করতে পেরেছি জানি না। আজ সেই জায়গাটা তোমার জন্য ছেড়ে দিলাম।
ওকে আগলে রেখো ভালো রেখো।
আমি কষ্ট করে ওকে মানুষ করেছি, আজ থেকে ওর সুখের দায় তোমার। ও ভুল করলে ক্ষমা করো, অভিমান করলে বুঝে নিও বাবা।
আমার মেয়েটা খুব সাধারণ, খুব সোজা। তোমার কাছে একটাই অনুরোধ বাবা আমার মেয়েটাকে যত্নে রেখো।
আজ থেকে ও শুধু তোমার স্ত্রী না, আমানত। এই আমানত যেন কোনোদিন খেয়ানত না হয়, এই কথাটা মনে রেখো।”
নাফি বলল,
“আম্মু, আপনার মেয়ে আমার স্ত্রী। ওর নিরাপত্তা, সম্মান আর শান্তির দায় আজ থেকে আমার। ভালো থাকুক বা খারাপ, কোনো অবস্থাতেই ওকে একা ফেলবো না। আমি প্রতিশ্রুতি দিলাম আপনাকে আপনার মেয়ে অসুখে থাকবে না।”
কথাবার্তা হলো আরও কিছুক্ষণ। সবাই যার যার মতো বিদায় দিলো হিয়া নাফিকে। হিয়ার সঙ্গে আজকে তুবা গেল।
নাফিদের বাড়ি এখন পুরো ফাঁকা। শুধুমাত্র নাসিমা, নাফি আর হিয়া, তুবা। হিয়াকে নাফির রুমে দিয়ে কিছুক্ষণ আগে সবাই চলে গেছে যার যার স্থানে। যেহেতু বিয়েটা অনেকটা লুকিয়ে হয়েছে তাই বেশি ঝামেলা করতে হয়নি। পুরো নিরিবিলি সবকিছু। রাত তখন কত আর হবে ১টা? এরকমই!
হিয়া মাথায় একটা বউ-ওরনা দিয়ে ঘোমটা দিয়ে বসে। যেভাবে নাফির বান্ধবীরা বসিয়ে দিয়েছে। এই বাড়িতে আসার পরে হিয়া ফ্রেশ হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া করেছে। শাড়িটা পাল্টাতে বলেছিলেন নাসিমা কিন্তু শাড়ি হালকা হওয়ায় হিয়া আর ঝামেলা বাড়ায়নি। সেই মেরুন শাড়ি পড়েই সে বসে আছে নাফির বেডরুমে।
আচ্ছা রুহি যখন জানবে হিয়া তার ভাসুরের বউ। তখন ওর রিয়াকশনটা কি হবে? হিয়াকে হিংসা করে এতো বড় ক্ষতি করতে চাইলো ও। আর এখন তো আরও সারাক্ষণ দুজনে এক জায়গায় থাকবে। কি যে হবে ভাবতেই হিয়ার মাথা আওলা ঝাওলা হয়ে যাচ্ছে। আর রাজ? রাজের বড়ভাবি সে? না চাইতেও সে রাজের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারছে। সবকিছু কেমন অদ্ভুত ভাবে ঘটে গেল না? রাজ এসে কি করবে? ওদের দুজনের অবস্থাটা কি হবে? ঠিক তখনই হিয়ার মনে পরলো অন্য কথা। বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে নাফি তার স্বামী। জীবন মরন এখন এখানেই কাটাতে হবে। হিয়া চাই না নাফির থেকে কিছু লুকাতে। সে মনে মনে ফন্দি আঁটলো নাফিকে আজকে সব কিভাবে বলবে। নাহলে যেহেতু একই বাড়িতে থাকবে সবাই।
একদিন না একদিন তো জানতেই পারবে। অন্যের মুখ থেকে জানলে ব্যাপারটা আরও খারাপ দেখাবে। তাই হিয়া সিদ্ধান্ত নিলো সে সব বলে দেবে আজকে। আনমনে এসব ভাবছিলো মেয়েটা। হঠাৎ দরজার শব্দে সে হকচকালো। বুঝতে পারলো নাফি এসেছে। লজ্জারা সব মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। চিত্ত কাঁপতে লাগলো, কাঁপতে লাগলো হাত-পা। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো সে। কি জানি কি হবে আজকে৷ ততক্ষণে হিয়ার ষষ্ঠইন্দ্রীয় জানান দিলো নাফি তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় বসেছে হিয়ার সামনে। হিয়া ভয়ে গুটিসুটি মেরে গেল। আজ নাকি বাসর রাত! ছিঃ ছিঃ!
লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি পর্ব ১৯ (২)
ওদিকে হিয়ার কাঁপা-কাঁপি বুঝতে পারলো নাফি। মনে মনে হাসলো খুব। এখনই কিছু না বললে দেখা যাবে আবারও জ্ঞান হারাবে হিয়া। বাসর রাতে বউ জ্ঞান হারালে ব্যাপারটা মোটেও ভালো লাগবে না। নাফি গলা খাঁকারি দিলো। নরম স্বরে সালাম দিলো,
“আসসালামু আলাইকুম।”
হিয়ার তো কথায় বন্ধ হয়ে গেছে। ও সালামের জবাব কিভাবে দেবে? চুপ রইলো মেয়েটা। বহু চেষ্টা করেও কোন শব্দ করতে পারলো না। নাফি হিয়ার নীরাবতা দেখে হিয়ার ঘোমটা টা তুললো। দেখতে পেলো লাজে রাঙা হয়ে যাওয়া সুন্দর মুখখানা। ইশশ এই সুন্দরী রমনী নাকি তার বউ!

Aktu taratari next part ta diye diben plz 😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓😓
😓😓😓