Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ২৬

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ২৬

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ২৬
নুসাইবা আরা নুরি

দুপুরের কড়া রোদ পেরিয়ে মধ্য গগন থেকে সুর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে।রোদের তাপ কমে এসেছে।অন্য দিকে পুব আকাশে ভীষন কালো মেঘ জমা হয়েছে।ধীরে ধীরে আরো গভীর হয়ে উঠছে প্রকৃতি। এ যেনো প্রকৃতির এক অসম্ভব রকম সুন্দর নীলা খেলা।কী সুন্দর বাতাস বইছে গাছের কচি পাতা গুলো মৃদ্যু বাতাসে নেচে উঠছে।পাখিরা গাছের ডালে বিকালের পরম সুন্দর পরিবেশটাকে কিচিরমিচির করে আরো মনোরম পরিবেশ করে তুলছে।

ইরুদের বাড়িতে বসে আছে ফাহিম আর ফাহিমের মা সাহিদা খাতুন।আর মেহেরাজ।সেদিন ফাহিম সাহিদা খাতুনকে সব খুলে বলার পর সাহিদা খাতুন সাথে সাথে রাজি হয়ে গেছিলেন।নিজের ছেলের পছন্দে তিনি না করেন কিভাবে মা হয়ে।যেখানে তার ছেলেটা কখোনো কোনো আবদার করে না তার কাছে।বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব মুখ বুজে কাধে তুলে নিয়েছে।আজ সে মুখ ফুটে চেয়েছে তা কি মানা করতে পারে সাহিদা খাতুন।পরেরদিন সকালেই তিনি ঘটক পাঠিয়েছিলেন ইরুদের বাড়ি তবে রোকেয়া খাতুন ইরুর বিষয়ে কথা বলেনি।তার আজ তিন দিন বাদে ফাহিম কে সাথে নিয়ে ইরুদের বাড়িতে এসেছেন তিনি।ফাহিমের একটা বড় কেচ এর দায়িত্ব পড়েছিলো তাই আসতে পারেনি।ফ্রি হতেই মা কে নিয়ে মেহেরাজ কে সাথে নিয়ে চলে এসেছে।

দরজার কোনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইরু।এই কয়েকদিন রাতে খেতে দেয় না তার মা।হাতে এক টা টাকাও নেই তাই বাইরে থেকেও কিছু খেতে পারেনা।রাতে খিদে লাগ্লে ভর পেট পানি খেয়ে নেয়।তাতেও কুলাই না।আর এর একমাত্র কারন সেদিন ইরুকে দেখতে ঘটক এসেছিলো।তার মায়ের কথা বাড়িতে আরো একটা মেয়ে থাকতে তাকে কেন দেখতে আসবে।সেই সুত্র ধরেই ইরুর খাওয়া বন্ধ।তার উপর ফাহিমের দেখা একদিন পেলেও বাকি দিন গুলোতে আর পায়নি।
সোফায় বসে থাকা ফাহিমদের সামনে এক গ্লাস পানি অব্দি দেই নি রোকেয়া খাতুন।ইমা বিস্কুট এনে দিলে আন্তরিকতার খাতিরে সাহিদা খাতুন হাত বাড়িয়ে নিতে গেলে রোকেয়া খাতুন প্রিজ টা নিয়ে রান্না ঘরে রেখে আসেন।ভিষন অপমানিত হয় সাহিদা খাতুন।ফাহিমের রাগ উঠলেও কিছু বলেনা কারন জানে এটা ইরুর সৎ মা।সাহিদা খাতুন ও তাই বুজে।মেহেরাজ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মোবাইল টিপছে।শ্রেয়সীকে বলেছে তবে সিয়াম বাড়িতে থাকার কারনে শ্রেয়সী ইরুদের বাড়িতে আস্তে পারেনি।কোচিং এ চলে গেছে একা একা।
বেশ কিছুক্ষন চুপ থাকার পর সাহিদা খাতুন নিজের ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আর দূরে দাড়িয়ে মাথা নিচু করে থাকা ইরুর দিকে তাকায়।মেয়েটাকে বেশ মনে ধরেছে তার।খুব শান্ত শিষ্ঠ।ছেলের পছন আছে মানতে হবে।সাহিদা খাতুন রোকেয়ার দিকে তাকিয়ে গলা পরিষ্কার করে বলে,

-আপা তাহলে আসল কথায় আসা যাক অনেক্ষন তো সময় পেরুলো??
রোকেয়া খাতুন মনযোগ দিয়ে টিভি জুড়ে জি বাংলায় সিরিয়াল দেখছে।পাশে নতুন মেহমান সেদিকে তার খেয়াল নেই।ইমা আর ইরুর লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে।যদিও মেহেরাজ কে দেখার পরপরই ইমার মনে ধরে গেছে।কেমন ড্যাশিং লুক একদম পারফেক্ট ম্যানলি ভাব আছে লোক্টার ভিতরে।রোকেয়া খাতুনকে চুপ থালতে দেকজে সাহিদা খাতুন আবার বলে,
-আপা কথাটা যদি আগে শুনতেন একটু??
এবার রোকেয়া টেরা চোখে সাহিদা খাতুনের দিকে তাকায়।দূরে চেয়ারে বসে ইব্রাহিম বিস্কুট খাচ্ছে।।টিভির সাউন্ড অফ করে রোকেয়া বলে,
-কোন কথা একটু তাড়াতাড়ি বলেন।আমার সিরিয়াল শেষ হয়ে যাবে??
রোকেয়া খাতুনের কথায় বেশ বিরক্ত হলো ফাহিম সাহিদা খাতুন ও অপমানিত হলেন।তাদের থেকে সিরিয়াল বড় হলো এই মহিলার কাছে।তাও ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সব হজম করে বললেন,
-আসলে আমার ছেলে আপনার ছোট মেয়ে ইরুকে ভালোবাসে আর ইরু মা ও আমার ছেলেকে ভালোবাসে।আর আমার ছেলে তো প্রতিষ্ঠিত যেহেতু দুজন দুজনকে ভালোবাসে তাই আপনার মেয়ের হাতটা চাইতে এলাম।আশা করি নিরাশ করবেন না।

-ভালোবাসে??
রোকেয়া খাতুন কন্ঠে রশিকতা টেনে ইরুর দিকে তাকায় ইরুর চোখে চোখ পড়লে ইরু মাথা নিচু করে নেয়।রোকেয়া খাতুনের কথায় সাহিদা খাতুন বলে,
-হুম। তাই তো ছেলের কথায় আপনার কাছে আশা আমার।আগেও ঘটক পাঠিয়েছিলাম আপনি কোনো উত্তর দেন নি তাই নিজেই আসলাম।
-তো আপনাদের বিবেক নেই।দেখলেন যে আমি কোনো উত্তর পাঠাইনি মানে আমি বিয়ে দিবো না।তার পরেও ঢেং ঢেং করে নাচতে নাচতে চলে আসবেন আপনারা।আমার বড় মেয়ে ইমার বিয়ে না দিয়ে ওকে বিয়ে দিবো??
রোকেয়ার টেরা কথায় চুপ হয়ে যায় সবাই।ইরুর মাথা কাটা যাচ্ছে ফাহিম কি ভাব্বে তাকে।ফাহিমের রাগ উঠছে।সাহিদা খাতুন ছেলের রাগ বুজে পায়ের উপর হাত দিয়ে শান্ত হতে বলে রোকেয়া খাতুনের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-না আমরা দরকার হয় এখন বিয়ে পড়িয়ে রাখলাম আপনার বড় মেয়ের বিয়ের পর আমরা ইরু মা কে তুলে নিয়ে যাবো।বুজেন ই তো।

-আপনারা এখন চলে যেতে পারেন।
-বুজলাম না আপা।
রোকেয়া খাতুন এবার পায়ের উপর পা তুলে বসে টিভির সাউন্ড চালু করে সিরিয়ালে মনযোগ দিয়ে ইমার উদ্দেশ্যে জোরেই বলল,
-কান্ডজ্ঞানহীন মানুষ গুলো চলে গেলে আমার জন্য একটু চা বানিয়ে আনিস ইমা।আর দরজা টা লাগিয়ে দিস সাথে ওদের মিষ্টি ওদের হাতে করে পাঠিয়ে দিস।আমি এখন সিরিয়াল দেখবো।
এবার আর মেহেরাজ সহ্য করতে পারলো না। ফাহিমের হাত ধরে উঠে বলল,
-এর পর ও এমন যায়গায় বসে থাকবি।কত খারাপ মহিলা থু আপনার মুখের উপর। মানুষের সম্মান দিতে জানেন না।জাস্ট ভদ্রতার খাতিরে আর বন্ধুর জন্য আপনার এখানে বসেছিলাম।
কথাটা বলেই মেহেরাজ দরজার দিকে হাটা দিলো সাথে সাহিদা খাতুন ও গেলো।ফাহিম একবার ইরুর দিকে তাকিয়ে ঘৃনা ভরা দৃষ্টি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।ইমার মন্টা কিঞ্চিত খারাপ হলো মেহেরাজের জন্য। ইরু ঘরে গিয়ে বিছানায় উবুড় হয়ে মুখ গুজে কেদে উঠলো লজ্জায়।সবার দরজা অব্দি যেতেই রোকেয়া খাতুন ইমার উদ্দেশ্যে বলল,

-ওদের সস্তা মিষ্টি গুলো ওদের হাতে ধরিয়ে দে।বলে দে এসব আমদের বাড়ির মাছিও খাইনা।তারপর দরজা টা লাগিয়ে দে।
মায়ের কথায় ইমা মিষ্টির বক্স টা এগিয়ে নিয়ে গেলে দরজার দিকে ফাহিমের হাতে দিবে সেই মুহুর্তে মেহেরাজ এসে ইমার হাত থেকে মিষ্টির ব্যাগ টা কেড়ে নিয়ে রাস্তার ড্রেনের ভিতর ছুড়ে দিলো।আসার সময় নিজের পকেট থেকে নয় হাজার টাকার মিষ্টি কিনেছে সব থেকে দামি মিষ্টি টা ৫ কেজি নিয়েছে।আর বলে সস্তা।মেহেরাজ রেগেই ইমার উদ্দেশ্যে বলে,
-আপ্নার মাকে বলে দিবেন ওনার মতো মহিলা আমাদের বাড়ির চাকরের যোগ্য ও না।অন্তত চাকর এর ভাষা সুন্দর।
কথাটা বলে মেহেরাজ বেরিয়ে আসে।নিজের গাড়ির ড্রাইভিমগ সিটে বসে ফাইম ওর পাশে বসে।সাহদা খাতুন উঠার পর মেহেরাজ গাড়ি স্টার্ট দেয়।এদিকে মেহেরাজের শেষ কথায় রোকেয়া খাতুন ভিষন রেগে যায়।কিন্তু রাগ কার উপর ঝাড়বে যেহেতু ইরুর কারনে তাকে অপমান করলো আজ ওকেই ধরবে।ইমা দরজা বন্ধ করে রান্না ঘরে গেলো মায়ের জন্য চা বানাতে।ও মিষ্টির প্যাকেট দেখেছে শহরের নাম করা মিষ্টির দোকানের সিল কম দামের না।নিশ্চয় লোক গুলো রাগ করেছে।
রোকেয়া খাতুন নিজের ঘরে গিয়ে খুজে খুজে একটা টেপ পেচানো কালো রঙের বেত বের করলো।বেশ মোটা আবার মজবুত।তারপর নিজের উড়নাটা মাজায় ভালো করে বেধে ইরুর ঘরে গেলো।বিছানায় উবুড় হয়ে সোয়া ইরুকে দেখে রেগে শেষ রোকেয়া খাতুন।

হটাৎ কেও জোরে চুলের মুঠি ধরে মেহজেতে আচাড় মেরে ফেলায় ভড়কে যায় ইরু।কিছু বুজে উঠার আগেই রোকেয়া খাতুন একের পর এক বেত দিয়ে গায়ের জোরে এলোপাতাড়ি পিটাতে থাকে ইরুকে।ইরু চিল্লিয়ে কাদতে শুরু করে।ছেড়ে দেওয়ার মিন্তি করতে থাকে।ইরু বুজে যায় তার মারের কারন কি।নিশ্চয় ওরা এসেছিলো বলে।ইরু কেদে ছেড়ে দিতে বলে তবে মন গলে না রোকেয়ার।
ইমা রান্না ঘর থেকে ইরুর হটাৎ কান্না শুনে ছুটে আসে ঘরে।এসে দেখতে পায় মেঝেতে পড়ে গড়াগড়ি খেয়ে ছটফটিয়ে কাদছে ইরু।আর তার মা অমা*নুষের মতো মেরে যাচ্ছে মেয়েটাকে।ইমা দৌড়ে ছাড়াতে যায় ইরুকে তবে রাগের মাথায় রোকেয়া খাতুন ইমাকে ধাক্কা দেয় তারপর বলে,
-ন*ডির মাইয়া বাইরে পিরিত করতে যাস।পড়াশোনা করতে না তোরে তো আজ মেরে ফেলবো।
বলেই মারতে থাকে এদিকে ইরু কাদতে কাদতে ছটফটিয়ে বলে,
-আম্মা আর মাইরেন না মরে গেলাম আম্মা।আমি আর জীবনেও বাইরে যাবো না আম্মা মাইরেন না আমি ওই লোক কে তেমন চিনিও না আম্মা ছাইড়া দেন আমারে।
রোকেয়া খাতুন মারতে মারতে আধমরা করে ফেলে ইরুকে।হাত পায়ের জাগায় জাগায় ফেটে রক্ত বের হয়ে গেছে।বেশি পিঠে আর পায়ের দাবনায় মেরেছে যেনো কাওকে দেখাতে না পারে।ইরু মেঝেতে সুয়ে কাদছে।ইমা দূরে দাঁড়িয়ে আছে।রোয়েয়া খাতুন মাঝ খান থেকে ভেঙে যাওয়া বেতের লাঠিটা একবার দেখলেন তারপর ছুড়ে দিলেন ইমার দিকে।তারপর রাগী কন্ঠে বললেন,

-আজকের মতো ভুল দ্বিতীয়বার করলে তোর পিঠে ভাংবো এই লাঠি।যা এখান থেকে।
ইমা চলে গেলো আর দাড়ালো না।ইরুর আর্তনাদ তাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।তবে একবারো মুখ ফুটে বলেনি আপু আমাকে বাচাও।মেয়েটা চুপ করে কেদে গিয়েছে শুধু।ইমাকে চলে যেতে দেখে রোকেয়া খাতুন ইরুর মাথার কাছে বসলেন তারপর ইরুর কেটে জাওয়া গালটা হাতের জোরে চেপে ধরলেন।ইরুর কুকিয়ে উঠলো ব্যাথায় তখন রোকেয়া খাতুন রাগী কন্ঠে বললেন,
-আজ তোরে কিছু বললাম না তবে মাথায় রাখিস এর পরেও যদি ওই ছেলের সাথে তোর কোনো কানেকশন দেখছি।তো তোর অবস্থা খারাপ করে ছাড়বো।কাওকে বললে মনে রাখিস তোর ভাইয়ের কপাল পুড়বে।এতিমখানায় রেখে মানুষ করবি না ওখান থেকে নিয়ে এসে মারবো মনে থাকবে তো।আমি যা বলি তা করি।
রোকেয়া খাতুন আরো জোরে গাল চেপে ধরে বলে,

-কি বলেছি মনে থাকবে??ওই ছেলের সাথে কাল থেকে তোকে মিশতে দেখলে তোর ভাইয়ের কপাল পুড়বে।বল মনে থাকবে।
ইরু মাথা নাড়ায়।তার মানে থাকবে।চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে।রোকেয়া খাতুন ইরুকে ছেড়ে উঠে দাড়ালেন আড়ামোড়া খেয়ে বললেন,
-তোর জন্য আমার পছন্দের সিরিয়াল ডা শেষ হয়ে গেলো।এখন আবার এই পর্ব মোবাইল থেকে দেখতে হবে যতসব ঝামেলা মরতে পারিস না বেচে যেতাম।
কথাটা বলে রোকেয়া খাতুন চলে গেলো।ফেলে রেখে গেলো মা মরা এতিম মেয়েটাকে।যার কেও নেই।একমাত্র ভাই টাকে এতিম খানায় দেওয়ার নাম করে কোথায় রেখেছে ইরু জানেনা।তবে মাঝে মাঝে কথা হয় ভাইটার সাথে।এতেই ইরু খুশি।আর বাবা তো খোজ ও নেই না।ইরুর মরে যেতে ইচ্ছা করে মাঝে মাঝে তবে মরার মতো সাহস পায় না।কিভাবে পাবে এই জীবনে কষ্ট তগেকে মুক্তি পেতে মরে জাওয়ার পর ওই জীবনে কষ্ট পেলে।ওখান থেকে তো মুক্তির রাস্তা নেই।ইরু ফুফিয়ে উঠে।ফাহিমের উপর বড্ড অভিমান জমলো মেয়েটার।খুব খুব।

অন্ধকার ঘর চারিপাশের দেয়ালে ফেইরি লাইট ঝোলানো রং-বেরঙের।সাথে নানা রকম মুখোশ-ধারী মানুষের ছবি এলবাম করে লাগানো।ঘরে এক পাশে লম্বা একটা টেবিল।এক দেয়াল থেকে অন্য দেয়ালে লেগে গেছে।টেবিলের এক পাশে পিসি রাখা।অনেক গুলো কম্পিউটারের স্ক্রিনে বিভিন্ন কোড টাইপ হচ্ছে সেখানে।আর অন্য পাশে বিভিন্ন ফাইল আর কয়েকটা নামীদামী বন্দুক রাখা।সাথে জুকার এর মুখোশ।
কম্পিউটার স্ক্রীনের সামনে রিভোলবিং চেয়ারে বসে আছে জুকার এর মাস্ক পরা এক ব্যাক্তি।কম্পিউটারে অটো টাইপ করে যাচ্ছে সে।হাত যেনো আলোর গতিতে ছুটছে এক কি বোর্ড থেকে অন্য কি-বোর্ডে।কানে হেডসেট লাগানো।তাতে কল এ আছে তুহিন।লোকটি এখন কল এ তুহিনের সাথে কথা বলছে আর আগামীকালকের সিয়ামের সকল লোকেশন ট্রাক করছে।
বেশ খানিক্ষন কম্পিউটারে সার্চ করার পর শব্দ করে পাশের টেবিলের খালি অংশে চড় দিয়ে রিভোলবিং চেয়ার ঠেলে দূরে সরে এলো লোকটি।তারপর হেসে উঠলো।ওপাশ থেকে তুহিন বেশ বিভ্রান্ত হলো লোক্টির হাসি দেখে তাই প্রশ্ন করে বসলো,

-হাসছিস কেন পেয়েছিস??
লোক্টি অনেক্ষন হাসলো।তার হাসি দেখে টেবিলের উপর থাকে এই আই ইন্টেলিজেন্স রোবট ছোট্ট একটা পাখি থেকে আওয়াজ হলো,
-কি হলো হলো EM আজ এতো খুশি কেনো।নিশ্চয় আবারো কোনো প্রবলেম সলভ করতে পেরেছে।
-ইয়েস বার্ড।
-ওয়াও কংগ্রাচুলেশন EM।
এই আই ইন্টেলিজেন্স রোবট টা চুপ করতেই লোকটি এবার তুহিনের উদ্দেশ্যে বলল,
-ইয়াহ ব্রো তোমার সন্দেহ ঠিক।সিয়াম শেখ কাল সন্ধ্যায় সাগরের ধারের একটা গোডাউনে ছিলো।চবে এক্সাক্টলি বলা যাচ্ছে না কোনটায়।আর আগুনে পোড়া বাড়ির যায়গায় ও সে ছিলো।বাট অন্য কোথাও তার লোকেশন নেই।সো সে মিথ্যা বলেছিলো তার সুপারশপের কোনো কাজ নয় সে অন্য কাজে গিয়েছিলো। হতে পারে মানুষ গুলোকে মারতে।তবে নজর রাখতে হবে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ২৫

কথা গুলো এক নিঃশ্বাসে বলে থামে লোকটি।লোকটির কথা তোহা ও শুনে গ্রুপ কল এ থাকায়।এমন কি মেহেরাজ ফাহিম এবন্দ তাদের আরো দুজন বন্ধু ও শোনে।সবার নজর গিয়ে পড়ে সিয়ামের উপর।তুহিন লোকটিকে খোজ নিতে বলে কল কেটে দেয়।তারপর গ্রুপে আলোচনা শুরু করে।ঠিক সেই সময়ে ঘরে আসে সিয়াম।তোহার কানে এয়ারফোন থেকে অবাক হয়।তোহা খুব মনযোগ দিয়ে মোবাইলে কিছু একটা দেখছে বলে মনে হওয়ায় পা টিপে এগিয়ে যায় সেদিকে।তারপর তোহার সামনে গিয়ে টান মেরে মোবাইল টা নিয়ে নিজের দিকে ঘোরায় সিয়াম।সাথে সাথে চোখ বড় বড় হয়ে যায় সিয়ামের।চোখ গুলো লাল টকবগে হয়ে উঠে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ২৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here