Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৭

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৭

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৭
রুহানিয়া ইমরোজ

–” ভার্সিটির মাঠে সকলের সামনে তাজরিয়ান স্যার আপনার শালিকা কে চুমু খেয়েছে বস।
আরামে ঘুমাচ্ছিলো আরশিয়ান। আচমকা ফোন বেজে উঠায় কোনোমতে তা রিসিভ করে কানে ধরে। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে আসা বার্তা শুনে তৎক্ষণাৎ হুড়মুড়িয়ে প্রিমার কোল ছেড়ে উঠে বসে। হতভম্ব কন্ঠে বলে,
–” হোয়াট? ”
আরশিয়ান কে ঘুম পাড়াতে গিয়ে প্রিমাও ঘুমিয়ে পড়েছিল। আকস্মিক কারও চিৎকার শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠে বেচারি।
প্রিমাকে ভড়কে যেতে দেখে আরশিয়ান বিরক্ত হয় নিজের প্রতি। আচমকা ওভাবে উঠে বসা উচিত হয়নি তার। মেয়েটা ভয় পেয়েছে হয়তো।বউকে শান্ত করতে আলতো করে তাকে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয় আরশিয়ান। প্রিমার মাথায় আলতো করে চুমু খেয়ে ফিসফিসয়ে বলে,

–” আম স্যরি প্রেম..
প্রিমার কান অব্দিই পৌঁছায় না সেই স্বীকারোক্তি। হুট করে ওমন হওয়ায় হকচকিয়ে গিয়েছিল সে কিন্তু কিছুক্ষণ যেতেই বুঝতে পারে আরশিয়ান নিজের উন্মুক্ত বক্ষের সাথে চেপে ধরেছে তাকে। এ পর্যায়ে লজ্জায় পড়ে যায় প্রিমা। অস্বস্তিতে গাঁট হয়ে বসে থাকে।
ওদিকে আরশিয়ান রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে শুনছিল তামজিদের কথা। সমস্ত ঘটনা শোনার পর দাঁতে দাঁত চেপে শুধায়,
–” এখন কোথায় আছে তোমার স্যার?
তামজিদ বেচারা না পারতে বলে বসে,
–” মরফিন ক্লাবে আছে বস।
আরশিয়ানের ভ্রু কুঁচকে আসে ক্লাবের নামটা শুনে। আচমকা কিছু একটা মনে পড়তেই হতবাক কন্ঠে বলে,

–” ও কী ড্রাগ নেওয়ার জন্য ওখানে গেছে?
তামজিদ কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে,
–” ভার্সিটি থেকে বেরিয়েই ক্লাবে এসেছে। এরপর ভাঙচুর করে এলাহি কান্ড বাঁধিয়েছে। পরপর দু বোতল ওয়াইন খেয়ে এখন ড্রাগ নেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছে….
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগটা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করল আরশিয়ান। উত্তরে ছোট্ট করে বলল,
–” ওর কাছ থেকে সমস্ত অস্ত্র ছিনিয়ে নাও। এরপর ওকে তুলে চৌধুরী বাড়িতে আনো। আমি এখুনি আসছি..
তামজিদ সম্মতি জানিয়ে কল কেটে দেয়। ওদিকে প্রিমা অবুঝ চোখে চেয়ে দেখছিল আরশিয়ান কে। বিস্ময় নিয়ে ভাবছিল, লোকটা রাগতেও জানে?
কল রেখেই আরশিয়ান ব্যস্ত কন্ঠে বলে,

–” আমার বেরোতে হবে। আপনাকে হসপিটালে নামিয়ে দিয়ে আসি?
প্রিমা আমতা আমতা করে বলে,
–” সকালেই দেখা করে এসেছি বুবুর সাথে। আর
এখন তো অফিস্…
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই আরশিয়ান তাড়া দিয়ে বলে,
–” আচ্ছা। আমি আবির্ভাব কে বলে দিচ্ছি। ও আপনাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসবে..
আরশিয়ান তাড়াহুড়ো করে শার্ট পরছিল। প্রিমা তখনও হতভম্ব হয়ে বসে ছিলো সোফায়। হুট করে কী হলো সেটাই ভাবছিল। আরশিয়ান হাত ঘড়ি পরতে পরতে বলল,

–” আপনার ব্যাগপত্র গুছিয়ে নেন..
প্রিমা এ পর্যায়ে ধীর কন্ঠে শুধাল,
–” অফিস করব না?
প্রপার রেডি হয়ে আরশিয়ান প্রিমার সামনে এসে দাঁড়াল। ভনিতা ছাড়াই দু’হাতের আঁজলায় প্রিমার ছোট্ট মুখখানা ধরে বলল,
–” আপনার একমাত্র কাজ আমার শিডিউল দেখা। ওটা বাসায় বসেই করতে পারবেন আপনি। আমি যতক্ষণ অফিসে থাকব ততক্ষণ আপনার ডিউটি থাকবে। ওকে?
প্রিমা কথা বাড়াল না। সায় জানিয়ে বলল,
–” হুঁ..
আরশিয়ান নিজেও তাড়াহুড়ায় ছিলো বিধায় কোনো ধরনের ফর্মালিটি দেখাতে গেলো না। প্রিমার কপালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বলল,
–” টেক কেয়ার অফ ইয়্যোর সেল্ফ। ফোন সবসময় নিজের সাথেই রাখবেন। রাতে কল দিব আমি। আর কোনো প্রয়োজন মনে হলে আবির্ভাব কে জানাবেন। ও ইন্সট্যান্ট হাজির হয়ে যাবে…
বলে আর একমুহূর্ত দাঁড়াল না আরশিয়ান। দ্রুত পা ফেলে চলে গেলো নিজ গন্তব্যে। আর প্রিমা? সে কতক্ষণ থমকে বসে রইল এক জায়গায়। হাত উঠিয়ে কাপল ছুঁয়ে বলল,
–” কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজেও এত যত্ন মেলে?

রাস্তার দীর্ঘ জ্যাম ঠেলে অবশেষে নিজের গন্তব্যে পৌঁছে যায় প্রিমা। অদ্ভুত এক ঘোরে ডুবে ছিলো বিধায় টের পায়নি বিষয়টা। বাসা থেকে একটু দূরে গাড়ি থামিয়ে আবির্ভাব বলে উঠে,
–” আমরা এসে গেছি ম্যাম..
প্রিমা চুপচাপ নেমে দাঁড়ায়। এক বারও পিছনে ফেরে না। তার মস্তিষ্ক অহেতুক ভাবনায় ব্যস্ত। আরশিয়ান এর এত ভালোমানুষি ভাবাচ্ছে তাকে। কন্ট্র্যাক্টে বিয়ে হওয়ার পরও কেনো নিজের স্বার্থ বুঝে নিচ্ছে না ওই লোক? এত্ত আদুরে আচরণ কেনো তার? অন্য কোন উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে নাকি এসবের পেছনে?
ভাবনার মাঝে বাড়ির মূল ফটকে পৌঁছে যায় প্রিমা। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। তিন তলায় আসতেই আচমকা কারও সাথে ধাক্কা খায় প্রিমা। স্যরি বলতে নিলে অপর পক্ষের লোকটা দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,

–” আরেহ্ প্রিমা যে… কেমন আছো ময়না পাখি?
রাগ কমেছে সোনা ?
সামনে থাকা মানুষটাকে পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায় প্রিমার। সে আর কেউ নয়, রেস্টুরেন্টের সেই জাহিদ লোকটা। তার বিদঘুটে হাসি দেখে প্রিমা রেগেমেগে বলল,
–” তাতে আপনার কী? বলেছি না. দূরে থাকতে?
জাহিদ নামের লোকটা বীভৎস ভাবে হেসে বলল,
–” আমারই তো সব ময়না পাখি। যত উড়তে চাও উড়ো। খালি প্রোমোশনটা পাই এরপর কাছে আনমু তোমারে। সব ত্যাজ গোড়া থাইকা উপড়াই ফেলমু। রেডি থাইকো…
ঘৃনায় গা গুলিয়ে উঠে প্রিমার। সে জলন্ত চোখে চেয়ে বলে,
–” প্রয়োজনে মরে যাব তবুও তোর মতো কাপুরুষ এর কাছে ইজ্জত হারব না…
জাহিদ অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে প্রিমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,

–” তোমাগোরে এই এক সমস্যা। খালি সম্মানের কতা কও। আরে মেয়ে তোমাগো বাঁচাইব কেডা? কবর থেইকা তুমার আব্বা উইঠা আসতো নাকি?
এই যে এখন যদি তোমারে এইখানে ভালোবাসি…
বলে যেই না ছুঁতে যাবে ওমনি প্রিমা সজোরে লাত্থি মারে জাহিদের স্পর্শকাতর স্থানে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জাহিদ চোখ বড় বড় করে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে যন্ত্রণায় ছটফটাতে থাকে। প্রিমা রাগে ক্ষোভে আঙ্গুল উঁচিয়ে হিসহিসিয়ে বলে
–” সবাইকে দুর্বল ভাবিস না। মাথার উপর কারও হাত না থাকলেও আল্লাহর রহমত আছে। তোর মতো চরিত্রহীনের বউ হওয়ার বিন্দুমাত্র রুচি নেই আমার। সুতরাং দূরে থাকবি নয়তো ছোঁচামি করতে আসলে একদম পুরুষত্বহীন বানিয়ে রেখে দিবো।
যন্ত্রণায় মুখ লাল হয়ে গেছে জাহিদের। চাপা স্বরে গোঙাচ্ছে সে। এই মেয়ে এত ধূর্ত ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি নয়তো প্রস্তুতি নিয়েই আসতো। প্রিমাকে চলে যেতে দেখে সে পেছন থেকে বলল,

–” বেশি ফড়ফড় করতাছো ময়না পাখি। যখন ডানা ছাটমু তহন টের পাইবা বাস্তবতা।
প্রিমা ওসবে কান দেয় না। রাগে হনহনিয়ে সিঁড়ি ভেঙে ছয় তালায় আসে। উপরে ওঠার সময় কারও কান্নার শব্দ শোনে প্রিমা। রাগের চোটে প্রথমে পাত্তা না দিলেও রুমের দরজার কাছে আসতেই থমকে যায় তার পা জোড়া। বুক ধড়ফড়িয়ে উঠে। মনের মধ্যে অশোভনীয় চিন্তা উঁকি দেয়। মেহরিমার সাথে ওই অসভ্যটা কিছু করেনি তো আবার?
ছোট্ট একটা চিলেকোঠার ঘরে থাকে তারা তিন বোন। প্রিমা দরজা ঠেলে ভেতরে যাওয়ার সাহস পায় না কারণ বীভৎস ভাবে আর্তনাদ করছে মেহরিমা।কী হতে পারে ভেবেই কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে তার..
নিজেকে সামলে কোনোমতে দরজা ঠেলে ভেতরে তাকাতেই দেখে একটা মেয়ের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদছে মেহরিমা। পাশে আরও দু’জন মেয়ে বসা। প্রিমা বুঝে উঠতে পারে না কিছু। হাতের ব্যাগ ফেলে সে দৌড়ে যায় মেহরিমার কাছে।
মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে মেহুকে ছুঁয়ে কাঁপা গলায় বলে,

–” বাবুইপাখি?
একমুহূর্তের জন্য থেমে যায় মেহরিমা। প্রিমা ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে। কাঁপা গলায় কোনোমতে বলে,
–” কী হয়েছে জানবাচ্চা? ”
ব্যাস আর কে পায় মেহরিমা কে। বান্ধবীর কোল ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বোনের কোলে। অসহায় কন্ঠে বলে,
–” আমি নোংরা মেয়ে.. আমায় অপবিত্র করে দিয়েছে আপা…
[ পার্টটা পড়ার পর কাইন্ডলি একটা রিয়েক্ট এবং ছোট্ট একটা মন্তব্য করে যাবেন। আপনাদের এই সামান্য কাজ আমার লেখার স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়। ধন্যবাদ ]
প্রিমার কলিজা মোচড় দিয়ে ওঠে। দিশাহীন চোখে ইতিউতি চেয়ে রুদ্ধ গলায় বলে,
–” ক্ কী হয়েছে সোনা?
মেহরিমা জবাব দিতে পারে না। বোনের বুকে মুখ লুকিয়ে আর্তনাদ করতে থাকে স্রেফ। প্রিমা উপায়ন্তর না পেয়ে মেহরিমার বান্ধবী কে জিজ্ঞেস করে,

–” কী হয়েছে আমার বাবুইপাখির? কে কী বলেছে?
মেয়েটা আমতা আমতা করে বলতে শুরু করে,
–” আজ ভার্সিটিতে সবার সামনে মন্ত্রী আরশিয়ান চৌধুরীর ছোটো ভাই তাজরিয়ান চৌধুরী…….
মেয়েটা বলতে থাকে সম্পূর্ণ ঘটনা। এদিকে সব শুনে প্রচন্ড রকমের রেগে যায় প্রিমা। বুকের মাঝে নেতিয়ে পড়া মেহরিমাকে ঝাঁকিয়ে বলে,
–” তুই কাঁদছিস কেনো? এখানে তোর কোনো ভুল আছে? যার ভুল সে শাস্তি পাবে। তুই কেনো সাফার করবি?
কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে মেহরিমার। দম আঁটকে আসছে রীতিমতো। সে অস্পষ্ট কন্ঠে বলে,
–” ক্ষমতাসীন খারাপ মানুষ গুলো কখনো শাস্তি পায় না আপা। ওরা আজীবন সুখে থাকে..
প্রিমা থমকায় কথাটা শুনে। ভুল কিছু তো বলেনি মেহরিমা তবে কিছু একটা ভেবে প্রিমা শক্ত কন্ঠে বলে,
–” ভুল ধারণা এটা। চল আমার সাথে,…

চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে আছে আরশিয়ান। অপেক্ষা করছে এক অপরাধীর। আসার পর থেকেই তার মেজাজ তুঙ্গে বিধায় কেউ সাহস করে কথা বলতে আসেনি। এমনকি আফিয়া চৌধুরী ও ছেলের পাশ ঘেঁষার সাহস পাচ্ছেন না..
রান্নাঘর থেকে উঁকি দিয়ে ছেলের মেজাজ বোঝার চেষ্টা করছেন। আরশিয়ান খুব কম রাগে কিন্তু যখন রাগে তখন তার সামনে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যায়। একজন সার্ভেন্ট আচমকা ফিসফিসিয়ে শুধাল,
–” ম্যাম? স্যারের জন্য কী লেমনেড নিয়ে যাব? ”
আফিয়া চৌধুরী চোখ ছোটো-ছোটো করে বললেন,
–” আবহাওয়া তো গরম লাগছে। না যাওয়ায় বেটার হবে হয়তো।
আফিয়া চৌধুরীর কথায় বয়স্ক মেইডটা হেসে ফেলে। মা ভয় পাচ্ছে ছেলের মেজাজকে। এটা হাস্যকর নয় কী? তাকে হাসতে দেখে আফিয়া চৌধুরী বলল,
–” হেসো না মেয়ে। তুমি বুঝবে না আমার জ্বালা। দু’টো ছেলে হয়েছে দুই কিসিমের। তাদের ভাবগতি বোঝা কী অত সহজ?

মেইডটা আবারও হাসলো আফিয়া চৌধুরীর সরল স্বীকারোক্তি শুনে। কথাটা আসলেই সত্য। আফিয়া চৌধুরীর জমজ ছেলে আরশিয়ান ইসফার চৌধুরী এবং শওকাতুল ইশতিরাজ চৌধুরী দুই মেরুর মানুষ। এক জনের পছন্দ রাজনীতি অন্যজন নৈরাজ্যের ধারের কাছে নেই। একজন শান্ত অটল অন্যজন ফানি এবং চঞ্চল।
তাদের ভাবনার ছেদ ঘটে আরশিয়ানের বজ্রকন্ঠে।কাউকে কল দিয়ে বলছে,
–” এত ইউজলেস কেনো তোমরা? সেই কখন থেকে বসে আছি আমি আর তোমরা আসতে পারছো না। অনলি টেন মিনিটস দিলাম। তন্মধ্যে না আসতে পারলে..
কথাটা অসম্পূর্ণ রেখেই কল কেটে দেয় আরশিায়ান। মাথায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে তার। তাজরিয়ান এমন একটা কাজ করে বসবে সেটা কল্পনাতেও ছিলো না। করেছে তো করেছে তাও আবার তারই শালিকার সাথে।
চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠে আরশিয়ান। কীভাবে সামলাবে সবটা? তার চিন্তার পারদ বাড়াতে চৌধুরী বাড়িতে পা পড়ে আরেক রমণীর। মূল ফটকে দাঁড়িয়ে কেউ একজন গলা ছেড়ে ডাকে,

–” মিস্টার আরশিয়ান ইসফার চৌধুরী।
সোফায় বসে ছিলো আরশিয়ান। আচমকা ডাক শুনে পিছু ফিরে তাকিয়ে দেখে তার বউ এবং শালিকা দাঁড়িয়ে আছে। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল চোখের ভ্রম কিন্তু না। প্রিমা টেনেহিঁচড়ে তার সামনে এনে দাঁড় করায় মেহরিমাকে। এর পর জোর গলায় বলে,
–” আপনার ভাই লোকসম্মুখে আমার বোন কে অপদস্ত করেছে। আমি সুবিচার চাই এই অন্যায়ের। আপনি কী তা দিতে পারবেন?
আরশিয়ান এক পলক তাকায় মেহরিমার দিকে। ইশ্ কী হাল হয়েছে বাচ্চা মেয়েটার। তাজ কীভাবে পারলো ওকে আঘাত করতে?

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৬

প্রিমা তখনও এক বুক আশা নিয়ে ক্রোধান্বিত চোখে চেয়েছিল আরশিয়ানের দিকে। রাগী আরশিয়ান তার চোখের দিকে তাকাতেই শান্ত হয়ে আসে। সেই সাথে শানের মাথায় উঁকি দেয় আরেক প্রশ্ন। মেয়েটা এত আকর্ষণীয় কেনো?
তার ঘোর ভাঙে কারও মাতাল স্বরে। হেলেদুলে মূল ফটক পেরিয়ে হেঁটে আসছে তাজরিয়ান। হাতে তার রেড ওয়াইনের আধ খালি বোতাল। ব্যালেন্সহীন ভাবে হাঁটতে হাঁটতে মেহুর পাশে দাঁড়িয়ে দুষ্টু কন্ঠে বলে উঠে,
–” হেই ইয়াম্মি রেড ভেলভেট। আই ওয়ান্না কিস ইয়্যু আগেইন। উইল ইয়্যু ক্রায়? ”

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ৮