Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ২৬

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৬

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৬
সুমাইয়া ইসলাম নূর

আকাশটা আজও ভীষণ মেঘলা হয়ে আছে
দেখলেই মনে হচ্ছে এই বুঝি বৃষ্টি নামবে।
কলেজের বাহিরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইনায়া দুই পাশে পিয়াসা আর তুবাকে নিয়ে গম্ভীর মুখে বলল
শোন… আমি যা বলবো, দুই কুত্তি ভালো করে শুনে রাখ।
পিয়াসা চোখ ছোট করে বলল এই শুরু হইছে আবার বালের ল্যাওরামি। ইনায়া নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
তোদের কি পড়ালেখা ভালো লাগে? দুজন একসাথে বললো
নাআআ!
ইনায়া বুক চাপড়ে বলল আমারও লাগে না!
আর আজ ফুপিমণিরা আসবে, দুইদিন থাকবে… এই দুইদিন আমি পড়ালেখা বন্ধ রাখতে চাই।।
পিয়াসা সঙ্গে সঙ্গে বলল আমি তো সারাজীবনের জন্য বন্ধ করতে চাই! তুই বাল আবার দুইদিন নিয়ে বসে আছিস!
তুবা হাসতে হাসতে বলল আচ্ছা, আইডিয়া বল।
ইনায়া চারপাশ দেখে ফিসফিস করে বলল—

চল বৃষ্টিতে ভিজি
ব্যাস!
পিয়াসা এমন চিৎকার দিল আবার সেই বৃষ্টিতে ভিজার প্ল্যান? ইনায়া হাত তুলে বলল—
এই বাল! আগে পুরো কথা শোন তো তারপর চোখ টিপে বলল এমন কাজ করবো যাতে এক ঢিলে তিন পাখি মরে। তুবা আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এলো—
কীভাবে?”
ইনায়া গুনে গুনে বলতে লাগল এক বৃষ্টিতে ভিজবো। দুই জ্বর আসবে না ।
তিন—আগামী দুইদিন বই খাতা খোলা লাগবে না!
শুধু চিল হবে বেবি। তুবা হা করে তাকিয়ে রইল…
তারপর হঠাৎ ইনায়ার গালে চুমু দিয়ে বলল—
“উফফ বেবি! উম্মাহহহ! তুই জিনিয়াস ইউভি ভাইয়া জিনিস একটা পাবেরে। পিয়াসা কপাল চাপড়ে বললো সব বুঝলাম… কিন্তু তোর জ্বরের ব্যাপারটা বুঝলাম না।
ইনায়া তখন ব্যাগ খুলে নাটকীয়ভাবে ওষুধ বের করল মা আসার সময় দিয়ে দিছে। বলছে, জ্বর জ্বর লাগলে আগে থেকেই খেয়ে নিতে। তারপর একটা ট্যাবলেট হাতে নিয়ে বললো।
আমি এখন একটা খাবো বাসায় গিয়ে আরেকটা… দরকার হলে রাতে আরেকটা খাবো। কিছুতেই জ্বর আসতে দিবো না! ফুপিমণিদের সাথে আড্ডা দিতে হবে তো! পিয়াসা দুই হাত মাথায় দিয়ে—

“ইয়া আল্লহ একি আমার বোন এতো হিটলারি বুদ্ধি কোই পাই কে জানে।
পিয়াসা বললো ঠিক আছে চল
এরপর তিনজন একসাথে হাই-ফাইভ!।দিল।
ঠিক তখনই ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমে গেল
ব্যাস!
তিনজন ব্যাগের চেইন খুলে দিল যেন বৃষ্টির পানি সহজে ভেতরে ঢুকে বই-খাতা শেষ করে দিতে পারে।
তুবা খুশিতে বলল বইগুলা আজ শহীদ হবে
ইনায়া দুই হাত আকাশের দিকে তুলে—
বই গো তোমাদের ত্যাগ জাতি মনে রাখবে!
তিনজন রাস্তায় নেমে লাফালাফি শুরু করল

হঠাৎ— পিয়াসা পিছলে ঢাসস! করে পানির মধ্যে পড়ে গেল। ইনায়া দুই সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে এমন হাসি শুরু তুবা পিয়াসাকে তুলতে গিয়ে নিজেও পিছলে পরলো ধাপ্প! এবার দুইজনই পানিতে চিত হয়ে পড়ে আছে।
পিয়াসা কাঁদো কাঁদো গলায় আমার কোমর গেল এই কোমর নিয়ে অনেক কিছু করার বাকি আছে আমার ময়েন এর সাথে ।
ইনায়া এখনও দাঁড়িয়ে হাসছে— “দুর্বল সৈনিকরা এমনই হয়। ঠিক তখনই ইনায়া নিজেই পিছলে সোজা ডাস্টবিনের পাশে গিয়ে পড়ল।
একটা ভেজা কলার খোসা এসে আটকে গেল তার মাথায়
পিয়াসা দুই সেকেন্ড চুপ থেকে হাসি শুরু করে দিল হাসতেছে আর তুবা কে কিল ঘুসি মারছে বেচারা তুবা হাসি বন্ধ করে দিয়ে পিয়াসার দিকে তাকিয়ে আছে হারামি করে কি।
এর পর তুবা ও ইনায়ার অবস্থা দেখে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে খেতে বলল—

দেখ! প্রকৃতির বিচার!
ইনায়া উঠে দাঁড়িয়ে রাগে বলল কে কলা খাইছে রাস্তায়? সামনে আয়!
বৃষ্টি একটু কমতেই— তিনজন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছে। চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে তিনটার ব্যাগের মধ্যে বই গুলোর অবস্থা ও বেহাল।
ঠিক তখনই একটা রিকশা এসে সামনে থামল।
রিকশাওয়ালা কাকু তিনজনের দিকে তাকিয়ে বলল— “যাইবেন মা?
তিনজন একসাথে উঠে বসল।
রিকশা চলতে শুরু করতেই— ইনায়া দুই হাত ছড়িয়ে বাতাস খেতে খেতে বলল— “আহহ! জীবন সুন্দর।
পিয়াসা সঙ্গে সঙ্গে বলল আর দুইদিন পর জ্বর আইলে জীবন ICU তে সুন্দর। তুবা হিহিহি করে হেসে দিল।
ইনায়া নাটকীয়ভাবে বলল— “তোরা বুঝবি না… বৃষ্টিতে ভেজার মধ্যে একটা সিনেমাটিক ব্যাপার আছে। আর সাথে যদি থাকে আমার শেহেজাদা উফফ আমার লজ্জা করে।
তুবা এবার জোরে হেসে উঠল— রিকশা দুলে গেল।
রিকশাওয়ালা কাকু পেছনে তাকিয়ে বলল— “মা হাসাহাসি কম করেন রিকশা ডা আমার পুরান।
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে ফিসফিস করে বললো কাকুর রিকশারও বয়স হইছে এখন আবেগে চলে।
পিয়াসা এবার ইচ্ছে করে তুবার কাঁধে মাথা রেখে বলল— “বেবি আমরা সারাজীবন আমারা এইভাবে থাকতে চাই ইন শা আল্লাহ থাকবো এই বলে তিন জনে জরিয়ে ধরে একে অপর কে।

কিছু সময় পর ইনায়া আর পিয়াসা বাড়ির সামনে আসতেই—দারোয়ান কাকু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
হাই আল্লাহ! এইডা কী অবস্থা মা? একটা কথা বুঝি না… তোমাদের বাড়িতে এত গাড়ি, এত ড্রাইভার— তোমরা এমন গাড়ি ছাড়া চলস ক্যান?
ইনায়া ভেজা চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বলল গুলু চাচা… এই কলেজ লাইফটা enjoy করতে চাই এইজন্য
তারপর চোখ ছোট করে বলল আপনি বুঝবেন না… অনেকদিন চাচির কাছে পান না তাই না?
দারোয়ান কাকু লজ্জা পেয়ে হেসে বলল।হয় নুর মা… মেলাদিন তোমার চাচিরে দেহি না।
ইনায়া বির বির করে বললো ইসস কতদিন এনজয় করেন না আমার মতো।
দারোয়ান কাকু হেসে বলল— “আর কিছু কইলে নাহি নূর মা।
ইনায়া দৌড় দিতে দিতে বলল না চাচা! পরে কথা বলমু আগে বাঁচি।
ব্যাস! দুইজন ভিজা ইঁদুরের মতো বাড়ির ভেতর ঢুকল।
ড্রইংরুমে ঢুকতেই— রেসমা চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরী সোফায় বসে গল্প করছিলেন।
দুইজনের চোখ একসাথে গিয়ে পড়ল ইনায়া আর পিয়াসার ওপর।
তারপর রেসমা চৌধুরী চিৎকার করে বললো

“ইয়া আল্লাহহহ।
উঠে দাঁড়িয়ে বললেন এই অবস্থা কী তোদের?
নুসরাত চৌধুরী দৌড়ে এসে ইনায়ার ব্যাগ টেনে ধরলেন। ব্যাগ থেকে পানি টুপটুপ করে পড়ছে।
নুসরাত চৌধুরী রেগে জানোয়ার তুই বই নিয়া সাঁতার কাটতে গেছিলি?
পিয়াসা আস্তে করে বলল ও মেঝো মা পরিস্থিতি এমন ছিল না ভিজলে হতো না।
রেসমা চৌধুরী বই খুলে চিৎকার করে উঠলেন এইটা বই নাকি ভেজা পরোটা?!
ইনায়া নিষ্পাপ মুখে বলল মা দেখতে তো বই এর মতোই লাগছে ।
চুপ কর জানোয়ার।
নুসরাত চৌধুরী এবার ইনায়ার কান ধরলেন বৃষ্টি দেখলেই তোদের মাথা নষ্ট হয় ক্যান।
ইনায়া কাঁদো কাঁদো গলায় বললো।মা ছাড়ো কান ছিঁড়ে গেলে ইউভি ভাইয়া আমাকে চিনবে না।
নুসরাত চৌধুরী মেয়ের মুখের ভাষা শুনে হতোবাক বলে কি এই জানোয়ার।
রেসমা চৌধুরী এবার পিয়াসার দিকে তাকালেন আর তুই? তুই তো শান্ত মেয়ে ছিলি।
উফফ মা বোঝো না কেন ঠিকি তো এই বয়সে বাবার সাথে লুকিয়ে লুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে ভার্সিটির তে জেতে সবি শুনেছি।

ব্যাস রেসমা চৌধুরী আর কোন কথা বললো না।
শুধু বললো জাতের দোষ একদম জাতের মতো হইছে।
ঠিক তখনই নুসরাত চৌধুরী ভেজা খাতা হাতে নিয়ে খুলতেই পাতাগুলো একসাথে লেগে চপচপ শব্দ করল। তিনি মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়লেন হে আল্লাহ এদের মানুষ করতে করতে আমি একদিন পাগল হইয়া যাবো।
ইনায়া ধীরে ধীরে গিয়ে মায়ের কাঁধে মাথা রাখল মা রাগ করো না আগামীবার ছাতা নিয়েই ভিজবো।
নুসরাত চৌধুরী এক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো হারা**মির বা*চ্চা
ইনায়া আর পিয়াসা এক দৌড় যে যার রুমে দৌড়ে চলে গেল আপনে বাচলে বাপের নাম পালা বেবি পালা

ইনায়া একটা সাদা চুড়িদার আর জিন্সের পিলাজো পরে চুলগুলো ঠিক করতে করতে হাতে ফোন নিয়ে পিয়াসার রুমের দিকে যাচ্ছে।
এইদিকে— মাত্রই ইউভি অফিস থেকে এসে ল্যাপটপ চালু করতে গিয়েই স্ক্রিনে ইনায়ার ছবি দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
আমার আদর।আজকাল ভালোই উড়ছিস।
তোর যত ইচ্ছা উড়ে বেড়া… দিন শেষে আমার খাঁচায়ই বন্দি করবো তোরে আদর।
ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল। ইউভির
এখন আমি অনেক ফ্রি… যেইটার জন্য লন্ডন আসা— আলহামদুলিল্লাহ আমি সেইটাই পেয়ে গেছি আদর।
এইদিকে ইনায়া পিয়াসার রুমে এসে দেখে পিয়াসা কারো সাথে ফোনে কথা বলছে।
ইনায়াকে দেখেই পিয়াসা বলল—
ওহ বেবি তুই আয় আমি ভাবছি অন্য কেউ…
এই বলে তাড়াতাড়ি ফোন কেটে দিল।ইনায়া চোখ ছোট করে বলল কার সাথে কথা বলছিলি?
পিয়াসা ঠোঁট কামড়ে বলল তোর ভাইয়া ছিল…
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে বললো কবে থেকে চলছে তোদের এইসব? বল তো! পিয়াসা বালিশ দিয়ে ইনায়াকে মেরে বলল বলবো বেবি… সময় হলে সব বলবো।
তারপর চোখ টিপে বলল আগে বল ওইদিকের কী খবর? ইনায়া নাটকীয় ভঙ্গিতে চুল ঝাঁকিয়ে বলল—
কী আর খবর থাকবে?

আমরা যা প্ল্যান করছি সেইটাই successful হয়েছে।
পিয়াসা খুশিতে ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল—
এই খুশিতে ডান্স হয়ে যাক!
ব্যাস! দুজন সাথে সাথে ফোনে গান ছেড়ে দিল—
বেল তলিতে সোলেমান,
ল্যাংটা দোহাই, ল্যাংটা দোহাই, ল্যাংটা…
কাটা কেল্লা, কাটা কেল্লা…
আল্লাহ করে আল্লাহ আল্লাহ গো…
নিসা আর কান্দুসা,
ভক্তে করে তোমার আশা…
রাহাত আলিসা সুবাহনাসা,
তুমি ভক্তের মুশকিল আশা…

গান বাজতেই দুজন পাগলের মতো নাচ শুরু করে দিল। ইনায়া ঘুরতে গিয়ে বিছানায় ধাপ্প করে পড়ে গেল। পিয়াসা হাসতে হাসতে বলল এই নাচ থামলি।কেন ইনায়া বালিশ ছুড়ে মেরে বলল—
দারা কুত্তি! তারপর দুজন আবার হেসে হেসে নাচতে লাগল।
একপর্যায়ে হাসতে হাসতেই দুজন বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ল। ইনায়া হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
বেবি… তুই যদি সারাজীবন আমার পাশে থাকিস না… আমার আর কিছু লাগবে না।
ভাগ্য করে তোকে পেয়েছি
পিয়াসাও মুচকি হেসে ইনায়ার হাত ধরে বলল—
আমিও বেবি ভাগ্য করে তোকে পেয়েছি
ইনায়া হঠাৎ পিয়াসার হাত চেপে ধরে বলল—
জানিস বেবি কাল রাতে তোর ভাইয়া আমাকে—
এর বেশি কিছু বলতেই দিল না পিয়াসা।
সাথে সাথে বুক ফুলিয়ে বলল—
জানি। আমার বেবি ভাইয়া তোকে আইসক্রিম আর চকলেটসহ ফ্রিজ গিফট করছে।
ইনায়া চোখ বড় বড় করে বলল হা! তুই জানলি কী করে? পিয়াসা কিছু না বলে হাতের ইশারায় নিজের পড়ার টেবিলের পাশ দেখাল।
ইনায়া তাকিয়ে দেখতেই—

একদম same একটা ছোট্ট ফ্রিজ দাঁড়িয়ে আছে।
দুইজন কয়েক সেকেন্ড হা করে তাকিয়ে রইল…
তারপর একসাথে চিৎকার করে উঠল—
ইয়েসসস! আমরা অনেক lucky girl
ব্যাস!
দুইজন হাত ধরে করিডোর দিয়ে দৌড়াতে লাগল।
রিমঝিমদের আসার সময় হয়ে গেছে।
যেতে যেতেই আয়াত আর আতিকার সাথে দেখা হয়ে গেল।আয়াত দৌড়ে এসে ইনায়াকে বললো
ইন্নু আপি কোলে নাও!
ইনায়া সাথে সাথে আয়াতকে কোলে তুলে নিল।
আর পিয়াসা আতিকাকে কোলে নিয়ে বলল—
আমাদের পাখি দুইটা কই যাইতেছে?
চার বোন মিলে হিহিহি করতে করতে আবার ইনায়ার রুমে ঢুকে পড়ল।
রুমে ঢুকেই— ফ্রিজ খুলে চকলেট আর আইসক্রিম বের করা শুরু।
আতিকা দুই হাতে দুইটা চকলেট ধরে বললো।
তোমাদের কাছে দোকান আছে আগে বলোনি কেন ও পিহু আপু আমাকে একতা দোকান দিবা।
ইনায়া সাথে সাথে বলল—

এই মেয়ে আগে বড় হও তোমাদের শেহজাদা রাই কিনে দিবে।
ঠিক তখনই— রিদ দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
তার চোখ সরাসরি গিয়ে পড়ল ফ্রিজের দিকে।
ওহহ… তাইলে এখানে গোপন চকলেট সিন্ডিকেট চলতেছে?”
পিয়াসা সাথে সাথে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করে দিল।
স্টপ! ছেলেদের প্রবেশ নিষেধ! ওকে মনে থাকে যেন দুই দিন পড়ে আমি সেলিব্রিটি হয়ে যাব তখন ছবি তুলতে এসো হুমমম। আর শোন আমি আজ ডান্স এ ফাস্ট হয়েছি।
সামনে আমি কতো দূর যাই তোমরা দেখো।
ঠিক তখনই— রিদ আবার গম্ভীর মুখ করে বলল—
নিচে … ফুপিমণিরা আসছে।
বাবা আর চাচ্চুরা তোদের নিচে যেতে বলছে।
বাবা চাচ্চুরা আর রেদোয়ান ভাইয়া ও আসছে।
এই বলে রিদ আর দারাই না সেখানে পিছু থেকে ইনায়া চিল্লিয়ে বলে এই ভাই শোন নিয়ে যা চকোলেট ভাই এই ভাই

ইনায়া পিয়াসা আয়াত আতিকা দৌড়ে নিচে আসে এসে দেখে রিমঝিম রাশেদ মির্জা রেদোয়ান বাড়ির সবাই গল্প করছে আবার গ্রামের থেকে তাদের ছোট দাদু এসেছে আতীক চৌধুরীর ছোট ভাই মোস্তাক চৌধুরী মেয়ে জামাই কে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য দাওয়াত দিতে আসছে।
মোস্তাক চৌধুরী ইনায়া আর পিয়াসাকে নিজের কাছে ডেকে বললেন আমার কাছে আসো গিন্নিরা।রিমঝিমের সাথে পরে কথা বলো।
ইনায়া গিয়ে মোস্তাক চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরে বলল— “কি ব্যাপার দাদুভাই? তোমার দাড়ি দুইদিন পর পর রূপ পাল্টায়! আগে ছিল কালো কিছুদিন আগে দেখলাম সাদা আর এখন লাল! কাহিনি কী বলো তো?
মোস্তাক চৌধুরী হেসে বললেন সবই আমার বউয়ের ভালোবাসা গো গিন্নিরা। এই বয়সেও সে পুকুর পাড়ের মেহেদি গাছ থেকে পাতা পেড়ে শিলনোড়ায় বেটে আমার দাড়ি আর চুলে দিয়ে দিছে। এই জন্য এমন লাল টুকটুকে লাগছে।
পিয়াসা সঙ্গে সঙ্গে বলল ওলে আমার লাল টুকটুক স্বামী গো কিহহ! দাদুভাই… এইভাবেই তো আদর করে দাদি তাই না?”

মোস্তাক চৌধুরী হাহাহা করে হেসে উঠলেন।
এরপর মোস্তাক চৌধুরী বললেন— শোনো উপস্থিত সবাই… আমার কিছু বলার আছে।
লিখন তুমি তো জানো ওই বাড়িতে কেউ থাকে না। শুধু আমি আর তোমার চাচি আর আমার ছোট ছেলে থাকে। আর ওর দুইটা মেয়ে। এইভাবেই চলতেছে দিন।
এই বাচ্চাগুলো তো দাদাবাড়ি চিনেই না। সেই ছোটবেলায়… আজ থেকে দশ বছর আগে বাচ্চাগুলো দাদাবাড়ি গেছে। ওদেরকে আর নিয়ে যাবা না এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিছো।
এখন আম, লিচু ভরে আছে গাছগুলো… পুকুর ভরা মাছ… গাছে গাছে তাল হইছে কত। আমি চাই বাচ্চাগুলো এইবার গরমের গ্রামটা ঘুরে আসুক।
ওদেরও অধিকার আছে দাদাবাড়ি দেখার।
আর নতুন জামাই-মেয়েকে দাওয়াত দিতে আসলাম। আমি দুইদিনের মধ্যে আমার বাড়ি উপস্থিত চাই। এইটাই আমার লাস্ট কথা।
লিখন চৌধুরী চাচার কথা শুনে রাতিব চৌধুরী আর রবিউল চৌধুরীর দিকে তাকালেন।এরপর রিমঝিম মুচকি হেসে মোস্তাক চৌধুরীর হাত ধরে বলল—

“চাচ্চু… আমরা সবাই যাবো ইন শা আল্লাহ।
অনেকদিন পর যাবো আমাদের বাড়িতে। আপনি আর রাগ করেন না প্লিজ। আমরা ছোট বড় সবাই যাবো।
মোস্তাক চৌধুরীর চোখদুটো কেমন যেন ভিজে উঠল।তিনি মাথা নেড়ে বললেন এই কথাটাই শুনতে চাইছিলাম মা ঠিক তখনই—
রেসমা চৌধুরী আর নুসরাত চৌধুরী বড় বড় ট্রে হাতে নিয়ে হাজির হলেন।
টেবিল ভর্তি নাস্তা সাজিয়ে দিতে দিতে রেসমা চৌধুরী বললেন—
ছোট চাচা… আমরা সবাই যাবো। এখন আপনি আগে খাবার খান।
নুসরাত চৌধুরীও হেসে বললেন হ এইবার আর কোনো অজুহাত চলবে না।
ব্যাস!পুরো বাড়ি আবার গল্প, হাসাহাসি আর খাওয়াদাওয়ায় জমে উঠল।সবাই যখন খাওয়ায় ব্যস্ত—
ঠিক তখনই রিমঝিমের ফোনে ভিডিও কল আসল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—
UVI
রিমঝিম কল রিসিভ করতেই—
ওপাশ থেকে ইউভি প্রায় চিৎকার করে উঠল—
পিইইই! আমি পেরেছি পি! আমি পেরেছি!
পুরো বাড়ির সবাই অবাক হয়ে ফোনের দিকে তাকাল।
ইউভি উত্তেজনায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—

এই দেখো! সব paper complete! সব approve হয়ে গেছে! আলহামদুলিল্লাহ!
এই বলে ক্যামেরার সামনে একের পর এক ফাইল দেখাতে লাগল সে।
রিমঝিম খুশিতে বলে উঠল কংগ্র্যাচুলেশন বাবা!
ইউভির চোখে-মুখে তখন অন্যরকম আলো দেখা দিচ্ছে ইউভি হেসে বলল—
আমি জানতাম পারবো… কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হবে ভাবি নাই। আল্লাহ সত্যি আমার কথা শুনেছ পি। নির্দিষ্ট তারিখ এর আগেই আমি ফিরে আসবো
তারপর একটু থেমে বলল—
পি… তোমরা বুঝতেছো না আজকে আমি কতটা happy।লন্ডনে আসার পর থেকে একটা দিনের জন্যও properly ঘুমাই নাই। শুধু এইটার পিছনেই দৌড়াইছি।”
রিমঝিম চৌধুরী গম্ভীর মুখে বললেন—

কষ্ট কখনো বিফলে যায় না বাবা।
ইউভি মাথা নেড়ে মুচকি হাসল।
তারপর হঠাৎ বলল—
পরে কথা বলছি পি।
কিছু সময় পর সবাই রাতের ডিনার শেষ করে যে যার রুমে চলে গেল।
চৌধুরী বাড়িটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে।
শুধু করিডোর জুড়ে ইনায়া আর পিয়াসার হাসাহাসির শব্দ ভেসে আসছে।
দুজন পাশাপাশি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে।
ইনায়া রেলিংয়ে হাত রেখে বলল—
“কি এমন কাজে তোর ভাইয়া লন্ডনে গেছিল রে বেবি? পিয়াসা ঠোঁট কামড়ে একটু ভেবে বলল—
জানি না রে… কিন্তু আজকে ভাইয়াকে যা খুশি দেখলাম না ইনায়া মাথা নাড়ল—
আমিও এর আগে এত খুশি দেখি নাই।
একদম পাগলের মতো চিল্লাচ্ছিল।
তোর ভাইয়ার হাসি দেখলে আমার কেন জানি বুকটা শান্ত হয়ে যায়
পিয়াসা সাথে সাথে চোখ ছোট করে তাকাল—
ওহহহ… কারো বুক শান্ত হয় বুঝি?
ইনায়া ভেংচি কেটে বলল এই বাল! বেশি বুঝিস না। পিয়াসা নাটকীয়ভাবে বুক চাপড়ে বলল—
“ইয়া আল্লাহ… প্রেম মানুষকে কতো বদলাইয়া দেয়।”
ইনায়া এবার হাসতে হাসতেই পিয়াসাকে ধাক্কা দিল।
চুপ কুত্তি!

চৌধুরী বাড়িটা এখন একদম শান্ত।
সারাদিনের হইচই, হাসাহাসি, দৌড়াদৌড়ির পর যেন পুরো বাড়িটা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছে…
মাঝে মাঝে রাতের হালকা বাতাসে বাগানের গাছগুলো দুলে উঠছে “শররর…” শব্দে।
আকাশটা এখনও মেঘলা।
চাঁদটা মাঝে মাঝে মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টির পরের ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশটা কেমন শান্ত আর মায়াময় হয়ে আছে।
বাড়ির করিডোরের হালকা হলুদ আলো নিঃশব্দে জ্বলছে।
দেয়ালে টাঙানো ঘড়িটার “টিক… টিক…” শব্দ যেন রাতের নীরবতাকে আরও গভীর করে তুলছে।
একেকটা রুমে সবাই ঘুমিয়ে গেছে।
কোথাও হালকা এসির শব্দ… কোথাও আবার ঘুমের মধ্যেই কারো অস্পষ্ট কথা।
বারান্দার গ্রিলে বৃষ্টির পানি এখনও ছোট ছোট ফোঁটার মতো ঝুলে আছে।
হালকা বাতাস এলেই টুপটাপ করে পড়ে যাচ্ছে নিচে।

রাত তখন দুইটা বাজে হঠাৎ ইনায়ার ঘুম ভাঙল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকতেই ইনায়া দেখল পিয়াসা active আছে সাথে রেদোয়ানও।
এরপর আবার ইউভির আইডিও active দেখে ইনায়া মুখ বাঁকিয়ে বলল— “বুঝলাম না… পিয়াসা আর ভাই না হয় প্রেম করছে… কিন্তু আমার বালের শেহেজাদা কী করছে? লন্ডন এ তো এখন মাএ রাত আট টা বাজে আমি কি বাল ভাবছি
“ধুর… ভালো লাগছে না। গলাটাও শুকিয়ে গেছে… আজ মা পানিও রেখে যায়নি।
বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামছে। চারপাশ কেমন ভয় ভয় লাগছে।
এরপর কী ভেবে ইনায়া পিয়াসাকে মেসেজ দিল—
বেবি… আমার সাথে একটু নিচে চল না। গলা শুকিয়ে গেছে। একটু ঠান্ডা পানি খাবো… চল না।
পিয়াসা সাথে সাথে রিপ্লাই দিল—
সালি আমাদের প্রেমটা মাত্র জমছে। চল না এসে আবার কথা বলিস।
এইদিকে পিয়াসা রেদোয়ানকে মেসেজ দিল—
আমি নিচে যাচ্ছি পানি খেতে। এসে কথা বলছি বেবি।
এরপর আর কোনো কথা না বলেই চলে গেল। আর এইদিকে রেদোয়ান হাজারটা মেসেজ দিল… কিন্তু পিয়াসা দেখল না।

পিয়াসা করিডোরে আসতেই ইনায়াকে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল তোর জন্য শান্তি নাই হারামি… চল।।এরপর দুজনে কিচেনে গিয়ে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করল।
তখনই পিয়াসার নজরে পড়ল পায়েস এর বাটিতে পিয়াসা পায়েসের বাটি নিয়ে একটু দূরে সরে গিয়ে খেতে লাগল। আর ইনায়া ফ্রিজের কাছে দাঁড়িয়ে পানি খাচ্ছে।
ঠিক তখনই— রেদোয়ান পিয়াসাকে দেখে রোমান্টিক সুরে বলল—
মেরি জান… তুমি একা একা নিচে আসছো? আমাকে বলবা না? আমাকে ভয় পাও পাখি… আমি অতটাও অভদ্র না জান। জাস্ট একটু হাগ একটু চুমুই তো চাই।
পিয়াসা ইশারা দিয়ে বারবার বলছে—
“চুপ করো! কে শোনে কার কথা
ওসভ্য নাম্বার টুটা আজ খেপে গেছে। শার্ট খুলে পিয়াসার দিকে এগিয়ে এসে বলল—
“Come on baby… জাস্ট একটু পায়েস খাবো… জাস্ট পায়েস। এই বলে যখনই শার্টটা ফ্রিজের দিকে ছুড়ে মারল— গিয়ে পড়ল ইনায়ার পায়ের কাছে।

রেদোয়ান যখনই শার্টের দিকে লক্ষ্য করে তাকাল— দেখে ইনায়া পানির বোতল মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রেদোয়ান একবার পিয়াসার দিকে তাকাচ্ছে… তো আরেকবার ইনায়ার দিকে।
এরপর টি-শার্ট দিয়ে মুখ ঢেকে এক পা দুই পা করে সরে যেতে লাগল।
আর এইদিকে— ইনায়া আর পিয়াসা হাসতে হাসতে মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে।
এরপর দুজনে হাসতে হাসতেই নিজেদের রুমে চলে গেল।
ইনায়া বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ল। চুলগুলো বালিশের উপর ছড়িয়ে আছে… বাইরে এখনো টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে।
ইনায়া আবার ফোন হাতে নিয়ে ইউভির আইডিতে ঢুকল। দুজনের পুরোনো মেসেজগুলো একটার পর একটা পড়তে লাগল।
কোথাও ইউভির রাগ… কোথাও আদর… কোথাও আবার ইনায়ার বেয়াদবি।
মেসেজ পড়তে পড়তেই ইনায়ার ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।
ঠিক তখনই—

ইউভি ইনায়াকে ভিডিও কল দিল।
ইনায়া কল রিসিভ করতেই দেখল— ইউভি রান্না করছে। চুলগুলো এলোমেলো… হাতে কাঠের চামচ… কিন্তু চোখ পুরোটা সময় শুধু ইনায়ার উপর।
ইউভি ইনায়াকে দেখেই ছোট করে বলল—
ব্যাস… আমি ফিদা।
ইনায়া ভ্রু কুঁচকে বলল— কেন?
ইউভি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলল—
তোর এলোমেলো চুল,উঞ্চ ঠোঁটে সুখনো হাসি,ব্যাস আমি ফিদা আদর।
তারপর চোখ ছোট করে বলল—
আমার টি-শার্ট পরে ঘুমাতে ভালো লাগে হুম্ম ম্যাডাম?
ইনায়া হালকা মলিন হেসে বলল—
খুব বাজেভাবে আসক্ত হয়ে গেছি আপনার উপর ইউভি ভাইয়া
ইউভি সাথে সাথে বুকের উপর হাত দিয়ে বলল—
ইসস কথাটা এখানে এসে লাগলো আমার আদর
ইনায়া লজ্জা পেয়ে বলল আপনি এখন কী করেন?
ইউভি চুলার দিকে তাকিয়ে বলল—
রান্না করি। ইনায়া অবাক হয়ে বলল—
আপনি রান্না পারেন?ইউভি ভ্রু তুলে বলল—

আমি পারি না এমন কোনো কাজ নাই মিসেস চৌধুরী।
ইনায়া বলল ছোট মা রান্না করেনি? ইউভি মাথা নাড়িয়ে বলল আমি আমার ফ্ল্যাটে।
মানে আপনি তিয়া আপুদের সাথে থাকেন না?
না আমার নিজের এতগুলা বাড়ি থাকতে ওই বাড়িতে কেন যাবো শুনি?
আর আমি নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করি।
এরপর ইউভি একটা চেরি ফল মুখে দিয়ে বলল—
ইসস… তোর মতো tasty…
ইনায়া ইউভির কথা না শোনার ভান করে বলল—
ইউভি ভাইয়া দেশে আসবেন না? ওইখানে ভালো লাগছে আপনার?
ইউভি কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বলল—
সারাদিন ভালোই কাটে রাত হলে বুঝা যায় বউয়ের অভাব।
ইনায়া সাথে সাথে বলল—
আপনি বড্ড অসভ্য তো… দিন দিন বেহায়া হয়ে উঠতেছেন। ইউভি হেসে বলল—
“চাচির বেটি… ভালো করে শুনে রাখ যে প্রেমে প্রেমিক প্রেমিকা বেহায়া হয় না সেই প্রেম প্রেম না। বুঝছো?
তারপর ধীরে বলল—

আর কে যেন বলছিল আগে প্রেম করবো then বিয়ে? কী হলো?
ইনায়া ঠোঁট কামড়ে চুপ করে রইল।
ইউভি এবার গম্ভীর গলায় বলল প্রেমের আসল রূপ হলো— একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা। আর আমি ভালোবাসা বুঝি না বুঝি… ভালোবাসলে নির্লজ্জের মতো ভালোবাসতে হয়।
তারপর মুচকি হেসে বলল—
আর আমি রোজই নির্লজ্জের মতো তোকে ভালোবাসি।
ইনায়া অবাক হয়ে বলল—
মানে?
ইউভি কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বলল—
তোর কোমরে… বা সাইডে যে লাল তিলটা আছে… সেখানে আমি রোজ চুমু খাই… খুব গভীরভাবে।
ইনায়া লজ্জায় চোখ বড় বড় করে বলল—
কিহহ! কখন?
ইউভি আরেকটা চেরি মুখে দিয়ে ফোনের খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বলল—
Sorry মিসেস চৌধুরী আপনাকে না জানিয়েই স্বপ্নে আপনার সাথে অনেক কিছু করে ফেলছি বড্ড জ্বালাচ্ছেন আপনি।

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৫

তারপর নিচু গলায় বলল—
কী জানি কখন কোন ঝড় উঠে আপনার উপর… সাবধানে থাকেন।
ইনায়া লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলল।
ইউভি মুচকি হেসে আবার বলল—
এখোন ও ধরলাম না স্পর্শ করলাম না তাই এতো লজ্জা বাহহ লিখন চৌধুরীর আর দাদা ডাক শোনা লাগবে না
ইনায়া চোখ ছোট করে একটু লাজুক হাসি দিয়ে বলল— ইউভি ভাইয়া… একটা গান শোনাবেন?
ইউভি কয়েক সেকেন্ড ইনায়ার মুখের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকল। চোখে একরকম নরম ভালোবাসা, ঠোঁটে ছোট্ট হাসি।
তারপর আস্তে করে বলল “I am coming back to you, just one minute, my wife.”

শেহেজাদার আদর পর্ব ২৭