Home এক মুঠো চাঁদের আলো এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৯

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৯

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৯
নুসরাত ফারিয়া

কয়েকদিন পরের কথা—
আলো তার স্বামীর সাথে বাবার বাড়িতে এসেছে। আজ রহিতের গায়ে হলুদ! তাদের আরো এক সপ্তাহ আগে আসতে বলা হলেও আধার কাজের জন্য তাড়াতাড়ি আসতে পারেনি। আর না একা একা আলোকে পাঠিয়েছে। সে নিজের সাথে করেই নিয়ে এসেছে। পুরো বাড়িতে হালকা ডেকোরেশন করা! জাঁকজমক ভাবে বিয়েটা না হলেও সকল পরিচিত, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের দাওয়াত করেছে। বাগানে রহিতের গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে। চারিদিকে বাচ্চারা ছোটাছুটি করে খেলাধুলা করছে। আর কাজিন, বন্ধুবান্ধবরা রহিতকে হলুদ দিয়ে ভূত বানাতে ব্যস্ত। ছেলেটা আজ ভীষণ খুশি। সে জানত মেঘলা তাকে পছন্দ করত, আর সে নিজেও মনে মনে ভালোবাসত মেয়েটাকে। তবে কখনো সেটা প্রকাশ করেনি। মনের গহীনে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসাটা প্রকাশ না করেও নিজের প্রিয় মানুষটিকে নিজের করে নিয়েছে। আর শুধু একটা দিন বাকী, তারপরই মেয়েটাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী রূপে দেখবে।

-“এ্যাই…এ্যাই! খবরদার একটুও হলুদ মাখাবি না আমাকে।”
ছায়া, মায়া হলুদের বাটি নিয়ে ছুটে এসে বড় বোনকে মাখাতে গেলে আলো চিল্লিয়ে উঠল। এতে ছায়া কপাল কুঁচকে বলল,
-“মাখালে সমস্যা কী?”
-“অনেক সমস্যা। আমার বর থাকতে তোদের থেকে প্রথম হলুদ মাখিয়ে নিবো কেন, হুহ্?”
ছায়া, মায়া সরু চোখে তাকায়। আলো মুখ ভেংচি কেটে ছোট বোনের হাত থেকে হলুদের পাত্রটা নিয়ে বাহিরে যেতে যেতে ভাব নিয়ে বলল,
-“মুই মোর প্রেয়ারের সোয়ামির থেইকা হলুদ মাখায় নিমু, হুহ্!”
ছায়া আফসোসের সুরে বলল,
-“আজ একটা প্রেয়ারের সোয়ামি নেই বল্লে…!”

আলো বাইরে এসে এদিকওদিক তাকিয়ে স্যারকে খুঁজছে। এই লোকটা আবার কোথায় হাওয়া হয়ে গেল কে জানে। তবে তাকে আর বেশিক্ষণ খুঁজতে হলো না। ওই তো একটা নিরিবিলি জায়গায় গাছের নিচে, পায়ের ওপর পা তুলে চেয়ারে বসে থেকে ফোন টিপছে। পরণে কালো শার্ট-প্যান্ট। সবাই হলুদ, সাদা পাঞ্জাবি পরলেও লোকটা পরেনি।
আধারের মনোযোগ নষ্ট হয়, নূপুরের রিনঝিন মৃদু শব্দে। সে ফোনের স্ক্রিন থেকে নজর সরিয়ে, মুখ তুলে সামনে তাকায়। পাঁজি মেয়েটা হাসিমুখে তার দিকেই হেঁটে আসছে৷ পরণে কাঁচা হলুদের শাড়ি, যেটা বাঙালিয়ানার মতো করে পরেছে। কানে, গলায়, কাঁচা ফুলের গহনা, মাথার চুলগুলো খুব সুন্দর করে উঁচিয়ে খোঁপা বাঁধা, তার চারিদিকে বেলি ফুলের মালা পেঁচিয়ে রাখা! কানের পাশে দুটো হলুদ গোলাপ খুঁজে রাখা, দুই গালের পাশে ছোট চুল ছেড়ে দেওয়া আর কপালে টিকলি আর দু’হাত ভর্তি চুড়ি। ফর্সা চেহারায় হালকা সাজ!
মেয়েটার আগাগোড়া পরখ করতে করতে আধারের মেজাজ খারাপ হলো৷ এই মেয়েটা এত সেজেছে কেন? নাকি কোনো মতলব আছে?

-“এই যে মাস্টারমশাই? আমাকে কেমন লাগছে?”
আলো কাছে এসে হাসিমুখে জানতে চাইল। আধার ফোন পকেটে ভরে উঠে দাঁড়িয়ে কোনো বার্তা ছাড়াই, মেয়েটার কানের পাশে গুঁজে রাখা দুটো গোলাপ ছিনিয়ে নিয়ে অদূরে ছুঁড়ে মে’রে বলল,
-“একদম বাজে!”
আলোর ঠোঁটের কোণ থেকে হাসি গায়েব হয়ে গেল৷ সে কয়েকবার চোখের পলক ঝাপটিয়ে নিজের খারাপ লাগাকে লুকিয়ে রেখে, শান্ত গলায় বলল,
-“সবাই আমার প্রসংশায় পঞ্চমুখী হলেও, এই আপনিটার চোখে কখনো সুন্দর হতে পারলাম না৷”
আধার কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
-“আজ তোমার গায়ে হলুদ?”
-“না।”
-“তাহলে এই পেত্নীর মতো সেজেছো কেন?”
-“কেন আবার? ছেলেদের পটানোর জন্য!”
আলো সোজাসাপ্টা জবাব দিল। আধার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বিরবির করে বলল,
-“যেই ছেলের মানষিক সমস্যা আছে, ওই ছেলেই তোমার ভুতের মতো রূপ দেখে গলবে।”
আলো বিরক্ত হয়। নিজের হাতের হলুদের বাটি এগিয়ে দিয়ে বলল,
-“আমাকে হলুদ লাগিয়ে দিন।”
আধার মুখ সরিয়ে নিয়ে বলল,
-“পারব না।”
-“আপনি এত আনরোমান্টিক কেন?”
আলো চোখমুখ কুঁচকে বলল। আধার তড়াক করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে, হলুদের বাটি নিয়ে পুরোটাই আলোর মাথার ওপর ঢেলে দিয়ে বলল,

-“রোমান্টিকের প্রমাণ পেলে?”
আলো এক মূহুর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছায়া খিলখিল করে হেঁসে উঠে আপুর উদ্দেশ্যে বলল,
-“নাও, নাও! আরো বেশি করে সোয়ামির থেকে হলুদ মাখিয়ে নাও।”
আলোর শরীর রাগে জ্বলে উঠল। সে হিসহিসিয়ে বলে উঠল,
-“আপনাকে আমি গোবর মাখাবো!”
আধার বাঁকা হেঁসে সামান্য ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“আর আমি আপনাকে খাওয়াবো।”
আলো দাঁতে দাঁত পিষে সেখান থেকে হনহনিয়ে চলে গেল বাড়ির ভেতর!
দুপুর হয়ে আসায় আধার রুমে এসে দরজা বন্ধ করে শার্টের বোতাম খুলতে লাগল। আগেরবার সিঙ্গেল বেড থাকলেও এবার মতিউর রহমান নতুন করে বড় বেড বানিয়ে মেয়ের ঘরে দিয়েছে৷ যেন দুজনের কোনো অসুবিধা না হয়! আধার শার্ট খুলে পাশে ফিরতেই হার্টবিট থেমে গেল।
ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেরিয়েছে আলো। পরণে এলোমেলো চেরি রঙের জর্জেট শাড়ি! লম্বা আঁচল কাঁধে তুলে রাখায়, সাদা ধবধবে পেটের অর্ধেক অংশ দৃশ্যমান। যেখানে তার ওইদিনের চিমটি দেওয়ার হালকা দাগ এখনো রয়েছে। ভেজা চুলগুলো থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে, সদ্য গোসল করা রমণীকে দেখতে অনেক স্নিগ্ধ লাগছে।
আলো তোয়ালে দিয়ে মাথার চুলগুলো মুছতে মুছতে সামনে তাকাতেই কপাল কুঁচকে গেল। তবে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে বারান্দায় চলে যাওয়ার সময় শুনতে পেল,

-“শাড়ি ব্যতীত তোমার অন্য ড্রেস নেই?”
আলো পিছনে ফিরে জবাব দিল,
-“অবশ্যই আছে। কিন্তু কেন? আপনি পরবেন?”
আধার শান্ত গলায় বলল,
-“শাড়ি চেঞ্জ করে গাউন নয়তো থ্রি-পিস পরো।”
-“সকালে আমি আপনাকে পাঞ্জাবি পরতে বলেছিলাম, কিন্তু আপনি আমার কথা শুনেনি। তাই এখন আমিও আপনার কোনো কথা শুনব না। আমার যেটা ইচ্ছে সেটাই প…!”
আলো সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই অনুভব করল, তার শরীর থেকে শাড়ি খুলে গেছে। আলো রাগে চিল্লিয়ে উঠল,

-“এ্যাইইই….আপনার সমস্যা কী বলুন তো? আমার সবকিছুতে আপনার এত আপত্তি কিসের?”
আধার ঝড়ের বেগে তেড়ে এসে মেয়েটার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,
-“আওয়াজ একদম নিচে!”
আলোর গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। আধার চোয়াল ছেড়ে দিয়ে পিছনে ফিরে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
-“আমি চাই না, কেউ তোমার দিকে বাজে নজর দিক!”
আলো নাক টেনে ঝাঁঝাল কণ্ঠে বলল,
-“সেটা তো ভালো করে বলতে পারতেন।”
-“আমি ভালো কথা বলতে পারি না।”
-“হ্যাঁ, সেটা কেন পারবেন। আপনি তো পারেন শুধু রাগ দেখাতে আর ধমকাধমকি করতে।”
-“আমি এমন-ই!”
-“আমি এমন-ই!”
আলো মুখ ভেঙিয়ে বলল। আধার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই আলো চুপচাপ এগিয়ে এসে আলমারি খুলে সেলোয়ার-কামিজ নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। আধার ফ্লোরে পড়ে থাকা শাড়িটার দিকে তাকিয়ে থেকে আনমনে বলে উঠল,
-“দিনদিন আমি এত রুড হয়ে যাচ্ছি কেন? হোয়াই??”

দুপুরের সবার খাওয়াদাওয়ার পালা শেষ। কিন্তু আলো এখনো খায়নি। সে দু’হাত ভরতি মেহেদী দিয়ে টইটই করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবার মেহেদী দেওয়ার কথা রাতে থাকলেও সে আগেভাগে দিয়েছে। নয়তো দেখা যেত, মেহেদী হাতের বদলে বিছানার চাদরে লেপ্টে গেছে। তারপর মায়ের বকুনি ফ্রী!
আলো রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে দেখল, সবাই কাজে ব্যস্ত। তবুও সে তার মায়ের উদ্দেশ্যে বলল,
-“মা?? খুব খিদে পেয়েছে। একটু খাইয়ে দাও না!”
রান্নাঘর থেকে আলেয়া রহমানের কণ্ঠস্বর ভেসে এল,
-“কেন? তোমার হাত নেই?”
-“আছে তো। কিন্তু হাতে মেহেদী দেওয়া!”
-“বলেছিলাম না? মেহেদী দেওয়ার আগে খাবার খেয়ে নাও?”
-“তখন খিদে পায়নি তো।”
-“তাহলে এখন উপোস করে বসে থাকো। আমি কাজ শেষ করে আসতেছি!”
-“তুমি আমার মায়ের থেকে প্রতিবেশী আন্টি লাগো বেশি।”
আলো বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে ড্রয়িংরুমে এসে সোফায় বসল। তখন খেয়াল করল আধার স্যার রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। এটা দেখে সে গলা উঁচিয়ে বলল,

-“ওই স্যার? কী লাগবে আমাকে বলুন, আমি এনে দিচ্ছি।”
আধার ঘাড় ঘুরিয়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“তা কি দিয়ে এনে দিবে? পা দিয়ে?”
আলো চোখমুখ কুঁচকে বলল,
-“আপনিও আমার স্বামীর থেকে বেশি প্রতিবেশী কাকু লাগেন!”
-“তুমিও বউয়ের থেকে বেশি প্রতিবেশী ঝগড়ুটে মহিলা লাগো।”
একথা বলে আধার রান্নাঘরে চলে গেল। আর আলো সোফায় দু’হাত মেলে দিয়ে, পিছনে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বুজে বিরবির করল,
-“সব ক’টা মীরজাফরের দল!”

কিছুক্ষণ পর নাকে পোলাও ও মাংসের ঘ্রাণ আসতেই আলো চট করে চোখ মেলে তাকায়। সোজা হয়ে বসতেই খেয়াল করল, আধার স্যার খাবারের প্লেট নিয়ে তার পাশে বসেছে। এটা দেখে মূহুর্তেই খুশি হয়ে গেল আলো। সে আরো এগিয়ে এসে দু পা তুলে সুন্দর করে স্যারের সামনে বসল। আধার কিছু না বলে চুপচাপ মেয়েটাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে লাগল। আর মাঝেমধ্যে টিস্যু দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে দিতে থাকে।
দূর থেকে এই দৃশ্যটা মতিউর রহমান দেখে মুগ্ধ হলেন। তার মেয়েটা খেতে খেতে বকবক করছে, আর ছেলেটা মনোযোগ সহকারে শুনছে। মাঝেমধ্যে ত্যাড়া জবাব দিলে মেয়েটা গাল ফুলিয়ে রাখছে। আবার পর মূহুর্তে স্যারকে জ্বালাতে শুরু করল। তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে ওখান থেকে চলে গেলেন।
আলো কথা বলে বলে আধারের মাথা ব্যথা তুলে ফেলেছে। আধার দাঁতে দাঁত চেপে সব বকাবকি মুখ বুঁজে সহ্য করে নিল। তখনই তার চোখে পড়ল পোলাও এর মধ্যে দুটো এলাচি! এটা দেখে মনে মনে ক্রুর হেঁসে পোলাও ও মাংসের ভেতর দুটো এলাচি নিয়ে আলোর মুখের সামনে ধরল। মেয়েটা সরল মনে মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ চিবোতেই থমকে গেল। চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে স্যারের দিকে তাকাতেই আধার শব্দ করে হেঁসে উঠল। কারণ মেয়েটার রক্তিম চেহারাটা দেখার মতো!
এই প্রথম স্যারকে মন খুলে হাসতে দেখে আলো মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থেকে হাসল। লোকটাকে হাসলে কত্ত সুন্দর লাগে। অথচ মানুষটা হাসতেও কিপ্টামি করে। মেয়েটাকে নিজের দিকে ওমন করে তাকিয়ে থাকতে দেখে আধার নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,

-“বেসিনে মুখের খাবার ফেলে দিয়ে এসো।”
কিন্তু আলো গেল না। সে স্বাভাবিক ভাবে মুখের খাবার চিবিয়ে খেয়ে নিল। এটা দেখে আধার থমথমে মুখে বসে থাকল। তখনই তার নজর যায়, মেয়েটার দু’হাতের তালুতে। যেখানে তার নাম জ্বলজ্বল করছে! ডানহাতে আরবিতে ও বামহাতে ইংরেজিতে ছোট্ট করে লেখা—আধার।
স্যারের নজর খেয়াল করে আলো নিজের হাতের দিকে তাকায়। তারপর হাত দুটো পিছনে আড়াল করে নিল। এটা নিয়ে না আবার লোকটা তাকে কিছু বলে। কিন্তু আধার কিছুই বলল না। চুপচাপ তাকে খাইয়ে দিতে থাকল!
রাতের বেলা সব কাজিনরা মিলে ঠিক করেছে আজ ছাঁদে শোবে। কারণ এতগুলো মানুষের রুমে জায়গা হবে না। তাই ছাঁদে দুই পাশে বিছানা পাতা হয়েছে। একপাশে থাকবে ছেলেরা ও অন্য পাশে থাকবে মেয়েরা। ছায়া, মায়া আগেই চলে গিয়েছে। আলো নিজের বালিশ বগলদাবা করে ললিপপ খেতে খেতে করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল। উদ্দেশ্যে সিঁড়ি বেয়ে ছাঁদে যাওয়ার। আধার স্যার এসব পছন্দ করেন না, তাই উনাকে নিজের পুরো রুমটাই ছেড়ে দিয়েছে। আজ বদমাইশ লোকটা থাক একা!
এসব ভাবার মাঝেই আলো অনুভব করল পিছন থেকে কেউ তার বিনুনি চেপে ধরেছে। আলো বিরক্তিতে মুখ দিয়ে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করল। মুখ থেকে ললিপপ বের করে, ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে খ্যাক করে বলল,

-“এখানেও আবার চুল ধরে টানাটানি শুরু করেছেন?”
প্রতিত্তোরে আধার কিছু না বলে মেয়েটার হাতের বাহু চেপে ধরে টেনেটুনে নিজের সাথে নিয়ে যেতে লাগল। রুমে এসে বিছানায় ছুঁড়ে মা’রল মেয়েটাকে। তারপর দরজা লাগাতে লাগাতে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
-“এখানেই ঘুমাও!”
আলো সোজা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে, পিছনে ফিরে হাতে থাকা বালিশটা স্যারের দিকে ছুঁড়ে মে’রে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
-“আপনি আমার জীবনটা জ্বালিয়ে খাচ্ছেন।”
আধার বালিশটা ক্যাচ করে ধরে, বিছানায় ছুঁড়ে মা’রল। তারপর দু’হাত ট্রাউজারের পকেটে গুঁজে এগিয়ে আসতে আসতে ধীর কণ্ঠে বলল,

-“তুমি ঘুমানোর সময় কেমন হয়ে থাকো, সেটা জানো? অর্ধনগ্ন হয়ে থাকো। ঘুমের স্টাইল এত জঘন্য তোমার। সেই জায়গায় তুমি কি-না অত গুলো ছেলেদের সাথে ছাঁদে থাকবে? আর ইউ সিরিয়াস মিসেস খান?”
-“ছেলেদের সাথে না, বলুন মেয়েদের সাথে। আর অনেকগুলো কম্ফোর্টার রয়েছে। কোনো সমস্যা হবে ন..!”
-“আমার বেডেও কম্ফোর্টার রয়েছে, এমনকি তুমি শোয়ার সময় ওই কম্ফোর্টারের নিচেই শোও! কিন্তু ঘুমানোর পর তুমি কম্ফোর্টারের নিচে না, বরং কম্ফোর্টার তোমার নিচে থাকে। সাথে পরণের টি-শার্ট, প্লাজু ওপরে!”
আলোকে সম্পূর্ণ কথা বলতে না দিয়ে আধার বলে উঠল। আলো কিছু না বলে লজ্জায় মুখ সরিয়ে নিল। মানছে তার ঘুমিয়ে থাকা ভালো নয়, তাই বলে লোকটা মুখের উপর এইভাবে বলবে?
আধার মেয়েটার কাছে এসে মাথা নিচু করে, কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
-“সবাই আপনার স্বামীর মতো এত ভদ্রলোক নয় ম্যাডাম! যে আপনাকে অর্ধনগ্ন অবস্থাতে দেখেও নিজেকে শান্ত রাখবে।”
একথা বলে আধার সরে গেল। ওয়াশরুম দিকে যেতে যেতে স্বাভাবিক গলায় বলল,

-“তবুও যদি আপনার সবার সাথে ঘুমাতে ইচ্ছে করে, তাহলে যেতে পারেন আপনি।”
আধার ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দেখে আলো নেই! এটা টের পেতেই চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। মেয়েটা এত কিছু শোনার পরেও চলে গেল? আধার হাতের তোয়ালে সোফার ওপর রেখে রুমের বাতি নিভিয়ে বিছানায় উবুড় হয়ে শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজল। মেয়েটা যেখানে ইচ্ছে সেখানে থাক, তাতে তার কিছু যায় আসে না।
অনেকটা সময় পর আলো হাতে করে পানির জগ নিয়ে রুমে এল। সে মূলত নিচে পানি নিতে গেছিল! রাতে যদি পিপাসা লাগে, তখন?

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৮

দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে টি-টেবিলের ওপর জগ রেখে বিছানায় এল। স্যারের চোখমুখের সামনে কয়েকবার হাত নিয়ে চেক করল, ঘুমিয়ে আছে নাকি ঘুমের ভান করছে। আলো কিছু বুঝতে না পেরে চুপচাপ, স্যারের উদোম পিঠের ওপর মাথা রেখে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর দু’হাত চোখের সামনে নিয়ে এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে মনে মনে বিরবির করে বলে উঠল,
-“মেহেদী রাঙা হাতে লেখেছি আপনার নাম, আর এ জীবনে শুধু চেয়েছি এই পঁচা….আপনিটাকে!”

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৩০