শেহেজাদার আদর পর্ব ৩৯
সুমাইয়া ইসলাম নূর
সকালের নরম রোদ জানালার সাদা পর্দা ভেদ করে পুরো হাসপাতালের কেবিনটায় ছড়িয়ে পড়েছে।
বাইরে হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে।
করিডোরে নার্সদের আস্তে হাঁটার শব্দ আর দূরে কোথাও অ্যাম্বুলেন্স এর আওয়াজ ভেসে আসছে।
আজ অনেকদিন পর সকালের পরিবেশটা একটু শান্ত লাগছে।ভয় আর অস্থিরতার বদলে সবার মুখে হালকা স্বস্তি ফুটে উঠেছে।
ইনায়ার কেবিনের ভেতরে—
বিছানার পাশে বসে আছে পিয়াসা আর তুবা।
দুজনেই আস্তে আস্তে গল্প করছে যাতে ইনায়ার disturb না হয়।
আর পাশে সোফায় বসে রেশমা চৌধুরী খুব যত্ন করে ফল কাটছেন।
মাঝে মাঝে চোখ তুলে ইনায়ার দিকে তাকাচ্ছেন আর মুচকি হাসছেন।
ঠিক তখনই কেবিনের দরজাটা আস্তে করে খুলে গেল।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইউভি আর রেদোয়ান।
সকালের নরম আলো এসে ইউভির উপর পড়ছে।
হালকা আকাশি রঙের শার্ট, সাদা জিন্স… এলোমেলো চুলগুলো তাকে আরও স্মার্ট লাগাচ্ছে।
এক হাতে ফোন… অন্য হাত পকেটে ঢুকানো।
চোখেমুখে সেই চিরচেনা calm but dangerous ভাইব।
ইউভি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে বলল—
— “গুড মর্নিং মা
পিয়াসা সাথে সাথে হেসে ফেলল।ভাইয়া আজ মুড ভালো নাকি? ইউভি ভ্রু তুলে তাকালো।আমার মুড এক্সপেনসিভ, পিয়াসা…সবাই afford করতে পারে না।
ইনায়ার এক ধ্যানে ইউভির দিকে তাকিয়ে আছে
ইউভি পাত্তা না দিয়ে রেশমা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল—
“মা… আজ আদর কে।বাসায় নিয়ে যেতে হবে।”
রাজ্যের সাথে already কথা হইছে।
— “He said she’s stable now.”
তারপর রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল—
রেদোয়ান তোমাদের বাসায় drop করে দিবে।So সবাই ready থাকো…কথাটা শুনে পিয়াসা খুশিতে বলে উঠল ইয়েসস! ফাইনালি বেবি বাসায় যাবে”রেদোয়ান সাথে সাথে তাকালো পিয়াসার দিকে।
— “Relax drama queen…”
— “এটা hospital, concert hall না।”
কেবিনের ভেতর হালকা হাসির আবহ তৈরি হলো।
এদিকে রেশমা চৌধুরী ফল কাটতে কাটতেই বললেন—ঠিক আছে বাবা…তোরা দুইজন নাস্তা করছিস?”নাকি নাস্তা দিবো?”
ইউভি সোফার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ইনায়ার দিকে তাকালো।
তারপর গম্ভীর কিন্তু lazy ভঙ্গিতে বলল—
— “No mom…”
তুমি তোমার বিয়াদোব৷ মেয়েটা কে খাওয়াও
ইনায়া সাথে সাথে চোখ ছোট করে তাকালো ইউভির দিকে ।
ইউভি মুচকি হেসে বলল—
— “Seriously মা…”
— “এই মেয়ের ব্রেন দিন দিন হাটুর নিচে নামতেছে…একটু হেলদি ফুড খাওয়াও”
— মেবি তারপর কিছু সেন্স আসবে…”
পিয়াসা আর তুবা একসাথে হেসে উঠল।
ইনায়া ঠোঁট ফুলিয়ে বলল আমি কোনো বিয়াদোব না…ইউভি ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে নিচু হলো।
তারপর খুব আস্তে ফিসফিস করে বলল—
— “Yeah right…”
তুই বেয়াদব না তুই তো পৃথিবীর সবচেয়ে ইনোসেন্ট বেয়াদব…ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে ফেলল।
কিন্তু মুখটা হালকা লাল হয়ে গেছে।
আর সেটা দেখে ইউভির ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে satisfied হাসি ফুটে উঠল…
ইউভি মুচকি হেসে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
তারপর শার্টের হাতা ঠিক করতে করতে দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।
দরজার কাছে গিয়ে রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল আমার তিয়ার সাথে একটা ভিডিও কনফারেন্স মিটিং আছে…সাথে চাচ্চুও থাকবে…
— “I’m leaving.”
তারপর ফোনটা হাতে ঘুরিয়ে আবার বলল—
— “তুই ওদের safely বাসায় পৌঁছে দিস…”
রেদোয়ান মাথা নাড়ল।আচ্ছা ভাইয়া…”
“তিয়া” নামটা কানে যেতেই ইনায়ার মুখটা সাথে সাথে গম্ভীর হয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকালো।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে মেয়েটা রাগে জ্বলছে।
মনে মনে দাঁত চেপে বলল হুহ… তোমারে ওই তিয়ার সাথেই মানায়…বালের শেহজাদা।
তারপর চোখ ছোট ছোট করে মনে মনে আবার বললআমিও তোমারে দেখায়ে দিবো, মিস্টার ইউভি চৌধুরী…এই ইনায়া নূর চৌধুরী এত সহজ না…
তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
— “আমি তোমার গুটি দিয়া ছক্কা মারবো।
জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ…”
এদিকে ইউভি দরজা খুলে বের হতে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই ইনায়া হঠাৎ ডেকে উঠল—
ভাইয়া…”
ইউভি পিছনে ফিরে তাকালো।
রেদোয়ান বললো“হুম?”
ইনায়া এবার একটু সোজা হয়ে বসলো।
তারপর শান্ত গলায় বলল আমার দ্রুত বাসায় যেতে হবে…রেশমা চৌধুরী অবাক হয়ে তাকালেন।
—এখনি কেন মা? ইনায়া খুব আস্তে বলল—
— “বাবা আর চাচ্চুদের সাথে আমার কিছু important কথা আছে।
— “খুব important…”
কথাটা বলেই সে একবার ইউভির দিকে তাকালো।
আর ইউভি…সে স্থির চোখে কয়েক সেকেন্ড ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর ধীরে ধীরে ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বলল—
— “Interesting…
সন্ধ্যা নেমে এসেছে ধীরে ধীরে।
চৌধুরী বাড়িটার চারপাশে ছোট ছোট লাইট জ্বলছে। দূরের আকাশে মাগরিবের শেষ লালচে আভাটা মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
হালকা বাতাসে বারান্দার সাদা পর্দাগুলো দুলছে।
বাড়ির ভেতর আজ অন্যরকম একটা পরিবেশ।
অনেকদিন পর ইনায়া বাড়ি ফিরেছে… তাই সবার মনেই অদ্ভুত এক শান্তি।
পূরো হলরুমে চৌধুরী পরিবারের সবাই বসে আছে।
রবিউল চৌধুরী সোফার একপাশে চুপচাপ বসে আছেন।রেশমা চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী একদৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছেন।
রেদোয়ান সোফার হাতলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আর ইউভি…
সে একটু দূরে বসে হাতে কফির মগ নিয়ে নিশ্চুপভাবে ইনায়ার কথা শুনছে।
ইনায়া আজ হালকা সাদা-আকাশি রঙের থ্রি-পিস পরে আছে।লম্বা লালচে চুলগুলো খোলা।
মুখটা এখনও একটু ফ্যাকাশে লাগছে কিন্তু চোখদুটো আগের মতোই জেদি ভাব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ।
হঠাৎ রাতিব চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন।তুমি সময় নাও নূর…হঠাৎ করে এমন ডিসিশন কেন নিচ্ছো?।তুমি এখনও অনেক ছোট মা
ইনায়া শান্ত চোখে বাবার দিকে তাকালো।
তারপর ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসে বলল—
ছোট-বড় ম্যাটার করে না বাবা…আমি যদি যোগ্য হই… তাহলে তোমরা কেন আমাকে অফিস জয়েন করতে দিবা না?
সবাই চুপ হয়ে শুনছে।
ইনায়া এবার একটু দৃঢ় গলায় বলল আমি নিজেকে প্রুভ করতে চাই…আমি দক্ষ বিজনেসওম্যান হয়ে দেখাতে চাই।ভাইয়া লন্ডনের যেই ইউনিভার্সিটি থেইকা প্রিপারেশন নিছে…আমিও ওইখানে পড়তে চাই।।রেদোয়ান অবাক হয়ে বলল—
— “তুই সিরিয়াস বোনু?”
ইনায়া এবার ছোট্ট করে মাথা নাড়ল।
— “হ্যাঁ…আমি London School of Economics and Political Science এ বিজনেস আর ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়বো। আর ইন্টার্ন করবো আমাদের কোম্পানিতে।
কথাটা শুনে পূরো হল শুনে হলরুমের সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।আর ইউভি…
সে চুপচাপ কফি খাচ্ছে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
মনে মনে বলল—গাধাটা তো দেখি সত্যিই একটু বুদ্ধিমান হইছে”মনে হয় ব্রেইন হাঁটু থেকেএকটু উপরে উঠছে।
তার ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি ফুটে উঠল।
তারপর আবার মনে মনে বলল—এই সেই মেয়ে…”
— “যে পড়ালেখা করবে না বলে বইখাতা বৃষ্টিতে ভিজিয়ে এনেছিল।
বাবা আর এখন সেই মেয়ে মোটা মোটা ইংলিশ বই পড়তে চায়? ইউভি কফির মগ নামিয়ে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
— “ইন্টারেস্টিং…”কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার ভ্রু কুঁচকে গেল।কারণ একটা প্রশ্ন বারবার মাথায় ঘুরছে—
— “হঠাৎ এই ডিসিশন নিল কেন বেয়াদবটা…?
এটাতো আমার ডিসিশন ছিল।
রেদোয়ান ধীরে ধীরে ইউভির পাশে এসে বসল।
চারপাশে সবাই নীরব হয়ে ইনায়ার কথাগুলো শুনছে।আর ইনায়া—
সে একদম শান্ত মুখে নিজের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বলেই যাচ্ছে।রেদোয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিচু গলায় বলল—
“ভাইয়া… তুমি কিছু বলছো না যে?”
বোনু এখনও অনেক ছোট…”
হঠাৎ করে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কি ঠিক হবে?
ইউভি সোফায় হেলান দিয়ে বসে ছিল।
হাতে কফির মগ গোল গোল করে ঘুরাচ্ছে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
সে ধীরে ধীরে কফিতে চুমুক দিয়ে বলল—
— “আমি তো সবসময় এই জিনিসটাই চেয়েছি, রেদোয়ান…কিন্তু আমি কখনো ওকে প্রেসার দিতে চাইনি। তারপর একবার ইনায়ার দিকে তাকাল।
মেয়েটা এখনও গম্ভীর মুখে বসে আছে।
ইউভি শান্ত গলায় আবার বলল—
— “বিজনেস লাইনে কাউকে জোর করে আনা যায় না…এর জন্য passion লাগে…Dedication লাগে…”আর সবচেয়ে বেশি লাগে নিজের ইচ্ছা।”
রেদোয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল—
— “তাই বলে লন্ডন?
ইউভি এবার হালকা হেসে মাথা নাড়ল।
— “লন্ডন খারাপ না…বরং ও যদি সত্যিই সিরিয়াস হয়ে থাকে…তাহলে honestly, I’m impressed.”
ইউভির চোখে এবার অন্যরকম একটা শান্ত ঝিলিক ফুটে উঠল।মনে মনে বলল—
— “গাধাটা তো দেখি সত্যিই একটু বুদ্ধিমান হয়েছে।
ইউভি স্থির চোখে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
ইনায়া জেদি মুখ করে বসে আছে।
চোখদুটোতে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা।
আর ঠিক তখনই ইউভির বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল।কারণ সে বুঝতে পারছে—
ইনায়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু career-এর জন্য না…
এর পেছনে অন্য কিছু আছে।
খুব গভীর কিছু…
দোয়ান ভ্রু তুলে ইউভির দিকে তাকালো।
তারপর ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি এনে বলল—
— “ভাইয়া… বোনু কি আদৌ জানে ওইখানে তোমার রাজত্ব চলে?
— “হয়তো জানে বলেই তো লন্ডনে যেতে চায়…”
সে এবার আরও একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল
— “আমার তো মনে হয় তুমি সবই জানো
কথাটা শুনে ইউভির ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।সে কফির কাপটা টেবিলে রেখে খুব শান্ত গলায় বলল।
তোর বোনকে উড়তে দিচ্ছি…শুধু আমার এরিয়ার ভেতরে…তার চোখদুটো স্থির হয়ে গেল ইনায়ার দিকে।কারণ বাইরে গেলে…ও নিজেকে সামলাতে পারবে না।
ইনায়া গম্ভীর হয়ে রবিউল চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল—
— “বাবা…আমার পাসপোর্ট আর ভিসার কাজ শুরু করো আমি খুব দ্রুত যেতে চাই।”
কথাটা শুনে পুরো হলরুম কয়েক সেকেন্ডের জন্য চুপ হয়ে গেল।পিয়াসা অবাক হয়ে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
— “বাহ…”তুই তো দেখি সত্যিই অনেক বড় হয়ে গেছিস, ইনায়া পিয়াসা সোফা থেকে উঠে ইনায়ার পাশে গিয়ে বসল।তারপর অভিমানী গলায় বলল—
—একবারও আমার আর তুবার কথা ভাবলি না?
তোকে ছাড়া আমরা কীভাবে থাকব?
ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে হেসে ফেলল।
কিন্তু সেই হাসির আড়ালেও বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে উঠল।
কারণ সে জানে—এই বাড়িএই মানুষগুলো…
এগুলোকে ছেড়ে থাকা এত সহজ হবে না…
ইউভি ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
তারপর শার্টের হাতা ঠিক করতে করতে শান্ত গলায় বললো ঠিক আছে… আগামী ৬ তারিখ থেকে নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু। তুই ৫ তারিখের আগেই উপস্থিত থাকবি, আদর”পুরো হলরুম মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
সবার চোখ এবার ইউভির দিকেই স্থির।
কারণ ছেলেটা যেভাবে এত নিখুঁতভাবে সবকিছু বলল… মনে হচ্ছিল সে আগেই সব জানত।
ইউভি আবার বলা শুরু করলো
পুরো কোর্সটা মাত্র ৪ মাস ১৬ দিনের,
— “তারপর ২০ তারিখ থেকে ইন্টার্নি শুরু হবে।”
সে একবার ইনায়ার দিকে তাকাল।তার চোখে তখন অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।ও চাইলে লন্ডনেই ইন্টার্নি করতে পারবে…অথবা বাংলাদেশেও করতে পারবে।“ডিসিশন সম্পূর্ণ ওর।
কথাগুলো শুনে সবাই আবারও একবার অবাক হয়ে গেল।রেদোয়ান ফিসফিস করে বলল—
— “ভাইয়া… তুমি তো মনে হয় আগে থেকেই সব সেট করে রাখছো…ইউভি এবার নিচু স্বরে হেসে বলল বিজনেস লাইনে একটা জিনিস খুব ইম্পর্ট্যান্ট…সবার আগে আপকামিং মুভ বুঝতে পারা।
তারপর খুব ধীরে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল—
আর তোর বোনটা কী করবে সেটা আমি একটু হলেও বুঝি।
এর পর ইউভি ভ্রু তুলে শান্ত গলায় বলল
— “ওয়েল…” — “লন্ডনে টিকতে হইলে সহ্য ক্ষমতা একটু বাড়াইতে হবে, মিস ইনায়া নূর চৌধুরী।
কেও যদি তোকে সামান্য বিষয় নিয়ে বিরক্ত করে তাহলে তাকে তার যোগ্য পুরস্কার দিয়ে দিবি আদর সে তোর বয়সে বড় হোক বা ছোট সেইটা না দেখলে ও চলবে।
লিখন চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে ইউভির দিকে তাকিয়ে বললেন—
— “ইউভি তুমি বোনকে কী শিখাচ্ছো এসব?”
ইউভি বিরক্ত মুখে কপালে হাত ঠেকালো।
তারপর গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল—
— Likhon Choudhury মানে বাবা
— “She’s not my sister…”
— “She’s my wife.”
কথাটা শুনে পুরো হলরুম মুহূর্তেই থমকে গেল।
পিয়াসা চোখ বড় বড় করে বলল—
— “বিসমিল্লাহ!
— “ভাইয়া ডাইরেক্ট নিউক্লিয়ার বোমা ফাটাইছে…”
রেদোয়ান মুখ ঘুরিয়ে হাসি চাপতে লাগল।
আর ইনায়া?সে পুরো ফোরজেন হয়ে ইউভির দিকে তাকিয়ে আছে।ইউভি এবার একদম শান্ত গলায় আবার বলল—
আর আমার বউকে যে মিথ্যা বলে কষ্ট দিবে
সে যদি ছেলে হয়…তাহলে তাকে আমি one nanosecond-ও বাঁচিয়ে রাখবো না।
আর যদি মেয়ে হয়…তাহলে আমার বউ একাই সামলাতে পারবে। সেই ব্যবস্থা আমি নিজেই করবো।
ইউভি এবার ধীরে ধীরে ইনায়ার দিকে তাকালো।
আমার আদরের সাথে কেউ অন্যায় করলে…”
শাস্তি আমার আদর দিবে।”
আর আমার আদর যদি কারও সাথে অন্যায় করে…”
— “তাহলে শাস্তি আমি দিব।
কথাগুলো বললেও ভেতরে ভেতরে ইউভি নিজেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
মনে মনে বলল ভালোবেসেই তো কূল পাই না…”
— “চাচির বেটিকে শাস্তি দিবো কখন…
এদিকে ইনায়া হঠাৎ সবার সামনে দাঁড়িয়ে গেল।
তার চোখদুটো জেদে চকচক করছে।কারও sympathy আমার লাগবে না।”
— “আমি একাই 100! তারপর আঙুল তুলে সবাইকে দেখিয়ে বলল “আর আমি কারও বউ না, বুঝছো সবাই?” পিয়াসা নিচু গলায় বলল—
— “মিথ্যা কথা বললে নাকি গুনাহ হয়…
ইনায়া সাথে সাথে কুশন ছুঁড়ে মারল পিয়াসার দিকে।তারপর রাগী মুখে বলল—
আমি রুমে গেলাম। আমার পড়তে হবে!
কথাটা বলেই সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।
তার চলে যাওয়ার পরও কয়েক সেকেন্ড সবাই চুপ হয়ে রইল।রেদোয়ান ধীরে ধীরে ইউভির দিকে তাকিয়ে হেসে বলল বেচারা বোনু…“ও নিজেও জানে না যে ওর ডানা দুইটা তোমার উপহার দেওয়া।
ইউভি নিচু স্বরে হেসে ফেলল।
তারপর মাথা নাড়িয়ে বলল ভাই… তিয়াকে সামলাস।”
শেহেজাদার আদর পর্ব ৩৮
— “আমি আর তোর বোন কেআটকাতে পারবো না।ইউভি এবার হালকা হেসে বললো
— “মায়া লাগতেছে রে তিয়ার জন্য
পরের মুহূর্তেই দুই ভাই একসাথে উচ্চস্বরে হেসে উঠল।আর সেই হাসির শব্দে পুরো চৌধুরী বাড়ি কেঁপে উঠল।
কারণ এই বাড়ির মানুষগুলো—
আজকের আগে কখনো দুই ভাইকে এতটা নির্ভার…
এতটা খুশি হয়ে হাসতে দেখেনি…
