Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৯

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৯

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৯
সুমাইয়া ইসলাম নূর

মধ্যে রাতে ঢাকার ব্যস্ত শহর তখন ধীরে ধীরে নীরবতার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে। একে একে ছয়টি বিলাসবহুল কালো গাড়ি এসে থামল চৌধুরী ভিলার বিশাল গেটের সামনে।গেট খুলতেই দুই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডরা সম্মানের সঙ্গে মাথা ঝুঁকিয়ে সালাম জানাল।প্রথম গাড়ি থেকে নামলেন লিখন চৌধুরী।তার ঠিক পেছনে রাতিব চৌধুরী।
তৃতীয় গাড়ি থেকে নামলেন রবিউল চৌধুরী
চতুর্থ গাড়ি থেকে নামল রায়হান চৌধুরী ও তিয়া।
পঞ্চম গাড়ির দরজা খুলে নামল ইউভি
তার পাশে ধীরে ধীরে নেমে এল ইনায়া

শেষ গাড়ি থেকে একসাথে নামল রেদোয়ান আর পিয়াসা।সবাইকে ঘিরে ছিল কয়েকজন প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী।পার্টির ক্লান্তি থাকলেও চৌধুরী পরিবারের ব্যক্তিত্বে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি কারো
ভিলার বিশাল হলরুম আলোয় ঝলমল করছে।
ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করছিলেন রেশমা চৌধুরী, নুসরাত চৌধুরী এবং সাবিহা চৌধুরী
বাচ্চারা অনেক আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
শুধু বড়রা অপেক্ষা করছিলেন সবাই নিরাপদে ফিরে আসার জন্য।এক এক করে সবাই ভেতরে ঢুকতেই পুরো হলরুম আবার প্রাণ ফিরে পেল।
কেউ কোট খুলছে কেউ টাই আলগা করছে…
কেউ সোফায় বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে।
ঠিক তখনই সবাই যখন নিজের নিজের রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছে।হঠাৎ—
তিয়ার তীক্ষ্ণ চিৎকারে পুরো হলরুম কেঁপে উঠল।
ওইইইই ইনায়া. সবাই একসাথে থেমে গেল।

তিয়া টলতে টলতে আঙুল তুলে চিৎকার করে বললো ওই ইনায়া ইচ্ছে করে আমার ড্রিংক্সে মেডিসিন মিশিয়েছে! আমাকে সবার সামনে পাগল বানিয়ে দিয়েছে!রায়হান চৌধুরী মুহূর্তেই বুঝে গেলেন কী ঘটেছে।তিনি দ্রুত মেয়ের হাত ধরে বললেন, তিয়া… চুপ করো। তুমি কী বলছো, তুমি নিজেও জানো না।কিন্তু তিয়া যেন আজ আর থামার মানুষ নয়।সে আবার চিৎকার করে বলল,
ওই ওয়েটারটাকে ইনায়া আমার থেকে বেশি টাকা দিয়েছে!তাই আমার গ্লাসটা বদলে দিয়েছে!কথাটা শুনে সবাই হতবাক হয়ে গেল লিখন চৌধুরীর গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল, কী বলছো তুমি, তিয়া?
তিয়া এবার আর কিছু লুকাল না।
রাগ আর হিংসায় ফেটে পড়ে বলল,
হ্যাঁ বড় চাচ্চু আমি ইনায়াকে সবার সামনে অপমান করার জন্য ওর ড্রিংক্সে মেডিসিন মিশিয়েছিলাম।
কিন্তু… কিন্তু ওই গ্লাসটা আবার আমাকেই খাইয়ে দিয়েছে!এক মুহূর্তের জন্য পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা বয়ে গেলো সবাই অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে আছে তিয়ার দিকে।রেশমা চৌধুরী বিস্ময়ে মুখে হাত চাপা দিলেন।রবিউল চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।রাতিব চৌধুরীর চোখেও স্পষ্ট হতাশা।

শুধু…
ইউভির মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।
সে যেন আগেই সব জানত এমন কিছু হবে সোফার পাশে দাঁড়িয়ে ঠোঁটের কোণে খুব হালকা একটা রহস্যময় হাসি নিয়ে পুরো দৃশ্যটা উপভোগ করছে।
এদিকে পিয়াসা ধীরে ধীরে ইনায়ার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বলল বাহ্, ননদিনী তলে তলে এত কিছু হয়ে গেল! আর আমাকে কিছুই বললি না?
ইনায়া অসহায়ের মতো মাথা নাড়িয়ে বলল,
আমি নিজেই তো কিছু জানতাম না। তবে একটা কথা যাই, হয়েছে কিন্তু বেশ হয়েছে সবাইকে যেভাবে এন্টারটেইন করল উফ! দৃশ্যটা মনে থাকবে তারপর একটু থেমে অবাক হয়ে বলল,
কিন্তু আমি তো গ্লাস বদলাইনি! তাহলে বদলালো কে?ঠিক তখনই…

দুই বোনের চোখ একসাথে গিয়ে থামল ইউভির দিকে।ইউভি শুধু একবার ভ্রু তুলে মুচকি হাসল।
তারপর কোনো কথা না বলে শান্তভাবে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
তার সেই নীরবতাই যেন সব উত্তর দিয়ে গেল।
লিখন চৌধুরী এবার কঠিন কণ্ঠে বললেন,
তিয়া এত হিংসা কেন তোমার? মানুষকে ছোট করে কখনও বড় হওয়া যায় না।তিয়া চোখ লাল করে চিৎকার করে বলল, কারণ আমি ওকে সহ্য করতে পারি না! সবার মুখে শুধু ইনায়া… ইনায়া…
ও ভালো করলে সবাই বাহবা দেয়!আমি করলে কেউ দেখে না! আমি ওকে ঘৃণা করি!
রায়হান চৌধুরী বিব্রত কণ্ঠে বললেন,
প্লিজ সবাই চুপ করো। ও কী বলছে, ও নিজেও জানে না।ঠিক তখনই সিঁড়ি থেকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল ইনায়া।শান্ত কণ্ঠে বললো কিন্তু চাচ্চু…

আমরা সবাই জানি মানুষ নেশার ঘোরে মিথ্যা বলতে পারে না কিন্তু অনেক সময় মনের ভেতরের সত্যিটাই মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।তিয়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।ইনায়া আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল।ঠিক তখনই রেদোয়ান আলতো করে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, আর না, বোনু। সঠিক সময় এখনও আসেনি। দেখলি তো ভাইয়া কিছু না বলেই উপরে চলে গেছে। তার মানে এখনও খেলার শেষ বাঁশি বাজেনি।লিখন চৌধুরী গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, ঠিক আছে। সবাই নিজ নিজ রুমে যাও।
আগামীকাল সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন আসা শুরু করবে। আগামী সাত দিন বাড়ির কোনো গিন্নি রান্নাঘর বা অন্য কোনো কাজে হাত দেবেন না।
ইউভি ইতিমধ্যেই পুরো আয়োজনের জন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম, ক্যাটারিং স্টাফ, হাউস কেয়ার স্টাফ আর অতিরিক্ত সার্ভিস ক্রু নিয়োগ করেছে।
ওরাই সব দায়িত্ব সামলাবে।সবাই সম্মতি জানাল।
কিন্তু…রেদোয়ান দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে বলল,
সালার হিটলার শ্বশুর আমার বউকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এত তাড়া কিসের?দেখি শেষ পর্যন্ত কার জেদ জেতে!ঠিক তখনই লিখন চৌধুরী রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন, যাও রেদোয়ান। আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো। আগামীকাল থেকে অনেক কাজ। বোনের বিয়ে বলে কথা রেদোয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো
এই বিয়ে হবে না, চাচ্চু। আমি আগে থেকেই বলে দিচ্ছি। শুধু শুধু গাঁটের কড়ি খরচ করবেন না।
কথাটা বলেই সে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।

পিয়াসা ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে হাঁটছিল।
পার্টির কোলাহলের মাঝে কিছু সময়ের জন্য বিয়ের কথাটা মাথা থেকে সরে গিয়েছিল।
কিন্তু ভিলায় ফিরে সবার মুখে আবার বিয়ে আয়োজন,অতিথি এই কথাগুলো শুনে বুকের ভেতরটা আবার ভারী হয়ে উঠল।মাথা নিচু করে হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ কি মনে করে পিছু ঘুরলো ঠিক তখনই
ধপ!
কারও সঙ্গে ধাক্কা খেল সে।পড়ে যাওয়ার আগেই শক্ত দুটো হাত তাকে আগলে নিল।এক হাতে পিয়াসার কোমর, অন্য হাতে তার কাঁধ ধরে খুব যত্ন করে দাঁড় করিয়ে দিল।কোমল অথচ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল, কী হয়েছে, পিহু? কাঁদছিস কেন?
আমাকে বল… প্লিজ।পিয়াসা কয়েক সেকেন্ড রেদোয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।
চোখ দুটো টলমল করছে।ঠোঁট কাঁপছে।তবু সে কিছুই বললো না।
ধীরে ধীরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সামনে হাঁটতে শুরু করল।রেদোয়ান আর জোর করল না।
শুধু অসহায়ের মতো তার চলে যাওয়া দেখল।
পিয়াসা যখন করিডোরের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে যাবে ঠিক তখনই পেছন থেকে রেদোয়ানের গুনগুন কণ্ঠ ভেসে এলো

— “তুই দেখবি ঠিকই জিতে নিবো একদিন তোকে…
চেয়ে দেখবি আমি সোনা হব তোর নোলকে…”
গানটা শুনে পিয়াসার পা এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস নিল সে।
তারপর খুব আস্তে করে নিজের মনে ফিসফিস করে বলল, যদি সত্যিই পারো… তাহলে এসো। সবাইকে হারিয়ে আমাকে নিজের করে দেখাও, পিয়াসা
কথা টা শেষ করেই আবার হাঁটতে শুরু করল।
আর করিডোরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা রেদোয়ানের চোখে তখন একটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা জ্বলছিল এই বিয়ে আমি হতে দেব না।
পিয়াসা জন্নাত চৌধুরী শুধু আমারই হবে।”
রুমে ঢুকেই ইনায়া দেখলো
ইউভি বিছানার কিনারায় চুপচাপ বসে আছে।
আজ মানুষটাকে ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।
মুখে সেই চিরচেনা দৃঢ়তা থাকলেও চোখেমুখে স্পষ্ট অবসাদের ছাপ।মনে হচ্ছে অসংখ্য চিন্তার ভার একা কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছে সে।ইনায়া রুমে ঢুকেছে, তবু সেদিকে তার কোনো খেয়ালই নেই।
সে যেন নিজের ভাবনার জগতে হারিয়ে গেছে।

ইনায়া আর বিরক্ত করল না।চুপচাপ ওয়াশরুমে ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করতে লাগল।এমনিতেই হাই হিল পরে সারারাত থাকার কারণে পায়ে ফোসকা পড়ে গেছে।ভালো করে হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর…ইনায়া বেরিয়ে এলো।
তার পরনে ইউভির প্রিয় সাদা ওভারসাইজ টি-শার্ট।
ভেজা চুলগুলো আলতো করে তোয়ালে দিয়ে মুছে ছেড়ে রেখেছে।
ইউভি ঠিক আগের মতোই বসে আছে।একবারও মাথা তুলে তাকায়নি।বিষয়টা এবার সত্যিই ইনায়াকে ভাবিয়ে তুলল।ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে সে ইউভির সামনে দাঁড়াল।আলতো করে আঙুল চালিয়ে দিল তার চুলে।খুব নরম কণ্ঠে বলল, কী হয়েছে, ইউভি ভাইয়া? আপনাকে খুব চিন্তিত লাগছে পরের মুহূর্তেই।ইউভি এক ঝটকায় ইনায়ার হাত ধরে নিজের একদম কাছে টেনে নিল।
সে দু’হাত দিয়ে ইনায়ার কোমর জড়িয়ে নিজের কপালটা আলতো করে ইনায়ার বুকের সঙ্গে ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রইল।যেন এই একটুখানি শান্তির আশ্রয়ই তার সবচেয়ে প্রয়োজন।
ইনায়া কিছু বলল না।নিঃশব্দে দু’হাত ইউভির ঘন কালো চুলের ভেতর ঢুকিয়ে খুব আদর করে বিলি কাটতে লাগল।কয়েক মুহূর্ত নীরবতার পর ইউভি শান্ত অথচ ভারী কণ্ঠে বলল, আদর…
আর একদিন… তোর মুখ থেকে “ভাইয়া” ডাকটা শুনলে তোর ওই ঠোঁট দুইটার এমন অবস্থা করব, কারও সামনে তোর ওই ঠোঁট দুটো দেখানোর সাহস পাবি না।ইনায়া লজ্জায় আমতা আমতা করে বলল,

— তাহলে… কী বলে ডাকব?
প্রয়োজন হলে শুধু “ইউভি” বলবি…
কিংবা যা ইচ্ছা বলবি… কিন্তু “ভাইয়া” না।
ইনায়া ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করে ফেলল।
অভ্যাস হয়ে গেছে তাই ভুল করে বেরিয়ে যায়।
ইউভি আলতো করে তার থুতনি তুলে দিল।
মুচকি হেসে বলল, তাহলে আজ থেকেই অভ্যাস বদলাবি। কারণ তুই আমার বউ। আমার জীবনসঙ্গী। আমার অর্ধাঙ্গিনী। তোর মুখে “ভাইয়া” ডাকটা আমার জন্য হারাম আর আমি সেটা আমি একদমই সহ্য করতে পারবো না।ইনায়া চোখ নামিয়ে খুব আস্তে বলল,
চেষ্টা করব. ইউভি ভ্রু তুলে দুষ্টু হেসে বলল,
চেষ্টা না সফল হতে হবে। নইলে শাস্তি কিন্তু খুব কঠিন হবে, ম্যাডাম।কথাটা শুনে ইনায়া অবাক হয়ে বললো ক-কী শাস্তি?ইউভি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল সেই শাস্তিটা সময় হলে বুঝে যাবি, আমার আদর।
ইনায়া কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই ইউভি হঠাৎ শিশুর মতো আবদার করে বসলো আদর… আমাকে একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধর না।ইনায়ার ঠোঁটে মায়াভরা হাসি ফুটে উঠল।সে আলতো করে ইউভিকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিল। এক হাত দিয়ে তার চুলে বিলি কাটতে কাটতে নরম কণ্ঠে বললো

— শেহেজাদা…
— হুম…
— জানো, তুমি ভীষণ প্রখর ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ। তোমার কথাবার্তা, চালচলন, সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এত সুন্দর, পরিপাটি আর গুছানো। সবাই তোমাকে ভয় পায়, সম্মান করে।একটু থেমে ইউভির চুলে হাত বুলিয়ে আবার বললো কিন্তু আমার কাছে এলেই তুমি একদম এলোমেলো হয়ে যাও। মুহূর্তেই সেই গম্ভীর মানুষটা ছোট্ট একটা বাচ্চা হয়ে ওঠে। বাচ্চাদের মতো রাগ করো, জেদ করো, অভিমান করো… আবার একটু আদর পেলেই সব ভুলে যাও।
ইউভি মুচকি হেসে বললো সবি তো আমার বেয়াদব বউটার থেকে শেখা সেও যে একটা বাচ্চা। তার এই বাচ্চামি স্বভাবটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।কিছুক্ষণ পর গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বললো
আদর… আগামীকাল থেকে কিন্তু আমাদের দুজনের অনেক দায়িত্ব। মনে আছে তো, বউ… ঠিক কী কী করতে হবে?ইনায়া মাথা নেড়ে হালকা হেসে বললো সব মনে আছে, মিস্টার।কথা শেষ করে ইউভি উঠে দাঁড়িয়ে ড্রেস বদলাতে যাবে।

ঠিক তখনই পেছন থেকে ইনায়া তার হাতটা আলতো করে ধরে ফেলল।ইউভি ঘুরে তাকাতেই ইনায়া ধীরে ধীরে তার টাইয়ের নট খুলতে খুলতে মুচকি হেসে বললো ড্রেস চেঞ্জ করে তাড়াতাড়ি চলে আসুন, মিস্টার। আমি অপেক্ষা করছি টাই খুলতে খুলতেই হঠাৎ ইনায়ার চোখ গিয়ে থামল ইউভির গলার মাঝামাঝি উঁচু অংশটায়।সে জায়গাটার নাম কণ্ঠনালি (Adam’s apple)।ইনায়া কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।তারপর টাইটা আলতো করে টেনে দিতেই ইউভি একটু ঝুঁকে এল।সুযোগটা হাতছাড়া করল না ইনায়া।খুব আলতো করে কণ্ঠনালির ওপর ঠোঁয় ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখানেই আপনার কণ্ঠনালিটা আমার ভীষণ ভালো লাগে।ইউভি যেন নিশ্চুপ হয়ে গেল সে শুধু অপলক দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইল।ইনায়া একটু লজ্জা পেয়ে আমতা আমতা করে বললো ওইভাবে কী দেখছেন?

আমি তো শুধু সত্যি কথাই বললাম…
ইউভির ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
ও… রিয়েলি, বউ? তাহলে এই সুযোগে আমারও সবচেয়ে প্রিয় জায়গাটায় একটা চুমু দিয়ে দিই… কী বলো?কথাটা শুনেই ইনায়ার চোখ বড় হয়ে গেল।
সে লজ্জায় তড়িঘড়ি করে ইউভির কাছ থেকে সরে গিয়ে বললো আসছি…!

শেহেজাদার আদর পর্ব ৫৮

পিহু দাঁড়ামনে হয় পিহু ডাকছে! আপনি আগে ড্রেস চেঞ্জ করে আসুন।কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।প্রায় দৌড়ে রুমের ভেতরের দিকে চলে গেল।ইনায়ার সেই লজ্জাভরা পালিয়ে যাওয়া দেখে ইউভি কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল।তারপর মাথা নেড়ে হঠাৎই উচ্চস্বরে হেসে উঠল।সারাদিনের ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা আর চাপের মাঝেও তার সেই হাসিতে যেন আবার প্রাণ ফিরে এল।

শেহেজাদার আদর পর্ব ৬০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here