Home শেহেজাদার আদর শেহেজাদার আদর পর্ব ৭২

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭২

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭২
সুমাইয়া ইসলাম নূর

কিছুক্ষণ পর ইনায়া আর ইউভি চৌধুরী ভিলায় ফিরে এল।ততক্ষণে রাত অনেকটাই গভীর হয়েছে। ভিলার বিশাল ডাইনিং হলের ঝাড়বাতির উজ্জ্বল আলোয় পুরো পরিবেশটা বেশ প্রাণবন্ত লাগছে । ডাইনিং টেবিলে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল পরিবারের সবাই।
এক পাশে বসে লিখন চৌধুরী, রাতিব চৌধুরী আর রোবুল চৌধুরী ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে বেশ গম্ভীরভাবে আলোচনা করছিলেন। তাদের কথাবার্তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, রাতের খাবারের টেবিলটাও যেন হঠাৎ করে কোনো বোর্ড মিটিংয়ে পরিণত হয়েছে।রেসমা চৌধুরী কিছুক্ষণ তাদের কথা শুনে বিরক্ত মুখে বললেন,

— “রবিউল তুমিও দিন দিন ওই দুই ভাইয়ের মতো হয়ে যাচ্ছো!”রবিউল ভ্রু কুঁচকে রেশমা চৌধুরীর দিকে তাকাল।
আমি আবার কী করলাম ভাবি?“কী করেছো? এই বয়সেই সারাক্ষণ ব্যবসা, ব্যবসা আর ব্যবসা! এত ব্যবসা ব্যবসা করো কেন? ওই দুইজন অল্প বয়সেই বুড়ো হয়ে গেছে, এখন তাদের দেখে তুমিও বুড়ো হওয়ার চেষ্টা করছো?”
লিখন চৌধুরী আর রাতিব চৌধুরী একসঙ্গে রেসমা চৌধুরীর দিকে তাকালেন।রেসমা চৌধুরী অবশ্য সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করলেন না। বরং তিনজনের দিকে আঙুল তুলে বললেন,
— “এই তোমরা তিনজন এখন চুপ করো। খাবার টেবিলে বসে ব্যবসার আলোচনা নয়। চুপচাপ খাবার খাও!”
তিনজনই একে অপরের মুখের দিকে তাকালেন।
তারপর চুপ করে গেলেন।ঠিক সেই সময় ইনায়া দ্রুত পায়ে ডাইনিং হলে ঢুকেই সোজা গিয়ে সাবিহা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরল
সেজো মা… খুব খিদে পেয়েছে। খাবার দাও!”
সাবিহা চৌধুরী ইনায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে ফেললেন।কিন্তু নুসরাত চৌধুরী সঙ্গে সঙ্গে অবাক হয়ে ইনায়ার দিকে তাকালেন। “ব্যাপার কী বল তো? তোকে দুপুর থেকে খাবার খাওয়ানোর জন্য আমরা সবাই কত অনুরোধ করলাম,তুই খেতে আসলি না এক কথার মেয়ে ! খাবে না মানে খাবে না। তখন নাকি তার কোনো খিদেই ছিল না!”

নুসরাত চৌধুরী একটু থেমে চোখ সরু করে বললেন,“এখন হঠাৎ খিদে পেল কীভাবে?”
ইনায়া কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল ও সেজো মা… এখন তো সত্যিই খুব খিদে পেয়েছে!”
নুসরাত চৌধুরী সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে বললেন,
— “যা, তোর জন্য খাবার রান্না করিনি
ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে মুখটা আরও করুণ করে ফেলল। বড়ো মা সেজো মা তোমরা দাও তো ইনায়ার কান্ড দেখে আশেপাশের সবাই হেসে ফেলল।ঠিক তখনই রিধ বলল,আপু, তুমি চাইলে আমারটা খেতে পারো। আমি এতটা খাব না। ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে রিধের পাঁজরে একটা আলতো গুঁতো মেরে বলল,
বেশি বকিস না। নিজের খাবার খেয়ে নে। রিধ গম্ভীর মুখে বলল,না আপু, শরীর ফিট রাখতে হবে এতো খেলে হবে না।
ইনায়া চোখ কুঁচকে তাকাল।
তোর আবার শরীর ফিট রাখার কী দরকার?”

রিধ অত্যন্ত গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল,শরীর ভারী হয়ে গেলে নাচ করতে পারব না ! কাল আমার নাচের শো আছে। আমাকে ফার্স্ট হতেই হবে, বুঝছো?”
ইনায়া কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর মাথা নেড়ে বলল,তুই আগে নিজের খাবারটা শেষ কর। ফার্স্ট হওয়ার স্বপ্ন পরে দেখিস! ডান্সার। রিধ মুখ বাঁকিয়ে নিজের খাবারে মন দিল।
অন্যদিকে আয়াত আর আতিকা দুজনেই বেশ গোমড়া মুখ করে বসে আছে। তাদের মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অন্যায়টা যেন তাদের সঙ্গেই হয়েছে।
ইউভির চোখ এড়াল না বিষয়টা।
সে ধীরে ধীরে তাদের কাছে গিয়ে দুজনের সামনে বসে পড়লেন।আমার পুতুল দুটোর কী হয়েছে শুনি?”আয়াত আর আতিকা দুজনেই একসঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নিল।সাবিহা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“কী জানি! দুজন মিলে বিকেল থেকে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কার যেন বাইক চালাতে দেখছে। এখন নাকি তাদেরও বাইক চাই!”কথাটা শুনে ইনায়া একবার ইউভির দিকে তাকাল।তারপর মাথা নিচু করে মুচকি হাসল।ইউভির ঠোঁটের কোণেও মৃদু হাসি ফুটে উঠল।সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে দুজনকে দুহাতে তুলে নিজের কোলে বসিয়ে নিলেন।ব্যস! এতটুকুতেই মন খারাপ?
আয়াত আর আতিকা দুজনেই চুপ করে রইল।
ইউভি গম্ভীর ভঙ্গিতে বললো আমি কথা দিচ্ছি, ঘুম থেকে উঠে সকালে তোমরা দুজনেই দেখবে…”
তোমাদের দুটো বাইক গার্ডেনে লুকোচুরি খেলছে!”
আয়াত আর আতিকা একসঙ্গে চিৎকার করে উঠল,

— “সত্যি?”ইউভি মাথা নেড়ে বললেন,
— “একদম সত্যি।”
দুজনের মুখের সমস্ত গোমড়াভাব মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল।ইউভি এবার রিধের দিকে তাকিয়ে বললেন এই যে ছোট নবাব, আপনার কিছু লাগবে নাকি?”রিধ মাথা চুলকে একটু ইতস্তত করে বলল,
— “হ্যাঁ… মানে ইউভি ভ্রু তুলে তাকালেন।
রিধ একটু কাছে এসে গোপনীয় ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলল,“বড় নবাব কথা তো আছেই… তবে তোমাকে গোপনে একটা কথা বলব?”
ইউভি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বললেন,ওকে।”
রিধ আরও কাছে এগিয়ে গেল।কিন্তু তার আগেই নুসরাত চৌধুরী বিরক্ত গলায় বলে উঠলেন,
— “এই যে! তোমরা দুজন আগে খেতে বসো। সারাদিন শুধু গল্প আর গল্প! খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!”
ইউভি আর ইনায়া একে অপরের দিকে তাকাল।
ইনায়ার চোখে তখন দুষ্টু হাসি।
ইউভি মৃদু হেসে বললেন,চলুন, মিসেস চৌধুরী।খিদে পেয়েছে তো? ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বলল,
অনেক! নুসরাত চৌধুরী সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

— “তাহলে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো!”
ইনায়া দ্রুত গিয়ে নিজের জায়গায় বসে পড়ল।
আর ইউভি তার পাশের চেয়ারে বসলো।
খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই চৌধুরী ভিলার বিশাল প্রধান দরজা দিয়ে দুজন ভেতরে প্রবেশ করল।পরক্ষণেই তাদের একজন হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—
— “সারপ্রাইজ!”ইনায়া যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারল না। কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর কোনো রকমে ইউভির হাত ছাড়িয়ে চিৎকার করে উঠল “বেবি!”
তারপর আর এক মুহূর্তও দেরি না করে ছুটে গিয়ে পিয়াসাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। “তুই এসেছিস!”পিয়াসাও ইনায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠল,
— “হ্যাঁ রে! তোকে না দেখে আর থাকতে পারছিলাম না!”
দুজনের আনন্দ যেন আর ধরে না। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হাসছে, চিৎকার করছে। তাদের চিৎকারে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো চৌধুরী ভিলা মাথায় উঠে গেল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রেদোয়ান ভ্রু কুঁচকে গলা উঁচু করে বলল,বোনু আমি ও যে আছি, ! তোর ভাই!”কিন্তু কে শোনে কার কথা!
ইনায়া আর পিয়াসা তখন একে
ঠিক তখনই ইউভি ধীর পায়ে তার পাশে এসে দাঁড়ালেন।শান্ত গলায় বললো বলেছিলাম, আসতে হবে না। আমি সব হ্যান্ডেল করে নিয়েছি। শুনলি না তো আমার কথা?”রেদোয়ান মৃদু হেসে ইউভির দিকে তাকাল“জানি সেইটা, ব্রো।”
তারপর একটু থেমে মুচকি হেসে বলল, “ইউ আর দ্য বেস্ট ম্যান!”ইউভি ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে বললেন,এখন বুঝলি?”

— “হ্যাঁ, ব্রো।”এদিকে ইনায়া আর পিয়াসাকে আর কে পায়!দুজনেই একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে দৌড়ে চলে গেল পিয়াসার ঘরের দিকে।“চল, আগে আমার রুমে চল!” “হ্যাঁ, তোকে কত কথা বলার আছে!”
দুজনের হাসির শব্দ ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।
ঠিক তখনই রেসমা চৌধুরী ইউভির পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,হ্যাঁ রে ইউভি! আমি যে ওর মা, আমি যে এখানে দাঁড়িয়ে আছি! একবার জিজ্ঞেসও করল না, মা কেমন আছো! বাড়িতে ঢুকেই কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলল না। দুই বাদর হাত ধরে দৌড়ে চলে গেল!”
ইউভি মৃদু হেসে বললেন,
— “মা, এতদিন পর দেখা হয়েছে। একটু সময় দাও।।রেসমা মুখ বাঁকিয়ে বললেন,হ্যাঁ, দাও!

রাত গভীর হয়েছে।
চৌধুরী ভিলার চারপাশে নেমে এসেছে নীরবতার দূরের গাছের পাতাগুলোয় মৃদু বাতাসের দুলছো আর ভিলার করিডোরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হালকা হলুদ আলো—সব মিলিয়ে রাতটা বেশ শান্ত লাগছে
তবে সেই শান্তির ছিটেফোঁটাও নেই ইউভির ঘরে।
নিজের অফিসে রুমে বসে ল্যাপটপের দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে কাজ করছে ইউভি। ভ্রু দুটো কুঁচকে আছে। আঙুলগুলো দ্রুত কিবোর্ডে চলছে। কিন্তু কাজের প্রতি যতটা মনোযোগ দেওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগ বারবার চলে যাচ্ছে দরজার দিকে।ইনায়া এখনো ঘরে আসেনি।
আর এই বিষয়টাই ইউভির মেজাজ ধীরে ধীরে খারাপ করে দিচ্ছে।কতক্ষণ হয়ে গেল!
একবার ঘড়ির দিকে তাকাল ইউভি। তারপর আবার ল্যাপটপের স্ক্রিনে দৃষ্টি ফেরাল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার দরজার দিকে তাকাল
ঠিক তখনই দরজার আড়াল থেকে একটি মাথা উঁকি দিল।
আসবো, বড়ো নবাব?”

ইউভির মুখের গম্ভীরতা মুহূর্তেই বদলে গেল। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই বলল আয়, ছোটো নবাব। বল, কী বলতে এসেছিস?”রিদ ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকল। কিন্তু মুখের ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ নিয়ে এসেছে।ইউভি এবার ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলে তাকালেন।“কী ব্যাপার? এমন মুখ করে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? রাষ্ট্রীয় কোনো গোপন তথ্য ফাঁস করতে এসেছিস নাকি?”রিদ আমতা আমতা করে বলল,তুমি কাউকে বলবে না তো?”
ইউভি ভ্রু তুলে তাকাল “না, বলব না। তুই বল, আমি শুনছি।
রিদ আরও একটু কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
তাহলে শোনো…ইউভি এবার ল্যাপটপ বন্ধ না করে কাজ থামিয়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ রিদের দিকে দিল।
রিদ চারপাশে একবার তাকিয়ে নিশ্চিত হয়ে বলল,আমার ডান্স ক্লাসে একটা মেয়ে আছে।”
ইউভি গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বললেন,

— “হুম। পৃথিবীর ইতিহাসে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তারপর? রিদ এবার চোখ বড় করে বলল,
শোন তো মেয়েটা ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী।”
ইউভি ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বললেন,
— “আচ্ছা। তারপর?
রিদ আরও কাছে এগিয়ে এসে প্রায় ফিসফিস করে বলল,
— ওর নাম তমাশ্রী। আমি ওকে টুকটুকি বলে ডাক এই টা পুকি নিক নেম বলে। ইউভির ভ্রু সামান্য উঠল।টুকটুকি
— “হুম।”
— “বেশ সুন্দর নাম দিয়েছিস। তবে আসল কথায় আয়।রিদ এবার আরও গম্ভীর হয়ে গেল। তারপর ইউভির একেবারে কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
— “বড়ো নবাব… আমি টুকটুকিকে প্রপোজ করতে চাই।ইউভির ঠোঁটের কোণে এবার প্রশস্ত হাসি ফুটে উঠল।
— “বাহ!

ছোটো নবাবের তো দেখি অবশেষে বুদ্ধি হয়েছে।”
রিদ সঙ্গে সঙ্গে বলল,“কিন্তু তার আগে আমাকে ডান্স কম্পিটিশনে ফার্স্ট হতে হবে।”ইউভি কিছুক্ষণ রিদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বললেন,“এই না হলে চৌধুরী বাড়ির ছোটো নবাব।”রিদ একটু অবাক হয়ে তাকাল।
ইউভি এবার ল্যাপটপটা একপাশে রেখে রিদের দিকে সম্পূর্ণ ঘুরে বসলেন।
রিদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইল বড়ো ভাইয়ের দিকে।
তারপর হঠাৎ গলা নামিয়ে বলল,
— “বড়ো নবাব…”
— “হুম?”
— “তুমি কাউকে বলো না কিন্তু। আমি শুধু তোমাকেই বললাম।”ইউভি মুচকি হাসল
চিন্তা করিস না। তোর এই গোপন খবর আমার কাছেই নিরাপদ। রিদ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
তারপর একটু ইতস্তত করে বলল,
— “আর একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”
— “কর।”
— “তুমি আপুকে কীভাবে ইমপ্রেস করেছিলে?
ইউভি আবার ল্যাপটপের দিকে মনোযোগ ফিরিয়ে নিলেন। রিদ আগ্রহ নিয়ে আরও কাছে এগিয়ে এল।
— “কী করেছিলে?”
ইউভি ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখেই অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল বেশি না মাএ পাঁচটা থাপ্পড় দিয়েছিলাম।”তারপর থেকে তোর আপু আমার প্রেমে আবডুবু খাচ্ছে।”
রিদ: — “কীইই?”

ইউভি : “সাঁতার জানে না তো তাই ডুবে আছে।”“তুই চাইলে আমার পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারিস ছোটো নবাব।
রিদ: “হুম। এই পদ্ধতিটাই ভালো।”মনে হচ্ছে
ঠিক তখনই ইনায়া রুমে এসে ঢুকল।
ইউভি অফিস রুমে আছে জেনেই সে জোরে জোরে বলে উঠল,আগামীকাল আমার আর পিয়াসার একটা মিটিং আছে। এই জন্য দুজনকে সারারাত জেগে কাজ করতে হবে। আবার সকালে ক্লাসও আছে। তাই আজ আমরা দুজন একসঙ্গে ঘুমাব। পিয়াসার রুমে।
ইনায়ার কথাগুলো ইউভির কানে যেতেই তার হাতের মুঠো শক্ত হয়ে গেল।রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল তার।পাশে বসে থাকা রিদ কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। ইউভি তার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বললেন,আমি আসছি।।কথাটা বলেই ইউভি উঠে দাঁড়াল ইনায়া ততক্ষণে রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে। ইউভির সঙ্গে তার আর দেখা হলো না।ইউভি দরজার কাছে এসে থেমে গেলে
ইনায়া চলে গেছে ভেবে ।তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল।
মনে মনে বলল এত সহজ,নয় মিসেস চৌধুরী?
“তুমি খুব ভালো করেই জানো, তোমার শরীরের ওই মিষ্টি ঘ্রাণটা ছাড়া আমি ঘুমাতে পারি না। আর তুমি সেই ঘ্রাণ থেকেই আমাকে বঞ্চিত করতে চাইছ?”

ইউভির চোখে তখন এক অদ্ভুত দুষ্টু ঝিলিক ফুটে উঠল।এর শোধ আমি খুব কৌশলেই নেব, মিসেস চৌধুরী। এরপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ইউভি নিজের ফোনটা হাতে তুলে নিল সোজা রেদোয়ানকে মেসেজ করল তোর বউকে যদি আজ অন্য রুমে ঘুমাতে দিস, তাহলে মনে রাখিস—আজকের পর তোর বউকে আর পাবি না। ভালোয় ভালোয় নিজের বউকে নিজের রুমে নিয়ে যা। আর আমার বউকে ও পাঠিয়ে দে । নইলে তোদের দুই ভাই বোনয়ের কপালেই আজ কষ্ট আছে।
ইউভি আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। সোজা চলে গেল পিয়াসার রুমের দিকে।ইউভি যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই রেদোয়ানও সেখানে হাজির হলো। ইউভির দিকে তাকাতেই ইউভি চোখের ইশারায় তাকে কিছু একটা বোঝাল ব্যস!পরের মুহূর্তেই রেদোয়ান পিয়াসাকে কোলে তুলে নিল।

— “এই! কী করছেন? ছাড়ুন আমাকে! পিয়াসার চিৎকারে পুরো বাড়ি মাথায় উঠলেও সেদিকে রেদোয়ানের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে পিয়াসাকে কোলে নিয়েই চলে গেল।এদিকে ইউভি চলে গেল ইনায়ার কাছে।ইউভিকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে কয়েক পা পিছিয়ে গেল।কিন্তু ইউভির কাছ থেকে পালানো এত সহজ নয়।এক ঝটকায় ইনায়াকে নিজের কাছে টেনে নিল সে ইনায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউভি তাকে কাঁধে তুলে নিলেন।“এই! অসভ্য লোক! ছাড়ুন আমাকে! ইনায়া হাত-পা ছুড়তে ছুড়তে ইউভির পিঠে কিল-ঘুষি দিতে লাগল। কিন্তু ইউভির মধ্যে তার কোনো প্রভাবই দেখা গেল না।
বরং এক হাতে ফোন স্ক্রল করতে করতে, কাঁধে ইনায়া কে নিয়ে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটতে লাগল যেন এই মুহূর্তে তার কাঁধে কোনো মানুষ নয় একটা হালকা ব্যাগ ঝুলছে।ইনায়া চিৎকার করেই চলেছে,“এই! অসভ্য লোক! ছাড়ুন বলছি!”

ইউভি সেদিকে কোনো কানই দিলেন না।
নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকে নিয়ে করিডোরের দিকে এগিয়ে চললেন।
ঠিক তখনই লিখন চৌধুরীর কানে ইনায়ার চিৎকার পৌঁছাল।তিনি নিচে ছোফাই বসে ছিলেন অবাক হয়ে ঘুরে উপরে তাকিয়ে বললেন,কী হয়েছে? নূর মা, চিৎকার করছো কেন?
ইউভি সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল বাবার দিকে তাকিয়ে
একটুও বিচলিত না হয়ে বলল “উফ বাবা! দেখছো না? তোমার ছেলের বউ এখন তোমার ছেলের সঙ্গে আছে। চিৎকার করাটাই তো স্বাভাবিক! লিখন চৌধুরী হতভম্ব হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ইউভি যেন তার কথায় কোনো অস্বাভাবিকতাই খুঁজে পেলেন না। বরং ইনায়াকে কাঁধে রেখেই অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বলল
রাত অনেক হয়েছে। ঘুমাতে যাও।তারপর লিখন চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আরও বললেন,

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭১

“মেয়েকে যদি ঠিকমতো মানুষ করতে, তাহলে আজ এই চিৎকার শুনতে হতো না। বানিয়েছো তো একেবারে বেয়াদব একটা!”লিখন চৌধুরী যেন একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।কাঁধের ওপর থেকে ইনায়া তখনও ইউভির পিঠে কিল ঘুসি মারছে।
লিখন চৌধুরী মনে মনে বললেন,
“আতিক চৌধুরী একটা অসভ্য বানিয়ে রেখে গেছে একদম দাদার মত হয়েছে কিন্তু আমার ছেলেটা এত ঠোঁটকাটা হলো কীভাবে?

শেহেজাদার আদর পর্ব ৭৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here