Home শ্রাবণ ধারার রূপকথা শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৬

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৬

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৬
অনামিকা তাহসিন রোজা

অনেক দৌঁড়ঝাপের পর রাতে ডিনার করে ঘরে এসে হাঁফ ছাড়লো ধারা। চোখেমুখে বিরাট ক্লান্তি। প্রচুর কাজ করেছে বলে কথা। যদিও তাকে সবাই জোর করেছে যে কাজ করার দরকার নেই, বিশ্রাম নাও। তবে পরিশ্রমী ধারা মোটেই বসে থাকার মত নয়। সবার হাতে হাতে হাসিমুখে কাজ করে দিয়েছে। আপন মনে করে সব কিছু সামলেছে। সকলে মুগ্ধ হয়েছে মেয়েটার এমন আচরণে। শেষ ডিনার করার ক্ষেত্রেও সবার শেষে খেয়েছে বাকি গিন্নিদের সাথে।
ঘরে এসে বিছানায় ধপ করে বসলো ধারা। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো শ্রাবণ নেই কোথাও।

চোখ বুলিয়ে প্রথমে তাকে খুঁজলেও এরপর ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো সে। এরপর এসে হাতমুখ মুছে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সারাদিন খোঁপা করে রাখা চুলগুলো আলতো করে ছেড়ে দিলো। ব্যাগ থেকে চিরুনি বের করে ধীরে ধীরে আঁচড়াতে শুরু করলে হুট করেই চমকে যায় পেটের কাছে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে। মুহুর্তেই মধ্যেই দুটো শক্তপোক্ত হাত পেঁচিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় ধারাকে। অন্যমনস্ক থাকায় প্রথমে চমকে গেছিল ধারা। পরমুহূর্তে আয়নায় চোখ রেখে শ্রাবণ শেখ কে দেখেই লজ্জায় গুটিয়ে গেলো। চুলে চালনা করা চিরুনিটাও থমকে বুকের কাছে এসে গেলো। ধারা মাথা নামালো সহসা। কারন শ্রাবণ শেখ তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে আয়নায় চোখ রেখেছে। ধারাকে লজ্জা পেতে দেখে শ্রাবণ ফিক করে হাসলো। মিটিমিটি হেসে বলে উঠলো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

—” লজ্জাবতী গাছটাও লজ্জা পেয়ে যাবে তোমার এই লাগামছাড়া লজ্জা দেখে। নাক গাল সব লাল হয়ে গেলো মুহুর্তেই। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়,তুমি একটা ম্যাজিকাল বিউটি। একটু ছুঁলেই লাল আভায় নিজেকে রাঙিয়ে দাও।”
শ্রাবণ ধারার লজ্জাকে অপমান করে কথাটা বলেছে। এতে ধারার উচিত ছিল লজ্জাটজ্জা ভুলে চোখ গরম করে তাকানো। অথচ অত্যন্ত লাজুক ধারা আরো বেশি লজ্জা পেলো। পেটের কাছে শক্ত করে চেপে রাখা শ্রাবণের হাতটা ঠেলে দিয়ে সরানোর চেষ্টা করে বলল,

—” সরুন।”
ভ্রু কুঁচকে আয়না দিয়ে ধারার দিকে তাকালো শ্রাবণ। বলল,
—” কেনো? সরবো কেনো?”
ধারাও আয়নায় এক পলক তাকালো। মিনমিন করে বলল,
—” আমার সুড়সুড়ি লাগছে।”
চোখ সরু করে তাকালো শ্রাবণ। নিতান্তই বাচ্চামো অযুহাত। ঠোঁট উল্টিয়ে ফেলল ধারা। কোনোমতে আবারো বলল,
—” আমি সত্যি খুব ক্লান্ত। চুলটা আঁচড়ে শুয়ে পড়ব ভাবছি। একটু সরুন না প্লিজ। শুধু চুলটা বেঁধে নিই।”
এবারে ভদ্র হলো শ্রাবণ। চোখমুখ গুরুতর করলো, কিন্তু সরে দাঁড়ালো না। বরং ধারার চুল হাত দিয়ে বুলিয়ে দিয়ে বলল,

—” অনেক কষ্ট করেছো। আর করতে হবেনা। চিরুনি আমায় দাও দেখি।”
বলে ধারার অপেক্ষা করলো না শ্রাবণ। ফট করে চিরুনি টা হাতে নিয়েই ধারার চুল আঁচড়ে দিতে থাকলো। ধারা অস্থির হলো অল্পখানি,
—” ক—কী করছেন? আমি পারব তো।”
শ্রাবণ ধমক দিলো,
—” শাট আপ। ফড়িং এর মত তিড়িংবিড়িং করবেনা ধারা। আজকাল বেশ অবাধ্য হচ্ছো তুমি!”
ধারা আয়না দিয়ে সুদর্শন পুরুষটিকে দেখলো হতবাক হয়ে। কি অবলিলায় লোকটা তাকে দোষ দিয়ে ধমক দিলো। অবাক হয়েই ধারা বলল,
—” আমি আবার কী করলাম?”
শ্রাবণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিটা বজায় রেখে বলল,

—” কী করোনি সেটা জিজ্ঞেস করো। অনেক অবাধ্য হয়েছো তুমি। একটা কথাও শোনো না। আবার ঝগড়াও শুরু করেছো ইদানিং। তা করো, সমস্যা নেই। কিন্তু তিড়িংতিড়িং কম করো। উষ্ঠা খেয়ে হাতপা ভাঙার বহুত রেকর্ড আছে তোমার। এমনিতেও অনেক পানিশমেন্ট তুলে রেখেছি তোমার জন্য। আর অবাধ্য হয়ো না। তোমারই মঙ্গল। ”
ধারা হা হয়ে তাকিয়ে সব শুনলো। কি সুন্দর করে লোকটা তাকে হুমকি দিয়ে গেলো। এটা কে কি পুকি ব্লাকমেইল বলা যায়? যায় হয়তো। এরমধ্যেই ধারার চুল আঁচড়ানো শেষ করলো শ্রাবণ। ঠোঁট কাঁমড়ে কিছু একটা ভেবে জিজ্ঞেস করল,

—” খোঁপা করবে, নাকি বেনী করে দেব?”
ধারা সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকালো। জিজ্ঞেস করল,
—” আপনি বেনী করতে পারেন?”
শ্রাবণ অন্যমনস্ক হয়ে বলল,
—” হুম হুম।”।
ভ্রু কুঁচকে তাকালো ধারা,
—” কীভাবে পারেন? কাকে বেনী করে দিয়েছেন আগে?”
শ্রাবণ বলতে চাইলো —মাকে। কিন্তু কি একটা উপলব্ধি করতেই ঠোঁট কাঁমড়ে দুষ্টু হাসলো শ্রাবণ শেখ। বুঝতে পারলো কিছু একটা পুড়ছে। বারবিকিউ হয়ে যাচ্ছে জ্বলেপুড়ে। বউ বউ ভাবটা ফিরে এসেছে ধারার মধ্যে। এখন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সন্দেহ করছে স্বামীকে। তাই শ্রাবণও চাইলো একটু দুষ্টুমি করতে। তাই হাসিটা লুকিয়ে অনেকক্ষণ ভাবনাচিন্তা করার নাটক করে বলল,

—” আসলে কি হয়েছে বলোতো। তুমি আবার কাওকে বোলো না। বিদেশে আমার একটা গার্লফ্রেন্ড ছিল। অনেক সুন্দর বুঝলে তো। চুল ছিল পা পর্যন্ত লম্বা। তখন আমাকেই বেনী করে দিতে হতো। ওই করতে করতেই শিখে গেছি।”
শ্রাবণ এমনভাবে বললো যে যেকেউ-ই বিশ্বাস করে ফেলবে। ধারা এমনিতেও সরল এসব বিষয়ে। সে তো কখনো বিদেশ দেখেনি যে জানবে বিদেশের অধিকাংশ মেয়েদেরই চুল সর্বোচ্চ কোঁমড়ের উপর পর্যন্ত হয়। পা পর্যন্ত চুল রাখা মেয়ে আজকাল খুব কমই পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা শ্রাবণ শেখের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। সে কখনো কোনো মেয়ের দিকে তাকায়ও নি। মেয়েঘটিত বিষয়ে সে ছিল নির্লিপ্ত। বর্তমানে এক নারী ছাড়া আর কোনো নারীর প্রতিও তার আগ্রহ নেই।
ধারা চুপ রইলো কিছুক্ষণ। তারপর বলল,

—” ওর নাম কী ছিল?”
শ্রাবণ আমতা আমতা করে ভাবলো কিছুক্ষণ। এরপর ফট করেই বলল,
—” ওর নাম হলো ডায়নামিক। ”
ধারা ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
—” ডায়নামিক? এটা আবার কেমন নাম?”
শ্রাবণ বেশ দক্ষ ভাবে বললো,
—” ওই আর কি। বিদেশে তো এসব নামই হয়।”
ধারা বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো। শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে ধারার দিকে তাকিয়ে রইলো। কি আশ্চর্য! মেয়ে টা কিছু বলছে না কেনো? বিশ্বাস করেনি নাকি? শ্রাবণ এসব ভাবতে ভাবতেই ধারাকে বেনী করে দিতে থাকলো। খেয়াল করলো ধারার চুল গুলো। হুট করে বুঝতে পারলো ধারার চুল একটুখানি খাটো হয়েছে। আগে কোঁমড় ছাড়িয়ে যেত। এখন কোঁমড় পর্যন্ত। আর সাইজও একদম টানাটানা। শ্রাবণ জিজ্ঞেস করল ফট করে,

—” তোমার চুল ছোট হলো কী করে ধারা?”
ধারা ভাবছিল কিছু একটা। শ্রাবণের কথায় হুঁশ ফিরে পেয়ে বলল,
—” ইকরা আপু একটু কেটে দিয়েছে।”
চমকে গেলো শ্রাবণ। হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
—” কেনো?”
ধারা বললো
—” হেয়ারস্টাইল করার জন্য। আমার চুলগুলো নাকি আঁকাবাঁকা লাগছিল। তাই আগা গুলো সমান করার জন্য কেটেছে। ”
শ্রাবণ ভাবলো বকাবকি করবে। কিন্তু করলো না। ভালো করে বলল,
—” আমায় না বলে কখনো চুল কাটবে না তুমি। তোমার চুলগুলো আমার খুব পছন্দ। যত ইচ্ছে তত বড় হোক। কাটবেনা কখনো। বাড়তি যত্ন নিতে হলে আমি নেব। বুঝেছো?”
ধারা মাথা এলিয়ে ভদ্র মেয়ের মত বলল,

—” জ্বি।”
শ্রাবণ কাজ শেষ করলো। ধারাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে দেখে নিলো চুল ঠিক হয়েছে কিনা। এরপর টেনে নিলো নিজের দিকে। ধারা আবারো গুটিয়ে গেলো। শ্রাবণ হাসলো, বলল,
—” লজ্জা পেলে তোমায় টমেটোর মত লাগে।”
ধারা মুখ ভেঙচালো। বলল,
—” অনেকবার বলেছেন।”
শ্রাবণও ভ্রু কুঁচকে তাকালো। বলল,

—” আবারো বলব। হাজারবার বলব। যতবার লজ্জা পাবে, ততবারই বলব, বুঝলে?”
ধারা আরো কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু তখনি শ্রাবণের ফোন বাজতে শুরু করলো। শ্রাবণ ধারাকে ছেড়ে এগিয়ে এসে বিছানা থেকে ফোনটা হাতে নিলো। আননোন নাম্বার দেখে ধরলো না। কেটে দিয়ে আবারো পেছনে ফিরলো। বলল,
—” তোমার নাকি ক্লান্ত লাগছে। এসো ঘুমিয়ে যাও। ”
ধারা মাথা এলিয়ে এগিয়ে এসে বিছানায় জায়গা করে নিলো। শ্রাবণও বসে পড়লো বিছানায়। শোয়ার আগে তাকালো শ্রাবণের দিকে। হুট করে বলল

—” একটা কথা বলি?”
শ্রাবণ ফোনটা হাতে নিয়ে কি যেন করছিল। ধারার কথা শুনে বলল,
—’ হুম বলো।”
ধারা ইতস্তত করল প্রথমে। তারপর হুট করে বলে উঠলো,
—” আপনি কি ওই মেয়েটার জন্যই আমায় বিয়ে করতে চান নি?”
ফোন রেখে ফট করে তাকালো শ্রাবণ। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
—” কোন মেয়েটা?”
—” ওইযে বললেন। কি যেন নাম..ডানামিক, নাকি ডায়না..কি যেন বললেন। বিদেশি সাদা মেয়েটা!”
শ্রাবণ চোখ বড় করে তাকালো এবার। হতবাক হয়ে বলে উঠলো,
—” তোমার ব্রেন কি থ্রি জি নেটওয়ার্কে কাজ করছে বউ আমার? ”
ধারা ভ্রু কুঁচকালো,

—” কেনো?”
শ্রাবন নড়েচড়ে বসে বলল,
—” আমি সেই কখন তোমায় ডায়নামিকের কথা বলেছি। তুমি সেই কথার প্রতিক্রিয়া এখন দিচ্ছো? সিরিয়াসলি?”
ধারা কাঁধ উঁচিয়ে বলল,
—” আমি তো শুধু…এমনিতেই বললাম। শোনার অত শখ নেই আমার।”
বলেই শুয়ে পড়ার চেষ্টা করলো ধারা। এড়িয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু মলিন মুখটা দেখে যা বুঝার বুঝে ফেলল শ্রাবণ। আরো বুঝলো তার বউ খেপেছে। তাই ফট করে ধারার কনুই ধরে বসিয়ে দিলো তাকে। বলল,
—” আরেহ বোকা মেয়ে! মজা করছিলাম!”
ধারা চোখ সরু করে তাকালো,
—” সে যাই করুন না কেনো। আমার কিছু যায় আসে না। বিদেশি মেয়েরা সুন্দর। আসলেই তো। ওদের মত সুন্দর সাদা মেয়ে ছেড়ে আপনাকে আমার সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে। আপনি তো রাগ করবেনই।”
শ্রাবণের এবার ইচ্ছে করলো বারান্দা থেকে গলায় পানিভর্তি জগ বেঁধে লাফ দিতে। শেষমেশ যা ভেবেছিল তাই। ধারা সত্যি সত্যি অভিমান করে বসেছে। এরমধ্যেই ধারা ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। শ্রাবণ কপাল চাপড়ালো। এরপর এগিয়ে এসে শুয়ে পড়লো ধারার পাশে। তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে চুমু খেলো আলতো করে। কানের কাছে এসে ধীরকন্ঠে বলতে শুরু করলো,

—” জীবনে একটাবারই নিজেকে হারিয়েছি৷ একবারই প্রণয়জালে বাঁধা পড়েছি। এক নারীতেই খেঁই হারিয়ে মত্ত হয়েছি। একজনের স্পর্শের জন্যই পাগল হয়েছি। শুধুমাত্র ওই একজনই আমার মনরাজ্যে রাজত্ব করেছিল, করছে আর আজীবন করবে। সে ছাড়া আমার এই এটুকু জীবনে কখনো কোনো নারী স্থান পায়নি ম্যডাম। সেই নারী কে জানেন? যার জন্য তিন কবুল বলেছি সে-ই। যে কিনা এখন মিসেস শেখ।অথচ সেই রমণীই যদি এমন অভিমান করে বসে, তাও আবার নিতান্তই মজার ছলে বলা কথাটায়, তবে কী করে হবে হুম? আপনি চেনেন না আপনার স্বামীকে? জানেন না, সে কেমন? এটুকু বিশ্বাস নেই?”
ধারা শুনলো সবটা। কানের কাছে বলা কথাগুলো মনের ভেতরে গিয়েই দামামা বাজালো। কিন্তু পাথরের মত রইলো ধারা। প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে মিনমিন করে বলল,

—” বিশ্বাস আছে তো।”
শ্রাবণ হাসলো। ধারার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল,
—” তো অভিমান করে ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়লে কেনো? আমার বুকে মাথা রাখবে কে? কাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাব? রাতে আমার উপরে পা উঠিয়ে দেবে কে? গুনগুন করে গান শোনাবে কে হুম?”
ধারা ঠোঁট চেপে হাসলো। দুষ্টুমি করে বলল,
—” কেনো? আছে তো আপনার ডায়নামিক। সে আপনাকে ইংরেজি গান শোনাবে।”

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৫

বলেই হো হো করে হাসতে থাকলো ধারা। শ্রাবনও তাল মিলিয়ে হেসে ধারাকে বুকে জড়িয়ে নিলো৷ বুঝলো বউটাও দুষ্টুমি করতে শিখেছে। শ্রাবণ চোখ বুঁজে চুমু খেলো ধারার গালে। বুকে চেপে ধরে বললো,
—” ডাইনামিক নামে আদৌও কোনো মানুষ আছে কিনা তার ঠিক-ঠিকানা নেই, আর সে আসবে আমায় গান শোনাতে হুম? তার চিচিংফিচিং গান পরে শুনব, এখন আগে একটা বিশুদ্ধ বাংলা গান শোনাও তুমি।”
ধারা বাধ্য। শ্রাবণের বুকে মাথা রেখে আবারো সেই গানটা শোনালো যা শ্রাবণকে গ্রামে সেই রাতে প্রথমবার শুনিয়েছিল। এই গান ধারার কন্ঠে শ্রাবণের খুব পছন্দ। বারবার শুনলেও মন ভরে না যেন।

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৭