শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৫২
অনামিকা তাহসিন রোজা
অনেক সময় মানুষকে এমন অদৃশ্য ধাক্কা খেতে হয়, যার মাধ্যমে পৃথিবী থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়। জীবনের এই পর্যায়ে এসে, এই পরিস্থিতিতে এমন একটা কথা জানার পর হয়তো শ্রাবণের হার্ট অ্যাটাক করাই উচিত ছিল। শুধু সে কেনো, তার জায়গায় অন্য কেও থাকলেও একই ভাবে থমকাতো। প্রথমত সালমা বেগমের এমন ভয়ানক অতীত শুনে একটা ছেলে হিসেবে ধাক্কা খাওয়াটা উচিত বটে। দ্বিতীয়ত, মায়ের মামাতো বোনের মেয়ের সাথে হুট করে অনাকাঙ্খিত ভাবে বিয়ে করে সংসার করছে শ্রাবণ শেখ, তাও আবার এটা বিয়ের কয়েক মাস পর জানতে পেরে মুর্ছা যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। তবে তার প্রশ্নের জবাবে সালমা বেগমের ” তোর ঘরে ! ” কথাটা শুনে শ্রাবণ যে পরিমাণে স্তব্ধ হয়েছে, তাতে বোধহয় নীরব ধাক্কা টা খাওয়াও স্বাভাবিক।
সত্যি সত্যি নিজের ঘরে ধরনী আন্টির মেয়ে আছে কিনা তা দেখার জন্য বেচারা স্তব্ধ শ্রাবণ অনুভুতিশূন্য চেহারা নিয়ে ধীর পায়ে নিজের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। প্রতিক্রিয়া দেয়ারও সুযোগ নেই তার। কোনোমতে ঠোঁট কাঁমড়ে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো শ্রাবণ। মেঝেতে রাখা চোখগুলো ধীর গতিতে উঠিয়ে তাকালো নিজের বিছানার দিকে। সাথে সাথে চোখ আটকালো বিছানায় বসে বসে বাদাম খেতে থাকা ধারার দিকে। হাঁটু মুড়ে বসে একটা একটা করে বাদাম মুখে নিচ্ছে ধারা। অত্যন্ত মনোযোগ ভঙ্গিতে খাচ্ছে সে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
এই প্রথমবার নতুন করে স্ত্রীর নিকট দৃষ্টিপাত করলো শ্রাবণ শেখ। নতুন ভাবে যেন পর্যবেক্ষণ করল তাকে। নাহ, ধারা মোটেই শ্রাবণের মামাতো বোনও হবে না। কারন সালমা বেগমের মামাতো বোনের মেয়ে ধারা। বেশ দূরের সম্পর্ক। আর সত্যি সত্যি নিজের মামাতো বোনের মেয়ে হলেও শ্রাবণের কোনো সমস্যা ছিল না। এখন তিন কবুল তো ফিরিয়ে নিতে পারবে না সে। যতই যা হয়ে যাক না কেনো, তার বউ, তার বউ-ই থাকবে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল শ্রাবণ।
ধারা দরজা খোলার শব্দে চোখ উঠিয়ে তাকালো শ্রাবনের দিকে। শ্রাবণ কে দেখে আরো দ্রুত গতিতে বাদাম খাওয়া শুরু করলো। আসলে, এ ঘর থেকে যাওয়ার আগে শ্রাবণই বেচারি মেয়ে টাকে হুমকি দিয়ে গিয়েছে যে, এসে যদি দেখে বাদাম শেষ হয়নি, তাহলে নাকি ধারাকে আজ সারারাত বাদামই খাওয়াবে। ভয়ানক শাস্তি। এমনিতেই এসব খেতে চায় না ধারা। তাই কষ্ট করে কোনোমতে যা আছে তা-ই খেয়ে নেয়া ভালো।
শ্রাবণ এর মধ্যে এগিয়ে এলো। ধারার পাশেই বিছানায় বসে পড়লো ধপ করে। ধারা হুট করে লক্ষ্য করলো শ্রাবণের রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে চেহারা টা। কী হয়েছে মানুষটার? এভাবে হতাশ লাগছে কেনো? ধারা মুহুর্তেই মনে মনে অস্থির হলো। কিন্তু সে তো আর সবকিছু প্রকাশ করতে পারে না তেমন ভাবে। তাই একটু খানি এগিয়ে এসে শ্রাবণের বাহুতে হাত রাখলো আলতো করে। মুখের কাছে এগিয়ে চোখে একরাশ মায়া নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
—” কী হয়েছে আপনার? মন খারাপ?”
শ্রাবণ তাকালো ধারার মুখের দিকে। চোখজোড়া দেখে বুক কাঁপলো তার। মুচকি হেসে মাথা নেড়ে বোঝালো কিছু হয়নি। কিন্তু ধারা শান্ত হলো না। আরেকটু ঘেঁষে বসলো শ্রাবণের সাথে। এরপর কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,
—” আপনি কি আবারো বাবু নিয়ে টেনশন করছেন? এবারে এমন করলে কিন্তু আমি অনেক কাঁদব।”
শ্রাবণ এবারে ফিক করে হাসলো। ধারা কে টেনে নিলো নিজের কাছে। হুট করে আগলে নিলো। জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে। জাপটে ধরে মুখ ডোবালো ধারার ঘাড়ে। পরম আবেশে চুমু খেলো সেখানটায়। খুব করে চাইলো মেয়ে টাকে বুকের ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে। বলল,
— ” আমি মোটেই আর বাবু নিয়ে টেনশন করছি না। আমার ধারা অনেক সাহসী। আর আমি আছি তো। কিচ্ছু হবে না। আল্লাহর রহমতে সব ঠিক হবে। বরং আমি অনেক খুশি। অনেক বেশি খুশি আমি। এখন শুধু তোমার আমার ভালোবাসার ছোট্ট অংশ টাকে ছুঁয়ে দেয়ার অপেক্ষায় আছি।”
ধারার ঠোঁটে আপনাআপনি হাসি ফুটে উঠলো। খুশিতে চোখ চিকচিক করলো তার। শ্রাবণ আরো জোরে চেপে ধরলো ধারাকে। বুক ভরে শ্বাস নিল। ধারা চেপে গিয়ে শ্বাস নিতে পারলো না। কোনোমতে মিনমিন করে বলল,
—” একটু আস্তে ধরুন। দম আটকে যাচ্ছে! ”
শ্রাবণ আলগা করে ধরলো। এবারে চুমু খেলো ধারার কপালে। সরে এসে দু গালে হাত রেখে শুকনো ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করল,
—” আচ্ছা, তোমার মা…তোমার নানু বাড়ির সম্পর্কে তুমি কিছু জানো?”
ধারা দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,
—” উহু। আমি চাচা-চাচি ছাড়া আর কাওকে চিনি না। কেও তো কোনোদিন আমার খোঁজ নিতে আসে নি।”
শ্রাবণ আগে হলে এই কথা শুনে কষ্ট পেত। আজ পেলো না। মনে মনে খুশি হলো। দরকার নেই জানার। কিচ্ছু জানানোর দরকারও নেই। শ্রাবণ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো ধারা কে কোনোদিনও এই অতীত, এই সত্যি জানতে দেবে না। কোনোদিনও না। এভাবেই একটা জীবন কাটিয়ে দেবে ধারার সাথে। কী দরকার শুধু শুধু একটা কালো অতীত মেয়ে টাকে শোনানোর। শুধু শুধু কষ্ট দেয়ার দরকার কী? থাকুক না কিছু অজানা! থাকুক না একটু রহস্য!
শ্রাবণ কে অন্যমনস্ক হতে দেখে ধারা বাটি থেকে দুটো বাদাম শ্রাবণের মুখে ঢুকিয়ে দিল। শ্রাবণ চমকে ভ্রু কুঁচকে তাকালে ধারা মেকি হেসে বলে উঠলো,
—”আমি এতগুলো খেতে পারছি না। আপনি একটু খান প্লিজ। আপনি খেলেই আমার খাওয়া হয়ে যাবে।”
শ্রাবণ রেগে গেলো ভীষণ, মনে মনে তৈরী হলো মেয়েটাকে একটা রামধমক দেয়ার জন্য। কিন্তু তার আগেই কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই চট করে শক্তপোক্ত দেহ টাকে জড়িয়ে ধরলো ধারা। মাথা রাখলো শ্রাবণের বুকে। মিষ্টি হেসে বলল,
—” আমার না ভীষণ ফুচকা খেতে ইচ্ছে করেছে। এসব বাদাম, দুধ আপনি খান। আমায় ফুচকা এনে দিন না প্লিজ।”
শ্রাবণ না চাইতেও হেসে ফেললো। তবে কঠিন ভাব টা বজায় রেখে ধারার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
—” ওসব স্ট্রিট ফুড এখন মোটেই খাওয়া যাবে না।”
ধারা জেদ ধরলো। কান্নারত সুরে বলল,
—” আপনি এমন করতে পারেন না। আপনি আমায় তখন বলেছিলেন যে যা খেতে চাইবো তাই খাওয়াবেন। অথচ এখন কথা ফেরাচ্ছেন।”
শ্রাবণ শাসানোর সুরে বলে উঠলো,
—” এসব না খেয়ে চুমু খেতে চাইতে, তাও তো ভেবে চিন্তে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখতাম যে দেয়া যায় কিনা। তাই বলে, ফুচকা খেতে চাইবে? এসব নট আলাউড! ভেরি আনহেলদি!”
ধারা এবারে ঝট করে ছেড়ে দিলো শ্রাবণ কে। ভ্রু কুঁচকে তাকালো শ্রাবণের দিকে। রাগান্বিত গলায় বলে উঠলো,
—” আপনি ভীষণ খারাপ! ”
শ্রাবণ হাসলো,
—” তা তো আমি বটেই।”
ধারা এবারে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলো। তুমুল রাগ করেছে বোঝা গেলো। এমন পরিস্থিতে দেখে শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হয়েছে একটা ঝামেলা তার! বউয়ের বাচ্চামো টা আর গেলো না! শ্রাবণ এখনো হিসেব মেলাতে পারে না যে এই পিচ্চি কয়েকদিন পর একটা বাচ্চা কীভাবে সামলাবে। অতীত, ভবিষ্যত, বর্তমান সব নিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে শ্রাবণ বউয়ের খুশির জন্য অবশেষে রাজি হলো, বলল,
—”আচ্ছা, রাতে নিয়ে যাব। চুপি চুপি যেতে হবে। বাবা দেখতে পেলে আমায় ধমকাবে। তোমায় তো কিছুই বলবে না। খুশি?”
ধারা মিটিমিটি করে হেসে মাথা নেড়ে বলল,
—” হু হু খুশি। অনেক খুশি।”
বলে আবারো জড়িয়ে ধরলো শ্রাবণ কে। বলল,
—” পরশু দিন নাকি বাড়িতে অনেক লোকজন আসবে। অনেক আত্মীয় আসবে। কেমন অনুষ্ঠান হবে শুনেছেন?”
শ্রাবণ ঠোঁট কাঁমড়ে বলল,
—” হুম শুনেছি। তুমি চিন্তা কোরো না। একদম বিন্দাস হয়ে ঘরে বসে থাকবা। একদম লাফালাফি করতে যাবে না। খবরদার! এমন করলে ঠ্যাং ভেঙে ঝুলিয়ে রাখবো। বুঝেছেন মিসেস শেখ ?”
ধারা মাথা নেড়ে বলল,
—”জ্বি বুঝেছি, শেখ সাহেব।”
সত্যি সত্যি বুঝেছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান শ্রাবণ। কারন মেয়ে যতই বলুক না কেনো, শেষে দেখা যাবে, হাতে খাবারের ট্রে নিয়ে ঘুরঘুর করছে আরামসে। আর ভুলক্রমেও এমন টা হলে শ্রাবণ ধারাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে বলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলো।
শহরে এসে আজিমপুরের দিকে একটা ছোটখাটো বাসা ভাড়া নিয়েছে সাদিক। কনিকা কে এখানে আনার পর থেকেই সে অনেক চিন্তিত। প্রথমত কণিকা এর আগে কখনো শহরে আসেনি আর এত বড় শহরে চলাফেরা করা শিখেনি। তাই সাদিক যখন কাজের জন্য বাইরে যাবে, তখন কনিকা কে বাড়িতে একা একাই থাকতে হবে। মেয়েটা কিভাবে একা একা সব কিছু সামলাবে, তা-ই নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত সাদিক। অথচ কনিকা আপাতত কোনো চিন্তা তেই নেই। সে মনের সুখে নতুন সংসার সাজাতে গোছাতে ব্যাস্ত। সাদিকের কাছে মনে হলো হুট করেই মেয়ে টা বড় হয়ে গিয়েছে। ম্যাচিইউরিটি চলে এসেছে হুট করেই। হয়তো এই জন্যই অনেকে বলে, মেয়ে দের বড় হতে সময় লাগে না। বয়সের ভারে, পরিস্থিতির চাপে একটা মেয়ে ঠিকই নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। কাদা মাটির মত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। তাই কনিকাও এখন তেমন পর্যায়ে আছে।
দুপুরের খাওয়াটা রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবারেই করল সাদিক আর কনিকা। সাদিক কাজ করেছিল সেই রেস্টুরেন্টে। তাই সেই অনুযায়ী বিনিময়ে তাকে খাবার দিয়েছে। তা নিয়েই বাড়িতে ফিরেছে সে। এর আগে কখনো এত বড় রেস্টুরেন্টের খাবার খায়নি কনিকা। তাই এত মজাদার সুস্বাদু খাবার পেয়ে সে অনেক তৃপ্তি সহকারে খেলো। কতদিন পর যে এমন পেট ভরে খেলো তার হিসেব নেই। বউকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াতে পেরে বুক ভরলো সাদিকের। নিজে একটুখানি খেয়েও কোনো আফসোস রইলো না৷ একটা ছোট খাট কিনেছে সাদিক। সেই খাটেই বড় একটা মোটা কাঁথা বিছিয়ে নিয়েছে কণিকা, বালিশ ছিল আগে থেকেই। গ্রাম থেকে এসব এনেছে জরিনা খাতুন এর কাছ থেকে। সেখানে সেগুলো দিয়েই বিছানা গুছিয়ে নিয়েছে কণিকা। এছাড়াও থালা বাটি থেকে শুরু করে সংসারের যাবতীয় ছোট ছোট জিনিসপত্র কিনতে পেরেছে তারা। যদিও এখানে সাদিক ধার করা টাকা খরচ করেছে।
দুপুরে খাওয়ার পরে সাদিক বিছানায় শুয়ে পড়ল। এই প্রথমবার তার ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে। কারণ খাটটা তুলনামূলকভাবে ছোট। যদিও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাদের জন্য খাটটা মোটেই তেমন ছোট হওয়ার কথা নেই। কিন্তু তাদের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে সেই অনুসারে খাট টা বড্ড ছোট। তাই অনেক বেশি করে আঁটোসাঁটো করে সাদিক শুয়ে পড়লো একদিকে। কনিকা থালা বাটি গুছিয়ে রেখে ঘরে এসে এমন অবস্থা দেখে পড়ল বিপাকে। তবে দুপুরের ঘুমটা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি আর সবকিছু মিলিয়ে আজ পর্যন্ত এই পর্যায়ে এসে সে মোটেই সাদিককে অবহেলা করে না। মানুষটাকে মনে মনে যে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছে তা তো সে নিজেও জানে আর লোকটাকেও তো জানিয়েছে। তাই অত কিছু ভাবলো না কণিকা। এগিয়ে গিয়ে আলতো করে শুয়ে পড়ল সাদিকের পাশে, সাদিক চোখ বুঁজে ছিল। পাশ থেকে মেয়েলি শরীরের সুঘ্রাণ নাকে আসতেই বড় করে গভীর শ্বাস নিয়ে চোখ মেলে তাকালো সে। পাশে তাকিয়ে কনিকা কে দেখে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো। কনিকা ঠোঁট ভিজিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
—” আপনার শুতে অসুবিধা হইতাছে? ঘুমাইতে সমস্যা হয়?”
সাদিক আলতো মাথা নেড়ে বলল,
—” না। একটুও অসুবিধা হইবো না।”
কনিকা চোখ নামিয়ে নিলো। সাদিকও চোখ সরিয়ে ছাদের দিকে চোখ রাখলো। এই প্রথম উপরে তাকালে টিন দেখলো না সে, সিলিং দেখলো। হাসি পেলো সাদিকের। হাসলো না। বরং কনিকা কে জিজ্ঞেস করল,
—” ঢাকা শহর কেমন লাগতাছে? থাকতে পারবা এইখানে আমার সাথে?”
কনিকা হেসে বলল,
শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৫১
—” খুব পারুম। কেনো পারুম না? আপনি আছেন তো।”
সাদিকের বুকে শীতল হাওয়া বয়ে গেলো। এটুকুই তো দরকার। সংসার করতে এর থেকে বেশি আর কিছুরই দরকার নেই কোনো পুরুষের। পছন্দের নারীর একটুখানি ভালোবাসা, স্নেহ, তৃপ্তি আর মায়া- এসব থাকলেই আর সুখের অভাব হয় না সংসারে। সাদিকের মনে হলো তাদের সংসার টা সুখের হচ্ছে। সোনার সংসার বলা যায়। এক ছাদের নিচে দুজনে থাকতে পারছে। এর থেকে বেশি আর কী-ই বা চাই?
