শ্রাবণ ধারার রূপকথা ঈদ স্পেশাল
অনামিকা তাহসিন রোজা
—” আপনি কখন আসবেন? ঝড় শুরু হয়ে যাবে তো।”
ধারার চিন্তিত সুর শুনে গাড়ি চালাতে থাকা শ্রাবণ মুচকি হাসলো। সন্ধ্যা নেমেছে, কিন্তু পরিবেশ টা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গুমোট ও অন্ধকার। তুমুল ঝড়-বৃষ্টির আভাস পাওয়া গেছে। এদিকে আজ ধারা বাড়িতে একা। সামিউল শেখ ও সালমা বেগম ঈদের ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন দুদিন আগে। বেচারি মেয়েটা মনে মনে খুব করে চেয়েছিল শ্রাবণ আজ অফিসে না যাক। শ্রাবণ বুঝেছিল বউয়ের মনের আকাঙ্খা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকায় অফিসে যেতেই হয়েছে তাকে। বিকেলের দিকে কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যেতেই ধারার মন আরো উতলা হয়। তাই সে আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে শ্রাবণকে কল করে ফিরে আসতে বলে। অথচ সে জানে না, শ্রাবণ ইতোমধ্যেই বেরিয়ে পড়েছে বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে।
আজ বাদে কাল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। এ বছরে শ্রাবণ ধারাকে নিয়ে আলাদা করে ঈদ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিজেদের মত করে সুন্দর দিন কাটাবে তারা। আর ধারা প্রেগন্যান্ট হওয়ায় তাকে নিয়ে দূরে কোথাও যাওয়ারও ইচ্ছে নেই শ্রাবণের। সাত মাস চলছে মেয়েটার। পেট টুকুও অনেকখানি ফুলে গেছে। এখনই ঠিকমত হাঁটাচলা করতে পারেনা মেয়েটা। শ্রাবণ পারে তো সারাদিন বসিয়ে রাখে ধারাকে। সেখানে বাইরে কোথাও জার্নি করানোর কথা তো ভাবাও বিলাসিতা।
ধারা কোনোমতে আস্তেধীরে এসে দরজার কাছে দাঁড়ালো। শ্রাবণ বলেছে তার আসতে পাঁচ মিনিটও লাগবেনা। কথা রেখেছে তার শেখ সাহেব। দু মিনিটের মধ্যে এসে হাজির হয়েছে। ধারা দরজা খোলার সাথে সাথে শ্রাবণ হেসে এগিয়ে আসে। আগে বাইরে থেকে আসলে শ্রাবণ ধারার কপালে চুমু খেতো, তবে এখন সময় বদলেছে, জায়গা করেছে নতুন হবু সদস্য। শ্রাবণ বাড়িতে ঢোকামাত্রই ঝুঁকে ধারার ফোলা পেটে চুমু খায় এরপর হাত বুলিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে,
—” আমার মেঘমনি কি আমায় মিস করেছে?”
ধারা প্রতিবারের মত মুখ কুঁচকে বলল,
—” আপনি কীভাবে এত নিশ্চিত হচ্ছেন যে মেয়েই হবে। ছেলেও তো হতে পারে!”
শ্রাবণ এবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ধারার গালে টুপ করে চুমু খেলো। বাঁকা হেসে বলল,
—” আমার মেয়েই হবে দেখো তুমি।”
ধারা আবারো মুখ ভেঙচালো। একদিন রাতে যখন তারা ঘুমোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন হুট করেই শ্রাবণ ধারাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল-
—” নাম ঠিক করেছি বউ। মেঘ নামটা কেমন? আমার মেয়ের নাম মেঘমণি রাখব। সুন্দর না?”
ধারা সেই সময় বলেছিল
—” আর ছেলে হলে কী রাখবেন?”
শ্রাবণ তখন এমনভাবে তাকিয়েছিল যেন সে ভাবেওনি যে ছেলে সন্তান হতে পারে। পরবর্তীতে কিছুক্ষণ পর বলেছিল,
—” এখনো ভাবিনি। পরে ভাবব। ”
সেই পরে পরেই রয়ে গেছে। আজ তিন মাস পার হয়ে গেছে। অথচ শ্রাবণ ভাবেওনি। সে সেই মেঘমণি নামেই আটকে রয়েছে। তার দৃঢ় বিশ্বাস তার কোলে একটা ফুটফুটে মেয়েই আসবে। আরেকটা কথা শ্রাবণ ধারাকে বলতে পারেনি, কিন্তু এক গভীর রাতে শ্রাবণ স্বপ্নেও দেখেছিল সে নিজের মেয়েকে কোলে নিয়ে চুমু খাচ্ছে। তখন থেকে সে আরো আবেগে আপ্লুত হয়েছে।
ধারার কাঁধ জড়িয়ে শ্রাবণ সোফায় এসে বসালো। গালে হাত রেখে বলল,
—” তোমায় কতবার বলেছি দরজা এসে এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবেনা। আমার কাছে তো ডুপ্লিকেট চাবি রয়েছে। কথা শোনো না কেনো?”
ধারা মুচকি হেসে বলে,
—” অভ্যেস হয়ে গেছে। আমি না চাইলেও মন টেনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় দরজার কাছে।”
শ্রাবণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো,
—” চুপচাপ বসে থাকো এখানে। আমি ফ্রেশ হয়ে এসে তোমায় উপরে নিয়ে যাচ্ছি।”
ধারা বাধ্য মেয়ের মত মাথা দোলালেও শ্রাবণ চলে যাওয়ার সাথে সাথে সে উঠে দাঁড়ালো। গুটিগুটি পা ফেলে কিচেনে গিয়ে ফ্রিজ খুলে আচারের বক্স বের করলো। প্রচুর পরিমাণে আচার খাওয়া শুরু করেছে সে। এই পর্যন্ত ১৩ টা বক্স শেষ করেছে এই আট মাসে। শুধু আচারই না, সব কিছুই পেট ভরে খায় সে। না জানি এত রুচি, খিদে কোথা থেকে এলো। বক্স থেকে দু চামচ আচার খেয়ে নুডলস রান্না করতে শুরু করল ধারা। শ্রাবণের নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে। লোকটা সেই দুপুরে একটুখানি ভাত আর মাংস খেয়ে অফিসে গিয়েছিল। তারপর তো আর কিছু খায়নি মনে হয়। নুডলসের সাথে সাথে দুটো হাঁসের ডিমও সিদ্ধ করতে দেয় ধারা।
মিনিট দশেক পর বাটিতে নুডলস ঢালা হলে ধারা টের পায় তাকে কেও পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। স্পর্শ চেনা, ঘ্রাণ পরিচিত৷ মুচকি হাসে ধারা। কিন্তু ধমক দেয় শ্রাবণ।
—” খুব হাসি পাচ্ছে? মাতব্বরি করতে খুব ভালো লাগে?”
ধারা আবারো ঠোঁচ চেপে হেসে মাথা নাড়ালো। শ্রাবণ এবারে ধারার কপালে আলতো করে টোকা দিল। পেছন থেকে জড়িয়ে কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে আবেশে বলল,
—” তোমার ভাগ্য ভালো আমার মেঘমণি এখনো তোমার পেটে। অনেক শাস্তি জমা হয়েছে তোমার। কী ভেবেছো ভুলে গিয়েছি? আর তো সর্বোচ্চ দু মাস! কড়ায় গন্ডায় সব শোধ তুলব বলে দিলাম।”
ধারা ফিক করে হেসে নুডলসের উপরে একটু সস দিল। আর ডিম দুটোও পাশে দিয়ে বাটিটা শ্রাবণের দিকে তাক করে মজা করে বলল,
—” শাস্তি দেয়ার জন্য শক্তি বাড়াতে হবে। নিন, খেয়ে নিন।”
শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
—” তুমি কী বলতে চাইছো? আমার শক্তি নেই?”
ধারা বুঝলো ব্যাপার টা এখন ঘুরে ফিরে তার নিজের দিকেই ঝড় ডেকে আনবে। তাই সাথে সাথে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
—” মোটেই না। আমি তো বললাম আপনার আরো শক্তির দরকার। কেননা, এরপর থেকে তো দুজনকে একসাথে কোলে নিতে হবে।”
শ্রাবণ তবুও চোখ সরু করে তাকিয়ে বাটিটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিল। ধারা বুঝলো আবহাওয়া গরম করে দিয়েছে সে। তাই দ্রুত পা চালিয়ে শ্রাবণের পিছু নিল সে। সোফাতে পাশাপাশি বসলো দুজন। শ্রাবণ কোনো কথা না বলে টিভি চালু করে দিল। ধারাও পা উঠিয়ে আরাম করে বসে শ্রাবণের কাঁধে মাথা রাখলো। কিন্তু শ্রাবণ তার কাছ থেকে সরে এলো। দুরত্ব তৈরী করলো খানিকটা। ধারা ঠোঁট উল্টিয়ে তাকালো। চোখজোড়ায় জলরাশি এসে ভিড় করলে বলল,
—” এমন করছেন কেনো? আপনার মেঘমণি কষ্ট পাবে। ও কিন্তু সব দেখছে।”
শ্রাবণ কিছু বলল না। আপনমনে নুডলস খেতে থাকলো। ধারা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাবল কী করা যায়। চিন্তা ভাবনা করে সে আবারো দুরত্ব মিটিয়ে শ্রাবণের টি শার্ট টেনে ধরে বাচ্চাদের মত আবদার করে বলল,
—” আমার জুস খেতে মন করেছে। আর, মেঘমণির চকলেটও খেতে চাইছে!”
শ্রাবণ এবারে চোখমুখ কুঁচকে তাকালো। ধারা পাঁচ মাসে পা রাখতেই কেনো যেন ফাস্টফুডের প্রতি আকর্ষিত হয়েছে। বউয়ের আবদার ফেলতে পারেনা বলে মাঝে মাঝে সে এসব এনে দেয়৷ ধারা শ্রাবণের মুখ থেকে পেটে হাত দিয়ে বলল,
—” আমি খেতে চাইছি না। মেঘমণি খেতে চাইছে। আপনি জিজ্ঞেস করুন। দেখুন কেমন নড়াচড়া করছে।”
শ্রাবণ কিছু বলতে চাইবে তার আগেই ফট করে কারেন্ট চলে গেলো। অন্ধকার হয়ে গেলো পুরো বাড়ি।তারপরই যেন আকাশ ফেটে পড়লো। ভয়ংকর একটা বাজ পড়ার শব্দে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠলো। সাথে সাথে ঝোড়ো হাওয়া জানালায় আছড়ে পড়তে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে গেলো তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। ধারা চমকে উঠলো। বুকের ভেতর ধক করে উঠলো তার। ভয়ে, না বুঝে, না ভেবেই সে এক ঝটকায় শ্রাবণের দিকে ঝুঁকে পড়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরলো তার টি-শার্ট। মুখ গুঁজে দিলো শ্রাবণের বুকে। আরেকটা বাজ, আরেকটা গর্জন, ধারা কেঁপে উঠলো আবারো। চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়। শ্রাবণ এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেলো। তার রাগ, অভিমান—সব যেন সেই বজ্রপাতের শব্দেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। ধারার কাঁপা শরীরটা অনুভব করতেই সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। দু হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ধারাকে। এক হাত উঠে গেলো তার মাথায়। আলতো করে চুলে হাত বুলিয়ে দিলো। নরম গলায় বলল,
—” ভয় পেয়েছো? আমি আছি তো।”
ধারা কিছু বলল না। শুধু আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। তার শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়ে গেছে। শ্রাবণ ধীরে ধীরে তাকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বলল,
—” এমন বৃষ্টি হলেই আমার সেই রাতের কথা মনে পড়ে।”
আরেকটা বজ্রপাত। ধারা এবার চোখ বন্ধ করেই জিজ্ঞেস করল,
—” কোন রাত?”
শ্রাবণ ঠোঁট কাঁমড়ে হেসে বলল,
—” যেই রাতে আমার ছলনাময়ী নারী নীলরঙা শাড়িতে সেজে ছাদে বৃষ্টিবিলাস করেছিল। আর অকারণেই খু’ন করেছিল আমায়।”
অন্ধকারেও শ্রাবণ টের পেলো ধারা লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে। তাই তো আঙুল দিয়ে আরো জোরে চেপে ধরল শ্রাবণকে। শ্রাবণের বুকটা হালকা কেঁপে উঠলো। সে একটু নিচু হয়ে ধারার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। তারপর খুব আদর করে বলল,
—” আচ্ছা, ঠিক আছে। আজকে আর কোনো শাস্তি নেই। সব মাফ।”
ধারা একটু নড়েচড়ে তাকালো। অন্ধকারে তার চোখ দুটো ঝাপসা।
—” সত্যি?”
শ্রাবণ মৃদু হেসে বলল,
—” আপাতত। কারেন্ট এলে আবার রাগ করে থাকব। ভালো করে রাগ ভাঙাবে বেয়াদব।”
ধারা খিলখিল করে হেসে বলল,
—” আচ্ছা। এবারে চুমু দিয়ে চেষ্টা করব।”
একটু থেমে বলল,
—” দেখেছেন তো, কেমন বৃষ্টি হচ্ছে! আপনি যদি আরেকটু দেরি করে আসতেন আমি তবে ভয়ে ম’রেই হয়ে যেতাম।”
শ্রাবণ সাথে সাথে ধারার ঠোঁটে আঙুল রাখলো। কাতর স্বরে বলল,
—” এসব বলতে হয়না সোনা। আমি বেঁচে থাকতে কিচ্ছু হবেনা তোমাদের।”
বলেই ধারার ঠোঁটে আলতো করে চুমু খেলো শ্রাবণ। ধারা ঠোঁট চেপে হালকা হেসে আবার মাথা রাখলো তার বুকে। বাইরে ঝড় আরও জোরে বইছে। বৃষ্টি ঝমঝম করে পড়ছে। আকাশে বারবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কিন্তু এই অন্ধকারের মাঝেও, শ্রাবণের বুকে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট এই পৃথিবীটা, ধারার কাছে আবারও সেই আগের মতই শান্তিনীড় হয়ে উঠলো।
আজ রাতে আর কারেন্ট আসবে কিনা নিশ্চিত হওয়া গেলো না। শ্রাবণ প্রতিদিনের মত ধারাকে কোলে নিয়ে সিঁড়ি ভেঙে ঘরে গেলো। বিছানায় বসিয়ে দিল মেয়েটাকে। বারান্দার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো শ্রাবণ। ধারাও পেছন থেকে এসে শ্রাবণের বাহু জড়িয়ে বাইরে তাকালো। বড় করে শ্বাস ফেলে বলল,
—” বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে শেখ সাহেব।”
শ্রাবণ সাথে সাথে বলল,
—” এ অবস্থায় সম্ভব না মিসেস শেখ।”
ধারা নাক কুুঁচকে শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললো,
—” আপনি আমার জন্য চকলেট আনেন নি আজ? জুসও আনেন নি? সত্যি আনেন নি?”
শ্রাবণ প্রথমে ভাবলো বলবে যে আনে নি। কিন্তু পরে দেখা যাবে কয়েকদিন পর বাচ্চার মা হতে যাওয়া মেয়েটা বাচ্চাদের মতই হাত-পা ছুঁড়ে কান্না করছে। বুক ব্যাথা করে ওঠার মত দৃশ্য, যা নিতে পারবেনা সে নিজেই। তাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্রাবণ ব্যাগ থেকে চকলেট ও জুস বের করে ধারার হাতে দিল,
—” না এনে উপায় আছে? তোমার মত বেয়াদব না আমি। তুমি যা আনতে বলো তা-ই আনি, অথচ একটা কথা শোনো না তুমি আমার। দিনদিন অবাধ্য হয়ে যাচ্ছেন মিসেস শেখ।”
ধারা ইতোমধ্যে চকলেট খাওয়া শুরু করেছে। খেতে খেতেই বলল,
—” আপনিও তো দিনদিন আনরোমান্টিক হয়ে যাচ্ছেন। জানেন পাশের বাসার ভাবিকে তার হাজবেন্ড গত পরশু ট্যুরে নিয়ে গেছে।”
দ্বিতীয় কথাটা না ধরে প্রথম কথাটাই ধরলো শ্রাবণ। চোখমুখ ফ্যাকাসে করে বলল,
—” আনরোমান্টিক মানে? সাধে কি আর চুপচাপ আছি? মেঘমণি কোলে আসুক আমার। এরপর তোমাকে আমি বেডট্যুরে নিয়ে যাব, ওকে? ডিল?”
—” ছিহ অশ্লীল!”
—” আনরোমান্টিক হলে খারাপ, রোমান্টিক হলেও অশ্লীল। তুমি কি চাইছো বলোতো?”
ধারা কিছু না বলে চকলেট খেতে থাকলো। ফাঁকে একবার মুখ ভেঙচালো। শ্রাবণ হাসলো। ও জানে ধারার এই সময় প্রচুর মুড সুইং হয়। তাই মাঝে মাঝে এসব বলে, আবার পরে নিজেই ছিহ বলে। কি আজব কথাবার্তা। শ্রাবণ এবারে ধারাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে বলল,
—” তুমি সুস্থ হয়ে গেলে তোমাকে নিয়ে সাজেক যাব তো।”
—” সাজেক আবার কী? কোথায় এটা?”
—” গেলেই বুঝবে। অনেক সুন্দর জায়গা। মেঘ ধরতে পারবে ওখানে গেলে।”
আগ্রহী হলো ধারা। চোখ চকচক করে উঠলো তার,
—” আসলেই? মেঘ ছুঁতে পারব?”
শ্রাবণ মাথা নেড়ে বলল,
—” হুম। তুমি আমার মেঘমণিকে ছুঁতে দেবে, আমি তোমায় মেঘ ছোঁয়ার সুযোগ করে দেব। হিসাব বরাবর!”
ধারা হাসলো। হাসির তোপে তার চোখ চকচক করল, গাল দেবে ফুলে উঠলো খানিকটা। শ্রাবণের এই জিনিসটা খু্ব পছন্দ। সে আবারো সেখানে চুমু খেলো। জিজ্ঞেস করল,
—” বৃষ্টিতে ভিজবে?”
ধারা অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে তাকিয়ে হ্যাঁ বোঝালে শ্রাবণ এক হাত বাইরে বের করে বৃষ্টির পানি হাতে জমায়। এরপর ছিটিয়ে দেয় ধারার মুখে। ঠান্ডা পানির ছিটা মুখে পড়তেই ধারা চমকে উঠলো।
—” এইইই! কি করছেন!”
মুখ কুঁচকে দুহাতে গাল মুছতে লাগলো সে। শ্রাবণ হাসতে থাকে।
—” বৃষ্টিতে ভিজতে চেয়েছিলে না?”
ধারা ভ্রু কুঁচকে তাকালো,
—” এভাবে কে ভিজায়? একদম রোমান্টিক না আপনি!”
শ্রাবণ ভান করে গম্ভীর হলো,
শ্রাবণ ধারার রূপকথা শেষ পর্ব
—” ও আচ্ছা। আনরোমান্টিক হয়েই এক বাচ্চার বাপ হচ্ছি, রোমান্টিক হলে তিন বাচ্চার বাপ হয়ে যাব।”
ধারা আবারো খিলখিল করে হেসে উঠলো। শ্রাবণ মন ভরে দেখলো, মুগ্ধ চোখে দেখলো। সবচেয়ে পছন্দের দৃশ্যটা এই ঝুম বৃষ্টিতে উপভোগ করার থেকে সুখ আর কোথাও নেই। শ্রাবণ হয়তো এভাবেই এত সহজ করেই একটা জীবন এই হাসি দেখে কাটিয়ে দিতে পারবে।
