Home শ্রাবণ ধারা শ্রাবণ ধারা পর্ব ৩৭

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৩৭

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৩৭
অনামিকা তাহসিন রোজা

নরম রোদের আলো এসে এক চিলতে পড়েছে ধারার মুখের উপর। আবেশে নিশ্চিন্তে ডুবে থাকা মুখটা কুঁচকে উঠল তৎক্ষনাৎ। পিটপিট করে চোখ খুলে নিজেকে শ্রাবণের বাহুডোরে আবিষ্কার করে একটু অবাকই হলো ধারা। তবে আজ চমকালো না, ভয়ও পেলো না। অস্বস্তিতে সরেও এলো না। আবারো বুকে মাথা রেখে চোখ বুঁজে শ্বাস নিল। গত রাতে তারা কেওই ঘুমোয়নি ভালো করে। শ্রাবণ ভীষণরকম পাগলামো করেছে। ধারাকে জাপটে জড়িয়ে ধরে এতদিনের সমস্ত অভিযোগ তুলে ধরেছে, ক্ষমা চেয়েছে, ভালোবাসার আকুল আবেদন জানিয়েছে। ধারাও মন খুলে কান্না করেছে অনেকদিন পর। সব মিলিয়ে দুজনের আবেগ অনুভূতি আদান প্রদানের ব্যস্ততায় রাত কেটে গিয়েছে সন্তপর্ণে। অজান্তে ঘুমিয়েছে দুজনেই। এখনও ক্লান্ত লাগছে ধারার। তবুও উঠতে তো হবেই।

বড় করে শ্বাস নিয়ে শ্রাবণের বুক থেকে মাথা উঠাল ধারা। মুগ্ধ নয়নে তাকাল শ্রাবণের দিকে। লোকটাকে ঘুমালে নিষ্পাপ শিশুর মত দেখায়। মায়া লেগে যায় বারংবার। ইশ! একটু যদি ছোঁয়া যেত। ধারার লোভ হলো ভীষণ। তবে নিয়ন্ত্রণ করল নিজেকে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে উঠে যেতে ধরল। কিন্তু হ্যাঁচকা টান খেল সাথে সাথে। চমকে গিয়ে আবারো শ্রাবণের বুকের উপর এসে ঠেকল ধারা। চোখ পিটপিট করে তাকাল শ্রাবণের দিকে, এরপর নিজের হাতের দিকে। শক্ত করে হাত জড়িয়ে রেখেছে শ্রাবণ। ধারা উঠে যেতে ধরলে টান মেরে আবারো নিজের কাছে এনেছে সে-ই।
ধারা ধীর গলায় বলল,
—” আপ-আপনি ঘুমোন নি?”
ঘুমুঘুমু স্বরেই জবাব দিল শ্রাবণ,
—” উম.. ঘুমোচ্ছি।”
—” তো টেনে ধরলেন কেন? ছাড়ুন। যেতে হবে।”
শ্রাবণ আরো কাছে টেনে ধরল ধারাকে। চোখ খুলে বিড়বিড় করে বলল,

—” একটু থাকো না প্লিজ। যেও না এখন। অনেকদিন পর প্রশান্তির ঘুম এসেছে। আরেকটু কাছে থাকো।”
ধারা দমে গেল। চোখেমুখে শীতলতা নিয়েই গা ছেড়ে দিল আবারো। শ্রাবণ নিজে থেকেই তাকে জড়িয়ে ধরে নিজের পাশে এনে নিল। চোখ বুঁজে ফেলল আবারো। ধারাও তার বাহুতে মাথা রেখে দিল। কিন্তু তার ঘুম নেই। তাই মস্তিষ্কে চলতে থাকা বিভিন্ন চিন্তার পরিপ্রেক্ষিতে হুট করে জিজ্ঞেস করে বসল,
—” আচ্ছা আমাদের কি সবকিছু আবার হবে? মানে কবুল বলা, গায়ে হলুদ?”
শ্রাবণ চোখ বুঁজে রেখেই আধোস্বরে বলল,
—” উম..সব আবার হবে। শুধু একটা জিনিস প্রথমবার হবে।”
ভ্রু কুঁচকাল ধারা,
—” কী?”
—” বাসর।”
বলে আবারো ঘুমে তলিয়ে যেতে থাকল শ্রাবণ। ঘুমের ঘোরে মুখ ফঁসকেই বলেছে সে। তাই নিজেও জানে না কী বলেছে। কিন্তু ধারার কান গরম হলো মুহুর্তেই। সে লজ্জায় মুর্ছা গিয়ে ঝটকা মেরে উঠে গেল শ্রাবণের থেকে। তার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

—” অশভ্য।”
এরপর যত দ্রুত সম্ভব বিছানা ত্যাগ করে পালিয়ে গেল। শ্রাবণ ঘুমের মধ্যে হাত বাড়িয়ে আবারো ধারাকে না পেয়ে নাকমুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে বলল,
—” চলে গেল? মেয়েটা আসলেই বেয়াদব!”

জিহানকে রীতিমতো বাড়ি থেকে অপহরণ করে এনেছে নীল। তার ভাষ্যমতে বিয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিহানকে তাদের সাথেই থাকতে হবে। এদিকে বেচারা জিহান পড়েছে বেকায়দায়। সে এমনিতেই একা মানুষ। সিঙ্গেল হয়ে মিঙ্গেলদের সাথে ঘুরতে শরম করছে। তার উপর এতকিছু দেখতে হবে? বিয়ের সব আয়োজনেও নাকি তাকে সাহায্য করতে হবে? এ কেমন প্রতারনা? সোফায় বসে বিয়ের কার্ড সব গোছাচ্ছে নীল ও জিহান। দুটো কার্ড হওয়ায় আলাদা আলাদা করে আত্মীয় দের পাঠাতে হবে। সব সেভাবেই গুছাতে হবে। এক আত্মীয়ের কাছে দুটো কার্ড যাবে।
বেশ অনেকটা সময় নীলের দিকে মুখ কুঁচকে তাকিয়ে রয়েছে জিহান। নীল আনন্দিত নয়নে কার্ড গোছাতে ব্যস্ত ছিল। জিহানের এমন ‘ আই উইল কি’ল ইউ ‘ টাইপ দৃষ্টি দেখে সে মেকি হাসল,

—” কী হয়েছে জিহান ভাই? তুমি এমন রোমান্টিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছো কেন? ”
—” দেখছি ”
—” যাহ দুষ্টু! লজ্জা করছে তো।”
—” মুখ ভেঙে দেব তোর।”
—” কি আশ্চর্য! আমি কী করলাম?”
—” না করলেও তো এখন করবি। বিয়ে।”
—” তা তো করবই ”
—” সেটাই ভাবছি।”
জিহান থুতনিতে হাত বুলিয়ে ভেবে বলল,
—” তোর মত হাদারামও বিয়ে করে ফেলছে। এদিকে আমাকে টিনাও চেনে না, মিনাও চেনে না। সিঙ্গেল থেকেই মরব বোধহয়। ”
নীল ঠোঁট উল্টিয়ে দুঃখ করে বলল,
—” কষ্ট পেয়ো না জিহান ভাই। এমন রোমান্টিক বিপদের সাথে ফ্রি বউ তোমার জীবনেও আসুক। বলো আমিন।”

—” আমিন আমিন।”
এর মধ্যেই শ্রাবণকে নামতে দেখা গেল। সে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। এর সবচেয়ে বড় কারন হলো কাল রাতে ধারার সাথে সবকিছু মিটমাট হয়েছে। বউ এখন তার সাথে ফ্রি হয়েছে। আশা করা যায় সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎে আশার আলো দেখে বেশ খুশি শ্রাবণ। কিন্তু যতটাই ভালো মেজাজে ছিল, নিচে নামতেই সব উড়ে গেল। শ্রাবণ সোফায় গিয়ে বসে অবাক হয়ে বলল,
—” নীল?”
—” জ্বি ভাইজান?”
হতবাক গলা শ্রাবণের,
—” কী করছিস তুই?”
—” আমাদের বিয়ের কার্ড গোছাচ্ছি। ”
চোখ পিটপিট করে তাকাল শ্রাবণ,
—” তোর কি লজ্জা নেই?”
জিহান ফট করে বলল,
—” সেটা আবার ছিল কবে। জন্ম থেকেই তো উধাও! ”
নীল অসহায় চোখে তাকাল। এভাবে রিয়েলিটি চেক না দিলেও হতো। সে এবারে ভ্রু কুঁচকে তাকালো শ্রাবণের দিকে,

—” ইশ, তোমার মনে হয় খুব লজ্জা? ”
—” অবশ্যই, অন্তত তোর মত নিজের বিয়ের কার্ড গোছাই না।”
—” হ্যাঁ, কিন্তু দুবার বিয়ে ঠিকই করতে পারো।”
শ্রাবণ প্রতিবাদ করে কিছু বলতে গেলেই নীল তাকে থামিয়ে বলে,
—” থাক ভাইজান। তুমি আর কিছু বোলো না। এমনিতেই তোমায় দেখে হিংসে হয়। বিয়ের আগেও বউয়ের সাথে থাকতে পারছো। এদিকে আমি শালা আর মামা শ্বশুরের পাল্লায় পড়ে আমার জানুটাকে সপ্তাহে একবার দেখি।”
উদ্ভট যুক্তি শুনে শ্রাবণ হতাশ হলো। কিছু একটা বলতে চাইলো বোধহয়। কিন্তু চোখ গিয়ে পড়ল সিঁড়ির দিকে। ধারাকে শাড়ি পড়ে নামতে দেখে হৃদয় থমকাল শ্রাবণের। কি আশ্চর্য! মেয়েটা আজ শাড়ি পড়েছে কেন? তাকে কি মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছে? শ্রাবণের স্থির দৃষ্টি অনুসরণ করে নীল ও জিহানও তাকাল সিঁড়ির দিকে। ধারাকে দেখে অবাক হলো। নীল বলেও ফেলল,
—” মাশা-আল্লাহ, ভাবিকে তো খুব সুন্দর লাগছে। হলুদ শাড়িটা বেশ মানিয়েছে তাইনা জিহান ভাই?”
—” তা তো বটেই। কিন্তু এখন তোর লাটসাহেবের মত ভাইজানকে তো ভাবির পাশে মানাবে না। দুঃখ দুঃখ। ”
কথাটা শুনে অবাক হলো না শ্রাবণ। আসলেই ধারাকে বেশ সুন্দর লাগছে। অথচ ছলনাময়ী তার দৃষ্টি খেয়াল করল না। নিজের মত করে খোপা বেঁধে রান্নাঘরে চলে গেল। অনেকগুলো কাজ বাকি আজ। নীল হুট করে কি মনে করে বলল

—” ভাবিকে দেখে মনে পড়ল বাগানে আজকে হলুদ রঙের ফুল ফুটেছে। কি যেন নাম…
—” কলকে ফুল?’
—” হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক ধরেছো। যাই ভাবির জন্য তুলে আনি, খুশি হবে।”
নীল সত্যি সত্যিই উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
—” ঠিক আছে, আমি গেলাম। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফুল নিয়ে আসছি। ভাবির খোঁপায় যা মানাবে না! ”
বলেই সে এক পা এগোতেই আঁতকে উঠে সোফা থেকে প্রায় লাফ দিয়েই নীলের প্যান্টের পেছনটা খপ করে ধরে ফেলল শ্রাবণ।
-‘ এইইই দাঁড়া হতচ্ছাড়া! ”
নীল ভারসাম্য হারিয়ে সামনের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পড়তে কোনোমতে নিজেকে সামলাল।
—” আরে ভাইজান! প্যান্টটা ছাড়ো! খুলে যাবে!”
জিহান ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকাতে না পেরে বলল,
—” খুলে যাক। তোর সম্মান এমনিতেও বহু বছর আগে খুলে গেছে।”
নীল অসহায় মুখে তাকাল,

—” জিহান ভাই, আপনি কি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী নাকি সর্বনাশকাঙ্ক্ষী?”
শ্রাবণ তখনও ছাড়ল না। আরও শক্ত করে ধরে গম্ভীর গলায় বলল,
—” কোথায় যাচ্ছিস?”
—” ফুল আনতে।”
—” কেন?”
—” ভাবিকে দিতে।”
—” কেন দিবি?”
—” খুশি হবে।”
শ্রাবণের মুখ আরও গম্ভীর হয়ে গেল,
—” সেটা আমি বুঝব।”
নীল হতভম্ব হওয়ার ভান করল,
—” মানে?”
—” আমার বউকে খুশি করার দায়িত্ব কবে থেকে তোর হলো?”
জিহান এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। হো হো করে হেসে উঠল।
—” ওরে বাবা! সাতদিন আগে যে লোক নিজের বউকে চিনত না, আজ সে পজেসিভ স্বামী হয়ে গেছে!”
শ্রাবণ চোয়াল শক্ত করল,
—” এমন জায়গায় লাথি মারব যে সাতদিন পর বিয়েতেও বসতে পারবিনা। বাসর তো দুরের কথা! ”
নীল আবারো অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল।

—” এভাবে বলতে পারলে ভাইজান?”
শ্রাবণ উঠে দাড়াঁল,
—” তুই আর কোনোদিনো আমার বউকে ফুল-টুল দিলে তোর কেল্লাফতে করে দেব নীল। একদম উপরে পাঠিয়ে দেব। নিজের বউকে গিয়ে দে ইডিয়ট। আমারটা আমাকে বুঝতে দে।’
কথাটা বলে সত্যিই বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করল সে। পেছনে দাঁড়িয়ে নীল নাটকীয় ভঙ্গিতে নিজের চোখ মুছল।
—” জিহান ভাই…”
—” হুম?”
—” আমাদের ভাইজান আর নেই।”
—” কেন?”
—” প্রেমে পড়ে মানুষটা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে!”
জিহান গম্ভীর মুখ করে মাথা নেড়ে বলল,

—” ইন্নালিল্লাহ… তবে রোগটা ভালো। এর কোনো চিকিৎসা নেই।”
দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল। আর এদিকে শ্রাবণ ইতোমধ্যেই বাগানের হলুদ কলকে ফুলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে, কোনটা সবচেয়ে সুন্দর, সেটাই মন দিয়ে বেছে দেখতে শুরু করেছে। বেশ সুন্দর করে দুহাত ভরে ফুল নিল শ্রাবণ। এরপর আবারো গম্ভীর মুখে বাড়িতে প্রবেশ করল। সে প্রবেশ করতেই হো হো করে হাসতে থাকা মানব দুটির মুখ বন্ধ হলো। শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে একটা গর্বিত চাউনী নিয়ে রান্নাঘরে গেল। নীল ফিসফিস করে বলল,
—” কী মনে হয়? পারবে?”
—” না পারার কী আছে?”
জিহান কথাটা বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
এদিকে ধারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুরগির মাংস মসলা দিয়ে মাখছিল। একটু পর সালমা বেগম এসে কড়াইয়ে বসাবেন বলেছেন। এই সময়ে শ্রাবণকে দেখে চোখ পিটপিট করে তাকাল ধারা। লোকটা দুহাত আবার পেছনে দিয়ে রেখেছে। হাত কিছু আছে নাকি? ধারা বুঝলো না কিছুই। জিজ্ঞেস করল,
—’ আপনি এখানে? কিছু লাগবে?”
শ্রাবণ কিছু না বলে গলা খাঁকারি দিয়ে এগিয়ে এলো। এরপর দুহাত সামনে এনে মুঠোয় থাকা ফুলগুলো বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

—” তোমার জন্য।”
ধারার চোখ টলমল করল। ফুলগুলো সুন্দর। বেশ সুন্দর। শ্রাবণ শেখ এনেছে বলে হয়তো আরো চমৎকার। সে মুচকি হেসে হাত দেখিয়ে বলবে,
—”হাতে মসলা। পরে নিই?”
শ্রাবণ আবদার ধরল,
—” তোমার খোঁপায় গুঁজে দিই সবগুলো?”
ধারা হেসে মাথা নাড়ল আলতো করে। শ্রাবণ অনুমতি পেয়ে দেরি করল না। ফুলগুলো হাতে নিয়ে খুব সাবধানে এগিয়ে এলো। যত্ন দেখে মনে হলো একেকটা ফুল নয়, ভীষণ যত্নে ধরে রাখা কোনো অনুভূতি। ধারা একটু মাথা নিচু করল। খোঁপাটা আলতো করে তার দিকে ঘুরিয়ে দিল। শ্রাবণ এক মুহূর্ত থেমে রইল। তারপর খুব ধীরে প্রথম কলকে ফুলটা গুঁজে দিল খোঁপার এক পাশে। আঙুলের স্পর্শ যেন চুলেও লাগছে না। এতটাই সতর্ক। একটার পর একটা বসিয়ে প্রতিটা ফুল বসানোর পর শ্রাবণ একটু দূরে সরে দেখে নিচ্ছে ঠিক আছে কিনা। কোথাও বেঁকে গেল কি না। আবার ঠিক করে দিচ্ছে।
ধারা না হেসেও হাসল,

—” এত মন দিয়ে কী দেখছেন?”
শ্রাবণ গম্ভীর গলায় বলল,
—” শিল্পকর্ম বানাচ্ছি।”
ধারা মুচকি হেসে চোখ নামিয়ে ফেলল,
—” আমি আবার শিল্পকর্ম হলাম কবে?”
—” যেদিন থেকে তোমাকে মন দিয়ে দেখতে শুরু করেছি।”
কথাটা বলে আবার শেষ ফুলটাও গুঁজে দিল সে। সব শেষ করে এক কদম পিছিয়ে দাঁড়াল। তারপর অনেকক্ষণ ধরে শুধু তাকিয়েই রইল। হলুদ শাড়িতে, কালো চুলের খোঁপা। তার মাঝে ছোট ছোট হলুদ কলকে ফুল। মুহূর্তের জন্য সত্যিই মনে হলো, কোনো মানুষ নয়, ফুলে ঢাকা বিকেলের একটা দৃশ্য দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। ধারা লাজুক গলায় বলল,

—” হয়ে গেছে?”
শ্রাবণ উত্তর দিল না। তার দৃষ্টি অজান্তেই নিচে নেমে এলো। খোঁপার ঠিক নিচে ঘাড়ের শুভ্র অংশটা দেখা যাচ্ছে। শাড়ির আঁচল সরে না গেলেও ঠিক যতটুকু দৃশ্যমান, ততটুকুই যেন শ্রাবণের সমস্ত সংযমের পরীক্ষা নিচ্ছে। সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিতে চাইল। পারল না। নিজের ভেতরেই যুদ্ধ করল। কিন্তু হঠাৎ যেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।

খুব আস্তে ঝুঁকে এসে টুপ করে এক মুহূর্তের জন্য ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল ধারার ঘাড়ে। সেকেন্ডের মধ্যে টুপ করে চুমু দিতেই নিজের হুঁশ ফিরে এলো তার। এরপর দ্রুত পালানোর মত করে প্রায় দৌড়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল। ধারা একেবারে স্থির, স্তম্ভিত। তার আঙুলে এখনো মসলা লেগে আছে। নড়তে পারছে না সে। শরীরের ভেতর দিয়ে কেমন এক শিহরণ ছড়িয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। যেখানে শ্রাবণ ঠোঁট ছুঁয়েছে, জায়গাটা যেন আচমকা উষ্ণ হয়ে উঠেছে। তার নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছে।

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৩৬

হৃদস্পন্দন এত জোরে হচ্ছে যে মনে হচ্ছে যেকোনো সময় অজ্ঞান হবে মেয়েটা। অবচেতনেই খুব ধীরে নিজের কাঁধটা কুঁকড়ে আনল সে। তারপর কাঁপা আঙুলে ঘাড়ের সেই জায়গাটায় আলতো করে হাত ছোঁয়াল। মুহূর্তেই চোখ বন্ধ হয়ে এল। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একফোঁটা লাজুক হাসি ফুটে উঠল। আবার বিড়বিড় করে নিজের মনেই বলল,
—” লো-লোকটা আসলেই অশভ্য হয়ে যাচ্ছে!”

শ্রাবণ ধারা পর্ব ৩৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here