সাঁঝের মায়া পর্ব ৬০ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
—’ বারবার বুকের ওপর থেকে সরে যাচ্ছিস কেনো। ভালো লাগছে না আমার স্পর্শ? ‘
ঈশানের ঘুম ঘুম মাতাল করা কন্ঠস্বরে নড়াচড়া বন্ধ করে স্থির হলো তিতির। বিড়ালছানার মতো সেই তখন থেকে পরে আছে ঈশানের বুকের ওপর। হাত পা অবশ হ’য়ে এসেছে প্রায়। লোকটা যে একবিন্দুও নড়তে দিচ্ছে না। এদিকে অসভ্য পুরুষের মতো নিজের অবাধ্য হাতের অশালীন স্পর্শ অনবরত করেই যাচ্ছে। দাঁতে দাঁত
চেপে সেই আদুরে স্পর্শ গুলো সহ্য করে যাচ্ছে মেয়েটা। শরীরের প্রতিটি রক্তকনা টগবগ করছে। শিহরন ছুটেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। পায়ের আঙুল খিঁচে ভাজ করে রেখেছে। দু’হাতের নখ একপ্রকার গেঁথে আছে ঈশানের নগ্ন কাঁধে।
ভোরের আলো ফুঁটেছে ধরনীর বুকে। বেশ দমকা বাতাসই বইছে। আজ দিনে সম্ভবত বৃষ্টি হবে। সম্ভবত নয়, হবেই। আকাশ সেরকম পরিষ্কার লাগছে না। কালো কালো মেঘ গুচ্ছ ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির দল খাদ্য সন্ধ্যানে বের হয়ে গিয়েছে। মেঘময় আকাশে তাদের ডানা ঝাপটাতে দেখা যাচ্ছে।
বাড়ির আশেপাশের গাছপালাগুলো ক্ষনে ক্ষনেই দমকা বাতাসে বেশ হেলেদুলে পরছে। মরা পাতা গুলো বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে ছাঁদের মেঝেতে এসে ঠাঁই নিয়েছে। ছাঁদের মাঝামাঝি জায়গায় রাখা একটি প্রশ্যস্ত খাটিয়া। বিকেল বেলা দেওয়ান বাড়ির লোকজন কালেভদ্রে যদি ছাঁদে ওঠে, তখন এখানে বসা হয়। সিঁড়ি কোঠার ঘরেও বিছানা পাতা থাকে, চন্দ্রা দেওয়ান সুস্থ থাকলে প্রায়শই ছাঁদের এ ঘরটায় এসে থাকতেন। আশেপাশে খোলা পরিবেশে শান্তি পেতেন বেশ। তিনি আপাতত বাড়ি নেই, তবে নিয়ম করে ঘরটা পরিষ্কার রাখা হয়।
খোলা আকাশের নিচে সেই বেতের খাটিয়ার ওপর তিতিরকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছে ঈশান। শেষরাতের দেখা দুঃস্বপ্ন বেশ কাবু করে ফেলেছে তাকে। বাড়তি একটা কথাও বলছে না। তিতিরকে কোলে তুলে এখানে এসে শুয়েছে। ঘরে নাকি দমবন্ধ লাগছিলো ছেলেটার। তিতির ঠোঁট কামড়ে পরে থাকে ছেলেটার বলিষ্ঠ বুকে। ঈশানের শক্তপোক্ত শীতল হাতটা তখনো তার নারীদেহের গোপন ভাজে ভাজে অবাধ্য হয়ে বিচরন করে যাচ্ছে। তিতির ঘন ঘন শ্বাস ফেলে যাচ্ছে তখন থেকে, একই অবস্থা ঈশানেরও। ঈশান চোখ বুঁজে আছে। তবে ঘুমায়নি সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঈশানের প্রশ্নের জবাব তিতির দিলো, বড্ড বিরবির করে। লজ্জামাখা কন্ঠে বললো,
—’ আপনি শান্ত হয়ে আছেন কি? যে আমি শান্ত থাকতে পারবো? হাত সরাতে সমস্যা কি?’
ঈশান নিজের বাঁ হাতটা তিতিরের মাথায় ছুঁয়িয়ে আরেকদফা চেপে ধরলো নিজের হৃদপিন্ডের ওপর। সেখানকার বিদ্রোহ তিতিরের কর্ণগোচর হলো খুব স্পষ্টত। ঈশান হাস্কিস্বরে বললো,
—’ এখানে কি হচ্ছে বুঝতে পারছিস? এটা শান্ত হচ্ছে না। শান্ত কর। তোর জন্য অশান্ত হয়েছে। ‘
তিতির ঘনঘন শ্বাস ফেলে আহ্লাদী কন্ঠস্বরে মিনমিন করে বলে উঠলো,
—’ আমি কি করলাম। আমি তো শান্ত হয়েই আছি। উল্টোপাল্টা ছোঁয়াছুঁয়ি তো আপনি করে যাচ্ছেন। এরকম করলে অশান্ত হবেন না! ‘
—’ এরকম শরীরের সাথে লেপটে থাকলে শুধু জড়িয়ে থাকা যায়? ‘
তিতির লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। তলপেটে চাপ অনূভব করে, হাজারটা প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো টের পায় সে। ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,
—’ সে-ও তো আপনিই এভাবে নিয়ে আছেন। আমি তো পাশেই শুতে চাচ্ছিলাম। ‘
ঈশান চোখ বুঁজে শ্বাস টানে জোরে জোরে।
—’ বললাম কি তাহলে? তুই দূরে থাকলে বুকটা শান্ত হবে কি করে? আমার অপরাধি তো তুই। তোর জন্য হৃদপিণ্ড টা ছটফট করে। এটাকে শান্ত করার দায়িত্ব তোর না?’
তিতির ঠোঁট টিপে লাজুক হাসলো। বাঁ হাতখানা ঈশানের বুকের ওপর আনলো। আঙুলের আঁকিবুঁকি একে বললো,
—’ দূর্বল হার্ট আপনার।’
ঈশান প্রতিত্তোর করে উঠলো তৎক্ষনাৎ। তিতিরের হাতটা চেপে ধরে নিজের গালে ঠেকাতে ঠেকাতে হিসহিসিয়ে বললো,
—’ দূর্বলই! আর এই দূর্বলতা কখন থেকে জানিস? এই অশান্ত হৃদয়ের উৎপত্তি কোথা থেকে জানিস? তুই জীবনে আসার পর থেকে। তুই যখন জীবনে ছিলিস না, কখনো টের পাইনি এমন উথাল-পাতাল। নেভার- এভার… তবে আজকাল হয়। আজকাল না, তোকে বিয়ে করার পর থেকে…নাহ এবারও ভুল বললাম। তোকে যেদিন এতগুলো বছর পর প্রথম স্টেশনে দেখেছিলাম। তোর জন্মদিনের রাতে, তুই বাড়ি ফিরলি যেদিন। মাঝরাতে, সাদা আনারকলি গায়ে, খোলা চুল। উফফফফ্ সেদিন বুঝি নি বুকের ভিতর হচ্ছে টা কি! এখন টের পাই। সেদিন থেকে। ঠিক সেদিন থেকে আমার সর্বনাশের শুরু। হার্টের রুগী হয়ে যাবো আমি,খুব শীগ্রই। এতো জোরে জোরে ধুকপুক করলে হার্টের দফা ঠান্ডা হয়ে যাবে শীগ্রই। ‘
ফিক করে হেসে ফেললো তিতির। ঈশান কিন্তু হাসলো না। বরং তিতিরের হাসিতে বিরক্ত হয়ে মিটমিট করে আখিজোড়া খুললো। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
—’ হাসবি না, তিতির। প্লিজ। অশান্তুি লাগছে। বুকটা শান্ত হচ্ছে না। কিভাবে শান্ত করবি তুই জানিস।’
তিতির মাথা উঁচিয়ে ঠোঁট দাবিয়ে দিলো ছেলেটার বুকের বাঁ পাশটায়। চুমু খেলো কয়েকবার। সময় নিয়ে মুখ তুললো। হাত ছুঁয়িয়ে লাজুক কন্ঠে বলে উঠলো,
—’ অসভ্য হাতটা থামাতে পারছেন না। হাত জোড়া শান্ত করতে অসুবিধা কোথায়? নিজেও অশান্ত হচ্ছেন সাথে আমাকেও। যা করছেন তাতে বুকটা শান্ত হবে? নাকি শরীর মন দুটোই উত্তপ্ত হবে?’
ঈশান চোখ মেললো। সূর্য ওঠেনি এখনো। হালকা আলো চোখে । মিটিমিটি করে তাকিয়ে দেখতে চাইলো মেয়েটার লাজুক মুখটা, তবে তিতির দিলো না সেটা হতে। মুখ ডুবিয়ে রাখলো ঈশানের গলার ভাঁজে। ঈশানের হাত মেয়েটার নগ্ন কোমড়ে চেপে ধরলো। সেখানটায় স্লাইড করতে করতে বললো,
—’ হয়ে আছে উত্তপ্ত। রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোর ভালোবাসার শিহরন বইছে। বড্ড অশান্ত আজকে আমি। কতটা কষ্টে নিজেকে দমিয়ে রেখেছি জানিস? আমার ওপরেই তো শুয়ে আছিস। কিচ্ছু অনূভব করতে পারছিস না। হুম?
ঈশান কি অনূভবের কথা বললো সেটা টের পেলো সে খুব স্পষ্টভাবে। আগেও পেয়েছিলো। কিন্তু পাথর হয়ে শুয়ে ছিলো। তবে অসভ্য পুরুষটা সে কথা মনে করিয়ে দিতেই, থরথর করে কাঁপন ধরলো সর্বাঙ্গে। নিজের নারীসত্বার জাগরনও ঘটেছে বহু আগে, তবে মুখ ফুটে সেটা বলবে কি করে! সবসময়, সব মূহুর্তে কি আর নির্লজ্জ হওয়া যায়! তিতির জবাব দেয় না। ঈশানের সুদীর্ঘ আঙুলগুলো আবার এসে স্থান করে নিয়েছে রমনীর দেহের সুডৌল নরম মাংসপিন্ড জোড়ার ওপর। ঈশান হিসহিসিয়ে বললো,
—’ বিছানায় চল তিতির। আমারই ভুল৷ আজকের রাতটা নষ্ট করা উচিত হয়নি।’
তিতির মুখ গুঁজেই বিরবির করে ওঠে।
—’ করলেন কেনো?’
ঈশান কৈফিয়ত দিলো তড়িৎ বেগে।
—’ খুব ডিসটার্ব ছিলাম। তোকে বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলতাম। তাই। ইভেন, এখনো সেই মনে করেই…’
তিতির স্বামীর কাঁধের ভাজে ঠোঁট ছোঁয়ালে। দাঁতের কারুকাজ কাটলো কয়েকবার। ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,
—’ বেশি কষ্ট লাগলে, থেমে যেতে বললেও থামতেন না?’
তিতিরের নরম অধরের ভেজা আদরগুলো চোখ বুজে অনূভব করছে ঈশান। ওভাবেই বললো,
—’ মনে হয় না। আজ কথা রাখতে পারতাম না।’
—’ কবে রেখেছেন?’
—’ আদরই করলাম মাত্র দুই রাত। তিনমাসের বিবাহিত জীবনে বউকে আদর করেছি মাত্র দু’দিন! বুঝিস কিছু? কতটা উন্মাদ লাগে নিজেকে।’
—’ আগে কিভাবে মানিয়েছেন নিজেকে?’
—’ বলবো? শুনতে পারবি?’
ঈশানের কন্ঠ আচমকাই কেমন সিরিয়াস শোনালো। কাঁধের ভাজ থেকে মুখ তুললো মেয়েটা। তার শরীরে যেমন অসংখ্য দাগ করেছে তার পুরুষটা, সে-ও ঠিক সেরকম দাগ করে ফেলেছে। কাঁধের আশপাশে রক্তিম হয়ে উঠেছে, ছোপ ছোপ হয়ে। তিতির ঠোঁট কামড়ে মিহি কন্ঠে শুধালো,
—’ উমম। পারবো। ‘
ঈশান চোখ মেললো। স্থির দৃষ্টি দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো একটা। ডান হাতটা মাথার নিচে দিয়ে উঁচু হলো খানিকটা। হাতের মাশলগুলো ফুলে উঠলো কেমন একটা! মাংস ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। তিতির ঘন ঘন শ্বাস টানলো। নজর সরিয়ে ফেললো ছেলেটার বলিষ্ঠ শরীর থেকে। ঈশানের গম্ভীর মুখে বললো,
—’নাহ্ পারবি না। তুই…’
তিতির ছেলেটার কথা শেষ হতে দেয়না, তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদ করে ওঠে।
—’পারবো বললাম তো। বলুন, শুনতে চাই।’
—’ পারবি না বললাম তো। বিষয়টা একটু অন্য রকম। তোরা মেয়েরা বুঝবি না। বিশেষত তুই। তুই গুড গার্ল ছিলি বিয়ের আগে।’
এবার ভ্রু কুঁচকালো তিতির।
—’ কেমন অন্যরকম। মুখে বলতে কি সমস্যা হচ্ছে আপনার? আর আগে গুড গার্ল ছিলাম মানে কি? এখন ব্যাড গার্ল?’
—’ ব্যাড গার্ল না?’
—’ মোটেই না।’
—’ যতবার আমি আদর করতে টানি। খানিক পরেই আমার থেকেও দ্বিগুণ উন্মাদ কে হয়? আমাকে ক্রমাগত সিডিউস কে করে?’
তিতির বেশ লজ্জা পেলো। লোকটা এতো বাজে। এটা বলার বিষয়! সব স্ত্রীই এমন। তাছাড়া স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত নয়কি? তিতির ঠোঁট কামড়ে নিজের এলোমেলো দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো। ঈশান দেখলো সে-সব। ঠোঁট টিপে অদেখা হাসলো। তারপর বড্ড স্বাভাবিক ভাবে ঠোঁট উল্টে বললো,
—’পুরুষ মানুষ আমি। বয়স তো কম হয় নি। কি করতাম তাছাড়া। এতদিনে বিয়ে করলাম, করেও তিনমাসে কাছে পেলাম মাত্র দু বার। অথচ বউ দরকার প্রতিরাতে। সেটা তো হয়না। ছুঁতে দিস না। আমার দিকটা তো বোঝা উচিত তোর। ‘
তিতিরের মুখ এখন বড্ড সিরিয়াস। কি বলতে চাইছে ঈশান! মেয়েটা নিজের শরীরটা আরেকটু টেনে ওপরের দিকে উঠে এলো। ঈশানের মুখের দিকে গভীর দৃষ্টি ফেলে বললো,
—’ মানে কি! কি বলতে চাচ্ছেন। পুরুষ মানুষ যা করে মানে!’
—’ ওই আরকি। যা করে… ‘
—’ আ..আপনি..!’
কথা থেমে আসে তিতিরের। তোতলায় খানিকটা। তারপর শুকনো ঢোক গিলে প্রশ্ন ছোড়ে,
—’ যা করে মানে! আমাকে না পেলে বা বিয়ের আগে, বিয়ের আগে আপনিও…’
ঈশান ভ্রু জোড়া আজবভাবে নাচালো। বাঁকা কন্ঠে বললো,
—’ সবাই কি করে?’
—’ জানেন না? নাটক করবেন না। বলুন।’
—’ কি আশ্চর্য! তোর মনে কি আছে, সেটা মুখে না বললে কি করে বুঝবো –কি বোঝাতে চাইছিস!’
তিতির হাসঁফাস করে ওঠে। এ ধরনের আহ্লাদপনা মোটেই তার সাথে যায়না। কিন্তু ওইযে–নারী জাতি! স্বামীর সাথে বিনা-কারণেই খিটমিট করা স্বভাব এদের। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করে স্বামীর পেট থেকে জানা উত্তর গুলোও আরেকদফা শোনার আগ্রহ! তিতিরেরও তাই হচ্ছে। তার ওপর স্বামী যদি এভাবে ক্রমাগত জেলাস ফিল করাতে, অথবা রাগাতে এমন উল্টোপাল্টা টোনে কথা বলে। সব জেনে-বুঝেও রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক নয় কি! তিতির কি একটা ভাবলো। অতঃপর মিহি কন্ঠে বলে উঠলো,
—’ বাজে জায়গায় গিয়েছেন কখনো?’
তিতিরের এহেন প্রশ্নে থমকালো ঈশান! মেয়েটার মাথায় এই প্রশ্ন ঘুরছিলো! অথচ সে তো অন্য একটা বিষয় বুঝিয়েছে–তিতিরকে ক্ষেপাতে। ঈশান গম্ভীর মুখে বললো,
—’ মানে?’
তিতির ছেলেটার ওপর থেকে সরতে চায়। ঈশান হেঁচকা টানে ঘনিষ্ঠ করে প্রশ্ন ছোড়ে,
—’ বাজে জায়গা মানে কি? পতি*তালয়? এটা বুঝিয়েছিস?’
তিতির লজ্জায় মস্তিষ্ক ঝুকিয়ে ফেললো। ঈশান রেগে গেলো বোধহয়। তিতিরকে কাত করে শুয়িয়ে দিলো পাশে। চোখ বুজে নিজেকে ধাতস্থ করে বললো,
—’ এই বিশ্বাস? এই প্রশ্ন টা তোর মাথায় এলো কি করে।’
ব্যাস্ত হলো তিতির। সে তো সন্দেহ করে কথাটা বলতে চায়নি। চিরাচরিত স্ত্রী জাতির আহ্লাদী, ঝগড়ুটে প্রশ্ন সরুপ কথাটা বলেছে। তিতির উঠে বসলো। ঈশানের দিকে হাত বাড়িয়ে ব্যাস্ত কন্ঠে বললো,
—’ আমি কিন্তু ওই মাইন্ডে জিজ্ঞেস করিনি কথাটা। আপনি রাগ করবেন না।’
—’ কথাটা আমি জিজ্ঞেস করলে তোর রাগ হতো না? তুই অসম্মানিত বোধ করতি না?’
সত্যিই তো। সে-ও তো অপমানবোধ করতো। ছিহ্ কি ভেবে প্রশ্ন টা করে বসলে সে? ঝগড়া করার আর কিছু পেলো না! চিপ চিন্তাভাবনা! তিতিরের চোখ ছলছল করে উঠলো, দু’হাতে ঈশানের মুখটা নিজের নরম হাতের ভাজে নিয়ে বলে উঠলো,
—’ অ্যাম সরি। সরি,সরি। আমি সে ভাবে বলিনি। সন্দেহ করার প্রশ্নই ওঠে না। আমি তো…’
ঈশান দেখে তিতিরের আকুল মুখটা। খোলা চুলগুলো বড্ড এলোমেলো, গায়ের ওড়নাটা সম্ভবত তার পিঠের নিচে। জামার চেইন খুলে ফেলেছিলো ঈশান। হুড়মুড়িয়ে উঠে বসায় একপাশের কাধ থেকে জামা নেমে গিয়েছে অস্বাভাবিক ভাবে। দেহের সাথে লেপটে থাকা স্কিনি ইনারের অর্ধেক অংশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তার আড়াল দিয়ে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ঈশানের দেওয়া আদর। বুকের ওপরিভাগ থেকে সম্পূর্ণ কাধ, কন্ঠদেশ, কানের আশপাশ –পারপেল স্টেইনে পূর্ণ। মেয়েটা এসব সামলে চলাচল করে কি করে! বড্ড অত্যাচার করে ইদানীং সে মেয়েটার ওপর। ঈশান হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করলো মেয়েটার গ্রীবাদেশ। টেনে ঝুকিয়ে আনলো একদম মুখের ওপর। তিতিরের খোলা চুলগুলো আড়াল করলো একে অপরের মুখ। তিতিরের চোখের নোনাজল টুপ করে ঈশানের গালে পরতেই, ঈশান আরেকদফা হেঁচকা টানে মেয়েটাকে কাছে টেনে অধর ছোঁয়ালো মেয়েটার কম্পিত অধরে। শোষন করলো একদফা। আদরের ফাঁকেই এক মূহুর্তের জন্য ছেড়ে হিসহিসিয়ে বললো,
—’ ইউ ডোন্ট নিড টু সে সরি… দোষটা আমারই। আমিই রাগাচ্ছিলাম তোকে। ‘
তিতির সত্যিই কেঁদে ফেলেছে। ঈশানের কথা শেষ না হতেই নিজেরই হুমড়ি খেয়ে পরলো ঈশানের অধরের ওপর। পাশ থেকে সরে এসে উঠে বসলো ঈশানের ওপর। দু পায়ে ছেলেটার কোমড় পেঁচিয়ে বসতেই নিজের ঠোঁট কামড়ে চোখ বুঁজে নিলো ঈশান। দু’হাতের থাবা বসালো রমনীর কটিদেশে। একপ্রকার হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
—’ উফফ্ কোথায় বসেছিস, খেয়াল করেছিস? মারবি আমাকে?’
তিতির সোজা হয়ে বসলো, ঘাড় বাঁকিয়ে দেখলো সিঁড়ির দরজা। দু হাতে নিজের চুলগুলো খোপা করতে করতে ব্যাকুল সুরে বলে উঠলো,
—’ উমমম। মারবো সাথে মরবোও। মরণ ডাকছে আমাকে। সরিই,কথাগুলো বলার জন্য। আমি মোটেই অন্য ভাবে বলতে চাইনি। কি করলে ভুল শোধরানো যাবে? আদর দিলে?’
ঈশান বুঝলো মেয়েটার কথার ইঙ্গিত। তিতিরের ঘোলা দৃষ্টি বুঝিয়ে দিলো অনেককিছু। ঈশান থমকায় মেয়েটার এ রুপ দেখে। আপ্লুত হয়। যতবার মেয়েটাকে কাছে টানে, স্ত্রীর পূর্ণ আগ্রহে দ্বিগুণ মাতাল হয় সে নিজেও। তিতির কোমড়ের ওপর বসা অবস্থায় খানিকটা নড়েচড়ে উঠলো। ঝুঁকে এসে আঙুল ছুঁয়ে দিলো ঈশানের বুকে। আঙুলের আঁকিবুঁকি করে গেলো গোটা বুক, পেটের ছয়খন্ডের ওপর। ঠোঁট বুলালো পুরো মুখে। চোখ বুজে আবেশিত হয় মেয়েটার সকল স্পর্শ অনূভব করে যাচ্ছে ঈশান। তিতির সোজা হয়ে বসলো। মেয়েটার বুকের ওঠানামায় দৃষ্টি আটকালো ঈশানের। নিজে এক সেকেন্ডের জন্য ভুলে গেলো শ্বাস নিতে। তিতির অতি বিপজ্জনক ভাবে, বিপজ্জনক জায়গায় বসে আছে। ঈশানের গোটা শরীর ঘেমে উঠেছে। হাতের থাবা দৃঢ় হচ্ছে ক্রমাগত। তিতির বাঁকা হাসলো। শীতল হাতটা আচমকা ছেলেটার ট্রাউজারের অংশে রাখতেই হাতটা চেপে ধরলো ঈশান। হাঁ করে শ্বাস টেনে বললো,
—’ ছলনা নয় তো? মাঝপথে থামিয়ে দিবি না তো? আমি কিন্তু জেন্টাল হতে পারবনা, তিতির। ‘
—’ আদর করুন। শান্ত করুন, নিজেও শান্ত হন।’
ঈশান ঝড়ের বেগে উঠে বসলো। হেঁচকা টানে তিতিরের কোমড়ে আরও দ্বিগুণ ঘনিষ্ঠ করে ফেললো। এক হাতে গায়ের জামাটা টেনে নামিয়ে ফেললো শরীর থেকে। মুখ ডুবালো বিউটি বোনের ওপর।
দেওয়ান বাড়ির আশেপাশে কোনো উঁচু ভবন নেই। শহরের থেকে খানিকটা দূরেই এই এলাকা। মফস্বলের মতো চারপাশ। প্রাচীন কালের সাক্ষী হিসেবে দেওয়ান বাড়ির সু-উচ্চ দোতলা ভবন টি মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশের রেলিং গুলোও তাই। শুয়ে বা বসে থাকলে ক্ষুনাক্ষরেও আশেপাশের কোনো মানুষের টের পাওয়ার অবকাশ নেই যে– ছাদে কেউ আছে কি-না। ঈশান আসার সময়ই ছাদের দরজা লক করে এসেছে। সুতরাং এই মূহুর্তে প্রকৃতি বাদে আর কারোর ইই বিশেষ মূহুর্তে সাক্ষী হওয়ার সুযোগ নেই।
ঈশানের নগ্ন দেহের ঘামে ভিজে উঠেছে তিতিরের শরীরও। ছেলেটা উদভ্রান্তের মতো ছুঁয়ে দিচ্ছে তাকে। এই উন্মাদনা নিয়ে গোটা রাত কি করে দূরে সরিয়ে রেখেছে,ভেবে পেলো না তিতির। তিতির নিজেও বেকাবু হয়েছে। স্বামীর হাত আর ঠোঁটের স্পর্শ ছাড়া আর কিচ্ছু অনূভব করার মতো অবস্থায় নেই। ঈশানের হাতের বাঁধনে, অবাধ্য আদরে আবেশে মস্তিষ্ক শূন্য হয়েছে রমনীর। ঘন নিঃশ্বাস আর গোঙানি ছাড়া আর কিচ্ছু শুনতে পাওয়া যাচ্ছে না। পিছন দিকে হেলে, ঠোট কামড়ে চোখ বুঝে আছে মেয়েটা। দু হাতে খামচে ধরে আছে ঈশানের চুলগুলো। হাতের বাঁধনে রেখে, বুকের ভাজে মুখ ডুবানো অবস্থাতেই নিজের শরীরের নিচে আড়াল করলো তিতিরকে। মেয়েটার পা জোড়া তখনো পেঁচিয়ে আছে ঈশানের কোমড়। ঈশান মুখ তুললো। কেটে ,ফুলে ওঠা অধরে হাত ছুয়িয়ে হাস্কিস্বরে বললো,
—’ অন্তত আদরটা শুরু করতে দে, তারপর পা তুলিস। আগেই কোমড় চেপে রাখলে…’
ঈশান চোখ বাঁকিয়ে নিজের পরনের ট্রাউজার টা দেখাতেই খিঁচে চোখ বন্ধ করে ফেললো তিতির। ছেলেটার কোমড় থেকে পা জোড়া আলগা করলো। ঘাড় বাঁকিয়ে মুখ লুকানোর পায়তারা জুড়লো। ঈশান ফিচেল হাসলো। বাঁকা গলায় বললো,
—’ সবসময় প্রেম রাতের পাখি হয়না। বুঝলি। স্বামীর আদর দিনের আলোতেও ফিল করতে হয়। সুন্দর জিনিসগুলো চোখ দিয়ে দেখতে দিনের আলোর থেকে ভালো আর কিছু হয় নাকি? ‘
লজ্জায় মরে যাওয়ার উপক্রম তিতিরের। দিনের আলো ফুটছে। শুধু আকাশে আজ মেঘের ঘনঘটা, তাই অন্ধকার হয়ে আছে। না হলে এতক্ষণে সূয্যি মামা মহা সমারোহে দেখা দিতেন। খাটিয়ার ওই কোনায় থাকা একটা পাতলা চাদর ইশারা করলো তিতির। ঈশান অশ্লীল হাসলো। গর্দান ঝুঁকিয়ে কামড় দিলো তিতিরের কাঁধে। হিসহিসিয়ে বললো,
—’ প্রচন্ড গরম লাগছে। একটু পর আরও লাগবে। উই ডোন্ট নিড দ্যাট। তাছাড়া, আমাকে চোখ ভরে তোকে দেখার সুযোগও তো দিবি নাকি! টেক ডিপ ব্রেথ। ইট’স নট ইওর ফার্স্ট টাইম। তাহলে নার্ভাস হচ্ছিস কেনো? ‘
আর কতবার দেখলে চোখভরে, মন ভরে দেখা হবে সেটা প্রশ্ন করা হলো না তিতিরের। তার আগেই শরীরের সকল বস্ত্র গুলো হরণ হলো। দুজনেরই! সে-সব গিয়ে ঠাঁই নিলো ছাঁদের মেঝেতে।
আকাশের মেঘগুলো গুড়গুড় শব্দ করে উঠলো। ঈশান নিজের স্বামীর অধিকার কাড়লো তৃতীয়বারের মতো। দখল নিলো স্ত্রীর নারীত্বে। মেয়েটার লম্বা, চোঁখা নখগুলো গেথে গেলো ঈশানের বলিষ্ঠ পিঠ আর কাঁধের পাশটায়। বেঁকে উঠলো শরীর, আরেক দফা হুংকারের সাথে সাথে চাপা পরলো রমনীর উন্মাদনার শিৎকার। খোলা জায়গায় বড্ড তীক্ষ্ণ শোনালো সে শব্দ।
সাঁঝের মায়া পর্ব ৬০
ঈশান ঠোঁট চেপে ধরলো মেয়েটার ফুলো ঠোঁট জোড়ায়। গোঙানি গুলো শব্দ উৎপাদন করতে পারলো না। দমকা বাতাসের তীব্রতার সাথে দ্বিগুণ হয়েছে এক অশান্ত পুরুষ। ছেলেটার ঘোলা দৃষ্টি স্ত্রীর ঘর্মাক্ত, ক্রন্দনরত মুখের দিকে। আদরের ফাঁকে শুধু একবার হাঁপাতে হাঁপাতে কয়েকটা শব্দই উচ্চারন করলো। অস্পষ্ট কন্ঠে বললো,
—’ একটু পর সয়ে যাবে, ডোন্ট ক্রাই…থামতে পারবো না এখন, অথচ তোর কান্না দেখে কষ্ট হবে। প্লিইজ, ডোন্ট ক্রাই, মাই লাভ!’
